Archive for October, 2011

October 28th, 2011

গ্রিসকে ইউরোজোনে নেয়া ভুল হয়েছে :সারকোজি

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি বলেছেন, গ্রিসকে ইউরোজোনে প্রবেশ করতে দেয়া ভুল হয়েছিল। ইইউর সদস্য রাষ্ট্রগুলো যখন গ্রিসকে উদ্ধারের জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে, তখন সারকোজির একই মন্তব্য দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ছড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাত্কারে সারকোজি বলেন, গ্রিসকে একক মুদ্রা ইউরোর আওতায় আনা ঠিক হয়নি, কারণ এ জোটে ঢোকার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সচ্ছলতা গ্রিসের ছিল না। এদিকে ইউরোজোনের ঋণ সংকট দূরীকরণের জন্য ইউরোপের নৃেতবৃন্দ ব্রাসেলসে একটি চুক্তির ব্যাপারে একমত হওয়ায় বিশ্ব পুঁজিবাজারে তেজীভাব দেখা গেছে। ডলারের বিপরীতে ইউরোর দাম আরো বেড়ে গেছে। নতুন পরিকল্পনার ব্যাপারে বিনিয়োগকারীরা ইতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন। ইউরোজোনকে উদ্ধারের জন্য তহবিল বাড়িয়ে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কীভাবে ঐ তহবিলে টাকা দেয়া হবে এবং কীভাবে ব্যাংকগুলো পুঁজি বাড়াবে।

তিন বছরের অর্থনৈতিক মন্দার পর গ্রিস ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা জানান, গ্রিসের অর্থনৈতিক সংকট ইউরোজোনের অন্যান্য দেশের অর্থনীতিকে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপের নেতৃবৃন্দ গ্রিসের ঋণ সংকট মোকাবিলার জন্য একটি তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী এ পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আমাদের জয় হয়েছে। গ্রিসকে উত্পাদনশীল করতে আমরা কঠোর পরিমশ্র করে যাব। তবে অনেকে বলেছেন, ইউরোজোনের অর্থনীতিকে জাগিয়ে তুলতে আরো অনেক কিছু করতে হবে। সংকটের সমাধান হয়ে গেছে তা এখনই বলা যাবে না। এদিকে পথের সূচনা বলা যেতে পারে। গ্রিসকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে আরো কয়েক বছর লেগে যাবে।

October 27th, 2011

সাকিব আবারও এক নম্বর

গত এপ্রিলে প্রায় সোয়া দুই বছর পর হারিয়েছিলেন ওয়ানডের সেরা অলরাউন্ডারের মুকুট। ছয় মাসের মধ্যেই হারানো সেই মুকুট ফিরে এল সাকিব আল হাসানের মাথায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাঁর অলরাউন্ড পারফরম্যান্সই শেন ওয়াটসনকে দুইয়ে ঠেলে দিয়েছে। ব্যাটিংয়ে ৭৯ গড়ে ৭৯ রান এবং বোলিংয়ে ১৬ গড়ে ৬ উইকেট নিয়েই আবারও শীর্ষে ফেরাটা নিশ্চিত করেছেন সাকিব।
কাল প্রকাশিত র‌্যাঙ্কিংয়ে টেস্ট অলরাউন্ডারদের তালিকায় সাকিব আছেন পাঁচে। বোলিংয়ে টেস্ট ও ওয়ানডে দুই তালিকারই শীর্ষ দশে আছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক, টেস্টে আটে ও ওয়ানডেতে নয়ে। ব্যাটিংয়ে দুই তালিকাতেই বাংলাদেশের সেরা দুজন আছেন ২১ নম্বরে, টেস্টে তামিম ও ওয়ানডেতে সাকিব।
ইংল্যান্ডের গ্রায়েম সোয়ানকে সরিয়ে ওয়ানডের সেরা বোলার হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফাস্ট বোলার মরনে মরকেল। ফলে টেস্ট ও ওয়ানডের ব্যাটিং-বোলিং চার বিভাগের এক নম্বর জায়গা চলে গেল দক্ষিণ আফ্রিকানদের দখলে। মরকেলকে ছাড়াও হাশিম আমলা (ওয়ানডে ব্যাটিং), জ্যাক ক্যালিস (টেস্ট ব্যাটিং) ও ডেল স্টেইনের (টেস্ট বোলিং) দখলেই এখন এক নম্বর স্থানগুলো। ওয়েবসাইট।

October 25th, 2011

শেষ সময়ে গাদ্দাফি বই পড়তেন, চা বানাতেন

জীবনের শেষ দিনগুলোতে সির্ত শহরের একস্থান থেকে অন্য স্থানে পালিয়ে বেড়ান লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি। চোখের সামনেই তাঁর শাসনব্যবস্থা ধূলিসাত্ হয়ে যাওয়ায় তিনি ছিলেন ক্ষুব্ধ ও বিষণ্ন। গাদ্দাফির একসময়ের প্রধান দেহরক্ষীর দায়িত্ব পালনকারী মানসুর দাও এ কথা বলেছেন।
দি ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, গাদ্দাফির নিজ গোত্রের সন্তান মানসুর। তিনি বর্তমানে মিসরাতার একটি কারাগারে।
২০ অক্টোবর ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এনটিসি) যোদ্ধাদের হাতে গাদ্দাফি আটক এবং নিহত হওয়ার সময় তাঁর অনুগত যেসব যোদ্ধাকে জীবিত অবস্থায় আটক করা হয়, তাঁদের একজন মানসুর। তিনি বলেছেন, যুদ্ধের শেষের দিকে গাদ্দাফি, তাঁর ছেলে মুতাসিম এবং ঘনিষ্ঠ অন্যরা বিভিন্ন সময়ে সির্ত শহরের কয়েকটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অবস্থান করেন। এ সময় বাইরের জগত্ থেকে তাঁরা ছিলেন একেবারে বিচ্ছিন্ন। ওই পরিত্যক্ত বাড়িগুলোতে ছিল না কোনো টেলিভিশন, ফোন বা কোনো বিদ্যুত্সংযোগ। রাতের অন্ধকারে তাঁদের আলোর একমাত্র উত্স ছিল মোমবাতি।
মানসুর জানান, শেষ দিনগুলোতে গাদ্দাফি বই পড়তেন, বিভিন্ন ঘটনা নোট করে রাখতেন, কখনো কখনো কয়লার স্টোভে চা বানিয়ে সময় কাটাতেন। তিনি যুদ্ধ পরিচালনা করতেন না। সেটা করতেন তাঁর ছেলেরা। তিনি কোনো পরিকল্পনা করতেন না, এমনকি কোনো পরিকল্পনা নিয়েও ভাবতেন না।
মানসুর বলেন, রাজধানী ত্রিপোলিতে বিদ্রোহী যোদ্ধারা ঢুকে পড়ার আগেই ১৮ বা ১৯ আগস্ট গাদ্দাফি বাব আল আজিজিয়া কম্পাউন্ড ছেড়ে পালান। রাজধানীর পতনের পর তিনি সরাসরি সির্ত শহরের উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুতাসিম। আর সাইফ আল-ইসলাম বনি ওয়ালিদে চলে যান। এক সপ্তাহ পর মানসুর সির্ত শহরে গাদ্দাফির সঙ্গে মিলিত হন। গাদ্দাফির গোয়েন্দা প্রধান আবদুল্লাহ আল-সেনুসি তখন সির্ত আর সাবা শহরে যাওয়া-আসা করছিলেন। এনটিসি যোদ্ধাদের হাতে আটক হওয়ার পর তাঁর নেতার (গাদ্দাফির) ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা তিনি বলতে পারেন না।
মানসুর জানান, গাদ্দাফিকে তাঁর সহযোগীরা দেশ ছাড়তে অনুরোধ করেছিলেন। তবে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, পূর্বপুরুষের মাটিতেই তিনি মৃত্যুবরণ করতে চান।
মানসুর বলেন, ‘তাঁর জন্য আমার দুঃখ হয়। কারণ তিনি পরিস্থিতিকে অবজ্ঞা করেছেন। তিনি দেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়ে শান্তিতে জীবনযাপন করতে পারতেন।’
মানসুর দাও ১৯৮০ সাল থেকেই গাদ্দাফি বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। নব্বইয়ের দশকে তিনি গাদ্দাফির ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি কথিত ‘পিপলস গার্ড’-এর কমান্ডার ছিলেন। গাদ্দাফিবিরোধীদের খুঁজে বের করাই ছিল ওই বাহিনীর কাজ।

