Ramadan Mubarak
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে সোমবার থেকে রমজান মাস শুরু হবে। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, শনিবার সূর্যাস্তের পর চাঁদ দেখা যায়নি। তাই চান্দ্রবর্ষ অনুসারে সোমবার থেকেই শুরু হবে রমজান মাস।
Ramadan Mubarak
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে সোমবার থেকে রমজান মাস শুরু হবে। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, শনিবার সূর্যাস্তের পর চাঁদ দেখা যায়নি। তাই চান্দ্রবর্ষ অনুসারে সোমবার থেকেই শুরু হবে রমজান মাস।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পার হওয়ার সময় কোনো অবস্থাতেই লোকজনের ওপর গুলি না ছুড়তে বিএসএফকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ কথা জানিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য আরও বলেছেন, অপরাধীদের দ্বারা আক্রান্ত না হলে বিএসএফের সদস্যরা গুলি ছুড়বেন না।
সীমান্তে নিরপরাধ বাংলাদেশি হত্যা বন্ধে তাঁর দেশের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে গতকাল শনিবার ঢাকায় যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। সচিবালয়ে দুই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন জানান, সীমান্তে যাতে কাউকে গুলি করে হত্যা করা না হয়, সে ব্যাপারে আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ভারত।
দুই মন্ত্রীই এ সময় আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের আগেই ছিটমহল ও অপদখলীয় জমি হস্তান্তর এবং সাড়ে ছয় কিলোমিটার সীমানা চিহ্নিত করার মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান হবে।
দুই নিকট প্রতিবেশী দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের ১৭ সদস্যের নেতৃত্ব দেন সাহারা খাতুন। আর ভারতের ১২ সদস্যের নেতৃত্ব দেন পি চিদাম্বরম। আলোচনার পর বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) মহাপরিচালক আনোয়ার হোসেন ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক রমন শ্রীবাস্তব যৌথ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় সই করেন। দুই পক্ষই আশাবাদ জানিয়ে বলেছে, এই পরিকল্পনা সইয়ের ফলে সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক তৎপরতা বন্ধের মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।
বাংলাদেশ দলের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারেক এ করিম, স্বরাষ্ট্রসচিব আবদুস সোবহান শিকদার প্রমুখ।
ভারতীয় প্রতিনিধিদলে ছিলেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার রজিত মিত্তার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (উত্তর-পূর্ব) শম্ভু সিং প্রমুখ।
সীমান্ত হত্যা নিয়ে দুই মন্ত্রী: সাহারা খাতুন তাঁর লিখিত বক্তৃতায় বলেন, সীমান্তে যাতে কাউকে গুলি করে হত্যা করা না হয়, সে ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সভায় বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছে এবং ভবিষ্যতে যাতে গুলিবর্ষণের ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। এ বিষয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে লিখিত বক্তৃতায় কোনো মন্তব্য করেননি পি চিদাম্বরম। তবে নিরস্ত্র বাংলাদেশি হত্যা বন্ধে ভারত কী উদ্যোগ নিচ্ছে, জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে পি চিদাম্বরম বলেন, ‘বাংলাদেশ কিংবা ভারত থেকে সীমান্ত পেরোনোর সময় কোনো অবস্থাতেই যাতে লোকজনের ওপর গুলি ছোড়া না হয়, সে ব্যাপারে বিএসএফকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর এই বার্তা বিএসএফের জওয়ানদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই সম্প্রতি সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনা কমেছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত মাত্র সাতজন প্রাণ হারিয়েছে। অথচ গত বছর ৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছিল।’
পি চিদাম্বরম বলেন, ‘বিএসএফের সদস্যরা দায়িত্ব পালনের সময় একদল অপরাধীর আক্রমণের শিকার হলে গুলি ছোড়াটা যৌক্তিক হতে পারে। তখন আত্মরক্ষার্থে বিএসএফের সদস্যরা গুলি ছুড়তে পারেন।’
সম্পূরক প্রশ্নে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, সম্প্রতি লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফ পাথর ছুড়ে এক বাংলাদেশি যুবককে হত্যা করে লাশ ভাসিয়ে দিয়েছে। এই হত্যার বিষয়টি তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। চিদাম্বরম বলেন, ‘আমি সরাসরি এটা (অভিযোগ) অস্বীকার করছি। ভারতীয় ভূখণ্ডে এ ধরনের কোনো মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে আসলেই কী ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছি।’
লালমনিরহাটের হত্যার ব্যাপারে ভারতের কাছে বাংলাদেশের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে কি না, জানতে চাইলে সাহারা খাতুন বলেন, ‘সীমান্তে প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গেই আমরা প্রতিবাদ জানাই। এ ব্যাপারেও আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি। আর হত্যা বন্ধের ব্যাপারে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলেছেন, এরপর আমার আর বলার কিছু নেই।’
অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের আশাবাদ: দুই মন্ত্রীই আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে শিগগিরই ছিটমহল ও অপদখলীয় জমি হস্তান্তর এবং সাড়ে ছয় কিলোমিটার সীমানা চিহ্নিত করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
