মিশরের তিন দফা নির্বাচনের প্রথম দফা সম্পন্ন হয়েছে। এতে ইসলামপন্থি দল মুসলিম ব্রাদারহুড ভাল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ অবস্থায়ই তারা বলে বসেছে, মিশরের ঐতিহাসিক নির্বাচনে যে দলই বিজয়ী হোক তাদের সরকার গঠন করতে দেয়া উচিত। তাদের এই ঘোষণায় ক্ষমতাসীন সামরিক শাসকদের সঙ্গে ইসলামপন্থি ওই দলের সংঘাত সৃষ্টি হওয়ার সমূহ আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সামরিক শাসকরা সবেমাত্র একজন নতুন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, তারা পার্লামেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন। নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। কিন্তু মুসলিম ব্রাদারহুডের তাড়াহুড়ো দেখে বিশ্লেষকরা আরেক দফা ক্ষমতার দ্বন্দ্বের আশঙ্কা করছেন। এরই মধ্যে দু’দিনের শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সামরিক শাসনের অবসান চেয়ে আন্দোলনও অব্যাহত আছে। এ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মঙ্গলবার রাতে সংঘর্ষে প্রায় ৮০ জন আহত হয়েছে। মিশরের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচন জানুয়ারি মাসের শুরু পর্যন্ত চলবে। কিন্তু এরই মধ্যে যে ভোট গ্রহণ হয়ে গেছে তার ফল গতকালই প্রকাশিত হওয়ার কথা। মিশরজুড়ে টেলিভিশনে এই ফল সরাসরি সমপ্রচার করে। এই মিশরেই ১৯৫২ সালে রাজতন্ত্রকে সেনা বাহিনী খতম করার পর আর কোন নির্বাচন হয়নি। তার পর থেকে এ পর্যন্ত এটাই মিশরীয়দের কাছে প্রথম নির্বাচন। ফলে ভোট দিতে উপস্থিত হন প্রায় সব ভোটার। নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সঙ্গত কিছু বাধা ও সহিংসতা ছাড়া নির্বাচন হয়েছে শান্তিপূর্ণ। শহরে বন্দরে দেখা গেছে নির্বাচনী পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন। বলা হচ্ছে, এই নির্বাচনে যে শক্তি ক্ষমতায় আসবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্রভাব ফেলবে। কারণ, মিশরের গণঅভ্যুত্থান দেখে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ আন্দোলনে উৎসাহিত হয়েছে।
ফলে সবার চোখ মুসলিম ব্রাদারহুডের দিকে। এই গ্রুপটিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক ও তার পূর্বসুরিরা নিষিদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু তারাই এখন দেশটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের পথে। মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখা দ্য ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি প্রতিষ্ঠা করা হয় এ বছরের শুরুতে। তারাই বলছে, মিশরের নতুন পার্লামেন্টেরই উচিত নতুন সরকার গঠন করা। ওই সংগঠনের প্রধান মোহাম্মদ মারসি বলেন, পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সরকার যদি গঠন করা না হয়, তাহলে সে সরকার কার্যত কোন ভাল কাজ করতে পারবে না। তাই আমরা মনে করছি, এটাই স্বাভাবিক ঘটনা- পার্লামেন্ট নির্বাচনে যে দলই বিজয়ী হোক তাদের উচিত নতুন সরকার গঠন করা। আমরা মনে করি, নতুন সরকার জোটবদ্ধ সরকার হলে তা ভাল কাজ করতে পারবে। ওদিকে গত সপ্তাহেই মিলিটারি কাউন্সিল হোসনি মুবারক আমলের ৭৮ বছর বয়সী কামাল আল গানজুরিকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছে। তাকে একটি নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করতে বলা হয়েছে। দ্য ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির জবাবে মিলিটারি কাউন্সিলের এক সদস্য বলেছেন, কামাল গানজুরির সরকারকে বরখাস্ত করে নতুন সরকার গঠনের কর্তৃত্ব নেই নতুন নির্বাচিত পার্লামেন্টের।
মিশরে সঙ্কট কাটবে কি!
‘ব্যবহারকারীর তথ্য বিক্রি করেছে ফেসবুক’
যোগাযোগের জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে তার ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করার এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
যেভাবে ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্যে আড়ি পাতে এবং তা সংগ্রহ করে; সে পথ বন্ধে ইউরোপিয়ান কমিশন কাজ শুরু করেছে।
ইউরোপিয়ান কমিশনের বরাতে সানডে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেসবুক তাদের ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে তা বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে বিক্রি করছে। বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে বিক্রি করা তথ্যের মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশ্বাস, যৌনতা এবং অন্যান্য তথ্য। ফেসবুকের এ তথ্য পাচার প্রক্রিয়া বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে ইউরোপিয়ান কমিশন।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অত্যাধুনিক সফটওয়্যার ব্যবহার করে ফেসবুক তাদের ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছে। এমনকি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সেটিংস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তা বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে তা সরবরাহ করছে ফেসবুক।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপিয়ান কমিশন ফেসবুকের এ ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এর ফলে ব্যবহারকারীর অনুমোদন ছাড়া ফেসবুকে কোনো বিজ্ঞাপন থাকবে না।
ইউরোপিয়ান কমিশনের এ নতুন বিধান মানতে ব্যর্থ হলে ফেসবুককে আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।
ইউরোপিয়ান কমিশনের উপ-প্রেসিডেন্ট ভিভিয়ান রেডিং বলেছেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের প্রতি অধিক স্বচ্ছতা আহ্বান জানাচ্ছি। তা কীভাবে পরিচালিত হয়, ব্যবহারকারীর কী কী তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য ব্যবহারকারীর জানার অধিকার রয়েছে।
তবে কারও কাছে ব্যবহারকারীর তথ্য সরবরাহ বা বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছে ফেসবুক।
মন্ত্রী হলেন সুরঞ্জিত, ও. কাদের ::: পূর্ণ মন্ত্রী পদে হাছান মাহমুদ
সকল জল্পনা-কল্পনা ও গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভার কলেবর বৃদ্ধি হলো। তৃতীয় দফা সম্প্রসারণে এবার দু’জন নতুন মুখ পূর্ণমন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন। নতুন মন্ত্রী হয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং সভাপতিম-লীর সদস্য ওবায়দুল কাদের। প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। স্বাধীনতার পর থেকে অধিকাংশ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এই প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হলেন। এতে মহাজোট সরকারের বর্তমান মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা দাঁড়াল ৪৫ জন। সোমবার রাত সোয়া ৮টায় বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রীদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান। ১০ মিনিটের এ শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসেন ভূইয়া। অনাড়ম্বর এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি ছিলেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান।
