Archive for November, 2011

November 17th, 2011

৬ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ॥ যে সুবিধা পাবেন

শেয়ারবাজার রক্ষা
০ ৫০ হাজার পর্যনত্ম যাঁরা বিনিয়োগ করেছেন তাঁরা পেতে পারেন প্রত্যৰ সহায়তা
০ সরকারী শেয়ারে বিশেষ সুবিধা দেয়া হতে পারে
০ মার্জিন সুদ মওকুফ নিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে
রাজু আহমেদ ॥ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে ৰতিগ্রসত্মদের মধ্যে স্বল্প পুঁজির প্রায় ৬ লাখ ৩৭ হাজার বিনিয়োগকারীকে কিছু বিশেষ সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বেশ কয়েকটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা হলেও ৰুদ্র এই বিনিয়োগকারীদের কী কী সুবিধা দেয়া যায়_ এখন পর্যনত্ম তা চূড়ানত্ম হয়নি। তবে পুঁজিবাজার পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার বাজারসংশিস্নষ্টদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকে ৰতি পুষিয়ে দিতে সর্বজন গ্রহণযোগ্য একটি পদৰেপ নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধানত্ম হয়েছে। এ সংক্রানত্ম প্রসত্মাবগুলো পর্যালোচনা করে আগামী রবিবার সরকারের পৰ থেকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেয়া হতে পারে।
পাশাপাশি বাজারে তারল্য সঙ্কট কাটাতে ব্যাংকিং খাতের এসএলআর ও সিআরআর হ্রাস, শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা হিসাবের পদ্ধতি পরিবর্তন, মার্জিন ঋণের সুদ মওকুফ, এই ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা জামানত (প্রভিশন) রাখার বাধ্যবাধকতা শিথিল এবং গত দু’বছরে শেয়ারবাজার থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্জিত মুনাফা পুনর্বিনিয়োগের বিষয়ে পদৰেপ নেয়া হবে।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধানত্মগুলোর বাসত্মবায়নের লৰ্যে ইতোমধ্যেই অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশিস্নষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কাজ শুরম্ন করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রাথমিক বৈঠক হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১১টায় অর্থ মন্ত্রণালয়, এসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআরসহ সরকারের সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন অর্থমন্ত্রী। এই বৈঠকে পুঁজিবাজারের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা চূড়ানত্ম করা হতে পারে। ৰুদ্র বিনিয়োগকারীদের ৰতি পুষিয়ে দেয়া এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের সামগ্রিক পরিকল্পনা আগামী রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়া হবে। ৰুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য পদৰেপ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এসইসির পৰ থেকে বিনিয়োগ সীমার ভিত্তিতে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের সামগ্রিক তথ্য উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৰুদ্র বিনিয়োগকারীদের ৰতি পুষিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় পদৰেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন। এরমধ্যে ৰতিগ্রসত্ম বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রত্যৰ কোন সহায়তা দেয়া যায় কিনা_ সে বিষয়ে বিসত্মারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে ২৫ হাজার টাকা পর্যনত্ম বিনিয়োগ করে ৰতিগ্রসত্ম হয়েছেন এ ধরনের বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রত্যৰ সহায়তা প্রদানের সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়। শেয়ারবাজারে এ পর্যায়ের বিনিয়োগকারীর মোট সংখ্যা ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫২ জন বলে বৈঠকে জানানো হয়। সেইসঙ্গে ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যনত্ম পুঁজি বিনিয়োগকারীদের জন্যও কিছু করা যায় কিনা_ তা বিবেচনা করা হচ্ছে। এ পর্যায়ের বিনিয়োগকারীর সংখ্যা প্রায় ৭৬ হাজার।
জানা গেছে, ৰুদ্র বিনিয়োগকারীদের ৰতি পুষিয়ে নিতে করণীয় সম্পর্কে কিছু প্রসত্মাব বিবেচনায় রয়েছে। এরমধ্যে বাজার ধসের শুরম্ন থেকে এ পর্যনত্ম নেয়া মার্জিন ঋণের সুদ সম্পূর্ণ মওকুফ করার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। এছাড়া এই বিনিয়োগকারীদের নেয়া ঋণকে আগামী এক বছরের জন্য সুদমুক্ত রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব বিনিয়োগকারী মার্জিন ঋণ নেননি তাদের জন্য কী ধরনের সুবিধা দেয়া যায়_ সে বিষয়েও আলোচনা এসেছে। এরমধ্যে সরকারী প্রতিষ্ঠানের আইপিওতে এসব বিনিয়োগকারীকে বিশেষ সুবিধা প্রদানসহ আরও কিছু প্রসত্মাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বুধবার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসইসি সদস্য আরিফ খান বলেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ও ৰুদ্র বিনিয়োগকারীদের ৰতি পুষিয়ে নিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধানত্ম হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেয়া হবে।
তারল্য সঙ্কট কাটাতে পদৰেপ পুঁজিবাজারে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ সৰমতা বাড়াতে তারল্য সঙ্কট দূর করার বিষয়ে পদৰেপ নেয়া হচ্ছে। এরমধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিধিবদ্ধ জমার হার (এসএলআর) এবং বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) হার কমানোর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে শেয়ারবাজারে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগসীমা (এঙ্পোজার লিমিট) হিসাবের ৰেত্রে বিদ্যমান পদ্ধতি পরিবর্তন হতে পারে। বর্তমানে ব্যাংকের নিজস্ব বিনিয়োগের সঙ্গে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের (সাবসিডিয়ারি) বিনিয়োগ ও ঋণ যোগ করে বিনিয়োগসীমা হিসাব করা হয়। এর পরিবর্তে শুধু ব্যাংকের নিজস্ব বিনিয়োগের ভিত্তিতে এই সীমা নির্ধারণ করা হতে পারে। অন্যদিকে মার্জিন ঋণের সুদ মওকুফের ৰেত্রে বিধিগত জটিলতা এড়াতে এই ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা জামানত (প্রভিশন) রাখার বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হবে। একইসঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যনত্ম মার্জিন ঋণ আদায় বন্ধ রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সিদ্ধানত্ম বাসত্মবায়নে আজ (শুক্রবার) অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে এসইসির পৰ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু প্রসত্মাব তুলে ধরা হবে। এরমধ্যে ব্যাংকের এসএলআর ও সিআরআর কমানোর বিষয়টিও রয়েছে। তবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই এ বিষয়ে চূড়ানত্ম সিদ্ধানত্ম নেয়া হবে।
এদিকে এসএলআর এবং সিআরআর কমানোর বিষয়ে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত সিদ্ধানত্ম নিয়েছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, গবর্নর ড. আতিউর রহমান শুক্রবার দেশে ফিরবেন। তাঁর অনুমোদনের পর এসএলআর এবং সিআরআর কমানোর বিষয়ে আগামী রবিবার সাকর্ুলার জারি করা হতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক চৌধুরী মহিদুল হক জনকণ্ঠকে বলেন, সিআরআর ও এসএলআর কমানো হলে পুঁজিবাজারের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তারল্য সঙ্কট কাটাতেও তা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
অন্যান্য পদৰেপ প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে পুঁজিবাজারে নতুন অর্থপ্রবাহ বাড়াতে অপ্রদর্শিত অর্থের প্রশ্নহীন বিনিয়োগের সুযোগ কার্যকর করার ওপর গুরম্নত্বারোপ করা হয়েছে। এ ধরনের অর্থ বিনিয়োগ করা হলে সরকারের কোন সংস্থা থেকে প্রশ্ন করা হবে না বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে। ব্যাংকের তারল্য সঙ্কট সমাধানে প্রয়োজনীয় পদৰেপ নেয়া হলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।
বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে ইতোমধ্যেই ব্রোকারেজ কমিশনের ওপর উৎসে কর হ্রাস, মিউচু্যয়াল ফান্ডের আয়কে করমুক্ত রাখা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের অর্থে কর রেয়াত সুবিধা প্রদান করা হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। আগে নেয়া পদৰেপগুলো কার্যকর করার পাশাপাশি নতুন আঙ্গিকে বেশকিছু পদৰেপ গ্রহণের বিষয়ে প্রসত্মাব এসেছে। সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হবে।

