Archive for August, 2011

August 30th, 2011

কাল খুশির ঈদ

এক মাসের সংযম আর সিয়াম সাধনা শেষে আবার এসেছে ঈদ। কাল বুধবার দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা মেতে উঠবেন ঈদের আনন্দে। ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ যার যার সাধ্যমতো প্রস্তুতি নিয়েছেন।
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে এখনো চলছে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা। এখনো বাড়ির পথে অনেকে। তবে রাজধানীর রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চ ঘাটে ভিড় ছিল অনেক কম। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল করে আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হয়েছে।
ঈদে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহ ময়দানে একাধিক জামাত হবে। প্রতিবারের মতো এবারও হাইকোর্ট-সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে রাজধানীর প্রধান ঈদের জামাত হবে। ঈদের জামাতের সময় যান চলাচলে শৃঙ্খলা রক্ষা, যানজট এড়ানো ও মুসল্লিদের নির্বিঘ্ন যাতায়াতের জন্য গাড়ি রাখার স্থান নির্দিষ্ট করে দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাতে সবার সঙ্গে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা।
বরাবরের মতো এবারও দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত হবে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। প্রতিবছর তিন লাখেরও বেশি মুসল্লি এই মাঠে একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন। এরইমধ্যে দেশের ও দেশের বাইরে থেকে অনেকেই কিশোরগঞ্জে পৌঁছেছেন। দেশের সর্ববৃহত্ ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে শোলাকিয়ায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নামাজের পর বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিরোধী দলীয় নেত্রী ও রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতারা। এদিকে ঈদে সরকারি ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। রাজধানীতে বনানী থেকে বঙ্গভবন পর্যন্ত প্রধান সড়কগুলোও ঈদ মোবারক খচিত ব্যানার দিয়ে সাজানো হয়েছে। ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে হাসপাতাল, এতিমখানা ও কারাগারে উন্নত খাবার পরিবেশন করা হবে।
ঈদ উপলক্ষে রেডিও, টেলিভিশনগুলোতে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার।

August 29th, 2011

তিস্তার পানি হিস্যা চূড়ান্ত প্রায়

ঢাকায় ভারত-বাংলাদেশ মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠক ৩ সেপ্টেম্বর

তিস্তা নদীর পানির হিস্যা চূড়ান্তপ্রায়। তিস্তার উজানে ভারতের গাজলডোবা পয়েণ্টে প্রবাহিত পানির হিস্যা নির্ধারণ করা হবে। সিদ্ধান্ত হয়েছে নদীতে ৪৬০ কিউসেক পানি প্রবহমান রেখে বাকি প্রবাহিত পানির ৪৮ শতাংশ বাংলাদেশের এবং ৫২ শতাংশ ভারতের মধ্যে বন্টন করা হবে। প্রথমে ১৫ বছর মেয়াদী অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি হবে। পরবর্তী সময়ে পানি প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি সম্পাদন করা হবে।

তিস্তার উজানে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে গাজলডোবা নামক স্থানে তিস্তা নদীর ওপর ভারত একটি ব্যারাজ নির্মাণ করায় নদীর প্রবাহ কমে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের কৃষিকাজে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই গাজলডোবা ব্যারেজের উজানে নদীর প্রবাহ পর্যবেক্ষণ ও পানি বণ্টন করার পয়েণ্ট নির্ধারণ করেছে দুই দেশ।

আর ফেনী নদীর ক্ষেত্রে ভারতের পক্ষ থেকে প্রতিদিন ৭০ কিউসেক পানি উত্তোলনের প্রস্তাব থাকলেও প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৬০ কিউসেক পানি উত্তোলনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই দেশ। ভারত ত্রিপুরার সাবরুম শহরে সুপে পানি সরবরাহের জন্য ফেনী নদীর পানি ব্যবহার করবে। আর বাকি পানি নিয়ে তারা ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পে লাগাবে। বাংলাদেশও সমপরিমাণ পানি উত্তোলন করে ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পে ব্যবহার করবে।

এ চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করতে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রী ঢাকা আসছেন। ভারত বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠকে চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।

ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রী পবন কুমার বনসাল ৩ সেপ্টেম্বর বিকাল সোয়া তিনটায় ঢাকায় এসে পৌঁছাবেন। এরপর সেদিন বিকাল সাড়ে পাঁচটায় তিনি বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের সঙ্গে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে মিলিত হবেন। উক্ত বৈঠকে তিস্তা ও ফেনী নদীর চুক্তির খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করা হবে। আর পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর বিকাল সোয়া চারটায় তিনি দিল্লী ফিরে যাবেন। পরে ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি সই করবেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন নদী রয়েছে ৫৪টি। তবে এখন পর্যন্ত অভিন্ন নদী গঙ্গা (বাংলাদেশ অংশে নাম ‘পদ্মা’) নদীর পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তত্কালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর এ চুক্তি সম্পাদিত হয়। সমতার ভিত্তিতে সম্পাদিত সে চুক্তি মোতাবেক এখন পর্যন্ত কোন জটিলতা ছাড়াই গঙ্গার পানি ভাগাভাগি হয়ে আসছে। গঙ্গার পর এবার হতে চলেছে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তিস্তার পানির হিস্যা নির্ধারণ চূড়ান্ত। তবে ভারতের পক্ষ থেকে ফেনী নদীতে প্রতিদিন ৬০ কিউসেকের পরিবর্তে ৭০ কিউসেক উত্তোলনের দাবি রয়েছে। আর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিস্তার পানির হিস্যা সমান সমান করার দাবি রয়েছে।

তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে সমতা, নদী অববাহিকার দৈর্ঘ্য এবং এ নদীকেন্দ্রিক জনসম্পৃক্ততা কৃষিনির্ভরতা।

উল্লেখ্য, ৩১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও খরস্রোতা তিস্তা নদী ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং-জলপাইগুড়ি হয়ে বাংলাদেশের লালমনিরহাট দিয়ে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে প্রবেশ করে ব্রহ্মপুত্রে মিলিত হয়েছে। বাংলাদেশে এর দৈর্ঘ্য ১শ ১২ কিলোমিটার।

