ধারাবাহিক মন্দা কাটিয়ে পুঁজিবাজারে গতিশীলতা সৃষ্টি এবং আটকেপড়া বিপুল পরিমাণ মার্জিন ঋণের দায় থেকে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকদের মুক্তি দিতে একটি বাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিল (মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড-এমএসএফ) গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বেসরকারী খাতের উদ্যোক্তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) উদ্যোগে আয়োজিত যৌথসভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
মার্চেন্ট ব্যাংক, স্টক ব্রোকার-ডিলার, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, বাণিজ্যিক ব্যাংক, বীমা কোম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও প্রবাসী বাংলাদেশী এবং উচ্চ আর্থিক ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা এই তহবিল গঠনের জন্য স্বাৰর করবেন। মার্চেন্ট ব্যাংক ও স্টক ব্রোকার প্রতিষ্ঠান থেকে মার্জিন ঋণ নিয়ে কেনা শেয়ারের বিনিময়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এই তহবিলের ইউনিট গ্রহণ করবেন। এসব বিনিয়োগকারীর নেয়া মার্জিন ঋণের জন্য নতুন করে কোন রকম সুদ গ্রহণ করা হবে না। একইসঙ্গে এসব ঋণের শ্রেণীকরণ প্রক্রিয়া দু’বছরের জন্য মুলতবি রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানানো হবে বলে এফবিসিসিআই সভাপতি এ. কে. আজাদ জানান।
যৌথসভা শেষে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, যেসব বিনিয়োগকারী মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন তাঁরা বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সঙ্কটে রয়েছেন। ঋণ নেয়ার কারণে তাঁদের ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার শেয়ার বন্ধক রয়েছে। বাজারে দরপতনের কারণে এসব শেয়ারের দর এমন পর্যায়ে চলে এসেছে যে, ঋণ আদায়ের জন্য মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের শেয়ার বাধ্যতামূলক বিক্রি (ফোর্স সেল) করে দিচ্ছে। এতে একদিকে অনেক বিনিয়োগকারী নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এ অবস্থায় বাজার সংশিস্নষ্ট সকলের সঙ্গে পরামর্শ করে একটি সমাধান বের করার উদ্যোগ নেয়া হয়। আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে মার্জিন ঋণের সমস্যা সমাধান ও পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনার জন্য একটি বাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিল গঠনের সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়েছে। এই তহবিল পরিচালনার জন্য একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি অনুমোদনের জন্য এসইসির কাছে আবেদন করা হবে।
তহবিল গঠনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারীর লোকসান পুষিয়ে নেয়ার সুযোগ করে দিতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
পুঁজিবাজার গতিশীল করতে অন্যান্য উদ্যোগ সম্পর্কে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, পুঁজিবাজার স্থিতিশীল করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো শীঘ্রই নতুন করে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে সম্মত হয়েছে। এছাড়া বীমা কোম্পানিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও ২০০ কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ করবে। ব্রোকার ও ডিলারদেরও শেয়ার কিনতে বলা হয়েছে। সবাই মিলে বাজারে গতিশীলতা আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংকের ফোর্স সেল বন্ধ ও আগামী ২ বছর মার্জিন ঋণের সুদ গ্রহণ বন্ধ রাখতে প্রয়োজনীয় পদৰেপ গ্রহণের জন্য তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।
যেমন হবে স্থিতিশীলকরণ তহবিল মার্জিন ঋণ সমস্যা সমাধানের জন্য এফবিসিসিআই আয়োজিত সভা এবং পরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিলের ধারণাপত্র তুলে ধরেন বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান।
ধারণাপত্র অনুযায়ী, বাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিল হবে একটি মেয়াদহীন বা উন্মুক্ত মিউচুয়াল ফান্ড। এই ফান্ডের ইউনিট স্টক এঙ্চেঞ্জে কেনাবেচা করা যাবে। তহবিলটি পরিচালনার জন্য একটি নতুন সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি গঠন করা হবে। এই কোম্পানি অনুমোদনের জন্য এসইসিতে আবেদন করা হবে। আইন অনুযায়ী তহবিল গঠনের প্রাথমিক শর্ত পূরণের জন্য বেসরকারী খাতের উদ্যোক্তারা প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি টাকা প্রদান করবেন। কার্যক্রম শুরম্নর পর মার্জিন ঋণে কেনা শেয়ারের বিনিময়ে ইউনিট ইসু্যর পর এই তহবিলের মোট সম্পদের পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে বলে উদ্যোক্তারা মনে করেন।
যেভাবে বিনিময় হবে মার্জিন ঋণে কেনা শেয়ার স্থিতিশীলকরণ তহবিল গঠনের পর গ্রাহক কিংবা ঋণদাতা মার্চেন্ট ব্যাংক বা উভয়পৰ ইচ্ছা করলে মার্জিন ঋণে কেনা শেয়ার এই তহবিলে স্থানানত্মর করতে পারবে। যেসব গ্রাহক কোন ঋণ নেননি তাঁরাও তাঁদের পোর্টফোলিও এই তহবিলে জমা দিতে পারবেন। এর বিনিময়ে সংশিস্নষ্ট গ্রাহককে স্থিতিশীলকরণ ফান্ডের (মিউচুয়াল ফান্ড) ইউনিট প্রদান করা হবে। এৰেত্রে গ্রাহকের হিসাবে থাকা সব শেয়ারের ক্রয়মূল্যের সঙ্গে বর্তমান বাজারমূল্যের ওপর একটি প্রিমিয়াম যোগ করে সেই পরিমাণ টাকার ইউনিট প্রদান করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, কোন একজন গ্রাহক নিজস্ব বিনিয়োগ ও মার্জিন ঋণ নিয়ে ১০ লাখ টাকার শেয়ার কিনেছিলেন। বর্তমানে তাঁর পোর্টফোলিওতে থাকা এসব শেয়ারের মূল্য ৫ লাখ টাকা। এখন তাঁর সব শেয়ারের ক্রয়মূল্য ১০ লাখ টাকার সঙ্গে বর্তমান বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার ওপর একটি প্রিমিয়াম ধরে তাঁর পোর্টফোলিওর মূল্য হিসাব করা হবে। প্রিমিয়াম হিসাবের ৰেত্রে তাঁর পোর্টফোলিওতে থাকা শেয়ারের মৌলভিত্তি বিবেচনা করা হবে। ধরা যাক, বর্তমান বাজারমূল্যের ৫ লাখ টাকার ওপর ২ লাখ টাকা প্রিমিয়াম ধরা হলো। ফলে ওই বিনিয়োগকারী স্থিতিশীলকরণ তহবিলের মোট ১২ লাখ টাকা মূল্যের ইউনিট পাবেন।
যেসব বিনিয়োগকারী ঋণ নিয়ে কেনা শেয়ার জমা দিতে আগ্রহী হবেন তাঁদের শেয়ার স্থিতিশীলকরণ তহবিল নিয়ে নেবে। এর বিনিময়ে তাঁর বিও হিসাবে প্রিমিয়ামসহ নির্ধারিত টাকার সমপরিমাণ ইউনিট জমা হবে। সংশিস্নষ্ট গ্রাহক যে কোন সময় তাঁর ইউনিট বিক্রি করতে পারবেন। এৰেত্রে বর্তমানে শেয়ার বিক্রির মতোই মার্চেন্ট ব্যাংক তার দেয়া ঋণ সমন্বয় করে নেবে।
তহবিলে শেয়ার হসত্মানত্মরের যৌক্তিকতা সম্পর্কে সালমান এফ রহমান বলেন, বহু ধরনের পোর্টফোলিও হসত্মানত্মরের ফলে তহবিলের ইউনিট হসত্মানত্মরের পর তার বিনিময় মূল্য বাড়তে পারে। পোর্টফোলিও হসত্মানত্মর করা না হলে গ্রাহক যে পরিস্থিতিতে পড়তেন তহবিলের ইউনিটের ৰেত্রে তাঁর মুনাফার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। কারণ যে কোন ব্যক্তিগত পোর্টফোলিওর তুলনায় একটি সমন্বিত বাস্কেটে পোর্টফোলিওর সার্বিক নিরাপত্তা হবে অধিকতর নিশ্চিত।
উদ্যোগ গ্রহণের প্রেৰাপট সম্পর্কে সালমান এফ রহমান বলেন, মার্চেন্ট ব্যাংকের ঋণ শোধ করার বাধ্যবাধকতা থাকায় বিনিয়োগকারীরা কম লোকসানে শেয়ার বিক্রি করে নতুন শেয়ার কিনে গড় ক্রয়মূল্য কমাতে পারছেন না। আবার বাজার কিছুটা বাড়লেই ঋণ আদায়ের জন্য মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো শেয়ার বিক্রি করে দেয়। এতে বাজার দ্রম্নত পড়ে যায়। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্যই মার্জিন ঋণ সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ঋণের সুদ ও শ্রেণীকরণ সংক্রানত্ম সমস্যা সমাধানে এফবিসিসিআই সভাপতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলবেন।