এ প্রসঙ্গে চিদাম্বরম বলেন, ‘ছিটমহলে জনগণনার কাজটি শেষ হয়েছে। অপদখলীয় জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দু-একটি ঘটনা ছাড়া বিষয়টি মীমাংসার পথে। আর সাড়ে ছয় কিলোমিটার সীমান্ত চিহ্নিত করার ব্যাপারেও সমাধান আছে। কাজেই সব বিষয়েই আমাদের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। আমরা আশাবাদী, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সফরের আগেই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’
ছিটমহলের জনগণনার বিষয়ে চিদাম্বরম সাংবাদিকদের জানান, ছিটমহলে ৫১ হাজার লোক বাস করছে। এদের মধ্যে ৩৪ হাজার ভারতীয় এবং ১৭ হাজার বাংলাদেশি।
ছিটমহলবাসী নিজেরাই কি ঠিক করবেন কোন দেশে থাকবেন, নাকি অন্য কোনো উপায়ে বিষয়টির সুরাহা হবে, জানতে চাইলে চিদাম্বরম বলেন, দুই প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বৈঠকেই ছিটমহলবাসীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে।
চুয়াত্তরের চুক্তির অনুসমর্থন: বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালেই অনুসমর্থন করলেও দীর্ঘ চার দশক ধরেই ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি অনুসমর্থন করেনি ভারত। এ বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে চিদাম্বরম বলেন, চুক্তিটি অনুসমর্থনের সঙ্গে ছিটমহল ও অপদখলীয় জমি বিনিময় এবং সাড়ে ছয় কিলোমিটার সীমানা চিহ্নিত করার বিষয়টি জড়িত। খুব শিগগির এসব বিষয়ের সমাধান হবে। আর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এসব বিষয়ের সুরাহা হলে চুক্তিও অনুসমর্থন হবে।
বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরত দেওয়া: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খুনি ক্যাপ্টেন মাজেদ ও রিসালদার মোসলেহউদ্দিন ভারতে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অনুরোধ জানিয়েছি।’
এ নিয়ে জানতে চাইলে চিদাম্বরম বলেন, ‘এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করা ভারতের পক্ষে সম্ভব। ওই দুজন সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য আমাদের সঙ্গে বিনিময় করার অনুরোধ জানিয়েছি।’
মনমোহন মন্তব্য করেননি: ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিদাম্বরমের কাছে জানতে চাওয়া হয়, বাংলাদেশের ২৫ শতাংশ মানুষকে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ন্ত্রণ করে কি না। এর উত্তরে তিনি এককথায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের কোনো মন্তব্য করেননি।
ভারতের পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় মনমোহন মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের ২৫ শতাংশ লোক জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক। এসব লোক ভারতবিদ্বেষী এবং আইএসআই দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহনের মন্তব্য তাঁর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দুই দেশে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এরপর ওয়েবসাইট থেকে বক্তব্য প্রত্যাহার করা হয়।
হত্যা বন্ধুত্বের প্রতিফলন নয়: গতকাল দুপুরে পি চিদাম্বরম পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দীপু মনি বলেন, সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে থাকলে দুই দেশের মধ্যে যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে, তার প্রতিফলন হয় না। সীমান্তে বাংলাদেশিদের প্রাণহানি পুরোপুরি বন্ধের আহ্বান জানান তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুই দেশের সাম্প্রতিক সহযোগিতার ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ভারতের প্রতি বাংলাদেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
ঢাকা ত্যাগ: এদিকে গতরাতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে গেছেন পি চিদাম্বরম। রাত নয়টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। দুই দিনের সফরে গত শুক্রবার রাতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় আসেন। Source: Prothom Alo
তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ
জিম্বাবুয়ে সফরের শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের কবলে বাংলাদেশ দল। একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথমদিনেই ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বহীন ব্যাটিং জিম্বাবুয়ে একাদশের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ১৮৮ রানে গুঁড়িয়ে যায় টাইগাররা। ৬৭ রানে ৬ উইকেটের পতনের পর উইকেট কিপার মুশফিকুর রহিম এবং নাসির হোসেনের ঘুরে দাঁড়ানোর ইনিংস থাকলেও সেটি বেশি দূর গড়ায়নি। মুশফিক হাফ সেঞ্চুরির পর মাত্র ১৯ রানে শেষ তিন উইকেট চলে যায় বাংলাদেশের।
দীর্ঘ যাত্রার পর জিম্বাবুয়ে পৌঁছালেও বাংলাদেশ মাত্র একদিন সময় পেয়েছে অনুশীলনের। কন্ডিশনের যে ভয় নিয়ে হারারে রওয়ানা হয়েছিল টাইগাররা গত শুক্রবার সেখানে পৌঁছে সেই ভয় কেটে গেছে। সহনীয় আবহাওয়া থাকায় দলের সবাই প্রফুল্ল, কিন্তু কাল ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর যেন সব আনন্দই হারারের বাতাসের সাথে হারিয়ে গেছে। ফ্লাড উইকেটে ব্যাট করতে নেমে তিন ব্যাটসম্যানের শূন্য রানও বিস্মিত করেছে সবাইকে। জুনায়েদ সিদ্দিকি, মোহাম্মদ আশরাফুল এবং অধিনায়ক সাকিব আল হাসান রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের বিপদে ফেলেছেন মূলত জারভিস, মেথ এবং অধিনায়ক উতসেয়া। তবে শেষদিকে হঠাত্ ভয়ংকর হয়ে ওঠা বুলাওয়ে বেড়ে ওঠা এনজাবুলো এনকিউবের বোলিংয়ের কাছে হার মানতে হয় সাকিবদের। অস্ট্রেলিয়া এ দলের বিরুদ্ধে এনকিউবা তেমন একটা জ্বলে উঠতে না পারলেও কাল বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের নাকাল করে ছেড়েছেন তিনি। মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবং রবিউল ইসলামের উইকেট পড়েছে তার বোলিংয়ে।
