Archive for December, 2011

December 15th, 2011

উন্নতির লক্ষ্যে ঘরোয়া ক্রিকেটের মান বাড়াতে হবে ॥ কোচ স্টুয়ার্ট

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পুরো সিরিজটাতেই বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা খাবি খেয়েছেন। ওয়ানডে কি টেস্ট কোন ধরনের ক্রিকেটেই সম্প্রতি কয়েকটি সিরিজেই নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা। ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়েছে_ প্রতিপক্ষের কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছে বাংলাদেশ। সফরকারী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরও বিকট আকার ধারণ করেছে ব্যাটিং ব্যর্থতা। বাংলাদেশের জন্য ‘পয়মন্ত’ মাঠ সাগরিকায়ও ভিমড়ি খেয়েছেন তাঁরা। ইতোমধ্যে ২৪টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশের বড় লজ্জা বরণ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আগামীকালই আরেকটি হোয়াইটওয়াশ ঠেকানোর লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হবে ক্রিকেটারদের। উইকেটের কোন ধরনের দোষ-ত্রম্নটি নেই তা একদমই নিশ্চিত। কারণ যেকোন উইকেটেই প্রতিপৰরা রানের পাহাড় গড়লেও বাংলাদেশ পারেনি। ওই কথাটি স্বীকার করলেন বাংলাদেশ কোচ স্টুয়ার্ট ল নিজেও। তার মতে, টেস্ট ক্রিকেট কম খেলে বাংলাদেশ এবং তার চেয়েও বড় কথা চারদিনের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটও খুব একটা খেলেন না জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। তাই ল মনে করেন টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতির জন্য বেশি করে চারদিনের ম্যাচ খেলা উচিত ক্রিকেটারদের। গতকাল সকালে বাংলাদেশ দলের ৪ ঘণ্টা অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বাংলাদেশ কোচ।
বাংলাদেশ দলের মূল শক্তি ধরা হয় স্পিনারদের। প্রতিপৰকে ঘায়েল করতে ঘূর্ণি বলই একমাত্র ভরসার স্থল বাংলাদেশের। তবে পাকদের বিরম্নদ্ধে এখন পর্যনত্ম খুব একটা প্রভাব সৃষ্টি করতে পারেনি তারা। উল্টো পাকদের ঘূর্ণি বলেই বাংলাদেশ বিপর্যসত্ম হয়েছে বেশি। ওই ব্যাপারে বাংলাদেশ কোচ ল বলেন, ‘ওরা ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং সবদিক থেকেই অনেক মেধাবী একটা দল। তারা বর্তমানে শুধু মাঠেই নয় মাঠের বাইরেও অনেক ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। বিশেষ করে সাঈদ আজমল বিশ্বসেরা স্পিনার। সে ব্যাটসম্যানদের ওপরে অনেক প্রভাব খাটাতে সৰম। সে ব্যাটসম্যানদের উইকেটে বেঁধে রাখে এবং বেশি রান করতে দেয় না। অফস্পিনার হলেও রিস্ট স্পিনারদের মতো বল ঘুরাতে পারেন তিনি।’ তাহলে তো এখানেই কথা শেষ। পাক বোলাররা যদি ভিনগ্রহবাসী হয়ে থাকেন এবং তাদের বোলিং অস্বাভাবিক রকমেরই হয় তবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা আর রান করবেন কীভাবে? তবে ওই বিষয়টির সঙ্গে একমত নন ল। তিনি বলেন, ‘পাকিসত্মান বর্তমানে দারম্নণ খেলছে। দলটির বোলিং আক্রমণ বেশ সমৃদ্ধ। নতুন বলে সুইং করাতে পারে, পুরনো বলে রিভার্স করাতে সক্ষম তারা। তারা তরম্নণ একটি দল নিয়ে অসম্ভব উন্নতি করেছে। সম্ভাব্য সবকিছু ঠিক ভাবে করছে। তবে তাদের বিপক্ষে খেলা যাবে না এমন নয়। উইকেটে থাকলে ব্যাটসম্যানরা রান পাবেন। তবে তার আগে নিজের খেলার প্রতি মনোনিবেশ করাটা জরম্নরী বেশি।’ স্বাগতিক দল হয়েও উইকেটের সুবিধা নিতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। তবে উইকেট নিয়ে কথা বারবারই হলেও এবার ওই পথ থেকে সরে এসেছেন ল। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে তো ফ্ল্যাট ব্যাটিং উইকেট ছিল ওখানেও রান পায়নি ব্যাটসম্যানরা। তাই উইকেট নিয়ে ভাবছি না। দু’দলের জন্যই উইকেটের চরিত্র একই রকম হবে। ব্যাটসম্যানরা কঠিন সময় পার করছে। তাদের ব্যাট থেকে রান আসছে না। এ সময় তাদের ‘বেসিক’ ব্যাপারগুলোর দিকে আরও নজর দিতে হবে। বেসিক ব্যাপারগুলো ঠিকঠাক করতে পারলে রান আসবেই।’ তবে ল বললেও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা কাজের কাজ করতে পারছেন না। এর কারণ হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেট কম খেলা এবং ওয়ানডের তুলনায় টেস্ট কম খেলাকে দায়ী করছেন ল। তিনি বলেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে চার দিনের ম্যাচ থেকেই টেস্ট ক্রিকেটার বের হয়ে আসে। বাংলাদেশ খুব বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পায় না। সে তুলনায় ওয়ানডে বেশি খেলে। বাংলাদেশের ক্রিকেটাদের আরও বেশি করে চারদিনের ম্যাচ খেলতে হবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে আরও বেশি সময় দিতে হবে। প্রয়োজনে সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে চারদিনের ম্যাচ খেলা যেতে পারে।’ দ্বিতীয় টেস্টের দল এখনো ঠিক করা হয়নি। অধিনায়ক, নির্বাচকদের সঙ্গে আলোচনা করে দল নির্বাচন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ। তবে ব্যাটিং অর্ডার নিয়েই বেশি দুশ্চিনত্মায় রয়েছে দল বলে জানান তিনি।