October 25th, 2011

মরুভূমির গোপন স্থানে গাদ্দাফিকে দাফন

লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি, তাঁর ছেলে মুতাসিম এবং এক সাবেক সহযোগীকে আজ মঙ্গলবার একটি মরুভূমির গোপন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এনটিসি) সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা টেলিভিশনের অনলাইনে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে মিসরাতায় এনটিসির সেনা সূত্র জানিয়েছে, দাফনের উদ্দেশ্যে মাংস রাখার হিমঘর থেকে গাদ্দাফি ও তাঁর ছেলে মুতাসিমের মরদেহ গতকাল সোমবার রাতে সরিয়ে নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করে গতকাল সোমবার এনটিসির এক কর্মকর্তা জানান, গাদ্দাফিকে আজ মরুভূমির অজানা একটি স্থানে সাধারণভাবে সমাহিত করা হবে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, মরদেহের এমন অবস্থা হয়েছে যে তা আর রাখা সম্ভব নয়।
কয়েক দিন আগে এনটিসির এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, গাদ্দাফির দাফনের সময় মাত্র চারজন প্রত্যক্ষদর্শী থাকবে। দাফনের স্থানের নাম প্রকাশ না করার ব্যাপারে এই প্রত্যক্ষদর্শীরা কোরআন ছুঁয়ে শপথ করবেন।
গাদ্দাফির সবচেয়ে আলোচিত ছেলে সাইফ ইসলাম এনটিসির হাতে আহত অবস্থায় আটক রয়েছেন বলে এত দিন বলা হচ্ছিল। তবে এখন বলা হচ্ছে, তিনি নাইজার ও আলজেরিয়ার সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছেন।
গত বৃহস্পতিবার জন্মস্থান সিরত শহরে জাতীয় অন্তর্বর্তী পরিষদের (এনটিসি) যোদ্ধাদের হাতে আটক হন গাদ্দাফি, তাঁর ছেলে মুতাসিম ও সাবেক সেনাপ্রধান। এরপর তাঁদের হত্যা করা হয়। গতকাল সোমবার পর্যন্ত মিসরাতা শহরের কাঁচাবাজারের একটি হিমঘরে তাঁদের লাশ পড়ে ছিল।

October 24th, 2011

অভিষেকেই চমক সানির: নাসিরের ৩৪ রান, সানির ৪ উইকেট

অনেকদিন ধরেই জাতীয় দলের ভেতরে মাথা গলানোর সুযোগ খুঁজছিলেন। কিন্তু কয়েকবার উঁকিঝুঁকি মারলেও ভাগ্যের শিকে ছেঁড়েনি। তবে সম্প্রতি দেশসেরা স্পিনার আব্দুর রাজ্জাকের পড়তি ফর্ম আর নিজেকে আরও বেশি উজ্জ্বল করে মেলে ধরার সুবাদে সুযোগ পেলেন একেবারে ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠ ঘরানা টেস্টে বিচরণের। বাজিমাত করলেন প্রথম সুযোগেই। বাংলাদেশকে সমুচিত জবাব দিতে পারল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ মূলত তার মায়াবী ঘূর্ণিতে মোহাবিষ্ট হয়েই। ক্যারিবীয় ইনিংসের চেহারা ৫ উইকেটে ১৪৪ হয়ে গেল কারণ তিনি একাই নিলেন ৪ উইকেট। দুই টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ক্যারিবীয়দের মুখোমুখি হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ম্যাচে অভিষেক ঘটে ২৫ বছর বয়েসী বাঁ-হাতি অর্থোডঙ্ ইলিয়াস সানীর। গল্পটা তাকে নিয়েই। গাল-গপ্পো বলে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। অভিষেকেই ওমনটা করে দেখিয়েছেন তিনি। আরেক অভিষিক্ত ১৯ বছর বয়েসী তরম্নণ অলরাউন্ডার নাসির হোসেন তার আগেই কিছু করে দেখানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। ব্যাট হাতে নেমে খুব বেশি উজ্জ্বলতা ছড়াতে না পারলেও ৮ নম্বরে নেমে ৩৪ রানের যে মাঝারি ইনিংস উপহার দিয়েছেন তাতে জড়তার লেশমাত্র ছিল না। সানি-নাসিরের চমৎকার অভিষেক বাংলাদেশ দলকে ৪র্থ দিনশেষে স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রেখেছে।
২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে বাংলাদেশের জাতীয় লীগে খেলা শুরম্ন করে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ভাস্বর ছিলেন সানি। টি২০ বিশ্বকাপ ও জিম্বাবুইয়ে সফরের আগে প্রাথমিক স্কোয়াডে জায়গা হলেও চূড়ানত্মভাবে বিবেচিত হতে পারেননি। তবে ক্যারিবীয়রা বাংলাদেশে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে আসার আগে আবারও প্রাথমিক দলে জায়গা পান। প্রস্তুতি ম্যাচগুলোয় দুর্দানত্ম বোলিং করে জাতীয় দলে নিতে একপ্রকার বাধ্যই করেন নির্বাচকদের। তবে একমাত্র টি২০ দলে থাকলেও মূল একাদশে জায়গা হয়নি তার। ওয়ানডে সিরিজে ছিটকে পড়েন। তবে টেস্ট স্কোয়াডে জায়গা হয় মূলত সোহরাওয়াদর্ী শুভ আর রাজ্জাকের সম্প্রতি ফর্ম খারাপ হওয়ায়। সুযোগ পেয়েই তা কাজে লাগান তিনি। পরপর দু’দিন বৃষ্টির কারণে খেলা না হওয়ায় বেশ আশাহতই ছিলেন।
অনিশ্চিত হয়ে পরে চট্টগ্রাম টেস্ট। তবে ৪র্থ দিনে আলো ঝলমল হয়ে ওঠে। ঝলমলে দিনে বাংলাদেশ ইনিংস ঘোষণার পর ক্যারিবীয় ইনিংসে আগুন উগড়ে দেন এ বাঁ-হাতি অর্থোডঙ্। ক্যারিয়ারের ১৭তম বলেই স্মরণীয় মুহূর্ত উপভোগের উপলৰ পেয়ে যান। ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা কার্ক এডওয়ার্ডসকে এলবিডবিস্নউর ফাঁদে ফেলেন। এরপর আরও ৩ উইকেট নিয়েছেন। ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারানো ক্যারিবীয় ইনিংসের মূল সংহারক সানিই। সবচেয়ে বড় পুরস্কার পেয়েছেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটের ব্যাটিং সত্মম্ভ অভিজ্ঞ শিবনারায়ণ চন্দরপলের উইকেটটি নিয়ে। ইনিংস মেরামত করার পথে সাবলীল চন্দরপলকে ৪৯ রানেই থেমে দেন তিনি। অভিষেকেই বাংলাদেশী হিসেবে ৪ বা ততধিক উইকেট নেয়ার কাতারে তার অবস্থান এখন চারে। এখনও পঞ্চম দিন আছে আর ক্যারিবীয় ইনিংসেরও ৫ উইকেট বাকি। চতুর্থ দিনে যেমন বোলিং করেছেন তা ধরে রাখতে পারলে হয়ত ছাড়িয়ে যেতে পারবেন ২০০১ সালের এপ্রিলে অভিষেকে ৮১ রানে জিম্বাবুইয়ের বিরম্নদ্ধে পেসার মঞ্জুরম্নল ইসলামের ৬ উইকেট নেয়ার রেকর্ডকে। দিনশেষে তার বোলিং বিশেস্নষণও হয়েছে দেখার মতো-১৬-০-৫৬-৪। তারও আগে নাসির চতুর্থ দিনে নেমে বেশ সাবলীল ভাবেই করেছেন ৩৪ রান। অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম ও শাহরিয়ার নাফীস দ্রম্নত ফিরলে নাসির বিপর্যয় সামাল দেন। ৪৭ বলের ইনিংসে ২৪ রানই নিয়েছেন বাউন্ডারিতে। সবমিলিয়ে দু’জনের অভিষেক আলোচনায় আসবার মতোই হয়েছে। আর পঞ্চম দিনে আরও রেকর্ড তো হাতছানি দিচ্ছেই সানির সামনে। পেছন থেকে ক্রিকেট ভক্ত-সমর্থকদের কাছ থেকে পাবেন অকুণ্ঠ সমর্থন।