কুঁচকির ব্যথার কারণে কাল তামিম ইকবালকে বসিয়ে জুনায়েদকে নেয়া হয়। দেশের মাটিতে প্রস্তুতি ম্যাচে জুনায়েদের ফর্ম ভালো যাচ্ছিল না। কাল সেই ধারাবাহিকতায় ৭ বল খেলেও কোনো রান করতে পারেননি। প্রস্তুতি ম্যাচে একটি সেঞ্চুরি ও একটি হাফ সেঞ্চুরি করলেও শুরু থেকে শাহরিয়ার নাফীস ছিলেন নড়বড়ে। আর আশরাফুলকে একটু অচেনাই লাগলো কাল। ৮ রানে দুই উইকেট পড়ার পর তার ব্যাটিং দেখেও মনে হয়নি তিনি বহুদিন পর লংগার ভার্সন ক্রিকেট খেলছেন। ৬৭ রানে ৬ উইকেট, ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেট খেলে আসা সাকিবের উপরই ভরসা করছিল দলের ভাগ্য। কিন্তু তার ব্যাটিংয়ে সেই পরিবর্তনের কোনো ছাপই দেখা যায়নি। কিগান মেথের বলের ফাঁদে পড়ে এলবিডব্লিউ হয়ে বাড়ি ফিরেন তিনি। প্রস্তুতি ম্যাচে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করা নাসির হোসেন অবশ্য কাল বেশ অবাক করেছেন। ৩৮ রান করতে ৬০টি বল খরচ করেছেন ঠিকই তবে তার ব্যাটিংয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন টেস্ট খেলার মেজাজ রয়েছে তার ব্যাটিংয়ে। মুশফিক একাই আগলে রেখেছিলেন তবে বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি। চা বিরতির মাত্র দশ মিনিটের মধ্যে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
দীর্ঘ ১৪ মাস টেস্ট খেলেনি বাংলাদেশ, তারপরও একমাসের কন্ডিশন ক্যাম্প এবং একমাসের নেটে ব্যাট-বলের অনুশীলন মিলে টাইগারদের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছিল এই সিরিজ থেকে। ৪ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া প্রথম টেস্টের আগে ব্যাটসম্যানদের এমন দায়িত্বহীন ব্যাটিং দুশ্চিন্তায় ফেলবে টিম ম্যানেজমেন্টকে। প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের প্রস্তুতি ভালো না হলেও নতুন কোচ স্টুয়ার্ট ল’ সেটিকে গুরুত্ব দেননি। কাল মাঠে বসে দেখলেন খেলোয়াড়দের সামর্থ্য। ৬৭ রানে ৬ উইকেট থেকে ১৮৮ নিয়ে যাওয়ায় অবশ্য কৃতিত্ব দিতে হবে লোয়ার অর্ডারদের। অতীতের মতো কালও তারা দলকে দারুণ বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন। তাছাড়া জিম্বাবুয়ে একাদশে ছিলেন না ব্রেন্ডন টেইলর, রেমন্ড প্রাইস, ক্রিস্টোফার পফু এবং হ্যামিল্টন মাসাকাজ্জা। প্রথম টেস্টে এদের শক্তি যোগ হবে জিম্বাবুয়ে দলে। সেই শক্তির মুখোমুখি হওয়ার আগে তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচটি আগে বাঁচাতে হবে। প্রস্তুতি ম্যাচে সবার ব্যাটিং পরখ করার ইচ্ছা বাংলাদেশের কোচের। তবে প্রথম ইনিংসে এই ব্যাটিং বিপর্যয় সত্ত্বেও প্রথম টেস্টের আগে কোনো সমস্যা হবে না বলে টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করছে।
দিনশেষে অবশ্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা আড়াল করে দিলেন বোলাররা। জিম্বাবুয়ের একাদশের টপ চার ব্যাটসম্যানকে প্রথমদিনে ফিরিয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত কিছুটা হলেও মান বাঁচিয়েছেন তারা। হারারের একাডেমি মাঠে ফ্লাড উইকেট হবে বলে স্বাগতিকরা ঘোষনা দিলেও শেষ পর্যন্ত বোলারদেরই জয় হল। বাংলাদেশের দশ উইকেটের সাথে জিম্বাবুয়ের চার উইকেটসহ একদিনেই পতন হয়েছে ১৪ উইকেটের। দিনশেষে প্রথম ইনিংসে এখনো জিম্বাবুয়ে একাদশ ১৪৬ রানে পিছিয়ে রয়েছে। প্রস্তুতি ম্যাচকে স্বরণীয় করে রাখতে হলে টাইগার বোলারদেরকেই দায়িত্ব নিতে হবে। শফিউল ইসলাম ২টি এবং রবিউল ইসলাম ১টি উইকেট নিয়ে সেই প্রমাণ দিয়েছেন প্রথম দিনই। দিন শেষে আলো স্বল্পতার কারণে খেলা হয়নি প্রায় ১১ ওভার। জিম্বাবুয়ে একাদশ ১৬.১ ওভারে ৪ উইকেটে ৪২ রান সংগ্রহ করে। ক্রেইগ ইরভান ও ফস্টার মুতিজোয়া ব্যাটিংয়ে রয়েছেন।
স্কোরকার্ড
টস-বাংলাদেশ
কায়েস ব মেথ ৮ ১২ ১/০
জুনায়েদ ক টাইবু ক জারভিস ০ ৭ ০/০
নাফীস ক টাইবু ব চাটারা ১০ ২৯ ১/০
আশরাফুল ক মায়োয়ো ব জারভিস ০ ৯ ০/০
রিয়াদ ব এনকিউব ২১ ৬৪ ২/০
সাকিব এলবি ব মেথ ০ ৩ ০/০
মুশফিক ক মেথ ব এনকিউব ৬৪ ১৪৩ ৮/০
নাসির ক আরভিন ব উতসেয়া ৩৮ ৬০ ৪/০
রাজ্জাক অপ: ১২ ২৭ ১/০
শফিউল ক ওয়ালার ব উতসেয়া ১৬ ১৩ ৩/০
রবিউল ক টাইবু ব এনকিউব ১ ২ ০/০
অতি: ১৮
মোট: অলআউট (৬০.১ ওভার) ১৮৮
উইকেট পতন: ১/৮, ২/৮, ৩/১০, ৪/৩০, ৫/৩১, ৬/৬৭, ৭/১৩৯, ৮/ ১৬৭, ৯/১৮৬, ১০/১৮৮
বোলিং বিশ্লেষন;
মেথ ১৬-৫-৩৬-২
জারভিস ১০-৪-২০-২
চাটারা ১২-৪-৩৬-১
এনকিউব ১২.১-১-৪০-৩
উতসেয়া ১০-০-৪৭-২
লিবিয়ার সশস্ত্র বিদ্রোহী বাহিনীর প্রধান ও তার দুই সহকারী বৃহস্পতিবার এক বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। বিদ্রোহ বাহিনী প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ ইউনেসের নিহত হওয়ার সংবাদ বিদ্রোহী বাহিনীর রাজধানী বেনগাজিতে ন্যাশনাল ট্রানজিন্যাল কাউন্সিল (এনটিসি) প্রধান মুস্তাফা আবদুল জলিল এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের অন্তরালে যে গ্রুপটি সক্রিয় তার প্রধানকে বিদ্রোহী বাহিনীর নিরাপত্তা বিষয়ক রক্ষীরা আটক করেছে। বিদ্রোহী বাহিনীর নিরাপত্তা বিভাগ বৃহস্পতিবার সকালে জেনারেল ইউনেস ও তার দুই সহকারীকে বিদ্রোহীদের পূর্বাঞ্চলীয় ফ্রন্টের নিকটবর্তী অপারেশন রুম থেকে গ্রেপ্তার করে। নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তারা বলেন, ইউনেসের পরিবারের সঙ্গে মুয়াম্মার গাদ্দাফির সরকারের এখনো সম্পর্ক রয়েছে, এই সন্দেহ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো।