এক প্রশ্নের জবাবে সালমান এফ রহমান বলেন, শুধু একটি উদ্যোগে পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হবে_ এটা মনে করার কোন কারণ নেই। এজন্য বিভিন্ন পৰ থেকে নানা ধরনের পদৰেপ নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই এসইসি উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ার বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। এর বিপরীতে উদ্যোক্তারা যাতে বাজার থেকে নির্দিষ্ট মূল্য ঘোষণা করে শেয়ার কিনতে পারেন_ সেই পদেৰপ নেয়া হচ্ছে। ডিএসইর সভায় এটি অনুমোদন করে এসইসিতে পাঠানোর সিদ্ধানত্ম হয়েছে।
তিনি বলেন, মূল্য ঘোষণা করে উদ্যোক্তারা যেসব শেয়ার কিনবেন_ তাঁরা চাইলেই যখন-তখন সেই শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন না। এজন্য ওই শেয়ার বিক্রিতে লকইন আরোপের সিদ্ধানত্ম হয়েছে। এসইসির কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে এই শেয়ার বিক্রি করতে হবে। ফলে উদ্যোক্তাদের শেয়ার কেনা নিয়ে সংশয়ের কোন কারণ নেই।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের সঙ্কট সৃষ্টি হওয়ায় শেয়ারবাজারে প্রভাব পড়ছে। কিন্তু বাংলাদেশে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি যে, শেয়ারবাজার খারাপ হবে। অন্যান্য দেশে অর্থনৈতিক মন্দা সৃষ্টি হলেও বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। কারণ আমাদের শেয়ারবাজারে বিদেশী বিনিয়োগ উলেস্নখযোগ্য নয়। তাছাড়া বিশ্বের খুব কম দেশই বর্তমানে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের আশা করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সৰম। রফতানি আয়ে এ বছর প্রবৃদ্ধির হার ৪৪ শতাংশ। রেমিটেন্স প্রবাহ উর্ধমুখী। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মুনাফার ৰেত্রেও এর প্রতিফলন ঘটছে।
তিনি বলেন, অধিকাংশ কোম্পানির মুনাফার পরিমাণ বাড়ছে। মৌলভিত্তিও ভাল। ফলে শেয়ারবাজার নেতিবাচক হওয়ার কারণ নেই। মূলত বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাবই বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী। আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারলে বাজার ঠিক হয়ে যাবে।
পুঁজিবাজার ফান্ড ॥ ধারাবাহিক মন্দা কাটিয়ে স্থিতিশীলতা আনতে গঠিত হচ্ছে
হাক্কানি জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নয়: পাকিস্তান সেনাবাহিনী
ওয়াশিংটনের চাপ বাড়ার পরও হাক্কানি জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে না পাকিস্তান সেনাবাহিনী। পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা গতকাল সোমবার এ কথা জানান।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কায়ানি গত রোববার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেন। দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়।
পাকিস্তানের সেনা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই হাক্কানি নেটওয়ার্ককে সহযোগিতা করছে বলে যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযোগ করছে, বৈঠকে তা নাকচ করা হয়। সেনা কর্মকর্তারা অঙ্গীকার করেন, যেকোনো ধরনের আন্তসীমান্ত হামলার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।
কাবুলে সম্প্রতি মার্কিন দূতাবাসসহ অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য হাক্কানি জঙ্গিগোষ্ঠীকে দায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্র। সংগঠনটি পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অবস্থান নিয়ে আফগানিস্তানে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে মনে করে ওয়াশিংটন। এ জন্য ওয়াজিরিস্তানে সেনা অভিযান চালানোর জন্য ইসলামাবাদকে চাপ দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।
এক সেনা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে পাকিস্তানের এক্সপ্রেস ট্রিবিউন পত্রিকা গতকাল জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ও দাবি প্রতিহত করতে রোববারের বৈঠকে সেনা কর্মকর্তারা একমত হন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দিয়েছি, এ বিষয়ে পাকিস্তান ইতিমধ্যে যা করেছে, তার থেকে বেশি কিছু করতে পারবে না।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, হাক্কানির বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গেলে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে পারে। কেননা, ওই অঞ্চলের অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জোরালো সম্পর্ক গড়ে তুলেছে হাক্কানি গ্রুপ। এ ছাড়া প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে তাদের অবস্থান বেশ শক্তিশালী।
দুই সপ্তাহ আগে কাবুলে মার্কিন দূতাবাস ও ন্যাটো সদর দপ্তরে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এ জন্য হাক্কানিকে দায়ী করেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, গোয়েন্দা তথ্য ও ফোনালাপের সূত্র ধরে তাঁরা জানতে পেরেছেন, আইএসআইয়ের সঙ্গে জড়িতে লোকজনের সঙ্গে হামলাকারীদের যোগাযোগ ছিল।
এদিকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক বলেন, হাক্কানি নেটওয়ার্ক নিয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রকেও নিতে হবে। কেননা, আফগানিস্তানে সোভিয়েত দখলদারিত্বের সময় সিআইএ এই নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করেছে। তারাই এদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। রয়টার্স, এএফপি ও পিটিআই।
দুই সন্তানের বেশি নিলে কারাগারে
এটা হবে খুবই কঠিন একটা আইন। তিন সন্তান নিলেই শাস্তি। ঠিকানা হবে কারাগার। আইনটির সবচেয়ে খারাপ দিক হলো, ওই ব্যক্তিকে বলা হবে ‘আইনতভাবে অযোগ্য মানুষ’।
‘কেরালা উইমেনস কোড বিল, ২০১১’-এ এমনই একটি ধারা হয়েছে। ১২ সদস্যের একটি কমিশন সম্প্রতি বিলটি কেরালার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ করেছে। বিলটি পাস হলে তৃতীয় সন্তানের বাবাকে নির্ঘাত যেতে হবে কারাগারে।
কেরালা রাজ্যের শিশুদের কল্যাণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে জনসংখ্যা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ খসড়া বিলটি তৈরি করা হয়েছে।
নারী ও শিশুকল্যাণ এবং অধিকারবিষয়ক এ কমিশন মনে করে, ১০ হাজার রুপি জরিমানা ও তিন মাসের কারাদণ্ড ছাড়া অন্য কোনো কিছুই তৃতীয় সন্তানপ্রত্যাশী বাবাদের ঠেকাতে পারবে না।
নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় একটি আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের নির্দেশে গত বছরের ৭ আগস্ট কমিশনটি গঠন করা হয়।
বিলটির প্রস্তাবনা অনুযায়ী, পারিবারিক এ আইন লঙ্ঘন করা হলে তা আইনত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সরকারের কাছ থেকে মা-বাবা কোনো ধরনের সহযোগিতা পাবে না।
প্রস্তাবিত বিলে বলা হয়, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর এ পরিকল্পনাকে নিরুৎসাহিত করা উচিত হবে না। আর করলে তাদের কর্মকাণ্ড অবশ্যই গভর্নরকে তিরস্কার করতে হবে। এতে আরও বলা হয়, ‘কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ধর্ম, অঞ্চল, সম্প্রদায়, বর্ণ, প্রথা অথবা অন্য কোনো কারণে অতিরিক্ত সন্তান নিতে পারবে না। শিশুদের কোনো ধরনের অধিকার অথবা দাবি থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।’
এ ছাড়া বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো নারী ১৯ বছর বয়সের পর বিয়ে করলে এবং ২০ বছর বয়সের পর প্রথম সন্তান নিলে তাঁকে পাঁচ হাজার রুপি প্রণোদনা দেওয়া হবে। এ ছাড়া দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী দম্পতিদের ক্ষেত্রে যাঁরা ২০ বছর পর বিয়ে করবেন এবং স্ত্রীর ২১ বছর পর সন্তান নেবেন, তাঁদেরও পাঁচ হাজার রুপি দেওয়া হবে। টাইমস অব ইন্ডিয়া।