November 14th, 2011

আশরাফ মুহিত এইচটি ইমামের পদত্যাগের খবর নিছকই গুজব

‘গাঁজার নৌকা পাহাড় দিয়ে যায়’ _প্রবাদটি বাংলাদেশের সমাজে যেন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে! বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে গুজবের ডালপালা মেলে হরহামেশাই। একেকটি গুজবে তোলপাড় হয় সারাদেশ, ৰণেকপরেই সেই গুজবের মৃতু্য ঘটে! সোমবারও এ ধরনের একটি গুজবজ্বরে আক্রানত্ম হয়েছিল গোটা দেশ। শেষ পর্যনত্ম সেই গুজবেরও মৃতু্য ঘটেছে। সারাদিনের আলোচনা, কৌতূহল আর গুঞ্জন শেষ পর্যনত্ম বাসত্মবে রূপ নেয়নি। তবে গুজব হিসাবে এটা ছিল বেশ সফল।
আর সেই গুজবটি ছিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের এলজিআরডি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ! মন্ত্রীর ফ্লাগ নিয়ে সোমবার দিনভর সরকারের নানা কর্মসূচীতে যোগ দিয়ে সৈয়দ আশরাফ বিষয়টিকে নিতানত্মই ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সকালের দিকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমামের পদত্যাগের গুজব ছড়ানো হলেও তা শেষ পর্যনত্ম খুব একটা হালে পানি পায়নি। আওয়ামী লীগের পৰ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবেও জানানো হয়, বিষয়টি নিতানত্মই গুজব, সত্যের লেশমাত্র নেই।
নিউইয়র্কের একটি বাংলা নিউজ এজেন্সি ‘নিউজ ওয়ার্ল্ড’ গুজবটির উৎস। ওই এজেন্সির রিপোর্টটি ছিল_ ‘মন্ত্রী ও দল থেকে পদত্যাগ করলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণেই তাঁর এই পদত্যাগ।’ ওই এজেন্সির রিপোর্টি বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশ হওয়ার পর গুজবটা ডালপালা ভালই মেলেছিল। সোমবার দ্রম্নতই তা হয়ে ওঠে ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’তে। দুপুরের দিকে পুঁজিবাজার-সংশিস্নষ্টদের মাঝে গুজব ছড়িয়ে পড়ে শুধু এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামই নন, পদত্যাগ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও।
ব্যাপক গুজবের এক পর্যায়ে মন্ত্রিসভার মন্ত্রীরাও নড়েচড়ে ওঠেন। তাঁরা না নড়ে কী করবেন! কারণ দু’একটি পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশের পাশাপাশি চতুর্দিক থেকে সেই একই ফোন। সরকারদলীয় নেতাকমর্ী থেকে শুরম্ন করে দেশের প্রানত্ম থেকে কেন্দ্র পর্যনত্ম সবাই গুজবের সত্যতা নিরূপণে ব্যতিব্যসত্ম। পরিচিত এমপি বা মন্ত্রী থেকে শুরম্ন করে সরকারের উচ্চপর্যায়ে এবং গণমাধ্যমে সকাল থেকে রাত অবধি শুধু ফোন আর ফোন।
সবারই এক প্রশ্ন_ “সৈয়দ আশরাফ কী সত্যিই পদত্যাগ করেছেন? অর্থমন্ত্রীর কী খবর? পদত্যাগ করলে ওইসব পদে কারা মন্ত্রী হচ্ছেন? শপথগ্রহণ কখন? ইত্যাদি।” প্রতু্যত্তরে বিষয়টি গুজব জানালে ফোনদাতারা কেউই খুশি হতে পারেননি। পাল্টা প্রশ্ন_ ‘ভাই, ভাল করে খোঁজ নেন, সকালে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দিয়ে এসেছেন এলজিআরডি মন্ত্রী।’
‘বিষয়টি মোটেই সঠিক নয়’_ জানিয়ে ফোনদাতাকে বলা হয়, মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ গণভবনে নয়, সকালে মন্ত্রী ভাষাসৈনিক ইমদাদ হোসেনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মন্ত্রীর ফ্লাগ উড়িয়ে শহীদ মিনারে গিয়েছিলেন। তখন ফোনদাতারা আশ্বসত্ম হলেও খুব একটা বিশ্বাস হতে পারেননি তাঁরা। এমনকি দলের অনেক সিনিয়র নেতাও ঘনিষ্ঠ সাংবাদিকদের কাছে ফোন করে গুজবের সত্যতা জানার চেষ্টা করেছেন। সব মিলে একটি সফল গুজব সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি বেশ নাড়া দিয়ে যায় দেশের নানা মহলকে।
এদিকে দলীয় পদ ও মন্ত্রিসভা থেকে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পদত্যাগের ঘটনা নিছক গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এ খবরের সত্যতা জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ সিনিয়র নেতাই জনকণ্ঠকে বলেন, ‘এটি অসত্য, বানোয়াট খবর। কেউ হীনউদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে এ গুজব রটিয়েছে। যার কোনই সত্যতা নেই।’
