Archive for October, 2011

October 17th, 2011

নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ বনাম আইভী’র লড়াই

প্রতি মুহূর্তে দৃশ্যপট পাল্টাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের। ক্রমে শামীম ওসমানের পক্ষে আওয়ামী লীগের সমর্থন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অপরদিকে দলের সমর্থন প্রত্যাশী আরেক প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী সাধারণ মানুষের সমর্থন আর ব্যক্তি ইমেজে লড়ছেন নির্বাচনে। ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন চারদলীয় জোটের সমর্থনপুষ্ট বিএনপি নেতা এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। হেভিওয়েট এ তিন প্রার্থী তুমুল প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন দিনভর। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। ভোটের হিসাবে দৃশ্যত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হওয়ার কথা থাকলেও ভোটের আগেই এখন স্নায়ুযুদ্ধ চলছে ক্ষমতাসীন দলের দুই প্রার্থীর মধ্যে। শামীম ওসমানকে কৌশলে আওয়ামী লীগের সমর্থন প্রকাশ করায় ভোটের মাঠে এখন মূলত আওয়ামী লীগ আর আওয়ামী লীগের অঘোষিত সমর্থন দেয়া প্রার্থীর সঙ্গেই লড়ছেন আইভী। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের পক্ষ থেকে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে নানা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে তাকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হলেও সাবেক এই পৌর মেয়র তার অবস্থানে অনড়। তার সমর্থক নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার পাশাপাশি তিনি ভোটারদেরও মন জয়ে ব্যস্ত। তবে দলীয় সমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগের লুকোচুরি ও কৌশলী অবস্থানকে আইভীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের লড়াই বলেই মনে করছেন নারায়ণগঞ্জের সাধারণ ভোটাররা। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে শামীম ওসমানকে দলীয় সমর্থন দেয়া এবং নেতাদের প্রচারণায় নামার কারণে আইভীর দলীয় সমর্থন পাওয়ার এখন আর কোন সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান দলীয় সমর্থন পেয়েছেন- এটি তিনি নিজেই প্রচার করছেন। শুধু তিনি প্রচারই করছেন না। এখন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারাও প্রতিদিনই নারায়ণগঞ্জে যাচ্ছেন তার সমর্থনে। এতে আইভী বনাম আওয়ামী লীগের লড়াইয়ের বিষয়টি সাধারণ ভোটারদের কাছে পরিষ্কার হয়ে উঠছে। গতকাল ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া নারায়ণগঞ্জ গিয়ে শামীম ওসমানের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। বলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে তিনি শামীমের সমর্থনে এসেছেন। পরে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা শামীমের পক্ষে নারায়ণগঞ্জ যাবেন। এছাড়া, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতারা দলের হাইকমান্ডের নির্দেশেই নারায়ণগঞ্জে গিয়ে তার পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন বলে শামীম ওসমান নিজেও বলে বেড়াচ্ছেন। শুধুুু তাই নয়, শামীম ওসমান সমর্থকরা এখন প্রচার করছেন আইভী নির্বাচিত হলে নারায়ণগঞ্জে মৌলবাদীদের রাজত্ব কায়েম হবে। আইভীর পক্ষে স্থানীয় জামায়াত-শিবির কাজ করছে। তারা আইভীকে বিজয়ী করে নিজেদের ফায়দা লুুটতে চায়। এছাড়া, শামীম ওসমানের সমর্থকরা বলে বেড়াচ্ছেন- আইভী দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়ছেন। প্রচার-প্রচারণার দিক দিয়েও নারায়ণগঞ্জে এখন আলোচনা এই দুুই প্রার্থীকে নিয়ে। নির্বাচনী বক্তব্যেও তারা স্পষ্টত একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন। কৌশলে ঘায়েল করার চেষ্টা করছেন। শামীম ওসমান বরাবরই আইভীকে ‘ছোট বোন’, ‘অবুঝ’ বলে সম্বোধন করছেন। আইভী সরাসরি শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ না তুললেও পরোক্ষভাবে তিনি তাকে ইঙ্গিত করেই বক্তব্য রাখছেন। তার নির্বাচনী প্রচারপত্রেও তিনি সন্ত্রাস ও দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে বক্তব্য তুলে ধরছেন। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের দুই প্রার্থী ছাড়া চারদলীয় জোটের সমর্থন নিয়ে মাঠে আছেন বিএনপি নেতা এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। দল ও জোটের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও ভোটের মাঠে তাকে নিয়ে আলোচনা কম। আলোচিত হচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের দুই প্রার্থী। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে দলীয় প্রার্থী-সমর্থক নিয়ে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড চিন্তা-ভাবনা করলেও এ নিয়ে কোন সমাধান করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলের সমর্থন প্রত্যাশী দুই প্রার্থীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করলেও কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারেন নি। পরে দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও আরও কয়েক দফা বৈঠক করে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেন নি। নেতারা শুরু থেকেই শামীম ওসমানকে সমর্থন দেয়ার পক্ষে ছিলেন। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে নেতারা সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নানাভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে উদ্যোগী হন। কিন্তু আইভী অনড় থাকায় তাদের কোন চেষ্টাই সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিকল্প হিসেবে শামীম ওসমানকে মন্ত্রী করার শর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। শামীম এতে রাজি না হওয়ায় তাকেই সমর্থন দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। নির্বাচন কমিশনের বিধি ও নির্বাচনের ভোটে জয়-পরাজয়ের হিসাব কষে দলীয়ভাবে কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। ইঙ্গিতে শামীমের পক্ষে দলীয় সমর্থন প্রকাশের পরও আইভীর পক্ষে স্থানীয় নেতাকর্মীদের শক্ত অবস্থান থাকার বিষয়টি নিয়েও এখন চিন্তিত ক্ষমতাসীন দল। তবে আওয়ামী লীগ চাইছে শামীম ওসমানকে মেয়র হিসেবে বিজয়ী করে দলের লক্ষ্য পূরণ করতে। এ জন্য দলীয়ভাবে সব চেষ্টাই করা হবে। যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন তাই দলের অবস্থান হবে কৌশলী। দল সমর্থিত প্রার্থীর জয়ের জন্য কাজ করতে দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাদের শামীম ওসমানের পক্ষে নির্বাচনে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নেতারা নারায়ণগঞ্জে যাবেন। কিন্তু শামীম ওসমানের জয়ের বিপরীতে দলের অপর প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছে আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে উল্টো ফলাফল হলে দলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে এমনটা ভেবে আওয়ামী লীগ কৌশলে এগোচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অনানুষ্ঠানিকভাবে শামীম ওসমানকে সমর্থন দিয়ে আইভীকে মানসিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়। দলীয় হাইকমান্ডের মাধ্যমে আইভীকে শেষ সতর্ক সঙ্কেত দেয়া হয়েছে। তার মনোভাব বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তার অনড় অবস্থানের কারণে ধীরে ধীরে দল অবস্থান পরিষ্কার করবে। ইতিমধ্যে দলের তিন সাংগঠনিক সম্পাদকের নারায়ণগঞ্জে যাওয়ার পর শনিবার যুবলীগের ছয় কেন্দ্রীয় নেতা নারায়ণগঞ্জে যান। তারাও শামীম ওসমানের পক্ষে কেন্দ্রের সমর্থন ব্যক্ত করেন। স্থানীয় যুবলীগের এক বর্ধিত সভায় কেন্দ্রীয় নেতারা ঘোষণা দেন যারা দলের এই সিদ্ধান্তের বাইরে কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গতকাল ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নারায়ণগঞ্জ গেলেন। দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনের আগে শামীম ওসমানের পক্ষে দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও পর্যায়ক্রমে নারায়ণগঞ্জে আসবেন। এছাড়া, আওয়ামী লীগের অন্য সহযোগী সংগঠন ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারাও শামীম ওসমানের পক্ষে নারায়ণগঞ্জে যাবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এদিকে দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা শামীম ওসমানের পক্ষে অবস্থান নিলেও দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এখনও সরাসরি কোন ঘোষণা না দেয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি কিছুতেই কাটছে না। দলের নেতাকর্মীরা দলের দুই প্রার্থীর পক্ষে ভাগ হয়ে কাজ করছেন। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে নেতারা শামীম ওসমানকে সমর্থন দেয়ায় আইভী সমর্থকরা এখন মনে করছেন তারা দলের বিরুদ্ধে লড়ছেন। আইভী সমর্থক জেলা ও শহর আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, দল সরাসরি কাউকে সমর্থন না দিলেও শামীম ওসমানের পক্ষে কাউকে কোন কিছু না জানিয়ে নেতারা এসে সমর্থন দেয়ায় মনে হচ্ছে দলই এখন আইভীর বিরুদ্ধে লড়ছে। তারা জানিয়েছেন, আগে তারা আইভীকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে নানা কৌশল প্রয়োগ করে ব্যর্থ হন। এখন তারা তাকে পরাজিত করার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন। জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, আইভীকে কোনভাবেই ঠেকিয়ে রাখা যাবে না বলে দলীয়ভাবে তাকে দমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, এ জন্য দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌশলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। বিভ্রান্তির কারণে অনেক নেতাকর্মী আগে সরব থাকলেও এখন কোন প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করছেন না। এছাড়া, নির্বাচনী এলাকায় আইভীকে নিয়ে আরও নানা আলোচনা হচ্ছে ভোটারদের মুখে মুখে। আইভী দলীয় সমর্থন না পেলে বিএনপি’র সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করবেন এমনটি আগে আলোচনা হলেও তিনি নিজেই তা নাকচ করে দিয়েছেন। এখন বলা হচ্ছে ইভিএম-এর ব্যাপারে আপত্তি তুলে শেষ মুহূর্তে চার দলের সমর্থনপুষ্ট এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। এক্ষেত্রে বিএনপি ও সমমনা দলের পক্ষ থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সমর্থন দেয়া হতে পারে। এমনটি হলে ভোটের হিসাবও পুরো পাল্টে যাবে। এধরনের কোন ঘটনা ঘটলে আওয়ামী লীগ সমর্থক প্রার্থীর জয়ের কোন সম্ভাবনা থাকবে না। এ বিষয়টিও বেশ আলোচনা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে। এছাড়া, শামীম ওসমানের সমর্থকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী আইভীর পক্ষে কাজ করছে। তারা আইভীকে বিজয়ী করে নির্বাচন পরবর্তী সুবিধা আদায় করতে চায়। তবে আইভী সমর্থকরা বলছেন, তার ব্যক্তি ইমেজ নষ্ট করতেই এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

