Archive for July, 2011

July 27th, 2011

দশ বোর্ডে ৭৫.০৮% পাস

দেশের দশটি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছর অনুষ্ঠিত উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল বুধবার সারাদেশে একযোগে প্রকাশ করা হয়েছে। এবার ১০টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৭৫ দশমিক ০৮। গতবারের চেয়ে এবার পাসের হার দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। গতবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭৪ দশমিক ২৮ শতাংশ।

গ্রেডিং পদ্ধতিতে ফল প্রকাশের একাদশ বছরে পাসের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও এবার বেড়েছে। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৮ হাজার ৬৭১ জন শিক্ষার্থী। এবার গতবারের চেয়ে ১০ হাজার ৭৬৫ জন বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৯ হাজার ৭৬৯ জন।

একইসঙ্গে ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা), ডিপ্লোমা ইন কমার্স এবং এইচএসসি (ভোকেশনাল) ফাইনাল পরীক্ষার ফলও প্রকাশিত হয়েছে। ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের গড় হার ৭২ দশমিক ৩৬ শতাংশ। যা গতবারের চেয়ে দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি। গতবার ৮ শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ছিল ৭১ দশমিক ৮২ শতাংশ।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। এছাড়া ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ডিপ্লোমা ইন বিজনেস স্টাডিজ (ডিআইবিএস) পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এ পরীক্ষায় পাসের হার ৮৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। শিক্ষা জীবনের দ্বিতীয় পাবলিক পরীক্ষা এইচএসসির ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কলেজগুলোতে নেমে আসে আনন্দের বন্যা। সকাল থেকেই মুখরিত হয়ে ওঠে প্রতিটি কলেজ প্রাঙ্গণ। ফল প্রকাশের পর অভিভাবক, শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়ে। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আনন্দের বৃত্ত তৈরি করে শিক্ষার্থীরা। বাদ্য বাজিয়ে, হৈ-হুল্লোড় করে হাতে হাত রেখে নেচে-গেয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা। পরীক্ষার ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই মিষ্টির দোকানগুলোতে মিষ্টি কেনার ধুম পড়ে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই শূন্য হয়ে যায় মিষ্টির ভাণ্ডারগুলো।

গতকাল দুপুর ২টায় কলেজগুলোর পাশাপাশি ওয়েবসাইটেও ফল প্রকাশ করা হয়। এছাড়া মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার ফল জানতে পারে।

ফল প্রকাশ উপলক্ষে দুপুর সাড়ে ১২টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ সাংবাদিকদের সামনে ফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পরীক্ষাসমূহের ফল হস্তান্তর করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী দেশের ১০টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে শেখ হাসিনার কাছে এসব ফল হস্তান্তর করেন। এ বছর পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৫৫তম দিবসে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হলো।

ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে এবার এইচএসসিতে পাসের হারের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে রাজশাহী। গতবার প্রথম অবস্থানে ছিল সিলেট বোর্ড। এবার এ বোর্ডে পাসের হার ৭৯ দশমিক ০১ শতাংশ।

পাসের হারে ঢাকা বোর্ডের অবস্থান দ্বিতীয়। গতবার পাসের হারে এ বোর্ডের অবস্থান ছিল ষষ্ঠ। এবার এ বোর্ডের পাসের হার ৭৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ। গতবার এ বোর্ডের পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ১০ শতাংশ। আটটি বোর্ডে পাসের হারে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে যশোর বোর্ড।

এবার আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৮২৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৫ লাখ ৭৪ হাজার ২৬১ জন। সারাদেশে এবার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৭৬ হাজার ১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। ৬৮ হাজার ৮৬ জন পাস করে। এর মধ্যে ৩৯ হাজার ৯১৬ জন ছাত্র এবং ২৮ হাজার ১৭০ জন ছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ২৭৬ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএম) পরীক্ষায় এবার ৬২ হাজার ৬৫৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। পাস করে ৫২ হাজার ৬৬২ জন। এর মধ্যে ৩৪ হাজার ৯৯ জন ছাত্র এবং ১৮ হাজার ৫৬৩ জন ছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭২৮ জন।

এবার আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৪ হাজার ৩৮৫ জন। বরাবরের মতো এবারো সবচেয়ে বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছে নটর ডেম কলেজ ১ হাজার ৫৮৬ জন। তবে সেরা কলেজ নির্ধারণে ৫টি মানদণ্ড থাকার কারণে সেরাদের তালিকায় প্রথম হয়েছে রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এবার নটর ডেম কলেজের অবস্থান ৫ম।

সেরা কলেজ নির্ধারণে ৫টি মানদণ্ড নির্ধারণ করায় ৭ শিক্ষা বোর্ডেই ক্যাডেট কলেজগুলো প্রথম হয়েছে। তবে ঢাকা বোর্ডে ৯৪ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট পেয়ে প্রথম হয়েছে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১ হাজার ৫০ জন পরীক্ষা দিয়ে সবাই পাস করে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯১ জন।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ। এ কলেজের পয়েন্ট ৮৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ। এ কলেজের পয়েন্ট ৮৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। এর পরে রয়েছে ভিকারুন নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নটর ডেম কলেজ, রেসিডেনি্সয়াল মডেল কলেজ মোহাম্মদপুর, ঢাকা সিটি কলেজ, শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

এবার পাসের হার এবং জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। আবার কেউ পাস করেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কমেছে। গতবার শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৭১৪টি।

এবার এ সংখ্যা ৮৯২টি। গতবার শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২৫টি। এবার এ সংখ্যা ২৪টি।

এবার জিপিএ-৫-এর দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ঢাকা বোর্ড, ১৭ হাজার ৭৮৬ জন। গতবার এ সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ২০ জন। জিপিএ-৫-এর সংখ্যায় গতবারের মতো এবারও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বোর্ড। এ বোর্ডে জিপিএ-৫-এর সংখ্যা ৫ হাজার ৫৮৮ জন। গতবার এ সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৬০২ জন। গতবারের চেয়ে জিপিএ-৫ বেশি পেলেও বোর্ডগুলোর মধ্যে এবারও জিপিএ-৫ সবচেয়ে কম পেয়েছে সিলেট বোর্ড। গতবার জিপিএ-৫ ছিল ৫৯৭ জন। এবার ৮৮৭ জন।

বোর্ডওয়ারি পাসের হার ঢাকা বোর্ড ৭৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ, রাজশাহী ৭৯ দশমিক ০১ শতাংশ, কুমিল্ল্না ৬৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যশোর ৬৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ, চট্টগ্রাম ৭১ দশমিক ০৩ শতাংশ, বরিশাল ৭১ দশমিক ১২ শতাংশ, সিলেট ৭৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং দিনাজপুর ৬৬ দশমিক ১৮ শতাংশ।

ঢাকা বোর্ড: পাসের হার ৭৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ

ঢাকা বোর্ড থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ২ লাখ ৮ হাজার ১১২ জন। পাস করে ১ লাখ ৬০ হাজার ২৭ জন। এর মধ্যে ৮৪ হাজার ২৩৫ জন ছাত্র এবং ৭৫ হাজার ৭৯২ জন ছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ হাজার ৭৮৬ জন। জিপিএ-৪ থেকে ৫-এর মধ্যে রয়েছে ৪৬ হাজার ১৮ জন, জিপিএ-৩ দশমিক ৫ থেকে ৪-এর মধ্যে ৩১ হাজার ৩১৪, জিপিএ-৩ থেকে ৩ দশমিক ৫-এর মধ্যে ২৮ হাজার ৩৭১, জিপিএ-২ থেকে ৩-এর মধ্যে ৩১ হাজার ৯৩২ জন এবং জিপিএ-১ থেকে ২ এর মধ্যে রয়েছে ৪ হাজার ৬ জন।

রাজশাহী বোর্ড: পাসের হার ৭৯ দশমিক ০১ শতাংশ

রাজশাহী বোর্ড থেকে এবার ৭৬ হাজার ৬৮১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ৬১ হাজার ৩৭৯ জন। এর মধ্যে ৩২ হাজার ৩২৫ জন ছাত্র এবং ২৯ হাজার ৫৪ জন ছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৫৮৮ জন। জিপিএ-৪ থেকে ৫-এর মধ্যে রয়েছে ১৭ হাজার ৬০৫ জন, জিপিএ-৩ দশমিক ৫ থেকে ৪-এর মধ্যে ১২ হাজার ৭৫৬, জিপিএ-৩ থেকে ৩ দশমিক ৫-এর মধ্যে ১১ হাজার ৬৩০, জিপিএ-২ থেকে ৩-এর মধ্যে ১২ হাজার ৩৪৬ এবং জিপিএ-১ থেকে ২-এর মধ্যে পেয়েছে ১ হাজার ৪৫৪ জন।

চট্টগ্রাম বোর্ড : পাসের হার ৭১ দশমিক ০৩ শতাংশ

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৪৭ হাজার ৭৬৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩ হাজার ৯৩১ জন পাস করে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ২৫৮ জন ছাত্র এবং ১৬ হাজার ৬৭৩ জন ছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৭৯৫ জন। জিপিএ-৪ থেকে ৫-এর মধ্যে ৭ হাজার ৪৪০ জন, জিপিএ-৩ দশমিক ৫ থেকে ৪-এর মধ্যে ৬ হাজার ১৪২, জিপিএ-৩ থেকে ৩ দশমিক ৫-এর মধ্যে ৬ হাজার ৬৬৫, জিপিএ-২ থেকে ৩-এর মধ্যে ১০ হাজার ৫৮ এবং জিপিএ-১ থেকে ২-এর মধ্যে পেয়েছে ১ হাজার ১৩৮ জন।