কুলি থেকে প্রেসিডেন্ট
লন্ডনের ভিক্টোরিয়া স্টেশনে অন্য সব পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো তিনিও করতেন ঝাড়ামোছার কাজ। সুযোগ পেলে করতেন কুলির কাজও। এভাবে চলত তাঁর দিন। বড় হওয়ার স্বপ্ন, মানবকল্যাণের ব্রত ও নিরলস চেষ্টা তাঁকে নিয়ে গেছে সাফল্যের শিখরে। রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে তিনি পৌঁছে গেছেন রাষ্ট্রপ্রধানের আসনে।
সেদিনের সেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কুলিই আজ জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট মাইকেল সাতা। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৪৩ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি। গত শুক্রবার শপথ নিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণ করেই দুর্নীতি দমনের অঙ্গীকার করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি লন্ডনের রেলওয়ে স্টেশনের চেয়েও মাতৃভূমিকে বেশি পরিচ্ছন্ন রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ৭৪ বছর বয়সী সাতা আট সন্তানের জনক।
পূর্বসূরি রুপিয়া বান্দার সাবেক সরকারের সমালোচনা করে সাতা বলেছেন, দুর্নীতির ব্যাপারে বান্দার সরকার ছিল নমনীয়। তাই তাঁর প্রথম কাজ হচ্ছে দুর্নীতি দমন করে দেশের খনিজ সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন করা।
স্পষ্টভাষী বলে ‘কিং কোবরা’ হিসেবে পরিচিত সাতা। জাম্বিয়া যখন ব্রিটিশ-শাসকদের উপনিবেশ ছিল, ওই সময় সাতার জন্ম। তিনি লন্ডনে যান গত শতকের পঞ্চাশের দশকের দিকে। পরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কুলি হিসেবে কাজ করেন ভিক্টোরিয়া স্টেশনে। কাজের ফাঁকে খণ্ডকালীন পড়াশোনা করেছেন। দেশে ফিরে যোগ দেন পুলিশ বাহিনীতে।
সারা দেশের মানুষ নিরাপদ পানি পান করার সুযোগ না পাওয়া পর্যন্ত নিজে কোনো বোতলজাত পানি পান করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন সাতা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণেই সাধারণ মানুষের মন জয় করেছেন তিনি। গঠন করেন প্যাট্রিওটিক ফ্রন্ট।
খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দেশটিতে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ও প্রভাবের ঘোরবিরোধী সাতা। সমালোচকেরা বলছেন, সাতার বেইজিংবিরোধী এ মনোভাবের কারণে জাম্বিয়ার অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জাম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, সাতার সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত তাঁর দেশ। এএফপি।
হরতাল ফ্লপ হওয়ায় খালেদা নাখোশ, তারেকও ৰুব্ধ
হরতাল ফ্লপ হওয়ায় বিএনপির সিনিয়র নেতাদের প্রতি নাখোশ হয়েছেন দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও লন্ডন থেকে ফোন করে তাঁর মা খালেদা জিয়ার কাছে এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর হরতালে সিনিয়র নেতারা মাঠে নামতে না পারার দায় র্যাব-পুলিশের ওপর চাপিয়েছেন। তাঁর মতে, র্যাব-পুলিশের বাধার কারণে তাঁরা মাঠে নামতে পারেননি।
এদিকে হরতাল ফ্লপের মতো ২৭ সেপ্টেম্বরের সমাবেশটিও যাতে ফ্লপ না হয় সেজন্য ব্যাপক প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। পল্টন ময়দানে সমাবেশ করার অনুমতি না পেলেও নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বড় মঞ্চ করে এ সমাবেশের মাধ্যমে রাজধানীতে বড় ধরনের শোডাউন করতে চায় তারা। এ সমাবেশে চারদলীয় জোট ও অন্য সমমনা দলের শীর্ষনেতারা বক্তব্য রাখবেন। তাই বিএনপির পাশাপাশি সমমনা প্রতিটি দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম করার চেষ্টা চলছে। এজন্য শুধু রাজধানী নয়, আশপাশের জেলাগুলো থেকেও নেতাকর্মী ও সমর্থকদের জড়ো করা হবে বলে জানা গেছে। এ সমাবেশ থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনের যেসব কর্মসূচী দিতে পারেন বলে জানা গেছে। তার মধ্যে রয়েছে রোডমার্চ, ৭ বিভাগীয় সদর ও আরও অন্তত ১২ জেলা সদরে সমাবেশ, গণঅবস্থান, মানববন্ধন ও গণসংযোগ। আজকালের মধ্যেই দলের সিনিয়র নেতা ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কর্মসূচী চূড়ানত্ম করবেন।
বিএনপি সূত্র জানায়, একটি জনদাবি নিয়ে ঘোষণা করা এবারের হরতালটি সফল হবে এমনটিই মনে করেছিলেন খালেদা জিয়া। কিন্তু বাসত্মবে দেখা গেল এ সরকারের আমলে পালন করা আগের ছয়টি হরতালের চেয়ে বৃহস্পতিবারের হরতালটি বেশি ফ্লপ হয়েছে। আর হরতালের দিনে নেতাকর্মীদের মাঠে নামার চেষ্টাও ছিল আগের চেয়ে কম। এ কারণেই খালেদা জিয়া সিনিয়র নেতাদের প্রতি বেশি নাখোশ হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র মতে, বৃহস্পতিবার সারাদিন নিজ বাসায় টেলিভিশনের খবর থেকে ও ঘনিষ্ঠ কিছু নেতার সঙ্গে ফোনালাপ করে হরতালের খোঁজখবর নেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। রাতে গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে সেখানে উপস্থিত কয়েক নেতার সঙ্গে আলাপকালে ৰোভ প্রকাশ করে খালেদা জিয়া বলেন, কি কারণে সিনিয়র নেতারা হরতালে মাঠে নামার চেষ্টা করল না। উত্তরা থেকে ভোরে রওনা দিয়ে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর হরতালের আগে পার্টি অফিসে যেতে পারলে অন্যরা রাজধানীর কেন্দ্রে অবস্থান করে কেন যেতে পারলেন না? অনত্মত নিজ নিজ এলাকায় রাসত্মায় নামার চেষ্টা করলেও তো কর্মীরা সাহস পেত। বড় বড় পদ দখল করে এত আরামের রাজনীতি করলে আমরা কিভাবে সরকারবিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা করব।
বৃহস্পতিবার হরতাল চলাকালে সকালের দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, যুগ্ম মহাসচিব বরকতউলস্নাহ বুলু, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, শাম্মী আক্তার, রেহানা আক্তার রানু, আশিফা আশরাফি পাপিয়াসহ কয়েক সংসদ সদস্য সংসদ ভবন এলাকায় মিছিল-সমাবেশ করেন। এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ, মহিলাদলের সভাপতি নূরে আরা সাফা, ঢাকা মহানগর সভাপতি সুলতানা আহমেদ, প্রচার সম্পাদক আয়েশা সিদ্দিকা মনি মহাখালী এলাকায় হরতালের পৰে মিছিল করেছেন। মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা খিলগাঁও এলাকায় মিছিল করেছেন। এছাড়া হরতালের সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরম্নল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব আমানউলস্নাহ আমান, রম্নহুল কবির রিজভী, অর্থনৈতিক বষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সহদফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন, সহ-তথ্যবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও নির্বাহী কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট আবেদ রাজা। তাঁরা মাঝেমধ্যে নিচে নেমে গেটে চেয়ার পেতে বসে থাকেন। তবে মাঠে নামার কোন চেষ্টা করেননি। তাঁরা টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর কাছে প্রতিক্রিয়া দেয়ার সময় বলেছেন পুলিশ তাঁদের মাঠে নামতে দিচ্ছে না। এ ব্যাপারে হরতালের দিন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ কর্মকর্তা হাসতে হাসতে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, আমরা কি তাঁদের টেনে এনে রাসত্মায় নামিয়ে দেব। তাঁরা হরতাল ডেকেছে তাই তাঁদেরই মাঠে নামার চেষ্টা করতে হবে। আমরা বাধা দেব আর তাঁরা বাধা উপেৰা করে মাঠে নামার চেষ্টা করবে দেশে হরতালের চিত্র তো এমনই হয়ে থাকে। কিন্তু আরামপ্রিয় বিএনপি নেতাদের সে চেষ্টা কি আছে?