October 16th, 2011

হোয়াইটওয়াশ বাঁচাতে মরিয়া এখন বাংলাদেশ

সম্মান রৰা সম্ভব, না হোয়াইটওয়াশ হবে বাংলাদেশ? আগামীকাল মঙ্গলবার ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ। বাংলাদেশের এটি সম্মান রৰার ম্যাচ। ম্যাচের আগে এই প্রশ্নগুলোই সবার মুখে ঘুরপাক খাচ্ছে। সিরিজের দুটি ওয়ানডে শেষ। দুটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। এবার তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে নামবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটিও দুপুর দেড়টায় শুরু হবে।
দুই দলই এই ম্যাচটির উদ্দেশে এখন চট্টগ্রামে অবস্থান করছে। ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটি শেষ হতেই টেস্টের মিশনে নেমে পড়বে দুই দল। টেস্টও একই স্টেডিয়ামে, ২১ থেকে ২৫ অক্টোবর। প্রথম ওয়ানডেতে ৪০ রানে এবং দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। সিরিজ হারও নিশ্চিত হয়ে গেছে। এখন সিরিজের ব্যবধান ০-২। তৃতীয় ওয়ানডে তাই আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচ রূপে পরিণত হয়েছে। ম্যাচটিতে স্বাভাবিকভাবেই জয় তুলে নিতে চাইবে বাংলাদেশ। দুই ওয়ানডে হেরে হারানো ভাবমূর্তি রৰা করার তাগিদ থাকবে। সেই লক্ষে সফল হলে ভাল। সম্মান রৰা হবে। নয়ত হোয়াইটওয়াশ হতে হবে।
সম্মান ধুলোয় মিশবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ আসার আগ থেকেই প্রতিশোধ শব্দটি বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ তিন ওয়ানডেতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছিল। সেই হারের প্রতিশোধ নিশ্চয়ই নেবে ক্যারিবীয়রা। তখন যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তৃতীয় সারির একটি দল ছিল তা এখন প্রমাণ হচ্ছে। দুটি ওয়ানডে হয়েছে, দুটিতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনায়াসেই জয় পেয়েছে। যেন জয় পেতে কোন কষ্টই করতে হয়নি। আরেকটি জয় পেলে প্রতিশোধও নেয়া হয়ে যাবে। অবশ্য প্রতিশোধ শব্দটি মুখ দিয়ে উচ্চারণ করতে নারাজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটাররা। তারা প্রস্তুত হয়েই এসেছে। এমনিই বলছে বার বার। টি২০ ম্যাচে সেই প্রস্তুত হওয়ার আলামত মিলেনি। কিন্তু ওয়ানডেতে যে ক্যারিবীয়রা এতটা বিধ্বংসী হয়ে উঠবে কেউ ভাবতেও পারেনি। ব্যাটসম্যান-বোলাররা মিলে বাংলাদেশকে একেবারে ধুয়েমুছে দিচ্ছে। জিম্বাবুইয়ে সফর শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য পুরোদমে প্রস্তুতি নেয়া হয়। বিসিবি কাপ, চারদিনের ম্যাচ এবং টি২০ খেলা হয়। টি২০ ম্যাচে তার সাফল্যও মিলে। কিন্তু ওয়ানডেতে এসে সেই সাফল্য মস্নান হয়ে গেছে। এখন সবার ভেতর চট্টগ্রামে বাংলাদেশ দলের সাফল্যই যেন পুঁজি হচ্ছে। আর যেহেতু জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ম্যাচ, এই মাঠে বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়েই এখন সাফল্য খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মনে করা হচ্ছে ঢাকার বিস্মৃতি এসে বাংলাদেশ যে চট্টগ্রামে সাফল্য কুড়িয়ে নেয়, এবারও তাই হবে। সর্বশেষ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অবস্থা এই রকমই হয়েছিল। ঢাকায় জয় ধরা দিচ্ছিল না। এমনকি কঠিন পরিস্থিতিতেও পড়ে গিয়েছিল দল। শেষপর্যনত্ম চট্টগ্রামে গিয়ে ঢাকার স্মৃতি একেবারে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে সৰম হয়। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ আবারও চাঙ্গা হয়। শেষপর্যনত্ম তা ধরে রাখা যায়নি। তবে বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য পাওয়া গেছে চট্টগ্রামেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরম্নদ্ধে অবশ্য এই স্টেডিয়ামে এখন পর্যনত্ম কোন ম্যাচ খেলা হয়নি। ক্যারিবীয়দের বিরম্নদ্ধে প্রথমবার বাংলা-দেশ এই স্টেডিয়ামে কোন ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে। ম্যাচটিতে যখন নামছে বাংলাদেশ এর আগেই বিধ্বসত্ম হয়ে আছে। আর ওয়েস্টইন্ডিজ পুরোদমে চাঙ্গা। দেশে পা রাখার পর থেকেই সিরিজ জয় করতেই এসেছে তারা, এমনটিই বলছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটাররা। সেই কাজ তারা করেও ফেলেছে। সিরিজ জিতে নিয়েছে। এখন তাদের সামনে মিশন তৃতীয় ওয়ানডে। ম্যাচটি জিতলেই বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করবে ওয়ে দলে ব্যাটসম্যান-বোলারের ছড়াছড়ি। তামিম, ইমরুল, আশরাফুল, শাকিব, মুশফিক, কাপালীদের মতো ব্যাটসম্যানরা আছেন। শফিউল, রুবেল, রাজ্জাকদের সঙ্গে শাকিবের মতো বোলাররা থাকতেও কিছুই করা যায়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসার কেমার রোচ, রাভি রামপাল এবং ব্যাটসম্যান ল্যান্ডল সিমন্স ও মার্লন স্যামুয়েলসের ব্যাটিংয়ের সামনে দাঁড়ানোই যায়নি। সিরিজ শুরুর আগে ‘কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে’-বলেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ড্যারেন সামি। আর বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম বলেছিলেন, ‘আমরা প্রতিটি ম্যাচেই জয়ের জন্য খেলব।’ সামি কিংবা মুশফিক কারও কথাই সত্য হয়নি। সিরিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে না। আর প্রতিটি ম্যাচে ঠিকই জয়ের জন্য নামছে বাংলাদেশ। প্রতিটি দলই নামে। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাস আর পাওয়া যাচ্ছে না।
এমন ছন্নছাড়া আত্মবিশ্বাস নিয়ে কী মঙ্গলবারও নামবে দল? তাহলে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়া নিশ্চিত বলা যায়। আর বিপরীত হলে অর্থাৎ বাংলাদেশ যদি জয় পেয়েই যায় তাহলে সম্মান রৰা হবে। এই সম্মান রক্ষার ম্যাচই মঙ্গলবার।