কুমিল্লা বোর্ড: পাসের হার ৬৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ

কুমিল্লা বোর্ড থেকে এবার ৬২ হাজার ৩৭৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাস করে ৪২ হাজার ৮৩৭ জন। এর মধ্যে ২২ হাজার ৪৩৭ জন ছাত্র এবং ২০ হাজার ৪০০ জন ছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩৮৯ জন। জিপিএ-৪ থেকে ৫-এর মধ্যে ৮ হাজার ৩৪৮ জন, জিপিএ-৩ দশমিক ৫ থেকে ৪-এর মধ্যে ৮ হাজার ৭৪৪, জিপিএ-৩ থেকে ৩ দশমিক ৫-এর মধ্যে ৯ হাজার ৪৫২, জিপিএ-২ থেকে ৩-এর মধ্যে ১২ হাজার ৫৭৫ এবং জিপিএ-১ থেকে ২-এর মধ্যে পেয়েছে ২ হাজার ৩২৯ জন।

যশোর বোর্ড: পাসের হার ৬৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ

যশোর বোর্ড থেকে এবার ৮৬ হাজার ৭৭ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। ৫৪ হাজার ৫৫০ জন পাস করে। এর মধ্যে ২৯ হাজার ৭১৪ জন ছাত্র এবং ২৪ হাজার ৮৩৬ জন ছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৩৭০ জন। এছাড়া জিপিএ-৪ থেকে ৫-এর মধ্যে ১৬ হাজার ১২ জন, জিপিএ-৩ দশমিক ৫ থেকে ৪-এর মধ্যে ১২ হাজার ৫৭৫ জন, জিপিএ-৩ থেকে ৩ দশমিক ৫-এর মধ্যে ১১ হাজার ২৮১, জিপিএ-২ থেকে ৩-এর মধ্যে ১০ হাজার ২৪৮ এবং জিপিএ-১ থেকে ২-এর মধ্যে পেয়েছে ১ হাজার ৬৪ জন।

বরিশাল বোর্ড: পাসের হার ৭১ দশমিক ১২ শতাংশ

বরিশাল বোর্ডের অধীনে এবার ৩৫ হাজার ৮০৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ২৫ হাজার ৪৬৪ জন। এর মধ্যে ১২ হাজার ৬৫১ জন ছাত্র এবং ১২ হাজার ৮১৩ জন ছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩১০ জন। এছাড়া জিপিএ-৪ থেকে ৫-এর মধ্যে ৬ হাজার ৪১০ জন, জিপিএ-৩ দশমিক ৫ থেকে ৪-এর মধ্যে ৫ হাজার ৩১০, জিপিএ-৩ থেকে ৩ দশমিক ৫-এর মধ্যে ৫ হাজার ২৭৫, জিপিএ-২ থেকে ৩-এর মধ্যে ৬ হাজার ৩৭৩ এবং জিপিএ-১ থেকে ২-এর মধ্যে পেয়েছে ৭৮৬ জন।

সিলেট বোর্ড: পাসের হার ৭৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ

সিলেট বোর্ডের অধীনে এবার ৩০ হাজার ৮৯৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাস করে ২৩ হাজার ৩৮১ জন। এর মধ্যে ১১ হাজার ১৭২ জন ছাত্র এবং ১২ হাজার ২০৯ জন ছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৮৭ জন। জিপিএ-৪ থেকে ৫-এর মধ্যে ৩ হাজার ৮৩২ জন, জিপিএ-৩ দশমিক ৫ থেকে ৪-এর মধ্যে ৪ হাজার ৬৮৬, জিপিএ-৩ থেকে ৩ দশমিক ৫-এর মধ্যে ৫ হাজার ৭৬৮, জিপিএ-২ থেকে ৩-এর মধ্যে ৭ হাজার ১৪৬ এবং জিপিএ-১ থেকে ২-এর মধ্যে পেয়েছে ১ হাজার ৬২ জন।

দিনাজপুর বোর্ড: পাসের হার ৬৬ দশমিক ১৮ শতাংশ

দিনাজপুর বোর্ডের অধীনে এবার ৭৩ হাজার ৫৬৮ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাস করে ৪৮ হাজার ৬৮৫ জন। এর মধ্যে ২৪ হাজার ৫৩০ জন ছাত্র এবং ২৪ হাজার ১৫৫ জন ছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ২৬০ জন। জিপিএ-৪ থেকে ৫-এর মধ্যে ৯ হাজার ৮৫৬ জন, জিপিএ-৩ দশমিক ৫ থেকে ৪-এর মধ্যে ৯ হাজার ৩৫৪, জিপিএ-৩ থেকে ৩ দশমিক ৫-এর মধ্যে ১০ হাজার ৩৩৭, জিপিএ-২ থেকে ৩-এর মধ্যে ১৪ হাজার ৪৫২ এবং জিপিএ-১ থেকে ২-এর মধ্যে পেয়েছে ২ হাজার ৩৮৬ জন।
Source:Ittefaq

July 26th, 2011

আজ জিম্বাবুয়েযাচ্ছে বাংলাদেশদল

দীর্ঘ ১৪ মাস পর দেশের বাইরে টেস্ট খেলতে আজ বুধবার সকাল নয়টায় জিম্বাবুয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন দলটি সেখানে এক টেস্ট ও পাঁচটি ওয়ানডে ম্যাচের সিরিজ খেলবে।

বাংলাদেশের কাছে প্রতিপক্ষ হিসেবে জিম্বাবুয়ে এখন কিছুটা অচেনাই। কারণ ২০০৫ সালের পর তাদের সাথে আর কোন টেস্ট খেলেনি টাইগাররা। আর তাদের মাটিতে জাতীয় দল টেস্ট খেলবে দীর্ঘ সাত বছর পর। বাংলাদেশ দলও দীর্ঘ ১৪ মাসে কোন টেস্ট খেলেনি। মাঝের এ সময়ে তারা নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলেছে। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজ খেললেও তাতে টেস্ট ছিল না। গত বছরের জুনে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট খেলার পর দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ড এবং জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে ওয়ানডে সিরিজ খেলে টাইগাররা।

অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ শেষে গত দুইমাস ক্রিকেটাররা কঠোর পরিশ্রম করেছে। বিশেষ করে ট্রেনার গ্র্যান্ট লুডেনের অধীনে একমাসের কন্ডিশনিং ক্যাম্প করে ফিটনেস উন্নতি করার চেষ্টা করেছেন ক্রিকেটারা। ফিটনেস উন্নতি করলেও বাংলাদেশ দল প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন পর টেস্ট খেলতে জিম্বাবুয়ে যাচ্ছে।

কন্ডিশনিং ক্যাম্প করতে গিয়ে ক্রিকেটাররাও ইনজুরিতে পড়েছে। পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজার পায়ের অস্ত্রোপচারের কারণে মাঠের বাইরে, কক্সবাজারে কন্ডিশনিং ক্যাম্পে বালুতে পা ডুবে যাওয়ায় দল থেকে ছিটকে পড়েছেন শাহাদাত হোসেন রাজিব, পায়ের গোড়ালির মাংস ফুলে যাওয়ায় কন্ডিশনিং ক্যাম্পে থাকতে পারেননি শফিউল ইসলাম, অনুশীলনে ফুটবল খেলতে গিয়ে নতুন বোলার রবিউল ইসলামের মাথায় আঘাত পেয়েছেন, ওপেনার তামিম ইকবালের কুঁচকিতে টান থাকায় তিনিও দলে অনিশ্চিত। জিম্বাবুয়ে যাওয়ার আগে ইনজুরির দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়ে আজ দেশ ছাড়ছে বাংলাদেশ দল।

ইনজুরি ছাড়াও জিম্বাবুয়ে যাওয়ার আগে সেভাবে প্রস্তুতি নিতে পারেনি জাতীয় দল। বৃষ্টির কারণে চারদিনের ম্যাচ খেলতে পারেনি তারা। শুধু তাই নয়, জিপি-বিসিবি একাডেমি দলের সাথে দু’টি চারদিনের ম্যাচেও বৃষ্টি হানা দিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অবশ্য জিম্বাবুয়ে আরো একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার অনুরোধ করলেও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট এসোসিয়েশন তা নাকচ করে দিয়েছেন। কন্ডিশনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য বিসিবি জাতীয় দলের বাড়তি দুইদিন অনুশীলনের অনুরোধও করে কিন্তু সেটিও শর্ত সাপেক্ষে রাজি হয় জিম্বাবুয়ে এসোসিয়েশন। বাড়তি দুইদিন অনুশীলন করতে হলে প্রচুর অর্থ দিতে হবে বলে বিসিবি সেটি বাতিল করে। দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি চারদিনের ম্যাচ ছিল, কিন্তু অর্থের পরিমাণ বেশি হওয়ায় সেটিও বাতিল করে বিসিবি।

শেষ প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে ব্যাটসম্যানরা তেমন একটা রান না পেলেও অধিনায়ক এবং কোচ ব্যাটসম্যানদের পারফর্মেন্সে সন্তুষ্ট। অধিনায়ক নিজের দলকে অল্প ফেভারিট বললেও কোচ আশাবাদী জিম্বাবুয়েকে হারাতে পারবে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন পর টেস্ট স্ট্যাটাস ফিরে পাওয়ায় স্বাগতিক জিম্বাবুয়েও ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া এ দলের সাথে ট্রায়াঙ্গুলার সিরিজ খেলছে তারা।

৪ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া প্রথম টেস্টের আগে ভালো প্রস্তুতি নিবে তারা।

