Archive for September, 2011

September 18th, 2011

কেঁপে উঠল দেশ

০ স্মরণকালের সর্বোচ্চ ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্প
০ স্থায়িত্ব দুই মিনিট
০ পঞ্চগড়ে আহত ১০
০ সারাদেশে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত
০ বগুড়ায় ৭তলা ভবন হেলে পড়েছে অন্য ভবনের ওপর
০ ফাটল বহু ভবনে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শক্তিশালী ভূমিকম্পে কম্পিত বাংলাদেশ। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে দেশবাসী। বাসাবাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে আতঙ্কিত মানুষ। রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তীব্র এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর পূর্ব ভারতের সিকিম। এটি ঢাকার আবহাওয়া অধিদফতর থেকে প্রায় ৪৯৫ কিলোমিটার দূরে। উৎপত্তিস্থলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬.৮ যার স্থায়িত্ব ছিল প্রায় ২ মিনিট। পঞ্চগড়, দিনাজপুর, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অর্ধ শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পঞ্চগড়ে তাড়াহুড়া করে ভবন থেকে নামতে গিয়ে আহত হয়েছে ১০ জন। অনেক ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। দিনাজপুরে অর্ধশতাধিক পুরনো ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ইট, পলেস্তার খসে পড়ে। হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। বগুড়ার শেরপুরে একটি সাত তলা ভবন হেলে পড়েছে আরেকটি ভবনের ওপর। তবে কেউ হতাহত হয়নি। এছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলে পুকুরের পানিতে বড় বড় ঢেউ ওঠে। খবর আবহাওয়া অফিস, স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতা।
রবিবার ঠিক সন্ধ্যায় ভূমিকম্পে প্রচ- ঝাঁকুনিতে কেঁপে ওঠে সারাদেশ। দিনাজপুর সীমানত্মের নিকটবর্তী ভারতের সিকিমের উৎসস্থল থেকে সিভিয়ার ক্যাটাগরির (ইউএসজিএসের ৭ ক্যাটাগরি) ভূমিকম্পে টেকনাফ পর্যন্ত কেঁপে ওঠায় ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। ভূমিকম্পের উৎস স্থলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮ ম্যাগনেচুয়েট। রাজধানী ঢাকা, উত্তরবঙ্গ এবং খুলনা বিভাগীয় শহরে ভূমিকম্প তীব্রভাবে অনুভূত হয়। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামেও হালকাভাবে ঝাঁকুনি লাগে। দেশের কোথাও কোথাও এক মিনিটের বেশি সময় ধরে অনুভূত ভূমিকম্পে সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জানা যায়নি।
ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিএস) ওয়েবসাইট সূত্রেপ্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী_ সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ভূমিকম্প আঘাত হানে। ঢাকা থেকে ৪৯৫ কিলোমিটার দূরে ভারতের সিকিমের ভূগর্ভের ২০ দশমিক ৭ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পের উৎস স্থল ছিল। এ উৎস স্থল সিকিমের গ্যাংটক থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম, শিলিগুড়ি থেকে ১১৯ কিলোমিটার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমে, কাঠমা-ু থেকে ২৭২ কিলোমিটার ও কলকাতা থেকে ৫৭২ কিলোমিটার দূরে ছিল। আফটার শক হিসেবে আধঘণ্টা পর ৭টা ১০ মিনিটে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার আরও একদফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এটির বিসত্মৃতি বাংলাদেশের রংপুর-দিনাজপুর পর্যনত্ম ছিল। ইউএসজিএস সূত্র জানায়, সিকিমের এ ফল্ট লাইনে ১৯৮০ সালের ১৯ নবেম্বর সর্বশেষ কম্পন সৃষ্টি হয়েছিল। সে সময়ে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১ ম্যাগনেচুয়েট। ভূগর্ভের ১৭ কিলোমিটার গভীরে উৎস স্থলে ভূমিকম্প আঘাত হানে। এবার আরও ৩ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। এর আগে ১৯৩৪ সালে ইন্দো-নেপাল ভূমিকম্প হিসেবে পরিচিত এখান থেকে ৮ মাত্রার প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। ঐ ভূমিকম্পে প্রাণহানি ঘটেছিল প্রায় সাড়ে দশ হাজার মানুষের। দীর্ঘদিন পর এ উৎস থেকে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় সিকিমের ভূগর্ভের ঐ অংশ অথবা আশপাশের অন্যান্য উৎসগুলোও আফটার শক হিসেবে ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে বলে ভূতত্ত্ববিদরা মনে করছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক এবং ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণা কর্মকা-ে জড়িত ড. শহীদুল ইসলাম জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, সিকিমে ইদানীং ছোট ছোট মাত্রার অনেক ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। এ উৎস স্থল ইদানীং সক্রিয় হয়ে ওঠায় আমাদের জন্য অত্যনত্ম ঝুঁকিপূর্ণ। রবিবার সন্ধ্যায় অনুভূত ভূমিকম্পটি ইন্ডিয়ান-ইউরেশিয়ান পোর্ট বরাবর। পোর্টের বাউন্ডারিতে এ ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হলে বিশাল এলাকাজুড়ে প্রভাব পড়তে পারে। তার কাছে থাকা তথ্যানুযায়ী_ শুধু রংপুর-দিনাজপুর নয়, ঢাকাতেও ঝাঁকুনি ছিল উলেস্নখ করার মতো। এ ধরনের ঝাঁকুনিতে অনেক নড়বড়ে স্থাপনা ক্ষতিগ্রসত্ম হয়। তিনি জানান, ভূমিকম্পের জন্য বাংলাদেশে উৎস স্থল থাকতে হবে এমন নয়। পেটের কারণে প্রচ- ঝাঁকুনিতে নরম স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রসত্ম হয়। তাই এ ব্যাপারে আমাদের সতর্ক হওয়ার সময় পেরিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
ভূ-কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে রাজধানীবাসী। কেঁপে ওঠে অধিকাংশ ভবন। আতঙ্কে বাসাবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে মানুষ। রাসত্মার দু’পাশের ফুটপাথ ও খোলা জায়গায় লোকজনের ভিড় জমে। তারা তাকিয়ে থাকে ভবনগুলোর দিকে। সন্ধ্যার সময় অনুভূত ভূমিকম্পে বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। ৬শ’ কিলোমিটারের বেশি দূরের কারণে কম্পনের মাত্রা কমে আসে। তারপরও প্রায় এক মিনিটের কাছাকাছি পর্যনত্ম সাধারণ মানুষ ভূমিকম্প টের পায়। এরপরই চারদিকে ফোনে যোগাযোগ শুরম্ন হয়ে যায়। তবে এখানকার অনুভূতির মাত্রা বেশি না থাকায় লোকজন আশ্বসত্ম হয়। ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায়ও ভূমিকম্প স্থানীয় লোকজন টের পেয়েছেন বলে জানা যায়। তবে কঙ্বাজারে উলেস্নখযোগ্য কোন প্রভাব ছিল না।
নীলফামারী ॥ ভারতের সিকিম উৎপত্তি স্থল হওয়ায় এর সংলগ্ন নীলফামারী জেলায় এর গতির ধরন ছিল সব থেকে বেশি। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র সূত্র মতে, তিসত্মা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ ছিল ৫২ দশমিক ২৭ সেন্টিমিটার। সেটি ভূকম্পনের পরপরই আরও বেড়ে যায় ৩ সেন্টিমিটার। এক সূত্র মতে, নদীর উজানে ভারতের দোমহনীতে তিসত্মার পানি বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার উপরে চলে গেছে। নদীতে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় ঢেউ। শহরের কাপড় ব্যবসায়ী সোনা মিয়া (৫৫) বলেন, তার এই জন্মে এমন ভূকম্পন কখনও দেখেননি। সৃষ্টিকর্তার অসীম রহমতে আমরা বেঁচে আছি। জেলার ডিমলা, ডোমার, জলঢাকা, কিশোরীগঞ্জ, সৈয়দপুর উপজেলা শহর ও গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে খবর পাওয়া গেছে বড় ধরনের কোন ৰয়ৰতি না হলেও পুকুর ও নদীর পানি উপচে উপড়ে চলে আসে। মোবাইলের নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে পড়ে। শহরের কলেজপাড়া ও সৈয়দপুর উপজেলা সদরে নিউ বাবুপাড়া এলাকায় কিছু পাকা বাড়িঘরের দেয়াল ও মেঝে ফেটে গেছে। একটি ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে।
দিনাজপুর ॥ প্রায় ২ মিনিট ধরে ভূ-কম্পন চলাকালে হাজার হাজার মানুষ বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে রাসত্মায় ও খোলা স্থানে বেরিয়ে আসে। এ সময় ভূমিকম্পের ভয়ে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ভূ-কম্পে শহরের প্রায় অর্ধশতাধিক পুরনো বাড়ির ইট, পলেসত্মার খসে পড়ে এবং অনেক নতুন ভবনে ফাটল দেখা দেয়। সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটে ভূ-কম্পন শুরম্ন হলে শহরের বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অফিস আদালতসহ বিভিন্ন স্থাপনা থরথর করে কেঁপে ওঠে। এ সময় আতঙ্কিত লোকজন বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে রাসত্মায় ও খোলা স্থানে বেরিয়ে আসে। আবার অনেকে নিরাপদ স্থানে যেতে ছোটাছুটি শুরম্ন করে। প্রায় ২ মিনিটব্যাপী ভূ-কম্পন চলাকালে গোটা শহরের মানুষজন চরম আতঙ্কগ্রসত্ম হয়ে পড়েন। এ সময় অনেক মহিলা ও শিশু কান্না শুরম্ন করেন। মসজিদে আজান ও মন্দিরে প্রার্থনা শুরম্ন হয়ে যায়। যে যেখানে ছিলেন সকলেই সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ কামনা করে প্রার্থনা করতে থাকেন। এমন ভয়ঙ্কর দৃশ্য দিনাজপুরে ইতোপূর্বে আর কখনও দেখা যায়নি বলে অনেকে অভিমত ব্যক্ত করেন। শহরের সর্দারপাড়া এলাকার ৮০ বছরের বৃদ্ধ আজিজার রহমান জানান, জীবদ্দশায় আমি এত দীর্ঘস্থায়ী ভূমিকম্প দেখিনি। দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসে যোগাযোগ করা হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আশিকুর রহমান জানান, দিনাজপুরে ভূমিকম্প নিরূপণ মেশিন নেই। তাই রিখটার স্কেলে কত মাত্রায় ভূ-কম্প হয়েছে তা তিনি বলতে পারবেন না। তবে ভূমিকম্প প্রায় ২ মিনিট স্থায়ী ছিল বলে তিনি ধারণা দেন। দিনাজপুর জেল
পঞ্চগড় ॥ পঞ্চগড়ে সবের্াচ্চ মাত্রার দুই মিনিট স্থায়ী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সন্ধ্যা ৬-৪১ মিনিট থেকে ৬-৪৩ মিনিট স্থায়ী এই ভূমিকম্পে জেলার কোথাও কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া না গেলেও বাড়ি থেকে হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার সময় ১০ নারী ও শিশুর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে আতঙ্কিত লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে ফাঁকা মাঠে কিংবা রাসত্মায় বের হয়ে আত্মরক্ষা করেন। ভূমিকম্পের সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিদু্যত সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আলাল জানান, তিনি বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে বাজারে যাওয়ার পথে হঠাৎ হাত কেঁেপ মোটরসাইকেলসহ তিনি মাটিতে পড়ে যান। কাজলদিঘী গ্রামের কৃষক ইসমাইল জানান, কাজ শেষে সন্ধ্যায় কাজলদিঘী পুকুরে গোসল করছিলেন। এ সময় হঠাৎ পুকুরের পানি ঢেউ খেলতে শুরম্ন করে তাকে ধাক্কা দেয়। ভয়ে তাড়াহুড়া করে পাড়ে উঠে মাটিতে বসে পড়েন এবং দোয়া-কালাম পড়া শুরম্ন করেন। ভূমিকম্প চলার সময় বিভিন্নস্থানে মসজিদে মাগরিবের নামাজরত মুসলস্নীরাও ভয়ে বসে পড়েন। আজানও দেয়া হয় বলে খবর পাওয়া গেছে। পঞ্চগড় শহরের পূর্ব জালাসী গ্রামের সরকারী চাকুরে খন্দকার সারওয়ারী রহমান জানান, তিনি তাঁর একমাত্র ছেলেকে ড্রয়িং রম্নমে পড়াচ্ছিলেন। হঠাৎ ৬-৪১ মিনিটে প্রচ- ঝাঁকুনি দিয়ে পুরো ঘর কাঁপতে শুরম্ন করে। ভয়ে তিনি ছেলেকে নিয়ে ঘর থেকে রাসত্মায় বের হয়ে যান। তিনি বলেন, এ যাবতকালের সর্বোচ্চ মাত্রার এ ভূমিকম্পে তিনি শুধু নন আশপাশের অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। একই গ্রামের ক্লাস থ্রির ছাত্র দীপ্র জানায়, ড্রয়িং রম্নমের শোকেসে রাখা জিনিসপত্র পড়ে যায়। জালাসী গ্রামের আবু তাহের জানায়, তীব্র ভূমিকম্পে তিনি মাটিতে পড়ে যান।
বগুড়া ॥ কাঁপুনির সঙ্গে সঙ্গে শহরের প্রতিটি এলাকার লোকজন ছোটাছুটি করে রাসত্মায় নেমে আসেন। শহরের শেরপুর রোডের কাছে সাততলা ভবন তৌহিত পস্নাজা পাশের আরেকটি বহুতল ভবনে হেলে পড়েছে। এই ভবনের ওপর স্থাপিত মোবাইল ফোন কোম্পানির টাওয়ার হেলে পড়ে। ভবনের লোকজন অন্যত্র সরে যান। সামনের বিদু্যতের পোল হেলে তার ছিঁড়ে পড়লে বিদু্যত বন্ধ হয়ে যায়। মালতিনগরে একটি মাটির ভবনের ৰতি হয়েছে। এদিকে সোনাতলায় বাসা থেকে দ্রম্নত নামতে গিয়ে তিনজন আহত হয়েছেন। কম্পনের তীব্রতায় কাহালুর লক্ষ্মীপুর গ্রামে মাটির দেয়াল ধসে পড়ে। বাড়িঘর ও দোকান থেকে লোকজন দৌড়ে বেরিয়ে আসেন। মোবাইল ফোনের যোগাযোগেও বিঘ্ন ঘটে।
মানিকগঞ্জে আতঙ্কিত লোকজন ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসে। হিন্দু সমপ্রদায়ের লোকজন শঙ্খ বাজিয়ে উলুধ্বনি দেয়। মেহেরপুরে বাড়িঘর কাঁপতে থাকে। আতঙ্কে লোকজন রাসত্মায় বেরিয়ে পড়ে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শহরের অনেকে জানায়, কম্পনে তাদের স্ট্যান্ড করে রাখা মোটরসাইকেল পড়ে যায়।
গফরগাঁওয়ে ভয় ও আতঙ্কে বাসাবাড়ির হাজার হাজার মানুষ রাসত্মায় নেমে আসে এবং দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকে।
নারায়ণগঞ্জে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। বহুতল ভবন থেকে মাঠে বা রাসত্মায় বেরিয়ে পড়ে লোকজন।
বরিশালে রাস্তা, খোলা জায়গায় লোকজন বেরিয়ে পড়ে। পুকুরের পানিতে বড় বড় ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়।
রাজশাহীতে নগরজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ওই সময় মোবাইলের নেটওয়ার্কে বিঘ্ন ঘটে। ৰয়ৰতির খবর পাওয়া যায়নি। নেত্রকোনায় মৃদু কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটি প্রায় ৫০ সেকেন্ড স্থায়ী হয়। নাটোরে প্রায় এক মিনিট স্থায়ী কম্পনে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। বৃষ্টি থাকায় লোকজন রাসত্মায় বের হতে পারেনি। তারা বারান্দায় আশ্রয় নেয়। ময়মনসিংহে মোবাইল নেটওয়ার্ক ছিল না। বাসাবাড়ি ছেড়ে রাসত্মায় নেমে পড়ে মানুষ। পুকুরের পানিতে ঢেউ ওঠে। যশোরে সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। দুই দফায় এই কম্পন প্রায় ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী হয়। এই ভূ-কম্পনের ফলে বড় বড় ভবন কেঁপে ওঠে। এ সময় বাসাবাড়ি থেকে মানুষ রাসত্মায় নেমে পড়ে। পুকুরের পানিতে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পর এত বড় ভূমিকম্প হওয়ায় মানুষজন আতঙ্কগ্রসত্ম হয়ে পড়ে। তবে কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
জয়পুরহাটে মসজিদে আজান দিতে থাকেন ইমাম, হিন্দু মহিলারা উলুধ্বনি দিয়ে ঈশ্বরের নাম বলতে থাকেন। পার্বতীপুরে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ছেড়ে লোকজন চিৎকারে রাসত্মায় বেরিয়ে পড়ে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ভূকম্পন চলাকালে খনির অভ্যনত্মরে কিছুক্ষণের জন্য বিদু্যত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কর্মরত খনি শ্রমিকরা অন্ধকারে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে। মুন্সীগঞ্জে পর পর দু’দফা এই কম্পনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। মানুষ ভবন থেকে মাঠে বা রাসত্মায় বেরিয়ে পড়েন। গৌরনদীতে ভূমিকম্পে হঠাৎ করে দোকানের সাজানো মালামাল কাঁপতে কাঁপতে ঝরঝর করে নিচে পড়তে শুরম্ন করে। কুয়াকাটায় ভূমিকম্পের পর সাগর উপকূলে সুনামি আতঙ্কে বিরাজ করে। কিন্তু সাগর গতকাল বেশ শানত্ম ছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিদার আলম জানান, এ ধরনের কোন আতঙ্ক নেই। কোন ধরনের সতর্ক সঙ্কেত না থাকলেও জেলে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শেরপুরে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন উলুধ্বনি দেয়। নবীনগরে ভূমিকম্পে কোন ৰয়ৰতি না হলেও তীব্র ঝাঁকুনিতে মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করেছে। তাৎৰণিক কোন ৰয়ৰতির খবর পাওয়া যায়নি। কুষ্টিয়ায় ভূমিকম্পের সময় মসজিদে মসজিদে আজান দেয়া হয়েছে। জেলার সব উপজেলায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে কোন ৰয়ৰতির খবর পাওয়া যায়নি। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আতঙ্কিত মানুষ ভূমিকম্পের সময় সৃষ্টিকর্তার সাহায্য প্রার্থনায় আজান এবং উলুধ্বনি দিয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রানত্মে আত্মীয়স্বজনের খবর না নিতে পেরে আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এছাড়া সিরাজগঞ্জ, নড়াইল, পাবনা, ঝিনাইদহ, মির্জাপুর, সিলেট, কুমিলস্না, সানত্মাহার, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, ভৈরবসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলাতেই ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সিকিম ॥ এএফপি জানায়, ভারতের পার্বত্য রাজ্য সিকিমে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কম্পন অনুভূত হয় বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানে। সিকিমের চীফ সেক্রেটারি কর্মা গিয়াতসো সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন যে ভূমিকম্পে রাজ্যে এক শিশু মারা গেছে। তবে তাৎৰণিকভাবে এ খবর নিশ্চিত করা যায়নি। গ্যাটকের অধিবাসীরা জানিয়েছেন, কিছু ভবনে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল গ্যাংটকের ৬০ কিমি উত্তর-পশ্চিমে। গিয়াতসো বলেছেন, এটা বড় ধরনের ভূমিকম্প। আমরা সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছি।
ভূমিকম্পে গ্যাংটকের টেলিযোগাযোগ কিছু সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং দ্রম্নত মোবাইল নেটওয়ার্ক ভেঙ্গে পড়ে। গ্যাংটকের অধিবাসী সি কে দাহাল সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ভূমিকম্পের সঙ্গে সঙ্গে বিদু্যত ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় গোটা শহর অন্ধকারে তালিয়ে যায় এবং ২০ সেকেন্ড এ অবস্থা থাকে।
দাহাল বলেন, ভূমিকম্প শুরুর সঙ্গে সঙ্গে আমরা সবাই বাড়ি থেকে দৌড়ে বেরিয়ে যাই। কেউ জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে বের হয়।

