০ স্মরণকালের সর্বোচ্চ ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্প
০ স্থায়িত্ব দুই মিনিট
০ পঞ্চগড়ে আহত ১০
০ সারাদেশে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত
০ বগুড়ায় ৭তলা ভবন হেলে পড়েছে অন্য ভবনের ওপর
০ ফাটল বহু ভবনে
স্টাফ রিপোর্টার ॥ শক্তিশালী ভূমিকম্পে কম্পিত বাংলাদেশ। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে দেশবাসী। বাসাবাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে আতঙ্কিত মানুষ। রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তীব্র এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর পূর্ব ভারতের সিকিম। এটি ঢাকার আবহাওয়া অধিদফতর থেকে প্রায় ৪৯৫ কিলোমিটার দূরে। উৎপত্তিস্থলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬.৮ যার স্থায়িত্ব ছিল প্রায় ২ মিনিট। পঞ্চগড়, দিনাজপুর, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অর্ধ শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পঞ্চগড়ে তাড়াহুড়া করে ভবন থেকে নামতে গিয়ে আহত হয়েছে ১০ জন। অনেক ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। দিনাজপুরে অর্ধশতাধিক পুরনো ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ইট, পলেস্তার খসে পড়ে। হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। বগুড়ার শেরপুরে একটি সাত তলা ভবন হেলে পড়েছে আরেকটি ভবনের ওপর। তবে কেউ হতাহত হয়নি। এছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলে পুকুরের পানিতে বড় বড় ঢেউ ওঠে। খবর আবহাওয়া অফিস, স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতা।
রবিবার ঠিক সন্ধ্যায় ভূমিকম্পে প্রচ- ঝাঁকুনিতে কেঁপে ওঠে সারাদেশ। দিনাজপুর সীমানত্মের নিকটবর্তী ভারতের সিকিমের উৎসস্থল থেকে সিভিয়ার ক্যাটাগরির (ইউএসজিএসের ৭ ক্যাটাগরি) ভূমিকম্পে টেকনাফ পর্যন্ত কেঁপে ওঠায় ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। ভূমিকম্পের উৎস স্থলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮ ম্যাগনেচুয়েট। রাজধানী ঢাকা, উত্তরবঙ্গ এবং খুলনা বিভাগীয় শহরে ভূমিকম্প তীব্রভাবে অনুভূত হয়। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামেও হালকাভাবে ঝাঁকুনি লাগে। দেশের কোথাও কোথাও এক মিনিটের বেশি সময় ধরে অনুভূত ভূমিকম্পে সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জানা যায়নি।
ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিএস) ওয়েবসাইট সূত্রেপ্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী_ সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ভূমিকম্প আঘাত হানে। ঢাকা থেকে ৪৯৫ কিলোমিটার দূরে ভারতের সিকিমের ভূগর্ভের ২০ দশমিক ৭ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পের উৎস স্থল ছিল। এ উৎস স্থল সিকিমের গ্যাংটক থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম, শিলিগুড়ি থেকে ১১৯ কিলোমিটার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমে, কাঠমা-ু থেকে ২৭২ কিলোমিটার ও কলকাতা থেকে ৫৭২ কিলোমিটার দূরে ছিল। আফটার শক হিসেবে আধঘণ্টা পর ৭টা ১০ মিনিটে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার আরও একদফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এটির বিসত্মৃতি বাংলাদেশের রংপুর-দিনাজপুর পর্যনত্ম ছিল। ইউএসজিএস সূত্র জানায়, সিকিমের এ ফল্ট লাইনে ১৯৮০ সালের ১৯ নবেম্বর সর্বশেষ কম্পন সৃষ্টি হয়েছিল। সে সময়ে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১ ম্যাগনেচুয়েট। ভূগর্ভের ১৭ কিলোমিটার গভীরে উৎস স্থলে ভূমিকম্প আঘাত হানে। এবার আরও ৩ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। এর আগে ১৯৩৪ সালে ইন্দো-নেপাল ভূমিকম্প হিসেবে পরিচিত এখান থেকে ৮ মাত্রার প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। ঐ ভূমিকম্পে প্রাণহানি ঘটেছিল প্রায় সাড়ে দশ হাজার মানুষের। দীর্ঘদিন পর এ উৎস থেকে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় সিকিমের ভূগর্ভের ঐ অংশ অথবা আশপাশের অন্যান্য উৎসগুলোও আফটার শক হিসেবে ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে বলে ভূতত্ত্ববিদরা মনে করছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক এবং ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণা কর্মকা-ে জড়িত ড. শহীদুল ইসলাম জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, সিকিমে ইদানীং ছোট ছোট মাত্রার অনেক ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। এ উৎস স্থল ইদানীং সক্রিয় হয়ে ওঠায় আমাদের জন্য অত্যনত্ম ঝুঁকিপূর্ণ। রবিবার সন্ধ্যায় অনুভূত ভূমিকম্পটি ইন্ডিয়ান-ইউরেশিয়ান পোর্ট বরাবর। পোর্টের বাউন্ডারিতে এ ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হলে বিশাল এলাকাজুড়ে প্রভাব পড়তে পারে। তার কাছে থাকা তথ্যানুযায়ী_ শুধু রংপুর-দিনাজপুর নয়, ঢাকাতেও ঝাঁকুনি ছিল উলেস্নখ করার মতো। এ ধরনের ঝাঁকুনিতে অনেক নড়বড়ে স্থাপনা ক্ষতিগ্রসত্ম হয়। তিনি জানান, ভূমিকম্পের জন্য বাংলাদেশে উৎস স্থল থাকতে হবে এমন নয়। পেটের কারণে প্রচ- ঝাঁকুনিতে নরম স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রসত্ম হয়। তাই এ ব্যাপারে আমাদের সতর্ক হওয়ার সময় পেরিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
ভূ-কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে রাজধানীবাসী। কেঁপে ওঠে অধিকাংশ ভবন। আতঙ্কে বাসাবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে মানুষ। রাসত্মার দু’পাশের ফুটপাথ ও খোলা জায়গায় লোকজনের ভিড় জমে। তারা তাকিয়ে থাকে ভবনগুলোর দিকে। সন্ধ্যার সময় অনুভূত ভূমিকম্পে বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। ৬শ’ কিলোমিটারের বেশি দূরের কারণে কম্পনের মাত্রা কমে আসে। তারপরও প্রায় এক মিনিটের কাছাকাছি পর্যনত্ম সাধারণ মানুষ ভূমিকম্প টের পায়। এরপরই চারদিকে ফোনে যোগাযোগ শুরম্ন হয়ে যায়। তবে এখানকার অনুভূতির মাত্রা বেশি না থাকায় লোকজন আশ্বসত্ম হয়। ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায়ও ভূমিকম্প স্থানীয় লোকজন টের পেয়েছেন বলে জানা যায়। তবে কঙ্বাজারে উলেস্নখযোগ্য কোন প্রভাব ছিল না।
নীলফামারী ॥ ভারতের সিকিম উৎপত্তি স্থল হওয়ায় এর সংলগ্ন নীলফামারী জেলায় এর গতির ধরন ছিল সব থেকে বেশি। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র সূত্র মতে, তিসত্মা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ ছিল ৫২ দশমিক ২৭ সেন্টিমিটার। সেটি ভূকম্পনের পরপরই আরও বেড়ে যায় ৩ সেন্টিমিটার। এক সূত্র মতে, নদীর উজানে ভারতের দোমহনীতে তিসত্মার পানি বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার উপরে চলে গেছে। নদীতে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় ঢেউ। শহরের কাপড় ব্যবসায়ী সোনা মিয়া (৫৫) বলেন, তার এই জন্মে এমন ভূকম্পন কখনও দেখেননি। সৃষ্টিকর্তার অসীম রহমতে আমরা বেঁচে আছি। জেলার ডিমলা, ডোমার, জলঢাকা, কিশোরীগঞ্জ, সৈয়দপুর উপজেলা শহর ও গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে খবর পাওয়া গেছে বড় ধরনের কোন ৰয়ৰতি না হলেও পুকুর ও নদীর পানি উপচে উপড়ে চলে আসে। মোবাইলের নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে পড়ে। শহরের কলেজপাড়া ও সৈয়দপুর উপজেলা সদরে নিউ বাবুপাড়া এলাকায় কিছু পাকা বাড়িঘরের দেয়াল ও মেঝে ফেটে গেছে। একটি ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে।