October 22nd, 2011

বিল গেটসকে ‘আইডিয়া চোর’ বলতেন স্টিভ জবস

মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসকে ‘আইডিয়া চোর’ বলেই জানতেন অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠা স্টিভ জবস। এ ছাড়া তিনি গুগল উদ্ভাবিত অ্যান্ড্রয়েডের ওপর যারপরনাই ক্ষুব্ধ ছিলেন। তিনি মনে করতেন, প্রযুক্তির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘চুরি’ এই অ্যান্ড্রয়েড। এটাই ছিল তাঁর ক্ষোভের মূল কারণ। আমৃত্যু তিনি বিশ্বাস করতেন, নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান গুগল অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করেছে আইফোনের অপারেটিং সিস্টেম নকল করে। অ্যান্ড্রয়েডের ব্যাপারে তাঁর এই মনোভাব জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বহাল ছিল। তিনি চেয়েছিলেন যেকোনো মূল্যে অ্যান্ড্রয়েডকে ধ্বংস করে দিতে।
২৪ অক্টোবর স্টিভ জবসের বহুল আলোচিত ও প্রতীক্ষিত আত্মজীবনী গ্রন্থ প্রকাশিত হবে। সেই গ্রন্থের কিছু চুম্বক অংশ হাতে এসেছে বার্তা সংস্থা এপি ও হাফিংটন পোস্ট নামের একটি পত্রিকার মাধ্যমে। সেই চুম্বক অংশগুলো শুক্রবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ও বার্তা সংস্থার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে কিছু বিষয়ে বিশেষত মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সম্পর্কে স্টিভ জবসের চিন্তাভাবনা ও মনোভাব ফুটে উঠেছে।
অ্যান্ড্রয়েড একটি ‘চুরির পণ্য’
স্টিভ জবস মনেপ্রাণেই বিশ্বাস করতেন অ্যান্ড্রয়েড একটি ‘চুরির পণ্য’। গুগল এই চুরিটা করেছে আইফোন অপারেটিং সিস্টেম (আইওএস) থেকে। তিনি অ্যান্ড্রয়েডকে চরমভাবে ঘৃণা করতেন। তিনি বলেছিলেন, ‘দরকার হলে আমি অ্যান্ড্রয়েডকে পৃথিবী থেকে বিদায় করতে অ্যাপলের রিজার্ভ ৪০০ কোটি ডলারের পুরোটাই খরচ করব।’
সম্প্রতি অ্যাপলের সঙ্গে অ্যান্ড্রয়েড নিয়ে বিভিন্ন মোবাইল-প্রযুক্তি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান যেমন স্যামসাং, মটোরোলা, এইচটিসির বিভিন্ন দেশে আইনি লড়াই চলছে। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, অ্যাপল এখনো অ্যান্ড্রয়েড নিয়ে গুগলের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। স্টিভ জবস তাঁর আত্মজীবনী লেখক ওয়াল্টার ইসাকসনকে বলেছিলেন, তিনি যেকোনো মূল্যে অ্যান্ড্রয়েডের কবল থেকে রেহাই চান। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি অ্যান্ড্রয়েডকে ধ্বংস করে ছাড়ব। কারণ এটি একটি চুরির পণ্য। এর বিরুদ্ধে ‘থার্মোনিউক্লিয়ার’ যুদ্ধেও আপত্তি নেই আমার।’ জবস ইসাকসনকে বলেন, ‘গুগল অ্যাপলের আইডিয়া মেরে এই অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করেছে। এখন কেউ যদি এর বিরুদ্ধে লড়াই বন্ধ করার জন্য আমাকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারও ঘুষ প্রস্তাব দেয়, তা-ও আমি প্রত্যাখ্যান করব। আমি শুধু অ্যান্ড্রয়েড নামের এই প্রতারণার শেষ দেখতে চাই।’ তবে অ্যান্ড্রয়েডের বিরুদ্ধে এই মনোভাব পরিবর্তনের জন্য কেউ তাঁকে ঘুষের প্রস্তাব দিয়েছিল কি না, ইসাকসনের কাছে জবস তা পরিষ্কার করেননি।
বিল গেটস সম্পর্কে স্টিভ জবস
বিল গেটসকে একেবারেই পছন্দ করতেন না স্টিভ জবস। তিনি মনে করতেন গেটস যা কিছু করেছেন, সবই অন্যের আইডিয়া চুরি করে। বিল গেটস সম্পর্কে জবসের ধারণা ছিল, ‘এই লোকটি আসলে একজন অচিন্তাশীল ব্যক্তি।’ তিনি বলতেন, ‘তাঁর কাজই হচ্ছে, নির্লজ্জের মতো অন্যের আইডিয়া মেরে দেওয়া।’
বার্তা সংস্থা এপির বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, বিল গেটসকে অপছন্দ করতেন বলেই তাঁর আমন্ত্রণে কোনো প্রকার দাতব্য কার্যক্রমে অংশ নেননি জবস। তিনি বলেছিলেন, বিল গেটস খুব ভালো করেই জানেন, তিনি অন্যের আইডিয়া মেরে দিয়েছেন। তাই তাঁর মধ্যে সব সময় একটা খচখচানি কাজ করে। আর সে কারণেই দানে তাঁর এত আগ্রহ।
অন্যদিকে বিল গেটস কিন্তু জবসকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান সব সময় দিয়ে এসেছেন। ২০০৭ সালে একটি অনুষ্ঠানে বিল গেটস স্টিভ জবসকে ব্যক্তিগত কম্পিউটারের উদ্ভাবনকারী হিসেবেই অভিহিত করেছিলেন। জবস কিন্তু সেই প্রতিদান দেননি কখনোই।
বারাক ওবামা সম্পর্কে জবস
২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বারাক ওবামার নির্বাচনী প্রচারের দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন স্টিভ জবস । তিনি ওবামাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন অ্যাপলের কমিউনিকেশন উইং ওবামার নির্বাচনী প্রচারের দায়িত্ব পেতে আগ্রহী। ওবামার তত্কালীন প্রধান কৌশল প্রণয়নকারী ডেভিড অ্যাক্সেলরডের কারণেই সেই দায়িত্ব পাননি জবস। তবে মৃত্যুর আগেও তাঁর ইচ্ছা ছিল ওবামার ২০১২ সালের নির্বাচনী প্রচারের দায়িত্বটি তিনিই পাবেন।
২০১০ সালে বারাক ওবামার সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছিল জবসের। সেখানে ওবামার মুখের ওপরই একটি অপ্রিয় কথা বলে ফেলেছিলেন জবস। তিনি ওবামাকে বলেছিলেন, ‘আমি আপনার দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখছি না।’
অন্যান্য বিষয়ে জবস
বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজের মতো করেই ভাবতেন স্টিভ জবস। ২০০৪ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কারণে মৃত্যু তাঁর চিন্তাভাবনার অনেকটাই আচ্ছন্ন করেছিল। জীবন সম্পর্কে তিনি ইসাকসনকে বলেছিলেন, ‘প্রতিটি মানুষই খুব অল্প সময়ের জন্য পৃথিবীতে আসে। কেউ জানে না কত দিনের জন্য আসলে আমরা পৃথিবীতে থাকার অধিকার পেয়েছি। তবে এই সময়ের মধ্যে অনেকেই ভালো কিছু কাজ করে।’ নিজের সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, তরুণ বয়সেই কিছু ভালো কাজ করার সুযোগ আমি পেয়েছিলাম।’
জবস চেয়েছিলেন, তাঁর সন্তানেরা তাঁকে ভালোভাবে জানুক। স্বভাবে নিভৃতচারী জবস সে কারণেই আত্মজীবনীর ব্যাপারে উত্সাহী ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি চাই আমার সন্তানেরা ভালো করে জানুক, আমি পুরো জীবনে কী করেছি। কীভাবে এই জায়গায় এসেছি।’