October 15th, 2011

ক্যারিবীয়দের কাছে সিরিজ হারলো বাংলাদেশ

ফ্লয়েড রেইফার নিশ্চই খুশি হবেন এখন, হাজার হাজার মাইল দূর থেকে ক্যারিবিয় সাবেক এই অধিনায়ক হয়তো বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচটি দেখে তৃপ্ত হতেই পারেন, কারণ ঠিক দুই বছর আগে তাদের দেশের মাটিতে বাংলাদেশ দল ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ হারিয়েছিল। পুরো সিরিজে এমন বিধ্বস্ত হওয়ার কষ্ট তো রেইফারকে এখনো বিদ্ধ করে। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ড্যারেন স্যামিরা বাংলাদেশকে বিধ্বস্ত করে দুই বছর আগের ওয়ানডে সিরিজ হারের প্রতিশোধ নিলেন। এক ম্যাচ হাতে রেখে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলল সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২২১ রানের টার্গেট নিয়ে মারলন স্যামুয়েলস ও লেন্ডল সিমন্স বাংলা-দেশী বোলারদের উপর দিয়ে বইয়ে দিলেন ঝড়। যে ঝড়ে খেলা শেষ হয় ৪৪ বল বাকি থাকতে। পেস ও স্পিন আক্রমণভাগকে তুলোধুনো করে স্যামুয়েলস তুলে ফেলেন ৭৪ বলে ৮২ রান, আর সিমন্স আউট হলেও তার নামের পাশে যোগ করেন ১২৫ বলে ৮০ রান।

মিরপুর স্টেডিয়ামের উইকেট সবসময় বিতর্কিত হয়েছে। এর আগে স্বাগতিকদের জন্য উইকেট তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে ফায়দা নিয়েছে সফরকারীরাই। প্রথম ম্যাচে উইকেট সম্পূর্ণ প্রতিপক্ষকে সহায়তা করেছে বলে দ্বিতীয় ম্যাচটির জন্য মূলত টার্নিং উইকেট বানানো হয় বলে জানা যায়। কিন্তু উইকেট এতটাই বিচিত্র আচরণ করেছে যে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে স্কোর বোর্ডে ১ রান তুলতেই তিন উইকেট নেই! ZviciI ২২০ রানের একটা সম্মানজনক স্কোর হয়েছে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও নাসির হোসেনের ফিফটির কারণে। প্রথম আধঘণ্টা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং দেখে ২২১ রানের টার্গেটকেও একটু চ্যালেঞ্জ বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সিমন্স, ডেনজা হায়াত ও স্যামুয়েলস স্বাগতিক বোলারদের ছন্দকে গুঁড়িয়ে দিতে থাকেন। বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারি মারা খুব সহজ সেটা টপ অর্ডার তিন ব্যাটসম্যানের ব্যাটিংই প্রমাণ করে। দুটি চার ও দুটি ছয়ে হায়াত ঝড় দিয়ে ইনিংস শুরু করলেও সাকিব আল হাসান তার দ্বিতীয় স্পেলে ফিরিয়ে দেন লং অনে রুবেলের এক চমত্কার ক্যাচে। তখনো ম্যাচে ফিরে আসা সম্ভব ছিল, কিন্তু বোলারদের ছন্দহীন বোলিং এবং ব্যাটিং পিচের কারণে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমটি আলোকিত হয়নি। প্রথম ম্যাচে সিমন্স ও স্যামুয়েলস মিলে ১৫০ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দিয়েছিলেন, কালও এই দুই ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি পার্টনারশীপ গড়ে দুই দলের ব্যবধান তৈরি করেন। ৩১টি ওয়ানডে খেলা সিমন্সের এই বছরটি বেশ ভালোই যাচ্ছে, ৭টি ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরি রয়েছে তার। বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর গতকালও শতরানকে প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছিলেন, কিন্তু সাকিবের তৃতীয় স্পেলের শেষ ওভারের পঞ্চম বলে এলবিডব্লিউ হয়ে শেষ করতে হয় তার ৩টি ছয় ও ৩টি চারে ১২৫ বলে ৮০ রানের ইনিংসটি। এরপরের গল্প অবশ্য ম্যাচ সেরা স্যামুয়েলসের। আইসিসির নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে জাতীয় দলে ফিরেই ফর্মের তুঙ্গে রয়েছেন এই ব্যাটসম্যান। কাল শফিউল, রুবেলের বোলিংকে তছনছ করেছেন তিনি একাই। রুবেলের শেষ ওভারে ৩টি চার ও শফিউলের সপ্তম ওভারে ২১ রান নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ১টি ছয়, ১২টি চারে ৮৮ রানে অপরাজিত থাকেন স্যামুয়েলস। এক ম্যাচ হাতে রেখে জয় পাওয়া ক্যারিবিয় ব্যাটসম্যানদের প্রশংসার চাইতেও সেই পুরানো সমালোচনার ঝড় আবারও বইছে। উইকেট যদি কিউরেটরা স্পিনারদের জন্য বানিয়ে থাকেন তবে বাংলাদেশের ৬ স্পিনার মিলে কেন ১১২ রান দিবেন? বিকেলের কুয়াশার কারণে বল ধরতে সমস্যা হলেও অধিনায়ক মুশফিক কেন টসে জিতে ব্যাটিং নিলেন। ম্যাচ শেষে এসব প্রশ্নই বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে ঘুরছে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য হোয়াইটওয়াশ থেকে বাঁচার ম্যাচ বটে, তবে এই সিরিজের আগে স্বাগতিকরা লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিল, গত দুই ম্যাচে তার ছিটে ফোটা দেখা যায়নি। ২০০৯ সালে ডোমিনিকা ও সেন্ট কিটসে তিনটি ওয়ানডে এবং দুটি টেস্ট জিতলেও সিরিজের শুরুতে টি-টোয়েন্টি হারতে হয় তখনকার সাকিবের দলকে। দুই বছর পর নিজেদের হোম গ্রাউন্ডে প্রথমে টি-টোয়েন্টি জিতে দারুণভাবে শুরু করার পর ওয়ানডে সিরিজ খোয়াতে হল মুশফিকদের। এবার মান রক্ষার জন্য প্রয়োজন চট্টগ্রামে শেষ ম্যাচটির জয়।