দিনাজপুর ॥ প্রায় ২ মিনিট ধরে ভূ-কম্পন চলাকালে হাজার হাজার মানুষ বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে রাসত্মায় ও খোলা স্থানে বেরিয়ে আসে। এ সময় ভূমিকম্পের ভয়ে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ভূ-কম্পে শহরের প্রায় অর্ধশতাধিক পুরনো বাড়ির ইট, পলেসত্মার খসে পড়ে এবং অনেক নতুন ভবনে ফাটল দেখা দেয়। সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটে ভূ-কম্পন শুরম্ন হলে শহরের বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অফিস আদালতসহ বিভিন্ন স্থাপনা থরথর করে কেঁপে ওঠে। এ সময় আতঙ্কিত লোকজন বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে রাসত্মায় ও খোলা স্থানে বেরিয়ে আসে। আবার অনেকে নিরাপদ স্থানে যেতে ছোটাছুটি শুরম্ন করে। প্রায় ২ মিনিটব্যাপী ভূ-কম্পন চলাকালে গোটা শহরের মানুষজন চরম আতঙ্কগ্রসত্ম হয়ে পড়েন। এ সময় অনেক মহিলা ও শিশু কান্না শুরম্ন করেন। মসজিদে আজান ও মন্দিরে প্রার্থনা শুরম্ন হয়ে যায়। যে যেখানে ছিলেন সকলেই সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ কামনা করে প্রার্থনা করতে থাকেন। এমন ভয়ঙ্কর দৃশ্য দিনাজপুরে ইতোপূর্বে আর কখনও দেখা যায়নি বলে অনেকে অভিমত ব্যক্ত করেন। শহরের সর্দারপাড়া এলাকার ৮০ বছরের বৃদ্ধ আজিজার রহমান জানান, জীবদ্দশায় আমি এত দীর্ঘস্থায়ী ভূমিকম্প দেখিনি। দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসে যোগাযোগ করা হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আশিকুর রহমান জানান, দিনাজপুরে ভূমিকম্প নিরূপণ মেশিন নেই। তাই রিখটার স্কেলে কত মাত্রায় ভূ-কম্প হয়েছে তা তিনি বলতে পারবেন না। তবে ভূমিকম্প প্রায় ২ মিনিট স্থায়ী ছিল বলে তিনি ধারণা দেন। দিনাজপুর জেল
পঞ্চগড় ॥ পঞ্চগড়ে সবের্াচ্চ মাত্রার দুই মিনিট স্থায়ী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সন্ধ্যা ৬-৪১ মিনিট থেকে ৬-৪৩ মিনিট স্থায়ী এই ভূমিকম্পে জেলার কোথাও কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া না গেলেও বাড়ি থেকে হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার সময় ১০ নারী ও শিশুর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে আতঙ্কিত লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে ফাঁকা মাঠে কিংবা রাসত্মায় বের হয়ে আত্মরক্ষা করেন। ভূমিকম্পের সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিদু্যত সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আলাল জানান, তিনি বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে বাজারে যাওয়ার পথে হঠাৎ হাত কেঁেপ মোটরসাইকেলসহ তিনি মাটিতে পড়ে যান। কাজলদিঘী গ্রামের কৃষক ইসমাইল জানান, কাজ শেষে সন্ধ্যায় কাজলদিঘী পুকুরে গোসল করছিলেন। এ সময় হঠাৎ পুকুরের পানি ঢেউ খেলতে শুরম্ন করে তাকে ধাক্কা দেয়। ভয়ে তাড়াহুড়া করে পাড়ে উঠে মাটিতে বসে পড়েন এবং দোয়া-কালাম পড়া শুরম্ন করেন। ভূমিকম্প