September 18th, 2011

এ মাসের সাক্ষাৎ কার: অধিনায়কত্ব হারানোর পর

গত ৯ জানুয়ারি স্টেডিয়ামের এক পৃষ্ঠাজুড়ে ছিল ‘অধিনায়ক সাকিব’-এর সাক্ষাৎ কার। নিজের অধিনায়কত্ব-দর্শনের সঙ্গে বাংলাদেশ দল নিয়ে তাঁর পরিকল্পনার বিস্তারিত জানিয়েছিলেন সেই সাক্ষাৎ কারে। আট মাস পর আবারও পৃষ্ঠাজুড়ে সাকিবের সাক্ষাৎ কার। এবার অধিনায়কত্ব হারিয়ে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে অধিনায়কত্ব হারানোর পর সাকিব আল হাসানের মুখোমুখি হয়েছিলেন উৎ পল শুভ্র

 অধিনায়কত্ব হারানোর পর আপনার প্রতিক্রিয়া দিয়েই শুরু করি। এক বছরের জন্য দায়িত্ব দিয়ে যেভাবে আট মাসের মাথায় আপনাকে সরিয়ে দেওয়া হলো, এর পরও এটাকে এত সহজভাবে নিতে পারলেন কীভাবে?
সাকিব আল হাসান: আমি সহজেই কোনো কিছুতে বিস্মিত, মর্মাহত কিংবা আনন্দে আত্মহারা হই না। এটা আমার অভ্যাস বলতে পারেন। নেতৃত্ব চলে গেছে ঠিক আছে, না গেলে ভালো হতো, এই আর কি। তবে খারাপ তো একটু লেগেছেই। যেকোনো রক্ত-মাংসের মানুষেরই খারাপ লাগার কথা। তবে সবার আগে আমি একজন প্লেয়ার। আমার কাজ হচ্ছে মাঠে খেলা। দলের জন্য কিছু করার চেষ্টা করা। আর ওটা করার সুযোগ যতক্ষণ পাচ্ছি, আমার কোনো সমস্যা নাই।
 যখন খবরটা শুনলেন, ওই মুহূর্তের অনুভূতিটা কী ছিল?
সাকিব: মাগুরায় থাকলে সাধারণত আমি বাড়ির বাইরে যাই না। কিন্তু সেদিন বাইরে ছিলাম। ফোন আসতে শুরু করলে আমি বুঝে যাই, কোনো খবর আছে হয়তো। এরপর আমি রাবীদ ভাইকে (বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার রাবীদ ইমাম) ফোন দিই। তিনিই খবরটা বলেছেন আমাকে। কী হয়েছে, কী কারণে বাদ, এমন কোনো চিন্তা আমার মাথায় আসেনি। তবে হ্যাঁ, তাৎ ক্ষণিকভাবেই বুঝতে পেরেছিলাম, খবরটা শুনে বাসার সবারই মন খারাপ হবে। কিন্তু আমি এ নিয়ে বেশি মন খারাপ করিনি।
 এটা কীভাবে পারেন, মানে এমন একটা খবর পেয়েও কীভাবে স্বাভাবিক থাকা সম্ভব?
সাকিব: এটা আসলে বলা মুশকিল। ব্যাপারটা আমি নিজেও ঠিক বলে বোঝাতে পারব না। ক্যাপ্টেনসি হারানোর পরও আমি অনুশীলন করেছি। কিন্তু কেউ বলতে পারবে না যে আমার মন খারাপ ছিল কিংবা অনুশীলনে আন্তরিক ছিলাম না। অধিনায়কত্বটা থাকল না—এমন একটা চিন্তা কখনোই আসেনি আমার।
 এর মধ্যে কি আপনি মানসিকভাবে খুব শক্ত—এটা দেখানোর কোনো সচেতন চেষ্টা আছে?
সাকিব: (হাসি) থাকতে পারে। আমি নিশ্চিত নই। দু-একজন ফ্রেন্ড বলেছে, ‘দ্যাখ্, আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন।’ ওরা এমনও বলছে, অধিনায়কত্ব না থাকাটা আমার জন্য ভালো হয়েছে। আমি আরও ভালো পারফর্ম করতে পারব। সেটা হলে তো ভালোই। আর আমিও বিশ্বাস করি, আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন। খারাপ কিছুর পরই ভালো কিছু আসবে, এই বিশ্বাসও আছে আমার। এই কারণেই আমার আর টেনশন হয় না।
 আপনার যে বয়স, যে পারফরম্যান্স—তাতে মনে করা হয়েছিল অধিনায়ক হিসেবে অনেক দিন থাকবেন। আপনার নিজেরও কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিল। ঠিক হোক কিংবা বেঠিক, বোর্ড তো একটা দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে আপনাকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আপনি নেতৃত্ব হারানোর কারণটা কী বলে মনে করেন? আপনি কি মনে করেন, কোথাও ভুল ছিল আপনার?
সাকিব: আমি বলব না যে আমি হান্ড্রেড পারসেন্ট ঠিক ছিলাম। হয়তো কিছু ভুল ছিল। কিছু কিছু ব্যাপার, কোনো কোনো পরিস্থিতি ছিল, যেগুলো আরও ভালোভাবে সামলাতে পারলে আমার জন্য হয়তো ভালো হতো। অনেকের ভুল ধারণাও প্রক্রিয়াটাকে ত্বরান্বিত করেছে। যা শুনেছেন, সেটাকেই সত্যি বলে মেনে নিয়েছেন অনেকে। কাছ থেকে দেখা কিংবা তা যাচাই করার চিন্তা করেননি। আমার মনে হয়েছে, এ ক্ষেত্রে মিডিয়ারও একটা ভূমিকা আছে। যেমন ধরেন, গত বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর আমি কোনো বিষয়ে একটা মজা করেছিলাম, কিন্তু সেটা ছাপা হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারার পর। মানুষ তো ওটাকেই সত্যি মনে করবে। তারা তো আর বুঝবে না যে আমি ওই কথাগুলো (‘লাঞ্চটা খুব ভালো ছিল। তাই ব্যাটসম্যানরা তাড়াতাড়ি আউট হয়ে ফিরে এসেছে’) বলেছিলাম আয়ারল্যান্ড ম্যাচের পর।
কেউ হয়তো বলছে, দলের মধ্যে দলাদলি আছে। এ কথা শোনার পর দূর থেকে দলের পাঁচজনকে আলাদা গল্প করতে দেখে তারা হয়তো ভাববে, এই পাঁচজনই একটা গ্রুপ। কিন্তু পাঁচজন মিলে কোনো বিষয়ে স্বাভাবিক আলাপও হতে পারে—সেটা তাদের মাথায় না-ও আসতে পারে। খোলা মন নিয়ে চিন্তা করা এক রকম আর পূর্ব ধারণা নিয়ে চিন্তা করাটা আরেক রকম। এই ব্যাপারগুলোই আমার বিপক্ষে কাজ করেছে। তবে শুধু প্রেসের দোষ, শুধু আমার দোষ কিংবা বোর্ডের দোষ—কোনো একটার কথা বলব না। সবকিছু মিলিয়েই এটা হয়েছে।
 কিন্তু আপনার সঙ্গে বোর্ডের টুকটাক ঝামেলা লেগেই ছিল। এটা কি যোগাযোগের সমস্যার কারণে?
সাকিব: আমার সঙ্গে বোর্ডের সম্পর্ক খারাপ ছিল বলব না। বোর্ড প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্কটা ভালোই ছিল বলে মনে করি আমি। উনার সঙ্গে আমার সম্পর্ক নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলছে। হ্যাঁ, কোনো বিষয়ে তর্ক হতেই পারে। কিন্তু আমি বলব, বোর্ড প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালোই ছিল। উনি সব সময়ই আমাকে সাপোর্ট দিয়ে গেছেন।
তবে হয়তো অনেকেই অনেক রকম চিন্তা করছেন। যাঁরা চিন্তা করেছেন, তাঁদের সঙ্গে হয়তো আমার কথাই হয়নি। আসল তথ্যটা জানার জন্য তাঁরা কখনোই আমার সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন মনে করেননি। এটাও একটা ব্যাপার ছিল। তাঁদের সঙ্গে কথা হলে অনেক কিছুই ক্লিয়ার হয়ে যেত, কিন্তু কথা হয়নি। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সামনাসামনি বসিয়ে দুই পক্ষেরই কথা শোনা হলে মনে হয় আসল ব্যাপারটা বেরিয়ে আসত। কিন্তু হয় উনারা কথা বলেছেন কিংবা আমি বলেছি…তবে সেটা কারও মাধ্যমে, বেশির ভাগই মিডিয়ার মাধ্যমে।
 আপনার সম্পর্কে অনেকের ধারণা, আপনি উদ্ধত-দুবির্নীত। এটার কারণ কী বলে মনে হয়?
সাকিব: যারা আমার সঙ্গে মিশেছে, আমার সম্পর্কে তারা কী মন্তব্য করে, সেটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। যারা আমার সঙ্গে মিশেছে, আমার বিশ্বাস, তারা আমার সম্পর্কে খুব কমই নেগেটিভ কিছু বলবে। আমি মনে করি, আমার কোনো টিমমেট যদি কখনো বলে, কোচিং স্টাফের কেউ নেগেটিভ কিছু বলে, তাহলে আমি মনে করব হয়তো আমার কোনো ভুল হচ্ছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যার সঙ্গে আমার দেখা-সাক্ষাৎ ই হয়নি, দূর থেকে দেখে সে একটা কমেন্ট করে দিল।
 কারণ যেটাই হোক, দেশের মানুষ যদি ভুল বুঝেও আপনাকে উদ্ধত মনে করে, সেটা কি আপনাকে কষ্ট দেয় না?
সাকিব: এই ব্যাপারগুলো আমাকে খুব বেশি ফেস করতে হয় না। কারণ, সাধারণ মানুষের সঙ্গে তো সেভাবে মেশার সুযোগ হয় না। সমস্যা হয় আমার কাছের মানুষদের। কথার কথা, মাগুরায় আব্বুর কোনো বন্ধু কিংবা পরিচিত কেউ হয়তো মাগুরার ভাষায় বলল, ‘আরে, তোর ছেলে নাকি এই করিছে?’ এটা শুনে আব্বু তো একটু মন খারাপ করবেই। মাগুরা ছোট শহর, সবাই সবাইকে চেনে। এই কথাগুলো সেখানে বেশি হয়। আম্মা হয়তো কোনো বাসায় গেল, কেউ তাকে বলল, ‘তোমার ছেলের নামে এ রকম শুনলাম। পেপারে দেখলাম। এ রকম হয়েছে নাকি?’ আমার সঙ্গে পরিবারের কারও ক্রিকেট নিয়ে বেশি কথা হয় না। তারা তো অত বোঝেও না। উত্তরও ঠিকভাবে দিতে পারে না। সমস্যাটা হয় তাদেরই। অধিনায়কত্ব যাওয়ায় আমি হয়তো পাঁচ পারসেন্ট কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু তারা পেয়েছে শতকরা আশি ভাগ।
 আপনি এত ভালো প্লেয়ার, এত ভালো খেলছেন। সবার আপনাকে মাথায় তুলে রাখার কথা। কিন্তু আপনাকে নিয়ে মানুষের মধ্যে এই যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, এতে খারাপ লাগে না?
সাকিব: মাঝেমধ্যে এই চিন্তাটা আসে। মানুষ আমার সম্পর্কে একটা ভুল জানবে কিংবা ভুল ধারণা করবে, এটা কেন হবে? আমি যেমন, তাদের ধারণাটা যদি সে রকম হয়, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু এখন তো বেশির ভাগই নেগেটিভ নিউজ আসছে। ওর আচরণ ভালো না, এটার অর্থ কী? সবাই তো এটাই ভাববে, ও বেয়াদব-টাইপের। অনেকে বলে, আমি নাকি অ্যারোগ্যান্ট। কিন্তু কী কারণে? ইন্টারভিউ না দিলে আমি অ্যারোগ্যান্ট? কিংবা কারও সঙ্গে কথা না বললেই অ্যারোগ্যান্ট? কে যেন আমাকে বলছিল, আমাদের দেশে অ্যারোগ্যান্টের সংজ্ঞা এক রকম, বাইরের দেশগুলোতে এক রকম। আমাদের দেশে যে কারণে আমাকে অ্যারোগ্যান্ট মনে হয়েছে, অন্য দেশ হলে হয়তো এটা কোনো ব্যাপারই হতো না।