ফেব্রুয়ারি মাসে গাদ্দাফির বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থান শুরুর প্রথম দিকেই ইউনেস গাদ্দাফি পক্ষ ত্যাগ করে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দেন। তিনি গাদ্দাফি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।
মুস্তাফা জলিল বলেন, ইউনেসকে ‘সামরিক বিষয়ে’ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাবার আগেই জেনারেল ইউনেসের সঙ্গে তার দুই সহকারী কর্নেল মুহাম্মদ খামিস ও নাসির আল-মাদকুরকেও গুলি করে হত্যা করা হয়।
বেনগাজি থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা টনি বার্টলে জানান, মৃতদেহ এখনো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। তিনি আরো জানান, একজন আততায়ীকে আটক করা হয়েছে। এই গ্রুপকে গাদ্দাফিপন্থি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন বেনগাজিতে ঐ গ্রুপের অন্যদের খুঁজে বের করার অভিযান চলছে।
এনটিসি প্রধান মুস্তাফা জলিল বলেন, ইউনেস ছিলেন ১৭ ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের অন্যতম নায়ক। তিনি বলেন, গাদ্দাফি বিদ্রোহী বাহিনীর ঐক্যে ফাটল ধরাতে চাইছেন।
বেনগাজির টিবেসটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন চলাকালে হোটেলের বাইরে শূন্যে গুলি ছোঁড়ার শব্দ শোনা যায়। এতে কেউ হতাহত হয়নি।
বিবিসি জানাচ্ছে, বিদ্রোহীরা বলেছে তারা বৃহস্পতিবার সকালে গাদ্দাফি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রচণ্ড যুদ্ধ শেষে তিউসিনীয় সীমান্তের কাছাকাছি সামরিক কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ গাজানিয়া শহর অবরোধ করেছে। বলা হয়েছে, ঐ এলাকার কয়েকটি গ াম তাদের দখলে এসেছে। কর্নেল গাদ্দাফির বিরুদ্ধে উত্থানে পাঁচ মাসব্যাপী যে সামরিক অচলাবস্থা চলে আসছে বিদ্রোহীরা তা ভাঙ্গার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিদ্রোহীরা বেনগাজিকে ঘাঁটি করে পূর্বাঞ্চলীয় লিবিয়ার অধিকাংশ পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলীয় মিসরাতা শহর নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে কর্নেল গাদ্দাফি রাজধানী ত্রিপোলিসহ পশ্চিমাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে।
Source: Ittefaq
আর্জেন্টিনার নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এস্তুদিয়ান্তেসের সাবেক কোচ অ্যালেসান্দ্রো সাবেলা।
আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হোসে লুইস মেইসনার বৃহস্পতিবার নতুন কোচের নাম ঘোষণা করেন।
সংবাদ সংস্থা তেলামকে মেইসনার বলেন,” সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাবেলাই আমাদের পছন্দ।”
২০১১ কোপা আমেরিকা ব্যর্থতার খেসারত দিয়ে সোমবার কোচের পদ থেকে সার্জিও বাতিস্তাকে সরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) । তারই স্থলাভিষিক্ত হলেন সাবেলা।
আর্জেন্টিনা কোচের পদের জন্য লড়ছিলেন সাবেলা, প্যারাগুয়ের কোচ জেরার্দো মার্তিনো ও আতলেটিকো মাদ্রিদের সাবেক কোচ কালোর্স বিয়াঞ্চি।
বাকি দু’জনকে ছাপিয়ে সাবেলার নামই ঘুরে ফিরে আসছিল। বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘরোয়া দল আল জাজিরার কোচের পদে যোগ দেয়ার কথা ছিল সাবেলার। কিন্তু আমিরাতের বিমানে চড়েননি তিনি। আল জারিরা ম্যানেজার আয়েদ মাবখত বলেছিলেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে মনে হচ্ছে না তিনি (সাবেলা) আসবেন।”
ধারণা করা হয়েছিল, এএফএ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেই সাবেলা আমিরাত যাওয়ার চিন্তা বাদ দেন। শেষ পর্যন্ত তাই সত্যি হলো।
২০০৯ সালে এস্তুদিয়ান্তেসকে দক্ষিণ আমেরিকা ফুটবলের অন্যতম সেরা আসর ‘কোপা লিবারতাদোরেস’ জিতিয়েছিলেন তিনি। এ কারণেই আর্জেন্টিনা কোচের পদে তাকে বেছে নেয়া হয়েছে।
৫৬ বছর বয়সী সাবেলা এখন ২০১৪ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আর্জেন্টিনা দল গড়ে তুলবেন।
১৯৯৩ সালে শেষবারের মতো বড় কোনো আসর (কোপা আমেরিকা) জিতেছিল আর্জেন্টিনা। তারপর থেকে সাতবার কোচের আসন বদল হয়েছে। ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকের সোনা ছাড়া কোনো শিরোপা জিততে পারেনি মারাদোনার দেশ।
Source: Bdnews24
লিবিয়ার পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। আর এ জটিলতা থেকে বের হতে চাইছে ফ্রান্স ও বৃটেন। যদিও ফ্রান্স-আমেরিকার মতো বৃটেনও লিবিয়ার বিদ্রোহীদের ‘একমাত্র শক্তি’ হিসেবে দেখছে। আর তাই বৃটেনের এ ভূমিকার নিন্দা জানিয়েছে লিবিয়ার গাদ্দাফি সরকার। মুয়াম্মার গাদ্দাফি প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদ কাইম বৃটেন থেকে লিবিয়ার সব কূটনীতিকদের বহিষ্কার বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটি একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত। লিবিয়া আন্তর্জাতিক আদালতে এ সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাইবে।’ এদিকে বিদ্রোহীদের সঙ্গে গাদ্দাফির একটা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে লিবিয়া অভিযানের সমাপ্তি টানতে চাচ্ছে ফ্রান্স ও বৃটেন। গাদ্দাফিকে দেশে থাকতে দেয়ার শর্তে ক্ষমতা ছাড়ার প্রস্তাবে বিদ্রোহী ও আন্তর্জাতিক মহলকে চাপ দিচ্ছে এ দুই দেশ। তবে লিবিয়ার বিদ্রোহীরা বুধবার বলেছে, ক্ষমতা ছাড়লে গাদ্দাফিকে লিবিয়ায় থাকতে দেয়া হবে বলে এর আগে তাদের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, রয়টার্স, এপি, আল-জাজিরা