October 12th, 2011

টাইগারদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে

টি২০ ম্যাচ শেষ। এবার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে নামার পালা। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ওয়ানডে। এই ম্যাচটি দিয়েই ওয়ানডে সিরিজ শুরু হচ্ছে। দুপুর দেড়টায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি দিবারাত্রির। আর এই ম্যাচটিতে নামার আগে জয় সঙ্গী করেই নামছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজে নামার আগে টি২০ ম্যাচ হয়েছে। সিরিজের একমাত্র এই টি২০ ম্যাচটিতে অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের অসাধারণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ জিতেছে ৩ উইকেটে। এই জয় বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটাররা এখন আতঙ্কে ভুগছে। মানসিক দিক দিয়েও বিপর্যস্ত। আবার না ওয়ানডেতেও হারের খপ্পরে পড়তে হয়। এমন ভাবনাই কাজ করছে ক্যারিবিয়ানদের মনে। সেই আশঙ্কাতেই ভুগছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
‘সত্যি বলতে টি২০ ম্যাচটিতে জয় আমাদের মানসিকতা চাঙ্গা করেছে। আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন সামনের ম্যাচগুলো নিয়ে ভাবছি।’- বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অনুশীলন শেষে এমনটিই বললেন টি২০ ম্যাচে ২ উইকেট নেয়া স্পিনার আবদুর রাজ্জাক। ‘বাংলাদেশ মানসিক দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে থাকবে স্বাভাবিক। টি২০ ম্যাচে জয়টি তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।’-টি২০ স্কোয়াডে ছিলেন না কিরন পোলার্ড। ওয়ানডে স্কোয়াডে যুক্ত হয়েছেন। দুপুরে অনুশীলনের ফাঁকে তার বলা এই কথাতে স্পষ্ট, বাংলাদেশ মানসিকতায় এগিয়ে থাকবে। আর তারা থাকবে পিছিয়ে। বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে বরাবরই সমস্যা থাকে। টি২০ ম্যাচটিতেও সেই সমস্যা ধরা পড়েছে। বোলাররা নিজেদের কাজ করে গেছেন। যখন ব্যাটসম্যানদের সময় এসেছে তখন আবার সেই ভরাডুবির চিত্রই ফুটে উঠেছিল। মুশফিক যদি দলের হাল সঠিক সময়ে না ধরতেন তাহলে জয় দিয়ে সিরিজ শুরুর সম্ভাবনা মলিনই হয়ে গিয়েছিল। রাজ্জাকও যেন সেই বিষয়টিই আবার নজরে আনলেন, ‘আমাদের বোলাররা সঠিক কাজ করে দিয়েছিল। ফিল্ডাররাও ভাল ফিল্ডিং করেছে। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা সঠিক কাজ করতে পারেনি। এই স্থানে আরও ভালও করতে হবে।’ পোলার্ডও যেন ব্যাটসম্যানদের নিয়েই ভাবছেন। ১৩২ রানেই যে দল অলআউট হয়ে গিয়েছিল। তার ভাবনায় পেসাররাও আছেন। এই সিরিজ ধরা হয়েছিল বাংলাদেশের স্পিন বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস এ্যাটাকনির্ভর হবে। টি২০ ম্যাচে বাংলাদেশ স্পিনাররা বাজিমাত করেছে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসাররা সেই তুলনায় ছিলেন নিষ্প্রভ। পোলার্ডও একজন মিডিয়াম পেসার। আর তাই টি২০ ম্যাচের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বলছেন, ‘আশা করি আগের ম্যাচের স্মৃতি ভুলে গিয়ে ওয়ানডে সিরিজ নিয়েই ভাবতে পারব আমরা। পেসাররাও ওয়ানডেতে ভাল করবে। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব ভাল করার।’ বাংলাদেশের একটি জয় সিরিজের আবহই পরিবর্তন করে দিয়েছে। এখন সবাই ভাবতে শুরম্ন করেছে ওয়ানডে সিরিজেও জয় সম্ভব। বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম সিরিজ শুরম্নর আগে বলেছিলেন, ‘আমরা প্রতিটি ম্যাচ জিততে চাই।’ তার সেই কথা গদবাধা ছিল। তবে আত্মবিশ্বাসে ছিল পূর্ণ। আর সেটি নিজেই প্রমাণ করেছেন। একমাত্র টি২০ ম্যাচ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ানডেতেও দল জিততে পারে এবং স্পিনাররা আবারও ম্যাচ জেতাবে এমন আশা এখন সবার।
বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ মোট ১৭টি ওয়ানডে হয়েছে। তিনটি ম্যাচ শুধু জিতেছে বাংলাদেশ। এছাড়া ১২ টিতেই হেরেছে। তিনটি ম্যাচের কোন রেজাল্ট হয়নি। এই ম্যাচগুলোর মধ্যে সর্বশেষ দুই দলের মুখোমুখি হওয়া ম্যাচটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রেরণা। বাংলাদেশকে যে ৫৮ রানে অলআউট করে দিয়েছিল। আর বাংলাদেশের জন্য সেই ম্যাচটি দুঃখ স্মৃতি। যেটিকে জয় করতে হবে মুশফিকের দলের। অবশ্য বাংলাদেশ দলের প্রেরণাও আছে। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে আত্মবিশ্বাস। প্রেরণা ২০০৯ সালে তিন ওয়ানডে জয়ের স্মৃতি। আর আত্মবিশ্বাস মঙ্গলবার টি২০ ম্যাচটিতে জয়। এই প্রেরণা আর আত্মবিশ্বাস নিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে চায়। ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ জিততে চাই’-এমনটিও বলেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। আর সেটির দ্বিতীয় ধাপ আজ। এবং আসল লড়াইও। ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ের টি২০ ম্যাচ শেষ। এখন যোগ্যতা দেখানোর পালা। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এরআগে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছিল এই দুটি দল। একটিতেই জয় পেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বিশ্বকাপে। যেই ম্যাচটি এখনও লজ্জা দিয়ে বেড়ায়। এবার দুই দলের মধ্যকার মিরপুরে দ্বিতীয় ম্যাচ হবে। এবারও দিবারাত্রিতে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর তাই এগিয়ে যাওয়ার মিশনও রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। দেশের মাটিতে এখন পর্যনত্ম ক্যারিবীয়দের বিরম্নদ্ধ বাংলাদেশ জিততে পারেনি। ৬ ম্যাচের মধ্যে ৫টিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। একটি ম্যাচের রেজাল্ট হয়নি। এরমধ্যে ৫টি ম্যাচই হয় দিবারাত্রিতে। অর্থাৎ দিবারাত্রির ম্যাচে বাংলাদেশ পিছিয়েই আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরম্নদ্ধে। ১৯৯৯ সালে দুই ম্যাচে, ২০০২ সালে দুই ম্যাচে এবং এইবছর বিশ্বকাপে একটি ম্যাচে দিবারাত্রিতে হারে বাংলাদেশ।
টি২০ ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম আবারও প্রতিটি ম্যাচে জয়ের কথাই বলেছেন। ম্যাচ বাই ম্যাচ ভাবছে বাংলাদেশ। টি২০ ম্যাচে জয় তুলে নেয়া গেছে। এখন ওয়ানডে ম্যাচেও কী জয় মিলবে? মুশফিক বলেন, ‘জয়ের জন্যই নামব। টি২০ ম্যাচে জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। ক্রিকেটারদের মানসিকতাও চাঙ্গা। এখন শুধু মাঠে ভাল খেলার প্রয়োজন। সবদিকে ভাল খেলতে পারলে জয় আসবে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে মুশফিকের ব্যাটিং নিয়ে উচ্চবাচ্য করেছেন। তবে টি২০ ম্যাচে হারলেও ওয়ানডে সিরিজ হাতছাড়া করতে রাজি নন, ‘এই ম্যাচে যা হয়েছে তা নিয়ে বসে থাকতে রাজি নই। ওয়ানডেতে আমরা জয় পাব আশা করছি।’
বাংলাদেশের কাছে এরআগের সিরিজে হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিশ্বকাপে তাদের পারফরম্যান্স দেখে মনে হয়েছিল বাংলাদেশকে এবার চুরমার করে দেবে। কিন্তু কোথায় সেই ভাবনা উড়ে গেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি২০ ম্যাচে কিছুই করতে পারল না। এখন ওয়ানডে সিরিজ শুরু হচ্ছে। টি২০ ম্যাচে হেরে স্বাভাবিকভাবেই ভাবনায় পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এত ‘হোমওয়ার্ক’ কোন কাজেই আসেনি সিরিজের প্রথম ম্যাচে। ‘শুরম্নটা ভাল হতে পারলে সিরিজ জেতাও সম্ভব’-মুশফিকের কণ্ঠে এমন আভাস ছিল।-সেই আশা নিয়ে শুভ সূচনাও হয়েছে। তাহলে কী সিরিজেও জিতবে বাংলাদেশ? তা সময়ই বলবে। দেশের মানুষ সেই আশাতেই আছেন। যেই আসার প্রতিফলন আজ থেকেই শুরু হতে পারে। আজ প্রথম ওয়ানডে। আর এই ম্যাচটিতে জয় সঙ্গী করেই নামছে বাংলাদেশ।