আওয়ামী লীগের পৰ থেকে দলের কেন্দ্রীয় উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কানত্মি দাস স্বাৰরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পলস্নী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপির পদত্যাগের একটি গুজবের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে এ বিষয়ে জানাতে চাই, এটি সর্বৈবভাবে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বাসত্মবতাবিবর্জিত, অনভিপ্রেত ও বিভ্রানত্মিমূলক অপপ্রচার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালেও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ভাষাসৈনিক ইমদাদ হোসেনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে যান। পরে তিনি রাজধানীর একটি হোটেলে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আনত্মর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে জাতিসংঘ মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অপর একটি অনুষ্ঠানেও যোগ দেন এবং বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি হেসেই তা উড়িয়ে দেন। অপরদিকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও দিনভর সরকারের নানা কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ এবং বক্তব্য রাখেন।
এসব গুজবের কারণ সম্পর্কে খোদ সরকারী দলের অনেক সিনিয়র ও মধ্যম সারির নেতা একেকজন একেক কথা বলেছেন। তবে কেউ নাম প্রকাশ করতে চাননি। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পদত্যাগের গুজব সম্পর্কে তাঁদের মত হচ্ছে_ দলের মধ্যে তিনি (সৈয়দ আশরাফ) অনেকটাই ডুমুরের ফুল। ব্যক্তিগত সাৰাত তো দূরের কথা, কোন পর্যায়ের নেতাই তাঁকে ফোন করেও পান না। তাঁর সম্পর্কে এমনও প্রচার আছে_ তিনি নাকি খোদ প্রধানমন্ত্রীর ফোনও অনেক সময় ধরেন না। সোমবারও গুজবের সত্যতা জানতে সাংবাদিকরা সৈয়দ আশরাফকে মোবাইলে অসংখ্যবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।
এছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েও দলীয় কর্মকা-ে তাঁর অনুপস্থিতি, পদ পাওয়ার পর পৌনে তিন বছরেও একটি জেলার সম্মেলন করতে না পারা, মন্ত্রণালয়ে তাঁর গরহাজিরসহ নানা কারণে দলের নেতাকমর্ীরাই তাঁর ওপর ৰুব্ধ ও হতাশ। তাই দলের মধ্য থেকেও এ ধরনের গুজব ছড়ানো হতে পারে। তাঁরা এও বলেন, সৈয়দ আশরাফের পদত্যাগের কোন কারণ নেই। কেননা বর্তমান সরকারের আমলে সবচেয়ে সুখী মানুষটিই হচ্ছেন সৈয়দ আশরাফ। তিনি সরকারের গুরম্নত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এলজিআরডির মন্ত্রিত্বের পাশাপাশি দলের সাধারণ সম্পাদকের মতো দুটো পদই তাঁর কপালে জুটেছে। প্রধানমন্ত্রীও তাঁকে বেশ পছন্দ করেন। আর তাঁর মন্ত্রণালয় বা দলের কর্মকা-ে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি যে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী সম্পর্কে গুজবের নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে তাঁদের মূল্যায়ন হচ্ছে_ অর্থমন্ত্রীর অতিকথন সরকারকে প্রায়শই প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে। তাঁর একেক সময় একেক কথা, পুঁজিবাজারে ভয়াবহ ধস ঠেকাতে ব্যর্থতা, ব্যাংক থেকে অতিমাত্রায় ঋণ গ্রহণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস এবং সর্বশেষ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তাঁর স্ববিরোধী বক্তব্যে এমনিতেই তিনি (অর্থমন্ত্রী) চাপের মুখে রয়েছেন। পুঁজিবাজারের অব্যাহত ধসে প্রায় প্রতিদিনই বিনিয়োগকারীরা অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মিছিল-সমাবেশ করছে। আর এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে হয়ত কিছু লোক তাঁর পদত্যাগের গুজবটি বাজারে ছেড়ে দেয়। আর তা ডালপালা মেলে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
সারাদিনের আলোচনা, কৌতূহল আর গুঞ্জন শেষ পর্যনত্ম বাসত্মবে রূপ নেয়নি। তবে গুজব হিসাবে এটা ছিল বেশ সফল। ৰমতাসীন মহলে রদ বদলের গুজবের ডামাডোলে আগামীতে আরও চমকপ্রদ গুজব ছড়ানো হবে এমনটাই মনে করছেন সংশিস্নষ্টরা। এসব গুজবের মধ্যে দু’একটা হঠাৎ করেই বাসত্মব রূপ নিতে পারে। যেমনটা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর তাজউদ্দীন আহমেদের ছেলে তানজীম আহমেদ সোহেল তাজের ৰেত্রে। তাই সব গুজবকেই একেবারে উড়িয়ে দিতে চান না অনেকেই।