নতুন দুই মন্ত্রী সাধারণ গাড়ি নিয়ে বঙ্গভবনে গেলেও শপথগ্রহণ শেষে বঙ্গভবন থেকে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে তাঁরা নিজ নিজ বাসায় ফেরেন। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নতুন দুই মন্ত্রীর দফতর ভাগ করে দেয়া না হলেও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ওবায়দুল কাদের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। নতুন দুই মন্ত্রী আজ সকালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
শপথগ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মন্ত্রিসভায় রদবদল একটি স্বাভাবিক ঘটনা। তিন বছর হয়ে গেল। ভাবছিলাম কিছুটা রদবদল করব। কিন্তু তা হয়ে ওঠেনি। এখন দুজন নতুন মন্ত্রী এবং একজন পদোন্নতি পেয়েছেন। গত তিন বছরে বর্তমান মন্ত্রিসভার কার্যক্রমে তিনি সনত্মোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘চোখ থাকতেও যারা অন্ধ’ তারা কখনও সরকারের সফলতা দেখে না।
জীবনের প্রথম মন্ত্রী হিসাবে শপথগ্রহণের পর প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রাজনীতি কোন আঞ্জুমানে মফিদুল কিংবা রামকৃষ্ণ মিশন নয়_ রাজনীতিবিদদের বিভিন্ন মিশন-ভিশন থাকে। পরবর্তীতে ৰমতায় যাওয়ার জন্য কাজ করার বিষয় থাকে। তিনি বলেন, মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছি। সততা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব।
পদোন্নতি পাওয়া মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, প্রতিমন্ত্রী হিসাবে যে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম, পূর্ণমন্ত্রী হওয়ার পর সেই কাজের ৰেত্র আরও প্রশসত্ম হলো।
গত কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদল আসছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ ব্যাপারে বারংবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হলেও কৌশলে তা এড়িয়ে যান। সর্বশেষ কয়েক মন্ত্রীর বিরম্নদ্ধে নানা অভিযোগ, ব্যর্থতা, এমনকি দুনর্ীতির পরোৰ অভিযোগ আসার পর মন্ত্রিসভার রদবদলের বিষয়টি বাসত্মবে রূপ নেয়।
রাজনৈতিক মহলে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে বেশ ক’দিন ধরেই আলোচনা চলছিল, গত প্রায় তিন বছরে মন্ত্রীরা তেমন কোন চমক দেখাতে না পারায় কপাল খুলছে দলটির মন্ত্রী ও দলের গুরম্নত্বপূর্ণ পদ থেকে বাদ পড়া সিনিয়র নেতাদের। সোমবার মন্ত্রিসভার রদবদলের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হয়। তবে সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক ইঙ্গিত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে জরম্নরী ভিত্তিতে তাঁকে দেশে ডেকে আনার পর মন্ত্রিপরিষদের রদবদলের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
দলের একাধিক সূত্র জানায়, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও ওবায়দুল কাদেরের কপাল খুললেও সাইডলাইনে থাকা অপর শীর্ষ নেতা আমির হোসেন আমু, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, আবদুল জলিলদের কী হবে_ এ নিয়েও দলের মধ্যে জোর আলোচনা চলছে। সেৰেত্রে অন্য তিন জনের ব্যাপারে দলের হাইকমান্ড এখনও কঠোর অবস্থানে থাকলেও তোফায়েল আহমেদ বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গুডবুকে’ রয়েছেন। দিনভর গুঞ্জন ছিল সুরঞ্জিত ও ওবায়দুল কাদেরের পাশাপাশি তোফায়েল আহমদও শপথ নিচ্ছেন। কিন্তু শেষ পর্যনত্ম তা হয়নি।
অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, এবার মন্ত্রিসভায় সামান্য রদবদল হলেও শীঘ্রই আরেকটি রদবদলের ঘটনা ঘটবে। এবার কোন মন্ত্রীকে বাদ দেয়া না হলেও সামগ্রিক মূল্যায়নে পরবতর্ী রদবদলে কপাল পুড়তে পারে মন্ত্রিসভার বেশ কয়েক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর। নতুন করে শপথ নিতে পারেন দলের সিনিয়র আরও দু’তিন নেতা।
এছাড়া মন্ত্রিসভায় স্থান না হলেও আগামী জুন মাসে আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় কাউন্সিলে দূরে ঠেলে দেয়া এ সিনিয়র নেতাদের আবারও দলের গুরম্নত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করে তাঁদের কাছে টানবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগে কিছু দূরে থাকলেও সম্প্রতি দলের যে কোন গুরম্নত্বপূর্ণ কর্মসূচীতে দলের সিনিয়র নেতারা এখন থাকছেন সামনের সারিতে।
২ বছর ১১ মাসে ৩ বার মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর মন্ত্রিসভা তিনবার সম্প্রসারিত করা হয়েছে। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের ৩২ সদস্যের মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। এরপর মাত্র ১৮ দিনের মাথায় ২৪ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায় প্রথম দফা সম্প্রসারণ করা হয়। এ সময় আরও ৬ জন শপথ নিলে মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়ায় ৩৮ জনে। দ্বিতীয় দফায় আরও ৬ জন শপথ নেয়ায় মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৪ জনে। কিন্তু স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজীম আহমেদ সোহেল তাজ পদত্যাগ করার পর মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৩ জনে। সোমবারে আরও দুইজন শপথ নেয়ার এ সংখ্যা ৪৫-এ উন্নীত হলো। আর প্রধানমন্ত্রী ৭ উপদেষ্টাকে নিয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে। মহাজোট সরকারের নতুন তিন মন্ত্রী এ্যাডভোকেট সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সুনামগঞ্জ-২ আসন থেকে এবং ওবায়দুল কাদের নোয়াখালী-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এছাড়া মোহাম্মদ হাছান চট্ট্গ্রাম-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হন।
সরকারের বর্তমান মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা বর্তমান হাসিনা সরকারে পূর্ণমন্ত্রীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতারা হলেন মতিয়া চৌধুরী, আবুল মাল আবদুল মুহিত, একে খন্দকার, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, শফিক আহমেদ, রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, সাহারা খাতুন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, খোন্দকার মোশাররফ হোসেন, রেজাউল করিম হীরা, আবুল কালাম আজাদ, আফম রম্নহুল হক, দীপু মনি, আফছারম্নল আমীন, আব্দুর রাজ্জাক, এনামুল হক মোসত্মফা শহীদ, নূরম্নল ইসলাম নাহিদ, আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, সৈয়দ আবুল হোসেন, ফারম্নক খান ও রমেশচন্দ্র সেন। মন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন জাতীয় পার্টির নেতা জিএম কাদের ও সাম্যবাদী দলের নেতা দিলীপ বড়ুয়া।
প্রতিমন্ত্রীরা হলেন শামসুল হক টুকু, আব্দুল মান্নান খান, মোঃ মোতাহার হোসেন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোঃ কামরম্নল ইসলাম, মোঃ শাহজাহান মিয়া, মাহবুবুর রহমান, মুস্তাফিজার রহমান ফিজার, দীপঙ্কর তালুকদার, এবি তাজুল ইসলাম, মুন্নুজান সুফিয়ান, আহাদ আলী সরকার ও ইয়াফেস ওসমান।