October 21st, 2011

জাতিসংঘ তদন্ত চেয়েছে ॥ গাদ্দাফির মৃত্যুর কারণ নির্ণয়

০ ন্যাটোর অভিযান শেষ হওয়ার ঘোষণা যে কোন সময়
০ লিবীয় নেতার রক্তাক্ত মরদেহ হিমঘরে
০ দাফন নিয়ে রহস্য
০ সাগরে সমাহিত করা হতে পারে

লড়াইয়ের ময়দানে জীবিত ধরার পর লিবিয়ার সাবেক স্বৈরশাসককে কিভাবে হত্যা করা হলো এ প্রশ্ন ধীরে ধীরে জোরালো হয়ে উঠছে। এ নিয়ে রীতিমতো বেকায়দায় এখন লিবিয়ার জাতীয় অন্তর্বর্তী পরিষদের (এনটিসি) কর্তা ব্যক্তিরা। ধরার পর সাবেক লিবীয় নেতা গাদ্দাফির ওপর নির্যাতনের ভিডিও চিত্র প্রকাশ হওয়ার পর রীতিমতো চাপের মুখে এখন লিবিয়ার প্রশাসনযন্ত্র। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ঐ ভিডিও চিত্রের বরাত দিয়ে গাদ্দাফির মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থাটি গাদ্দাফির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, গ্রেফতারের পর গাদ্দাফিকে নিয়ে ঐ ভিডিও চিত্রটি খুবই অস্বস্তিকর ও বিচলিত হওয়ার মতো। জাতিসংঘ বলছে, গাদ্দাফির ৪২ বছরের শাসনামল নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও কাউকে বিনা বিচারে হত্যা করা যায় না। তবে এনটিসি এরই মধ্যে সাবেক এই লিবীয় নেতার মৃতু্যর কারণ হিসেবে ক্রসফায়ারের গল্প সাজিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে। গাদ্দাফির মৃত্যুর বিষয়টি জাতিকে অবহিত করার জন্য জাতির উদ্দেশে বৃহস্পতিবার রাতে এনটিসি প্রধানের ভাষণ দেয়ার কথা থাকলেও পরে অজানা কারণে তা আর করা হয়নি। মৃত্যুর একদিন পর গাদ্দাফির লাশ কিভাবে দাফন করা হবে সে বিষয়টি সুরাহা করতে পারেনি এনটিসি। ‘কিং অব কিংস অব আফ্রিকা’ হিসেবে পরিচিত এই বীরের লাশ রাখার জায়গা খুঁজে পেতে এখন গলদঘর্ম অবস্থা তাদের। ইসলামী রীতি অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাদ্দাফির লাশ দাফন করার কথা উঠলেও ঐ অবস্থান থেকে এনটিসি সরে এসেছে। ত্রিপোলিতে বিবিসি’র প্রতিনিধি ক্যারোলিন হাওলে বলেছেন, কর্নেল গাদ্দাফির মৃত্যু পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে তাঁর লাশ দাফন কিভাবে করা হবে সে ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে এনটিসি নীতি নির্ধারকদের। গোপনে গাদ্দাফির লাশ দাফন নিয়েও জোর আলাপ আলোচনা চলছে। আজানা আতঙ্কে গাদ্দাফির লাশ ওসামা বিন লাদেনের মতো সাগরে ভাসিয়ে দেয়ার বিষয়টিও আলোচনার সামনে চলে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে, জীবিত গাদ্দাফির চেয়ে মৃত গাদ্দাফি কি অনেক বেশি শক্তিশালী? লিবিয়া তো বটেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার শীর্ষে এখন যে কথাটি তা হচ্ছে_ গাদ্দাফি কথা রেখেছেন। তিনি বলেছিলেন, আমি লিবিয়া ছেড়ে পালাব না, মরলে বীরের মতোই মরব, লিবিয়ার মাটিতেই মরব। এদিকে ন্যাটো জানিয়েছে, লিবিয়ায় তাদের অভিযান শেষ হওয়ার পথে। ফরাসী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সার্কোজি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, কর্নেল গাদ্দাফির মৃতু্যর মধ্যদিয়ে লিবিয়ায় ন্যাটোর সামরিক অভিযান শেষ হয়ে গেছে। আমরা পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি অপারেশন সম্পন্ন। শুক্রবারই ন্যাটো এ ব্যাপারে একটি সিদ্ধানত্ম নিতে পারে বলে এনটিসির এক কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন। সিরতে নিহত হওয়ার পর গাদ্দাফির রক্তাক্ত মরদেহ এখন মিসরাতার একটি হিমঘরে জনসাধারণের জন্য রাখা হয়েছে। খবর বিবিসি, আল-জাজিরা ও এএফপি’র।
লিবিয়ার তেলমন্ত্রী আলী তারহোনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যে কর্নেল গাদ্দাফির লাশ ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে। তাঁর লাশ মিসরাতায় রাখা আছে। সবাইকে আমরা নিশ্চিত করতে চাই, গাদ্দাফি মারা গেছেন এবং এ জন্যই কয়েকদিন তাঁর লাশ মিসরাতায় হিমাগারে রাখার সিদ্ধানত্ম নিয়েছি। কিভাবে লাশ দাফন করা হবে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধানত্ম এখনও নেয়া হয়নি। তবে এনটিসির কোর কমিটির কয়েকজন সদস্যের বরাত দিয়ে রয়টার্সের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, গাদ্দাফির লাশ কি করা হবে তা নিয়ে এনটিসি কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না। গ্রেফতার করার পর গাদ্দাফিকে ঘিরে আসলে কি ঘটেছিল তা নিয়ে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। এনটিসির সিনিয়র সদস্য মোহাম্মদ সায়েহ বিবিসিকে বলেছেন, কর্নেল মারা গেছে, যদি বলি তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে মারা হয়েছে