 কখনো কি এমন মনে হয়, জেনারেশন গ্যাপের কারণে আপনার বা তামিমের মতো নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সঙ্গে আমাদের সাংবাদিক বা কর্মকর্তাদের মানিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে?
সাকিব: হতে পারে। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমরা দুজন—দুজন বলব না, আরও হয়তো এক-দুজন আছে—একটু আলাদা-টাইপের। একই সঙ্গে আমরা অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলে খেলায় একটা ব্যাপার যেভাবেই হোক আমাদের মধ্যে এসেছে যে নিজেদের দলের মধ্যে কখনোই তোমরা প্রতিযোগিতা করবে না। তুমি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবে তোমার জায়গায় অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড দলে যে আছে তার সঙ্গে। আমরা যখন এ রকম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছি, তখন আমাদের মনমানসিকতায় পুরো না হলেও কিছু পরিবর্তন তো আসছে। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ায় কী হয়, ইন্টারভিউ নিতে গেলে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়, অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়। ঠিক কিনা? ও সব দেশে এটা নরমাল। কিন্তু আমাদের দেশে এ রকম কালচার গড়ে ওঠেনি।
এখন আপনি চিন্তা করেন, আমার আচরণে সমস্যা কী। হয়তো কেউ বলবে, আমি প্র্যাকটিস বাদ দিয়ে শুটিং করতে গিয়েছিলাম। আমি টানা আড়াই-তিন মাস ক্রিকেট খেললাম। আমার বিশ্রামের দরকার ছিল। ক্রিকেটের বাইরে থাকার দরকার ছিল। আমি ভেবেছিলাম, ইংল্যান্ড থেকেই যেহেতু দলের সঙ্গে পরে যোগ দেওয়ার কথা বলা আছে, আমার আর কথা বলার দরকার নাই। পরে পেপারে যখন অন্য রকম দেখেছি, খবরে শুনেছি, তখন মনে হয়েছে তাহলে হয়তো আমার চিঠিটিঠি দেওয়া লাগবে। তখন আমি তা জমা দিয়েছি।
 এবার জিম্বাবুয়ে সফরের প্রসঙ্গে আসি। আমার চোখে সিরিজটা ছিল ভালো প্রস্তুতি নেওয়া একটা দলের বিপক্ষে অপ্রস্তুত একটা দলের লড়াই। ফলাফল যা হওয়ার তা-ই হয়েছে। আপনি কি মনে করেন, হারের জন্য সাকিব-তামিমকে দায়ী করে ব্যর্থতার আসল কারণটা চাপা দেওয়া হয়েছে?
সাকিব: যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটা তো হয়েছেই। তবে আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত, কোনো সিরিজের আগে যেন আমাদের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি না থাকে। আজও আমার এক টিমমেট আমাকে বলছিল যে জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে আমাদের প্রিপারেশনই হয় নাই। বিকেএসপিতে আমরা অনেক দিন ফিটনেস ট্রেনিং করেছি, কিন্তু স্কিল ট্রেনিং করেছি মাত্র ১৫ দিন। কিন্তু সাড়ে তিন মাস ম্যাচ না খেলার ঘাটতি ১৫ দিন ব্যাটিং-প্র্যাকটিস করে পোষানো যায় না। নেট প্র্যাকটিস আর ম্যাচ এক না, ম্যাচে কেউ ৫০ রান করলে তার কনফিডেন্স অন্য রকম থাকবে।
আমরা আসলে আসল কারণটা বাদ দিয়ে অগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বেশি চিন্তা করি। এখন এই যে সবাই বলে গ্রুপিং-গ্রুপিং। ধোনি একবার একটা ভালো কাজ করেছিল। গোটা দল নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে চলে গিয়েছিল। আমারও মনে হয়েছে, ও রকম যদি পুরো দল নিয়ে সবার সামনে হাজির হওয়া যায়, তাহলে ভালো হয়। দলের কোনো সদস্য যদি বলে যে আমার কাছে এ রকম মনে হচ্ছে…মনে হচ্ছে বললেও মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু বাইরে থেকে, দলের ভেতরে না থেকে কেউ যদি এ রকম বলে, তখন তো মুশকিল।
 বাইরে একটা ধারণা আছে যে আপনি আর তামিম আলাদা, দলের বাকি সবাই আলাদা…
সাকিব: তামিমের সঙ্গে আমি অনূর্ধ্ব-১৫ দল থেকে খেলছি। ২০০৩-এ মনে হয় প্রথম খেলেছি, তাহলে আট বছর। আট বছরের এই সম্পর্কের মতো সম্পর্ক তো দলের আর সবার সঙ্গে হবে না। তার মানে এই নয় যে অন্যদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খারাপ। জিম্বাবুয়ে সফরে তো তামিম, নাসির, সুহাস (শফিউল), রুবেলদের সঙ্গেই সারাক্ষণ থেকেছে। আমাকে আর কতক্ষণ ওর সঙ্গে দেখেছেন, শুধু ডিনারের সময়। তা-ও সব দিন না। আমাদের দলের বেশির ভাগ সদস্যই ইন্ডিয়ান ফুড পছন্দ করে। আমার আর তামিমের আবার নানা রকম খাওয়া পছন্দ। হয়তো ওর ইচ্ছা হলো আমরা আজকে স্টেক খাব, আরেক দিন বারবিকিউ খেলাম, নান রুটি খেলাম। ওই সময়গুলোতেই ওর সঙ্গে থেকেছি। রুমেও আমরা একসঙ্গে বেশি সময় কাটাইনি। তার পরও আমি বুঝলাম না যে এ ধরনের কথা কেন ওঠে।
 একাদশ নির্বাচনের ব্যাপারে আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আপনি পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন। ভবিষ্যতে অধিনায়কের ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার আলোচনাও শোনা যাচ্ছে এ কারণে…
সাকিব: ব্যাপারটিকে আমি এ রকমভাবে দেখি, কাউকে যদি আপনি নেতৃত্বই দেবেন, সেটা তার ওপর ভরসা করেই দেবেন। দেন না আপনি তার ওপর সব কিছু ছেড়ে। ভালো ফলাফল না হলে, প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে, তখন নেতৃত্ব বদলানোর বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কিন্তু নেতৃত্ব দিয়ে যদি আপনি ভরসা করতে না পারেন…যদি ভাবেন ও যদি এমন এমন করে, ও মনে হয় ঠিক করবে না, তাহলে তো অধিনায়কত্ব দেওয়ার কোনো দরকারই নেই। কাউকে যখন দায়িত্ব দেবেন, তার ওপর আস্থা রাখতে হবে।
 আপনি কি সব ব্যাপারে পুরোপুরি পক্ষপাতহীন ছিলেন বলে দাবি করবেন?
সাকিব: আমার মনে হয়, আমি সব সময়ই ফেয়ার ছিলাম। হারারে টেস্টে আশরাফুল ভাইকে খেলাতে চাইনি বলে কথা উঠেছে। আমি এখনো বিশ্বাস করি, ওই টেস্টে জুনায়েদের দরকার ছিল। এখন এ নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। নির্বাচনের নিয়মই তো এটা—চারজনের মধ্যে বিতর্ক হবে, তার পরে ডিসিশন হবে। ডিসিশন হওয়ার পরে কিন্তু আমি কখনোই বলি নাই যে ওটা হলে ভালো হতো।
 আশরাফুলের ব্যাপারটা নিয়ে বেশি কথা হয়েছে, কারণ সবাই জানত আশরাফুল টেস্টে নিশ্চিত। এর আগে মাশরাফির সঙ্গেও আপনার একটা ঝামেলা হয়েছিল বলে অনেকের ধারণা। এ থেকে অনেকে দুয়ে দুয়ে চার মিলিয়ে ধরে নিয়েছে, সিনিয়র প্লেয়ারদের আপনি দলে চান না…
সাকিব: কেন আমি এমন ভাবব? আমি যদি চিন্তা করি, দলে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী কে হতে পারে…বোলিংয়ে যদি চিন্তা করি, তাহলে রাজ ভাই (রাজ্জাক)। উনার সঙ্গে কখনোই আমার কিছু হয়নি।
 দলে জায়গা নিয়ে কারও সঙ্গেই আপনার প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। কিন্তু ওই যে অনেকের ধারণা, আপনি চাননি দলে কোনো সিনিয়র খেলোয়াড় থাকুক….
সাকিব: এটা ক্লিয়ার করার কোনো ভাষা আমার জানা নাই, সত্যি কথা। কারণ আমার মনে এ রকম কোনো চিন্তা থাকলে এই কাজ আমি করতেই পারতাম। আমার ওই ক্ষমতাটা ছিল। সত্যি বলছি, আমি যদি এই সিরিজেও চাইতাম যে এই প্লেয়ারটারে আমি নেব না, কারও ক্ষমতা ছিল না তাকে নেওয়ার।
 তাহলে আপনার ওই ক্ষমতাটা ছিল?
সাকিব: আমি বললাম তো সিরিজে কাউকে যদি না খেলাতে চাইতাম, সেটা পারতাম। এমনকি আমি যদি মনে করতাম আশরাফুল ভাইকে টেস্ট খেলাব না, তাহলে উনার খেলা হতো না। বাকি তিনজন এক দিকে হলেও সেটা সম্ভব ছিল না। আমি না চাইলে উনি শেষ ওয়ানডেতেও খেলতে পারতেন না। শেষ ওয়ানডের আগে মনে হয়েছিল, উইকেটে স্পিন ধরবে। বেশি রান হচ্ছিল না বলে একজন ব্যাটসম্যান খেলাব, না একজন স্পিনার নেব এ নিয়ে দ্বিধান্বিত ছিলাম। আমি যদি ঘাড় তেড়ামি করতাম যে, না, আমার একজন স্পিনারই লাগবে, কোচ তখন কী করত? এমন তো না যে কোচ এক-দুই বছর ধরে আছে, সবাইকে চেনে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তার তো সমস্যা ছিলই। আমি যদি সত্যি চাইতাম যে উনি খেলবেন না, খেলা সম্ভব ছিল না।
 তার মানে সিনিয়র খেলোয়াড়রা দলে থাকলে আপনার একচ্ছত্র রাজত্ব থাকবে না, এ রকম চিন্তাভাবনা আপনার কখনোই ছিল না?
সাকিব: উনারা দলে থাকলে তো আমার আরও ভালো লাগে। কারণ আমি উনাদের সঙ্গে অনেক বেশি ফ্রি। অনেক কথা বলতে পারি। কথার কথা, মাশরাফি ভাইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক কী। আমি যখন প্রথম খেলা শুরু করি, আমি প্রথম ক্যাম্প করেছি নড়াইলে। মাশরাফি ভাই তখন মাত্র জাতীয় দলে খেলা শুরু করেছেন। যে কোচ ছিলেন উনি মাগুরারই, বাপ্পি স্যার। মাশরাফি ভাই যখন এক মাসের ক্যাম্পটা করছিলেন, তখন মাগুরার সে ক্যাম্পেও উনি ছিলেন। তো বাপ্পি স্যারের কাছে উনি প্রতিদিনই আসতেন। আমি উনার সঙ্গে গার্ডার দিয়ে মারামারি খেলতাম। উনিও মারতেন, আমিও মারতাম। অন্যরা মার খেলে চুপ হয়ে যেত, আমি মেরে দৌড় দিতাম। আমার সঙ্গে উনার সম্পর্কটা ছিল এ রকমই। তখন আমি ব্যাটসম্যান ছিলাম, আমার বোলিং দেখে উনিই প্রথম কমেন্ট করেন যে আমি ভালো বোলার। ওই সময় থেকেই উনার সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। মাশরাফি ভাইকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন, উনি আমাকে যত মেরেছেন, আর কাউকে এত মেরেছেন কি না (হাসি)। আমি মনে করি না, এখানে আমার দিক থেকে কোনো সমস্যা আছে। এখন উনার মনে যদি কিছু থাকে সেটা উনার ব্যাপার।