হরতাল চলাকালে বৃহস্পতিবার বিএনপির যেসব সিনিয়র নেতা ঘর থেকে বের হননি তাঁরা হলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আরএ গনি, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ (বিদেশে ছিলেন), লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান, এম সামসুল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম, সারোয়ারী রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আসম হান্নান শাহ, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান টিএইচ খান, মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, এম মোর্শেদ খান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সৈয়দা রাজিয়া ফয়েজ, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, রাবেয়া চৌধুরী, শমসের মবিন চৌধুরী, হারম্নন আল রশিদ, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন। তবে হরতাল শেষ হওয়ার কিছুৰণ আগে বিকেল সাড়ে ৪টায় বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসে হাজির হন দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী।
হরতালে বিএনপি ও জামায়াতের কিছু নেতাকর্মীকে মাঠে দেখা গেলেও তাদের সমমনা দল ইসলামী ঐক্যজোট, বিজেপি, খেলাফত মজলিস, জাগপা, লেবারপার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ, ন্যাপ ভাসানী, এনপিপি, এনপিপি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ও ইসলামিক পার্টির কোন নেতাকর্মীকে মাঠে দেখা যায়নি। এছাড়া সম্প্রতি এলডিপি ও কল্যাণ পার্টি বিএনপির কর্মসূচীতে মাঠে থাকার ঘোষণা দিলেও বৃহস্পতিবার তাদের কাউকে দেখা যায়নি।
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর জনকণ্ঠকে বলেন, বৃহস্পতিবারের হরতাল শতভাগ সফল হয়েছে। দেশের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ হরতালের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। আর হরতালে বিএনপির সিনিয়র নেতারা মাঠে নামেনি এ অভিযোগ সঠিক নয়। বিএনপি দেশের একটি শানত্মিপ্রিয় রাজনৈতিক দল। কিন্তু পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের র্যাব-পুলিশ হরতালের সময় যেভাবে সর্বত্র অবস্থান নিয়েছে তাতে আমরা তো তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারি না। দলের সব নেতাকর্মীই মাঠে নামার চেষ্টা করেছে। তারপরও কেউ কেউ মাঠে নেমেছে। বাকিরা চেষ্টা করেও র্যাব-পুলিশের বাধার কারণে মাঠে নামতে পারেনি। তিনি বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বড় ধরনের সমাবেশ করা হবে। আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছি। কর্মসূচী ঠিক করার কাজও চলছে। তবে আমরা কি কর্মসূচী দেব তা ২৭ তারিখেই জানানো হবে। এর আগে আমরা তা বলতে পারছি না।
মার্কিন চাপ অগ্রাহ্য করে জাতিসংঘে ফিলিস্তিন প্রস্তাব উঠছে আজ
কেবল বিবৃতি বা প্রস্তাবের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য সমস্যার সমাধান হবে না ॥ ওবামার হুঁশিয়ারি
প্রবল মার্কিন চাপ উপেৰা করেই আজ জাতিসংঘে ফিলিস্তিনকে পূর্ণ রাষ্ট্রের মর্যাদা দেয়ার জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করতে যাচ্ছেন মাহমুদ আব্বাস। ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট আব্বাসের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বুধবার এ বিষয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয় নি। অন্যদিকে বুধবারই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ওবামা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে বক্তব্য রেখেছেন। খবর এএফপি, বিবিসি, গার্ডিয়ান ও নিউইয়র্ক টাইমস অনলাইনের।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ইস্যুতে বিশ্বের ৰমতাধর দেশগুলোর সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে গেছেন আব্বাস। যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি এখনই উত্থাপন না করার জন্য ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষকে বার বার অনুরোধ করেও সফল হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এর আগে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হওয়া জরম্নরী। কেবল এ পথেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে। বুধবার জাতিসংঘের দেয়া ভাষণে ওবামা বলেন, দশকের পর দশক ধরে চলা সংঘাত অবসানের কোন চটজলদি সমাধান নেই। বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত হলে ভেটো দেয়া হবে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোপূর্বে এ রকম হুমকি দিয়ে রাখলেও বুধরারের ভাষণে ওবামা সেটি উলেস্নখ করেননি। তবে তিনি বলেছেন, জাতিসংঘে বিবৃতি আর প্রসত্মাবের মধ্যদিয়েই যদি শানত্মি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতো তাহলে এতদিন মধ্যপ্রাচ্য সমাধান হয়েই যেত। তিনি বলেছেন, ফিলিসত্মিনী ও ইসরাইলীরা একসঙ্গে বসে সীমানত্ম, নিরাপত্তা, শরণার্থী এবং জেরুজালেম_ এই ইসু্যগুলোতে নিজেদের মতপার্থক্য আগে দূর করুক তারপর জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ বিষয়টি নিয়ে কাজ করা যাবে। ফরাসী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজিও এ ব্যাপারে ওবামার সঙ্গে গলা মিলিয়ে বলেছেন, এখনই জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য হওয়ার জন্য ফিলিসত্মিনীদের উদ্যোগ বাসত্মবসম্মত নয়। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এ ৰেত্রে ভেটো দেয় তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে আরেক দফা সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি প্রসত্মাব করেন, আগামীতে পূর্ণ রাষ্ট্রের মযর্াদা পাওয়ার লৰ্যে ফিলিসত্মিনীরা আপতত পর্যবেৰক রাষ্ট্রের মযর্াদা মেনে নিক।
সাধারণ পরিষদের ৬৬তম বার্ষিক সম্মেলনে জাতসংঘের ১৯৪তম রাষ্ট্রের সদস্যপদ পাওয়ার জর্য আব্বাস যে প্রস্তাব উথাপন করতে যাচ্ছেন সেটি প্রথমে নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন পেতে হবে। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৯ সদস্যের সমর্থন দরকার হবে। এর পর এটি যাবে সাধারণ পরিষদে।
রমজানকে মমতাজ চঞ্চল আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছে
চঞ্চল আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছে। কিন্তু বিশ্বাস করো আমি ওকে বিয়ে করিনি। তুমি অনেক দিন বাসায় না আসায় মানুষ নানা কথা বলেছে। তুমি বাসায় এলে সমস্যা থাকবে না। এ অনুনয় মমতাজের রমজান আলীর কাছে। তার গোপন বিয়ের খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বড্ড বিপাকে আছেন তিনি। বাইরে যাওয়া প্রায় বন্ধ। স্বামীকে ডিভোর্স না দিয়ে চঞ্চলকে বিয়ে করা তার সংসদ সদস্য পদও হুমকির মুখে। কারণ, তিনি এমপি হওয়ার সময় ফরমে স্বামীর নাম মো. রমজান আলীই লিখেছেন। এখন ক্যারিয়ার ধরে রাখার জন্য পাশে চাইছেন রমজান আলীকে। কাতর হয়ে কাছে ডাকছেন। রমজান আলী গতকাল মানবজমিনকে বলেন, মমতাজ আমাকে ফোন করে এসব কথা বলছে। নানা অনুনয় বিনয় করছে। মমতাজের মন ভোলানো কথায় আমি ভুলছি না। কারণ, সে আমাকে বলছে চঞ্চলকে সে বিয়ে করেনি। এটা কেমন করে বিশ্বাস করি। সে যদি বিয়ে না-ই করবে তাহলে কেন সে এখনও হাসপাতাল থেকে চঞ্চলকে বের করে দিচ্ছে না। চাকরি থেকে বাদ দিচ্ছে না। মমতাজের ক্যারিয়ারের জন্য আমি কিনা করেছি। কই সে তো এ জন্য কোন কৃতজ্ঞতা দেখায়নি। উল্টো আমি জেলে যাওয়ার পর কর্মচারীর সঙ্গে সম্পর্ক করেছে। আমি বিভিন্ন সময়ে তাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা কথা শুনেছি, কিন্তু বিশ্বাস করিনি। এখন তো মনে হয় ভুলই হয়েছে।
রমজান আলী বলেন, মমতাজকে রাস্তা থেকে তুলে এনেছিলাম। কিন্তু তার মানসিকতার উন্নতি হয়নি। তা হলে সে চঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্ক করতে পারতো না। এটা রুচিরও ব্যাপার। কারণ, আমি হাসপাতালের জন্য চঞ্চলকে নয় হাজার টাকা বেতনে চাকরি দিয়েছিলাম। পরে ও আমার পায়ে ধরে বেতন এক হাজার টাকা বাড়িয়ে নিয়েছিল। অধীনস্থ একজন কর্মচারীর সঙ্গে ও কেমন করে এমন করলো এটাই আমার প্রশ্ন। শুনেছি চঞ্চলকে মমতাজ বিয়ে করেছে। যদি তারা বিয়ে করে থাকে তাহলে তো আর কোন কথা নেই। মমতাজকে আমি আর কোনদিন ঘরে তুলে নেবো না। আর যদি সে প্রমাণ করতে পারে চঞ্চলকে সে বিয়ে করেনি, তার সঙ্গে তার অনৈতিক কোন সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি, তাহলে আমি ওকে ঘরে আনবো। কারণ মমতাজকে আমি ভালবাসি। ভালবেসে ওর জন্য কিনা করেছি। কিন্তু ও কি প্রতিদান দিলো? এসব ঘটনার পর মমতাজের সঙ্গে আমার আর সংসার করার ইচ্ছা নেই। কিন্তু আমার প্রথম স্ত্রী ওকে ডিভোর্স দিতে দেয় না। বলে, তুমি ওকে ডিভোর্স দিলে ওর কোন ক্ষতি হবে না। এটাতে ওর মান সম্মান যাবে না। কিন্তু তুমি ওকে ছেড়ে দিলে আমার সন্তানদের ক্ষতি হবে। আমাদের পরিবারের মান সম্মান নষ্ট হবে। তোমাকে আঙুল তুলে খারাপ কথা বলবে। দু’টি মেয়ের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসবে। কারণ, ওরা সমাজে নানাভাবে হেয়প্রতিপন্ন হবে। রমজান বলেন, আমি কখনও মমতজাকে ডিভোর্স দিতে চাইনি। এখনও চাই না। সে চঞ্চলকে বিয়ে করলেও আমি ডিভোর্স দেবো না। কারণ, আমি তাকে ডিভোর্স দিলে আমার মেয়েরা বড় হলে বলবে আমার বাবা আমার মাকে ডিভোর্স দিয়েছে। এটা ভাল হবে না। চঞ্চলের সঙ্গে মমতাজের বিয়ে হয়ে থাকলে এ বিয়ের কোন বৈধতা নেই। এ সম্পর্ক সম্পূর্ণ অনৈতিক। তারা জেনা করেছে। কারণ, ইসলামে ও আইনেও কোন ভাবেই একজন স্বামী বর্তমান থাকার পর তাকে রেখে অন্য কোন পুরুষকে স্বামী হিসাবে গ্রহণ করতে পারে না। মমতাজ চঞ্চলকে বিয়ে করার আগে আমাকে যদি কোন লিগ্যাল নোটিশ পাঠাতো? তাও হতো। সে তা-ও করেনি। আমিও দেইনি। তাহলে আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক এখনও বহাল আছে।
মমতাজের সঙ্গে চঞ্চলের সম্পর্ক নিয়ে রমজান আলী বলেন, আমি ওয়ান-ইলেভেনে কারাগারে থাকার সময়ই তারা একে অপরের সঙ্গে মেশার সুযোগ পায়। তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যে নারী তার স্বামীর অবর্তমানে স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে পারে না, অন্য পুরুষের প্রতি দুর্বল হয়ে যায়, তার সম্পর্কে আমি আর কি বলতে পারি। রমজান বলেন, মমতাজের পক্ষে কোন কিছুই অসম্ভব নয়। কারণ, আমাদের বিয়ের খবরটিও সে গোপন করেছিল। ২০০০ সালের দিকে আমাদের আনুষ্ঠানিক বিয়ে হয়। ওই বিয়ের আগে আমাদের মধ্যে গোপন বিয়ে হয়েছিল। একটি এফিডেভিটের মাধ্যমে আমরা তখন বিয়ে করি। ওই বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখা হয় তার ইচ্ছা অনুযায়ী। তাকে বিয়ে করার কারণে আমার ভাইয়েরা সবাই ভিন্ন হয়ে যায়। আমাদের যৌথ পরিবার ভেঙে খান খান হয়ে যায়। তারা মমতাজকে বিয়ে না করার কথা বলেছিল। আজকে বুঝি তাকে বিয়ে করাটা ভুল হয়েছিল। আমি তাকে বিয়ে করেছিলাম কারণ তার মধ্যে একটা প্রতিভা ছিল। ওই প্রতিভাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছিলাম। ও একজন বড় শিল্পী হবে। এ কারণে তার জন্য সব করেছি। তাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এমন কোন কাজ নেই যা করিনি। সে এর মূল্যায়ন করতে পারেনি।
রমজান জানান, তাদের বিয়েতে দেন মোহরানা হয়েছিল মাত্র পাঁচ লাখ টাকা। এটাও মমতাজের ইচ্ছা অনুযায়ী হয়েছে। এক সময় মমতাজের টাকা ছিল না। এখন সে কোটি কোটি টাকার মালিক। কিন্তু তার টাকার প্রতি আমার কোন লোভ নেই। মমতাজ ও রমজানের দু’টি মেয়ে রয়েছে। ওই দুই মেয়ে মমতাজের কাছেই থাকে। বড় মেয়ে কেজি টুতে পড়ে। আর ছোটটি এখনও পড়ে না। মমতাজকে বিয়ে করার পর রমজান আলী গুলশানে থাকতেন। পরে চলে যান ডিওএইচএস-এর বাসায়। সেখানেই থাকতেন। মাঝে মাঝে মানিকগঞ্জে থাকতেন।
রমজান বলেন, মমতাজ আমার সংসারে ফিরে না আসতে চাইলেও ক্ষতি নেই। আমি আমার দুই মেয়েকে ফেরত চাইবো। স্বাভাবিক ভাবে সে দুই মেয়ে আমাকে ফেরত দিলে দেবে? না দিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো। আমি তার মতো নারীর কাছে আমার সন্তানদের রাখতে চাই না। তিনি বলেন, মমতাজ আমাকে সোমবার দিন ফোন করে বললো, সে বিয়ে করেনি। সে মিথ্যা বলে নাই? এটা কেমন করে বিশ্বাস করি? কারণ, সে মিথ্যা কথা বলে অনেক। তার মিথ্যা বলাটা আমি সহ্য করতে পারি না। আমি যে কখনও মিথ্যা বলি না তা নয়। তবে এর সীমা আছে।
মমতাজের সঙ্গে তার বিরোধের কথা বলতে গিয়ে রমজান আলী বলেন, আমি যখন কারাগারে ছিলাম তখন চঞ্চলের সঙ্গে সখ্য হয় এটা শুনেছিলাম। তারপরও ভেবেছিলাম ও জনপ্রিয় মানুষ। অপবাদ হতে পারে। গুজবও হতে পারে। এ কারণে ওই সময় কারাগার থেকে বের হয়ে মমতাজের ডিওএইচএস-এর বাসায় তিন দিন ছিলাম। ওটাই তার সঙ্গে আমার শেষ থাকা। এরপর আমি যাইনি, থাকিওনি। কারণ, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর আমার মা মারা যান। মা মারা গেলে মমতাজ আমার মায়ের লাশটি পর্যন্ত দেখতে যায়নি। তখন থেকে ওর প্রতি আমার রাগ বাড়তে থাকে। এরপর আমার একমাত্র ছেলে দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়- এক বছর দুই মাস আগে। ওই সময়ও সে আমার ছেলের লাশ দেখতে আসেনি। একবার শুধু স্কয়ার হাসপাতালে দেখতে এসেছিল। এই দু’টি মৃত্যুর ঘটনা আমার কাছ থেকে ওকে দূরে সরিয়ে দেয়। আমার মা ও ছেলের লাশ দেখতে সে আসবে না এটা মানতে পারিনি। এ ঘটনায় আমি ভীষণ কষ্ট পাই। যা আজও মন থেকে মুছে ফেলতে পারছি না। বারবার ভেবেছি ওর কাছে যাবো। কিন্তু যেতে পারিনি। রাগ হয়েছে ভীষণ। অভিমানও করেছি। এর পর থেকে আমি আর ওর ওখানে যাই না। ও আর কখনও মানিকগঞ্জে আমার বাড়িতে আসেনি। এরপর সে মানিকগঞ্জে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এসেছে, কিন্তু বাড়িতে যায়নি। তবে তার সঙ্গে আমার থাকা না হলেও, তার বাসায় আমি না গেলেও, তার সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ আছে। টেলিফোনে কথা হয়। ও ফোন করে। আমিও করি। মানবজমিন-এ রিপোর্ট প্রকাশের পর ও নিজে থেকেই আমাকে ফোন করে। অনেক কথা বলে। এখন আমি দোদুল্যমানতায় আছি। আর ভাবছি কি করে ও চঞ্চলের মতো একটা ছেলেকে…। আমাকে ওর যদি অপছন্দই ছিল, ভালই না লাগতো তাহলে ও আমাকে বলতে পারতো। সমস্যার সুন্দর সমাধান হতে পারতো। তা করেনি। আমার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছে। এখন আবার সমাজে হেয়প্রতিপন্ন হয়ে আমাকে ডাকছে তাকে শেল্টার দেয়ার জন্য। আমি ফিরে গেলে তার সকল বদনাম ঘুচে যাবে এই মনে করে সে আমাকে তার বাসায় ডাকছে। আমি কি এটা বুঝি না? যখন তার বিয়ের খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে তার প্রতি আমার এক ধরনের ঘৃণা জন্মেছে। তার প্রতি ভালবাসায়ও চিড় ধরেছে। এতদিন রাগ করে থাকলেও ওকে ভালবাসতাম। অভিমানে কাছে যাইনি। তাই বলে ঘৃণা করতাম না। এখন করি।