বিদ্রোহীরা বলেছে, তারা আগামী দুই-একদিনের মধ্যে তিউনিসিয়া সীমান্তবর্তী ঘিজাইয়া শহর দখলের জন্য অভিযান চালাবে। কৌশলগত পার্বত্য এ অঞ্চলে অভিযান চালানোর জন্য ২০টি সামরিক ট্রাক ও ৩০টি ট্রাকের আলাদা কনভয় সীমান্তবর্তী দুটি এলাকার দিকে রওনা হয়ে গেছে।
এদিকে লিবিয়ার গাদ্দাফি সরকার তাদের কূটনীতিকদের বৃটেন থেকে বহিষ্কার এবং বিদ্রোহী সরকারের প্রতি লন্ডনের স্বীকৃতির তীব্র সমালোচনা করেছে। গাদ্দাফি সরকারের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদ কাইম বলেছেন, এ পদক্ষেপ অবৈধ এবং বৃটিশ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এর আগে বুধবার লিবিয়ার সব কূটনীতিককে বহিষ্কার করে জাতীয় অন্তর্বর্তী কাউন্সিলের (এনটিসি) বিদ্রোহী নেতা মাহমুদ আর নাকুকে লন্ডনে নতুন লিবীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে অনুমোদন দেয় বৃটেন। নাকু পেশায় একজন সাংবাদিক ও লেখক। মাহমুদ নাকু একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেয়া বক্তব্যে বলেন, ‘গাদ্দাফি প্রশাসনের কারণে তিনি ৩৩ বছর ধরে নির্বাসিত আছেন।’
দুই সপ্তাহ আগে লিবিয়ার এনটিসিকে অনুমোদন দেয় আমেরিকা। এর রেশ ধরে বৃটেনও বিদ্রোহীদের অনুমোদন দিল। তবে কয়েকদিনের ঘটনা প্রবাহ দেখে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথম দিকে বৃটেন অন্য পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে গাদ্দাফির ক্ষমতাচ্যুতি এবং নির্বাসন দাবি করলেও সমপ্রতি তারা অবস্থান বদলেছে। লিবিয়ায় সামরিক অভিযান পরিচালনাকারীদের মধ্যে অগ্রবর্তী ফ্রান্স গত সপ্তাহে প্রথম গাদ্দাফির সঙ্গে বিদ্রোহীদের একটি শান্তিপূর্ণ সমঝোতার প্রস্তাব তুলে ধরে। বিশ্লেষক এবং কূটনীতিকরা বলছেন, লিবিয়া অভিযানের জোট দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে গাদ্দাফির অপসারণের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা গাদ্দাফিকে সরে যেতে বাধ্য করার জন্য আরো চাপ বাড়াতে এবং সামরিক অভিযান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শেষ করার তাগিদ দেন। এ অভিযান তাদের আগের অনুমানের চেয়ে অনেক দীর্ঘ হওয়ায় তাদের উদ্বেগ লক্ষ্য করার মতো ছিল। গত সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এ বৈঠকটি প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয়।
প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএফআরআই-এর ডেনিস বুচার্ড বলেন, ‘ফ্রান্সের পক্ষ থেকে লিবিয়ার ব্যাপারে একটি রাজনৈতিক সমাধান খোঁজার চেষ্টা করতে চাপ দেয়া হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘বৃটেনও ফ্রান্সের পথ ধরেছে। এ উদ্যোগে অবশ্য ফ্রান্সই নেতৃত্ব দিচ্ছে।’
Source: Jaijaidin
স্পোর্টস রিপোর্টার: ইশ যদি লেবাননে চার গোলে না হারতাম! এই দলের কাছে ৪-০ গোলে হারতে পারে না বাংলাদেশ। ওই ব্যবধানটা ৪-০ না হয়ে যদি ২-০ হতো। এমন শত আফসোস আর আক্ষেপ ঝরতে থাকলো মাঠ ত্যাগ করা হাজার সাতেক দর্শকের কণ্ঠে। আক্ষেপ করবে না কেন? যে লেবাননকে গতকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দাঁড়াতে দিল না বাংলাদেশ দল। সেই লেবাননের বিরুদ্ধে বৈরুতে ৪-০ গোলে হারের লজ্জা নিয়ে ফিরতে হয়েছে এমিলি, সুজনদের। গতকাল ২-০ গোলে জয় তুলে নিয়ে লেবাননের লজ্জাটা কিছুটা ঢাকলো। এই জয়ের পরও বিশ্বকাপ প্রাক বাছাইয়ের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হলো বাংলাদেশকে। আর সে কারণেই আক্ষেপ ঝরলো দর্শকসহ ফুটবলারদের কণ্ঠেও। লেবাননে যাওয়ার আগের দিন এমিলি, মিঠুনের ক্ষ্যাপ খেলতে যাওয়া, বৈরুতে বড় ব্যবধানে হার, কোচ ইলিয়েভস্কি ও জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান বাদল রায়ের তীব্র সমালোচনায় কোণঠাসা ছিল দলের ফুটবলাররা। এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর শপথ নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ ফুটবল দল। সেই শপথকে বাস্তবে রূপ দিয়ে লেবাননকে ২-০ গোলে হারিয়ে বীরের বেশে মাঠ ত্যাগ করলো তারা।
গতকাল ম্যাচের শুরু থেকেই গোছানো খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। ফলে সাত মিনিটেই গোল পেতে পারতো বাংলাদেশ। এমিলির ক্রস মিঠুনের শট অল্পের জন্য ডানপ্রান্ত দিয়ে বাইরে চয়ে যায়। ৩০ মিনিটে জাহিদের পরিবর্তে মাঠে নামেন শাকিল। ম্যাচের ৩১ মিনিটে সুজনের বাড়ানো বলে এমিলির শট গোলরক্ষক ইলিয়াস ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন। ম্যাচের ৪৩ মিনিটে মামুনের দূরপাল্লার শট পোস্টের উপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোল ছাড়াই। ম্যাচের ৫২ মিনিটে সমর্থকদের উল্লাসে মাতিয়ে তোলেন মিঠুন চৌধুরী। মামুনুলের বাড়ানো বল নিয়ে বক্সে প্রবেশ করে মিঠুন জোরালো শট নেন। কিন্তু গোলরক্ষক ইলিয়াস ফ্রেইজি বলটি ফিস্ট করলেও ফিরতি শটে বলটি জালে জড়ান মিঠুন (১-০)। সঙ্গে সঙ্গে পুরো স্টেডিয়াম মেতে ওঠে আনন্দে। লাল সবুজের পতাকা তুলে আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠেন সমর্থকরা। এমন একটি গোলের জন্যই যেন অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন সবাই। গোলহজমের পর লেবানিজরা যেন মরিয়া হয়ে ওঠে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনতে। তাদের চেষ্টা সফলও হয়ে যেত মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই। কিন্তু মোহাম্মদ আলীর নেয়া একটি শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দিয়ে লেবানিজদের হতাশ করেন বাংলাদেশী ডিফেন্ডাররা। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে নিশ্চিত গোল হজমের হাত থেকে স্বাগতিকদের রক্ষা করেন গোলরক্ষক মামুন খান। এবারও ব্যর্থ মিশন মোহাম্মদ আলীর গোলরক্ষক মামুন খানকে একা পেয়েও জালের ঠিকানা খুঁজে পাননি এই স্ট্রাইকার। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে আবারও আক্রমণ স্বাগতিকদের। মোনায়েম খান রাজুর নেয়া দুর্দান্ত এক শট লেবাননের গোলরক্ষক ইলিয়াস ফ্রেইজি ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দলকে রক্ষা করেন। ম্যাচের ৮২ মিনিটে নাসিরের মাইনাস থেকে এমিলির হেডে দ্বিতীয় বারের মতো জালে প্রবেশ করে বল। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ দল : মামুন খান (গোলরক্ষক), মিশু, রেজাউল করিম (নাসির), আরিফুল ইসলাম, সুজন (অধিনায়ক), জাহিদ হোসেন (শাকিল), মামুনুল ইসলাম, মোনায়েম খান রাজু, প্রাণতোষ (কমল), এমেলি, মিঠুন
লেবানন : ইলিয়াস (গোলরক্ষক), আলি আল সাদি, রামিস দিউব, ওয়ালিদ ইসমাইল, হামজি আবুদ, হামজি সালামি, খদর সালামি (অধিনায়ক), হাসান মাউক, জাকারিয়া, আকরাম, মোহাম্মদ ইলালি।
Source: Manabjamin
বিএসটিআই’র অনুমোদন পেলেই ছাড়া হবে বাজারে, ঈশ্বরদীতে গড়ে উঠেছে দেশের প্রথম রাইস অয়েল মিল
দেশে এই প্রথম বারের মতো ধানের পালিশ (গুঁড়া) দিয়ে উত্পাদিত হচ্ছে কোলষ্টোরেল মুক্ত খাবার তেল। সম্ভাবনাময় এই শিল্প কারখানাটি স্থাপিত হয়েছে ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়কের বহরপুর এলাকায়। রশীদ ওয়েল মিল নামের এ কারখানাটি প্রায় ১২ বিঘা জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। ২০০৯ সালে কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়। ইতিমধ্যেই মিলটি অপরিশোধিত তেল বাজারজাত করলেও এখন পরীক্ষামূলকভাবে রিফাইন করা ভোজ্য তেল উত্পাদন করা হচ্ছে। আগামী ৩১ জুলাই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর মিলটি পূর্ণাঙ্গভাবে তেল উত্পাদন শুরু করবে বলে জানা গেছে। এতে দেশে কোলষ্টোরেল মুক্ত ভোজ্য তেল কমদামে সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশে এই তেল রফতানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশে ভোজ্য তেলের ৮০ ভাগ আমদানি নির্ভর। ২০ ভাগ দেশে উত্পাদিত শস্য হতে পূরণ হয়ে থাকে। ধানের পালিশ বা গুঁড়া থেকে উত্পাদিত তেল দেশের চাহিদার আংশিক পূরণের পাশাপাশি কোলষ্টোরেল মুক্ত হওয়ার কারণে ভোক্তাদের শারীরিক নিরাপত্তাও বিধান করতে সক্ষম হবে।
জানা যায়, অটো রাইস মিলের বাইপ্রোডাক্ট হিসাবে পাওয়া গুঁড়াসহ পালিশ ফিড মিলে ব্যবহার এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে রফতানি হয়ে থাকে। মানিকগঞ্জে ধানের পালিশ দিয়ে তেল তৈরীর আরও একটি কারখানা রয়েছে। তবে সেখানে শুধু ক্রুড (অপরিশোধিত) তেল তৈরি হয়। এই অপরিশোধিত তেল ভারতে রপ্তানি হয়ে থাকে। সূত্র জানায়,অটো রাইস মিলের পালিশে ২৫-২৬ ভাগ তেল থাকে। তেল বের করার জন্য ‘দ্রাবক নিষ্কাশন পদ্ধতি’ ব্যবহার করে প্রথমে পালিশকে গুটিতে রূপান্তর করা হয়। এরপর গুটি হতে ক্রুড ওয়েল পাওয়া যায়। সেই তেল রিফাইনারীতে কয়েকটি ধাপে পরিশোধন করে ভোজ্য তেল হিসেবে ব্যবহার উপযোগী করা হয়। মিলের কেমিষ্ট জানান, রাইস তেল উত্পাদনে ফসফরিক এসিড, সাইট্রিক এসিড, এক্টিভেটেড কার্বন, ব্লিচিং আর্থ, কসটিক সোডা, কমন সল্ট প্রভৃতি রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিলে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি ল্যাবরেটরিতে তেলের সব ধরনের পরীক্ষা সার্বক্ষণিক করা হচ্ছে। মান নিয়ন্ত্রণের জন্য ২৪ ঘন্টাই গবেষণাগারটি চালু থাকে বলে কর্মরত কেমিষ্ট মাহবুবুর রহমান জানান। তিনি বলেন, রাইস ব্র্যান্ড তেলে এমন কিছু বিশেষত্ব রয়েছে যা মানব দেহের জন্য অত্যন্ত উপকারি। এই তেলে ভিটামিন এ, ডি, ই এবং পলিষ্ট্যারল রক্তের এইচডিএল কোলষ্টোরেল কমাতে সাহায্য করে। ১০০ কেজি পালিশ হতে ২৫-২৬ কেজি অপরিশোধিত তেল পাওয়া যায়। ধানের পালিশ বের হওয়ার ২-৩ দিনের মধ্যে সংগ্রহ করা না হলে তেলের মান নষ্ট হয়ে যায়। তবে, নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় পালিশ সংরক্ষণ করা হলে অনেকদিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।
সূত্র জানায়, ভারতে এই জাতীয় বেশ কিছু রাইস ওয়েল মিল রয়েছে। রাইস ওয়েল মিলের প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ভারত হতে আমদানি করা হয়েছে। ভারতীয় কোম্পানির বিশেষজ্ঞরা এসে মিল সংস্থাপন করেছেন। এখনও তেল উত্পাদন এবং রিফাইনারীতে মোট ১৫ জন ভারতীয় নাগরিক কাজ করছেন। রিফাইনারী ইনচার্জ ভারতীয় রবীন্দ্র নাথ রায় জানান, এই মিলে উত্কৃষ্টমানের তেল তৈরী হচ্ছে। ভারতের বাজারে এতো ভাল রাইস ওয়েল বাজারজাত করা হয় না। মাষ্টার্ড ওয়েলের সাথে মিশ্রণ করে সেখানে তেল বাজারজাত করা হয়। তবে এই মিলে রিফাইনারী সেকশনে আরও ২টি রিফাইনারের প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভারতীয় মুদ্রায় ২টি রিফাইনারের দাম প্রায় ১৮ লাখ টাকা।