 প্রথম আলোয় মাশরাফি তাঁর কলামে লিখেছেন, ‘সাকিব আমার ছোট ভাইয়ের মতো’…
সাকিব: আমার কাছে এ রকমই মনে হয়েছে। উনার চোখে যদি কখনো আমার কোনো সমস্যা চোখে পড়ে, সিম্পলি আমাকে উনার শাসন করা উচিত। উনার সঙ্গে আমার সম্পর্কটাকে এভাবেই দেখি আমি। আমি যখন হাফ প্যান্ট পরি, তখন থেকেই উনাকে চিনি।
 আপনার বিরুদ্ধে আরেকটা অভিযোগ ছিল, আপনি অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে খুব একটা মেশেন না, কথা বলেন না। এটা কি ঠিক?
সাকিব: সত্যি কথা, আমি অত বেশি কথা বলি না। তবে যখনই মনে হয়েছে, কারও সঙ্গে কথা বলা দরকার, আমি কিন্তু কথা বলেছি। জিম্বাবুয়ে সিরিজেরই একটা উদাহরণ দিই। একজন খুব খারাপ করছে, মন খারাপ করে আছে। আমি ওকে বললাম, তুই কীভাবে এটা চিন্তা করিস যে তোর ড্রপ পড়ার চান্স আছে, তুই তো পাঁচ ম্যাচই খেলবি। তুই তোর মতো খেল। তুই যদি ড্রপ পড়ার চিন্তা করিস, কীভাবে ভালো খেলবি?
 কে সেই সৌভাগ্যবান?
সাকিব: সে যে-ই হোক। যেমন এই ট্যুরেই আমি একজন বোলারকে বলেছি, ‘দ্যাখ, তোরে আমি যখন বল দিই, কেন দিই? তোর ওপর আমার ভরসা আছে বলেই তো দিই।’ কথার কথা, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ওভারে রুবেল যেদিন উইকেট নিয়ে আমাদের জিতিয়ে দিল…আগের ওভারে ও ছয় খেয়েছিল। শেষ ওভারের আগে যখন আমি আর মুশফিক ভাই আলোচনা করছিলাম, তখন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের প্রসঙ্গটা উঠে এল। ওই ম্যাচে ও মার খেয়েছিল। আমি বললাম, যেটা খারাপ সেটা তো হয়েই গেছে। যদি কেউ পারে, তাহলে ও-ই পারবে। আমার যদি কারও ওপর এমন আস্থা থাকে, তাহলে তো তাকে খুব বেশি কিছু বলার দরকার নেই। দু-একটা কথা বললেই হয়ে যায়।
হয়তো একদিন মুশফিক ভাইয়ের মন খারাপ। আমি উনারে বললাম, ‘আপনি বেশি খারাপ কী করবেন, জিরো মারবেন! এতে কি মারা যাবেন? মারা তো যাবেন না। আপনি কী করতে পারেন…চেষ্টা করতে পারেন। এভাবে চিন্তা করলে খেলাটা আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যায়।’ এই কথাটা উনার অনেক কাজে এসেছে বলে আমার ধারণা।
দলের ১১ জন সবাই তো এক রকম না। অনেকে চায়, সব সময় তার সঙ্গে কথা বলি। কেউ আবার মনে করে, আমি কি কিছুই বুঝি না? কিছু না বুঝলে জাতীয় দলে কেন নিয়েছে আমাকে? এত বোঝানোর কী আছে?
 কাকে কখন কী বলতে হবে, কতটা বলতে হবে—এটাও তো খুব গুরুত্বপূর্ণ…
সাকিব: হ্যাঁ, আমার তো সারা দিন কথা বলার দরকার নাই। দুই মিনিট একটা কাজের কথা বললেই যথেষ্ট। আমি হয়তো জিম্বাবুয়ে ট্যুরে সবার সঙ্গে অত বেশি কথা বলিনি। তার পরও আমার মনে হয়, যাকে আমার যা বলার প্রয়োজন ছিল, আমি বলেছি।
 আপনি যখন অধিনায়ক, চান বা না চান সব সময় কোনো না কোনো বিতর্ক ছিলই। এর কারণ কী?
সাকিব: এটা একটা হতাশাজনক ব্যাপার ছিল।
 কারও কারও তো এমনও ধারণা হয়ে গেছে যে, আপনি বিতর্কে থাকতে পছন্দ করেন…
সাকিব: কেন আমি ইচ্ছা করে বিতর্কে জড়াব? আসলে হঠাৎ হঠাৎ এমন সব কথা শোনা যায়, যা শুনে নিজেকে কন্ট্রোল করাই মুশকিল। যদি এমন হতো যে তিলকে তাল বানাচ্ছে কেউ…কিন্তু যেখানে তিলই নাই, সেখানে তাল বানানোটা মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে যায়। ধরেন এই যে দলে গ্রুপিংয়ের কথা বেশ কিছুদিন ধরেই চলে আসছে। কিন্তু কেন এটা বলা হচ্ছে, দলের মধ্যে আমরা ভেবেই পাই না। একসময় শুনি, বিকেএসপি গ্রুপ। কিন্তু এই দলে যারা বিকেএসপি থেকে এসেছে, দেখবেন বিকেএসপি থেকে না আসা খেলোয়াড়দের সঙ্গেই ওদের সবচেয়ে ভালো খাতির। আমার ভালো খাতির কার সঙ্গে, তামিমের সঙ্গে। মুশফিক ভাই বেশির ভাগ সময়ই থাকেন রিয়াদ ভাইয়ের সঙ্গে। রাজ ভাই কার সঙ্গে থাকেন, মাশরাফি ভাই আর রাসেল ভাইয়ের সঙ্গে। তো বিকেএসপি গ্রুপ কীভাবে হলো? আমি তো এটা বুঝলাম না। এখন আবার শুনছি বিকেএসপি গ্রুপ নাই, আমার আর তামিমের গ্রুপ। আমি আর ও যদি বেস্ট ফ্রেন্ড হই, স্বাভাবিকভাবেই আমরা একটু বেশি সময় একসঙ্গে কাটাব। তার মানে তো এই নয় যে দলের অন্যদের নিয়ে আমি খারাপ আলাপ করছি। যারা বিভিন্ন রকম মন্তব্য করেছে, তারা কিন্তু বাইরে বাইরে ছিল। ভেতরে কী হচ্ছে এটা বোঝা দরকার। আর আমার মনে হয়, তামিমের মতো সাপোর্টিভ টিমমেট খুব কমই আছে। যে প্লেয়ারের যে জিনিস লাগে, মোজা থেকে শুরু করে হেলমেট-ব্যাট—সবকিছু ও জোগাড় করে দেয়। খাবার মেন্যু পর্যন্ত ও ঠিক করে দেয়।
 জিম্বাবুয়ে সফরের আগে নির্বাচকদের সঙ্গে আপনার যে ঝামেলাটা হলো, সেটির ব্যাখ্যা কী?
সাকিব: ওটা এমন কিছু ছিল না। আমার মনে হয়েছে, আকরাম ভাই এটা খুবই স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন। এতে উনার সঙ্গে আমার সম্পর্ক আরও ভালো হয়েছে। উনি ব্যাপারটা অন্যভাবে নিলে আমার জন্য কঠিন হয়ে যেত। আমার একটা ভুল হতেই পারে। কিন্তু এমনও হতে পারে, উনিও একটা ভুল করেছেন।
 এটা তো ভুল-শুদ্ধর ব্যাপার ছিল না। আকরাম বলেছেন, আপনাকে দল জানানো হয়েছে, আপনি বলেছেন জানানো হয়নি…দুজনের কথা তো আর ঠিক হতে পারে না…
সাকিব: তিনি আমাকে অবশ্যই জানিয়েছেন। টিম দেওয়ার আগে জানিয়েছেন যে এই টিম তাঁরা সিলেক্ট করছেন। ‘আমরা একে একে নিয়েছি।’ আমি ফোন পেয়ে ঘুম থেকে উঠেছি। বললাম, ঠিক আছে। শুনলাম কেউ কেউ আবার কমেন্ট করেছে, আমি তখন ড্রাংক ছিলাম। যে আমি জীবনে বিয়ারই ধরলাম না, সেই আমিই নাকি ড্রাংক! এ রকম অনেক বিতর্ক হয়েছে। তবে সেটা কতটা সত্য, সেটাই জানা দরকার।
 কিন্তু আপনি তো বলেছেন, নির্বাচকেরা আপনার সঙ্গে কথা বলেননি…
সাকিব: না, না, না, এটা আমি কখনোই বলিনি। আমি বলেছি, আলোচনা হয়নি। পেপারে টিম দেওয়ার আগেই আমাকে জানানো হয়েছে। কিন্তু জানানো আর আলোচনা করা তো এক না। আপনি-আমি বসে একে নিলে ভালো হয়, ওকে কেন দরকার এ রকম একটা আলোচনা করা যায়। কিন্তু উনি বলছেন, আমরা একে একে দলে নিয়েছি। টেস্টের জন্য এ রকম চিন্তা। যখন আমাকে জানানো হলো, তখন ইংল্যান্ডে সকাল আটটা-সাড়ে আটটা হবে। ওখানে টি-টোয়েন্টি হয় সন্ধ্যা সাতটা থেকে। আমি তাই একটু রাত জাগতাম, পরদিন একটু দেরি করে উঠতাম। আমি তখন ঘুমিয়ে ছিলাম। এটাই হলো ব্যাপার।
 জিম্বাবুয়ে সফরে ‘হেড অব ডেলিগেশন’ কখনো আপনার সঙ্গে আলাদাভাবে বসেছেন? কখনো বলেছেন, ‘সাকিব, তোমার এই সমস্যা, এটা ঠিক করো?’
সাকিব: না।
 আপনার ব্যাপারে উনি অসন্তুষ্ট, এমন কোনো আভাসও পাননি?
সাকিব: না। কখনোই তো এমন মনে হয়নি।
 তাহলে উনি যে আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন, এতে বিস্মিত হননি?
সাকিব: বিস্মিত একটা ব্যাপারেই হয়েছি, যখন উনি বলেছেন, আমি আর তামিম নাকি টিম আগে থেকেই করে নিয়ে এসেছি।
 সব মিলিয়ে আপনার যে অভিজ্ঞতাটা হলো, এটা সচরাচর দেখা যায় না। আপনার পারফরম্যান্স ভালো ছিল, দলও একেবারে ভয়াবহ খারাপ কিছু করেনি, অথচ এভাবে অধিনায়কত্ব হারালেন…
সাকিব: কে যেন বলছিল, সম্ভবত আমিই শেষ ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়ে বরখাস্ত হওয়া প্রথম অধিনায়ক। অধিনায়ক নেতৃত্ব ছেড়ে দিতে পারেন, কিন্তু এমনটা দেখা যায় না ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়ার পরও অধিনায়ক বরখাস্ত হয়েছেন।
 আপনাকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে তো বলা হচ্ছে নেতৃত্বে ব্যর্থতার কথা…
সাকিব: অভিযোগ যদি এটা হয়, তাহলে তাদের কাছে হয়তো এমন মনে হয়েছে। আমার কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু কী করলে ভালো হবে, সেটা জানতে পারলে আমার জন্য ভালো। ভবিষ্যতের জন্য ভালো।
 সব মিলিয়ে কী মনে হচ্ছে, আপনাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই সরিয়ে দেওয়াটা কি অন্যায় হয়েছে?
সাকিব: ন্যায়-অন্যায় বলব না। আপনি যদি এখনই চিন্তা করেন, তাহলে অনেক জিনিস অনেক ক্লিয়ার। এখন যদি একই সিদ্ধান্তটা নিতে হয় কারও, তাহলে দুবার চিন্তা করবে। এটা হয়তো সেই সময় করেনি। এটা হলো আমার ধারণা। ঠিক নাও হতে পারে।
 পুরো ঘটনাটাকে যদি এক শব্দে বলতে বলি, কী বলবেন?
সাকিব: দুঃখজনক। তবে এক শব্দে ব্যাপারটা বোঝানো খুব কঠিন।
 নতুন অধিনায়ক যে-ই হোক, তার অধীনে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে খেলবেন?
সাকিব: আমার তো মনে হয়, এখন আমার আবার বাউন্ডারিতে ফিল্ডিং করার সুযোগ আসবে। উড়ে উড়ে ফিল্ডিং করব।

September 17th, 2011

সেই ডাক্তারকেই বিয়ে করলেন মমতাজ

আবারও বিয়ে করলেন জনপ্রিয় গায়িকা ও সরকারদলীয় এমপি মমতাজ। দীর্ঘদিন তারই হাসপাতালের ডাক্তার চঞ্চলের সঙ্গে প্রেমের পর তাদের বিয়ে হয়। পাত্রের পুরো নাম ডা. মো. মঈন হাসান চঞ্চল। তিনি মানিকগঞ্জ সদরের মমতাজ চক্ষু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক। চঞ্চলের বাবা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ও মা ডা. জাহানারা বেগম যশোর শহরে লাল দিঘীর পাড়ে অবস্থিত সালেহা ক্লিনিকের মালিক। চঞ্চলের বাবা-মা’র সম্মতিতে আয়োজন করেই এ বিয়ে হয়েছে। গতকাল মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, বিয়ের পর চঞ্চল-মমতাজ যশোরে একবার এসেছেন। বিয়ের আগেও একবার এসেছিল। তিনি বলেন, ওরা একে অন্যকে পছন্দ করে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছে। আমরাও তা মেনে নিয়েছি। মমতাজের আগের স্বামী মানিকগঞ্জের পৌর মেয়র রমজান আলীর সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ডিভোর্স হয়। আর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের বিয়ে হয়। জানা গেছে, মমতাজের প্রথম স্বামী ছিল বিখ্যাত গায়ক রশিদ বয়াতি এরপর মানিকগঞ্জ পৌরসভা চেয়ারম্যান রমজান আলীর সঙ্গে বিয়ে হয় মমতাজের। তবে চঞ্চলেরও এটা দ্বিতীয় বিয়ে। চঞ্চলের ছোট দুই বোন চৈতি ও চন্দ্রা ঢাকার উত্তরার একটি বেসরকারি মেডিকেলে পড়াশোনা করতেন। গত বছর নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত চৈতির বিয়েতে নিমন্ত্রিত অতিথি হয়ে এসেছিলেন মমতাজ। চঞ্চলের পূর্ব পরিচিত ও দীর্ঘদিনের বান্ধবী মমতাজের সঙ্গে ওই বিয়ের দিনগুলোতে অতিমাত্রায় ঘোরাঘুরি করেছিলেন দুজন। একপর্যায়ে চঞ্চলের বাবা বলেন ‘তোমরা যে দুজন খুব বেশি ঘোরাঘুরি করছো তাতে লোকজন কানাঘুষা করছে। তোমরা বিয়ে করবে কিনা বলো? এভাবেই কথাবার্তার শুরু তারপর বিয়ে হয়। চঞ্চলের মা তার একজন ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীকে জানিয়েছেন ‘এবারের ঈদে যশোরে অনুষ্ঠান করার কথা ছিল। কিন’ ঢাকায় মমতাজের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান থাকায় মমতাজ আসতে পারেননি।’ ১৯৮৯ সালে এসএসসি ও ১৯৯১ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর যশোর ছাড়েন চঞ্চল। বাজিতপুরের বেসকারি জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ থেকে ডাক্তারি পাস করেছেন ১৯৯৬ সালে। অধ্যয়নরত অবস্থায় সহপাঠী ও জহিরুল ইসলামের সম্পর্কের নাতনিকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেন। চঞ্চলের ডা. বাবা এটা মেনে নেননি প্রথমে তবে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় আবারও বিয়ে হয়। ওই বিয়েতে আমন্ত্রিত একজন অতিথি মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন প্রথম বিয়ের কথা। কিছুদিন পর লন্ডনে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য গেলে সেখানে কিছুদিন থাকার পর বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। চঞ্চল ফিরে আসেন দেশে। এরপর কয়েক বছর ধরে চঞ্চলের বাবা-মা নতুন একটা মেয়ে খুঁজছিলেন ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার জন্য। এমনই একজন মানবজমিনকে জানিয়েছেন ক’দিন আগে আমি গিয়েছিলাম চঞ্চলের মায়ের কাছে একটা পাত্রীর সন্ধান নিয়ে। তখনই ডা. জাহানারা জানান মমতাজের সঙ্গে তার ছেলের বিয়ের কথা।
ওদিকে কলকাতা প্রতিনিধি জানান, পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুরের আদালতে মমতাজের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের মামলা চলছে। ভারতে গান গাওয়ার জন্য তিনি জনৈক শক্তিশঙ্কর বাগচীর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। তার কাছ থেকে কয়েক দফায় ২ লাখ রুপিও নিয়েছিলেন। কিন’ শর্ত অনুযায়ী তিনি কোন অনুষ্ঠানে অংশ না নেয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন শক্তিশঙ্কর বাগচী। তবে নিম্ন আদালত থেকেই ২০১০ সালে মমতাজ জামিনের আবেদন করেন। এই সময় তার সঙ্গে বহরমপুর গিয়েছিলেন ডা. মঈন। তিনিই মমতাজের হয়ে আইনজীবী নিয়োগ করেছিলেন এবং সমস্ত বিষয়টি তদারক করেছিলেন। এরপর কলকাতা হাইকোর্ট তার জামিন খারিজ করে তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়া হয়। সমপ্রতি কলকাতা হাইকোর্ট থেকে এক নির্দেশে মমতাজের নামে ভারতে আসার মালটিপল ভিসা ইস্যু করা হলে তা বাতিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রককে। একমাত্র মামলায় হাজিরা দেয়ার শর্তেই তার নতুন করে ভিসা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