মহাজোট সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আওয়ামী লীগের বাঘা অনেক নেতাকে বাদ দিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। শুরুতে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন বর্ষীয়ান নেতা আমির হোসেন আমু, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, তোফায়েল আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল জলিল, ওবায়দুল কাদেরসহ অনেকে। তখন বলা হয়, ওয়ান ইলেভেনের পর নানাবিধ ভূমিকা থাকায় আওয়ামী লীগের অনেক বাঘা নেতাদের স্থান হয়নি মন্ত্রিসভায়। অবশেষে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং ওবায়দুল কাদের মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেও অপেৰার পালা বাড়ল বাকিদের।
বিএনপি নেতাদের প্রতিক্রিয়া ॥ মন্ত্রিসভায় নতুন দুজন মন্ত্রী যোগ হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন তাৎৰণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, নতুন মন্ত্রী নিয়োগ করা একেবারেই সরকারের নিজস্ব ব্যাপার। বিষয়টি সম্পূর্ণই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। এ বিষয় নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে কোন প্রতিক্রিয়া দেব না। তবে দলের পৰ থেকে রাজনৈতিক কোন প্রতিক্রিয়া যদি দেয়া হয় তা দেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর। একই বিষয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম বলেন, বর্তমান সরকার এখন ডুবনত্ম নৌকা। মাঝি পরিবর্তন করে এ নৌকাকে বাঁচানো যাবে না। জনগণ এখন চায় এ সরকার পদত্যাগ করে নির্বাচন দিক। ব্যক্তিকে খুশি করার জন্য পতাকা দেয়া যেতে পারে কিন্তু দেশের সমস্যার কোন সমাধান হবে না। সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসহ যেসব সমস্যা সৃষ্টি করেছে নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ ॥ ঢেলে সাজা হচ্ছে
০ বিন্যস্তকরণের ক্ষমতা পাচ্ছে সরকার
০ ব্যাংক হিসাব তলব করা যাবে
০ মামলা নিষ্পত্তিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল
০ কারসাজির দায়ে জরিমানার একাংশ ক্ষতিগ্রস্তদের প্রদান
০ আপীলের আগে জামানত রাখতে হবে রশেয়ার লেনদেন স্থগিত রাখার সময় বৃদ্ধি
স্টক এক্সচেঞ্জ বিন্যস্তকরণে (ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন) যে কোন সময় আইন প্রণয়নের ৰমতা পাচ্ছে সরকার। বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজারের বৃহত্তর স্বার্থে সরকারের হাতে এই ক্ষমতা প্রদান করে ১৯৬৯ সালের সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশে একটি নতুন ধারা সংযোজন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) অনুমোদন নিয়ে স্টক এঙ্চেঞ্জের লেনদেন ব্যবস্থা থেকে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা পৃথক করার বিষয়টিও অধ্যাদেশে যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া সংশোধনীতে এসইসিকে ব্যাংক হিসাব তলবের ক্ষমতা প্রদান, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুযনাল গঠন, কারসাজির দায়ে জরিমানা আদায় করে এর একাংশ ক্ষতিগ্রস্তদের প্রদান, আপীলের আগে জামানত রাখা এবং শেয়ারের লেনদেন স্থগিত রাখার সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। অধ্যাদেশ সংশোধনের লৰ্যে ইতোমধ্যেই এসইসি থেকে চূড়ান্ত প্রস্তাব তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে শীঘ্রই অধ্যাদেশ সংশোধনের বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপনের জন্য পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ১৯৬৯ সালের অধ্যাদেশ সংশোধনে প্রাথমিক খসড়া প্রণয়ন করা হলেও সেখানে বিন্যস্তকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। কিন্তু শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার দুই স্টক এঙ্চেঞ্জ বিন্যস্তকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যেই ২০১২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে বিন্যস্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সামগ্রিক পরিকল্পনা করেছে ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জ (ডিএসই)। চট্টগ্রাম স্টক এঙ্চেঞ্জ (সিএসই) বিন্যস্তকরণের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। এই লক্ষে স্টক এক্সেচেঞ্জের মালিকানা বিভাজন, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্সের ক্ষমতা, কার্যক্রম ও জবাবদিহিতা নির্দিষ্টকরণ এবং লেনদেনে মধ্যস্থতাকারী (ব্রোকারেজ) প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকা- ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া পুনর্বিন্যাস করতে হবে। বিন্যস্তকরণের প্রাথমিক কাজ হিসেবে প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি-বিধান সংস্কার করতে হবে। চূড়ান্ত পদৰেপ হিসেবে স্টক এঙ্চেঞ্জ বিন্যস্তকরণের জন্য একটি পৃথক আইন প্রণয়ন করতে হবে।
সূত্র জানায়, পুঁজিবাজারের সামগ্রিক কর্মকা- পরিচালনার ৰেত্রে ১৯৬৯ সালের সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ সবচেয়ে মৌলিক আইন। এই অধ্যাদেশের বাইরে আইনগত কোন পদৰেপ গ্রহণের ক্ষমতা সরকার বা এসইসির নেই। এ কারণেই শেয়ারবাজার বিন্যস্তত্মকরণ পরিকল্পনা বাসত্মবায়নের জন্য কোন আইন প্রণয়ন করতে হলে আগে অধ্যাদেশ সংশোধন করে সরকারকে সে ৰমতা প্রদান করতে হবে। বিন্যসত্মকরণ পরিকল্পনা বাসত্মবায়নের মৌলিক প্রয়োজনেই অধ্যাদেশের সংশোধনী প্রসত্মাবে বিন্যসত্মকরণের বিষয়টি অনত্মর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, প্রসত্মাবিত সংশোধনীতে বিন্যসত্মকরণের বিষয়ে অধ্যাদেশে দু’টি নতুন ধারা সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্যে অধ্যাদেশের দ্বিতীয় অধ্যায়ে বিন্যসত্মকরণের সংজ্ঞা অনত্মর্ভুক্ত করে বলা হয়েছে। এতে বিন্যসত্মকরণ বলতে ‘এসইসি অনুমোদিত স্কিমের আওতায় স্টক এঙ্চেঞ্জের লেনদেন ব্যবস্থা থেকে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনাকে পৃথক করা’ বোঝানো হয়েছে। এই সংশোধনীর পৰে যুক্তি তুলে ধরে প্রসত্মাবে বলা হয়েছে, একটি দৰ পুঁজিবাজার সৃষ্টির লৰ্যে অন্যান্য দেশের স্টক এঙ্চেঞ্জের ন্যায় বাংলাদেশেও স্টক এঙ্চেঞ্জ বিন্যসত্মকরণ করা প্রয়োজন।’
স্টক এঙ্চেঞ্জ বিন্যসত্মকরণের স্বার্থে অধ্যাদেশে ‘১০এ’ শীর্ষ একটি নতুন ধারা সংযোজনের প্রসত্মাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘সরকার যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরৰণ ও পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্য স্টক এঙ্চেঞ্জ বিন্যসত্মকরণ প্রয়োজন, তাহলে যে কোন সময় এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন করতে পারবে।’