বাংলাদেশ সময় ভোরে জিম্বাবুয়ে পৌঁছালেও ২৯ জুলাই হারারের স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে অনুশীলন করবে জাতীয় দল। সেখানেই ৩০ জুলাই শুরু হবে তিনদিনের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জিম্বাবুয়ে সফরসূচি

তারিখ বিবরণ ভেন্যু

২৭ জুলাই বাংলাদেশ দলের ঢাকা ত্যাগ

৩০ জুলাই তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ হারারে

৪-৮ আগস্ট একমাত্র টেস্ট হারারে

১২ আগস্ট প্রথম ওয়ানডে হারারে

১৪ আগস্ট দ্বিতীয় ওয়ানডে হারারে

১৬ আগস্ট তৃতীয় ওয়ানডে হারারে

১৯ আগস্ট চতুর্থ ওয়ানডে বুলাওয়ে

২১ আগস্ট পঞ্চম এবং শেষ ওয়ানডে বুলাওয়ে

২২ আগস্ট বাংলাদেশ দলের বুলাওয়ে ত্যাগ

July 26th, 2011

আদালতে হত্যাযজ্ঞ চালানোর কথা স্বীকার করেছে ব্রেইভিক

লেখক: অসলো থেকে রয়টার্স | বুধ, ২৭ জুলাই ২০১১, ১২ শ্রাবণ ১৪১৮

জনসম্মুখে নিজের বিচার দাবি

নরওয়েতে জোড়া হামলায় নিহতের সংখ্যা কমিয়ে ৭৬ বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলাকারী অ্যান্ডার্স বেরিং ব্রেইভিক বলেছেন, ইউরোপকে মুসলিম আধিপত্য থেকে বাঁচাতে এ হত্যাকাণ্ডের প্রয়োজন ছিলো। সোমবার আদালতে বোমা হামলা এবং হত্যাযজ্ঞ চালানোর কথা স্বীকার করেন ব্রেইভিক।

আদালতের রুদ্ধদ্বার শুনানির পর বিচারক কিম হেগার এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন। তিনি জানান, বহু সংস্কৃতি চালু করে দেশদ্রোহিতার জন্য লেবার পার্টিকে দায়ী করেছেন ব্রেইভিক। সোমবার আদালতে দাঁড়িয়ে জনসম্মুখেই তার শুনানির অনুমতি প্রার্থনা করেছে ব্রেইভিক। বিচারের সময় ইউনিফর্ম পরে আসার অনুমতিও চেয়েছে সে। আদালতে ব্রেইভিক জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনার পর একাই গণহত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করেছে সে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, নিজের আদর্শ ও মাহাত্ম্য প্রচারের জন্য ব্রেইভিক বিচার প্রক্রিয়াকে কাজে লাগাতে চাইছে। আদালতে ব্রেইভিক তার সংগঠনের আরো দুটি শাখা আছে বলেও দাবি করেন। এর আগে তিনি একাই এ কাজ করেছেন বলে জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, হামলা পরিকল্পনায় কেউ তাকে সহযোগিতা করেনি। পুলিশও বলেছিলো শুক্রবারের হামলায় অন্য কেউ তাদের সন্দেহের তালিকায় নেই।

এদিকে নরওয়ের পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে বোমা বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা সাত থেকে আটে উন্নীত করেছে। একইসঙ্গে উটোইয়া দ্বীপে গুলিবর্ষণে নিহতের সংখ্যা ৮৬ থেকে কমিয়ে ৬৮ বলে জানিয়েছে। ফলে পুলিশের সংশোধিত হিসেবে নিহতের সংখ্যা ৭৬। শুক্রবার নরওয়ের স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দেশটির রাজধানী ওসলোয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে বোমা বিস্ফোরণে সাতজন এবং উটোইয়া দ্বীপে গুলিবর্ষণে ৮৬ জন নিহত হয় বলে এর আগে জানিয়েছিলো নরওয়ে পুলিশ।

Source: Ittefaq

July 26th, 2011

দক্ষিণ এশিয়ায় বৈদেশিক বিনিয়োগে শীর্ষে বাংলাদেশ

আঙ্কটাডের রিপোর্ট

দক্ষিণ এশিয়ায় সরাসারি বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। ২০১০ সালে দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০ সালে ভারত, পকিস্তানসহ প্রতিবেশী অনেক দেশে এ প্রবৃদ্ধি ঋণাত্বক পর্যায়ে চলে গেছে। আন্তর্জাতিক ভাবে বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহের তালিকায় ১২০ থেকে ১১৪ তম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।

২০১০ সালে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে ৯১৩ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলার যা ২০০৯ সালের চেয়ে ২১৩ মিলিয়ন ডলার বেশি। তবে ২০০৮ সালের চেয়ে এ বিনিয়োগ ১৭৩ মিলিয়ন ডলার কম। সম্প্রতি ইউনাইটেড নেশন কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আঙ্কটাড) এর বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদনে এ তথ্য ফুটে উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিনিয়োগ বোর্ড আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. এস এ সামাদ।

তিনি জানান, ২০১০ সালে বৈদেশিক বিনিয়োগে ভারতে ৩০ শতাংশ, আফগানিস্তানে ৫৮ শতাংশ, ভুটানে ২৫ শতাংশ, পাকিস্তানে ১৩ শতাংশ ঋণাত্বক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে ৩০ শতাংশ এবং শ্রীলংকায় ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম ইসমাইল হোসেন আঙ্কটাডের প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। এ সময়ে তিনি উল্লেখ করেন, টাকার অংকে ২০১০ সালে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে সিঙ্গাপুর থেকে ৩১৭ দশমিক ১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর পরে যুক্তরাজ্য ১০৫.৬৮, নেদারল্যান্ড ৬৪.৯২, হংকং-চীন ৬৩.৮৪, যুক্তরাষ্ট্র ৫৬.৯৫, ভারত ৪৩.১৯, দক্ষিণ কোরিয়া ৪০, নরওয়ে ৩৯.১৬, সংযুক্ত আরব আমিরাত ২৪.৫, জাপান ২১.৭৯, পাকিস্তান ১৮.৮৮ ও অষ্ট্রেলিয়া ১৩.৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে টেলিযোগাযোগ খাতে, প্রায় ৩৬০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া টেক্সটাইল খাতে ১৪৫ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ডলার, ব্যংকিং খাতে ১৬৩ মিলিয়ন ডলার, বিদ্যুত্-গ্যাস ও জ্বালানি খাতে ৯২ দশমিক ০৬ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে।

ড. সামাদ বলেন, ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের তুলনায় দেশে বিদ্যুত্ খাতে বিনিয়োগ প্রবাহ অনেক বেড়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, খাদ্য উত্পাদন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। ২০১০ সালে এ খাতে বিনিয়োগ হয়েছে ১২ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ডলার, ২০০৯ সালে ছিল ২৪ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন ডলার। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে দেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি ঋণাত্বক (৩৫.৫৪ শতাংশ) ছিল। বিগত কয়েক বছরের তথ্য থেকে দেখা যায়, ২০০৮ সালে সর্বোচ্চ ১০৮৬ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছিল বাংলাদেশে।

ড. সামাদ বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার তুলনায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ (এফডিআই) অনেক কম।

রজনৈতিক অস্থিরতা দেশের বিনিয়োগ প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছরের গৃহযুদ্ধের পরেও শ্রীলংকায় বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়নি, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সত্ত্বেও পাকিস্তানে বিনিয়োগ বেড়েছে। দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি উন্নয়নে অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নয়নের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। তিনি বলেন, যদি বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ৩০ শতাংশে উন্নীত হয়, তবে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের কাছে পৌঁছে যাবে। দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য পরিস্থিতির উন্নয়নে অভিন্ন মুদ্রা চালুর বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

আঙ্কটাডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সালে ২০০৯ সালের তুলনায় সারাবিশ্বে বৈদেশিক বিনিয়োগ ৫ শতাংশ বেড়েছে। এর পরিমাণ ১ দশমিক ২৪ ট্রিলিয়ন ডলার। তবে তা ২০০৭ সালের চেয়ে ৩৭ শতাংশ কম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচিত সময়ে আফ্রিকায় বিনিয়োগ কমেছে ৯ শতাংশ। পশ্চিম এশিয়ায় ১২ শতাংশ। কিন্তু উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ এশিয়ার বিনিয়োগ। ২০১০ সালে এ অঞ্চলে বৈদেশিক বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে (২০১১-২০১২) বিনিয়োগ বোর্ড ৫১০ কোটি ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রত্যাশা করছে বিনিয়োগ বোর্ড।

সংবাদ সম্মেলনে প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মীর্জা আজিজ বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বিনিয়োগবান্ধব পদক্ষেপ নেয়ায় ফলে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। এ সময় বিনিয়োগ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Source: Ittefaq