October 10th, 2011

আবেদনকারীরা কাজের সুযোগ পাচ্ছেন মালয়েশিয়ায়

মালয়েশিয়া সরকারের কাছে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করা প্রায় ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসী নির্দিষ্ট কিছু কাজের সুযোগ পাবেন। এখন থেকে পাম তেল চাষাবাদ বা নির্মাণ খাতের মতো যেসব জায়গায় মালয়েশিয়ারা কাজ করতে চান না, সেসব খাতে তাঁরা কাজ করতে পারবেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়, মালয়েশিয়া সরকার আবেদনকারী অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এতে সবচেয়ে উপকৃত হবেন ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ ও ফিলিপাইন থেকে ওই দেশে যাওয়া শ্রমিকেরা।
কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ কে এম আতিকুর রহমান বিবিসিকে বলেন, মালয়েশিয়া সরকারের এই বৈধতা কর্মসূচির প্রথম স্তর হচ্ছে নাম নিবন্ধন করা। যাঁরা অবৈধ কর্মী, তাঁরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে নিবন্ধন করছেন। বিভিন্ন খাতে পর্যায়ক্রমে তাঁদের বৈধতা দেওয়া হবে। আর যাঁরা বৈধ আছেন, তাঁদেরও নিবন্ধন করতে হবে। রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এই ঘোষণায় নতুন কোনো বাংলাদেশির মালয়েশিয়ায় আসার সুযোগ আপাতত নেই। আগে এই প্রক্রিয়াটি শেষ হোক। তারপর আমরা দেখছি, কদ্দুর কী করা যায়।’

October 10th, 2011

সমঝোতা হয়নি, লড়বেন আইভী ও শামীম

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে লড়বেন আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াত আইভী ও শামীম ওসমান। আজ সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দেখা করে জয়ের ব্যাপারে দুজনেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করার ব্যাপারে অনড় থাকেন। তাদের দুজনেরই অনড় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত কোন সমঝোতা হয়নি।
সূত্র জানায়, দুই প্রার্থীই প্রধানমন্ত্রীকে বলেন তারা নির্বাচনে জয়ী হবে। শেষে তারা জয়ের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দোয়া চান।
এর আগে গতকাল দুই দফা বৈঠক করেও আইভি ও শামীম ওসমানের মধ্যে মেয়র পদে কে দলের সমর্থন পাবেন সে সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই আজ এ বৈঠক বসে।