November 13th, 2011

পাকিস্তানের কারাগারে থাকতে চান বাট-আসিফ

যুক্তরাজ্যের কারাগারে সাজা খাটছেন। তবে সেখানে স্বস্তিবোধ করছেন না সালমান বাট ও মোহাম্মদ আসিফ। নিজ দেশ পাকিস্তানের কারাগারে থাকতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এ দুই ক্রিকেটার।
ব্রিটিশ দৈনিক দি ইন্ডিপেন্ডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের কারাগারে থাকার আগ্রহের কথা নিজেদের আইনজীবীদের জানিয়েছেন বাট ও আসিফ। আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে এ নিয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করবেন ক্রিকেটাররা।
গত বছর অনুষ্ঠিত লর্ডস টেস্টে স্পট ফিক্সিংয়ের মাধ্যমে গোপনে অবৈধ অর্থ নেওয়া ও প্রতারণা করার অপরাধে সালমান বাটকে দুই বছর ছয় মাস, মোহাম্মদ আসিফকে এক বছর এবং মোহাম্মদ আমিরকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্ট। রায় ঘোষণার পর বাট ও আসিফকে কারাগারে এবং ১৯ বছর বয়সী আমিরকে কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ওয়েবসাইট।

November 13th, 2011

বারলুসকোনি যুগের অবসান রোমে জনতার উল্লাস

ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনি (৭৫) পদত্যাগ করেছেন। তিনি ১৭ বছর দেশটির রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট জিওরজিও নেপোলিতানো বারলুসকোনির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন এবং তিনি টেকনোক্র্যাট মারিও মনত্মিকে বারলুসকোনির উত্তরাধিকারী নিয়োগ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউরোজোনের জন্যই হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে এমন এক গুরুতর ঋণসঙ্কটের মধ্যে তিনি দেশের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারান। পার্লামেন্ট সদস্যরা নতুন কৃচ্ছ্র সাধন পদৰেপ অনুমোদন করার পর তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতিমতো পদত্যাগ করলেন। ইতালির রাজধানী রোমে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বাইরে হাজার হাজার লোক আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করে বারলুসকোনির পদত্যাগের ঘটনাকে স্বাগত জানায়। তিনি যখন পদত্যাগপত্র পেশ করতে প্রাসাদে পৌঁছান, তখন তারা তার প্রতি ‘ভাঁড়’ ‘ভাঁড়’ বলে চিৎকার করে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বারলুসকোনির শেষ যাত্রা অমর্যাদা করছিল বলে বিবিসির রোম সংবাদদাতা মন্তব্য করেন। খবর এএফপি ও বিবিসি অনলাইনের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর যুগে বারলুসকোনিই সবচেয়ে বেশিদিন প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন ছিলেন। সম্প্রতি তিনি অনেক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন। বিবিসির সংবাদদাতা এ্যালান জনসন বলেন, তিনি এসব কেলেঙ্কারির মুখে টিকে থাকতে সফল হলেন বটে, কিন্তু ইতালির সর্বগ্রাসী আর্থিক সঙ্কট তাঁর জন্য পরাজয় ডেকে আনে।
পার্লামেন্টে মঙ্গলবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর বারলুসকোনি প্রতিশ্রম্নতি দেন যে, পার্লামেন্টের উভয় কৰে কৃচ্ছ্রসাধন পদৰেপগুলো গৃহীত হওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এসব পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছিল এবং দেশের অর্থনীতিতে বাজারের আস্থা ফিরিয়ে আনাই ছিল এদের লৰ্য। শনিবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের সদস্যদের অধিকাংশই ঐসব পদক্ষেপের পৰে ভোট দেন। এর আগের দিন সনেটে সেগুলো অনুমোদিত হয়। ফলে সেগুলো আইনে পরিণত হলো। নেপোলিতানোর মুখপাত্র দোনাতো মারা বলেন, প্রেসিডেন্ট বর্তমান কার্যাদি শেষ করার জন্য ৰমতা থেকে যেতে বিদায়ী সরকারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠন প্রশ্নে এখন আলোচনা শুরম্ন হবে। নেপোলিতানো টেকনোক্র্যাটদের নিয়ে কোন সরকার গঠন করতে মন্ডি বা অন্য কোন প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানাবেন বলে মনে করা হয়। বিবিসির সংবাদদাতা বলেন, এ সঙ্কটকালে মুদ্রা বাজার যে ধরনের ব্যক্তি দেশ দায়িত্ব নিক বলে দেখতে চায়, অর্থনীতিবিদ মন্ডি সেই ধরনেরই ব্যক্তি। তাঁর প্রতি অনেক মহলেরই সমর্থন রয়েছে। কিন্তু দেশের ভিতরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তি তার বিরোধিতা করছেন। অনেকের ধারণা এই যে, ইতালির সঙ্কট এতই গভীর যে, কেবল সরকারের পরিবর্তনই দ্রুত ও তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি সাধন করতে পারবে বলে মনে হয় না।
এদিকে, রোমে হাজার হাজার মানুষ গাড়ি হর্ণ বাজিয়ে ও নেচে গেয়ে বারলুসকোনির পদত্যাগের ঘটনায় উলস্নাস প্রকাশ করেন। কেলেঙ্কারি জর্জরিত বারলুসকোনি তাঁর পদত্যাগপত্র পেশ করতে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে পৌঁছলে জনতা তাঁকে লক্ষ্য করে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ প্রকাশ করে এবং ‘ভাঁড়’ বা ‘ভাঁড়’ বলে চিৎকার করে।