July 26th, 2011

 মেঘনা ও যমুনা এক কোটির বেশি শেয়ার ছাড়বে

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জ্বালানি খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড ও যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিডেট এক কোটি আট লাখ ৫২ হাজার ৮০০টি শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুই কোম্পানির করপোরেট পৃষ্ঠপোষক বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এই ঘোষণা দেয়। আর এই ঘোষণাকে সাধুবাদ জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।
ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের অন্যতম করপোরেট পৃষ্ঠপোষক বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ৫৪ লাখ ৯৭ হাজার ৮০০টি শেয়ার বিক্রির ঘোষণা করেছে। বিদ্যমান বাজারমূল্যে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে শেয়ারগুলো আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে বিক্রি করা হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কাছে বর্তমানে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের তিন কোটি ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ৯৯৪টি শেয়ার রয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সরকারি আরেক কোম্পানি যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ৫৩ লাখ ৫৫ হাজার শেয়ার বর্তমান বাজারমূল্যে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কাছে বর্তমানে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের তিন কোটি ১৪ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৪টি শেয়ার রয়েছে।
এ দিকে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ। ডিএসইর পরিচালক আহমেদ রশিদ লালী সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি শেয়ার বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত বাজারের জন্য খুবই ইতিবাচক। সরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে বাজার লাভবান হবে, বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন। আর এতে বাজারে শেয়ার সরবরাহের দিকটা কিছুটা হলেও বাড়ল।
সরকারি মালিকানাধীন অন্য কোম্পানিগুলোর শেয়ারও দ্রুততম সময়ে বাজারে আসার ব্যাপারে আশাবাদী ডিএসইর এই নেতা।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার বিষয়টি বহুল প্রত্যাশিত। আর সঠিক সময়ে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ বলেন, বর্তমানে বহু বিনিয়োগকারী রয়েছেন, যাঁরা ভালো কোম্পানি না পাওয়ায় খারাপ কোম্পানির দিকে ঝুঁকছেন। তাঁর মতে, সরকারি কোম্পানির ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা অনেক বেশি। তাই বিনিয়োগকারীরা সরকারি শেয়ারের দিকেই ঝুঁকবেন। একই সঙ্গে সরকারঘোষিত ২৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দ্রুত বাজারে ছাড়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ফায়েকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা এরই মধ্যে আমাদের কাছে পৌঁছেছে। কাল বুধবার থেকে শেয়ার বিক্রি শুরু হবে।’ Source: Prothom alo

July 25th, 2011

বাজারে ফিরে এসেছে চিনি

প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া ব্যবসায়ীদের আশ্বাসের পর বাজারে ফিরে এসেছে চিনি। সরকারের বেঁধে দেওয়া দর ৬৫ টাকায় চিনি বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। তবে কিছু দোকানে এখনো ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে রমজানের নিত্যপণ্যের মধ্যে ছোলা, খেজুর, মুড়ি ও গুড়ের বাজার এখনো চড়া। তবে চাল, ডাল, মটরের (ডাবলি) দাম তেমন একটা বাড়েনি। কয়েক দিন ধরে এ পণ্যগুলোর দাম ব্যবসায়ীরা এতটাই বাড়িয়েছেন যে এখন নতুন করে আর বাড়ানোর প্রয়োজন হচ্ছে না। তার চেয়ে বর্তমান দামটিই ধরে রাখার কৌশল নিচ্ছেন তাঁরা।
এ ছাড়া এক সপ্তাহের মধ্যে গুঁড়ো দুধের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। মুরগির দাম কিছু কমেছে। আর গরু ও খাসির মাংসের দর বেঁধে দিলেও এখনো তার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।
সরকার-নির্ধারিত দরে চিনি: গত বুধবার চিনির দর বেঁধে দেওয়ার পর বাজার থেকে উধাও ছিল চিনি। সেই চিনির দেখা মিলেছে গতকাল সোমবার। যেসব দোকানে চিনি ছিল, গতকাল সেগুলোয় বিক্রি হয়েছে সরকার-নির্ধারিত ৬৫ টাকা দরে।
সকালে পলাশী বাজারে গিয়ে বেশির ভাগ দোকানে চিনির দেখা মেলে। কয়েকজন দোকানি জানান, পাইকারি বাজার থেকে ঠিকমতো সরবরাহ করায় তাঁরা এখন চিনি আনতে পারছেন। এ কারণে ৬৫ টাকায় বিক্রিও করতে পারছেন।
তবে পলাশী বাজারেরই কয়েকটি দোকানে ৭০ টাকায় চিনি বিক্রি করতে দেখা গেছে। কারণ জানতে চাইলে দোকানিরা জানান, এ কয়দিন ৭০ টাকায় পাইকারি বাজার থেকে চিনি কিনেছেন। এ দামে বিক্রি করেই তাঁদের লোকসান হচ্ছে। ৬৫ টাকায় এ চিনি বিক্রি করা সম্ভব নয়। তবে দু-এক দিনের মধ্যেই ৬৫ টাকায় চিনি বিক্রি করবেন বলে তাঁরা জানান।
হাতিরপুল বাজারের ভেতর ও বাইরে, পূর্ব তেজতুরী বাজার এবং পল্টনের বিভিন্ন দোকানেও ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় চিনি বিক্রি করতে দেখা গেছে।
গতকাল দুপুরে নয়াবাজারের অধিকাংশ দোকানে চিনি পাওয়া যায়নি। তিনটি দোকানে চিনি থাকলেও ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দাম চাওয়া হয়। এক দোকানি এইমাত্র চিনি এসেছে বলে জানান। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বলেন, এখন থেকে ৬৫ টাকায় চিনি বিক্রি করবেন।
গত কয়েক দিনের চিনিশূন্য কারওয়ান বাজারের দোকানগুলোতেও গতকাল দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। প্রায় সব দোকানেই চিনি বিক্রি হচ্ছে। দোকানি মাসুদ রানা বলেন, ‘এত দিন বাজারে চিনি ছিল না। আমরা কিনতে গিয়েও পাইনি। গতকাল (রোববার) বাজারে দু-তিন হাজার বস্তা চিনি এসেছে। এ কারণে সব দোকানে এখন চিনি আছে।’
খোলা সয়াবিন এখনো কম: নয়াবাজারের বেশির ভাগ দোকান ঘুরে খোলা সয়াবিন তেলের দেখা মেলেনি। একই অবস্থা পলাশী ও হাতিরপুল বাজারেও। কিছু দোকানে পাওয়া গেলেও তা বিক্রি হচ্ছে ১০৯ থেকে ১১৩ টাকা পর্যন্ত। তবে কারওয়ান বাজারে খোলা সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে এবং বিক্রিও হচ্ছে সরকার-নির্ধারিত দাম ১০৯ টাকায়।
খুচরা দোকানগুলোয় বেশি বিক্রি হচ্ছে বোতল ও প্যাকেটজাত তেল। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়।
চালের দর খুচরায় বেশি: পাইকারি বাজারে গত কয়েক দিনে চালের দাম বাড়েনি। তবে খুচরা বিক্রেতারা চাল বিক্রি করছেন বেশি দামে। এক সপ্তাহে কোনো কোনো চালের দাম দুই টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির হিসাবে মোটা চালের দাম গতকাল ৩২ থেকে ৩৪ টাকা দেখানো হলেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তা বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায়। নয়াবাজার কাঁচাবাজারে বিআর-২৮ চাল ৩৮ থেকে ৪০, নাজিরশাইল ৪৮ থেকে ৫৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কারওয়ান বাজার ও পলাশী বাজারে দর ছিল নাজিরশাইল ৫২, মিনিকেট ৪৪ থেকে ৪৬, পারিজা ৪০ ও পাইজাম ৩৮ থেকে ৪২ টাকা।
ছোলার দাম চড়ছেই: সাধারণ মানুষ যে ছোলাটা কেনে, রাজধানীর খুচরা দোকানগুলোয় তা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। আর উন্নত মানের ছোলার দাম ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন, ছোলার দাম কমেছে। রাজধানীর রহমতগঞ্জ এবং নারায়ণগঞ্জে সাধারণ ছোলা ৫৮ থেকে ৬০ এবং উন্নত মানের ছোলা সর্বোচ্চ ৭১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই ধরনের ছোলাতেই দাম কমেছে দুই টাকা।
এ ছাড়া খুচরা দোকানে দেশি মসুর ডাল ৯০ থেকে ৯৫, বিদেশি ডাল ৭৫ থেকে ৮০ এবং মুগ ডাল ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খেজুরের বাজার গরম: রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ও দোকানে চড়া দামে খেজুর বিক্রি হচ্ছে। বাংলা খেজুর ৬০, মরিচা ১০০ থেকে ১২০, নাগা ১১০ থেকে ১২০, বড়ই ১৭০ থেকে ১৮০ ও মরিয়ম ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্যাকেটজাত খেজুরের দাম আরও চড়া।
বেড়েছে গুঁড়ো দুধের দাম: গত এক সপ্তাহে গুঁড়ো দুধের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা। দোকানিরা জানান, এক কেজির প্যাকেটের মার্কস দুধের দাম ৪২০ থেকে বেড়ে ৪৪০, ফ্রেশ ৪১৫ থেকে ৪২৫, ডিপ্লোমা ৪৯০ থেকে ৫১০ টাকা হয়েছে।
মাংস ও মুরগি: ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) বেঁধে দেওয়া দর অনুযায়ী, প্রতি কেজি দেশি গরুর মাংস ২৭০ এবং বিদেশি গরুর মাংস ২৫০, মহিষের মাংস ২৪০, খাসির মাংস ৪০০, বকরি ও ভেড়ার মাংস ৩৫০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা।
কারওয়ান বাজারে গিয়ে গতকাল গরুর মাংস ২৭০ ও খাসির মাংস ৪২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। পুরান ঢাকার ধূপখোলা বাজারে গরু ও খাসির মাংসের দাম ছিল ২৭০ ও ৪০০ টাকা।
তবে ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে। কারওয়ান বাজারে এর দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। নয়াবাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা কেজিতে। আর দুই বাজারেই দেশি মুরগির দর ছিল যথাক্রমে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা।
ডিসিসিকে চিঠি: রাজধানীর সব দোকানে দৃশ্যমান স্থানে নিত্যপণ্যের মূল্যতালিকা টাঙানোর নির্দেশ দিতে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে (ডিসিসি) গতকাল চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, এতে খুচরা দোকানিরা ক্রেতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা করতে পারবেন না।
আমাদের চট্টগ্রামের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, চট্টগ্রামে পাইকারি বাজারে গতকাল চিনির সরবরাহ বেড়েছে। এস আলম গ্রুপ উৎ পাদন শুরুর পর ২৪০ জন পরিবেশকের মাধ্যমে চিনি সরবরাহ করছে। গতকাল থেকে ব্যবসায়ী গ্রুপটি পাঁচটি স্থানে চিনি ও ভোজ্যতেল বিক্রি শুরু করেছে। এ পাঁচ স্থানে ৬৫ টাকা কেজি দরে চিনি বিক্রি হচ্ছে। তবে সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে সরকারি দরের চেয়ে লিটারপ্রতি দুই টাকা কমে অর্থাৎ ১০৭ টাকায়।
এস আলম গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক মীর মইনুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে ন্যায্যমূল্যের কেন্দ্রের সংখ্যা ২০-২৫টিতে উন্নীত করা হবে।
এ ছাড়া বিএসএম গ্রুপ ১৪ জন পরিবেশকের মাধ্যমে গতকাল থেকে ছয় টন করে চিনি সরবরাহ করছে। পরিবেশকদের কাছে এই চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকায়। পরিবেশকেরা খুচরা বিক্রেতাদের কেজিপ্রতি ৬৩ টাকায় চিনি সরবরাহ করবেন। পাশাপাশি আজ মঙ্গলবার থেকে ৫৫ টাকায় ছোলাও বিক্রি করবে প্রতিষ্ঠানটি।
চট্টগ্রাম চেম্বারের খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, বাজারে এখন আগের চেয়ে চিনির সরবরাহ বেশি। এ কারণে চিনির দামে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।
খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজার থেকে ন্যায্যমূল্যে চিনি কিনতে পারায় চট্টগ্রামের কয়েকটি বাজারের নির্দিষ্ট কয়েকটি দোকানে সরকার-নির্ধারিত মূল্যে চিনি বিক্রি হচ্ছে। কাজীর দেউড়ি বাজারের খান ডিপার্টমেন্ট স্টোর গতকাল ৬৪ টাকায় তিন বস্তা চিনি কিনে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে।
আবার বেশি দামে কেনা খুচরা ব্যবসায়ীরা এখনো ৬৮-৭০ টাকায় চিনি বিক্রি করছেন। কর্ণফুলী কমপ্লেক্স বাজারের রাকিন ডিপার্টমেন্ট স্টোরের পরিচালক খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখনো সরকারি দামে চিনি কিনতে পারিনি। এ কারণে এই বাজারে ৬৮-৭০ টাকায় চিনি বিক্রি হচ্ছে।’ Source: Prothom alo