October 9th, 2011

সরজমিন পাসপোর্ট অফিস: ২০০ দালাল সক্রিয়

রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস ঘিরে প্রায় ২০০ দালাল সক্রিয়। এদের মধ্যে প্রায় ৫০ জন নারী। এছাড়া, দায়িত্বপালনরত পুলিশ ও আনসার সদস্যরাও দালালির কাজ করছেন। গতকাল সরজমিন পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে অবস্থান করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের পেছনে গড়ে উঠেছে আরেক অফিসপাড়া। সেখানে যারা কাজ করছেন তাদের দম ফেলার ফুরসত নেই। শ’ শ’ পাসপোর্টের কাজ করছেন তারা। এসব অফিস ‘দালাল অফিস’ হিসেবে পরিচিত। শেরেবাংলা নগর থানার সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে তৈরী শতাধিক দোকানঘর এখন দালালদের অফিস। এখানে বসেই পাসপোর্টের যাবতীয় সমস্যার সমাধান করে দিচ্ছেন দালালরা। ছবি সত্যায়িত করা, পাসপোর্ট নবায়ন, নতুন পাসপোর্ট, সংশোধনী কোন কাজের জন্যই মূল পাসপোর্ট অফিসে না গেলেও চলবে। চাহিদামতো টাকা দিতে পারলে দালাল অফিস থেকেই মিলবে সবকিছু। বরং কাগজপত্রে ভুল ত্রুটির নামে হয়রানি, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দেয়া, ফরম পূরণ, সত্যায়ন সব কিছু হয়ে যাবে অনায়াসে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই হাতে এসে যাবে পাসপোর্ট। মেশিন রিডেবল (এমআরপি) নতুন পাসপোর্ট ১৫ দিনে নিতে চাইলে দিতে হবে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। আর ১ মাসে নিতে চাইলে দিতে হবে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই ১৫ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট নিতে চাইলে দিতে হবে ২০ হাজার টাকা। নবায়নের জন্য ২ হাজার টাকা, সংশোধনের জন্য ৩ হাজার টাকা। এছাড়া শুধুমাত্র ফরম পূরণ ও কাগজপত্র দেখিয়ে নিতে দিতে হয় ৭শ’ থেকে ১ হাজার টাকা। সত্যায়িত করে কাগজপত্র ফাইল করে নিতে দিতে হবে ৫শ’ টাকা। প্রকাশ্যেই দীর্ঘদিন ধরে দালালদের এসব অফিস চললেও পুলিশ নির্বিকার। পাসপোর্টের কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পাসপোর্ট অফিস দালালমুক্ত। নতুন পাসপোর্টের সরকারি ফি ১৫ দিনের জন্য ৬ হাজার এবং ১ মাসের জন্য ৩ হাজার টাকা। অতিরিক্ত টাকা দালালদের সার্ভিস চার্জ। অবশ্য দালালদের বক্তব্য অতিরিক্ত এ টাকার সামান্য অংশই তারা পান। এর মধ্য থেকে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের দিতে হয় মোটা একটা অঙ্ক। ভাগ নেয় পুলিশ, আনসার আর স্থানীয় মাস্তানরা। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পাসপোর্ট অফিসকে দালালমুক্ত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। তখন বহিরাগত দালালদের সঙ্গে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের কথা বলা বা আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। তদবির বাণিজ্য বন্ধ করতে পাসপোর্ট ভবনের সবগুলো দরজায় অফিস চলাকালে তালা লাগানো থাকতো। এছাড়া, ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে নির্ধারিত সরকারি ফি দিয়ে ১ ঘণ্টায় পাসপোর্ট সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এতে পাসপোর্ট অফিস যেমন দালালমুক্ত হয়েছিল। তেমনি পাসপোর্ট প্রত্যাশী জনসাধারণের ভোগান্তিও লাঘব হয়েছিল। কিন্তু এখন আবার অরাজক পরিস্থিতি ফিরে এসেছে। পাসপোর্ট অফিস পরিণত হয়েছে দালালদের স্বর্গরাজ্যে। কর্মকর্তারাও দালালদের ব্যবহার করে ঘুষ বাণিজ্য শুরু করেছেন। গতকাল সরজমিন আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের সামনে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অবস্থান করে দালালদের তৎপরতার নানাচিত্র দেখা যায়। পাসপোর্টের ফরম নিয়ে দালালদের কর্মকর্তাদের কক্ষে অবাধে ঢুকতে দেখা গেছে। পাসপোর্ট অফিসের পেশাদার দালালদের পাশাপাশি দায়িত্বরত আনসার ও পুলিশ সদস্যকেও দালালের ভূমিকায় দেখা গেছে। শেরেবাংলা নগর থানার এসআই আবদুল করিমকে প্রকাশ্যে টাকা ও পাসপোর্টের কাগজ নিয়ে কর্মকর্তাদের কক্ষে ছুটে বেড়াতে দেখা গেছে। এছাড়া কনস্টেবল রহিম, আনসার সদস্য গোলাম হোসেন, রেজাউল করিম, আনিস, মনজু শাহ, হেলাল, মনির ও ফরিদকে পাসপোর্টের কাগজপত্র নিয়ে কর্মকর্তাদের কক্ষে ছুটোছুটি করতে দেখা গেছে। আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট অফিসে দালালি করার অভিযোগ অনেক পুরনো। সূত্র জানিয়েছে, পাসপোর্ট অফিস ঘিরে এখন প্রায় দু’ শতাধিক দালাল সক্রিয়। এদের মধ্যে প্রায় ৫০ জনের মতো নারী। গতকাল সালেহা নামের এক নারী দালালের কাছে পাসপোর্ট করে দেয়ার কথা বললে তিনি বলেন, ১৫ দিনের মধ্যে নেবেন, না ৩০ দিনের মধ্যে? কোনটার জন্য কত টাকা লাগবে জানতে চাইলে সালেহা বলেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়া ১৫ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট নিতে চাইলে দিতে হবে ২০ হাজার টাকা। ৩০ দিনের মধ্যে নিলে ১৫ হাজার টাকা। পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়া কিভাবে পাসপোর্ট দেবেন এমন প্রশ্ন করা হলে নারী দালাল সালেহা বলেন, এটা নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না। আমাদের পুলিশের সঙ্গে খাতির আছে। সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে। তাছাড়া, উপরে স্যারেরা আছেন। তারাই ব্যবস্থা করবেন। তিনি বলেন, ১০ বছর ধরে পাসপোর্ট অফিসে কাজ করছি। কোনদিন কোন অসুবিধা হয়নি। নাসিমা, রাশিদা, মরিয়ম, মোর্শেদা, সাহেরা সহ বেশ কয়েকজন নারী দালালের নাম বলেন তিনি- যারা তার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দালালির কাজ করছেন। এক দালাল জানালেন, তারা বাইরে থেকে পাসপোর্টের কাজ সংগ্রহ করেন। এরপর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের এক উপ-পরিচালককে দিয়ে আসেন। তিনি ১ ঘণ্টার মধ্যেই ডেলিভারির তারিখ দিয়ে দেন। তার অধীনে ৪ জন দালাল কাজ করে। প্রতিদিন তিনি ২০-২৫টি পাসপোর্টের কাজ করেন বলে জানিয়েছেন ওই দালাল। এছাড়া, দালালদের কাছ থেকে সপ্তাহে ৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে স্থানীয় কয়েকজন পুলিশের সোর্স। আনিস, টিপু, শাহ আলম, মলিন ওরফে কসাই মলিন, মালেক পুলিশের হয়ে দালালদের কাছ থেকে চাঁদা তোলে। এ কারণে পুলিশ দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় না। আগারগাঁও কম্পিউটার গলিতে কুষ্টিয়ার রবি ও শুক্কুর সাদা পাসপোর্ট বইয়ের ব্যবসা করেন। শুক্কুর বগুড়া থেকে সাদা বই এনে বিক্রি করে। গত মাসে র‌্যাব-২ সদস্যরা তাকে ১০০ পাসপোর্ট সহ গ্রেপ্তার করে। সমপ্রতি জামিনে বেরিয়ে আবার দালালি শুরু করেছে সে। আগে পাসপোর্ট অফিসের দালালি নিয়ন্ত্রণ করতো আক্কাস। এখন সে পলাতক। এখন দালালি নিয়ন্ত্রণ করছে লিটন, ফারুক, রফিক, নুরুল, খায়ের, রাসেল, মালেক, শহিদ, আসাবুল, জসিম, স্বপন, তুহিন, রাইফেল মজিবুর, রেজাউল। এদের মধ্যে অনেকেই সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তবে দালালি, কর্মকর্তাদের ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ কেউ স্বীকার করেনি। বক্তব্য জানতে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল মাবুদের কক্ষে গেলে সেখান থেকে বলা হয় তিনি মন্ত্রণালয়ে আছেন। পরিচালক সিরাজউদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। সিরাজউদ্দীন বলেন, আমাদের কাছে লোকজন এসে বলে এখন কোন দালাল নেই। সব ক্লিন হয়ে গেছে। আমরা নিজেরাও দালাল দেখতে পাই না। আপনারা কিভাবে দেখতে পাচ্ছেন বুঝতে পারছি না। ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার বন্ধ হয়ে যাওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, আগে হাতে লেখা পাসপোর্ট ১ ঘণ্টায় দেয়া যেতো। কিন্তু এখন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ১ ঘণ্টায় দেয়া সম্ভব নয়। তাই সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের কক্ষে দালালদের অবাধ বিচরণ সম্পর্কে তিনি বলেন, সবাই সবার কাছে যাবে এটাই স্বাভাবিক। এতে জনগণেরই লাভ হয়। আনসার সদস্যদের দালালিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ সম্পর্কে আনসার কমান্ডার আজাদ বলেন, কোন আনসার সদস্য যদি নিজের দায়িত্ব বাদ দিয়ে দালালি করে তবে তা গুরুতর অন্যায়। এরকম কারও নাম পাওয়া গেলে উপরস্থ কর্মকর্তাদের জানানো হবে। যোগাযোগ করা হলে শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জিয়াউজ্জামান বলেন, দালালদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা প্রায়ই দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাই। কয়েকদিন আগে ১০-১২ জনকে ধরে চালান দেয়া হয়েছে।