পুলিশকে আতঙ্কিত করা ও শক্তি প্রদর্শন ছিল জামায়াতের টার্গেট
রাজধানীতে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির কর্মীদের সংঘর্ষ পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে স্বীকার করেছেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি আরো জানান, ভবিষ্যতে যাতে জামায়াত-শিবিরের মিছিলে পুলিশ হামলা চালানোর সাহস না পায় সেজন্য পুলিশের ওপর বিশেষভাবে চড়াও হওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তা ছাড়া যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার করা জামায়াত নেতাদের ব্যাপারে বিএনপি আন্দোলনে না যাওয়ায় জামায়াত বিএনপির ওপর ক্ষুব্ধ। তাই বিএনপিকে শক্তি প্রদর্শন করা ছিল তাদের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য। রমনা থানায় দায়ের করা একটি মামলার রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গতকাল গোয়েন্দা পুলিশের কাছে এসব তথ্য স্বীকার করেছেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম।
মহানগর গোয়ন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, গতকাল দুপুরে গোয়ন্দা পুলিশের কার্যালয়ে মামলার তদন্ত কর্মকতাসহ গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা এটিএম আজহারুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় তার কাছে থেকে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে গোয়ন্দা পুলিশ। বিশেষ করে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনার ব্যাপারে এটিএম আজহারুল ইসলাম তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কবে থেকে জামায়াত এ পরিকল্পনা করে। তা ছাড়া তাদের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কারা সহযোগিতা করেছে।
উপ-কমিশনার আরো বলেন, ১৭ সেপ্টেম্বর কাকরাইল এলাকায় জামায়াত-শিবিরের বেশ কয়েকজন কর্মীকে প্রশিক্ষিত জঙ্গিদের মতো হামলা চালাতে দেখা গেছে? এমন প্রশ্নের জবাবে আজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শিবিরের কয়েক হাজার শিবির ক্যাডার সদস্যকে ঢাকায় আনা হয়। সেসব ক্যাডারদের সঙ্গে ঢাকা জেলার বেশ কয়েকজন ক্যাডার একত্রিত হয়। তারা হয়তো মিডিয়ার তোলা ছবি থেকে নিজেদের আড়াল করতে মুখে কাপড় বেঁধেছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আজহারুল ইসলাম পুলিশকে জানিয়েছেন, ২৭ সেপ্টেম্বর পল্টনে চারদলীয় জোটের সমাবেশ নিয়ে জামায়াতের বিশেষ পরিকল্পনা ছিল। জামায়াতের ৩০ হাজার কর্মীকে পল্টন ময়দানে উপস্থিত করে বিএনপিকে আরেক দফা শক্তি প্রদর্শন করবে। এ কারণে দেশের কয়েকটি জেলা থেকে জামায়াত কর্মীদের ঢাকা আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তা ছাড়া সারা দেশে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে বিশেষ শোডাউনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাদের যোগসূত্র রয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নের ব্যাপারে তিনি কোনো উত্তর দেননি। তবে গোয়েন্দাদের ধারণা, জামায়াতের সঙ্গে জঙ্গিদের যোগাযোগ রয়েছে। গোয়েন্দারা বলছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর জঙ্গিদের পরিকল্পনা অনুযায়ী জামায়াত কর্মীরা গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
মইন : হিরো না ভিলেন?
‘২০০৮ সালের নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের
ইতিহাসের সবচে’ অবাধ ও স্বচ্ছতম’
বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জে. মইন উদ্দিন আহমেদ ২০০৭-২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্থপতি। তিনি গত ১৪ জুন (২০০৯) অবসরে গেছেন। অবসরে গেলেও বাংলাদেশে ‘মইন ঝড়’ থেমে যায়নি। কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারে তার প্রভাব ছিল সর্বজন বিদিত। মইনের বিদায়ের পর এই বিতর্ক জোরেসোরে শুরু হয়েছে তিনি ‘হিরো’ নাকি ‘ভিলেন’ ছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি যে ভূমিকা পালন করেছেন তার প্রশংসা করা উচিত নাকি নিন্দা জানানো উচিত। বিতর্কের খাতিরে যে যা-ই বলুক, মইন উ আহমেদ তার প্রধান দুটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করে গেছেন। প্রথমটি : তিনি বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করেছেন, এবং দ্বিতীয়টি : রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা ও ক্ষমতা দখলের সবার সন্দেহকে অমূলক প্রমাণ করে মেয়াদ শেষে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন।
সাড়া জাগানো সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট উইকিলিকসের ফাঁস করা একটি তারবার্তা থেকে ঢাকাস্থ সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টির এই মূল্যায়ন উঠে এসেছে। মার্কিন সরকারের কাছে মরিয়ার্টি এই তারবার্তাটি পাঠিয়েছিলেন ২০০৯ সালের ১৪ জুলাই।
হিরো নাকি ভিলেন ঃ মরিয়ার্টি তার তারবার্তায় লিখেছিলেন, মইনের ব্যাপারে দুই রকম অভিমত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একটি পক্ষ মনে করছেন ২০০৭ সালের জানুয়ারির নির্বাচন দুই বছর পিছাতে বাধ্য করে মইন সংবিধান লংঘন করেছেন। আরেকটি পক্ষ আমাকে বলেছেন ২০০৬ এবং ২০০৭ সালে যে রাজনৈতিক রক্তক্ষয় অনিবার্য হয়ে উঠেছিল তা এড়াতে মইন যে ভূমিকা রেখেছিলেন তাতে তাকে বরং পুরস্কৃত করা উচিত।
মরিয়ার্টি তারবার্তায় আরো লেখেন, ভুক্তভোগীরা কিংবা উপকারভোগীরা যে যা-ই বলুন না কেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এটা অস্বীকার করতে পারবে না যে মইন সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে জনগণের সঙ্গে বেইমানি করেননি। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে এবং অবসর গ্রহণের ব্যাপারে তিনি তার প্রতিশ্রুতি রেখেছেন। কারণ, এটা প্রমাণিত সত্য যে ২০০৮ সালের নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচে অবাধ ও স্বচ্ছতম। তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে দুই বছর ক্ষমতায় ছিল, বাংলাদেশের বাতাসে মইনের উদ্দেশ্য এবং ক্ষমতার উচ্চাকাঙ্খা নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল। মইন বারবারই পরিস্কার করেছিলে যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের বাইরে তার কোনো উচ্চাকাঙ্খা নেই। কিন্তু সব ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণ করে তিনি অনেকটা নিরবে অবসরে চলে গেছেন।