July 25th, 2011

ইতিহাস গড়লো উরুগুয়ে

পাঁচ বছর আগে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়েছিল উরুগুয়ে। কিন্তু কোচ অস্কার তাবারেজের জাদুর স্পর্শে যেন সবকিছু বদলে গেল বিশ্বকাপের প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়েও গত ৫০ বছরে বার বার খেই হারিয়ে ফেলা দেশটির। কিন্তু তাবারেজের অধীনে গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার পর উরুগুয়ের ফুটবলে যে রেনেসাঁ চলছে তাই পূর্ণতা পেল ২০১১ সালের কোপা আমেরিকা জয়ে।

দিয়েগো ফোরলানের জোড়া গোলে উরুগুয়ে রোববার মধ্যরাতে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স এয়ার্সে প্যারাগুয়েকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ৪৩তম কোপা আমেরিকা জিতল অনায়াসে। এ নিয়ে ১৫ বার দক্ষিণ আমেরিকার সর্বোচ্চ এ ফুটবল টুর্নামেন্টটি জিতে নতুন ইতিহাস গড়লো দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। রিভার প্লেট ক্লাবের বিখ্যাত এস্টাডিও মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ ফাইনালে অপর গোলটি করেন লুইজ সুয়ারেজ।

ব্রাজিল ও স্বাগতিক আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায়ের পর দৃশ্যত এ টুর্নামেন্টটি ঔজ্জ্বল্য হারালেও উরুগুয়ে ছিল ধারে ও ভারে দেদীপ্যমান। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় ফোরল্যানই হলেন এ দলটির প্রধান তারকা। অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের খেলোয়াড়টি কোপা আমেরিকার ফাইনালে জ্বলে ওঠে আরেকবার তার প্রমাণ রাখলেন জাতীয় দলের হয়ে তার গোলসংখ্যাকে ৩১ এ উন্নীত করে। শুধু তাই, এর মধ্য দিয়ে উরুগুয়ে ফুটবলে ফোরল্যান পরিবারের ইতিহাসও পেল পূর্ণতা। কেননা তার পিতা ও দাদাও উরুগুয়ের হয়ে কোপা আমেরিকা জিতেছিলেন।

দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে এটা হলো ১৯৯৫ সালের পর উরুগুয়ের প্রথম শিরোপা। এ জয়ের আগ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার মতোই উরুগুয়েনরা সমান ১৪ বার কোপা আমেরিকা জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছিল। কিন্তু এদিন আর্জেন্টাইনদের কোয়ার্টার ফাইনালেই হারানোর পর এবার তাদের কৃতিত্বকেও ছাড়িয়ে যায় রিভারপ্লেট নদীর ওপারের পড়শিরা।

সুয়ারেজই ১২ মিনিটে গোল দিয়ে এ কৃতিত্বে পথে উরুগুয়ের যাত্রা শুরু করেন। প্রথমার্ধে দাপুটে খেলার সুবাদে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোলটি করেন সুয়ারেজ। বিরতির তিন মিনিট আগে নিজের দুই গোলের প্রথমটি করেন ফোরল্যান। সতীর্থ এজিডিও অ্যারেভালো বিপক্ষের কাছ থেকে চতুরতার সাথে বল কেড়ে নিয়ে বাড়ানো বলে বাম পায়ে জোরালো শটে গোলটি করেন ফোরল্যান। উরুগুয়ের হয়ে ১৩ খেলায় এসে প্রথম গোলের দেখা পেলেন স্ট্রাইকারটি। এরপর শেষ মিনিটে বিপক্ষ রক্ষণভাগকে পরাস্ত করে সুয়ারেজের যোগান দেয়া বলে দলের শেষ গোলটি করেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম এই সুপার স্টারটি।

প্যারাগুয়ে পুরো টুর্নামেন্টে সৌভাগ্যের দেখা পেয়ে টানা পাঁচ খেলায় নির্ধারিত সময়ে না জিতেও ফাইনালে উঠে এসেছিল। কিন্তু ফাইনালে এসে ভাগ্য যেন ফুরিয়ে যায় ১৯৫৩ ও ১৯৭৯ সালের চ্যাম্পিয়নদের। যদিও ফাইনালের পথে গোলরক্ষক জাস্টো ভিলারের নৈপুণ্যে দলটি ব্রাজিল ও ভেনিজুয়েলাকে হারিয়েছিল।

অধিনায়ক দিয়েগো লুগানো বলেন-এ জয় পুরো দেশবাসীর জন্য বিরাট এক অর্জন। তিনি বলেন-আমরা যেভাবে খেলেছি এবং যে দক্ষতায় আমরা এটা করে দেখিয়েছি সেজন্য আমি সত্যি গর্বিত। আপনি ভাবতেও পারবেন না আমার অনুভূতি এখন কি রকম। আমরা বহু মানুষকে আনন্দিত করতে পেরেছি।

সুয়ারেজ বলেন-আমরা সত্যি এটা চেয়েছিলাম। আমরা দারুণ ঐক্যবদ্ধ একটা দল এবং আমরা যোগ্যতার নিরিখেই এর দাবিদার ছিলাম। এটা জয়ের জন্য আমাদের উম্মাদের মতো লড়তে হয়েছিল এবং আমরা অসাধারণ কিছু অর্জন করেছি।

এক সময়ে ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডে খেলা ফোরল্যান বলেন-এটা আমার জন্য সত্যি অনেক কিছু। কারণ আমার দাদা এটা জিতেছিলেন, আমার বাবারও এটা জেতা ছিল এবং এখন আমিও এটা জিতেছি। তিন প্রজন্ম এই ট্রফিটা জিতেছে। ফোরল্যানদের নাম ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে।

এদিকে প্যারাগুয়ে প্রথমার্ধে নিষপ্রভ থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে বেশ জ্বলে উঠে। তারপরও পুরো খেলায় হাতে গোনা কয়েকটি সুযোগ পেলেও সেগুলো থেকে গোল করতে পারেনি তারা। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও দ্বিতীয়ার্ধ প্যারাগুয়েকে লড়াইয়ে ফেরানোর সবচেয়ে সহজ সুযোগ পান নেলসন ভালদেজ। কিন্তু ৫৪ মিনিটে তার ওই শট গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেও ক্রসবারে লেগে বল আবার মাঠে ফিরে আসে। ভালদেজ দুই মিনিট পর আবারো সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু সেবার আর গোলরক্ষক নেস্তর মুসলেরাকে ফাঁকি দিতে পারেননি তিনি। খেলার শেষ দিকে আরো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে প্যারাগুয়ে। সে সময় উরুগুয়ে নিজেদের রক্ষণভাগ আগলে রাখতেই বেশি ব্যস্ত ছিল। তার মধ্যেই আসে ফোরল্যানের শেষ গোলটি। Source: Ittefaq