বিন্যসত্মকরণের পথ প্রশসত্ম করতে প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে কারসাজি বা অনৈতিক কর্মকা- তদনত্মের ৰেত্রে এসইসিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলবের ৰমতা দিয়ে সংশিস্নষ্ট ধারা সংশোধনেরও প্রসত্মাব করা হয়েছে। অধ্যাদেশের ২১(২) ধারা অনুযায়ী বর্তমানে পুঁজিবাজারসংশিস্নষ্ট যে কোন বিষয়ে তদনত্ম পরিচালনার স্বার্থে এসইসি স্টক এঙ্চেঞ্জের যে কোন সদস্য এবং ইসু্যয়ার কোম্পানির পরিচালক, ব্যবস্থাপক বা অন্য কর্মকর্তার কাছ থেকে যে কোন তথ্য সংগ্রহের ৰমতা রাখে। এর ফলে তদনত্মকারী কর্মকর্তা শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তির বিও হিসাবের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন বা শেয়ারের মূল্য পরিশোধের তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। কিন্তু শেয়ার লেনদেনে ব্যবহৃত অর্থের উৎস কিংবা শেয়ার বিক্রি করে অর্জিত অর্থ হসত্মানত্মরের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। এর ফলে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বেনামে শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে কারসাজিতে লিপ্ত হলে তা চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ কারণে অধ্যাদেশের সংশিস্নষ্ট ধারা সংশোধন করে এসইসির তদনত্মকারী কর্মকর্তাকে যে কোন বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি বা অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে লেনদেনের সম্পর্ক থাকতে পারে এমন যে কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরাসরি আর্থিক লেনদেনের তথ্য তলবের ৰমতা দেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে সব ধরনের আর্থিক কারসাজি চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে সংশিস্নষ্টরা মনে করেন।
সংশোধনীর খসড়ায় তদনত্মের মধ্য দিয়ে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আদায়কৃত জরিমানা থেকে সংশিস্নষ্ট ঘটনায় ৰতিগ্রসত্মদের ৰতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খসড়ায় এ সংক্রানত্ম একটি ধারা সংযোজনের প্রসত্মাব করা হয়েছে। প্রসত্মাবিত ওই ধারা অনুযায়ী, বিধিবহির্ভূত কর্মকা- প্রমাণের পর এসইসি কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করলে ওই অর্থ থেকে সর্বপ্রথম তদনত্ম কাজের সামগ্রিক ব্যয় নির্বাহ করা হবে। দ্বিতীয়ত, বিধিবহির্ভূত কর্মকা-ের ফলে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ৰতিগ্রসত্ম হয়েছে বলে প্রমাণিত হলে জরিমানার অর্থ থেকে তাদের ৰতিপূরণ প্রদান করা হবে। এৰেত্রে ৰতিগ্রসত্ম ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময়কালে শেয়ারের বাজার মূল্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
তবে কমিশনের বিবেচনায় সংঘটিত অপরাধটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক বা বিধিগত হলে কিংবা প্রকৃত ৰতিগ্রসত্মদের চিহ্নিত করা অসম্ভব হলে ৰতিপূরণ প্রদান থেকে বিরত থাকতে পারবে। এৰেত্রে আদায়কৃত জরিমানার অর্থ স্টক এঙ্চেঞ্জের ‘বিনিয়োগকারী সুরৰা তহবিল (ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ড)’ অথবা এসইসির বিনিয়োগকারী প্রশিৰণ তহবিলে (ইনভেস্টরস এডুকেশন ফান্ড)’ প্রদান করতে পারবে।
সংশোধনী প্রসত্মাবে পুঁজিবাজার সংক্রানত্ম মামলা দ্রম্নত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইবু্যনাল গঠনের ব্যবস্থা রাখার প্রসত্মাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘পুঁজিবাজার সংক্রানত্ম মামলা নিষ্পত্তির জন্য অফিসিয়াল গেজেটের মাধ্যমে সরকার এক বা একাধিক বিশেষ ট্রাইবু্যনাল গঠন করতে পারবে। এই ট্রাইবু্যনালে কোন্ কোন্ বিষয়গুলোর বিচার করা যাবে গেজেটে তাও নির্দিষ্ট করে দেয়া যাবে।
খসড়া সংশোধনীতে এসইসির সিদ্ধানত্মের বিরম্নদ্ধে আদালতে আপীল করার ৰেত্রে শর্ত আরোপের প্রসত্মাব করা হয়েছে। বর্তমানে এসইসির পৰ থেকে জরিমানা আরোপের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলে আদালতে আপীল করতে পারে। সংশোধনীতে আপীলের সুযোগ বহাল রাখা হলেও তার আগে ধার্যকৃত জরিমানার কমপৰে ২৫ শতাংশ অর্থ আদালতে জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে এসইসির পৰে জরিমানা আদায় করা সহজ হবে বলে সংশিস্নষ্টরা মনে করছেন।
১৯৬৯ সালের অধ্যাদেশের ৯(৮) ধারা অনুযায়ী পুঁজিবাজার বা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এসইসি বা স্টক এঙ্চেঞ্জ তালিকাভুক্ত যে কোন কোম্পানির শেয়ার লেনদেন ১৪ দিনের জন্য স্থগিত রাখতে পারে। একই কারণে এই স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র একবারের জন্য আরও ১৪ দিন বাড়ানো যায়। অধ্যাদেশের এই ধারাটি সংশোধন করে লেনদেন স্থগিত রাখার ক্ষমতা প্রথমে ৩০ দিন এবং পরবর্তীতে আরও ১৪ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবাকে বাণিজ্যিকীকরণ করবেন না ॥ চিকিৎসকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী
কার্ডিওলজি সম্মেলন উদ্বোধন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্যসেবাকে বাণিজ্যিকীকরণ না করার এবং চিকিৎসাসেবাকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনার উদ্যোগ নেয়ার জন্য চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্র স্বার্থে আপনারা চিকিৎসা স্বাস্থ্যসেবাকে কখনোই বাণিজ্যিকীকরণ করবেন না এবং সামর্থ্যহীন মানুষ যাতে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সে দিকটিতে আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে।’ শুক্রবার কার্ডিওলজি ও কার্ডিয়াক সার্জারি বিষয়ক ৪র্থ আন্তর্জাতিক সম্মেলন ২য় ঢাকা লাইভ ২০১১ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। খবর বাসসর।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি চিকিৎসকগণ তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়ে সচেতন। তিনি নিয়মিত নির্ধারিত দিনে বিনামূল্যে দরিদ্র রোগী দেখার জন্য চিকিৎসকদের প্রতি অনুরোধ জানান।’
প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে একটি দিন নির্ধারণ করবেন এবং গ্রামের লোকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে আপনার গ্রামে যাবেন।’
ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতাল এখানে প্যানপ্যাসেফিক সোনারগাঁও হোটেলে দু’দিনব্যাপী এ সম্মেলন আয়োজন করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা প্রফেসর সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব) ডা. মজিবুর রহমান ফকির অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। সম্মেলন আয়োজক কমিটির সভাপতি ডা. এম জালালুদ্দিন এতে সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এএম শামীম স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’ এই প্রবাদ উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হৃদরোগ যাতে না হয় সেদিকে সকলকে বেশি গুরম্নত্ব দিতে হবে এবং শারীরিক সুস্থতার জন্য এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা হৃদরোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা কৌশলে অন্তর্ভূক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
‘হৃদরোগ প্রতিরোধের জন্য জীবন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা জরম্নরী উলেস্নখ করে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মসূচী বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চিকিৎসক, বেসরকারি সংস্থা ও সেবা প্রদানকারীদের এগিয়ে আসতে হবে।’