চলার সময় বিভিন্নস্থানে মসজিদে মাগরিবের নামাজরত মুসলস্নীরাও ভয়ে বসে পড়েন। আজানও দেয়া হয় বলে খবর পাওয়া গেছে। পঞ্চগড় শহরের পূর্ব জালাসী গ্রামের সরকারী চাকুরে খন্দকার সারওয়ারী রহমান জানান, তিনি তাঁর একমাত্র ছেলেকে ড্রয়িং রম্নমে পড়াচ্ছিলেন। হঠাৎ ৬-৪১ মিনিটে প্রচ- ঝাঁকুনি দিয়ে পুরো ঘর কাঁপতে শুরম্ন করে। ভয়ে তিনি ছেলেকে নিয়ে ঘর থেকে রাসত্মায় বের হয়ে যান। তিনি বলেন, এ যাবতকালের সর্বোচ্চ মাত্রার এ ভূমিকম্পে তিনি শুধু নন আশপাশের অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। একই গ্রামের ক্লাস থ্রির ছাত্র দীপ্র জানায়, ড্রয়িং রম্নমের শোকেসে রাখা জিনিসপত্র পড়ে যায়। জালাসী গ্রামের আবু তাহের জানায়, তীব্র ভূমিকম্পে তিনি মাটিতে পড়ে যান।
বগুড়া ॥ কাঁপুনির সঙ্গে সঙ্গে শহরের প্রতিটি এলাকার লোকজন ছোটাছুটি করে রাসত্মায় নেমে আসেন। শহরের শেরপুর রোডের কাছে সাততলা ভবন তৌহিত পস্নাজা পাশের আরেকটি বহুতল ভবনে হেলে পড়েছে। এই ভবনের ওপর স্থাপিত মোবাইল ফোন কোম্পানির টাওয়ার হেলে পড়ে। ভবনের লোকজন অন্যত্র সরে যান। সামনের বিদু্যতের পোল হেলে তার ছিঁড়ে পড়লে বিদু্যত বন্ধ হয়ে যায়। মালতিনগরে একটি মাটির ভবনের ৰতি হয়েছে। এদিকে সোনাতলায় বাসা থেকে দ্রম্নত নামতে গিয়ে তিনজন আহত হয়েছেন। কম্পনের তীব্রতায় কাহালুর লক্ষ্মীপুর গ্রামে মাটির দেয়াল ধসে পড়ে। বাড়িঘর ও দোকান থেকে লোকজন দৌড়ে বেরিয়ে আসেন। মোবাইল ফোনের যোগাযোগেও বিঘ্ন ঘটে।
মানিকগঞ্জে আতঙ্কিত লোকজন ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসে। হিন্দু সমপ্রদায়ের লোকজন শঙ্খ বাজিয়ে উলুধ্বনি দেয়। মেহেরপুরে বাড়িঘর কাঁপতে থাকে। আতঙ্কে লোকজন রাসত্মায় বেরিয়ে পড়ে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শহরের অনেকে জানায়, কম্পনে তাদের স্ট্যান্ড করে রাখা মোটরসাইকেল পড়ে যায়।
গফরগাঁওয়ে ভয় ও আতঙ্কে বাসাবাড়ির হাজার হাজার মানুষ রাসত্মায় নেমে আসে এবং দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকে।
নারায়ণগঞ্জে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। বহুতল ভবন থেকে মাঠে বা রাসত্মায় বেরিয়ে পড়ে লোকজন।
বরিশালে রাস্তা, খোলা জায়গায় লোকজন বেরিয়ে পড়ে। পুকুরের পানিতে বড় বড় ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়।
রাজশাহীতে নগরজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ওই সময় মোবাইলের নেটওয়ার্কে বিঘ্ন ঘটে। ৰয়ৰতির খবর পাওয়া যায়নি। নেত্রকোনায় মৃদু কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটি প্রায় ৫০ সেকেন্ড স্থায়ী হয়। নাটোরে প্রায় এক মিনিট স্থায়ী কম্পনে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। বৃষ্টি থাকায় লোকজন রাসত্মায় বের হতে পারেনি। তারা বারান্দায় আশ্রয় নেয়। ময়মনসিংহে মোবাইল নেটওয়ার্ক ছিল না। বাসাবাড়ি ছেড়ে রাসত্মায় নেমে পড়ে মানুষ। পুকুরের পানিতে ঢেউ ওঠে। যশোরে সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। দুই দফায় এই কম্পন প্রায় ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী হয়। এই ভূ-কম্পনের ফলে বড় বড় ভবন কেঁপে ওঠে। এ সময় বাসাবাড়ি থেকে মানুষ রাসত্মায় নেমে পড়ে। পুকুরের পানিতে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পর এত বড় ভূমিকম্প হওয়ায় মানুষজন আতঙ্কগ্রসত্ম হয়ে পড়ে। তবে কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
জয়পুরহাটে মসজিদে আজান দিতে থাকেন ইমাম, হিন্দু মহিলারা উলুধ্বনি দিয়ে ঈশ্বরের নাম বলতে থাকেন। পার্বতীপুরে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ছেড়ে লোকজন চিৎকারে রাসত্মায় বেরিয়ে পড়ে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ভূকম্পন চলাকালে খনির অভ্যনত্মরে কিছুক্ষণের জন্য বিদু্যত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কর্মরত খনি শ্রমিকরা অন্ধকারে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে। মুন্সীগঞ্জে পর পর দু’দফা এই কম্পনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। মানুষ ভবন থেকে মাঠে বা রাসত্মায় বেরিয়ে পড়েন। গৌরনদীতে ভূমিকম্পে হঠাৎ করে দোকানের সাজানো মালামাল কাঁপতে কাঁপতে ঝরঝর করে নিচে পড়তে শুরম্ন করে। কুয়াকাটায় ভূমিকম্পের পর সাগর উপকূলে সুনামি আতঙ্কে বিরাজ করে। কিন্তু সাগর গতকাল বেশ শানত্ম ছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিদার আলম জানান, এ ধরনের কোন আতঙ্ক নেই। কোন ধরনের সতর্ক সঙ্কেত না থাকলেও জেলে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শেরপুরে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন উলুধ্বনি দেয়। নবীনগরে ভূমিকম্পে কোন ৰয়ৰতি না হলেও তীব্র ঝাঁকুনিতে মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করেছে। তাৎৰণিক কোন ৰয়ৰতির খবর পাওয়া যায়নি। কুষ্টিয়ায় ভূমিকম্পের সময় মসজিদে মসজিদে আজান দেয়া হয়েছে। জেলার সব উপজেলায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে কোন ৰয়ৰতির খবর পাওয়া যায়নি। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আতঙ্কিত মানুষ ভূমিকম্পের সময় সৃষ্টিকর্তার সাহায্য প্রার্থনায় আজান এবং উলুধ্বনি দিয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রানত্মে আত্মীয়স্বজনের খবর না নিতে পেরে আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এছাড়া সিরাজগঞ্জ, নড়াইল, পাবনা, ঝিনাইদহ, মির্জাপুর, সিলেট, কুমিলস্না, সানত্মাহার, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, ভৈরবসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলাতেই ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সিকিম ॥ এএফপি জানায়, ভারতের পার্বত্য রাজ্য সিকিমে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কম্পন অনুভূত হয় বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানে। সিকিমের চীফ সেক্রেটারি কর্মা গিয়াতসো সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন যে ভূমিকম্পে রাজ্যে এক শিশু মারা গেছে। তবে তাৎৰণিকভাবে এ খবর নিশ্চিত করা যায়নি। গ্যাটকের অধিবাসীরা জানিয়েছেন, কিছু ভবনে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল গ্যাংটকের ৬০ কিমি উত্তর-পশ্চিমে। গিয়াতসো বলেছেন, এটা বড় ধরনের ভূমিকম্প। আমরা সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছি।
ভূমিকম্পে গ্যাংটকের টেলিযোগাযোগ কিছু সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং দ্রম্নত মোবাইল নেটওয়ার্ক ভেঙ্গে পড়ে। গ্যাংটকের অধিবাসী সি কে দাহাল সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ভূমিকম্পের সঙ্গে সঙ্গে বিদু্যত ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় গোটা শহর অন্ধকারে তালিয়ে যায় এবং ২০ সেকেন্ড এ অবস্থা থাকে।
দাহাল বলেন, ভূমিকম্প শুরুর সঙ্গে সঙ্গে আমরা সবাই বাড়ি থেকে দৌড়ে বেরিয়ে যাই। কেউ জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে বের হয়।