এ বছরের জানুয়ারিতে দুই দেশের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের বৈঠকে তিস্তা চুক্তির বিষয়ে দুই দেশ একটি ‘ফাইন টিউনিং’ এ এসে পৌঁছায়। এর আগে গত বছরের মার্চে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীতে যৌথ নদী কমিশনের সব শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তারও আগে ২০১০ সালের জানুয়ারিতে নয়াদিল্লীতে সচিব পর্যায়ের বৈঠকে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে ঐকমত্যের সৃষ্টি হয়। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকেও তিস্তা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়। কিন্তু পানির হিস্যার বিষয়টি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি উক্ত বৈঠকে।

তিস্তা চুক্তি না হওয়ার কারণে এবং শুষ্ক মৌসুমে ভারতের একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শুকনো মৌসুমে সেচের পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। পানির অভাবে বাংলাদেশের তিস্তা সেচ প্রকল্প বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

৩১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও খরস্রোতা তিস্তা নদী ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং-জলপাইগুড়ি হয়ে বাংলাদেশের লালমনিরহাট দিয়ে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে প্রবেশ করে ব্রহ্মপুত্রে মিলিত হয়েছে। বাংলাদেশে এর দৈর্ঘ্য ১শ’ ১২ কিলোমিটার। ফলে এটি শুধু স্বাধীন একটি নদীমাত্র নয়, তিস্তা বাংলাদেশেরও নদী এবং তা ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রবাহেরও অন্যতম উত্স। তিস্তার প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া মানেই ভাটিতে বাংলাদেশের তিস্তার অপমৃত্যু এবং সেইসঙ্গে ব্রহ্মপুত্র তথা যমুনার প্রবাহ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। এই নদীর অস্তিত্বের সঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ নির্ভরশীল। বর্তমানে তিস্তার অবস্থা দাড়িয়েছে একটি মরা খালের মত। শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার পানিপ্রবাহ নেমে আসে ৪০০ কিউসেকে। যেখানে ২০ হাজার কিউসেকের কম প্রবাহ হলে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিকাজের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

August 27th, 2011

এক যাযাবর হাঁসের খামারি দুটি হাঁস থেকে ২ কোটি টাকার মালিক!

রূপকথার গল্পে রোজ ভোরে সোনার ডিম দেওয়া রাজহাঁসের কথা জেনেছেন অনেকে; কিন্তু বাস্তবে কি সোনার ডিম দেওয়া মূল্যবান হাঁসের কথা ভাবা যায়! অভাবনীয় হলেও বাস্তবে তেমনই এক বিস্ময়কর সাফল্যের ঘটনা ঘটেছে। দুটি হাঁস থেকে ২ কোটি টাকার মালিক হওয়ার মতো অবিশ্বাস্য ঘটনাটি ঘটিয়েছেন হাবিবুর রহমান। তার কথা শুনলে অবাকই হতে হয়।
‘হাঁসের শরীরে হাত দিলেই আমি বুঝতে পারি হাঁস ডিম দেবে কি-না’_ এটি কোনো চিকিৎসকের মন্তব্য নয়, এটি অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন হাঁস খামারি হাবিবের অভিজ্ঞতা। খামারি হাবিবুর রহমান সিলেট শহরের কুমুপাড়া এলাকার জালালউদ্দিনের ছেলে।
দুটি হাঁস থেকে ১২ বছরে ২ কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া হাবিবুর রহমান হাঁসের পাল চরিয়ে বেড়ান বিল-ঝিলে। ভ্রাম্যমাণ খামারি হাবিবুর রহমান এবার ২ হাজার ১০০ হাঁস নিয়ে তাঁবু গেড়েছেন গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের চকনদি গ্রামের বিলে। অর্থ উপার্জনের জন্য কীভাবে পরিশ্রম করতে হয়, কতটা ধৈর্য ধরতে হয়_ এর সবটুকু করছেন রোদ-বৃষ্টি, ঝড়-তুফান উপেক্ষা করে যাযাবরের মতো জীবনযাপনকারী হাবিবুর রহমান। এক যুগে হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসা হাবিবুরের হাঁসের খামার দেখে অনেকেই অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।
তিনি জানান, মায়ের পরামর্শে ১২ বছর আগে মাত্র দুটি হাঁস দিয়ে খামার শুরু করেন। এরপর আস্তে আস্তে পালে হাঁসের সংখ্যা বাড়তে থাকে; কিন্তু হাঁস পালনের জন্য নিজের জায়গা-জমি না থাকায় শুরু করেন যাবাবর জীবনযাপন। যেখানে বিল-ঝিল রয়েছে, সেখানেই ছুটছেন হাঁসের পাল নিয়ে। ভ্রাম্যমাণ খামারে জায়গা-জমির ভাড়া লাগে না, হাঁসের সমস্যা দেখা দেয় না। তাই অন্যের জমিতে হাঁস পালন করে নিজের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন হাবিবুর রহমান। উপার্জনের জন্যই হাঁসের খামার নিয়ে সিলেট থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সাদুল্যাপুরে এসেছেন। এ দীর্ঘ সময়ে তিনি রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সংযুক্ত মহাসড়ক সংলগ্ন প্রায় ২৫ জেলার বিল-ঝিলে হাঁসের খামার নিয়ে ঘুরেছেন। নিরাপত্তার কারণে বেশির ভাগ সময় মহাসড়কে পুলিশ বক্সের পাশে কিংবা ইটভাটার উঁচু মাটিতে তাঁবু গেড়ে হাঁসের পাল নিয়ে রাতযাপন করেন।
বিল-ঝিলে হাঁসের খাদ্যের সমস্যা হয় না। বছরে শুধু চার মাস (ফাল্গুন, চৈত্র, শ্রাবণ ও ভাদ্র) হাঁসের কিছু খাদ্য কিনতে হয়। এ ছাড়া বাকি আট মাস খাদ্য কিনতে হয় না। প্রকৃতিতে থাকা শামুক-ঝিনুক, পোকা-মাকড় খেলে হাঁস প্রচুর ডিম দেয় এবং রোগবালাই কম হয়। বদ্ধ পরিবেশে হাঁস কম ডিম দেয়। কাদামাটিতে হাঁস যত মুখ লাগাবে, ততো বেশি ডিম দেবে। তিনি নিজেই হাঁসের চিকিৎসা করেন। হাঁসের শরীরে হাত দিলেই বুঝতে পারেন হাঁস ডিম দেবে ও সুস্থ কি-না। সরকারি-বেসরকারি কোনোরকম প্রশিক্ষণ ছাড়াই তিনি এ পর্যায়ে এসেছেন বলে জানান হাবিব। হাঁসের সঙ্গে থাকতে থাকতেই তার অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে। তাই তিনি রাতে হাঁসের পালের সঙ্গেই তাঁবু গেড়ে ঘুমান। রাতে হাঁসগুলো নির্ধারিত বেষ্টনীতে (খোলা আকাশের নিচে বানা দিয়ে ঘেরা) থাকে। সকালে ডিম বের করার আগে হাঁসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
হাবিবুর রহমান বলেন, হাঁসগুলো তিন ভাগ করে (৭০০ করে) পাশাপাশি তিনটি বিলে রাখা হয়। তিন গ্রুপে দু’জন করে বেতনভুক্ত কর্মচারী রয়েছেন। খামারের হাঁস গড়ে প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ ডিম দেয়। সে ডিম ৯ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। পলাশবাড়ী উপজেলা সদরের পাইকার বাদশা মিয়া প্রতিদিন ডিম কেনেন। দীর্ঘদিন ধরে এ পাইকার তার ডিম কেনেন। কর্মচারীর বেতন এবং অন্য খরচ বাদ দিয়ে গড়ে প্রতি মাসে তার ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় হয়। তিনি সবসময় ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করেন। রাতে তাঁবুতে থাকার কারণে শুধু খরচের জন্য সামান্য কিছু টাকা কাছে রাখেন। হাঁসের খামার নিয়ে যখন যেখানেই যান, সেখানকার চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ গ্রামপুলিশ এবং সুধীজনের সাহায্য নেন। বিনিময়ে তাদের তিনি খুশি হয়ে ডিম উপহার দেন। এলাকার মানুষের এ সাহায্যের কারণে এখনও তিনি কোথাও কোনো প্রকার হুমকি-ধমকি, আর্থিক বা অন্য কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হননি। এ ছাড়া এখনও তিনি কোনো চাঁদাবাজি, ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের শিকার হননি বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, বড় হাওর-বাঁওড়ে বেশি পানি এবং স্রোতের কারণে হাঁসের খাবারের সমস্যা হয়। তাই ছোট বিল-ঝিলে হাঁসের পাল নিয়ে ঘোরেন। দেশের অন্যান্য স্থানের চেয়ে উত্তরাঞ্চলে বেশি ছোট বিল রয়েছে। তাই হাঁসের পাল নিয়ে এসব এলাকায় অবস্থান করছেন। বেশি দূরত্বের বিলে গেলে ট্রাকযোগে হাঁস পরিবহন করেন। হাবিবুর রহমানের খামারের হাঁস এতটাই পোষ মেনেছে যে, তিনি হাঁসগুলোকে যখন যেদিকে যেতে বলেন সেদিকেই যায়। যেন হাবিবুরের হাতের ইশারায় আর মুখের কথায় হাঁস ওঠাবসা করে। হাঁসের পোষ মানার কিছু দৃশ্য নিজ চোখে না দেখলে অন্যকে বিশ্বাস করানো যাবে না।
হাঁস খামারের আয়ের টাকায় হাবিবুর রহমানের ১০ সদস্যের পরিবারের ভরণ-পোষণ চলে। আয়ের টাকায় তিনি এ পর্যন্ত নেত্রকোনা শহরে বৃহৎ হাঁস খামার ও হ্যাচারি করার জন্য ছয় বিঘা জমি কিনেছেন। সিলেট শহরে সোহান-সোহাগ নামে একটি হাঁসের বাচ্চা ফোটানোর হ্যাচারি দিয়েছেন। সেটি তার স্ত্রী শিউলি আক্তার লায়লা দেখাশোনা করেন। সেই হ্যাচারি থেকেও প্রচুর লাভ হয়। পরিবার নিয়ে থাকার জন্য সিলেট শহরে ইটের দালান (পাকা ঘর-দরজা) করেছেন। তার মতে, এ ব্যবসায় হালাল উপার্জনের মাধ্যমে খুব সহজে কোটিপতি হওয়া সম্ভব। তিনি দেশের বেকার যুবকদের হাঁস পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধৈর্য সহকারে এ ব্যবসা করলে বেকার থাকতে হবে না; টাকার সমস্যায়ও পড়বে না কেউ।
খামারের কর্মচারী শফিকুর রহমান ও তমজিন ইসলাম বলেন, চার বছর ধরে এ খামারে কাজ করছি। হাঁসের সঙ্গে বিভিন্ন স্থান ঘুরে বেড়াচ্ছি। এখানে থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজেরাও ভ্রাম্যমাণ হাঁসের খামার করব। তাদের মতে, এ ব্যবসায় প্রচুর লাভ। প্রতিদিন নগদ টাকা হাতে আসে।
ধাপেরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন বলেন, হাঁসের খামার নিয়ে হাবিবুর রহমান তার এলাকায় আসার পর থেকেই দেখার জন্য মানুষ ছুটে আসছে। মানুষ এ খামার দেখে নিজেরাও হাঁস পালনে উৎসাহী হবে বলে তিনি আশাবাদী। সাদুল্যাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রহমতউন নবী বলেন, সবার পক্ষে এ কাজ সম্ভব নয়। এটি এক ধরনের অসম্ভব কাজ। হাবিবুর রহমান কঠিন কাজ সহজ বানিয়ে সফলতা দেখিয়েছেন। এ হাঁসের খামার পরিবেশবান্ধব। অন্য কোনো উদ্দেশ্য না থাকলে হাবিবুর রহমান একসময় হাঁসের খামারের জন্য দেশের মডেল হবেন।
সাদুল্যাপুর থানার ওসি আবু দিলওয়ার মোঃ হাসান ইনাম বলেন, হাঁস খামারি হাবিবুর রহমান তার এলাকায় থাকার কারণে নিরাপত্তা না চাইলেও হাইওয়ে পুলিশ তাকে সহায়তা করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল হক বলেন, এ ধরনের খামারিদের এলাকার সবারই সহযোগিতা করা উচিত। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেখে মানুষ উৎসাহিত ও কর্মমুখী হবে।

August 27th, 2011

হানিফসংকেতের ‘কর্মফলের মর্মকথা’

প্রতি ঈদেই বর্ণাঢ্য ‘ইত্যাদি’র পাশাপাশি বরেণ্য নির্মাতা হানিফ সংকেত একটি নাটক নির্মাণ করেন। এবারও তিনি এটিএন বাংলার জন্য নির্মাণ করেছেন ঈদের বিশেঘ নাটক ‘কর্মফলের মর্মকথা’। প্রচারিত হবে ঈদের দিন রাত ৮টা ৫০ মিনিটে। বেশ কয়েক বছর ধরেই ঈদ উপলক্ষে তিনি এটিএন বাংলার জন্য বিশেষ নাটক নির্মাণ করছেন।

‘কর্মফলের মর্মকথা’ নাটকের কাহিনি অনেকটা এরকম- একজন অসত্ ব্যক্তি অর্থ আয়ের জন্য নানান পন্থা অবলম্বন করেন এবং এই অবৈধ অর্থ দিয়ে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান এবং ভবিষ্যতে আরও ক্ষমতাবান হওয়ার জন্য বিভিন্ন রকম পরিকল্পনা করেন। এই কাজে তিনি তার পরিবারের সদস্যদেরও নিয়োজিত করেন কিন্তু বাধ সাধেন তার স্ত্রী। এই নিয়ে অসত্ এই গৃহকর্তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের ঘটতে থাকে নানান ঘটনা। নাটকের শেষে তার কর্মফলের মধ্য দিয়ে একটি চমত্কার বক্তব্য তুলে ধরা হয়। নাটকটিতে এই প্রভাবশালী ব্যক্তির চরিত্রে এটিএম শামসুজ্জামান ও তার স্ত্রী’র ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ফেরদৌসী মজুমদার। এ ছাড়াও নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনয় তারকা- তানিয়া আহমেদ, মীর সাব্বির, সাজু খাদেম, আরফান ও মম। এ ছাড়াও রয়েছেন আফজাল শরীফ, মহিউদ্দিন বাহার, সুভাশিষ ভৌমিক, নজরুল ইসলাম, পুতুল, মতি, রবিন, ফরিদসহ আরও অনেকে। নাটকের সূচনা সংগীতের কথা লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, সুর করেছেন আলী আকবর রূপু ও কণ্ঠ দিয়েছেন কমল ও রিয়াদ। নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন হানিফ সংকেত। এটিএন কর্তৃপক্ষ জানায়, সবাইকে সব চ্যানেলে একাধিকবার দেখা গেলেও ঈদের দিন হানিফ সংকেতের নাটক দেখা যাবে শুধুমাত্র এটিএন বাংলায়।

নাটকটি প্রসঙ্গে ফাগুন অডিও ভিশন কর্তৃপক্ষ জানান, ‘প্রতি ঈদের মতোই শুধু স্বাভাবিক হাস্যরস আর ভাড়ামিপূর্ণ গল্প থাকছে না আমাদের নাটকে। সবমিলিয়ে সময়কে ধারণ করে উপযোগী গল্প নিয়েই এবারের নাটকটি নির্মাণ করা হয়েছে।’

August 25th, 2011

আমাদের সিভিক সেন্সের অভাব আছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘পুরো দেশকে নিয়মশৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু একটু ধৈর্য ধরতে হবে। সমস্যা আসবে, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সমস্যা যেটুকু থাকুক, তা সমাধানের জন্য আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ জাতীয় সংসদের দশম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে আজ বৃহস্পতিবার তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির অনুপস্থিতিতে জাসদের মইনুদ্দিন খান এবং স্বতন্ত্র সদস্য ফজলুল আজিম বক্তব্য দেন।
সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো ঈদের আগে চলাচলের উপযুক্ত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টাকা পাওয়ার পরই যোগাযোগমন্ত্রী ময়মনসিংহ পর্যন্ত চলে গেছেন। আমি তাঁকে নির্দেশ দিয়েছি যে রাস্তার গর্তগুলো ভরাট করে চলাচলের যোগ্য করতে। একটু শুকনো মৌসুম আসলে পুরোপুরি ঠিক করা হবে। এখন যদি পুরোপুরি ঠিক করতে যায়, তাহলে পুরো টাকাটাই পানিতে যাবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত দেশের মহাসড়কগুলোর কোনো রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি বলে এ অবস্থা। আমরা যে বাজেট করেছি, তার পুরোটা তো ঢেলে দেওয়া যায় না। যোগাযোগব্যবস্থার বিষয়টি মাথায় থাকলেও বেশি ব্যয় করতে পারিনি। খাদ্য আর বিদ্যুতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছি।’
এই মৌসুমের ভারী বর্ষণের কথা উল্লেখ করে সংসদ নেতা বলেন, ‘রাস্তা মেরামতের জন্য এক হাজার ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হলো। সেভাবে আমরা কাজও করছিলাম। কিন্তু এর মধ্যেই বর্ষা এসে গেল। যে পরিমাণ বৃষ্টি হলো, তা গত দু-তিন বছরের মধ্যে হয়নি।’ জমে থাকা পানি সরে যাওয়ার জন্য ব্যবস্থা না রাখায় রাস্তার পাশে কল-কারখানা ও সিএনজি স্টেশন গড়ে তোলার সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা।
ট্রাকের অতিরিক্ত মালামাল নেওয়ার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ট্রাকগুলোর যতটুকু মাল নেওয়ার সীমা রয়েছে, তার বেশি মাল নিচ্ছে। অতিরিক্ত চাপ এই রাস্তা সহ্য করতে পারে না। আমি ট্রাকমালিক আর যে সকল এজেন্সি এই মাল বহন করে, আমি তাদের বলব, রাস্তা ভালো চাইলে যতটুকু মাল তোলার ততটুকু তুলতে হবে।’ মেঘনা সেতুর বর্তমান ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থার জন্য ট্রাক অতিরিক্ত মাল নেওয়াকেও কিছুটা দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর বোঝাই ট্রাক ওজনের মেশিন ‘কায়দা করে’ নষ্ট করে রাখা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘সিভিক সেন্সের প্রয়োজন আছে। এই জিনিসটার আমাদের অভাব।’
চালকদের প্রশিক্ষণ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের প্রচুর চালক দরকার। আমাদের চালক কম। এই জন্য কেউ স্টিয়ারিংয়ে বসে চালাতে পারলেই বসে পড়ে।’
যারা সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা পরীক্ষা দিয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়েছেন কি না, সে প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু অশিক্ষিত লোকেরাই নয়, যাঁরা এখন আন্দোলন করছেন, যাঁরা নিজেরা গাড়ি চালান, তাঁরাও অনেকে পরীক্ষা না দিয়ে লাইসেন্স নিয়েছেন। অনেকেই ড্রাইভারকে টাকা দিয়ে পাঠিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়েছেন।’ ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী চালকদের কিছু বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তখন অত্যন্ত উচ্চমার্গের লোকেরা দেশ চালিয়েছিলেন। তখন দেশে ছিল সুশীল বাবুদের সরকার। মিলিটারি ব্যাকড সরকার। তারাও বিদ্যুত্ ও দ্রব্যের মূল্য কমাতে পারেনি।’
যানজট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন অনেকেরই সচ্ছলতা এসেছে। সকলের গাড়ি আছে। অনেক পরিবারে দুটি গাড়ি। কারও আবার তিন খানা। এখন কীভাবে ট্রাফিক জ্যাম কমাবেন?’
বিভিন্ন টক শোতে যারা বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন, তাঁদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গুলশান-বারিধারায় যাঁরা থাকেন, যাঁরা টিভিতে এসে বড় বড় কথা বলেন, তাঁরা রাস্তার জায়গাও নিয়ে নিয়েছেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারকে তো খালি গালি দিয়ে হবে না। যানবাহন যেন সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহার হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে।
এ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে স্পিকার আব্দুল হামিদ গাড়ির জ্বালানি হিসেবে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার সীমিত করার কথা বলে বলেন।
ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য একটার বেশি গাড়ি কিনলে পর্যায়ক্রমে কর বাড়ানোর প্রস্তাবও দেন স্পিকার।
স্পিকারের বক্তব্যের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, ‘গ্যাসের দাম কম বলেই হয়তো এভাবে ব্যবহার হচ্ছে। এই অমূল্য সম্পদ যেন যত্রতত্র ব্যবহার করতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা রান্নার জন্য সিলিন্ডারের গ্যাসের ব্যবস্থা করছি।’

August 24th, 2011

ত্রিপোলি বিদ্রোহীদের :আড়ালে থেকে যুদ্ধের ঘোষণা গাদ্দাফির

লিবীয় নেতাকে ধরতে ১৭ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা

লিবিয়ার বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর তুমুল লড়াইয়ের পর রাজধানীর দখল হাতছাড়া হয়েছে মুয়াম্মার গাদ্দাফির। তন্ন তন্ন করে খুজেও বিদ্রোহীরা গাদ্দাফির নাগাল পায়নি। বিদ্রোহীরা গাদ্দাফির বাসভবনে ব্যাপক মাত্রায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে গাদ্দাফি জমানার ইতি ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার গাদ্দাফির বাসভবনের বেশিরভাগ এলাকা দখল নিলেও গতকাল গাদ্দাফি অনুগতদের ওই কম্পাউন্ড থেকে তারা বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়।

তবে, লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি বিদ্রোহীদের কাজে পরাজয় স্বীকার করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কেউ যদি মনে করে যুদ্ধ শেষ হয়েছে তবে তারা ভুল করবেন। বিদ্রোহীদের আবারো ‘ইঁদুর’ আখ্যায়িত করে রাজধানী থেকে তাদের নির্মূল করতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সিরিয়া ভিত্তিক আরাই ওরুবা টেলিভিশন ও স্যাটেলাইট চ্যানেল আল-আরাবিয়াতে সমপ্রচারিত এক অডিও বার্তায় গাদ্দাফি বলেন, তিনি ছদ্মবেশে ত্রিপোলির রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ছদ্মবেশে চলাফেরা করেছি। কেউ আমাকে চিনতে পারেনি। কিন্তু আমি দেখেছি, তরুণরা তাদের নগরীকে রক্ষা করতে প্রস্তুত রয়েছে।’ তবে তিনি কখন রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়েছেন সে ব্যাপারে কিছুই বলেননি। তিনি যুদ্ধ চলিয়ে যাবার ঘোষণা দিলেও তাকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য ১৭ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও সিএনএনের।

সূত্র জানায়, লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির অনেক স্থানে শেষ মুহূর্তের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে গাদ্দাফি অনুগত সেনা ও বিদ্রোহীরা। ত্রিপোলির মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে লড়াই চলছে। বিদ্রোহীদের রুখে দাঁড়াতে মরিয়া গাদ্দাফি অনুগত সেনারা। ওদিকে, জয় সুনিশ্চিত করতে মরিয়া বিদ্রোহীরাও। গতকাল রিজোস হোটেলের বাইরে নতুন করে গাদ্দাফি অনুগত সেনাদের সঙ্গে লড়াই হয়েছে বিদ্রোহীদের। ফলে আটকা পড়েছে ওই হোটেলের প্রায় ৩৫ জন বিদেশি সাংবাদিক। অন্যদিকে, ত্রিপোলি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে কয়েকটি রকেট হামলা হয়েছে। বিমানবন্দর এখনো বিদ্রোহীদের দখলে।

কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি এখনো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। মৃত্যু অথবা জয় এ দুটোর একটিকেই তিনি বেছে নেবেন বলে বুধবার ঘোষণা দেন। গাদ্দাফির দূর্গ বাব আল আজিজিয়া বিদ্রোহীদের দখলে গেলেও গাদ্দাফি কোথায় আছে তা এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি। এই কম্পাউন্ডই শেষমুহূর্ত পর্যন্ত গাদ্দাফির নিয়ন্ত্রণে ছিল।

এদিকে, মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১৭ লাখ ডলার (২০ লাখ দিনার) পুরস্কার ঘোষণা করেছেন এক লিবীয় ব্যবসায়ী। লিবিয়ার বিদ্রোহী পরিষদ ‘ন্যাশনাল ট্র্যান্সিশনাল কাউন্সিল’ এর চেয়ারম্যান মুস্তফা আব্দেল জলিল বুধবার বলেন, গাদ্দাফিকে কেউ ধরিয়ে দিলে তাকে ২০ লাখ লিবিয়ান দিনার পুরস্কার দেবেন বলে জানিয়েছেন বেনগাজির এক ব্যবসায়ী। তবে কে এই ব্যবসায়ী তা জানান নি জলিল।

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি বুধবার বলেছেন, তিনি ‘কৌশলগত কারণে’ তার ত্রিপোলির বাসভবন চত্বর ছেড়ে গেছেন। লিবিয়ার বিদ্রোহী যোদ্ধারা তার বাসভবন চত্বর দখল করে নেয়ার পর তিনি একথা বলেন। একটি টেলিভিশন কেন্দে র ওয়েবসাইটে পরিবেশিত এক বার্তায় তিনি বলেন, ন্যাটো বাহিনীর ৬৪ বার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাব আল-আজিজিয়া ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়ায় আমরা কৌশলগত কারণে ওই চত্বর ত্যাগ করেছি।’

গাদ্দাফির শাসনের পতন নিশ্চিত হবার পর বিদ্রোহীদের নেতা জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহলও সহিংসতা এড়িয়ে শান্তির পক্ষে কাজ করতে লিবীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

August 24th, 2011

গাদ্দাফির মাথার দাম ১৩ লাখ ডলার

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে জীবিত অথবা মৃত ধরিয়ে দিতে ১৩ লাখ ডলার বা ২০ লাখ দিনার পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। লিবিয়ার এক বিদ্রোহী ব্যবসায়ী আজ বুধবার পুরস্কারের এ ঘোষণা দেন।
লিবিয়ার বিদ্রোহীদের জাতীয় অন্তর্বর্তী কাউন্সিলের (ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিল—এনটিসি) প্রধান মুস্তফা আবদেল জলিল এ কথা জানিয়ে বলেন, গাদ্দাফিকে কেউ ধরিয়ে দিলে তাঁকে ২০ লাখ লিবিয়ান দিনার পুরস্কার দেবেন বলে জানিয়েছেন বেনগাজির এক ব্যবসায়ী।
ওই ব্যবসায়ীর নাম আবদেল সালাম। তিনি গাদ্দাফির ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। গত সপ্তাহে ওই ব্যবসায়ী বিদ্রোহীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে।
আবদেল সালাম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘গাদ্দাফি লিবিয়াতেই আছেন। বিদ্রোহীরা ত্রিপোলির রাস্তা খুলে দিলে মেয়েদের পোশাক পরে গাদ্দাফি ত্রিপোলি ছেড়ে আলজেরিয়া সীমান্তে যেতে পারেন। মার্কিন কর্মকর্তারাও ধারণা করছেন গাদ্দাফি লিবিয়াতেই আছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, এনটিসির নেতারা আশা করছেন, এ অর্থের ঘোষণা গাদ্দাফির সঙ্গে থাকা আত্মীয়স্বজন ও অনুগত নেতাদের প্রলুব্ধ করবে। বিদ্রোহীরা আরও বলেছে, গাদ্দাফির অনুসারীদের কেউ তাঁকে ধরিয়ে দিতে পারলে কিংবা হত্যা করলে তাঁকে সাধারণ ক্ষমা করা হবে।
গাদ্দাফি তাঁর ত্রিপোলির সুরক্ষিত প্রাসাদ বাব আল-আজিজিয়া থেকে পালানোর পর এ ঘোষণা দেওয়া হল।

August 22nd, 2011

বিদ্রোহীদের দখলে ত্রিপোলি, গাদ্দাফি ‘নিখোঁজ’

মুয়াম্মার গাদ্দাফির অনুগত সৈন্যদের হঠিয়ে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিদ্রোহী বাহিনী। গাদ্দাফিকে ধরতে তার প্রাসাদে আক্রমণ চলছে। আফ্রিকার তেলসমৃদ্ধ এ দেশটির ‘নতুন প্রধান’ হিসেবে বিদ্রোহীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা।

ত্রিপোলির বেশিরভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর মুয়াম্মার গাদ্দাফির বাব আল-আজিজিয়া কম্পাউন্ডের দখল নিতে সোমবার আক্রমণ চালায় বিদ্রোহী বাহিনী। তবে লিবিয়ার ৪১ বছরের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি ওই কম্পাউন্ডে আছেন কি না সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। তার অনুগত বাহিনী প্রাসাদ রক্ষায় শেষ মুহূর্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

রোববার রাজধানীর কেন্দ্রস্থলের ‘গ্রিন স্কয়ার’সহ ত্রিপোলির বেশিরভাগ এলাকাই নিয়ন্ত্রণে নেয় বিদ্রোহীরা। দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম দিক থেকে ত্রিপোলিতে প্রবেশের সময় হালকা প্রতিরোধের মুখে পড়ে বিদ্রোহী যোদ্ধারা।

বিদ্রোহীদের এক মুখপাত্র বলেছেন, ত্রিপোলির ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এলাকা এখনো গাদ্দাফির অনুগত সেনদের নিয়ন্ত্রণে।

৬৯ বছর বয়সী গাদ্দাফি সোমবার সকালে এক অডিও বার্তায় বিদ্রোহীদের ‘ইঁদুর’ আখ্যা দিয়ে তাদেরকে হঠিয়ে দিতে অস্ত্র ধরার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

গাদ্দাফি বলেন, তিনি ত্রিপোলিতে আছেন এবং শেষ পর্যন্ত থাকবেন।

আরেক অডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আমি ভয় পাচ্ছি, যদি আমরা ঠিকমতো প্রতিরোধ করতে না পারি, তারা ত্রিপোলি জ্বালিয়ে দেবে। তখন এখানে পানি, খাবার, বিদ্যুৎ বা স্বাধীনতা কিছুই থাকবে না।”

তবে গাদ্দাফির ওই আহ্বানে জনতার সাড়া দেয়নি। তার দুই ছেলেকেও আটক করেছে বিদ্রোহীরা। ত্রিপোলির একটি পর্যটন এলাকা থেকে গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর গাদ্দাফির বড় ছেলে মোহাম্মদ গাদ্দাফি আত্মসমর্পণ করেন বলে আল জাজিরা জানায়।

বিদ্রোহীরা গাদ্দাফির অনুগত স্নাইপারদের ধরতে ভবনে ভবনে তল্লাশি চালাচ্ছে।

আব্দুল রহমান নামের এক বিদ্রোহী যোদ্ধা বলেন, “বিপ্লবীরা ত্রিপোলির প্রায় সব জায়গায় অবস্থান নিয়েছে। তবে গাদ্দাফির অনুগতরা নিজেদের রক্ষায় শেষ চেষ্টা চালাচ্ছে।।”

ত্রিপোলির ভূ-মধ্যসাগরীয় বন্দর ও গাদ্দাফির বাব আল-আজিজিয়া কম্পাউন্ডের কাছে গাদ্দাফির অনুগতরা ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, “স্নাইপাররাই সবচেয়ে বড় সমস্যা।”

বিদ্রোহীরা ত্রিপোলির বেশিরভাগ এলাকা দখলে নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনসহ পশ্চিমা দেশগুলোর নেতারা লিবিয়ায় আরো রক্তপাত এড়াতে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য গাদ্দাফির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

চীন বলেছে, লিবিয়ার জনগণের কাক্সিক্ষত সরকারকে তারা সহযোগিতা করবে।

বিবিসি জানায়, সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠে গাদ্দাফির শাসন আমলের আগেকার লিবিয়ার জাতীয় সঙ্গীত গায় ত্রিপোলির পূর্বাঞ্চলের অধিবাসীরা।

‘গ্রিন স্কয়ার’ও তার আগের নাম মারটায়ার্স স্কয়ার ফিরে পায়। সেখানে সমবেত জনতা গাদ্দাফির প্রতিকৃতি পদদলিত করে। তারা লিবীয় সরকারের সবুজ পতাকা নামিয়ে বিদ্রোহীদের করা পতাকা উড়ায়।

লায়লা জাওয়াদ নামের ত্রিপোলির এক সেবিকা রয়টার্সকে বলেন, “আমরা সম্ভবত স্বৈরশাসনের কবল থেকে মুক্ত হতে যাচ্ছি। এটা আমার জন্য নতুন ঘটনা। আমি খুবই আশাবাদী। আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানাই।”

August 22nd, 2011

প্রোফাইল: কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি

লিবিয়ার কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা শাসক।

১৯৪২ সালে লিবিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলের সিরতে এক যাযাবর গোত্রে জন্ম নেন গাদ্দাফি। বেনগাজি ইউনিভার্সিটিতে ভূগোল বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও মাঝপথে তা বাদ দিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন যুবক গাদ্দাফি।

১৯৬৯ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে লিবিয়ার তৎকালীন রাজা ইদ্রিসকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করে নেন গাদ্দাফি। ভিন্নমতালম্বীদের কঠোরভাবে দমন করে খনিজ তেল সমৃদ্ধ লিবিয়ার দখল ধরে রাখেন তিনি।

ক্ষমতা দখলের পরে তিনি ইসলামঘেঁষা সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ঐক্যবদ্ধ প্যান-আরব গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। এসময় দেশের বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যক্তি মালিকানায় রাখার অনুমতি দেন।

১৯৭৭ সালে দেশের নাম বদলে গ্রেট সোস্যালিস্ট পপুলার লিবিয়ান জামাহিরিয়াহ (জনতার রাষ্ট্র) রাখেন। এসময় দেশের সাধারণ মানুষদের পার্লামেন্টে তাদের মতামত জানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিলো।

তবে তার বিরুদ্ধে স্বৈরশাসন টিকিয়ে রাখার জন্য হাজার হাজার মানুষকে অবৈধভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ও বন্দি করে রাখার অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

১৯৭৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্প ডেভিডে আরব বিশ্বের তৎকালীন বিবদমান দুই প্রতিপক্ষ মিশর ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের জন্য তাদের মুখোমুখি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন গাদ্দাফি।

তবে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সঙ্কট সমাধানে অত্যন্ত কঠোর দৃষ্টিভঙ্গির কারণে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আরব দেশ তার সমালোচনা করে। এসময় থেকে তার প্যান-আরব নীতি পরিবর্তিত হয়ে প্যান-আফ্রিকা পরিকল্পনায় রূপ নেয়।

তার ঐক্যবদ্ধ আফ্রিকা গঠনের উদ্যোগই পরবর্তী সময়ে আফ্রিকান ইউনিয়নের জন্ম দেয়।

তবে পশ্চিমা বিশ্বে সবসময়ই গাদ্দাফিকে সন্ত্রাসবাদী হিসেবে দেখা হয়। কলাম্বিয়ার রেভ্যুলেশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলাম্বিয়া (ফার্ক) এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের আইরিশ রিপাবলিকান আর্মিকে (আইআরএ) সমর্থন দেওয়া অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

১৯৮৬ সালে জার্মানির বার্লিনে একটি নাইটক্লাবে বোমা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনা সদস্য নিহতের ঘটনায় লিবিয়ার জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এসময় গাদ্দাফিকে ‘পাগলা কুকুর’ বলেও অভিহিত করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান।

এ ঘটনার পরে ত্রিপোলি ও বেনগাজিতে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় গাদ্দাফির পালিত মেয়েসহ ৩৫ জন লিবীয় নিহত হয়।

১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবিতে প্যান অ্যাম এয়ারলাইন্সের একটি জাম্বো জেট বিমানে বোমা হামলায় ২৭০ জন নিহতের ঘটনায় গাদ্দাফির জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পরিকল্পনা করার জন্য অভিযুক্ত হন একজন লিবীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