২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর মইন সামরিক প্রতিষ্ঠানের উপর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণের কথা মনে করিয়ে দেন। দেশটিতে মর্মান্তিক বিডিআর বিদ্রোহের পর মইন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদেশ নির্দেশ মেনে চলেছেন। অনেকে মনে করেছে, তাত্ক্ষণিকভাবে সেনা অভিযান চালাতে দিলে বিদ্রোহ দমন করা যেত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেয়েছিলেন বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে রক্তপাতহীনভাবে সমাধান করতে। দুখঃজনক হলেও সবকিছু পরিকল্পনামতো ঘটে নি। তবে শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহীরা অস্ত্র রেখে আত্মসমর্পণ করে।
বিদ্রোহের পর প্রধানমন্ত্রীর আদেশ মান্য করার জন্য সেনাবাহিনীর অনেকে জেনারেল মইনের তীব্র সমালোচনা করেন। মার্চে একদল সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলোচনার সময় কিছু সেনা অফিসার উদ্ধত আচরণ করেন। তারা কঠোর ভাষায় চিত্কার করে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন। কয়েকজন আবার প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে এবং সিনিয়র সেনা কর্মকর্তাদের মৃত্যুর প্রতিবাদে ইউনিফর্ম থেকে তাদের ব্যাজ টেনে ছিড়ে ফেলেন। সেনাপ্রধান হিসেবে মইন শেষ যে কাজটি করেছিলেন তা হলো, প্রধানমন্ত্রীর সামনে অসম্মানজনক আচরণের জন্য দায়ী সাতজন অফিসারকে তিনি চাকরিচ্যুত করেছিলেন।
কবুল করলেন চঞ্চল
মমতাজকে বিয়ের কথা কবুল করলেন ডা. মঈন হাসান চঞ্চল। তবে ক্ষোভ ঝাড়লেন পিতা-মাতার ওপর। বললেন, কেন যে বাবা-মা বিষয়টি প্রকাশ করে দিলেন তা বুঝতে পারছি না। এ নিয়ে গত দু’দিন ধরে বাবা-মা’র সঙ্গে আমার ঝগড়া হচ্ছে। চঞ্চল বলেন, আপনারা রিপোর্ট করার পর থেকে মমতাজও আমার সঙ্গে কথা বলছে না। বিয়ের কথা প্রকাশ করেননি কেন? এ প্রশ্নে চঞ্চল বলেন, তা কিভাবে প্রকাশ করবো? কারণ মমতাজ এখনও রমজানকে ডিভোর্স দেয়নি। গতকাল দীর্ঘ আলোচনায় মমতাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও বিয়ে নিয়ে নানা প্রসঙ্গ টেনে আনেন চঞ্চল। বলেন, ২০০৫ সালে মমতাজ চক্ষু হাসপাতালে চাকরি নেয়ার পর থেকেই আমার প্রতি মমতাজের বিশেষ নজর পড়ে। পরে আমাকে দু’-দু’টো হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়। আমার প্রতি তার অগাধ বিশ্বাস। এভাবেই ধীরে ধীরে আমরা খুবই ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ি। মমতাজের পরিবারেও আমার একটা আলাদা জায়গা ছিল। আমাদের সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বের চেয়েও বেশি কিছু। কিন্তু আমার বাবা-মা তার সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা পছন্দ করছিলেন না। তাই তারা সব সময় বিয়ের কথা বলতেন। চঞ্চল বলেন, মমতাজ তার স্বামী রমজান আলীকে পছন্দ করতো না। তাদের মধ্যে ২-৩ বছর ধরে কোন সম্পর্কই ছিল না। মমতাজ একা হয়ে পড়ে। তখন আমিই তাকে সময় দিয়েছি। আমরা একসঙ্গে নানা দেশ ঘুরেছি। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, লন্ডন, অস্ট্রেলিয়া অনেক দেশে গেছি। এই তো মাত্র কয়েকদিন আগে একসঙ্গে দুবাই থেকে ঘুরে এলাম। ঢাকার বাইরেও অনেক জায়গায় গেছি। অনেক সময় মমতাজের সিডিউল আমিই ঠিক করে দিতাম। তার বাসা ছিল আমার বাসা। তার মহাখালীর বাসায় রাতের পর রাত কাটিয়েছি। হ্যাঁ, এ নিয়ে অনেক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে আমাদের। কিন্তু আমরা কোন পাত্তা দেইনি। বিয়ে নিয়ে লুকোচুরি করছেন কেন- এমন প্রশ্নে চঞ্চল বলেন, আমি এ বিষয়ে আর কোন কথা বলতে চাই না। আপনারা মমতাজের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। তিনিই সব বলতে পারবেন। মমতাজের প্রথম স্বামী ছিলেন বিখ্যাত গায়ক রশিদ বয়াতি। এরপর মানিকগঞ্জের বর্তমান পৌর মেয়র রমজান আলীর সঙ্গে বিয়ে হয় মমতাজের। তবে তাদের মধ্যে এখনও আনুষ্ঠানিক বিয়ে বিচ্ছেদ হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন রমজান আলী। ওদিকে ডা. চঞ্চলের এটা দ্বিতীয় বিয়ে। গতকাল যোগাযোগ করা হলে রমজান আলী বলেন, মমতাজ এখনও আমার কাছে চঞ্চলের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার বিষয়টি গোপন করছে। তবে সত্য কখনও চাপা থাকে না। সত্য বেরিয়ে গেছে। মমতাজের সঙ্গে প্রেম, বিয়ে, সামাজিক প্রতিষ্ঠা, এমপি হওয়া ও বিচ্ছেদ ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন রমজান। বলেন, মমতাজকে আমি রাস্তা থেকে তুলে এনে এমপি বানিয়েছি। সে তো তারেক জিয়ার গান গেয়ে বেড়াতো। জেল থেকে বেরিয়ে আমি হাসিনা আপাকে বললাম তাকে এমপি মনোনীত করতে। আমার কথাতেই তাকে এমপি বানিয়েছেন তিনি। রমজান বলেন, আমি যখন তাকে বিয়ে করি তখন আমার পরিবারের কেউ বিয়ে মেনে নেয়নি। আমার ৪ ভাই আলাদা হয়ে গেছে। সবাই বলেছে, তাকে বিয়ে করো না। কিন্তু আমি ভালবাসার প্রতি নিষ্ঠাবান ছিলাম। ভেবেছিলাম মমতাজ আমার সঙ্গে থাকলে অনেক বড় শিল্পী হতে পারবে। কিন্তু সে ধারণা ভুল। এখন সে চলে গেলে আমি মান-সম্মান নিয়ে বেঁচে যাই। রমজান বলেন, আমিই ডা. চঞ্চলকে হাসপাতালে নিয়োগ দিয়েছিলাম। কিন্তু সে আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে বুঝতে পারিনি। এখন আমি আদালতের আশ্রয় নেবো। রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস’র ৩৪ নম্বর রোডের ৫০৪ নম্বর বাড়ির ৩টি ফ্ল্যাট মমতাজের। ফ্ল্যাটের নিচতলা ও দোতলা মিলিয়ে থাকেন তিনি। ৬ তলায় আরও একটি ফ্ল্যাট বিলাসবহুলভাবে সজ্জিত করা। সেখানেই রাতে থাকতেন চঞ্চল। ৩৪ নম্বর রোডে মমতাজের বাসার আশপাশের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, আমরা প্রায়ই মমতাজকে একটি লম্বা চুলের ছেলের সঙ্গে গাড়ি থেকে নামতে দেখতাম। সকাল-বিকাল যখনই মমতাজ বাসায় আসতো তখনই তার সঙ্গে ছেলেটি থাকতো। আমরা জানতাম ছেলেটি তার স্বামী। মমতাজের জনপ্রিয় ‘পাংখা’ অ্যালবামের গীতিকার অনুরূপ আইচ বলেন, আমরা অনেকদিন ধরেই মমতাজ এবং ডা. চঞ্চলের সম্পর্কের বিষয়ে নানা কথা শুনতাম। ২০০৫ সাল থেকেই আমরা তাদের প্রেমের বিষয়টি শুনে আসছি। কিন্তু তখন ভাবতাম এটা হয়তো মমতাজের স্ক্যান্ডাল। কিন্তু সত্যি তাদের বিয়ে হবে ভাবতে পারিনি। শনিবার রাতে যোগাযোগ করা হলে মমতাজ বলেন, আমি আপনাকে কিছুই বলবো না। আপনারা আমি, চঞ্চল, রমজানকে বাদ দিয়ে আমাদের বাবা- মা’রা কোথায় কি বললো এটা নিয়ে রিপোর্ট করেছেন। সব তো ছাপা হয়েই গেছে। এখন আর কথা বলে কি লাভ?