September 16th, 2011

চলছে জাতীয় দলে জায়গা করে নেয়ার লড়াই:::বিসিবি কাপ

বিসিবি কাপে এখন শুধু নিজেকে প্রমাণ করার মঞ্চই বাকি রইল। দলীয় সাফল্য ব্যক্তিগত সাফল্যের সঙ্গে এতদিন জড়িয়ে ছিল। শুক্রবার বাংলাদেশ ‘এ’ দল এবং একাডেমী দলের মধ্যকার ম্যাচটি টাই হওয়ায় দলীয় সাফল্যে অনেকটাই ভাটা পড়ল। জাতীয় দল ফাইনালে উঠে গেল। ‘এ’ দলও নিশ্চিত। এখন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য দেখানোর পালা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরম্নদ্ধে সিরিজের দলে কিভাবে দলে স্থান করে নেয়া যায় নৈপুণ্য দেখিয়ে সেই কাজটি করার চেষ্টাই থাকবে।
শুক্রবার ম্যাচটিতে একাডেমী দল জয় পেলে তিন দলেরই ফাইনালে ওঠা ঝুলন্ত অবস্থায় থাকত। টুর্নামেন্ট আরও জমে যেত। কিন্তু বৃষ্টিতে খেলা না হওয়ায় তা আর হলো না। ম্যাচটিতে ‘এ’ দল জিতলেও দলীয় সাফল্যের মঞ্চে প্রতিযোগিতায় ঘাটতি পড়ত। জাতীয় দল ও ‘এ’ দল ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত হয়ে যেত। তখন বাকি যা থাকত তা কেবল জাতীয় দল ও ‘এ’ দলের মধ্যকার ফাইনালে জেতার লড়াই। বাকি সব হয়ে যেত আনুষ্ঠানিকতা।
‘এ’ দল এবং একাডেমী দলের মধ্যকার ম্যাচটি টাই হওয়ায় দুই দলই এক পয়েন্ট করে পেয়েছে। আর তাই পয়েন্টের হিসেবে জাতীয় দলের ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত হয়ে গেছে। দুই ম্যাচে জাতীয় দল যেখানে ৪ পয়েন্ট পেয়েছে, সেখানে ‘এ’ দল তিন ম্যাচে ৩ এবং একাডেমী দল সমসংখ্যক ম্যাচে ১ পয়েন্ট পেয়েছে। এখন বাকি আছে জাতীয় দলের দুই ম্যাচ। আর ‘এ’ দল এবং একাডেমী দলের একটি করে ম্যাচ। ধরে নেয়া যাক জাতীয় দলকে চমকে দিয়ে দুই দলই হাতে থাকা একটি করে ম্যাচ জিতে নিল। তাতে জাতীয় দলের ৪, ‘এ’ দলের ৫ এবং একাডেমী দলের হবে ৩ পয়েন্ট। অথর্াৎ একাডেমী দল বাদের তালিকাতেই থাকবে। আবার উল্টোটা ধরলে যদি দুই ম্যাচেই জাতীয় দল জিতে তাহলেও এখন যে পয়েন্ট আছে তাতে জাতীয় দল এবং ‘এ’ দলই ২১ সেপ্টেম্বর ফাইনালে খেলবে। এর বিপরীত ঘটলে অর্থাৎ যদি ‘এ’ দল হারে আর একাডেমী দল পরবতর্ী ম্যাচে জিতে তাহলে এই দুই দলের সমান পয়েন্ট হয়ে যাবে। কিন্তু ডাবল লীগ পদ্ধতির এই টুর্নামেন্টে শুরম্নতেই ‘এ’ দল হারিয়েছে একাডেমিকে। তাতে এগিয়ে থাকবে ‘এ’ দলই। তখন ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ‘এ’ দলেরই উজ্জ্বল। আর এই উজ্জ্বল সম্ভাবনাই বিসিবি কাপকে শুধু ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দেখানোর মঞ্চে পরিণত করে দিয়েছে। তাতে কিছুটা ৰতি হয়েছে ‘এ’ দলেরই। যদি শুক্রবার ম্যাচটি হতো তাহলে নিজেদের ব্যাটিং-বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরম্নদ্ধে সিরিজে চূড়ানত্ম দলে সুযোগ পাওয়ার ভিত আরও মজবুত করা যেত। একটি ম্যাচ হাত থেকে ফসকে গেল। বৃষ্টি ব্যাঘাত ঘটাল। যেটির আশঙ্কা শুরম্ন থেকেই ছিল। ভোর থেকে বৃষ্টি পড়ায় একটি বলও শেষপর্যনত্ম মাঠে গড়াতে পারল না।
দুপুরে ম্যাচ রেফারি সেলিম শাহেদ ঘোষণা করলেন ম্যাচ আর হচ্ছে না। এরপরই আৰেপ ঝরল ‘এ’ দলের ক্রিকেটারদের কণ্ঠে। আগের ম্যাচে ৪৫ রান করা জুনায়েদ সিদ্দিকী ও সেঞ্চুরিয়ান নাঈম ইসলাম যেমন একই সুরে বললেন, ‘ম্যাচটি হলে আমাদের জন্য অনেক ভাল হতো। রান করার একটি সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল। বিসিবি কাপের পারফরমেন্সই জাতীয় দলে ফেরার বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। তবে বৃষ্টির ওপর কারও হাত নেই!’
আফসোসের সুর জুনায়েদ ও নাঈমের কণ্ঠে। একাডেমী দলকে আর পাওয়া যাবে না। পরের ম্যাচে খেলতে হবে জাতীয় দলের বিরম্নদ্ধে। সেই ম্যাচে ভাল রান করতে না পারলে জাতীয় দলে ফেরার সুযোগটিই হয়ত হাতছাড়া হবে।
একাডেমী দলের কয়েক ক্রিকেটারের জন্যও বিসিবি কাপের মঞ্চটি ভবিষ্যত বার্তা দেয়ার ছিল। দুই, একজন ক্রিকেটার তা করতেও পেরেছেন। কিন্তু ‘বড়দের’ সঙ্গে যে একেবারেই কুলিয়ে ওঠা গেল না। গর্জন ছিল। কিন্তু তা মাঠেই প্রমাণ হলো না। এমন কেন হলো? এই ব্যাখ্যা দিচ্ছেন একাডেমী দলের কোচ রস টার্নার, ‘আমরা প্রথম ম্যাচে ‘এ’ দলের সঙ্গে লড়াই হবে আশা করেছিলাম। ‘এ’ দলকে ২০৭ রানের বেশি সংগ্রহও করতে দেয়নি দলের বোলাররা। কিন্তু সেই ম্যাচে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ব্যাটিংয়ে কিছু জায়গায় কাজ করা দরকার। সেগুলো নিয়ে ছেলেদের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে। ছেলেদের বোঝানোর চেষ্টাও করছি। জাতীয় দলের সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব হয়নি। আশা করছি পরের ম্যাচে জাতীয় দলের বিরম্নদ্ধে ইতিবাচক ব্যাটিং দেখানো যাবে।’
টার্নার যেন বুঝেই গেছেন এখন শুধু নিজেদের কিছুটা প্রমাণ করার স্থানটুকুই রয়েছে। আর তাই সেই লৰ্যেই এগিয়ে যাচ্ছেন। শেষ ম্যাচটিতে হয়ত ক্রিকেটারদের ভুলত্রম্নটি আরও চোখে পড়বে তার এবং সেগুলো শোধরানোর কাজেই নামবেন।
জাতীয় দল ও ‘এ’ দলের হিসেব একটু ভিন্ন। আরও ম্যাচ রয়েছে। আর এই দুই দল থেকেই যেহেতু বেশিরভাগ ক্রিকেটার জাতীয় দলের জন্য বিবেচিত হবেন, তাই হাতে থাকা সুযোগগুলোই কড়ায় গ-ায় কাজে লাগাতে হবে। দলীয় সাফল্য নিয়ে এখন স্বাভাবিকভাবেই কারও মাথাব্যথা নেই। একাডেমী দল রেশে থাকা পর্যনত্ম একটু ভাবনা কাজ করছিল। ছোটদের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে না পারলে অপমানবোধেরও ভয় ছিল। এবং এই কারণে জাতীয় দল ও ‘এ’ দলও অনত্মত ফাইনাল নিশ্চিত করে রাখতে চাইছিল। এখন সেই হিসেব বলতে গেলে শেষ। তাই ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই কেবল বাকি।
ওপেনিংয়ে তামিম নিয়মিত। তবে ইমরম্নল কায়েসকে নিয়ে একটু সংশয় ডানা বেঁধেছে। আগের ম্যাচে শাহরিয়ার নাফীস উদ্বোধনী জুটিতে তামিমের সঙ্গে চমক দেখানোয় এখন আবার শাহরিয়ারকে ওপেনিংয়ে নিয়ে আসার রব উঠছে। এরপরও একটি সিরিজে খারাপ করাতেই ইমরম্নল কাটা পড়বেন এমনটি নয়। তাই শোনা যাচ্ছে।
তিন নম্বরে শাহরিয়ারের সঙ্গে জুনায়েদের লড়াই চলছিল। তাতে আবার আশরাফুল আগের ম্যাচে ঝলক দেখিয়ে সব হিসেব পাল্টে দিয়েছেন। মুশফিকুর, শাকিব, রিয়াদ, রাজ্জাক, শফিউল, রম্নবেলরা থাকছেন। জিম্বাবুইয়ের বিরম্নদ্ধে দুই নবাগত শুভগত ও নাসিরের স্থানও চূড়ানত্মই বলা চলে। নাঈম ইসলাম আবারও সুযোগ করে নিতে পারেন। সোহরাওয়ার্দী শুভর স্থান টালমাটাল। বোলিংয়ের নতুন নিয়মে পেসারদের আধিক্য বাড়বে। আর সেই স্থানটিতে আলাউদ্দিন বাবুকে যুক্ত করা হতে পারে। নয়ত আবারও সেই শাহাদাত হোসেন এবং নাজমুল হোসেনের দিকেই ঝুঁকতে হবে। হাতে থাকা বাকি ম্যাচগুলোতেই বোঝা যাবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দিয়ে কে কে দলে স্থান করে নিতে পারছেন।

September 16th, 2011

মায়ের মৃত্যুর আড়াই মাস পর শিশুর জন্ম!

মায়ের মৃত্যু হয়েছে প্রায় আড়াই মাস আগে। কিন্তু এই দীর্ঘসময় পর সেই মৃত মায়ের গর্ভ থেকেই জন্ম নিয়ে পৃথিবীর আলো দেখেছে এক নবজাতক। বিরল এই ঘটনাটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের। তাওম হাসপাতাল নামের একটি চিকিৎসা কেন্দ্রের একদল ডাক্তার মাত্র কয়েকদিন আগে সার্জারির মাধ্যমে ওই নবজাতককে তার মায়ের গর্ভ থেকে জীবিত অবস্থায় বের করেন। ভ্রুণ থেকে শুরু করে তার বয়স এখন ৭ মাসে। বর্তমানে তাকে হাসপাতালে ইনকিউবেটরে ডাক্তারদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গালফ নিউজ এই খবর দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ওই সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, মস্তিস্কের সমস্যাজনিত কারণে অন্তঃসত্ত্বা ওই মহিলার মৃত্যু হয়। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডাক্তাররা দেখেন তার জরায়ুতে থাকা ভ্রুণটি জীবিত। তখন তারা তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখেন। মাতৃগর্ভস্থ ভ্রুণটিকে জীবিত রাখতে তারা নিয়মিত রক্ত এবং অঙিজেন সরবরাহ করেন। ভ্রুণটির বয়স ৭ মাস পূর্ণ হওয়ার পর ডাক্তাররা সার্জারীর মাধ্যমে তাকে মায়ের পেট থেকে বের করে আনেন। এ ধরণের ঘটনা সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই প্রথম এমনকি বিশ্বেও এ ধরণের ঘটনা বিরল। এটিকে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তির উন্নতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। নবজাতকের মাকে গত সপ্তাহে দাফন করা হয়।

September 15th, 2011

ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী: তোপের মুখে চার সচিব

‘প্রকল্প তৈরিতে দূরদর্শী হতে হবে, সঠিক পরীৰা ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স নয়, দুর্নীতিগ্রস্ত কাউকে পদ্মা সেতুর কাজ দেয়া হবে না ॥ আমাদের সম্পদ সীমিত_ চাইলেই সবকিছু পাবেন না’