মিল সূত্র জানায়, পালিশ হতে তেল তৈরীর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি লাভজনক উপজাত দ্রব্যও পাওয়া যাচ্ছে। এসব উপজাত দ্রব্যের মধ্যে প্রধান ডিওয়েল্ড রাইস ব্র্যান্ড। যা পশু ও মাছের খাদ্য তৈরীতে ফিড ফ্যাক্টরীতে বিপুল পরিমাণে এখনই সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া ক্রুড ওয়েল, গাম (আঠা জাতীয় পদার্থ) ও ফ্যাটি এসিড সাবান তৈরীতে, স্পেন আর্থ (পোড়ামাটি) আগরবাতি ও মশার কয়েল তৈরীতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব উপজাত দ্রব্য হতেই বিপুল পরিমাণ মুনাফা অর্জিত হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
জানা গেছে, প্রতিদিন ৫০ টন রাইস ব্র্যান্ড ওয়েল উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে রশীদ ওয়েল মিল যাত্রা শুরু করেছে। ১৫ জন ভারতীয় নাগরিকসহ প্রায় ২৫০ জন শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা বর্তমানে এখানে কর্মরত আছেন। পূর্ণাঙ্গভাবে উত্পাদন শুরু হলে এখানে আরও লোকের কর্মসংস্থান হবে। দেশে কোলষ্টোরেল মুক্ত ভোজ্য তেলের বিপুল চাহিদা থাকলেও অত্যধিক দাম হওয়ায় তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। মিলের জিএম আবু সায়েম জানান, এই তেল বিএসটিআই-এর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে (সর্বোচ্চ আনুমানিক ১৫০ টাকা লিটার) দেশীয় বাজারে তেল বাজারজাত করা হবে। তবে বিদেশে কোলষ্টোরেল মুক্ত এই তেলের বিপুল চাহিদা রয়েছে। দামও অনেক বেশী। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বিদেশেও তেল রফতানির প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা যায়। বিদেশে রফতানি করা গেলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
ইসলামী ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখা মিল প্রতিষ্ঠায় আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছে। মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রশীদের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। কুষ্টিয়া এলাকায় তাঁর আরও ২টি শিল্প কারখানা এগ্রো ফুড প্রডাক্ট এবং অটোমেটিক রাইস মিল রয়েছে। তাঁর নিজের অটো রাইস মিলের পালিশ ওয়েল মিলে প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। পাশাপাশি তেল নিষ্কাশনের পর প্রধান উপজাত দ্রব্য ডিওয়েল্ড তাঁরই এগ্রো ফুড মিলে পশু ও মত্স্য খাদ্য তৈরীতে ব্যবহূত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বলেছেন, নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। তাঁর আবিষ্কৃত ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষ নিজ পায়ে দাঁড়াতে শিখেছে। অথচ সেই লোকটিকে বাংলাদেশে অপমান করা হয়েছে।
দারিদ্র্য-বিপর্যস্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্বের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও চ্যালেঞ্জবিষয়ক এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ক্লিনটন এ কথা বলেন।
গতকাল বুধবার ম্যানহাটনে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মানবকল্যাণ সংস্থা রকফেলার ফাউন্ডেশন ‘ইনভেনশন ২০১১ ফোরাম’ শীর্ষক ওই পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
এতে মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. পল ফারমার, এজিটি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথি কচাবি, ম্যারি রবিনসনস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ম্যারি রবিনসনস, রকফেলার ফাউন্ডেশনের প্রধান ড. জুডিট রডিন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিশ্বমানবতার কল্যাণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিল ক্লিনটনকে রকফেলার ফাউন্ডেশনের আজীবন সম্মাননা পুরস্কার দেওয়া হয়।
রাত আটটার দিকে ক্লিনটন অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। এ সময় অনেকেই তাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য তাঁকে ঘিরে ধরেন। এ অবস্থায় গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনূস সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি উপরিউক্ত মন্তব্য করেন।
ক্লিনটন বলেন, ‘ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে বয়সের কারণ দেখিয়ে সরানো হয়েছে। কিন্তু এটাই আসল কারণ বলে আমরা মনে করি না। তাঁকে অপসারণের প্রধান কারণ হচ্ছে পরশ্রীকাতরতা ও প্রতিহিংসা। শান্তিতে নোবেলজয়ী একজন নিরস্ত্র ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক সমাজে কখনো গ্রহণীয় হবে না।’
ক্লিনটন বলেন, ‘আরকানসাসের গভর্নর থাকা অবস্থায় আমি নিজে ড. ইউনূসকে নিয়ে এসে সেখানে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি চালু করেছিলাম। সেটা এখন যুক্তরাষ্ট্রের একটি জনপ্রিয় কর্মসূচি। আমি প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় এর যত ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন, সেটা করেছি। আমাদের জন্য একটা আনন্দের বিষয় হলো প্রেসিডেন্ট ওবামা নিজেও ড. ইউনূসের একজন অনুরাগী। প্রেসিডেন্ট ওবামা এই কর্মসূচিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইউনূসকে বিশ্ববাসী আজীবন স্মরণ করবে। ইতিহাসের পাতা থেকে কেউ তাঁর নাম মুছতে পারবে না। অনুষ্ঠানে পুরস্কার গ্রহণের পর সবার উদ্দেশে দেওয়া ভাষণেও ক্লিনটন গ্রামীণ ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণের কথা উল্লেখ করেন।
মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় ড. ইউনূস বলেন, বর্তমান ও আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তি, অবকাঠামো এবং উদ্ভাবনের সমন্বয় করতে হবে। এ জন্য বিশ্বের সৃজনশীল সমাজকে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি প্রণয়নের আহ্বান জানান ক্লিনটন।