বিদ্যুতের পাইকারি দাম বাড়ল
বিদ্যুতের পাইকারি দাম ৩৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই দফায় এই দাম বাড়বে। প্রথম দফায় আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ১৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ দাম বাড়বে। আর দ্বিতীয় দফায় ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ হারে বিদ্যুতের দাম বাড়বে। প্রতিবার প্রতি ইউনিটে ৪৭ পয়সা করে দাম বাড়বে। তবে ভোক্তা পর্যায়ে এখনই বিদ্যুতের দাম বাড়ছে না।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
টিপাইমুখ বাঁধ ॥ কঠোর অবস্থানে সরকার ॥ স্বার্থ ক্ষুন্ন হতে দেব না
সংসদে প্রধানমন্ত্রী
০ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে ওটা হবে না
০ ইতোমধ্যেই দিল্লীর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে
০ শীঘ্রই বিশেষ প্রতিনিধি পাঠানো হচ্ছে
সংসদ রিপোর্টার ॥ ভারতে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বিষয়ে বাংলাদেশের কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে খুব শীঘ্রই ভারতে বিশেষ প্রতিনিধি পাঠানো হচ্ছে। কেউ (ভারত) এককভাবে কিছু করে বাংলাদেশের স্বার্থ ৰুণ্ন করবে_ এটা অন্তত আওয়ামী লীগ ৰমতায় থাকতে হবে না। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পৰ থেকে ইতোমধ্যে দিল্লীর কাছে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে। বিএনপির মতো ক্ষমতায় থাকতে কোন দেশের পদলেহন ও গোলামী আওয়ামী লীগ করে না। তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে যখন হাত দিয়েছি, আজ হোক বা কাল হোক এই চুক্তি করেই ছাড়ব।
এদিকে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার দুই পুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর দুনর্ীতি ও বিদেশে অর্থ পাচার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তদন্ত কাজ শেষ হলে দেশবাসী জানতে পারবে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোসহ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মোট কত টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। পাচারকৃত সব টাকা যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরত আনা হবে।
বুধবার স্পীকার এ্যাডভোকেট আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত ত্রিশ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিরোধী দলে থাকতে আওয়ামী লীগই সর্বপ্রথম এই বাঁধ নির্মাণের বিরোধিতা করে আন্দোলন করেছে। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ রৰার পাশাপাশি কিভাবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রৰা করতে হয় তা আওয়ামী লীগ জানে। কারণ এ দেশকে স্বাধীন করেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ কারোর পদলেহন বা গোলামী করে না।
টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ প্রসঙ্গে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় থাকতে খালেদা জিয়ার এক সুর, বিরোধী দলে গেলে অন্য সুর। টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে আজ বড় বড় কথা বলছেন, হরতাল-আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন। অথচ ৰমতায় থাকতে তাঁর পানিসম্পদমন্ত্রী বলেছিলেন_ এই বাঁধ নির্মাণ হলে বাংলাদেশের স্বার্থ ৰুণ্ন হবে না! বিরোধী দলে গিয়ে আজ বলছেন অন্য কথা, খালেদা জিয়া চিঠি পাঠাচ্ছেন! তিনি (খালেদা) চিঠিতে কী লিখেছেন, কী জানতে চাচ্ছেন তা জানি না। কিন্তু ৰমতায় থাকতে কিছু বলেননি কেন?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা জীবন শুনে এসেছি মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি নাকি গোলামীর চুক্তি! একথা বিএনপিই বেশি বলেছে। এখন বিএনপিসহ সব বিরোধী দলই বলছে এই চুক্তি বাসত্মবায়ন হচ্ছে না কেন? তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘৭৫-পরবতর্ী ২১ বছর যারা ৰমতায় ছিল তারা কী করেছে? আমরা কখনও কারোর সঙ্গে গোলামীর চুক্তি করিনি। গঙ্গা চুক্তির মাধ্যমে ভারতের কাছ থেকে ন্যায্য হিস্যা আদায় করেছি। তিনি বলেন, স্বাধীনতার এতদিন পর আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে আমাদের সীমানা নির্ধারণ করেছি। তিনি কৌতুকের সুরে বলেন, বিএনপি নেত্রীর (খালেদা) জন্যও কিছু জায়গা দখল করে দিয়েছি।
তিসত্মা চুক্তি প্রসঙ্গে প্রশ্নোত্তরে শেখ হাসিনা পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, বিএনপি দু’বার ৰমতায় ছিল, তিসত্মা চুক্তি করতে পারেনি কেন? খালেদা জিয়া কি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন, নাকি ভারতের পদলেহন করেছেন? জনগণের কাছে তার জবাব তাদের দিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা কারও পদলেহন করি না। তিসত্মা নদীর চুক্তির কাজে যখন হাত দিয়েছি, আজ হোক বা কাল হোক_ এই চুক্তি করেই ছাড়ব।
তারেক-কোকোর দুনর্ীতি, অর্থ পাচার সরকারী দলের সংসদ সদস্য বেগম নাজমা আখতারের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোসহ বিগত জোট সরকারের আমলে বিদেশে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনতে মানিলন্ডারিং আইনসহ অন্য বিধিবিধান সংশোধন করা হচ্ছে। সংশিস্নষ্ট সংস্থাগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সন্দেহজনক লেনদেন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট দশটি দেশের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাৰর করেছে। তদনত্ম কাজ শেষ হলেই দেশবাসী জানতে পারবে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোসহ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে কত টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তিনি জানান, পাচারকৃত সমসত্ম টাকা যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরত আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরে পাচার করা ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৬১৩ টাকা ফেরত এনে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করা হয়েছে। এ টাকা দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনের প্রচারে ও দেশের সাতটি বিভাগে দুর্নীতিবিরোধী স্মৃতিসত্মম্ভ নির্মাণ করার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা যেতে পারে। তিনি জানান, তারেক রহমান ও কোকোর বিরম্নদ্ধে অর্থ পাচারের দায়ে দুনর্ীতি দমন কমিশন দুটি পৃথক মামলা করেছে। একটি মামলায় আরাফাত রহমান কোকো ও ইসমাইল হোসেন সাইমনকে ছয় বছর সশ্রম কারাদ- এবং সাড়ে ৩৮ কোটি টাকা অর্থদ- দিয়েছে। তারেক রহমানের বিরম্নদ্ধে দায়েরকৃত মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
ভারতের সঙ্গে যত চুক্তি ও প্রটোকল স্বাৰর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় দু’দেশের মধ্যে ১০টি দলিল স্বাৰরিত হয়েছে। এর মধ্যে সহযোগিতা ও উন্নয়নের কাঠামোগত একটি চুক্তিসহ আরও দু’টি প্রটোকল ও সাতটি সমঝোতা স্মারক স্বাৰর হয়েছে।