বহুবছর ধরে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন তিনি। এর ফলে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হয় লিবিয়াকে।

২০০৩ সালে গাদ্দাফি প্রশাসন এ বোমা হামলার দায় স্বীকার করে নেয়। এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের ১ কোটি ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হন তিনি।

এছাড়া তার দখলে থাকা গণবিধ্বংসী অস্ত্রশস্ত্র ধ্বংস করার ঘোষণাও দেন এসময়। এর ফলে তার প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের কঠোর মনোভাবের পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে।

২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ লিবিয়ার উপর থেকে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। এর ফলে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে লিবিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হওয়ায় লিবিয়ার অর্থনীতি বেশ সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।

তবে ২০০৯ সালে অভিযুক্ত লিবীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরলে গাদ্দাফির পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হলে আবারো যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সমালোচনার মুখে পড়েন গাদ্দাফি।

২০০৯ সালে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে যান গাদ্দাফি। এ অধিবেশনে ১৫ মিনিটের বদলে দেড় ঘণ্টা ভাষণ দেন, জাতিসংঘের নীতিমালার অনুলিপি ছিঁড়ে ফেলেন এবং নিরাপত্তা পরিষদকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে তুলনা করেন।

একইসঙ্গে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শাসনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে আফ্রিকার রাষ্ট্রগুলোর জন্য ৭ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

২০১০ সালে সম্পর্কোন্নয়নের উদ্দেশ্যে ইতালি সফর করেন গাদ্দাফি। কিন্তু সফরের সময় প্রায় দু’শ ইতালীয় নারীকে ইসলামধর্ম গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানালে গাদ্দাফির মূল উদ্দেশ্য ঢাকা পড়ে যায়।

২০১১ সালের ফেব্র”য়ারিতে গাদ্দাফির শাসনের বিরুদ্ধে লিবিয়ায় গণআন্দোলন শুরু হয়। কিন্তু ওই গণআন্দোলনকে তেমন আমল না দিয়ে কঠোরহস্তে দমনের চেষ্টা চালান গাদ্দাফি। পরবর্তী সময়ে এই গণআন্দোলন গণবিদ্রোহে রূপ নেয় যা দেশটিকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়।

August 21st, 2011

জজ মিয়ার জবানবন্দিই সঠিক ছিল: বিএনপি

বর্তমান সরকার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অধিকতর তদন্ত করে যে সম্পূরক অভিযোগপত্র দিয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণতার নমুনা। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এমনটা করা হয়েছে।
আজ রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে এসব বক্তব্য তুলে ধরেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। আজ রাতে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ‘বিএনপির আমলে জজ মিয়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন, সেটাই সঠিক ছিল।’
সংবাদ সম্মেলনে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ও অভিযোগপত্র সম্পর্কে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সুসাংবাদিকতার নমুনা না। কোনো একটি মহলের উদ্দেশ্য পূরণের জন্যই গণমাধ্যম এ কাজ করেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে গণমাধ্যমের প্রতি দলের পক্ষ থেকে রুহুল কবির রিজভী আহমেদ আহ্বান জানান।
রিজভী আহমেদ বলেন, গ্রেনেড হামলা মামলা নিয়ে গণমাধ্যমে এমনভাবে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে যেন এ সরকারের অভিযোগপত্র সত্যি। মামলার বিচার পত্রিকাই করে দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ।

পাঠকের মন্তব্য
Siddique Hossain Isha
২০১১.০৮.২১ ২০:২৪ Mr. Rijvi Ahmed… I respect you as a good politician. But, you are not suitable for that, so far?? Are you trying to make another Drama or the sequel of George Mia. Now public’s are not so fool as you think.

Bayezeed Mostaque
২০১১.০৮.২১ ২০:২৯ রিজভী আহমেদ এর নুন্নতম লজ্জা থাকলে এই কথা বলতেন না, অবশ্য উনার দোষ দিয়ে কি লাভ, বাংলাদেশের সব রাজনিতিবিদ ই তো দুধে ধোয়া তুলসি পাতা। কারো কোন দোষ নাই, শুধু দোষ আমজনতার।

Mr.Muquit Aahmed
২০১১.০৮.২১ ২০:৩০ একুশে আগসট এর সেদিনের সেই ভয়াবহ ঘটনায় আপনাদের বিএনপি সরকারের হাত ছিলোনা ,এ কথাটা কেউ বিশসাস করবেনা । সেদিন পুরা মুক্তিযুদ্দের সপক্কের দলকে পুরাপরি destroy করার জন্য যে ঘটনা ঘটানো হয়েছিলো ,তার জন্য আপনার দল বিএনপি পুরা দায়ী । আজে বাজে কথা ও মিথ্যা কথা বলার জন্য খামাখা সংবাদ সমমেলন করবেন না । সারা দেশবাসী জানে ঐ ঘটনার পিছনে কার হাত ও মদদ ছিলো । রোজা মাসে মিথ্যা কথা বলা থেকে বিরত থাকুন ।

Mirza Mahmud Ahmed
২০১১.০৮.২১ ২০:৩১ চোরের মার বড়গলা আর কিছু বলার নেই ।

Khaer
২০১১.০৮.২১ ২০:৩৫ Hasina is firmly determined to crash the opposition party according to her Bakshal Theory.

Didarul Hasan
২০১১.০৮.২১ ২০:৪০ these are the shameless politicians. they think that the people of Bangladesh are stupid to believe them. but still some people may believe this type of ‘ashare golpo’ (the blind supporter of BNP). ২০১১.০৮.২১ ২০:৪১ Madam, please follow other way to convince innocent people. Now peoples are not fool.

MAZEED
২০১১.০৮.২১ ২০:৪৩ Mr. Rizvi, If you had minimum sense of respect for others, you would not have said something nonsense like this……..it is utterly stupid to deny the report of newspapers…the reporter just published the things already in the police inquiry and report…and now its clear like day light that tareq rahman and begum zia were the master planners for this homicidal attack on hasina and awamileague….so stop your dirty games……………and pray for forgiveness in front of the nation and hasina…..

nazmul ahmed
২০১১.০৮.২১ ২০:৪৬ জনাব রিজভি, আর কত শাক দিেয় মাছ ………………………..। ?