July 25th, 2011

নরওয়ের জোড়া হামলাকারী প্রথমবার আদালতে

২০০৯ সাল থেকে হামলার প্রস্তুতি

নরওয়েতে জোড়া সন্ত্রাসী হামলায় দায়ী অ্যান্ডার্স ব্রেইভিক (৩২) স্বীকার করেছে যে, ইউটোয়া দ্বীপে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির যুব সমাবেশে সে হত্যাকাণ্ড ঘটায়। গতকাল সোমবার তাকে প্রথমবার অসলো আদালতে তোলা হলে সে এই স্বীকারোক্তি দেয়। সে যুব সমাবেশে গুলি চালিয়ে কমপক্ষে ৮৫ জনকে হত্যা করে। এর আগে রাজধানী অসলোর সরকারি ভবনে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। সেখানে ৭ জন প্রাণ হারায়। হামলায় কমপক্ষে ৯৬ জন আহত হয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর নরওয়েতে এ ধরনের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড আর ঘটেনি। এ ঘটনায় শোক প্রকাশের জন্য সারা নরওয়েতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

নরওয়ের আইনে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ ২১ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। অবশ্য দণ্ডের মেয়াদ আরো বেড়ে যেতে পারে যদি সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করা হয়।

এদিকে অ্যান্ডার্স বেহারিং ব্রেইভিকের লেখা প্রায় ১৫শ’ পৃষ্ঠার একটি নথি পাওয়া গেছে। এতে সে বলেছে, ২০০৯ সালের শরত্কাল থেকেই নরওয়েতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। নথিতে ইসলামের প্রতি তার বিদ্বেষের কথা ও মার্ক্সবাদের সমালোচনা করা হয়েছে। সে ‘নাইট টেম্পলার’ হিসেবে তার পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেছে। মধ্যযুগে ফিলিস্তিনের খ্রিষ্টান তীর্থযাত্রীদের রক্ষার জন্য গঠিত ধর্মীয় ৬ সামরিক বাহিনীর নাম ছিল ‘নাইট টেম্পলার’।

ইন্টারনেটে এ নথির নামকরণ করা হয়েছে ‘অটাম ২০০৯-ফেজ শিফট’। হামলার প্রস্তুতি নিতে কিভাবে বিস্ফোরক ও থামার ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল তার বর্ণনা রয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, বিস্ফোরকদ্র্রব্য কেনা ও পাচারের জন্য সে গ্রেফতার হলে তার বিশ্বাসযোগ্যতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে ইন্টারনেটে নথি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অ্যান্ডার্স বেহারিং লিখেছে, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় নাত্সী হিসেবে আমাকে বিবেচনা করা হবে।’ নথিতে তার ‘হত্যা অভিযানের’ প্রস্তুতির বর্ণনা দেয়া হয়েছে। নথিতে ‘এন্ড্রু বারউইক’ নামে স্বাক্ষর দেয়া আছে। তবে বলা হয়েছে, তার পুরো নাম অ্যান্ডার্স বেহারিং ব্রেইভিক। নথিতে সে তার বন্ধু-বান্ধব, তার অভ্যাস, বান্ধবী ও যৌন অভ্যাস, দৈনন্দিন জীবনের বর্ণনা ও মদপানের বিস্তারিত উল্লেখ করেছে। হামলার আগেও প্রচুর মদ্যপানের কথাও বলা হয়েছে। অ্যান্ডার্স বেহারিং শরীর গঠনে সহায়ক পণ্য গ্রহণের কারণে তার আগ্রাসী মনোভাবের বিষয়ের কথাও উল্লেখ করেছে। নিজের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন-উত্তর পর্বের কথাও সে বর্ণনা করেছে। বেহারিং ব্রেইভিকের আইনজীবী শনিবার নরওয়ের টেলিভিশনে বলেন, অ্যান্ডার্স বেহারিং ব্রেইভিক হামলার দায়-দায়িত্ব স্বীকার করেছে। Source: Ittefaq

July 24th, 2011

বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনী নতুন প্রজন্মের ভাবনা

সোম, ২৫ জুলাই ২০১১, ১০ শ্রাবণ ১৪১৮

আমরা চেয়েছিলাম ধর্মনিরপেক্ষতা

কিন্তু পেয়েছি কি?

মোঃ আবুল কাসেম

মাস্টার্স, আইন ও বিচার বিভাগ

আইন ও বিচার বিভাগ

মাদার বখস হল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাদেশের রাজনীতি এখন মূলত দুটি জোটে বিভক্ত। মহাজোট ও ঐক্যজোট। মহাজোটের কোন কথা যেমন ঐক্যজোট মানতে চায় না তেমনি ঐক্যজোটের সকল কথায়ই মহাজোটের কাছে বিষবত। এমতাবস্থায় আমরা আমজনতা আছি সমস্যায়। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ যে সংবিধান গ্রহণ করেছিল একজন আইনের শিক্ষার্থী হিসেবে আমার কাছে সেখানে কোন দ্বিমত বা ভিন্নমত পোষণ করার কিছু নেই। এযাবত্কাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সংবিধানে ১৫টি সংশোধনী আনা হয়েছে কিন্তু জনগণের দাবীতে কি কোন সংশোধনী এমনকি সংশোধনীগুলোর কোন একটি কথাও গ্রহণ করা হয়েছে? কেউ সংশোধনী এনেছে সামরিক শাসনকে বৈধতা দিতে, কেউ বিসমিল­্লাহ যোগ করে পাবলিক সেন্টিমেন্ট নিজের করে নিতে, কেউবা ইসলামকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়ে স্বৈরাচারবৃত্তিকে পাকাপোক্ত করতে, আবার অনেকে অনেক রকম ফায়দা লুটতে সংবিধানে সংশোধনী এনেছিল। ধর্মনিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী দল যখন ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসল, যারা মুক্তমনের অধিকারী, সংস্কৃতিপ্রেমী এবং সকল ধর্মে আস্থাপরায়ণ তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল এই বলে যে, বাঁচলাম- কোন একক ধর্মকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম মানতে হবে না। সমাজে একটি শান্তির বাতাস বইবে। কিন্তু বাস্তবে কি তাই ঘটেছে? আমরা চেয়েছিলাম ধর্মনিরপেক্ষতা, কিন্তু পেয়েছি কি? রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করায় ১৯৮৮ সালের ১২ জুন বৃহত্তর দুই দলই প্রতিবাদের ঝড় তুলেছিল। কিন্তু বর্তমান পেক্ষাপট একদল রাষ্ট্রধর্ম রাখার পক্ষে ছিল অন্যদল বিরোধী ছিল, কিন্তু ৩০ জুন যখন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হল দেখা গেল যারা ধর্মনিরপেক্ষতার নামে চেঁচামেচি করছিলেন তারা অতি সন্তর্পণে সেটা মেনে নিয়েই বিলটি পাস করেছেন। বর্তমান সংবিধানের অবস্থা কি যে বলব! পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি রাষ্ট্রধর্ম ও ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধানে কোনদিন থাকতে পারে না। আর যদি থেকেও থাকে তাহলে সেটা রাজনীতি ও সমাজনীতির পরিবেশকে ঘোলাটে করবে বৈ আলোকিত করবে না।

সুতরাং বর্তমান সরকারের উচিত হবে আমাদের মত আমজনতাদের “হরতাল” নামের যে বেয়াদব শব্দটি আছে তার যেন মুখোমুখি না হতে হয় আর যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। যেখানে গণতন্ত্র থাকবে সমুন্নত। রাষ্ট্রের ধর্ম বলে কিছু থাকবে না। প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্র কোন ধর্মকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠে না। মানব ধর্মই রাষ্ট্রের ধর্ম, মানব কল্যাণই রাষ্ট্রের কল্যাণ।

ধর্মনিরপেক্ষতা ও রাষ্ট্রধর্ম একই সাথে থাকতে পারে না। কিন্তু তাই করা হয়েছে

সাদিয়া আফসানা রিমা

৪র্থ বর্ষ, আইন ও বিচার বিভাগ

তাপসী রাবেয়া হল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

গত ৩০ জুন আমাদের মহান জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল ২৯১-১ ভোটে পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৯৭২ সালের সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত জাতীয় চার মূলনীতি-জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরে এল, রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্থায়ী হল-ইসলাম, বাদ পড়ল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, সংযুক্ত হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা, অবৈধ হলো সংবিধানের ৫০টির মতো বেশী অনু্চ্ছেদ সংশোধন, বাড়ানো হলো আরও ৫টি সংরক্ষিত নারী আসন, বাতিল হলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার। রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের প্রর্বতন হয়েছিল সংবিধান (অষ্টম সংশোধন) আইন, ১৯৮৮ (১৯৮৮ সালের ৩০ নং আইন) এর ২ ধারাবলে ২ক অনু্চ্ছেদে। রাষ্ট্রধর্ম প্রর্বতন বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো আঘাত করেছে। রাষ্ট্রধর্মের প্রবর্তন বাংলাদেশের মানুষকে মুসলমান (রাষ্ট্রধর্মের অনুসারী) এবং অমুলমান (শান্তিতে পালনযোগ্য অন্যান্য ধর্মের অনুসারী) বিভক্ত করেছে। রাষ্ট্রধর্মের প্রবর্তন বাংলাদেশের অমুসলমান নাগরিকদের মধ্যেও এক ধরনের স্বাতন্ত্র্যবাদের সূচনা করেছে। রাষ্ট্রধর্ম প্রবর্তনের পরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদের প্রতিষ্ঠা তারই দৃষ্টান্ত। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান সরকার রাষ্ট্রধর্ম শুধু বহালই রাখেননি বরং চিরকালের জন্য ‘সংশোধনের অযোগ্য’ ঘোষণা করেছে। জিয়া ও এরশাদ রাষ্ট্রধর্ম ও বিসমিল্লাহ সংবিধানে সংযোজন করে যা করতে পারেননি তা আওয়ামী লীগ করেছে এই দুটিকে অনন্তকালের জন্য সংশোধনের অযোগ্য ঘোষণা করে। এই একই সংশোধনের মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয় চার মূলনীতির একটি হিসেবে পুনরায় গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাত্ ধর্মনিরপেক্ষতা ও রাষ্ট্রধর্ম একই সাথে থাকছে। তাই বলা যায় সরকার গাছের ফলও চাচ্ছে আবার গাছের নিচে পড়ে থাকার ফলগুলোর লোভও সংবরণ করতে পারছে না। তাই ওই দুটোকে একসঙ্গে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো করা হয়েছে।