যশোর জুড়ে হৈ চৈ নূর ইসলাম, যশোর থেকে জানান, মানবজমিনে প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে গায়িকা মমতাজ আর তার স্বামী ডা. চঞ্চলকে নিয়ে যশোরে শুরু হয়েছে হৈ চৈ। অনেকে মানবজমিন-এর কপি সংগ্রহে ব্যস্ত। কেউ ব্যস্ত মমতাজ আর চঞ্চলের ফেসবুকের একাউন্ট নিয়ে। এদিকে স্থানীয় পত্র-পত্রিকাগুলোও মানবজমিন-এর এই সংবাদকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। এদিকে ছেলে আর ছেলের বউকে নিয়ে ডা. এই হুল্লোড়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন যশোরের লালদীঘি পাড়ের সালেহা ক্লিনিকের ডাক্তার দম্পতি। এই ক্লিনিকের মালিক ডা. মুস্তাফিজুর রহমান আর তার স্ত্রী ডা. জাহানারা বেগম এক প্রকার বন্দি জীবনযাপন করছেন। তিন তলার এই ফ্ল্যাটের প্রধান ফটকে রাত-দিন তালা ঝুলছে। ক্লিনিকও বন্ধ থাকছে দিনের বেশির ভাগ সময়। ডাক্তার দম্পতি অসুস্থ- এ কথা বলে রোগীদেরও বিদায় করে দেয়া হচ্ছে। প্র্যাকটিস বন্ধ করে দু’জনে মিলে এক নির্জন জীবন কাটাচ্ছেন। আর এই সব কিছুই ঘটছে তাদের একমাত্র পুত্র ডা. এএসএম মঈন হাসান চঞ্চলের কারণে চৌগাছার ইছাপুর গ্রামের এই ডাক্তার দম্পতি ’৭০-এর দশকে যশোর চলে আসেন। তারপর দু’জনে মিলে শহরের লালদীঘি পাড়ে গড়ে তোলেন তাদের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান সালেহা ক্লিনিক।
যশোর শহরের লালদীঘি পাড়স্থ সালেহা ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ও ডা. জাহানারা বেগমের একমাত্র পুত্র এএসএম মঈন হাসান। ডাক নাম চঞ্চল। ১৯৮৯ সালে যশোর দাউদ পাবলিক স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হিসেবে যশোর বোর্ডের দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসএসসি পাস করেন চঞ্চল। এরপর যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে ১৯৯১ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করেন। ভর্তি হন কিশোরগঞ্জের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে। সেখানে লেখাপড়া শেষ করে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে লন্ডন যান। সেখানেই পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে তার এক বান্ধবীকে বিয়ে করেন। কিন্তু সে বিয়ে বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বনিবনা না হওয়ায় চঞ্চলকে ডিভোর্স দিয়ে অন্য এক সহপাঠীকে বিয়ে করে চঞ্চলের সেই ডাক্তার স্ত্রী। অনেকটা মনের দুঃখে ভগ্ন হৃদয়ে দেশে ফিরে আসেন চঞ্চল। যোগ দেন কক্সবাজারের একটি আই হসপিটালে। সেখানে বেশ কিছুদিন চাকরি করার পর ২০০৭ সালে সিনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে যোগ দেন মানিকগঞ্জের মমতাজ চক্ষু হাসপাতাল ও ফাউন্ডেশনে। চঞ্চলের পিতা মুস্তাফিজুর রহমান ও জাহানারা বেগম বলেন, এই চাকরিই তার আজকের এই ঘটনার জন্য দায়ী। তারা জানান, চঞ্চল যখন এই হাসপাতালে যোগ দেয় তখন হাসপাতালটি লোকসানের কবলে পড়ে বন্ধ হতে বসেছিল। রাত-দিন পরিশ্রম আর দেশে-বিদেশে যোগাযোগের মাধ্যমে চঞ্চল এই হাসপাতালকে দু’বছরের মধ্যে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে। আর এর ফলেই হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা মমতাজের সুনজরে পড়ে সে। প্রথমে ভাললাগা তারপর ভালবাসা- এভাবেই তাদের সম্পর্ক দিন দিন ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। ডা. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মমতাজ খুব দুঃখী মেয়ে। বিয়ের আগে চঞ্চল আমাদের সব বলতো। কিভাবে মমতাজ আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে তা শুনেছি ছেলের মুখে। বিয়ের আগে একবার খুলনার শিরোমণিতে প্রোগ্রাম শেষ করে চঞ্চলকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসেছিল মমতাজ। সেদিনও বুঝতে পারিনি চঞ্চল আর মমতাজের মনের কথা। আমার দুই মেয়ে চন্দ্রা আর তন্দ্রাকে নিয়ে মমতাজের হৈচৈ আর মাতামাতি দেখেও আমাদের কোন সন্দেহ হয়নি। কারণ চঞ্চল তাকে বড় বোনের মতো জানতো। বয়সেও চঞ্চলের বড়ই হবে সে। তাছাড়া, তখনও তো সে রমজান সাহেবের স্ত্রী। নামী সংগীত শিল্পী। তারপর একদিন হঠাৎ করেই এক বন্ধুর মাধ্যমে চঞ্চল আর মমতাজের বিয়ের খবর শুনতে পাই। প্রথমে বিশ্বাস হয়নি। খবরটা গুজব বলেই মনে হয়েছিল। তারপর ছেলেকে ফোন করে যখন জানতে পারি তখন খবরটা বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো মনে হচ্ছিল। প্রথমে ভাবছিলাম ছেলের পরিচয় দেবো না। কিন্তু একমাত্র ছেলের কথা আর তার ভবিষ্যৎ ভেবে সব মেনে নিই। কিন্তু মনের সেই ক্ষত আজও শুকায়নি। মাঝে মাঝে বুকের মধ্যে এক অজানা ব্যথা নাড়া দিয়ে ওঠে। ডা. মুস্তাফিজ তার ড্রইং রুমে বসে যখন এই কাহিনী শোনাচ্ছিলেন তখন পাশের সোফায় বসে জাহানারা বেগম কাপড়ের আঁচলে ঘন ঘন চোখের পানি মুছছিলেন। চঞ্চলের কোন ছবি আছে কিনা জানতে চাইলে অনেকটা রাগান্বিত স্বরে তিনি বলে ওঠেন- না, তার কোন ছবি আমাদের কাছে নেই। ছবি লাগলে তার বা তার স্ত্রীর কাছ থেকে সংগ্রহ করুন। সে তো আর এখন আমাদের সম্পদ নয়। সে শিল্পী মমতাজের স্বামী! সন্তানদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বললেন এই ঘটনার পরে বড় মেয়ে লন্ডন চলে গেছে। ছোট মেয়ে স্বামী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় থাকে। আর আমরা বুড়োবুড়ি এই যশোরে কোনমতে বাস করছি। বাসায় কোন কাজের লোক নেই। চা খাওয়াতে না পারার অপারগতা প্রকাশ করে তার স্ত্রী জাহানারা বেগম বললেন, দু’জনেই অসুস্থ। কিন্তু কি করবো। দেখার কেউ নেই। ছেলে তার হাসপাতাল আর স্ত্রী মমতাজকে নিয়ে ব্যস্ত। এমন এক সময় গেছে যখন আমাদের ছাড়া চঞ্চল কিছু ভাবতে পারতো না। কিন্তু বিয়ের পর এই প্রথমবার ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায় এসে ঈদের দিন বিকালে ফিরে গেছে। আমরা কি খেলাম আর না খেলাম তা নিয়ে ভাববার কোন সময় তার ছিল না। স্ত্রী মমতাজের ঈদ প্রোগ্রাম নিয়ে তার ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকটা বাকরুদ্ধ কণ্ঠে মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ছেলে মানুষ করে ভুল করেছি। তিনি এই বিষয়ে তাদেরকে জড়িয়ে কোন সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, লোকে ছেলে বিয়ে দিয়ে গর্ব বোধ করে। বন্ধু-বান্ধবকে দাওয়াত করে ছেলের বউকে দেখায়। আর আমার সে কপাল হলো না। ধর্মীয় মূল্যবোধে আকৃষ্ট এই পরিবারটি তার ছেলের এই বিয়ের ঘটনায় মর্মাহত হয়েছেন বলে তার ঘনিষ্ঠজনরা জানান। এদিকে চঞ্চল আর মমতাজ বিয়ের পর একবার দু’ঘণ্টার জন্য বাড়িতে এসেছিল জানিয়ে তারা বলেন, কি যে হলো তা বুঝতে পারলাম না। আমার সব ইচ্ছা বিলীন হয়ে গেছে। কোন কিছু ভাল লাগে না। মনে হয় আর বেশিদিন বাঁচবো না। ক্লিনিক বন্ধ কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চালাবো কি করে? নিজে ও স্ত্রী দু’জনেই শারীরিক ও মানসিকভাবে দারুণ অসুস্থ। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে পারি না। আগের মতো মনে জোর পাই না।
এদিকে চঞ্চল- মমতাজের বিয়ের খবরে গোটা যশোরে বেশ আলোড়ন উঠেছে। চঞ্চলের বন্ধু মহলেও কৌতূহলের শেষ নেই। অনেকে মজা করে বলছেন এবার মমতাজের গান ফ্রি শোনা যাবে। যশোরের বউ হিসেবে রেটটা একটু কম হবে। অন্যদিকে চঞ্চলের আত্মীয়স্বজনদের দাবি এই বিয়ের মাধ্যমে চঞ্চলের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার হয়তো বেড়েছে কিন্তু পারিবারিক সম্পর্কে যে চিড় ধরেছে তা দূর হওয়ার নয়। কারণ এই অসম বিয়ে টিকবে কিনা তা নিয়েও অনেকের মনে সন্দেহ দানা বাঁধছে। এদিকে মুস্তাফিজুর রহমান ও জাহানারা বেগম ক্লিনিক ব্যবসা গুটিয়ে ফেলে মেয়ের কাছে লন্ডন চলে যাবেন বলে তাদের ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন। এদিকে আলাপচারিতা শেষে যখন ড্রইং রুম ত্যাগ করে বাইরে বের হচ্ছিলাম তখন ডা. মুস্তাফিজ চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, এই খবর আমার কাছ থেকে জেনেছেন এই সংবাদ আমার ছেলের কানে পৌঁছলে আমার আর রক্ষা থাকবে না। একদিনের এক ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরটি আমার খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু সাজিদ ওয়াচের সাজিদ সাহেবকে দিয়েছিলাম একটি চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যাপারে। তার জন্যও ছেলে আর ছেলের বউয়ের কাছে অনেক কটু কথা শুনতে হয়েছে। দয়া করে এই বৃদ্ধ বয়সে আর বিড়ম্বনায় ফেলবেন না। এদিকে যশোর থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় মমতাজ আর চঞ্চলের বিয়ে নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন খবর প্রকাশিত হয়েছে। সেসব নিয়ে সাধারণ পাঠকের কৌতূহলের শেষ নেই