November 12th, 2011

জাল বিছানো হয়ে গেছে, রুই কাতলা চুনোপুঁটিও ধরা পড়বে

‘আমরা ঘুমিয়ে যাইনি, আমাদের প্রিয় নেতা লোকমান হোসেন হত্যার বিচার দেখতে জেগে আছি। লোকমান হত্যাকারীরা বাঁচতে পারবে না। জাল বিছানো হয়ে গেছে, এবার রুই-কাতলা এমনকি চুনোপুঁটিও ধরা পড়বে।’
এই বক্তব্য নরসিংদী সদর আসনের সাংসদ নজরুল ইসলামের। তিনি আজ শনিবার সন্ধ্যায় মেয়র লোকমানের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
অথচ এই সাংসদ এক দিন আগে গত বৃহস্পতিবার নরসিংদী জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলন করে লোকমান হত্যার এজাহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি হত্যা মামলার প্রধান আসামি টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর ভাই সালাহউদ্দিনের পক্ষে সাফাই গেয়ে ব্যাপক সমালোচিত হন।
আর আজ পৌরবাসীর ব্যানারে শহরের নওয়াববাড়ী পৌর কামালউদ্দিন ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত সমাবেশে সাংসদ নজরুল ইসলাম ভোল পাল্টান। তিনি বলেন, ‘নরসিংদীর মানুষের অপেক্ষা, কখন লোকমান হত্যাকারীদের ফাঁসিতে ঝোলানো হবে। লোকমান হত্যাকারীর ফাঁসির পর তাদের নিয়ে শোকসভা হওয়া তো দূরের কথা, লাশ নিয়ে আনন্দ-উল্লাস করতে নরসিংদীর মানুষ বসে আছে।’
পৌরবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে সাংসদ বলেন, ‘লোকমান হত্যার বিচার দেখতে হলে আমাদের আর একটু ধৈর্য ধরতে হবে।’ তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিশ্বাস রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শফিকুল ইসলাম সাংসদকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মুখে বললে হবে না, শুধু কথায় পেট ভরবে না, কার্যকারিতা দেখতে চাই। আপনি প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা। আমরা আপনার মাধ্যমে হত্যাকারীদের বিচার দেখতে চাই।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভূঁইয়া সাংসদের উদ্দেশে বলেন, ‘মাননীয় সাংসদ, আমি লোকমান হত্যার বিচার প্রশাসনের কাছে চাই না। এ বিচার আপনার কাছে চাই। প্রশাসন আজ আছে, কাল থাকবে না। আপনার নরসিংদী ত্যাগ করার কোনো রাস্তা নাই।…আপনার দলীয় কার্যালয়ে একজন জনপ্রতিনিধিকে হত্যা করা হয়েছে। মনে রাখবেন, আপনিও একজন জনপ্রতিনিধি।’
পৌরসভার কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শামসুল আলম, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী, প্যানেল মেয়র জহির আহমেদ প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

November 11th, 2011

ব্যাটিং দৈন্য, লজ্জা পেয়েছেন অসি অধিনায়ক ক্লার্ক

দক্ষিণ আফ্রিকার অভিষিক্ত পেসার ভারনন ফিলান্ডারের বোলিং তোপে পরশু কেপটাউন টেস্টে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৪৭ রানে অলআউট হয় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। একপর্যায়ে মাত্র ২১ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল মাইকেল ক্লার্কের দল। কিন্তু শেষ উইকেট জুটিতে পিটার সিডল ও নাথান লিয়ন ২৬ রান যোগ করে অস্ট্রেলিয়াকে লজ্জা থেকে রক্ষা করেন। এর ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসের চেয়ে ১৮৮ রানে এগিয়ে থাকার পরও টেস্ট হারতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। প্রথম ইনিংসে নিজেরা ২৮৪ রান করার পর স্বাগতিক প্রোটিয়াসকে মাত্র ৯৬ রানে অলআউট করেছিল সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। গ্রায়েম স্মিথের দলকে ধসিয়ে দেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে উল্টো ফাঁপরে পড়ে অসি ব্যাটসম্যানরা। যাওয়া-আসার মিছিল করে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় মাত্র ৪৭ রানে। এর ফলে জয়ের জন্য দৰিণ আফ্রিকার টার্গেট দাঁড়ায় ২৩৬ রান। পরশু ১ উইকেটে ৮১ রান করা প্রোটিয়াসরা গতকাল আর মাত্র এক উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পেঁৗছে যায়। ঘটনাবহুল ম্যাচটি ৮ উইকেটে জিতে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে দৰিণ আফ্রিকা। দুই দলের প্রথম দুই ইনিংসে সুস্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পরও বাজেভাবে ম্যাচ হারার জন্য নিজেদের লজ্জাজনক ব্যাটিংকেই দায়ী করেছেন অসি অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক।
কেপটাউন টেস্টের প্রথম দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্লার্ক বলেন, জঘন্য ব্যাটিংয়ের দায়ভার প্রথম সাত ব্যাটসম্যানকেই নিতে হবে। আমরা যেভাবে ব্যাট করেছি, তা মোটেই ভাল ছিল না। আমাদের পুরো পারফরমেন্সটাই খুব লজ্জাজনক। মাত্র ৪৭ রানে অলআউট হওয়ার পেছনে কোন অজুহাতও দেয়া যেতে পারে না। আমি আমার ক্যারিয়ারে এ ধরনের দিন কখনও কাটাইনি।
আশা করছি আর কখনও কাটাতেও হবে না। অসি ব্যাটিং ধসে পড়ার জন্য প্রোটিয়াস বোলাদের কৃতিত্ব থাকলেও ব্যর্থতার জন্য নিজেদের দায়ী করেছেন ক্লার্ক। অধিনায়ক হিসেবে নিজেরও আত্মসমালোচনা করেছেন অসি অধিনায়ক, দলের অধিনায়ক হিসেবে, বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে আমি যে ব্যাটিং করেছি তাতে নিজের সমালোচনা করা উচিত। এটা ঠিক যে দৰিণ আফ্রিকার বোলাররা অত্যনত্ম ভাল বোলিং করেছে। তাই বলে আমরা যেভাবে ব্যাটিং করেছি তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
কেপটাউন টেস্টের প্রথম দিন শেষে জয়ের জন্য দৰিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ছিল ১৫৫ রান। ওই অবস্থায় ক্লার্ক বলেছিলেন, আমরা যে এই টেস্ট এখনও জিততে পারি, তাতে কোন সন্দেহ নেই। বোলাররা নির্দিষ্ট জায়গায় বল করতে পারলে জয় পাওয়া কঠিন হবে না; কিন্তু ক্লার্কের আশাটা নিরাশায় পরিণত হয়েছে। গতকাল অসি বোলারদের হতাশায় ডুবিয়ে অধিনায়ক স্মিথের হার না মানা ও আমলার সেঞ্চুরিতে ভর করে সহজেই ম্যাচ জিতে নিয়েছে দৰিণ আফ্রিকা। এখন কী বললেন ক্লার্ক? পরিস্থিতি বলছে, আরেকবার নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে নিদারম্নণ ব্যর্থতার ফিরিসত্মি গাওয়া ছাড়াও উপায় নেই!

November 10th, 2011

যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা চুক্তি হবে, কাজ চলছে

শেখ হাসিনাকে আশ্বাস মনমোহনের
আলোচিত তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি হবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। সপ্তদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি আদ্দুর শাংরিলার ভিলিঙ্গিলি রিসোর্টে বৃহস্পতিবার মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যাশিত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, আধাঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে তাঁরা তিস্তার পানি বণ্টন ও ট্রানজিটসহ বিভিন্ন ইসু্যতে আলোচনা করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেছেন, প্রায় আধাঘণ্টার বৈঠকে দুই প্রধানমন্ত্রী অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, যোগাযোগ, সীমানা নির্ধারণ, বাণিজ্য, ঋণ, বিদু্যত খাতে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, ভারত জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে (তিসত্মার পানি বণ্টন) কাজ করছে। যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। গত ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতে শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। মমতার অভিযোগ ছিল, চুক্তির খসড়া তাঁকে দেখানো হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্ট নিয়েও আলোচনা হয়। ট্রানশিপমেন্টের আওতায় আশুগঞ্জ হয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ভারতীয় পণ্যের চালান অসমে যাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এলে দুই পক্ষেই বলা হয়, পরীক্ষামূলক এই ট্রানশিপমেন্টের ত্রুটি-বিচু্যতিগুলো খুঁটিয়ে দেখে ভবিষ্যতে পুরো মাত্রায় ট্রানজিট চালু করা হবে। খবর বাসস’র ও বিডিনিউজের।
দুই প্রধানমন্ত্রীই বৈঠকে একমত হন যে, আঞ্চলিক উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই।
ভারত থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত কিনতে চুক্তি করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয় বলে জানান এ কর্মকর্তা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, এ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ ওয়াহিদুজ্জামান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

November 9th, 2011

ডিসেম্বরে দাম বাড়ানো হতে পারে সিএনজির

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজির) দাম আরেক দফা বাড়ানো হচ্ছে। তবে কি পরিমাণ দাম বাড়ছে তা সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট করা হয়নি। এমনকি পেট্রোবাংলা থেকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) কোন প্রস্তাবও যায়নি।
ঈদ ছুটি শেষে বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহতি সাংবাদিকদের সিএনজির দাম বৃদ্ধির আভাস দেন। অর্থমন্ত্রী বলেছেন সিনএনজির দাম ডিজেলের কাছাকাছি নেয়া হবে। তবে কবে নাগাদ সিএনজির দাম বৃদ্ধি করা হবে তা জানাননি মুহিত।
সন্ধ্যায় পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর জনকণ্ঠকে বলেন, একবারে না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে দাম বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের তরফ থেকে নির্দেশনা পেলে সিএনজির দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বিইআরসিতে প্রেরণ করা হবে। তিনি বলেন, দাম বৃদ্ধির বিষয়টি পেট্রোবাংলার ওপর নির্ভর করে না। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকার চিন্তা করবে কতটা চাপ জনগণ নিতে পারবে। সে হিসেবেই তারা দাম বৃদ্ধির নির্দেশনা দেবে। এক্ষেত্রে পেট্রোবাংলা শুধু সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়ন করবে।
এ বছরের মে মাসে সিএনজির দাম প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ বাডানো হয়। সেপ্টেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরের দিন প্রতি ঘনমিটার সিএনজির দাম আরও ৫ টাকা বাড়ানো হয়। এখন প্রতি ঘনমিটার সিএনজির দাম ৩০ টাকা।
অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, যানবাহন সিএনজিতে রূপান্তর করায় সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়নি। কারণ সিএনজিচালিত পরিবহন ও অন্য জ্বালানিচালিত পরিবহনের ভাড়া প্রায় সমান। তিনি আরও বলেন, সিএনজি কেবল সিএনজিচালিত পরিবহনের মালিকদেরই আর্থিকভাবে লাভবান করছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাডানো ও কমানোর একটি ফর্মুলা প্রণয়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, এখনই জ্বালানি তেলের দাম আর বাড়ছে না।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সূত্র জানায়, এখনও পেট্রোবাংলার তরফ থেকে তাদের কাছে সিএনজির দাম বৃদ্ধির কোন প্রস্তাব যায়নি। সঙ্গত কারণে সিএনজির দাম বৃদ্ধির বিষয়টি কমিশনের জানা নেই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিএনজির দাম বৃদ্ধি পেলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়লেও গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি ছাড়াও দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পায়। চলতি বছর দুই দফা সিএনজির দাম বৃদ্ধির পর সরকার বেশ সমালোচিতও হয়েছে। এর পর আরও এক দফা দাম বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি এবং ভাড়া বাড়বে।
সর্বশেষ সিএনজির দাম বৃদ্ধির প্রসত্মাবে পেট্রেবাংলা বলে, আশির দশকে দেশে সিএনজি সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ইত্যাদি জ্বালানির দাম যে হারে বেড়েছে, সিএনজির দাম সে হারে বাড়েনি। বাংলাদেশে সিএনজির বর্তমান দাম পাশ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় গড়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ কম এবং তরল জ্বালানির তুলনায় এটি প্রায় ৮০ শতাংশ সাশ্রয়ী। দাম বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি হিসেবে প্রস্তাবে আরও বলা হয়, দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র হতে গ্যাসের উপজাত হিসেবে পাওয়া কনডেনসেট ও এনজিএল প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে এলপিজি, পেট্রোল ও ডিজেল উৎপাদন করা হয়। সিএনজির মূল্য কম হওয়ায় দেশে উৎপাদিত পেট্রোলের চাহিদা কমে গেছে। কিন্তু এ পেট্রোল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা নেই। ফলে প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র (ফ্রাঙ্নেশন পস্নান্ট) বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। কিন্তু যেহেতু গ্যাস উৎপাদন বন্ধ রাখা সম্ভব নয়, তাই উৎপাদিত কনডেনসেট কম দামে বিদেশে রফতানি করতে হচ্ছে। এছাড়া সিএনজির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার যানজট সৃষ্টি করছে বলে প্রসত্মাবে বলা হয়। সিএনজি খাতে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে। দাম বাড়ানো হলে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া হিসেবে এর ব্যবহার ৮ কোটি ঘনফুটে নামবে। তবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর সেপ্টেম্বরে বিইআরসি অনত্মর্বর্তীকালীন আদেশে প্রতি ঘনমিটারে আরও ৫ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়।