October 9th, 2011

চার বছরের পণ্য আগাম ঠিক করে গেছেন স্টিভ জবস

সদ্যই পৃথিবী ছেড়ে গেছেন ‘শিল্পী মন আর ইঞ্জিনিয়ার মসত্মিষ্ক’ স্টিভ জবস। কিন্তু মৃতু্যর আগেই তাঁর প্রতিষ্ঠান এ্যাপলের ভবিতব্য তিনি ঠিক করে গেছেন। আগামী ৪ বছর নতুন পণ্যের জন্য এ্যাপলকে যেন সংশয়ে ভুগতে না হয় সে ব্যবস্থা করে গেছেন তিনি।
আইপড, আইপ্যাড, আইফোন এবং ম্যাকবুকসহ নতুন অনেক পণ্যেরই নকশা চূড়ান্ত করে গেছেন স্টিভ। খবর ডেইলি মেইল অনলাইনের।
‘স্পেসশিপ’ আকারের এ্যাপলের নতুন হেডকোয়ার্টার তৈরির পরিকল্পনা ছিল তাঁর। সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চলতি বছরের জুন মাসেই তিনি অনুমতি দিয়ে গেছেন। এ্যাপল সূত্রে বলা হয়েছে, জবস জানতেন, তাঁর সময় ফুরিয়ে আসছে, তাই তিনি পুরো এক বছর প্রচুর পরিশ্রম করেন। সে সময়ে তিনি এ্যাপলের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা পণ্যগুলোর জন্য কাজ করেছেন।
এ্যাপলের পাইপলাইনে চার বছরের পণ্য স্টিভ নিজেই নকশা করে গেছেন। শেষদিকে তিনি ধরেছিলেন আইক্লাউডের কাজও। বিশেস্নষজ্ঞরা বলছেন, স্টিভের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ভার এখন এ্যাপলের বর্তমান সিইও টিম কুকের ওপর।
তাঁর সহযোগী হিসেবে আছেন জনি আইভ, ফিল শিলারসহ সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে মোট নয় জন।

October 9th, 2011

মিসর আবারো বিদ্রোহের ইঙ্গিত!

সবজি হিসাবে টমেটো মিসরে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বহু মিসরীয় নাগরিকের প্রতিদিনকার খাদ্য তালিকায় টমেটো দিয়ে তৈরি কোন না কোন পদ থাকবেই। প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পতনের পর গত সাত মাসে টমেটোর দাম দ্বিগুণ হয়েছে। গত জুন মাসে চাল ও চিনির দাম যা ছিল মাত্র ৩০ দিনের ব্যবধানে জুলাইতে এসে দুটি পণ্যের দামই শতকরা দশ ভাগ বেড়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য খাদ্য পণ্যের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

মিশরীয় লেখক ইয়াসমিন রাশিদি সেদেশের জনদুর্ভোগের চিত্রকে বর্ণনা করেছেন, জীবন এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিলে মিশরে আসলে কোন পরিবর্তন হয়নি। আর যদি কিছু হয়ে থাকে তা হচ্ছে, সব কিছুই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিন দিন খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ছে। দরিদ্র মানুষের অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। চাকরির সুযোগ ক্রমশ কমছে।

তিনি বলেন, যে পরিবর্তনের স্বপ্ন মানুষ দেখেছিল তাতে মাত্র কয়েক মাসেই ধূলো জমেছে। রাজপথে বিক্ষোভে অংশ নেয়া অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ছে। মিসরীয়রা ভাল বেতন, কাজের সুন্দর পরিবেশ এবং অনেক বেশি কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা চায়। তাদের স্বপ্ন ধূসর হয়ে পড়ছে। এসব কিছু বিবেচনায় নিলে মিশরের মানুষের সত্যিকারের বিপ্লব এখনো হয়নি। অনেক জায়গাতেই বিপ্লব ঘটা এখনো বাকি আছে।

মিশরের মোট জনসমষ্টির দুই-তৃতীয়াংশের বয়সই ৩০ বছরের নিচে। তাদের তিন ভাগই আবার কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করা বহু তরুণ এখনো বেকার। এই তরুণদের বড় অংশই রাজপথে মোবারক বিরোধী বিক্ষোভে সক্রিয় ছিল। বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষকে সংঘটিত ও নেতৃত্বদানের কাজটিও করেছে তারা। কিন্তু তাদের ভাগ্যে আজও চাকরি জুটেনি। অথচ বিক্ষোভের দিনগুলোতে তাদের বিশ্বাস ছিল মোবারকের পতনের পর এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। উল্টো মিসরে বেকারত্বের হার বাড়ছে। বিস্ময়কর হচ্ছে গত বছরের তুলনায় এ বছর দেশে বেকারত্বের হার বেড়েছে ১১ দশমিক ৯ ভাগ।