সংবিধানের কোন ্উপন্যাস নয় যে, এখানে ইচ্ছামত কল্পকাহিনী থাকবে। এর প্রতিটি অক্ষরই অর্থবহ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তার সুষ্ঠু প্রয়োগ না করা সর্বোচ্চ্ মাত্রার রাষ্ট্রবিরোধিতা। তবে এই পরম সম্মানীয় সংবিধানে একইসঙ্গে কিভাবে একটি রাষ্ট্রধর্ম, একটি ধর্মের বাণী উদ্ধৃত থাকা অবস্থায় ধর্মনিপেরক্ষতাও থাকে তা বুঝতে পারছি না। এর কোন মানে হয় না। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হ্চ্ছে ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার জন্য বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কিছুটা আপোষ করে রাষ্ট্রধর্মকে রাখা হয়েছে। অথচ ১৩টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র তাদের সংবিধানের সুনির্দিষ্টভাবে ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটির উল্লেখ ও ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। দেশগুলো হচ্ছে-আজারবাইজান, বারকিনো- ফাসো, চাদ, গায়না, কাজাখস্তান, কসোভা, কিরগিস্তান, মালি, নাইজার, সেনেগাল, তাজাকিস্তান, তুরস্ক ও তুর্কমেনিস্তান। এবং আরও ছয়টি দেশে কোন প্রধান রাষ্ট্রধর্ম নেই এবং তাদের আইন ব্যবস্থা ধর্মনিরপেক্ষ। দেশগুলো হচ্ছে-আলবেনিয়া, গাম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লেবানন, সিয়েরা লিওন, সিরিয়া ও উজবেকিস্তান। এই ১৯টি মুসলিম রাষ্ট্র ইসলাম না রেখে ধর্মনিরপেক্ষ থাকতে পারছে আমরা সেখানে কেন পারছি না? অথচ দেশের আপামর জনসাধারণ কেউ কখনো সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতার উচ্ছেদ চায়নি, রাষ্ট্রধর্মের প্রবর্তনও চায়নি। ক্ষমতাসীন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নিজের স্বার্থে এসব উদ্যোগ নিয়েছিল এবং বলা যায় দেশের অধিকাংশ মানুষ তা মেনে নিয়েছে। তবে সচেতন জনগোষ্ঠী বরাবরই এসব ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর বিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী বলে গণ্য করে এসেছে।

সংবিধানে এমন কিছু থাকা উচিত নয়

যা বিতর্ক বা সংঘাতের জন্ম দেয়

মোত্তাকিয়া খাতুন কেয়া

৪র্থ বর্ষ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান

মন্নুজান হল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

আদালতের রায় মেনে যদিও তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তবুও এক্ষেত্রে অনেক দ্রুততার সাথে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যেখানে আরও দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছে আদালত। আর এ বিষয়টি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম ধর্মকে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বহাল রাখার মধ্য দিয়ে সরকার সংবিধানের সাথে একটি সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি করেছে। সংবিধানের ধর্মনিরাপেক্ষতার প্রশ্নে ক্ষমতাসীনদের মিত্ররা যেমন হতাশ হয়েছে, তেমনি ইসলামী দলগুলো সংবিধানে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বহাল রাখার দাবিতে বিক্ষোভ করছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে ইতোমধ্যে ৩৬ ঘন্টা, ৪৮ ঘন্টা, ৩০ ঘন্টাসহ কয়েক দফা হরতালও হয়েছে, যা জনজীবনকে অনেকখানি অস্থির করে দিয়েছে। তবে এই সংশোধনীর গ্রহণযোগ্য দিক যে নেই, তা কিন্তু নয়। দেশের নাগরিকের বাঙ্গালি জাতি পরিচয়, সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন বৃদ্ধি, জাতির পিতার স্বীকৃতি, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ ঐতিহাসিক দিবসের ভাষণ সমূহের সংযোজন অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। জাতীয় চার মূলনীতিসহ এই বিষয়গুলো সংযোজনের মাধ্যমে দেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রচিত আদি সংবিধানে মুখ ফেরাতে শুরু করেছে। তবে সংবিধানে যে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার বিষয়টি স্থান পেয়েছে তা অনেকখানি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যদিও আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবি ছিল সংখ্যালঘুদের। এক্ষেত্রে দেশের সব নাগরিকের সাথে তাদের সমঅধিকার সরকার নিশ্চিত করতে পারছে কিনা তার দিকেই দৃষ্টি থাকবে সবার। তাছাড়া নতুন সংযোজিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কতটা নিরপেক্ষ হবে তা নিশ্চিত করাও সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ নি:সন্দেহে।

তবে এক্ষেত্রে আরও সময় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে এবং বিরোধী দলকে অন্তর্ভুক্ত করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অধিকতর গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধন হলে সবার জন্য মঙ্গলজনক হতো। দেশ পরিচালনার ব্যাপারে স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাই যেহেতু সংবিধানের কাজ, সেহেতু সংবিধানে এমন কিছু থাকা উচিত নয় যা বিতর্ক বা সংঘাতের জন্ম দেয়। আর তাই সামপ্রতিক সময়ে সৃষ্ট সংঘাত নয়, পরিস্থিতি মোকাবিলায়ই সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে, বিরোধী দলের সাথে সমঝোতার পথ তৈরি করতে হবে। বিরোধী দলগুলো যেন এমন কোন ইস্যু না পায় যাকে কেন্দ্র করে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এজন্য প্রয়োজন উভয় দলের রাজনীতিবিদদের মানসিকতার ব্যাপক পরিবর্তন। তাহলেই কেবল দেশে গণতান্ত্রিক ধারার সুষ্ঠু বিকাশ প্রত্যাশা করা যায়।

সরকারকে অবশ্যই বিভিন্ন পক্ষের এই ক্ষোভকে প্রশমিত করতে হবে

সাব্বির আহমেদ

৪র্থ বর্ষ

রাষ্ট্রবিজ্ঞান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

পঞ্চদশ সংশোধনীর পর টালমাটাল হয়ে পড়েছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। বর্তমান মহাজোট সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সংবিধান সংশোধনে মনোবিবেশ করে। এরপর ১০মে ২০১১ সুপ্রিম কোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ ঘোষণা এবং সেই সঙ্গে আরোও দুই মেয়াদ এই ব্যবস্থা বহাল রাখা যেতে পারে বলে অভিমত দেয়। এটিকে পুঁজি করে সরকার যে সংশোধনী আনে তাতে পূর্বের সংবিধানের মূলনীতি থেকে শুরু করে ৪৮টি সংশোধনী আনে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এই সংশোধনীর ফলে, সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণ কল্যাণকামী রাষ্ট্রের নাগরিক সুবিধা ভোগ করবে। ৭২ এর সংবিধানের মূল নীতিগুলো প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে একদিকে ধর্ম- নিরপেক্ষতাকে সংবিধানের মূলনীতি বলা হচ্ছে, অপরদিকে ইসলামকে রাষ্র্বধর্ম হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এতে করে বিভিন্ন বামপন্থী দল ও গোষ্ঠী রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের দাবি করছে, তেমনি ধর্মভিত্তিক ইসলামী দলগুলো সংবিধানের মূলনীতি থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিলের দাবি করছে। তবে সবচেয়ে বেশী বিতর্ক হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল প্রসঙ্গে। সরকারের ভিতরের একটি অংশ, সরকারের বাইরের প্রায় সব দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এ ব্যবস্থা বাতিলের তীব্র নিন্দা জানায়। প্রধান বিরোধী দল বি.এন.পি-সহ সমমনা দলগুলো এ ব্যবস্থা বাতিলের প্রতিবাদে হরতাল, বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। এতে করে আবারও অস্থির হয়ে উঠছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন।

সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদে অবৈধ ক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ঘোষণা করলেও রাজনীতিবিদদের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব সংঘাতের ফলে আবারও কেউ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে পারে। সংবিধানের ২৩(ক) অনুচ্ছেদে উপজাতীয়দের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু অনেক উপজাতি সংগঠন এতে সন্তুষ্ট নয়। তারা আদিবাসী স্বীকৃতি চায়। ইউপিডিএফসহ বিভিন্ন উপাজাতি সংগঠন অবরোধ, মানবন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী ঘোষণা করেছে। আবার সংবিধান সংশোধন কমিটির কো-চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন ৩৮টি বিষয়ে তাদের কমেপ্রামাইজ করতে হয়েছে। সবমিলিয়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর ফলে সরকার কোন পক্ষকেই সন্তুষ্ট করতে পারেনি। সরকারকে অবশ্যই বিভিন্ন পক্ষের এই ক্ষোভকে প্রশমিত করতে হবে, নয়তো দেশ আবার সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাবে। তবে সংশোধনীতে নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সংরক্ষিত নারী আসন ৪৫ থেকে ৫০-এ উন্নীত এবং শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হবে এটিই সকলের প্রত্যাশা।