চার সচিবের ওপর চরম অসনত্মোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মন্ত্রিপরিষদ সভাকৰে সচিব কমিটির সভায় তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখন থেকে নিয়মিত মনিটরিং এবং প্রয়োজনে অব্যাহতভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সচিবদের কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, প্রতিটি সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন থাকে। তা বাস্তবায়নে আপনাদের কাজ করতে হবে। মানুষকে সেবা দিতে হবে। মাঠপর্যায়ে এই সেবা পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে মানুষকে ঢাকামুখী না করে গ্রামে ধরে রাখতে হবে। মাঠপর্যায়ে সকল সুবিধা বাসত্মবায়ন করে মানুষকে গ্রামে ধরে রাখতে হবে। পাশাপাশি সচিবদের বিদেশ সফরের ৰেত্রে সংযত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিবসভা দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয়ে চলে টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা। সভাটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এমএ আজিজ। এতে মোট ৪৮ সচিব অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ২৪ সচিব বক্তব্য রাখেন। সভায় জানানো হয়, আগের তুলনায় কাজের গতি বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শুরুতে সন্তোষ প্রকাশ করলেও চার সচিবের কার্যক্রম নিয়ে তিনি অসনত্মোষ প্রকাশ করেন। এর মধ্যে বেহাল সড়কের কারণে সড়ক বিভাগের সচিব মোজাম্মেল হকের ওপর ৰোভ প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় সড়ক বিভাগের সচিব বলেন, রাস্তাঘাট সংস্কারের পরিকল্পনা তাদের ছিল। কিন্তু সময় মতো বরাদ্দ না পাওয়ায় তা করা সম্ভব হয়নি। তার এ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী চরম অসনত্মোষ প্রকাশ করে বলেন, দেশে অসীম সম্পদ নেই যে চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব কিছু পেয়ে যাবেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প নির্মাণ করে চাহিদা তুলে ধরতে হবে। সচিব হিসেবে দুরদর্শিতার পরিচয় দিতে হবে। কোনটা জরম্নরী আর কোনটা কম জরম্নরী তা বুঝতে হবে। সেভাবে প্রকল্প তৈরি করে আগে থেকে জমা দিতে হবে। এ সময় সচিব বলেন, প্রকৌশলীদের দিয়ে ঠিকমতো কাজ করানো সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে সচিব বলেন, ‘স্যার আমি দায় নিচ্ছি। সকল অপরাধ আমার।’
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র সচিব মিডিয়া মোকাবেলা করতে পারেন না। মনমোহন সিংয়ের সফরের সময় সরকারের অনেক সাফল্য থাকলেও তারা মিডিয়াকে ঠিকমতো গাইড করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, মিডিয়াকে এড়িয়ে যাবেন না। সেখানেও ভালমন্দ সবই আছে। ভালদের খুঁজে তাদের মাধ্যমে সরকারের সাফল্য তুলে ধরম্নন। বাণিজ্য সচিবকে বলেন, চুক্তিতে বাংলাদেশের ৪৬ পণ্য ভারতে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। এর সুফল কী হবে তা প্রচার করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনে মিডিয়ার সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ রেখেও ভালকাজের প্রচার করা যায়।
সচিবদের বিদেশ সফরের ৰেত্রে তিনি বলেন, বছরে ৫ বারের বেশি বিদেশ যাবেন না। আর কেউ ডাকলেই চলে যাবেন না। দেশের স্বার্থে যে সফরে না গেল নয় এমন সফরে যাবেন। বাকিগুলো এড়িয়ে যাবেন। তিনি বলেন, আমি কাউকে ফিরিয়ে দেই না। তবে এক সচিবের বিদেশ সফরের অনুমতি না দিলে তিন মাস পরে আবারও যাওয়ার ফাইল পাঠান। একবার কোন কারণে ফেরত দিলে সে ফাইল আর পাঠাবেন না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী শহরের ওপর মানুষের চাপ দিন দিন বাড়ছে। মানুষকে ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়া বন্ধ করতে হবে। এ লৰ্যে গ্রামে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মানুষকে ধরে রাখতে হবে। এ লৰ্যে দেশের প্রত্যনত্ম অঞ্চলে ছোট শিল্প গড়ে তুলতে হবে। এৰেত্রে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে। ছোট ছোট শিল্পকে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা দিতে হবে। এৰেত্রে প্রবাসী বাঙালীদের দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে হবে। ইংল্যান্ডে যে বাঙালীরা থাকেন তাঁদের অনেকে এখন আর হোটেল ব্যবসা করেন না। তাদের দেশে ফুড প্রসেসিংয়ের ব্যবসায়ে উৎসাহিত করা যায়। এমনকি দেশে নিজের জমিতে সবজি চাষ করে প্রসেসিং করে তা বিদেশে রফতানি করতে পারে।
গ্রামে হাউজিং গড়ে তুলতে হবে। অপরিকল্পিতভাবে কৃষি জমিতে বাড়িঘর তৈরি রোধ করতে হবে। দেশের জমিকে তিনটি জোনে ভাগ করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। জোন তিনটি হলো আবাসন, শিল্প এবং কৃষি জোন। যে সকল ইউনিয়নে কমপেস্নঙ্ নেই সে এলাকায় তা নির্মাণ করে সব কিছু তার পাশাপাশি নিয়ে আসতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস দমনসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন সনত্মোষজনক। দেশে ইতোমধ্যে কিছু বড় অনুষ্ঠান সাফল্যের সঙ্গে করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মতো বড় আসর বাংলাদেশে আমরা নির্বিঘ্নে করতে পেরেছি। ভারতের কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, মনমোহন সিং বাংলাদেশ সফর করেছেন। আমাদের সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকা- বিশ্বে বিভিন্ন দেশে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোবাইল কোর্টও ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। রমজানের আগে বাজারে দ্রব্যমূল্য লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এতে রমজানে দ্রব্যের কৃত্রিম সংকট এড়ানো সম্ভব হয়েছে। সারাবছরই যাতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এ লৰ্যে প্রয়োজনে অব্যাহতভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে। তিনি বলেন, আমার কাছে খবর আছে, দ্রব্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পাইকারি বিক্রেতারা ফোন করে মাল পাঠাতে নিষেধ করে। এ খবরগুলো নিয়ে তাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সচিবদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের ৰেত্রে আপনাদের কঠোর হতে হবে। সঠিকভাবে পরীৰার মাধ্যমে দৰদের লাইসেন্স প্রদান করতে হবে। একই সঙ্গে সকলে যেন ট্রাফিক আইন মেনে চলে সে লৰ্যে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এ সম্পর্কে প্রচার অব্যাহত রাখতে হবে।
সভায়, প্রাথমিক শিৰায় ঝরে পড়া রোধে স্কুল ফিডিং বাসত্মবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এতে প্রাথমিক পর্যায়ে ঝরে পড়া কমে আসবে। এই সঙ্গে স্নাতক শ্রেণী পর্যনত্ম সকল পাঠক্রম অবৈতনিক করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মাঠপর্যায়ের চাহিদা বিবেচনা করে প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে এবং তা বাসত্মবায়নে ব্যবস্থা নিতে হবে। কোথাও কোন সমস্যা থাকলে তা দূর করতে হবে এবং মনিটরিংয়ের দায়িত্ব শুধু মাঠ প্রশাসনের ওপর ছেড়ে না দিয়ে কেন্দ্রে বসে তা মনিটরিং করতে হবে।
পদ্মা সেতুর নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেছেন, পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। এতে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরম্নদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ দুর্নীতিগ্রসত্ম অথবা অভিযুক্ত কোন প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে পদ্মা সেতুর কাজ করা হবে না।
সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসনের সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব এম আবদুল আজিজ ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ।
পদ্মা সেতু প্রকল্প তদারকির জন্য প্রাক নির্বাচনী তালিকায় থাকা কানাডীয় প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের বিরম্নদ্ধে বিশ্ব ব্যাংকের অনুরোধে কানাডার পুলিশ ‘দুর্নীতি’র তদনত্ম শুরম্নর পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরম্ন হয়। তবে ওই প্রতিষ্ঠানটির বিরম্নদ্ধে কোন্ ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর দাতা সংস্থাগুলোর অর্থায়ন ঝুলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে কোন প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে সন্দেহ থাকলে তাকে বাদ দিয়ে দ্রম্নত পদ্মা সেতুর কাজ শুরম্ন করতে বিশ্ব ব্যাংককে প্রসত্মাব দিয়েছে সরকার। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বিশ্ব ব্যাংক ১২০ কোটি, এডিবি ৬১ কোটি, জাইকা ৪০ কোটি ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ১৪ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ২৪ সচিবের বক্তব্য শোনেন ও দিকনির্দেশনা দেন। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত ৫৩ সচিবের মধ্যে ৪৮ জন উপস্থিত ছিলেন। অসুস্থ থাকায় একজন ও রাষ্ট্রীয় কাজে বিদেশে থাকায় অন্য চারজন উপস্থিত থাকতে পারেননি।
পদ্মা সেতু নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উলেস্নখ করে আবদুল আজিজ বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রীও কথা বলেছেন। সচিবসভায় প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এ পর্যনত্ম পাঁচটি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এর মধ্যে চারটিই আগের সরকারের সময়ের। বর্তমানের অভিযোগ মাত্র একটি। তারপরও এ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। কারণ অভিযুক্ত বা দুর্নীতিগ্রসত্ম কোন প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে এ সেতুর কাজ করানো হবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সারাদেশে সড়ক মেরামতের কাজ দ্রম্নত করতেও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান। তিনি বলেন, বেহাল সড়ক এবং এগুলো সংস্কারে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সড়ক বিভাগের সচিবের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চান। সড়ক বিভাগের সচিব সময়মতো পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও রাসত্মাঘাট সংস্কার করতে না পারার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী তার জবাবের প্রেক্ষিতে বলেন, আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। তাই অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে প্রথম থেকেই আমাদের কাজ করা উচিত ছিল। ভবিষ্যতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেই জনসম্পৃক্ত এসব বিষয়ে কাজ করতে হবে।
সচিবরাও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের দৈনন্দিন নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে পস্নানিংয়ের সমস্যাকে তারা বড় করে তুলে ধরেছেন। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দীর্ঘদিন পর এবার সরকার পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা করতে যাচ্ছে। এছাড়া তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ে অগ্রগতিতে প্রধানমন্ত্রী সনত্মোষ প্রকাশ করেছেন। এ উন্নয়ন প্রকল্প এবার ৯২ শতাংশ বাসত্মবায়িত হয়েছে। গত বছর এর অগ্রগতি ছিল ৯১ শতাংশ। তার আগের বছর ছিল ৮৬ শতাংশ। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে উন্নয়ন প্রকল্পে খরচ করা হয় ২৩ হাজার কোটি টাকা। ২০১১-১২ অর্থবছরে খরচ করা হয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। সকল মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কার্যক্রমের কারণে এই কর্মতৎপরতা বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই কর্মতৎপতাকে আরও বাড়িয়ে নেয়ার আহ্বান জানান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ৫ আগস্ট পর্যনত্ম ১২৪টি মন্ত্রিপরিষদ সভায় মোট ৮০১টি সিদ্ধানত্মের মধ্যে ৩৭টি মন্ত্রণালয় ও ৫৫ বিভাগ মোট ৬৯৭ বাসত্মবায়ন হয়েছে। এই বাসত্মবায়নের হার ৮৭ শতাংশ। অতীতে কখনও এত বেশি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

September 14th, 2011

বিএনপির প্রতি ওবায়দুল কাদের:::::: এত পাগলা ঈমান যাদের, তাদের নিয়ে ঘর করছেন কেন?

বিএনপিকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আপনারা সুদৃঢ় থাকলে বাইরের কেউ ঘর ভাঙবে কীভাবে? এত পাগলা ঈমান যাদের, তাদের নিয়ে ঘর করছেন কেন?’
আজ বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগ অন্য দল ভাঙা বা ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় করায়’ শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাতে ওই আলোচনার আয়োজন করে সাধনা সংসদ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি।
বিএনপির আন্দোলনের হুমকির প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি যে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত নয়, তা তারা তাদের গত এক বছরের কর্মসূচিতে হাতাহাতি মারামারি দিয়ে প্রমাণ করেছে। তারা বলছে, ভারতকে করিডর দেওয়া হয়েছে, গোপন করা চুক্তি হয়েছে। বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘যদি এমনই হয়, তাহলে পর্যাপ্ত প্রমাণ নিয়ে আসুন।’ বিএনপি কোনো ইস্যু না পেয়ে ‘অ্যান্টি ইন্ডিয়া কার্ড’ খেলার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।
বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার দায়িত্বশীলতা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভারতবিরোধী রাজনীতির পালে যাতে কেউ হাওয়া দিতে না পারে, সে জন্য ভারতকেও সতর্ক থাকতে তিনি আহ্বান জানান।

September 13th, 2011

৯/১১ আতঙ্ক তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে মধ্য আকাশে তুলকালাম!

যাত্রীবাহী বিমান তখন মাঝ আকাশে। এক যাত্রী শৌচাগারে ঢুকেছেন তো ঢুকেছেনই। বেরোনোর নাম নেই। ৯/১১’র দশম বার্ষিকীতে আমেরিকায় আতঙ্ক তৈরির জন্য এইটুকু্ই যথেষ্ট ছিল। দুইটি বিমানে কয়েক যাত্রীর সন্দেহজনক আচরণ ঘাম চুটিয়ে দিয়েছে প্রশাসনের। শেষে চারটি এফ-১৬-এর পাহারায় দুটি বিমানই নির্বিঘ্নে নামে। সন্দেহভাজন যাত্রীদের আটক করা হয় এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু দুটি ঘটনাই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কতটা আতঙ্কিত হয়ে রয়েছে মার্কিন প্রশাসন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইনের।
সোমবার লসএ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউইয়র্ক যাচ্ছিল আমেরিকান এয়ারলাইনের ‘ফ্লাইট-৩৪’। মার্কিন পুলিশ জানায়, বিমানের এক যাত্রী অনেক সময় ধরে শৌচাগারে রয়েছেন বলে নজরে পড়ে এক বিমানকর্মীর। তিনি বিষয়টি পাইলটকে জানান। পাইলট কোন ঝুঁকি না নিয়ে খবর দেন পরিবহন নিরাপত্তা বিভাগে। এরপর সন্ত্রস্ত মার্কিন প্রশাসন একেবারে যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে দেয় সাহায্যের জন্য। নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে অবতরণ পর্যন্ত বিমানটি ঘিরে রাখে দুটি এফ-১৬। বিমান সংস্থার তরফে জানানো হয়, নিছক প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতেই বেশি সময় ধরে বিমানের শৌচাগারে ছিলেন যাত্রীটি।
এদিকে ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৬২৩ যাচ্ছিল ডেনভার থেকে ডেট্রয়েট। ওই বিমানের এক যাত্রী প্রায় বিশ মিনিট শৌচাগারে আছেন বলে চোখে পড়ে দুই বিমানকমর্ীর। এরপর আরও দুই যাত্রী দীর্ঘক্ষণ ছিলেন শৌচাগারে। ব্যস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সেখানেও। ওই বিমানকে সাহায্যের জন্য আরও দুটি যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে দেয় মার্কিন কর্তৃপক্ষ। বিমান অবতরণের পর তিন সন্দেহভাজন যাত্রীকে আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদেরও ছেড়ে দেয়া হয়। এক মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বিমানে অনেক যাত্রী থাকায় কোন ঝুঁকি তো আর নেয়া যায় না।

September 13th, 2011

বঙ্গভবনের বিলাসী জীবন ছাড়তে চায়নি ইয়াজউদ্দিনের পরিবার

আড়াই লাখ মার্কিন তারবার্তা ফাঁস করেছে উইকিলিকস। মার্কিন কূটনীতিকদের ভাষ্যে এসব তারবার্তায় বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশের রাজনীতি ও ক্ষমতার অন্দরমহলের খবর

২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার আগে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে সরিয়ে অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়ার চিন্তাভাবনা করেছিল চারদলীয় জোট সরকার। সরে যেতে আপত্তি ছিল না ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদেরও। কিন্তু আপত্তি জানিয়েছিল তাঁর পরিবার। তারা বঙ্গভবনের বিলাসী জীবন ত্যাগ করতে রাজি ছিল না।
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস থেকে ওই সময় ওয়াশিংটনে পাঠানো তারবার্তায় এ কথা বলা হয়। ২০০৬ সালের ২১ জুন পাঠানো ওই তারবার্তা গত ৩০ আগস্ট ফাঁস করে দিয়েছে সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস।
তারবার্তায় বলা হয়, ১৯ জুন এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তাঁর অন্যতম দুই নীতিনির্ধারক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনের শারীরিক অবস্থা এবং বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে তাঁকে সরিয়ে কাউকে রাষ্ট্রপতি করা যায় কি না, সে বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ওই বছরের ২৮ অক্টোবর সরকারের মেয়াদ শেষ হলে এরপর দায়িত্ব নেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। কাজেই এর আগেই রাষ্ট্রপতির বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে সরকার।
তারবার্তায় উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী দূতাবাসের এক কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন খালেদা জিয়া। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী জানান, রাষ্ট্রপতিকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন এবং এ বিষয়ে তিনি তাঁদের, বিশেষ করে খন্দকার মোশাররফের পরামর্শ চেয়েছেন। ২০০২ সালে ইয়াজউদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়ে খন্দকার মোশাররফই সুপারিশ করেছিলেন।
ইয়াজউদ্দিনকে সরিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই বলে মোশাররফ প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন বলে জানান সালাউদ্দিন কাদের। কেননা, ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের শারীরিক অবস্থা বেশ খারাপ এবং জানুয়ারির নির্ধারিত নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন বলে মনে হয় না। সে ক্ষেত্রে স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারকে রাষ্ট্রপতি করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন খালেদা জিয়া এবং অন্য কাউকে খুঁজে বের করার কথা বলেছেন তিনি।
তারবার্তায় বলা হয়, সিঙ্গাপুরে বাইপাস হার্ট সার্জারির পর রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন ২০ জুন দেশে ফিরেছেন। তবে তিনি বঙ্গভবনে না উঠে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আছেন। তাঁর স্ত্রী ও ছেলে চেয়েছিলেন, তিনি বঙ্গভবনেই উঠুন, তাহলে আর রাষ্ট্রপতি পদ হারানোর ভয় থাকবে না। কিন্তু রাষ্ট্রপতি তাঁর চিকি ৎ সকদের পরামর্শ মেনে নিয়ে হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছেন। অবশ্য সামরিক হাসপাতালের প্রধান রাষ্ট্রপতির জন্য বঙ্গভবনেই একটি নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোখলেছুর রহমান চৌধুরী জানান, রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়তে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ অনিচ্ছুক বলে মনে হচ্ছে না। কিন্তু তাঁর পরিবার এর বিরোধিতা করছে। রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়লেও তিনি মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। কিন্তু তাঁর পরিবারের সদস্যরা বঙ্গভবনের বিলাসী জীবন ছাড়তে অনিচ্ছুক। তিনিও স্বীকার করেছেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা চলছে এবং তিনি মনে করেন, নতুন কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হলে তা ক্ষমতাসীন দলের জন্যই ভালো হবে। কেননা, আগামী নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, নতুন সরকারের পুরো পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন নতুন রাষ্ট্রপতি।
মার্কিন দূতাবাসের তারবার্তায় বলা হয়, গত ২৩ মে রাষ্ট্রপতি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার এক দিন আগে বঙ্গভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষা ৎ করেন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ তুলেছেন, খালেদা জিয়া নিজে রাষ্ট্রপতি পদে বসতে চাইছেন, এ জন্য ইয়াজউদ্দিনকে অসুস্থ সাজানো হয়েছে।
সবশেষে দূতাবাস মন্তব্য করে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার তিক্ততার এই পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে চারদলীয় জোট ক্ষমতা ছাড়ার আগমুহূর্তে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দেবে। ২০০২ সালে বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণের পর যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, আবার ফিরে আসবে সেই পরিস্থিতি। বিরোধীরা অভিযোগ তুলবে, নির্বাচনের পর যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, আগামী পাঁচ বছর বঙ্গভবনে নিজেদের পছন্দের কাউকে রাখতেই বিএনপি ইয়াজউদ্দিনকে সরিয়ে দিয়েছে।

September 12th, 2011

বদলে যাচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ॥ দীর্ঘ ১৭ বছর পর

০ পাঠ্যসূচী হচ্ছে আধুনিক, যুগোপযোগী
০ পাল্টাচ্ছে সিলেবাস, বই
০ জানুয়ারিতেই ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত নতুন পাঠ্যক্রমে আসছে মাধ্যমিক স্তরের তিন বিষয়ের সাতটি বই
০ পর্যায়ক্রমে বদলাবে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিকের সকল পাঠ্যক্রম

বিভাষ বাড়ৈ ॥ যুগের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দীর্ঘ ১৭ বছর পর পরিবর্তন হচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম। আধুনিক ও যুগোপযোগী হচ্ছে পাঠ্যসূচী। পাল্টে যাচ্ছে সিলেবাস ও বই। প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন করা হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ের পাঠ্যক্রম। প্রথম ধাপে আগামী জানুয়ারিতেই ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত নতুন পাঠ্যক্রমে আসছে মাধ্যমিক স্তরের তিনটি বিষয়ের সাতটি বই। কেবল তাই নয়, নতুন বই লেখার কাজও শেষ। আগামী ১ জানুয়ারিই শিক্ষার্থীরা হাতে পাবে নতুন শিক্ষাক্রমের বাংলা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং বর্তমানের সমাজ বিজ্ঞানের পরিবর্তে পাবে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়। তবে কেবল ষষ্ঠ শ্রেণীর জন্য হবে ৫০ নম্বরের নতুন বিষয় আইসিটি। এৰেত্রে ২০০ নম্বরের বাংলা বিষয় কমিয়ে ১৫০ নম্বরে নির্ধারণ করা হবে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সমাজবিজ্ঞানের পরিবর্তে হবে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়।
নতুন শিৰাক্রম ও বইয়ের লেখকদের অভিমত, প্রচলিত ‘মুখস্থ বিদ্যার’ পরিবর্তে লেখা, পড়া, দেখা, শোনা ও বলাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো শিক্ষাক্রম। যেখানে শিক্ষার্থীরা শ্রেণী কৰেই মহান ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালী ইতিহাসের প্রামাণ্যচিত্র দেখতে ও জানতে পারবে। বইয়ের বোঝা কমানো এবং পাঠদানকে আনন্দদায়ক করার বিশেষ লক্ষ নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে নতুন শিক্ষাক্রম। পাঠ্যক্রমের এই পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, নতুন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পাঠ্যবই রচনা করে আগামী বছরই ছাত্রছাত্রীদের হাতে পেঁৗছানো হবে। নতুন শিৰানীতির আলোকে পর্যায়ক্রমে নতুন পাঠ্যক্রম হবে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যনত্ম। পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ১৯৯৫ সালে প্রণীত চলমান পাঠ্যক্রম বহু আগেই তার প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলেছে। আর দেরি করা যাবে না। আমাদের শিৰার লৰ্য হবে জ্ঞান ও দক্ষতাসম্পন্ন পরিপূর্ণ মানুষ তৈরি করা। জানা গেছে, আগামী ২০১৩ সালে ‘পরিবেশ পরিচিত’ ও ‘কর্মমুখী শিক্ষা’ নামে আরও দুটি নতুন বিষয় চালু করা হবে। এর আগে ১৯৭৬ এবং ১৯৯৫ সালে দু’বার শিৰাক্রম পরিমার্জন করা হয়েছিল। মাধ্যমিকে বর্তমানে যে পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পাঠ্যবই চলছে তা ১৯৯৫ সালে প্রণীত। সরকার ইতোমধ্যে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের সিদ্ধানত্ম নিয়েছে। মূলত একে আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে সরকার ধাপে ধাপে এ সিদ্ধানত্ম বাসত্মবায়ন করবে। প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রথমেই মাধ্যমিক সত্মরের ষষ্ট থেকে অষ্টম শ্রেণীর শিৰাক্রম পরিবর্তন করা হচ্ছে। এ লৰ্যে দেশের বিশিষ্ট শিৰাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গত মার্চে তিনটি বিষয়ের জন্য আলাদা তিনটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে সরকার। বাংলা বিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দিন পাটোয়ারী এবং আইসিটি বিষয় কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন অধ্যাপক ড. সুরাইয়া পারভীন। কমিটির সদস্যরা মাত্র একমাসের মধ্যে খসড়া শিৰাক্রম প্রস্তুত করে শিৰামন্ত্রীর কাছে হসত্মানত্মর করেন। এরপর আলোচনা করে চূড়ানত্ম করে জাতীয় বিশেষজ্ঞ কমিটি। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক তৎপরতা, কর্মমুখী ও সৃজনশীল দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ আছে নতুন শিৰাক্রমে। শিৰার নির্দিষ্ট সত্মর পেরিয়ে সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জনের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। নৈতিক মূল্যবোধ, দেশাত্মবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ওপর গুরম্নত্ব দেয়া হয়েছে। বার্ষিক ছুটির দিন কমিয়ে শিক্ষা ঘণ্টা বাড়ানো, জাতীয় দিবসসমূহের ছুটির দিনে শিৰা প্রতিষ্ঠানে উপযোগী অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করার পরামর্শ আছে নতুন এ শিক্ষাক্রমে।
নতুন পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যবই সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এনসিটিবির এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে, দেশের ৪৭ শতাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ৫২ শতাংশ কলেজের শিক্ষক মনে করেন তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ ও বিশ্বায়নের বর্তমান চ্যালেঞ্জের সঙ্গে আমাদের প্রচলিত শিক্ষাক্রম সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এদিকে কেবল চলতি বছরের পরিবর্তনই নয়, জাতীয় শিৰানীতির আলোকে আগামী বছরই ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যনত্ম বাকি শিৰাক্রমকেও ঢেলে সাজানো হচ্ছে। মাধ্যমিকের ৭৫ এবং উচ্চ মাধ্যমিক সত্মরের চারটি বিষয়ের শিক্ষাক্রমে আনা হবে পরিবর্তন। লৰ্য বাসত্মবায়নে আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই শিক্ষাক্রমকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তার আলোকে বই লেখার কাজ শেষ করা হবে। পরবর্তী অর্থাৎ ২০১৩ সালের এক জানুয়ারি ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যনত্ম দেশের সকল শিৰার্থী হাতে পাবে নতুন শিৰাক্রমের পাঠ্যবই। ইতোমধ্যেই জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুসত্মক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এসইএসডিপি) এ সিদ্ধানত্ম নিয়ে তাদের কাজ শুরম্ন করেছে। নতুন এ শিক্ষাক্রমে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যনত্ম সাধারণ, মাদ্রাসা, ইংরেজী মাধ্যমসহ সকল ধারার জন্য ১৫০ নম্বরের বাংলা, ১৫০ নম্বরের ইংরেজী, ১০০ নম্বরের গণিত, ১০০ নম্বরের বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ১০০ নম্বরের বিজ্ঞান, ৫০ নম্বরের পরিবেশ পরিচিতি, ৫০ নম্বরের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অর্থাৎ মোট ৭০০ নম্বরের শিক্ষাক্রম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাদের নিজস্ব ধারার ৩০০/৪০০ নম্বরের শিক্ষাক্রম থাকবে। এ শিক্ষাক্রমে নবম ও দশম শ্রেণীর মাধ্যমিক সত্মরে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থাকবে। প্রতি শাখার জন্য ২০০ নম্বরের বাংলা, ২০০ নম্বরের ইংরেজী, ১০০ নম্বরের গণিত, ১০০ নম্বরের ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, ৫০ নম্বরের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ১০০ নম্বরের শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং খেলাধুলা অর্থাৎ মোট ৭৫০ নম্বরের শিক্ষাক্রম বাধ্যতামূলক থাকবে। তাদের নিজস্ব ধারার ৪০০ নম্বরের শিক্ষাক্রম থাকবে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষাক্রমে থাকবে ২০০ নম্বরের বাংলা, ২০০ নম্বরের ইংরেজী, ৫০ নম্বরের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ১০০ নম্বরের শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং খেলাধুলা বিষয়।
নতুন বিষয়ের ইঙ্গিত দিয়ে শিৰামন্ত্রী বলেছেন, শিৰাক্রমে স্থান পাবে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। তিনি জানান, ইতোমধ্যেই আইটি, ছাত্রীদের উত্ত্যক্তকরণ, জলবায়ুর পরিবর্তন, জঙ্গীবাদ, শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা, বয়ঃসন্ধি, মানবাধিকার, তথ্য অধিকার, খেলাধুলাসহ কিছু বিষয় জাতির সামনে গুরম্নত্বপূর্ণর্ হিসেবে দেখা দিয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিৰা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নোমান উর রশিদ শিৰাক্রমের আধুনিকায়ন জরম্নরী মনত্মব্য করে জনকণ্ঠকে বলেন, নতুন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পাঠ্যবই রচনার কাজ দ্রম্নত করেছে সরকার। আগামী বছরই ছাত্রছাত্রীদের হাতে নতুন বই পেঁৗছে যাবে। তিনি বলেন, আমাদের চলমান পাঠ্যক্রম তার প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলেছে। পৃথিবী অনেক দূর এগিয়ে গেছে। যুগের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শিৰাক্রম প্রণয়ন খুব জরম্নরী ছিল। শিৰামন্ত্রী বলেন, আমরা জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে আমাদের শিক্ষাক্রম ঢেলে সাজাচ্ছি। এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। আগামী বছরের পরিবর্তন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ২০১২ সালের মার্চের মধ্যে অবশ্যই এ নতুন শিক্ষাক্রমের বই লিখতে হবে। আমাদের বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। এ শিক্ষার সামাজিক গ্রহণযোগ্য সৃষ্টি করতে হবে। সরকার তাই নতুন শিক্ষাক্রমে ৬ষ্ঠ শ্রেণী হতে কর্ম ও অগ্রসরণমুখী বিষয় যুক্ত করতে যাচ্ছে।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোসত্মফা কামালউদ্দিন বলেছেন, মাধ্যমিকের বিষয় তিনটির বই লেখার কাজ শেষ। প্রথমে শিৰাক্রম কি কি বিষয় অনত্মর্ভুক্ত করা যায় তা নির্ধারণ করা হয়েছে। চূড়ানত্ম হওয়ার পরই লেখকরা তিনটি বিষয়ের সকল বিষয় লিখেছেন। আগামী বছরই নতুন বিষয়গুলো পাবে মাধ্যমিক সত্মরের শিৰার্থীরা। কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ ড. সিদ্দিকুর রহমান শিৰাক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, আমাদের প্রচলিত শিৰাক্রম মুখস্থ ও গাইডনির্ভর। আবার তা শিৰার্থীদের কাছে আনন্দদায়ক নয়। এবার সেই অবস্থার পরিবর্তন হবে। প্রচলিত শিৰাক্রমের মুখস্থ নির্ভরতার পরিবর্তে লেখা, পড়া, দেখা, শোনা ও বলাকে সমান গুরম্নত্ব দিয়ে সাজানো হয়েছে শিৰাক্রম। যেখানে বই পড়ে মুখস্থ করার সঙ্গে সঙ্গে শিৰার্থীরা স্কুলেই মহান ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালীর বিভিন্ন অর্জনের প্রামাণ্যচিত্র দেখতে পারবে। এবং সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সহায়তায় বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় শিৰা উপকরণ সরবরাহ করবে। নতুন পাঠ্যক্রম ও বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দিন পাটোয়ারী জানিয়েছেন, মুখস্থনির্ভর প্রচলিত শিৰাক্রমের পরিবর্তে লেখা, পড়া, দেখা, শোনা ও বলাকে সমান গুরম্নত্ব দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো শিৰাক্রম। যেখানে শিৰার্থীরা শ্রেণী কৰেই মহান ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালী ইতিহাসের প্রামাণ্যচিত্র দেখতে পারবে এবং জানতে পারবে। বইয়ের বোঝা কমানো এবং পাঠদানকে আনন্দদায়ক করার বিশেষ লক্ষ নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যবই।