তবে এই অবস্থার পরিবর্তন হবে বলে অনেকেই আশাবদী। ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনের (আইএলও) লেবানন অফিসের কর্মকর্তা নাদা আল নাসিফ জানিয়েছেন, মিসরের বর্তমান কর্মসংস্থান পরিস্থিতিকে কিছুটা হতাশাব্যঞ্জক মনে হতে পারে। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। ক্রান্তিকালীন এই সময়টা পেরিয়ে গেলে সরকারি পর্যায়ে বিরাটসংখ্যক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এদিকে মানুষের আকাশচুম্বি প্রত্যাশার বিষয়টি অজানা নয় দেশটির সুপ্রিম কাউন্সিলের। সেনাবাহিনী পরিচালিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঐক্য ও সামাজিক বিচার মন্ত্রী ডক্টর গোদা আবদেল খালেক বলেছেন, মিসরীয় নাগরিকদের অধিকার আছে আরো বেশি চাওয়ার। তাদের প্রত্যাশার বিষয়টি মোটেও অযৌক্তিক নয়। প্রত্যাশা পূরণের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করেছে মানুষ। এখন তারা সম্ভাব্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেতে চাইবে। এ জন্য কম ত্যাগ স্বীকার করেনি সাধারণ মানুষ।

তিনি স্বীকার করেন দেশে খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে। এনিয়ে মানুষের মধ্যে কিছুটা অসন্তুষ্টিও আছে। তিনি বলেন, সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ও অস্থিরতা প্রভাব ফেলেছে দেশের অর্থনীতিতে। রাজপথে তুমুল আন্দোলনের দিনগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী তাদের সফর বাতিল করেছে। এতে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিক্ষোভের আগে পর্যটন খাতছিল অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। পর্যটন শিল্পে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে মানুষের জীবন-যাপনে।

সরকারি এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার সময়েও মিশরে যতো পর্যটক ভ্রমণ করেছেন মোবারকের পতনের পর সে সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল, মে এবং জুন এই তিন মাসে দেশটিতে ২২ লাখ বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। কিন্তু গত বছরের একই সময়ে পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৩৫ লাখ।

ঐক্য ও সামাজিক বিচারমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার পর্যটন শিল্পের বিকাশে ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নতুন চিন্তা-ভাবনা করছেন। একই সঙ্গে অর্থনীতি পুনর্গঠনে কৃষি এবং শিল্পায়ন প্রক্রিয়াকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু সরকারের এসব উদ্যোগ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কতোটা কার্যকর অবদান রাখতে সম্ভব হবে সে প্রশ্নও আছে বিশেষজ্ঞদের মাঝে। তারা বলছেন রাজপথে বিক্ষোভকারী তরুণদের চাহিদা পূরণে সরকারের দক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ। কর্মহীন তরুণরা সরকারি আশ্বাসের চেয়ে দ্রুততম সময়ে চাকরির নিশ্চয়তা চায়।

এ প্রসঙ্গে বিচারমন্ত্রী আবদেল খালেক বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে ডিগ্রি অর্জনের সঙ্গে সঙ্গেই প্রত্যেক তরুণ একটি খুব ভালো চাকরি পেয়ে যাবে এমন প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। অনেক মিশরীয় নাগরিকই এখন এই বিষয়টি অনুধাবনে সক্ষম হচ্ছে যে, আপনি কোথায় কাজ করছেন আর কি কাজ করছেন তারচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সব কাজই মর্যাদাপূর্ণ এবং দিন শেষে কতো টাকা আয় করছেন।

তরুণদের মোবারক বিরোধী বিক্ষোভে যোগ দেয়ায় একটি বড় কারণ ছিল প্রশাসনিক দুর্নীতির বিস্তার রোধ করা। তাদের অনেকেরই ধারণা মোবারকের পরিবার, তার পরিষদবর্গ, উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক আমলা এবং ব্যবসায়ী গোষ্ঠী দুর্নীতিতে জড়িয়ে না পড়লে দেশের অর্থনীতি আরো বেশি ভাল থাকতো। দেশ হিসাবেও মিসর অনেক ধনী রাষ্ট্র হত। কিন্তু দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে তরুণরা স্পষ্টতই এখন হতাশ হয়ে পড়ছে। সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় দুর্নীতির বিষয়টি এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে না। তার চেয়ে দৈনন্দিন সমস্যা মোকাবেলা নিয়েই সরকার বেশি উদ্বিগ্ন। এ অবস্থা তরুণদের ক্ষুব্ধ করে তুলছে। তবে দুর্নীতি নির্মূলে অভিযান থেমে নেই সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বিষয়টি বারবার জানানো হচ্ছে। অর্থনীতি পুনর্গঠন, দুর্নীতি হ্রাস, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য দেশটির সরকার মানুষের কাছে সময় চেয়েছে এবং সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে।

দি ব্যাটেল ফর ইজিস্ট-এর লেখক রাশিদি বলেছেন, মানুষ দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে থাকবে না। বহু ক্ষেত্রে মিশরীয় বিপ্লব ঘটতে এখনো বাকী আছে। আমি মনে করি নতুন করে আবারো বিদ্রোহের সূচনা হবে।

October 8th, 2011

দোটানায় কারিনা

সময়ের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন অভিনেত্রী কাটরিনা কাইফ কিংবা সেনসেশন সোনম-সোনাক্ষীদের ভিড়েও এখন পর্যন্ত বলিউডের এক নম্বর নায়িকার স্থানটি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন কারিনা কাপুর। এই কারিনা কাপুরের স্বপ্নের নায়ক হলেন মিস্টার পারফেকশনিস্ট খ্যাত অভিনেতা আমির খান এবং বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। ইতিমধ্যে এই দু’জনের বিপরীতেই অভিনয়ের সৌভাগ্য হয়েছে কারিনার। শুধু তাই নয় আর কিছুদিনের মধ্যে সারা বিশ্বে মুক্তি পেতে যাচ্ছে শাহরুখ-কারিনা জুটির ‘রা.ওয়ান’ ছবিটি। বিগ বাজেটের এই ছবিটির প্রচারণায় বর্তমানে বেশ ব্যস্ত কারিনা। পাশাপাশি তিনি বর্তমানে শুটিং করছেন আরও একটি বিগ বাজেটের ছবি ‘ধূয়ান’-এর। রিমা কাতগি পরিচালিত এই ছবির মধ্যে দিয়ে আমির খানের বিপরীতে দ্বিতীয়বারের মতো জুটিবদ্ধ হয়েছেন কারিনা। কিন্তু একদিকে শাহরুখ এবং অন্যদিকে আমিরকে নিয়ে বেশ দোটানার মধ্যে পড়ে গেছেন এই অভিনেত্রী। কারণ, শাহরুখ কারিনাকে আগেই অনুরোধ করে রেখেছেন ‘রা.ওয়ান’-এর দুবাই ও লন্ডনের প্রিমিয়ার শোতে উপস্থিত থাকার জন্য। কিন্তু সেই একই সময় ফুলটাইম শিডিউল দেয়া আছে আমিরের ‘ধূয়ান’ ছবিটির জন্যও। তাই বর্তমানে বেশ দোটানার মধ্যেই পড়ে গেছেন কারিনা। ‘রা.ওয়ান’-এর প্রিমিয়ারে না গেলে শাহরুখ যেমন খানিকটা চটে যেতে পারেন কারিনার উপর তেমনি শিডিউল অনুযায়ী শুটিংয়ে না আসলে বরাবরের মতোই বেঁকে বসতে পারেন পারফেকশনিস্ট আমির খানও। এখন দেখার বিষয় হচ্ছে কাকে বেশি প্রাধান্য দেন কারিনা, আমির নাকি শাহরুখকে।