তিনি বলেন, সহযোগিতা এবং উন্নয়নের কাঠামোগত চুক্তিটি একটি রূপকল্প দলিল। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমান সহযোগিতার ৰেত্র ছাড়িয়ে আগামী বছরগুলোতে সম্ভাব্য সহযোগিতার ৰেত্র চিহ্নিত হয়েছে। তিনি বলেন, এ চুক্তির ফলে দু’দেশ দ্বিপাৰিক, উপ-আঞ্চলিক কিংবা আঞ্চলিকভাবে জলবিদু্যত, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদু্যত, শিৰা প্রভৃতি বিষয়ে যে কোন প্রকল্প গ্রহণ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ চুক্তির সহযোগিতার ৰেত্রে দ্বিপাৰিক ব্যবস্থাপনার বাইরেও আঞ্চলিক এবং উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্ভাবনাকে বিসত্মৃত করেছে।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, স্থলসীমানা চুক্তিসংক্রানত্ম প্রটোকলের আওতায় অচিহ্নিত সীমানা চিহ্নিতকরণ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে র্যাডক্লিফের সীমানা চিহ্নিতকরণের সময়ের পর এই প্রথম বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে একটি পরিপূর্ণভাবে সুনির্দিষ্ট সীমানা পেল। তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময় ছিটমহল এবং অপদখলীয় এলাকা বিনিময়সংক্রানত্ম কার্যপদ্ধতি স্থির করা হয়েছে। দুটো বিষয়ই দ্রম্নত এবং যুগপৎ ঘটবে।
তিনি বলেন, এ প্রটোকল স্বাৰরের ফলে দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান অনিষ্পন্ন ইসু্যর সমাপ্তি হয়েছে। বিশেষভাবে উলেস্নখ্য, স্বাধীনতার পর হতে এই প্রথম আমাদের দেশ আনত্মর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা পাবে। বাংলাদেশী নাগরিক দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা অধিবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে এবং স্থলসীমানা চুক্তির একটি অনুচ্ছেদ বাসত্মবায়িত হয়েছে।
কামাল আহমেদ মজুমদারের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতের বাজারে বাংলাদেশের ৪৬টি পোশাকজাত পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাওয়ায় সম্প্রতি রফতানির সীমা আট মিলিয়ন পিস থেকে দশ মিলিয়ন পিসে উন্নীত হয়েছে।
বর্তমান সরকারের মেয়াদেই মেট্রোরেল মেহের আফরোজ চুমকির এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী বছরের মার্চ মাস নাগাদ মেট্রোরেল নির্মাণের বিষয়ে জাপান সরকারের সঙ্গে লোন নেগোসিয়েশনের কাজ শেষ হবে। বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যেই মেট্রোরেলের কাজ শুরম্ন করে একটি উলেস্নখযোগ্য অংশ শেষ করার ব্যাপারে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ফরিদুল হক খানের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, কৃষির উৎপাদন বাড়ানোর লৰ্যে সরকার কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এরই মধ্যে ৫২টি প্রকল্প বাসত্মবায়ন করেছে। আরও ৪৭টি নতুন প্রকল্প বাসত্মবায়নাধীন রয়েছে। এছাড়া ১৮টি নতুন প্রকল্প অনুমোদনের অপেৰায় রয়েছে। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে সার ও অন্যান্য কৃষি কার্যক্রমে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ভতর্ুকির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
আশরাফুননেছা মোশারফের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা জানান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত চারটি প্রকল্পের ২৬টি কারিগরি প্রশিৰণ কেন্দ্রের মাধ্যমে বছরে ২০ হাজার শিৰিত ও স্বল্পশিৰিত বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের প্রশিৰণ দেয়া হচ্ছে।
এবিএম আবুল কাশেমের তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রানত্ম এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, টেলিফোন শিল্প সংস্থার (টেশিস) ল্যাপটপ পস্ন্যানটি প্রায় দু’শ’ কোটি টাকার। টেশিসের তৈরি ল্যাপটপ ‘দোয়েল’-এর ওপর তেমন কোন মুনাফা ধরা হয়নি। জনগণের স্বার্থে এর দাম সংযোজন দামের কিছুটা নিচে ধরা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আনত্মর্জাতিক সাহায্য প্রসঙ্গে মোঃ রহমত আলীর প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলেন্স ফান্ড (বিসিসিআরএফ) থেকে এ পর্যনত্ম ১২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেছে। এছাড়া দেড় শ’ থেকে দু’শ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, গত বছরের ৩১ মে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, সুইডেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বিসিসিআরএফ গঠনের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাৰর হয়েছে। ওই স্মারক অনুযায়ী মোট এক শ’ ২৫ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাওয়া গেছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য ৮৬ দশমিক সাত দশমিক, ডেনমার্ক এক দশমিক ছয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন দশ দশমিক চার, সুইডেন ১১ দশমিক পাঁচ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়েছে। পরে সুইজারল্যান্ড তিন দশমিক চার ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরও ১২ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়েছে।
মোঃ শফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে প্রতিযোগিতা আইন-২০১১ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরৰণ অধিদফতর রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা শহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এযাবত ২ হাজার ছয় শ’ ৩৮টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযান থেকে দুই কোটি ৭৮ লাখ দুই হাজার পাঁচ শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ্যান্টিহোর্ডিং আইন হালনাগাদ করায় যে কোন ব্যবসায় সিন্ডিকেটের অসত্মিত্ব মুছে গেছে।
তোপের মুখে মিজারম্নল বিশেষ প্রতিনিধি জানান, টিপাইমুখ ইসু্যতে প্রশ্ন ওঠার আগেই তড়িঘড়ি স্থান ত্যাগ করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বুধবার মন্ত্রণালয়ে ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং সামিট উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্স শেষ করেই আরেকটি জরম্নরী মিটিংয়ের কথা বলে তিনি চলে যান। তবে যাওয়ার আগে বলে যান, ‘আমি জানি আপনাদের মনে অনেক প্রশ্ন জমা হয়ে আছে, কালকেই একটা প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে সে সব প্রশ্নের জবাব দেব।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, আগামী বছর পহেলা থেকে ৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু আনত্মর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং সামিট। এতে বাংলাদেশসহ সাতটি দেশ অংশ গ্রহণ করবে।
লিখিত বক্তব্য শেষ না করেই তিনি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ট্রাস্ট ফা-ের সভায় যোগ দিতে তড়িঘড়ি সম্মেলনস্থল ছেড়ে চলে যান। ফলে সাংবাদিকরা টিপাইমুখ নিয়ে কোনও প্রশ্ন করারও সুযোগ পায়নি। এমনকি যে জন্য সংবাদ সম্মেলন সে অনুষ্ঠানও শেষ করে যাননি তিনি বা ওই ব্যাপারে কোন প্রশ্নের জবাবও দেননি।
গত শনিবার টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যুটি আলোচনায় আসার চারদিন পর এদিনই প্রথম তাঁকে গণমাধ্যমের সামনে পাওয়া যায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বিলক্ষণ বুঝতে পারছিলেন, তাঁকে ওই বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে। এজন্যই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দিয়েই তিনি অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে যান।
যাওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের একটি বৈঠকে তিনটায় আমার যোগ দেয়ার কথা। আমি দেরি করে ফেলেছি।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী তড়িঘড়ি চলে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়েন সেখানে উপস্থিত পররাষ্ট্রসচিব মোহাম্মদ মিজারম্নল কায়েস। ফলে একানত্ম বাধ্য হয়েই তিনি মিডিয়ার সামনে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, ‘আমি অত্যনত্ম প্রত্যয়ের সঙ্গেই বলছি টিপাইমুখ ইস্যুতে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে তার সমাধান একমাত্র দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব। আমরা সে পথেই আছি।’
বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর কিছু করবে না- ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এমন আশ্বাসে বাংলাদেশ কতটা নির্ভর করতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘আমরা এখনও এ আশ্বাসে বিশ্বাসী এবং মনে করি এ বিষেয়ে এখনও আলোচনার সুযোগ রয়েছে।’
বিবিসি যদি টিপাইমুখ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ না করত তাহলে বিষয়টি বাংলাদেশের অগোচরে থেকে যেত কিনা এমন প্রশ্নে তিনি জানান, ‘ভারতের সঙ্গে সব বিষয়েই বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।’
টিপাইমুখ ইস্যুতে সরকারকে বিরোধী দলীয় নেতার সহায়তার ঘোষণা সরকার কিভাবে দেখছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘এ বিষয়টি যারা ডিল করছে তাদের ব্যাপার।’
এক সময় প্রশ্নবাণে জর্জরিত সচিব উত্তেজিত হয়ে যান। তিনি বলেন, ‘আপনারা একই প্রশ্ন বার বার করছেন। পিস্নজ, নো মোর কোয়েশ্চেন।’
এরপর তিনি বলেন, ‘আসলে বিষয়টি মন্ত্রী মহোদয়ের। তিনি বলেছেন কালই (বৃহস্পতিবার) আপনাদের ব্রিফ করবেন, উনিই বিষয়টি দেখবেন
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেন ও কানাডার নতুন নিষেধাজ্ঞা
০ পশ্চিমা পদক্ষেপ অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য ॥ রাশিয়া
০ তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে ॥ ওবামা
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও কানাডা। তেহরানের পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের পরিপ্রেৰিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। খবর এএফপি ও বিবিসির।
ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছে রাশিয়া। পশ্চিমাদের এ নিষেধাজ্ঞাকে রাশিয়া অগ্রহণযোগ্য ও অবৈধ বলে মন্তব্য করেছে। এ নিষেধাজ্ঞা ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ বন্ধ করে দিতে পারে বলে রাশিয়া সতর্ক দিয়েছে। মস্কো এ নিষেধাজ্ঞাকে অগ্রহণযোগ্য ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে উলেস্নখ করেছে।
পশ্চিমের এ ব্যবস্থা তেহরানের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার পথকে জটিল করে তুলবে বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া। ইরান এ নিষেধাজ্ঞাকে নির্যাতনমূলক ও অকার্যকর বলে উলেস্নখ করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রামিন মেহমানপারাসত্ম মঙ্গলবার এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এ ব্যবস্থা ইরানের জনগণের প্রতি বৈরী আচরণের বহির্প্রকাশ। এ আচরণ নির্যাতনমূলক ও অকার্যকর বলে তিনি উলেস্নখ করেন। তিনি বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের পূর্বেকার নিষেধাজ্ঞা ইতোমধ্যে অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি মনত্মব্য করেন।
নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ইরান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকার পথ বেছে নিয়েছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে জাতিসংঘের রিপোর্ট প্রকাশ করার পর পশ্চিমা শক্তিগুলো সোমবার এ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও জ্বালানি খাতকে উদ্দেশ্য করেই এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
এ নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর যোগাযোগ সীমিত করা। ইরানের জ্বালানি বিক্রির অর্থ সরকারের হাতে আসার ৰেত্রে তেহরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ইরানের বাজেটের ৭০ ভাগ অর্থ যোগান দিয়ে থাকে দেশটির জ্বালানি খাত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক বিবৃতিতে বলেন, ইরান যতৰণ পর্যনত্ম না এ ভয়ঙ্কর পথ পরিহার করছে, ততৰণ পর্যনত্ম ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করবে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন তার মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করেই ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, ইরানকে আনত্মর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে। অন্যথায় তেহরানকে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখোমুখি হতে হবে। দেশটাকে একঘরে করা হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ইরানের বিরম্নদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞাকে উলেস্নখযোগ্য চাপ হিসেবে উলেস্নখ করেন। তিনি বলেন, এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানের জ্বালানি খাতকে লৰ্যবস্তু হিসাবে চিহ্নিত করেছে।
তিনি পণ্য, সেবা ও জ্বালানি খাতের প্রযুক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, এটি অবশ্যই ইরানের ওপর প্রভাব ফেলবে। ইরানের ওপর জাতিসংঘের চার দফা নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী টিমোথি গেইথনার এক সতর্ক বার্তায় বলেন, ইরানের ব্যাংকগুলোর সঙ্গে যে প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করবে তাদের অবৈধ অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত বলে বিবেচনা করা হবে।
সাইফের বিচার লিবিয়ার মাটিতেই হবে
০ গাদ্দাফিপুত্রকে ত্রিপোলির কাছে হস্তান্তরে অস্বীকৃতি সাবেক গেরিলা উপদলের
০ সাবেক গোয়েন্দা মন্ত্রী আটক
লিবিয়ার নতুন নেতৃবৃন্দ রবিবার বলেছেন, সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল ইসলামের বিচার দেশের মাটিতেই হবে। সাইফকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কাছে হস্তান্তর করা হবে না বলে তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া সরকার লিবিয়ার পতিত সরকারের গোয়েন্দা মন্ত্রী আবদুল্লাহ সিনুসিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে। খবর এএফপি ও ওয়েবসাইট।
সাইফের গ্রেফতার হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশকিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। লিবিয়ার সাবেক গেরিলা উপদল সাইফকে আটক করার একদিন পর তাকে ত্রিপোলির জাতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার হওয়া নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
লিবিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্যমন্ত্রী মাহমুদ শাম্মাম বলেছেন, সাবেক গোয়েন্দা মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল সিনুসিকে বিপ্লবী যোদ্ধারা রবিবার ফাজান এলাকা থেকে আটক করেছে। শনিবার সাইফকে কাছাকাছি এলাকা থেকে আটক করা হয়।
যোদ্ধারা গত দু’দিন ধরে সিনুসির ওপর নজর রাখছিল। সেবহা শহর থেকে ৪০ মাইল দূরে ফেরাত আল শাতিতে বোনের বাসায় অবস্থান করছিলেন সিনুসি। তাঁর গ্রেফতারের বিসত্মারিত তথ্য তাৎৰণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সিনুসিকে ত্রিপোলি কর্তৃপৰের কাছে বিপস্নবীরা হস্তান্তর করেছে কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়। ধারণা করা হচ্ছে, সিনুসিকে ত্রিপোলি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কাছে হসত্মানত্মর করবে না। তারা সাইফ ও সিনুসির বিচার লিবিয়ার মাটিতেই করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী মাহমুদ শাম্মাম বলেছেন, সাইফের বিচার লিবিয়ার মাটিতেই হবে। সিনুসি গ্রেফতার হওয়ার কিছু আগে তিনি এ কথা বলেন। লিবিয়ার নতুন নেতৃত্বে দেশে আদালত ব্যবস্থা এখনও চালু না হলেও তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সাইফ আল ইসলাম লিবিয়ার জনগণের বিরম্নদ্ধে অপরাধ করেছেন। সে কারণে লিবিয়ার জনগণের স্বার্থে তার বিচার দেশের মাটিতেই হবে।
তিনি বলেন, আইসিসি গৌণ আদালত মাত্র। লিবিয়ার জনগণ তার বিচার দেশের বাইরে হতে দেবে না।
আইসিসি আভাস দেয় যে, সাইফ ও সিনুসি গত জুন মাস থেকে গাদ্দাফির সঙ্গে মিলিতভাবে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন এবং হত্যাকা- চালায়। আইসিসি মুখপাত্র ফাদি আল আবদুলস্নাহ রবিবার বলেন, লিবিয়া যদি এ দুই ব্যক্তির বিচার দেশের মাটিতে করতে চায় তা হলে তা হবে আইসিসির প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার শামিল। তিনি বলেন, বিষয়টি হলো এ দু’জনের বিরম্নদ্ধে ইতোমধ্যে আনত্মর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা রয়েছে। সে কারণে লিবিয়ার আনত্মর্জাতিক আইন মেনে নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তিনি অবশ্য বলেন, এ মামলার বিচার করার ৰেত্রে উপযুক্ত ও নিরপেৰ বিচার ব্যবস্থা লিবিয়ায় রয়েছে এটা ত্রিপোলিকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে।
গাদ্দাফিপুত্র সাইফ ৩ দেহরক্ষীসহ লিবিয়ায় গ্রেফতার
রণাঙ্গনে নিহত গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল ইসলামকে অবশেষে শনিবার গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ নাইজারে পালিয়ের যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার সময় তিন দেহরক্ষীসহ জিনতানের যোদ্ধারা সাইফকে সুস্থ অবস্থায় গ্রেফতার করে। তবে এর আগে তাঁকে বহুবার গ্রেফতারের খবর প্রকাশিত হলেও শেষ পর্যন্ত তা ভুল প্রমাণিত হয়। ২০ অক্টোবর যুদ্ধক্ষেত্রে গাদ্দাফি বিদ্রোহীদের হাতে আরেক পুত্রসহ নিহত হওয়ার প্রায় এক মাস পর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চোখে ফেরারি সাইফকে লিবিয়ার দৰিণাঞ্চলের দুবারি থেকে তাকে আটক করে। গত আগস্টে জাতীয় অন্তর্বর্তী পরিষদের (এনটিসি) যোদ্ধারা ত্রিপোলি দখলে নেয়ার পর সাইফ আত্মগোপনে চলে যান। গাদ্দাফির আট সন্তানের মধ্যে সাইফ আল ইসলাম দ্বিতীয়। গাদ্দাফির জমানায় লিবিয়া সরকারে তাঁর কোন আনুষ্ঠানিক পদ না থাকলেও আধৃনিক শিৰায় শিৰিত ৩৯ বছর বয়সী সাইফকেই গাদ্দাফির যোগ্য উত্তসূরি মনে করা হতো। গাদ্দাফির বিরুদ্ধে গণজাগরণ শুরু হওয়ার আগে সাইফকে সংস্কারবাদী আধুনিক চিন্তার এক নেতা হিসেবে মনে করা হলেও বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পর তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠুরতার পরিচয় দেন। লিবিয়াজুড়ে গণহত্যার নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গ্রেফতারি পেরোয়ানা জারি করে। এনটিসি সরকারের বিচারমন্ত্রী মোহাম্মদ আল আলাগুই সাইফের গ্রেফতারের কথা স্বীকার করেছেন। লিবিয়ায় নতুন করে সরকার গঠিত হওয়ার একদিন আগে তাঁকে গ্রেফতার করা হলো। রাজধানী ত্রিপোলির ১৭০ কিলোমিটার দৰিণে মরু শহর থেকে গ্রেফতার করার পর পরই তাঁকে হেলিকপ্টারে করে জিনতান শহরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পরে তাকে ত্রিপোলি নিয়ে যাওয়া হতে পারে। সাইফের গ্রেফতারে খবরে দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লাস প্রকাশ করছেন লিবিয়ার জনগণ। তারা ফাঁকা গুলি ছোড়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন। খবর এএফপি ও বিবিসি অন লাইনের।
গাদ্দাফির পরই লিবিয়ায় তাঁকে দ্বিতীয় ৰমতাধর ব্যক্তি মনে করা হতো। জিনতানে সাবেক বিদ্রোহী যোদ্ধাদের প্রধান বশির তাইব জিনতানে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তাঁর যোদ্ধারাই মরম্ন শহর দুবারি থেকে সাইফকে তিন দেহরক্ষীসহ গ্রেফতার করেছে। দেশজুড়ে গণহত্যা চালানোর দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২৭ জুন সাইফ আল-ইসলাম, লিবীয় নেতা গাদ্দাফি এবং গাদ্দাফির গোয়েন্দা প্রধান আব্দুলস্নাহ আস সেনুসির বিরম্নদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। সেনুসি এখনও আত্মগোপনে রয়েছেন। এর আগে বিদ্রোহীর হাতে ত্রিপোলির পতনের পর সাইফকে গ্রেফতারের কয়েক দফা গুজব ছড়িয়ে পড়লেও তিনি নিজে প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের সামনে হাজির হয়ে সেই গুজবের অবসান ঘটান। তবে গাদ্দাফি নিহত হওয়ার সময় সাইফকে গ্রেফতার করার খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলেও তার পর থেকে সাইফকে আর দেখা যায়নি প্রকাশ্যে। তবে লিবিয়ার সীমানত্মবর্তী এলাকায় তাঁর অবস্থান এবং আইসিসির কাছে আত্মসমর্পণ করা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। তবে গত ৯ নবেম্বরে আইসিসির আইনজীবী লুইস মোরেনো ওক্যামপো বলেছেন, সাইফকে গ্রেফতারের বিষয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি বলেছেন, সাইফ যে গ্রেফতার হবেন এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি কখন গ্রেফতার হবে। তাঁর গ্রেফতার সময়ের ব্যাপার মাত্র, সাইফকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে এবং তাঁর একমাত্র গন্তব্য এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। আইসিসির আইনজীবী এক সপ্তাহ আগে নিরাপত্তা পরিষদকে অবিহত করেন যে, সাইফ আল-ইসলামের ঘনিষ্ঠ কেউ আইসিসির বিচার প্রক্রিয়া বা এ সংক্রানত্ম বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের কাছে বেশ কিছু প্রশ্নের জবাব জানতে চেয়েছিলেন। সাইফ আল-ইসলাম ১৯৭২ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং গাদ্দাফির আট সনত্মানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় এবং গাদ্দাফির দ্বিতীয় স্ত্রী সাফিয়ার প্রথম সনত্মান। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন। গাদ্দাফির বিরুদ্ধে গণজাগরন শুরু হওয়ার আগে তাঁকে লিবিয়া ও বিশ্ববাসী সংস্কারবাদী নেতা হিসেবেই জানতেন।