December 11th, 2011

বিশ্বব্যাপী খাদ্যের বাম্পার ফলন, দেশে উৎপন্ন ৫ কোটি টন

বন্যা ও বৃষ্টি সত্ত্বেও এশিয়ায় উৎপাদন ভাল
চলতি বছর বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী খাদ্যের বাম্পার ফলনে রেকর্ড সৃষ্টি হবে। ফলে নতুন বছরে খাদ্যের চাহিদা বাড়লেও তা নিয়ে কোন সমস্যা সৃষ্টি হবে না। চাহিদা পূরণ করে খাদ্য মজুদ থাকবে। অতিসম্প্রতি বিশ্ব খাদ্য উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফাও) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
ফাও বিশ্বের প্রতিটি দেশের অর্থবছরের ফলনের ওপর সমীক্ষা করে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে বেশিরভাগ দেশ রেকর্ড সৃষ্টি করলেও ৩৩টি দেশ খাদ্য উৎপাদনে লক্ষমাত্রা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। তাদের খাদ্য সহায়তার দরকার হবে। কিন্তু এশিয়া ও রাশিয়ায় এ বছর খাদ্য উৎপাদন ভাল হয়েছে। ফাওয়ের হিসাবে ২০১১-১২ অর্থবছরে সারা বিশ্বে মোট খাদ্য উৎপাদন হবে ২৩২ কোটি ৩০ লাখ মেট্রিক টন। ২০১০ সালের তুলনায় এ উৎপাদন ৩.৫ শতাংশ বেশি হবে। অন্যদিকে গত ২০১০-১১ অর্থবছরে উৎপাদন হয় ২২৪ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন। চলতি অর্থবছরে উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টির কারণে আগামী বছর খাদ্যের চাহিদা ১.৮ শতাংশ বাড়লেও মেটাতে কোন সমস্যা হবে না। আগামী অর্থবছরে খাদ্যের মোট চাহিদা দাঁড়াবে ২৩১ কোটি মেট্রিক টন। ওই চাহিদা পূরণ করার পরও মজুদ থাকবে ৫১ কোটি ১৩ লাখ মেট্রিক টন। তবে এই খাদ্য ঘিরে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য হবে ২৮ কোটি ৬৮ লাখ মেট্রিক টনের।
প্রবল বন্যার কারণে এ বছর পূর্ব এশিয়াতে ব্যাপক ফসলের ৰতি হয়। বিশেষ করে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশে ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এরপরও পূর্ব এশিয়াতে খাদ্য সংগ্রহ ভাল হয়েছে। তবে পণ্যের উচ্চমূল্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অভ্যন্তরীণ খাদ্য মূল্য বেশি থাকার কারণে ৩৩টি দেশ খাদ্য উৎপাদনে লক্ষমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।
প্রতিবেদনে এশিয়ায় বাংলাদেশ চ্যাপ্টারে খাদ্য উৎপাদনে রেকর্ডের কথা বলা হয় বন্যা ও বৃষ্টির মৌসুম থাকলে ভাল হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে চলতি অর্থবছরে মোট খাদ্য উৎপাদন হবে ৫ কোটি ৪২ লাখ মেট্রিক টন। এরমধ্যে ধান উৎপাদন হবে ৫ কোটি ১৯ লাখ মেট্রিক টন এবং গম উৎপাদন হবে ১১ লাখ মেট্রিক টন। অবশ্য গত অর্থবছরে ধান উৎপাদন দেখানো হয় ৫ কোটি ৩ হাজার টন এবং গম উৎপাদন হয় ১০ লাখ মেট্রিক টন। অমসৃণ মোটা দানাদার খাদ্যের উৎপাদন হবে ১২ লাখ টন। সব মিলে গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ বেশি খাদ্য উৎপাদন হবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