তাহলে আমি বলব তিনি এটা প্রাপ্য ছিলেন। এনটিসির ঐ কর্মকর্তা বলেন, যদি তাঁকে হাজারবার হত্যা করা হতো, আমার মনে হয় তাহলেও তিনি অতীতে যা করেছেন তাঁর শোধ হয় না। তবে শুক্রবার মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ হাইকমিশনার বলেছেন, কিভাবে গাদ্দাফি মারা গেলেন তা উদঘাটনে তদন্ত হওয়া দরকার। কমিশনের মুখপাত্র রুপার্ট কলভিলে বলেছেন, মোবাইল ভিডিও চিত্রে দেখা যাচ্ছে, গ্রেফতারের পর গাদ্দাফি জীবিত ছিলেন এবং পরে তিনি মারা যান এবং মোবাইলের ভিডিও চিত্রকে অস্বস্তিকর ও বিচলিত হওয়ার মতো বিষয় বলে মনে করছেন। ব্রিটিশভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কর্নেল গাদ্দাফির মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। এ সবের জবাবে এনটিসির সিনিয়র সদস্য মোহাম্মাদ সায়ে বলেছেন, গাদ্দাফির মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য তৃতীয় কোন পক্ষ লিবিয়ায় আসবে। তিনি বলেছেন, ইসলামী রীতি মেনে যথাযোগ্য মর্যাদায় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া গাদ্দাফিকে দাফন করা হবে। এদিকে গাদ্দাফির আহত পুত্র সাইফ আল ইসলাম এনটিসির যোদ্ধাদের হাত থেকে পালিয়ে গেছেন বলে বিসিসির এক খবরে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তবে এর সত্যতা যাচাই করা যায়নি। তাঁর ভাই মুতাস্মিম লড়াইয়ের ময়দানে বৃহস্পতিবার প্রাণ হারান।
আল-জাজিরা টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, লিবিয়ার সাবেক স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির মৃতদেহ মিসরাতা শহরের একটি মসজিদে নেয়া হয়েছে। আল-আরাবিয়া টেলিভিশনও বলেছে, গাদ্দাফির মৃতদেহ মিসরাতায়। তবে তারা জানায়, লাশ রাখা হয়েছে শহরের বাণিজ্যিক এলাকা সোক তাওয়ানসায়। এর আগে লিবিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের (ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিল-এনটিসি) এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার নিরাপত্তার কারণে গোপন এক জায়গায় গাদ্দাফির মৃতদেহ স্থানানত্মরের কথা জানান। মিসরাতা শহরে এনটিসি কর্মকর্তা মোহাম্মেদ আব্দুল কাফি বলেন, গাদ্দাফির লাশ আমাদের ইউনিটের একটি গাড়িতে রয়েছে এবং নিরাপত্তার কারণে আমরা তা গোপন একটি স্থানে নিয়ে যাচ্ছি।
এনটিসির উর্ধতন সামরিক কর্মকর্তা আব্দেল মজিদ রয়টার্সকে বলেন, পায়ের পাশাপাশি তাঁর (গাদ্দাফির) মাথায়ও আঘাত লাগে। গাদ্দাফির গ্রুপের সেনাদের ওপর ব্যাপক গুলি চালানো হয় এবং তিনি মারা যান। তবে মজিদের এ দাবির পক্ষে নিরপেক্ষ কোন তথ্য জানা যায়নি।

October 20th, 2011

গাদ্দাফি নিহত

গত ২১ আগস্ট লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি দখল করে বিদ্রোহীরা। বেদখল হয় গাদ্দাফির রাজকীয় প্রাসাদ। এরপর গাদ্দাফির অবস্থান নিয়ে গুজব তার ইচ্ছেমতো ডালপালা মেলে। কেউ বলে, মাটির নিচে গাদ্দাফির অসংখ্য সুড়ঙ্গ, বাঙ্কার আছে।

হয়তো সেখানেই ঘাঁপটি মেরে আছেন তিনি। কেউ বলে তিনি আলজেরিয়ায় পালিয়ে গেছেন। কারো মতো

ভেনিজুয়েলায় আবার কেউ বলেন নাইজারে। কিন্তু সব গুজব ভ্রান্ত।

লিবিয়ার পতিত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার তার জন্মশহর সির্তের কাছে বিদ্রোহীরা হামলা চালালে গাদ্দাফির অনুগত বাহিনী তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তারা বিদ্রোহীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়। গাদ্দাফির শরীরে এসময় গুলি লাগে। বিদ্রোহীদের সহায়তায় পশ্চিমা ন্যাটো বাহিনীও যুদ্ধবিমান নিয়ে এগিয়ে আসে। গাদ্দাফির যোদ্ধারা বিপদ বুঝে নেতাকে নিয়ে নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। কিন্তু গাদ্দাফির পলায়নরত গাড়িবহরে বিমান হামলা চালায় ন্যাটো। এতে আরো গুরুতর আহত হন গাদ্দাফি। এ অবস্থাতেই ধরা পড়েন তিনি। কিন্তু তার চিকিত্সার পরিবর্তে বিদ্রোহীরা উল­াসে ব্যস্ত থাকায় একসময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। অবসান হয় লিবিয়ার লৌহমানবের ৪২ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের।

গাদ্দাফির মৃত্যু নিয়ে সব মহল প্রথমে সংশয় প্রকাশ করলেও ধীরে ধীরে এই বিশ্বাস জন্মাতে থাকে যে সত্যিই নিহত হয়েছেন তিনি। সব সংশয় দূর করতে গতকাল সন্ধ্যায় লিবিয়ার অন্তবর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহমুদ জিবরিল গাদ্দাফির নিহত হবার খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, গাদ্দাফি আর বেঁচে নেই, এটাই চরম বাস্তবতা। এই দিনটার জন্যই দীর্ঘদিন ধরে তারা অপেক্ষা করছিলেন বলে জানান।

লিবিয়ার সাবেক নেতা নিহত হবার খবরে উল­াস প্রকাশ করেছে লিবিয়ার গাদ্দাফি বিরোধীরা। তারা গাদ্দাফির ধরা পড়ার ও নিহত হবার খবর শুনে দলে দলে রাস্তায় নেমে এসে উল­াস প্রকাশ করে। রাস্তাঘাট ছেয়ে যায় লিবিয়ার জাতীয় পতাকায়। লোকজন গাড়ির হর্ন বাজিয়ে জানালা দিয়ে পতাকা উড়াতে উড়াতে আনন্দ প্রকাশ করে।

অন্যদিকে, বিশ্ব নেতারাও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন গাদ্দাফি অধ্যায়ের যবনিকা হয়েছে শুনে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, সত্যিই যদি গাদ্দাফি নিহত হয়ে থাকেন সেটা গোটা বিশ্বের জন্য অবশ্যই একটি ভাল খবর। আনন্দ প্রকাশ করেছে ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়স, রাশিয়াসহ অনেক দেশ। তারা মনে করছেন গাদ্দাফি নিহত হওয়ায় এখন বিদ্রোহী কাউন্সিল নিশ্চিন্ত মনে দেশের শাসনকাজ চালাতে পারবে।

গত ২১ আগস্ট লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি দখল করে বিদ্রোহীরা। বেদখল হয় গাদ্দাফির সুরম্য রাজকীয় প্রাসাদ। এরপর গাদ্দাফির অবস্থান নিয়ে গুজব তার ইচ্ছেমতো ডালপালা মেলে। কেউ বলে, মাটির নিচে গাদ্দাফির অসংখ্য সুড়ঙ্গ, বাঙ্কার আছে। হয়তো সেখানেই ঘাঁপটি মেরে আছেন তিনি। কেউ বলে তিনি আলজেরিয়ায় পালিয়ে গেছেন। কারো মতো ভেনিজুয়েলায় আবার কেউ বলেন নাইজারে। কিন্তু সব গুজব ভ্রান্ত প্রমাণ করে বিদ্রোহীদের হাতে নিজ জন্মশহরে আহত অবস্থায় ধরা পড়ার পর মৃত্যু হয়েছে তার।

গাদ্দাফি অধ্যায় শেষ : বিদ্রোহীদের দাবির পরেও গতকাল কোনো সংবাদমাধ্যমই গাদ্দাফির মৃত্যুর খবর প্রচার করার দায়িত্ব নিতে চায়নি। কারণ, বেশিরভাগ মানুষের কাছেই অবিশ্বাস্য ঠেকছিল গাদ্দাফির মৃত্যুর খবরটি। কেউ মনে করেন বিদ্রোহীদের মানসিকভাবে দুর্বল করার জন্য এটা হতে পারে ‘চালবাজি’। কারো মতে এটা মার্কিন ফন্দি। কিন্তু সব সংশয়ের অবসান ঘটান লিবিয়ার অন্তবর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহমুদ জিবরিল। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় এক সংবাদ সংম্মেলন করেই ঘোষণা দেন- দায়িত্ব নিয়েই বলছি গাদ্দাফি আর বেঁচে নেই। তার উভয় পায়ে এবং মাথায় গুলি লেগেছে। শিগগিরই তার মৃতুদেহ মিসরাতায় নিয়ে যাওয়া হবে। সবাইকে দেখানো হবে। অপরদিকে, তথ্যমন্ত্রী মাহমুদ সাম্মান বলেন, যারা মৃতদেহ দেখেছেন তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের মিথ্যা বলার মতো কোনো কারণ দেখছি না। প্রধানমন্ত্রী শতভাগ নিশ্চিত করে ঘোষণা দিচ্ছেন যে গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন। লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং তথ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরই সব বিশ্ববাসীর মন থেকে প্রশ্নবোধক চিহ্ন উঠে যায়।

যেভাবে গাদ্দাফি ধরা পড়েন : বিদ্রোহীদের একজন নেতা জানান, বৃহস্পতিবার খুব ভোরে সির্তের কাছ থেকে গাদ্দাফিকে বন্দি করা হয়। গাড়ি বহর নিয়ে পালানোর চেষ্টার সময় ন্যাটো বিমান হামলার শিকার হন গাদ্দাফি। তার দুই পায়ে আঘাত লাগে। লিবিয়ার সাবেক এ শাসককে বন্দি করার সময় তার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবু বকর নিহত হন। গাদ্দাফিবিরোধী এক যোদ্ধা জানান, আহত অবস্থায় গাদ্দাফি কোনোরকমে মাটিতে নেমে কাছে থাকা একটি প­াস্টিকের পাইপের গর্তে ঢুকে যান। সেখান থেকেই তাকে টেনে বের করে বিদ্রোহীরা। দুই যোদ্ধা যখন তাকে গর্ত থেকে টেনে বের করতে যায় তখন গাদ্দাফি করুণ আর্তি জানিয়ে বলতে থাকেন, ‘দয়া করো গুলি করো না, গুলি করো না’।

গাদ্দাফির রক্তাক্ত মৃতদেহের ছবি বিভিন্ন আন্তজার্তিক পত্রিকা এবং টিভিতে দেখানো হয়। গুলিতে নিহত গাদ্দাফির মরদেহ নিরাপত্তার কারণে প্রথমে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। টিভিতে দেখা যায়, গুলিতে গাদ্দাফির নাক মুখ ঝাঁঝরা হয়ে গেছে।

এদিকে গতকাল দিন এবং রাতভর লিবিয়াতে শোনা গেছে বন্দুকের ফাঁকা গুলির শব্দ। নারী পুরুষ শিশুরা দলে দলে রাস্তায় নেমে উল­াস প্রকাশ করছে। তাদের মুখে সমবেত শে­াগান -‘আল­াহু আকবর, লিবিয়া দীর্ঘজীবি হোক’।

October 19th, 2011

টেস্ট দলটিও সমৃদ্ধ: এখন খেলতে পারলেই হয়, অভিব্যক্তি পাইলটের

টি২০ ও ওয়ানডে দল দিয়ে প্রশংসায় ভেসেছেন আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশারকে নিয়ে গড়া নির্বাচক কমিটি। কিন্তু টেস্ট দলটি নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন তাঁরা। ১৪ সদস্যের ঘোষিত দল নিয়ে এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে সমালোচনা। নতুনদের সুযোগ দেয়া হয়েছে। তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ করে দিতে টেস্টের মতো খেলায় মোহাম্মদ আশরাফুলের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে দলের বাইরে রাখা হয়েছে। বাদ পড়েছেন আরও দু’এক প্রতিভাবান। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট বিষয়টিকে অন্যভাবেই দেখছেন। ‘ভালদেরই সুযোগ হয়েছে। ফর্মে যারা থাকবে তাদেরই সুযোগ দেয়া উচিত। তাই হয়েছে। টি২০, ওয়ানডের পর টেস্ট দলটিও ভাল হয়েছে’-বলেছেন পাইলট। এই দল নিয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যাও দিয়েছেন সাবেক এই ক্রিকেটার। বলেছেন, ‘আমি অবাক হয়েছি ইলিয়াস সানিকে ওয়ানডেতে না নেয়ায়। তাকে ওয়ানডেতে নিলে ভাল হতো। যদিও যা চলে গেছে তা নিয়ে কথা বলে লাভ নেই। এখন টেস্ট দল নিয়ে আলোচনা করা শ্রেয়। আমার কাছে মনে হচ্ছে টেস্ট দলটি অনেক ভাল হয়েছে। বর্তমান সময়ের সেরাদের নিয়েই দল গঠন হয়েছে।
কেন? যেখানে আশরাফুলের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান উপেৰিত। সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচেও সবচেয়ে ভাল ব্যাটিং করেছেন আশরাফুল। জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ৭৩ রানের একটি ইনিংসও আছে। আর অলক কাপালীর বাদ পড়াও কী যৌক্তিক? যেখানে তার ব্যাটে ভাল সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছিল। ওয়ানডে দল থেকে টেস্টে সুযোগ হয়নি আবদুর রাজ্জাকেরও।
পাইলট বলেন, ‘অভিজ্ঞতা দিয়ে আপনি সবসময় পার পেতে পারেন না। আপনাকে অবশ্যই পারফর্ম করে দেখাতে হবে। পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেখাতে হবে। যদি তা না পারেন তাহলে কেন দলে রাখা হবে? একজন ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে ভাল ব্যাটিং না মিললে দলে সে থাকবেই কি করে। আগে কি করেছে তা নিয়ে বসে থাকলে আর দল চলবে না। আর একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে যারা দলে আছে কয়েকজন বাদ দিয়ে বাকি সবাই একই খেলছে। এদের মধ্য থেকে যারা একটু এগিয়ে তাদেরই দলে নেয়া হবে। এটাই কী স্বাভাবিক নয়? আশরাফুল নিঃসন্দেহে ভাল ক্রিকেটার। অভিজ্ঞও। কিন্তু তাঁকে কম সুযোগ দেয়া হয়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরম্নদ্ধে সিরিজে দুটি ওয়ানডেতেও তাঁকে খেলানো হয়েছে। কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেনি আশরাফুল। তাঁকে ছাড়িয়ে অন্যরা আরও ভাল করেছে।’
রাজ্জাকের বিষয়ে পাইলট বলেন, ‘রাজ্জাক আসলে ওয়ানডেতে ভাল। টেস্টে নয়। আমার মনে হয় তাকে বাদ দেয়ার বিষয়টি অযৌক্তিক নয়।’ আর কাপালীকে নিয়ে বলতে গিয়ে পাইলটের ভাষ্য, ‘কাপালী সিরিজে ভাল খেলেছে। তবে তার পরিবর্তে যাকে নিয়ে ভাবা হয়েছে সে নিশ্চয়ই নির্বাচকদের কাছে কাপালীর চেয়ে ভাল।’
দল ঘোষণা হয়েছে মঙ্গলবার। যেদিন বাংলাদেশ দল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬১ রানে অলআউট করে দিয়ে ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিয়েছিল। ১৪ সদস্যের দলে যথারীতি মুশফিকুর রহীম, তামিম ইকবাল, ইমরম্নল কায়েস, শাকিব আল হাসান, শাহরিয়ার নাফীস, রম্নবেল হোসেন, শাহাদাত হোসেন রাজিব, নাজমুল হোসেন সুযোগ পাবেন, তা বোঝাই যাচ্ছিল।
এর বাইরে রকিবুল হাসান, নাঈম ইসলাম আবার সুযোগ পেয়েছেন। আর তরম্নণদের মধ্যে একেবারেই নতুন মুখ ইলিয়াস সানি। তার এখনও আনত্মর্জাতিক কোন ম্যাচই খেলা হয়নি। দলে আছেন নাসির হোসেন, সোহরাওয়াদর্ী শুভ, শুভগত হোম চৌধুরীও। এই তিনজনের টেস্ট খেলা হয়নি এখনও। ইনজুরির কারণে শফিউল ইসলামকে টেস্ট দলে রাখা হয়নি। আর সর্বশেষ জিম্বাবুইয়ের বিরম্নদ্ধে টেস্ট ম্যাচটি থেকে বাদ পড়েছেন জুনায়েদ সিদ্দিকী ও রবিউল ইসলাম শিপলু। মাহমুদুলস্নাহ রিয়াদ সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। তাই টি২০, ওয়ানডের পর টেস্টেও তার খেলা হচ্ছে না। রকিবুল হাসানকে আবার টেস্টে সুযোগ করে দেয়ার কারণ চলতি জাতীয় লীগে ঢাকার হয়ে একটি ফিফটি (৫৩) করেছেন। নাঈম ইসলাম ওয়ানডেতে ভাল খেলার পুরস্কার পেয়েছেন। শাহাদাত হোসেন এক বছর পর আবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে টেস্টে খেলার আশায় আছেন। ইনজুরির কারণে জিম্বাবুইয়ের বিরম্নদ্ধে সর্বশেষ টেস্টে খেলতে পারেননি শাহাদাত। ২০০৪ সালের পর নাজমুলের টেস্ট খেলা আর হয়নি। একমাত্র টেস্টটি খেলার পর আবার প্রায় সাড়ে ছয় বছর পর দ্বিতীয় টেস্ট খেলার সুযোগে আছেন নাজমুলও। আর তরম্নণদের মধ্যে নাসির, সোহরাওয়াদর্ী, শুভগত ও ইলিয়াসের মধ্যে দলে স্থান করে নেয়ার লড়াই চলবে। যিনি সুযোগ পাবেন তিনিই দলে স্থায়ী হওয়ার জন্য খেলবেন। আর সেটি দলের জন্যই উপকারে আসবে বলেই মনে করছেন পাইলট, ‘দলে যে সব তরম্নণ ক্রিকেটার আছে, তাদের জন্য টেস্ট সিরিজটি দলে পাকাপোক্ত স্থান করে নেয়ার পরীৰা। তাদের সুযোগ দেয়া হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। তারাও নিশ্চয়ই তাই চাইছে। যখন দলে টিকে থাকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে তখন দলেরই তা উপকার হবে। তরম্নণরা পারফর্ম করতে চাইবে। সেই পারফরম্যান্স দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
টি২০ এবং ওয়ানডে দলে ছিলেন আশরাফুল, রাজ্জাক, কাপালী। টেস্টে এই তিনজনই নেই। অভিজ্ঞতা বিচারে অনত্মত আশরাফুলকে নেয়া যেতে পারত। এমনই বলাবলি হচ্ছে। তবে বাস্তবতা তার পৰে নেই। পারফর্ম না করতে পারলে দলে টিকে থাকাও কষ্টসাধ্য। সেটিই হয়েছে। যখন টেস্ট দল নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে তখন পাইলট যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়ে বলছেন, ‘টেস্ট দলটিও ভাল হয়েছে।’