November 9th, 2011

গরু সঙ্কট ॥ শেষ সময়ে

নেপথ্যে
সীমান্ত উন্মুক্ত, প্রচুর ভারতীয় গরু আসছে গুজব রটিয়ে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করা হয়

স্মরণকালের কোরবানির গরু সঙ্কটের নেপথ্যে রয়েছে ভারতীয় গরু আমদানি বন্ধ থাকা। ঈদের চার দিন আগে থেকে গুজব ছড়িয়ে পড়ে সীমান্ত উন্মুক্ত, প্রচুর ভারতীয় গরু আসছে। বিভ্রান্তিকর এই তথ্যের কারণে প্রকৃত ব্যাপারিদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। লোকসানের ভয়ে গরু আমদানি বন্ধ রাখে হাজার হাজার ব্যাপারি। যে কারণে শেষ দুই দিনে কোরবানির গরুর মারাত্মক সঙ্কট সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়ে কোরবানিদাতারা।
ঈদের দু’দিন আগে কেন গরুর সঙ্কট সৃষ্টি হলো তা খুঁজতে মাঠপর্যায়ে একাধিক পাইকার, ব্যাপারি, হাট ইজারাদারের সঙ্গে জনকণ্ঠের পৰ থেকে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে। গাবতলীর হাটেই রয়েছে তালিকাভুক্ত ১৩শ’ বেপারি। এর বাইরে রয়েছে আরও তিন হাজার। কিন্তু অধিকাংশ ব্যাপারি ঈদের তিন দিন আগে থেকে গরু আমদানি বন্ধ করে দেয়।
দীর্ঘ বিশ বছর ধরে গাবতলী হাটে গরুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মোমিন ব্যাপারি জনকণ্ঠকে বলেন, এ বছর গরু সঙ্কটের মূল কারণ হচ্ছে ভারত থেকে আমদানি বন্ধ ছিল। তার মতে বৃহস্পতিবার থেকে বাজারে গুজব রটে সীমান্ত উন্মুক্ত, ভারতীয় প্রচুর গরু আসছে। শুধু গুজব নয়, অনেক টিভি চ্যানেল এই সংবাদ ফলাও করে প্রচার করে। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ক্রেতারা গরম্ন কিনতে যাননি। হাটগুলোতে গরু থাকলেও বেচা বিক্রি ছিল না। ফলে অনেক ব্যাপারি লোকসানের ভয়ে শেষ দু’দিন ভারত থেকে আমদানির অর্ডার দেয়নি।
তিনি আরও বলেন, আমিও ভারত থেকে গরু আমদানি করি। ২০ বছর ধরে গরুর ব্যবসা করছি। এ বছর ছয়টি গরু, একটি উট ও একটি দুম্বা গাবতলীর হাটে নিয়ে আসি। কিন্তু বিভিন্ন দিক থেকে ভারতীয় গরুর সয়লাবের সংবাদে আমি নিজেও বৃহস্পতিবারের মধ্যে ছয়টি গরু বিক্রি করি। তড়িঘড়ি করতে গিয়ে কিছুটা লোকসান দিতে হয়। পরে আমি নতুন করে ভারত থেকে কোন গরু আমদানি করিনি। ব্যাপারি মোমিনের মতে, ভারত থেকে গরু আনতে একটি মোবাইল ফোন আমাদের জন্য যথেষ্ট। ফোন করে দিলেই ওপারের ব্যাপারিরা গরু পাঠিয়ে দেয়। শুধু আমি নই, আমার মতো অনেক ব্যাপারি শেষ তিন দিন ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ রাখে। কারণ গরু আনার পর বিক্রি না হলে প্রতিটি ট্রাকে একজন ব্যাপারির দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে। তিনি আরও বলেন, কোরবানির গরম্ন বিক্রি না হলে পরে ওইসব গরুর শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে জ্বরসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। বাধ্য হয়ে হাট থেকে বাড়ি ফেরত নিয়ে গরম্ন সুস্থ করতে আরও অর্থ ব্যয় করতে হয়। এছাড়া কোরবানির ঈদের পর বিশ দিনের আগে কসাই দোকান খোলে না। এই বিশ দিন অবিক্রীত গরু লালনপালন করতে হয়। এসব হিসাব করেই গাবতলীর অধিকাংশ বেপারি শেষ ঝুঁকি নেয়নি বলে একাধিক ব্যাপারি তথ্য দিয়েছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, দেশীয় গরুর সংখ্যাও কম ছিল। গ্রামগঞ্জে অনেকে গরু লালনপালন বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে বর্তমান গো-খাদ্যের আকাশছোঁয়া মূল্য। প্রতিকেজি ভুসির মূল্য ৩৫ টাকার হিসাব দিয়ে টাঙ্গাইলের গরু বিক্রেতা জনকণ্ঠকে বলেন, একটি সুস্থ স্বাভাবিক গরম্নর পিছনে ওষুধ, খড়কুটা, খাবার মিলে প্রতিদিন ৫শ’ টাকা ব্যয় হয়। কোরবানির জন্য একটি গরম্ন কমপৰে ছয় মাস লালনপালন করতে গিয়ে যে ব্যয় হয় গত কয়েক বছর হাটে বিক্রি করে ওই মূল্য পায়নি বিক্রেতারা। ফলে ধীরে ধীরে গরু লালনপালন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে অনেকে। অন্যদিকে কোরবানির সংখ্যাও বাড়ছে। একই সময়ে ভারতীয় গরম্ন আসা বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
জানা গেছে, ভারতের সবচেয়ে বড় হাট হচ্ছে এলেমবাজার হাট। প্রতি সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার ওই হাট বসে। বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা ওই হাট থেকে বেশিরভাগ গরম্ন আমদানি করেন। গরম্ন নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা ওই হাট থেকে গরম্ন আমদানির অর্ডার দিতে পারেনি। ফলে ববিবার পরিস্থিতি বুঝে উঠতে পারলে ব্যাপারিদের হাতে আমদানি করার মতো সময় ও অর্থ কোনটাই ছিল না বলে জানিয়েছে অপর গরম্ন ব্যাপারি মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ছিল শেষ ব্যাংকিং সময়। অনেক ব্যাপারি গরম্ন আমদানি করবে না বলে শেষ দিনে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেনি। কিন্তু শনিবার রাতে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে তা বুঝতে পারলেও ব্যাংক থেকে কোন টাকা উত্তোলনের সুযোগ ছিল না এবং আমদানির জন্য পর্যাপ্ত সময়ও ছিল না।
এদিকে সঙ্কটের কারণে মহাবিপাকে পড়ে কোরবানিদাতারা। শনিবার দুপুর থেকে হাটগুলোতে কেনাকাটা করতে নামে। শনিবার রাত আটটায় সরেজমিনে গাবতলীর হাট পরিদর্শন করা হয়। অন্যান্য বছর গাবতলীর হাট কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে বেড়িবাঁধের আধা কিলোমিটার পর্যনত্ম দুই পাশ দখলে থাকে গরম্ন বিক্রেতাদের। কিন্তু এ বছর পুরো ভিন্ন চিত্র ফুটে ওঠে। গাবতলীর মূল হাটের মধ্যেই গরম্ন শূন্যতা দেখা যায়। বেড়িবাঁধে কোন গরম্ন দেখা যায়নি। এ সুযোগে ব্যাপারিরা ইচ্ছে মতো দাম হাঁকায়। অন্যান্য বছর ৪০ হাজার টাকা দামের একটি গরম্ন বিক্রেতারা হাঁকায় ৭০ হাজার টাকা। বেশি দাম দিয়েই ক্রয় করেন ক্রেতারা।

November 4th, 2011

নব্বই সেকেন্ডের মধ্যেই শেষ জীবন

আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানে মার্কিন অভিযানে নিহত হন গত মে মাসে। কিন্তু তিনি কিভাবে প্রাণ হারালেন তা নিয়ে জল্পনার অবসান হয়নি আজও। অভিযানে অংশ নেয়া মার্কিন নেভি সিল টিম সিঙ্রে সাবেক কমান্ডার চাক ফারার। লাদেন হত্যা প্রসঙ্গে অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ করে তিনি একটি বই লিখেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে ফারার বলেন, নেভি সিলের কয়েকজন সদস্য ওই অভিযানে অংশ নেন। তবে কপ্টার থেকে মাটিতে অবতরণ ও ব্ল্যাক হুক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ব্যাপারে সরকারের দেয়া বর্ণনার সঙ্গে তিনি দ্বিমত পোষণ করেছেন।
তিনি বলেন, ৪৫ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর ওই অভিযানের শুরুতেই লাদেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ফারার বলেন, অভিযান শুরুর ৯০ সেকেন্ডের মধ্যেই নিভে যায় লাদেনের জীবন প্রদীপ। তুমুল বন্দুকযুদ্ধের আগে মাত্র ৪ রাউন্ড গুলি খরচেই এ ঘটনা ঘটে। দ্বিতীয় দফায় চালানো গোলাগুলিতে আল কায়েদা প্রধানের কনিষ্ঠ স্ত্রী আমল বিন লাদেন আহত হন। তিনি পায়ের গোড়ালির একটু ওপরে মাংসপেশীতে গুলিবিদ্ধ হন। ফারার তাঁর লেখা বইটিকে একটি অতুলনীয়, দুঃসাহসিক, নির্ভুল ও যথার্থ রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযান বলে বর্ণনা করেছেন। খবর টেলিগ্রাফ অনলাইনের।