ফাওয়ের পর্যবেৰণে বলা হয়, ২০১১ সালে গম উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এ বছর গম উৎপাদন হবে ৬৯ কোটি ৪৮ লাখ মেট্রিক টন। এই উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ৬.৫ শতাংশ এবং ২০০৯ সালের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। তবে এশিয়া সবচেয়ে বেশি গমের বাম্পার ফলন হয়েছে। এই উৎপাদন ভাল হওয়ার কারণে বিশ্বের অনেক দেশের কৃষক আগামী বছরে গম উৎপাদনে ফের প্রসত্মতি নিচ্ছে। বিশেষ করে আমেরিকা ইতোমধ্যে ২০১২ সালের গম উৎপাদনের পরিকল্পনা ঠিক করেছে। ইউরোপ গম উৎপাদনের লৰ্যমাত্রা বাড়িয়েছে।
তবে বিশ্বব্যাপী চাল উৎপাদন কিছুটা কম হলেও এটি রেকর্ড সৃষ্টি করেছে বলে ফাওয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়। চলতি বছরে চাল উৎপাদন হবে ৪৮ কোটি মেট্রিক টন। এটি অবশ্য গত বছরের তুলনায় দুই লাখ মেট্রিক টন কম। কিন্তু ফাওয়ের পর্যবেৰণে বলা হয়, বন্যা ও বৃষ্টির পরও এই উৎপাদন সবদিক থেকে বাম্পার হয়েছে। তবে পর্যবেৰণে বলা হয় আফ্রিকার সাদ, বুরকেনিয়া, লেসটো, মুরতানিয়া, নায়াগ্রা, সোমালিয়া, জিম্বাবুইয়ে, ইরিতা, লাইবেরিয়া, সিরিয়া লিনো, বুরম্ননদিয়া, সেন্টাল আফ্রিকা, ইথুপিয়া, গুনিয়া, মেলিয়া, মোজাম্বিক, দৰিণ সুদান, আফগানিসত্মান, কম্বোডিয়া, কাজাখসত্মান, পাকিসত্মান, কেনিয়া, সোমালিয়ায় এ বছর খাদ্য উৎপাদন কম হয়েছে।
বাংলাদেশে খাদ্যের ব্যাপারে খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সরকারের হাতে চাল ও গম মিলে এই মুহূর্তে সাড়ে ১৫ লাখ মেট্রিক টন মজুদ আছে। আমদানিকৃত আরও তিন লাখ মেট্রিক টন গম আসছে। এবং আমন দুই লাখ টন হবে। ফলে মোট খাদ্যের মজুদের পরিমাণ ২০ লাখ মেট্রিক টন হবে। এই উৎপাদন ভাল হওয়ার পিছনে কৃষককে কম দামে সার দেয়া এবং সার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে অনেক বেশি চাল উৎপাদন হয়েছে। পর্যাপ্ত চাল থাকায় এ বছর চাল আমদানি করতে হবে না।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ে কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, সরকার কৃষককে ভতর্ুকি দিচ্ছে। বিশেষ করে ভতর্ুকি দেয়ায় কৃষক কম দামে সার পাচ্ছে। সার নিয়ে আগের মতো কোন সমস্যা হচ্ছে না। যে কারণে খাদ্য উৎপাদন ভাল হচ্ছে। এছাড়া এ বছর আউসে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৩৫ কোটি টাকার আউস প্রণোদনা দিয়েছে কৃষককে। এই প্যাকেজের আওতায় সুবিধা পেয়েছে সাড়ে পাঁচ লাখ কৃষক। তাদের প্র্রতিজনকে ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি টিএসপি ১০ কেজি এমওপি বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে। সরকারের লৰ্য এই ভর্তুকি দিয়ে অতিরিক্ত আড়াই লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদন করা হবে।
এছাড়া খাদ্যের উৎপাদন বাড়াতে কৃষি উন্নয়ন কর্পোরশেন ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগকে চারটি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে সারাদেশের জলাবদ্ধ জমিকে চাষের আওতায় আনা, শুষ্ক মৌসুমে ফিতা পাইপের প্রচলন ও ভূপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি, বৃষ্টি ও ভূগর্ভস্থ পানি ধরে রাখতে উত্তরাঞ্চলে ডাগ ওয়েল খননের নির্দেশ প্রদান করেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও খাদ্যের উৎপাদন বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে এসব নির্দেশ দেন।

December 10th, 2011

নকল পাজেরো ॥ মাঠে নেমেছে র্যাব পুলিশ গোয়েন্দারা

ঢাকায় তৈরি সবচেয়ে আধুনিক মডেলের সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় পাজেরো জীপ ব্যবহার করছে সমাজের অনেক প্রভাবশালী। এসব পাজেরোর বিষয়ে জোরালো অনুসন্ধান চলছে। মাহফুজের তৈরি করা কত পাজেরো দেশে চলছে তার তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ভুয়া রেজিস্ট্রেশনসহ পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে মাঠে নেমেছে র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দারা। উদ্ধারকৃত পাজেরোটি মাহফুজের তৈরি করা বলে দাবি করেছেন গাড়িটির যন্ত্রাংশ বিক্রেতা গ্রেফতারকৃত মোটরপার্টস ব্যবসায়ী আজম খান। পাজেরো তৈরির বিষয়ে আরও তথ্য জানতে গ্রেফতারকৃত মাহফুজ ও আজমের ৫ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করে শনিবার সিএমএম আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত শুনানি শেষে রিমান্ড নামঞ্জুর করে আসামিদের জেলহাজতে পাঠায়।
গত ৮ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর পলস্নবী থানার ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ১৭ নম্বর রোডের নিউ এস এস অটোমোবাইলস নামে একটি ওয়ার্কশপে অভিযান চালিয়ে মাহফুজুর রহমানকে (৩২) গ্রেফতার করে র্যাব-৪ এর একটি দল। পরে মাহফুজুর রহমানের তথ্যমতে চট্টগ্রাম থেকে র্যাব-৪ এর অপর একটি দল মোহাম্মদ আজম খানকে (৫৭) গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রাজধানীর পলস্নবী থানায় একটি চুরির মামলা হয়েছে। মাহফুজের তৈরি করা কত পাজেরো অবৈধভাবে চলছে তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব গাড়ির ক্রেতা ও ব্যবহারকারীদের বিষয়ে জানতে অনুসন্ধান চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার সেকেন্ড অফিসার ফিরোজ হোসেন মোল্লা জনকন্ঠকে জানান, মাহফুজের পিতার নাম সেকান্দর আলী। মাহফুজ রাজধানীর পল্লবী থানাধীন ১২ নম্বর সেকশনের ঘ ব্লকের ৩৪০ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা। তাঁর শিৰাগত যোগ্যতা সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা যায়নি। পল্লবী থানাধীন ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ১৭ নম্বর রোডের নিউ এস এস অটোমোবাইলস নামের ওয়ার্কশপ থেকে মাহফুজকে গ্রেফতার করা হয়। ওয়ার্কশপটি মাহফুজের। প্রায় ১০ বছর ধরে গাড়ির যন্ত্রাংশ কিনে পাজেরো তৈরি করে আসছিলেন। পাজেরো গাড়ি সমাজের প্রভাবশালীরা ব্যবহার করে থাকেন। এসব গাড়ি সাধারণত চেক করা হয় না। এমন চিনত্মা থেকেই মাহফুজ জাপানী যন্ত্রাংশ কিনে পাজেরো উৎপাদন করে আসছিলেন।
তবে মাহফুজ তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার কাছে দাবি করেছেন, আজম খানের কাছ থেকে তিনি উদ্ধারকৃত পাজেরো গাড়িটি সাড়ে ২৮ লাখ টাকায় কিনেছেন।
আজম খানের দাবি, তিনি মাহফুজের কাছে গাড়ি বিক্রি করেননি। তিনি গাড়ি বিক্রির ব্যবসা করেন না। গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রি করেন। দীর্ঘদিন ধরে মাহফুজের কাছে পাজেরোসহ বিভিন্ন দামি গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রি করে আসছিলেন। বিক্রীত যন্ত্রাংশ দিয়েই উদ্ধারকৃত পাজেরো গাড়িটি তৈরি করা। যন্ত্রাংশ কেনার সূত্রধরেই মাহফুজের সঙ্গে তার পরিচয়।
আজম খানের পিতার নাম আব্দুল গফুর। তিনি চট্টগ্রাম জেলার দেওয়ানহাটের শেখ মুজিব রোডের ৯৩৭ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা। র্যাব কর্মকর্তা মেজর সাখাওয়াত আলী জনকন্ঠকে জানান, একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় পাজেরো জীপ তৈরির জন্য প্রায় ১৮ লাখ টাকার যন্ত্রাংশ লাগে।