July 24th, 2011

সোনিয়া ঢাকায়

সৌহার্দ, শান্তি ও মৈত্রীর আবাহনে এবং দু’দেশের সম্পর্কের নবঅধ্যায়ের সূচনা করতে ২৪ ঘণ্টার সফরে ঢাকায় এসেছেন ভারতের কংগ্রেস দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছানোর নিদর্শন হিসাবেই ভারতের রাজনীতি ও ক্ষমতার প্রধানতম ব্যক্তি প্রয়াত ইন্ধিরা গান্ধীর পুত্রবধূর এই প্রথম ঢাকা সফর। অটিজম সম্মেলন ও শাশুড়ির রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্মাননা’ নিতেই তাঁর ঢাকায় আগমন হলেও সবার দৃষ্টি এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সর্বভারতীয় কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বৈঠকের দিকে।
ক্ষমতা বা পদে না থেকেও রাষ্ট্রৰমতার চাবি হাতে নিয়ে সোনিয়া গান্ধী পরিচালনা করছেন ভারতের নীতি, রাজনীতি আর কৌশল। তাই ভারতের শতবর্ষী রাজনৈতিক দল জাতীয় কংগ্রেসপ্রধানের আগমন বাংলাদেশের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা উলেস্নখ করে কূটনীতিক মহল বলছে, আজ সোমবার দু’দেশের দুই শীর্ষ নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সোনিয়া গান্ধীর মধ্যে অনুষ্ঠেয় বৈঠকের ওপরই নির্ভর করছে তিস্তার পানি বণ্টন, সীমানত্ম চুক্তি, সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতা, ট্রানজিট চুক্তি, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বিদু্যত আমদানি, অমীমাংসিত বিভিন্ন ইসু্য নিষ্পত্তির চূড়ান্ত ফর্মুলাসহ আগামীতে দ্বিপৰীয় সম্পর্কের দিকনির্দেশনা। দু’দেশের শক্তিধর দুই নেত্রীর রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন দেখা যাবে সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময়। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভারতের ক্ষমতাসীন জোট সরকার সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার (ইউপিএ) চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীকে বহনকারী ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমান রবিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আফম রম্নহুল হক এমপি এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব) এবি তাজুল ইসলাম এমপি।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণগোপাল দত্তও সোনিয়া গান্ধীকে স্বাগত জানান। শিশু মনোবিজ্ঞানী সায়মা ওয়াজেদ অটিজমসংক্রানত্ম বাংলাদেশ ন্যাশনাল স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক। সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে ঢাকায় এসেছেন ভারতের গৃহায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও সংস্কৃতিমন্ত্রী কুমারী সাইলেজা। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রটোকলে ‘ভিভিআইপি’ সম্মানে কড়া নিরাপত্তায় বিমানবন্দর থেকে সোনিয়া গান্ধীকে হোটেল সোনারগাঁওয়ে আনা হয়। সেখানেই তিনি রাত যাপন করেন।
সোনিয়ার এ সফর উপলৰে রবিবার থেকেই নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজধানী ঢাকার গুরম্নত্বপূর্ণ এলাকাগুলো। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), এলিট ফোর্স র্যাব, পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা বিমানবন্দর থেকে হোটেল সোনারগাঁও পর্যনত্ম নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলেছে। নিরাপত্তার জন্য এ হোটেলে আগেই অবস্থান নিয়েছে ভারতের ‘স্পেশাল প্রটেকশন গ্রম্নপ’ (এসপিজি)।
বাংলাদেশ সফরে এসে আজ সোমবার ব্যসত্ম দিন কাটাবেন সোনিয়া গান্ধী। আজ সকালে সোনিয়া গান্ধী যাবেন সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে। সেখানে তিনি একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, পরিদর্শন বইতে স্বাৰর এবং সেখানে গাছের চারা রোপণ করবেন। সাভার থেকে ফিরে সোনিয়া গান্ধী যাবেন ধানম-ির ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক বাসভবন ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে’। জাদুঘর পরিদর্শন ছাড়াও তিনি পরিদর্শন বইতে স্বাৰর এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
সকাল সাড়ে ১০টায় রূপসী বাংলা হোটেলে (সাবেক হোটেল শেরাটন) ‘অটিজম স্পেকটার্ম ডিসঅর্ডারস এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিসঅ্যাবিলিটি ইন বাংলাদেশ এ্যান্ড সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক আনত্মর্জাতিক সম্মেলনে সোনিয়া গান্ধী ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সম্মেলনে কংগ্রেস সভানেত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। দৰিণ এশিয়ায় একটি অটিজম নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লৰ্যে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এ সম্মেলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। আজকের সম্মেলনে আরও তিন ভিভিআইপি অতিথি যোগ দিতে ঢাকায় এসেছেন। তাঁরা হলেন শ্রীলঙ্কার ফার্স্টলেডি সিরাথি রাজাপাকসে, পাকিসত্মানের স্পীকার ফেহমিদা মির্জা ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের স্ত্রী ইলহাম হোসেন।
আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রূপসী বাংলা হোটেলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একানত্ম বৈঠক করবেন ভারতের কংগ্রেসনেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে। কূটনীতিকদের ধারণা, দ্বিপৰীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করার ব্যাপারে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ের সিদ্ধানত্ম হবে এ বৈঠকে। এ কারণেই বৈঠকটিকে ঘিরে অনেক কৌতূহল। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক সন্ধিৰণে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে এ বৈঠকের ওপরই নির্ভর করছে অনেক কিছু। বিকেলে হোটেল সোনারগাঁওয়ে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সৌজন্য সাৰাতে মিলিত হবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
‘বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা’ পদক বিকেলে বঙ্গভবনের দরবার হলে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে ‘স্বাধীনতা সম্মাননা’ পদক গ্রহণ করতে যাবেন সোনিয়া গান্ধী। রাষ্ট্রপতি মোঃ জিলস্নুর রহমান অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখার জন্য ভারতের তদানীনত্মন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধীকে দেয়া রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা পদক তুলে দেবেন পুত্রবধূ সোনিয়া গান্ধীর হাতে।
বঙ্গভবনে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বিদেশীদের জন্য এই সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসাবে দেয়া হবে ১৮ ক্যারেটের ২শ’ ভরি ওজনের স্বর্ণ দিয়ে তৈরি পদক ও তিন পৃষ্ঠার একটি মানপত্র। সৌহার্দ, শানত্মি ও মৈত্রী অর্জনের প্রতীক হিসাবে কদমগাছের নকশা অাঁকা ষোড়শ শতকের টেরাকোটার আদলে তৈরি পদকের নকশা করেছেন শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী ও হাশেম খান।
পদকের বাঁ পাশের পেস্নটটিতে বাংলা ও ইংরেজীতে স্বর্ণের ওপর খোদাই করে লেখা হয়েছে_ “শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী, রাষ্ট্রনায়ক, ভারত প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রীকে (২৪ জানুয়ারি ১৯৬৬ থেকে ২৪ মার্চ, ১৯৭৭; ১৪ জানুয়ারি ১৯৮০ থেকে ৩১ অক্টোবর ১৯৮৪) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অনন্যসাধারণ অবদানের জন্য বাঙালী জাতির শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সর্বোচ্চ নিদর্শনস্বরূপ ‘বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা’ স্মারক প্রদান করা হলো। ১০ শ্রাবণ ১৪১৮, ২৫ জুলাই ২০১১ খ্রিঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বঙ্গভবনে প্রদত্ত।” নিচে বাঁ পাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ডান পাশে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিলস্নুর রহমানের খোদাই করা স্বাৰর রয়েছে।
পদকের ডান পাশের পেস্নটে রয়েছে এ অঞ্চলের ষোড়শ শতকের টেরাকোটা নকশার আদর্শে কদমগাছের প্রতীক। এ প্রতীকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সম্পর্ক অসাম্প্রদায়িক ও গণতন্ত্রকামী মূল্যবোধের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে বোঝানো হয়েছে। ইন্দিরা গান্ধীকে দেয়া তিন পৃষ্ঠার মানপত্র পাঠ করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম আবদুল আজিজ।
মানপত্রে উলেস্নখ করা হয়েছে_ “শুরম্ন থেকেই নানা প্রতিকূলতার পরও বাংলাদেশে গণতন্ত্রকামী মানুষের পাশে ছিলেন শ্রীমতী ইন্ধিরা গান্ধী। প্রায় এক কোটি শরণাথর্ীকে তিনি আশ্রয় দিয়েছিলেন। প্রতিনিয়ত কূটনৈতিকভাবে নানা সমস্যার মোকাবেলা করে এ দেশের মানুষের মুক্তিসংগ্রামে দৃঢ়তার সঙ্গে সাহস যুগিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুকে পাকিসত্মানের কারাগার থেকে মুক্ত করেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
বঙ্গভবনে ‘বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা’ পদক গ্রহণ করার পর সোনিয়া গান্ধী সন্ধ্যায় রূপসী বাংলা হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন। সফরশেষে রাত নয়টার দিকে বিশেষ বিমানে নয়াদিলস্নীর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। Source: Janakantha