অনুষ্ঠান শেষে বিল ক্লিনটন নিজে এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরেন ড. ইউনূসকে। এ সময় তাঁরা কুশলাদি বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের প্রধান ড. ফজলে হাসান আবেদও আমন্ত্রিত ছিলেন। ক্লিনটন তাঁর সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। Source: Prothom Alo
জিম্বাবুয়ে গেল জাতীয় দল
ভালো খেলার মন্ত্র নিয়ে দেশ ছেড়েছে বাংলাদেশ দল। জিম্বাবুয়ে সফরে মাত্র একটি টেস্ট জিততে হলে ভালো খেলতে হবে। আর অধিনায়কের সেই ভালো খেলার সব প্রত্যাশা ঘিরে রয়েছে বোলারদের উপর। টেস্ট জিততে হলে বোলারদের দায়িত্বের কথা বিশেষভাবে বললেন সাকিব। দেশ ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে তিনি বলেন, ‘স্পিনার কিংবা পেসার সবাইকে দুই ইনিংসের ২০ উইকেট নিতে হবে। আমি চাইবো বোলাররা যেন তাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারে’। এক টেস্ট ও পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে গতকাল বুধবার সকাল নয়টায় কাতার এয়ারওয়েজে দেশ ছেড়েছে বাংলাদেশ দল।
এক সপ্তাহের মধ্যে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ নিয়ে এখনো পরিকল্পনা করেননি অধিনায়ক সাকিব। তবে সেখানে গিয়ে কোচের সাথে আলোচনা করে ছক আঁটবেন তিনি। ‘আমরা নিজেদের নিয়েই পরিকল্পনা করেছি, ওদের ওখানে গিয়ে খেললে তখন প্রতিপক্ষ নিয়ে চিন্তা করা যাবে’।
গত এক বছর ধরে ওয়ানডে খেলছেন তামিম ইকবাল। সমপ্রতি ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলে এসেছেন তিনি। এবার জিম্বাবুয়ে খেলবেন টেস্ট ম্যাচ। ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টির তুলনায় ভিন্ন মেজাজের ক্রিকেট, দীর্ঘ ১৪ মাস পর টেস্ট খেলতে গিয়ে হয়তো অন্যদের মত তামিমকেও মানিয়ে নিতে সমস্যা হতে পারে। যেহেতু সমপ্রতি তিনি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও খেলেছেন, তবে দেশ ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে বাংলাদেশ দলের এই সহ-অধিনায়ক জানান, এটি তার কাছে কোন সমস্যা নয়।
দীর্ঘ সাত বছর পর জাতীয় দলের জিম্বাবুয়ের মিশন, সহ-অধিনায়কের কাছে একটু চ্যালেঞ্জিং লাগছে। তার উপর তিনি কুচকির ইনজুরিতে রয়েছেন। ইংল্যান্ড থেকে কাউন্টি ক্রিকেট খেলার সময় কুচকিতে ব্যথা পাওয়ায় এখন জিম্বাবুয়ের মাটিতে একমাত্র তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচও হয়তো তার খেলা হচ্ছে না। তবে তামিম জানালেন, ব্যথা এখন ধীরে ধীরে ভালো হওয়ার পথে। ‘চোট এখন অনেকটাই ভালো, তবে আরেকটু বিশ্রামের জন্য হয়তো তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ নাও খেলতে পারি। শুক্রবার সিদ্ধান্ত নিব’।
গত বছর জুনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের পর আর কোন টেস্ট খেলেনি বাংলাদেশ। সামপ্রতিক পারফর্মেন্সে টাইগাররা এগিয়ে থাকলেও টেস্ট না খেলার ফলে হয়তো কিছুটা পিছিয়ে থাকতে পারে তারা। সহ-অধিনায়ক অবশ্য পিছিয়ে থাকার কথা উড়িয়ে দিয়ে বললেন, ‘আমরাই বরং ফেভারিট থাকেবা। আমরা ১৪ মাস টেস্ট খেলেনি, জিম্বাবুয়েও তো ছয় বছর টেস্ট খেলেনি। তারা তো আরো বেশি সমস্যায় পড়বে। সামপ্রতিক পারফর্মেন্সের কথা বিবেচনা করলে আমি বলবো আমরাই ফেভারিট। হয়তো এই দুই দলের খুব বেশি ব্যবধান হবে না’। টি-টোয়েন্টি খেলে আসার পর লংগার ভার্সন ক্রিকেট অর্থাত্ টেস্ট খেলতে যাচ্ছেন তামিম। মানিয়ে নেয়া কি একটু কঠিন হবে না? মুচকি হেসে উত্তর দিলেন, ‘আমি আসলে সবসময় একইভাবে খেলে থাকি। ফর্ম কখনো কখনো উঠা-নামা করে, আসলে আমি এভাবেই ব্যাটিং করি। জিম্বাবুয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ এবং দুই একটি সেশন খেললে ঘাটতি পুষিয়ে নেয়া যাবে’।
তামিমের প্রত্যাশা জাতীয় দলকে দুশ্চিন্তামুক্ত করলেও দলের অন্য ক্রিকেটারদের মনে ভর করছে কন্ডিশন দুশ্চিন্তা। জিম্বাবুয়ের হারারে এবং বুলাওয়ে এখন শীতকাল চলছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া ঠিক তার উল্টো। তাই কন্ডিশন নিয়েও বাড়তি দুশ্চিন্তায় ক্রিকেটাররা। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান অবশ্য কন্ডিশন নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামাতে চান না। ‘দেখুন আমরা সেখানে গিয়ে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবো। তিনদিনের এই প্রস্তুতি ম্যাচের মধ্য দিয়ে কন্ডিশনের সাথে খাপ খাওয়াতে পারবো। তাছাড়া, সিরিজের শুরুতেই আমরা টেস্ট খেলবো সেখানে, আমার মনে হয়, এটি আমাদের জন্য বরং ভালো হয়েছে’।
২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাবার পর ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট দিয়ে টেস্ট পরিবারে বাংলাদেশের আগমন ঘটে। ঠিক এগার বছর পর এবার জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে মাত্র একটি টেস্ট খেলবে টাইগাররা। যদিও দু’টি টেস্ট খেলার আবেদন করেছিলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তবে জিম্বাবুয়ে রাজি হয়নি। মাত্র একটি টেস্ট, এই কারণে চ্যালেঞ্জ থাকছে বাংলাদেশের জন্যও।
বাংলাদেশ দল
সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল (সহ-অধিনায়ক), ইমরুল কায়েস, জুনায়েদ সিদ্দিক, মোহাম্মদ আশরাফুল, মুশফিকুর রহীম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, আব্দুর রাজ্জাক, শফিউল ইসলাম, রুবেল হোসেন, নাজমুল হোসেন, শাহরিয়ার নাফীস, রবিউল ইসলাম, শুভাগত হোম চৌধুরী (উইকেটরক্ষক) ও নাসির হোসেন।
স্ট্যান্ড বাই
নাঈম ইসলাম, সোহরাওয়ার্দী শুভ, অলক কাপালী, সৈয়দ রাসেল ও সগির হোসেন (উইকেটরক্ষক)।
Source: Ittefaq
follow: