Archive for November 30th, 2011

November 30th, 2011

মিশরে সঙ্কট কাটবে কি!

মিশরের তিন দফা নির্বাচনের প্রথম দফা সম্পন্ন হয়েছে। এতে ইসলামপন্থি দল মুসলিম ব্রাদারহুড ভাল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ অবস্থায়ই তারা বলে বসেছে, মিশরের ঐতিহাসিক নির্বাচনে যে দলই বিজয়ী হোক তাদের সরকার গঠন করতে দেয়া উচিত। তাদের এই ঘোষণায় ক্ষমতাসীন সামরিক শাসকদের সঙ্গে ইসলামপন্থি ওই দলের সংঘাত সৃষ্টি হওয়ার সমূহ আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সামরিক শাসকরা সবেমাত্র একজন নতুন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, তারা পার্লামেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন। নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। কিন্তু মুসলিম ব্রাদারহুডের তাড়াহুড়ো দেখে বিশ্লেষকরা আরেক দফা ক্ষমতার দ্বন্দ্বের আশঙ্কা করছেন। এরই মধ্যে দু’দিনের শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সামরিক শাসনের অবসান চেয়ে আন্দোলনও অব্যাহত আছে। এ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মঙ্গলবার রাতে সংঘর্ষে প্রায় ৮০ জন আহত হয়েছে। মিশরের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচন জানুয়ারি মাসের শুরু পর্যন্ত চলবে। কিন্তু এরই মধ্যে যে ভোট গ্রহণ হয়ে গেছে তার ফল গতকালই প্রকাশিত হওয়ার কথা। মিশরজুড়ে টেলিভিশনে এই ফল সরাসরি সমপ্রচার করে। এই মিশরেই ১৯৫২ সালে রাজতন্ত্রকে সেনা বাহিনী খতম করার পর আর কোন নির্বাচন হয়নি। তার পর থেকে এ পর্যন্ত এটাই মিশরীয়দের কাছে প্রথম নির্বাচন। ফলে ভোট দিতে উপস্থিত হন প্রায় সব ভোটার। নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সঙ্গত কিছু বাধা ও সহিংসতা ছাড়া নির্বাচন হয়েছে শান্তিপূর্ণ। শহরে বন্দরে দেখা গেছে নির্বাচনী পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন। বলা হচ্ছে, এই নির্বাচনে যে শক্তি ক্ষমতায় আসবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্রভাব ফেলবে। কারণ, মিশরের গণঅভ্যুত্থান দেখে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ আন্দোলনে উৎসাহিত হয়েছে।
ফলে সবার চোখ মুসলিম ব্রাদারহুডের দিকে। এই গ্রুপটিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক ও তার পূর্বসুরিরা নিষিদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু তারাই এখন দেশটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের পথে। মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখা দ্য ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি প্রতিষ্ঠা করা হয় এ বছরের শুরুতে। তারাই বলছে, মিশরের নতুন পার্লামেন্টেরই উচিত নতুন সরকার গঠন করা। ওই সংগঠনের প্রধান মোহাম্মদ মারসি বলেন, পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সরকার যদি গঠন করা না হয়, তাহলে সে সরকার কার্যত কোন ভাল কাজ করতে পারবে না। তাই আমরা মনে করছি, এটাই স্বাভাবিক ঘটনা- পার্লামেন্ট নির্বাচনে যে দলই বিজয়ী হোক তাদের উচিত নতুন সরকার গঠন করা। আমরা মনে করি, নতুন সরকার জোটবদ্ধ সরকার হলে তা ভাল কাজ করতে পারবে। ওদিকে গত সপ্তাহেই মিলিটারি কাউন্সিল হোসনি মুবারক আমলের ৭৮ বছর বয়সী কামাল আল গানজুরিকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছে। তাকে একটি নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করতে বলা হয়েছে। দ্য ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির জবাবে মিলিটারি কাউন্সিলের এক সদস্য বলেছেন, কামাল গানজুরির সরকারকে বরখাস্ত করে নতুন সরকার গঠনের কর্তৃত্ব নেই নতুন নির্বাচিত পার্লামেন্টের।