October 18th, 2011

উড়ে গেল উইন্ডিজ: সাগরিকায় বিশাল জয় টাইগারদের

পূর্বকোণ থেকে মেঘের ঘনঘটা সেই সকাল থেকেই। কখনও গরমের ভ্যাপসা ভাব, আবার কখনও এই নামছে বৃষ্টি এমন ভাব। কিন্তু এ বৃষ্টি নেমেছে সন্ধ্যায়। তাও গুঁড়ি গুঁড়ি। তখন বাংলাদেশের জয় শুধু নিশ্চিত নয় পুরস্কার বিতরণী পর্বটিও শেষ হওয়ার পথে। আবার বৃষ্টি উধাও হয়ে যায়। প্রকৃতি যেন জানান দিচ্ছিল সবকিছুই টাইগারদের শুভার্থীর মতো। না হয় শহরের কোন কোন প্রান্তে প্রবল বর্ষণ হলেও সাগর পাড়ের সাগরিকা জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ছিটেফোঁটাও বৃষ্টি নামেনি। ক্যারিবীয়রা ৫০ ওভারের পুরো ইনিংস খেলতে পারলে ম্যাচ শেষ হতো কিনা সন্দেহ ছিল। কালো মেঘের ঘনঘটা আর রাতে হাল্কা বৃষ্টিই বলে দেয় প্রকৃতি দিনভর টাইগারদের জন্য উদার ছিল। এমন অনিশ্চিত দিনেও টাইগারদের বিশাল জয় দেখে চট্টগ্রামের দর্শকরা আবারও মুগ্ধ। এ মাঠে পর পর তিনটি ম্যাচে তারা জয় নিয়ে ঘরে ফিরতে পারল। গ্যালারিতে আর রাস্তায় রাস্তায় উৎসবের আরও একটি দিন অতিবাহিত করার সুযোগটি তারা হাতছাড়া করেনি। তাই অন্তত পনেরো হাজার দর্শক ছুটে যায় শহর থেকে কিছুটা দূরে নির্জন এলাকার এ স্টেডিয়ামটিতে। আগের দিন শহরের মূল অংশে তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। অথচ সাগরিকার আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি হয়েছে। সারা মাঠ ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। তারপরও কোথাও কোথাও ছুয়েছে আউটফিল্ড। এ স্টেডিয়ামটির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্বল থাকার সমালোচনা প্রায়ই। কিন্তু চট্টগ্রামের মাঠ টাইগারদের জন্য সৌভাগ্যের। সেটি প্রমাণিত হয়েছে আগেই। তাই তো বৃষ্টির পরও এ মাঠে জয়ের ব্যাপারে উজ্জীবিত ছিল স্বাগতিকরা। বাস্তবেও ঘটেছে সে রকম। ৮ উইকেটে বিশাল জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজরা ঢাকায় ব্যাটিং তা-ব চালিয়ে স্বাগতিকদের বড় ব্যবধানে দুই ম্যাচে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলে। অথচ চট্টগ্রামে এসে গো হারা হারল। মাত্র ৬১ রানে অল আউট। আর ৩ রান আগে হলে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ঢাকায় এদের বিরম্নদ্ধে টাইগারদের কুপোকাত হওয়ার সেই যন্ত্রণার অধ্যায়টির প্রতিশোধ নেয়া যেত। মুশফিকদের এদিন আগে থেকেই প্রস্তুতি ছিল। বৃষ্টির কারণে ওভার কাটা হলে কি করতে হবে। বোলিংয়ে প্রেসার এবং স্পিনারদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ক্যারিবীয়দের মাটিতে নামিয়ে আনে।
সকাল থেকেই এ ম্যাচটির প্রতি নগরবাসীর আকর্ষণ ছিল। বৃষ্টি হওয়ার মতো মেঘের ঘনঘটা তেমন ছিল না। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে যে মেঘ আসছিল তাতে ভারি বর্ষণের অবস্থা ছিল না। আবার বৃষ্টিতে ম্যাচ ধুয়ে যাবে এমন পরিস্থিতি না থাকলেও শেষ বিকেলে শহরের মূল অংশে হাল্কা বৃষ্টি হয়েছে। আর সাগরিকার মাঠ থেকে আশপাশের আকাশ কালো ঘন মেঘে ঘুর ঘুর করলেও মাঠের দিকে একটুও আসেনি। ফলে বৃষ্টিহীন অবস্থায় ২২ ওভারে অল আউট হয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। দ্রম্নত উইকেট পড়ে যাবার পর টাইগাররাও বার বার আকাশের দিকে তাকিয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ে ম্যাচ শেষ করার তাগাদা দিতে থাকে। জয় হাতছাড়ার আশঙ্কায় একটু তড়িঘড়ি করেই ব্যাট চালাতে হয়। অধিনায়ক মুশফিক স্বীকারও করলেন- বৃষ্টির কারণে জয় হাতছাড়া হওয়া থেকে বাঁচতে তারা তৎপর ছিলেন। প্রকৃতিও ছিল তাদের পক্ষে। নয়ত ম্যাচ শেষ হয়ে পুরস্কার বিতরণীর পর্বে হাল্কা বৃষ্টি আসতে আসতেই আবার থেমে যায়। এরই মধ্যে শেষ হয় পুরস্কার বিতরণী আর সারা মাঠ ত্রিপল দিয়ে ঢেলে ফেলার পর্বটি। কারণ আগামী শুক্রবার থেকে এ মাঠে শুরম্ন হচ্ছে প্রথম টেস্ট ম্যাচ।
চট্টগ্রামের ম্যাচে টাইগারদের উজ্জীবিত করতে দুপুরেই অনত্মত ১৫ হাজার দর্শক রঙ বেরঙের পোশাক আর পতাকা জড়িয়ে বুবুজেলার শব্দে সারা গ্যালারি উজ্জীবিত। কাছে থেকে মুশফিকদের বার বার প্রেরণা দিয়েছে চট্টগ্রামের ক্রিকেটপ্রেমীরা। গেল বিশ্বকাপ ক্রিকেটে এখানে স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চট্টগ্রামের ভেনু্য সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে রূপ নেয়। মূলত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পরও সেই টানে সেখানে বিপুল দর্শকের উপস্থিতি। যেখানে ম্যাচ নিয়েই শঙ্কা ছিল সে অবস্থায় এমন খোলার দিনে ডে-নাইট ম্যাচে বিপুল দর্শকের উপস্থিতি আয়োজকদেরও বিস্মিত করেছে। টাইগারদের বোলিংয়ে আগুন ঝরা এবং ব্যাটিংয়ে এসে লোকাল হিরো তামিমের অপরাজিত ব্যাটিংয়ে স্থানীয়রা দারম্নণ খুশি। তাই বিজয়ী দলের ক্রিকেটারদের মাঠ ছাড়ার সময় রাসত্মার দুপাশে হাজারো দর্শক বিশ্বকাপের সে জয়ের আবহ সৃষ্টি করে ফেলে। দীর্ঘ এলাকাজুড়ে দর্শকরা নানাভাবে স্বাগত জানায় ক্রিকেটারবাহী বাসকে। তাদের নতুন বাসনা এখন টেস্ট ম্যাচকে ঘিরে।
আজ সকাল সাড়ে ৯টায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল এবং দুপুর দেড়টায় বাংলাদেশ দল সাগরিকায় টেস্ট ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য প্রাকটিসে নামবে।
খালেদা জিয়ার অভিনন্দন ॥ চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ পরাজিত করায় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ক্রীড়া নৈপুণ্য এবং ঐতিহাসিক বিজয়ে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, ‘এ গৌরবোজ্জ্বল বিজয়ে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল হয়েছে। বাংলাদেশ দলের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি। আমিও তাদের আনন্দে নিজেকে শামিল করছি। বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই অবিস্মরণীয় সাফল্যে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। দলের সব ক্রিকেটার, কোচ, কর্মকর্তাসহ সংশিস্নষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আশা করি, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশী টাইগাররা এমন সফলতা অর্জনে সৰম হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এই সাফল্য আমাদের আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগাবে।’
অপর এক বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।