December 10th, 2011

যুদ্ধাপরাধী বিচার যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে :: ‘আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী ॥ কেউ আইনের উর্ধে নয় ॥ বেগম জিয়ার দুই পুত্র এ্যাঞ্জেল নয়’

স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তাদের মন্তব্য
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, বেগম জিয়ার দুই পুত্রকে তাঁরা এ্যাঞ্জেল দেবদূত মনে করেন না এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই তাঁদের এই অভিমত। তাঁরা উল্লেখ করেন, সম্প্রতি বেগম জিয়ার পুত্রের বিরুদ্ধে এফবিআই এজেন্টের সাৰ্য প্রদান এবং সাৰ্য সম্পর্কে বিএনপির দেয়া বক্তব্য আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। যুক্তরাষ্ট্র আইনের শাসনে বিশ্বাসী। সেই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধের বিচারকে সমর্থন করে। কেউই আইনের উর্ধে নয়।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) কর্মকর্তারা বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে। সেই কারণেই আগামী বছরের কোন এক সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বাংলাদেশ সফর করতে পারেন।
গত বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের এক প্রতিনিধি দল স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে গেলে তাঁরা উপরক্ত মনত্মব্য করেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এই কর্মকর্তারা হচ্ছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের বাংলাদেশ বিষয়ক কর্মকর্তা এ্যান্থনী ডিন ট্রানচিলা ও আরবি শ্রফ ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ড. শাহজাহান মাহমুদ। প্রতিনিধি দলে ছিলেন ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগ নেতা রফিক পারভেজ, মাহমুদুন নবী বাকী, আলমগীর সোহেল, মইনুল ইসলাম তাপস ও লেখক শিব্বীর আহমেদ।
বৈঠকে ড. শাহজাহান মাহমুদ বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের গত তিন বছরের সাফল্যসহ জঙ্গীবাদ দমন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি দমন, শিক্ষা, মানব অধিকার, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, সংসদকে সকল রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত তুলে ধরেন। এ ছাড়াও বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক মূলনীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব’ অনুসারে পার্শবর্তী দেশ ভারত, মিয়ানমারসহ সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সমপর্ক তৈরি করে চলেছে বলে স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করেন।
বৈঠকে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে কথা বলেন ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুন নবী বাকী ও রফিক পারভেজ। টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তাদের এক প্রশ্নের জবাবে নেতৃবন্দ বলেন, ১৯৭০ সালে টিপাইমুখ বাঁধের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার কখনই টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অথচ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর বন্দুকের নলে দেশবিরোধী শক্তিকে হাত করে বিএনপি গঠন বিএনপি সবচাইতে বেশি সময় ক্ষমতায় থেকেও কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পরপরই উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম টিপাইমুখ পরিদর্শনে পাঠায়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় এই বিষয়ে ড. মনমোহন সিংয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বারবার বাংলাদেশের কোন ক্ষতি হবে এমন কিছু ভারত করবে না বলে আশ্বাস দেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, কিছুদিন আগে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে ভারত সরকার একটি চুক্তি স্বাক্ষরের খবর মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চুক্তি সমপর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য তাঁর দুই উপদেষ্টাকে তাৎক্ষণিকভাবে ভারতে পাঠান। ভারতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে ভারত সরকার আবারো বাংলাদেশের কোন ক্ষতি হয় এমন কিছু ভারত করবে না বলে আশ্বাস দেন।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা এ্যান্থনি ডিন ট্রানচিনা ও আরতি শ্রফকে আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর সোহেল ও মইনুল ইসলাম তাপস জানান, টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে সরকার নীরব নেই।
বৈঠকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তা এ্যান্থনি ডিন ট্রানচিনা ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ভাগ সমপর্কে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সংসদকে কার্যকর করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই দেশের সকল সিদ্ধানত্মের মালিক। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ভাগ বর্তমান সরকার সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের কন্ঠভোটে পাস করেছে। বিএনপি এই ডিসিসি ভাগকে ‘ঢাকা ভাগ’ নামে জনগণের সঙ্গে মিথ্যাচার করছে। তিনি বলেন, ঢাকা ভাগ যদি বিএনপি না চাইত তাহলে তারা সংসদে এসে তা নিয়ে আলাপ আলোচনা করতে পারত। কিন্তু তারা তা না করে জনগণকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রানত্ম করার চেষ্টা করছে।
ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যেই দেশে বিদু্যত সমস্যা সমাধানের পথে। জনজীবনে স্বসত্মি এসেছে। নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম শুরম্ন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়েছে। সরকার জনগণের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করার চেষ্টা করছে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণে বিভক্ত করে জনগণের সেবা বৃদ্ধি করা হবে। একটি সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এক কোটিরও বেশি মানুষকে সেবা দেয়া সম্ভব নয়। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার জনগণকে সেবা প্রদানের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তাদেরকে ড. শাহজাহান মাহমুদ আরও জানান, বর্তমান সরকার খুব শীঘ্রই পরীক্ষামূলকভাবে নগর সরকার ব্যবস্থা চালু করছে কুমিলস্নায় ও রংপুরে এবং এই পদ্ধতি সফল হলে তা পর্যায়ক্রমে দেশের সব সিটি কর্পোরেশনে চালু করা হবে।
বৈঠকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তাদের কােেছ সন্ত্রাসবাদ জঙ্গীবাদ দমনে বর্তমান সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন লেখক সাংবাদিক শিব্বীর আহমেদ। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বর্তমান সরকার জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস কঠোর হসত্মে দমন করে চলেছে। তিনি বলেন, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যনত্ম বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে বাংলাদেশ হয়ে যায় সন্ত্রাসী আর জঙ্গীবাদের স্বর্গরাজ্য। ২০০১ সালের পহেলা আগস্টে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট জয়লাভ করার সঙ্গে সঙ্গে সারাদেশে মৌলবাদী আর জঙ্গীবাদের উন্মাদনায় মেতে ওঠে।
বৈঠকে শিব্বীর আহমেদ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের জঙ্গীবাদ সন্ত্রাসবাদের একটি বিবরণ স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তাদের হাতে দিয়ে বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতৃত্বাধীন সরকারের ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মেয়াদে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ১৯বার হামলা চালায়। তথ্যমতে ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে প্রায় ২১ হাজার বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। গ্রামের গ্রাম খালি করে ফেলা হয় রাতের অন্ধকারে। জ্বালিয়ে দেয়া হয় বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদ জঙ্গীবাদের কথা শুনে স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা এ্যান্থনি ডিন ট্রানচিনা জানান শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের সন্ত্রাসবাদ দমনে সফলতা যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তে দেখছে। এই ব্যাপারে বর্তমান সরকারকে এ পস্নাস পস্নাস মার্ক দিয়ে সরকারকে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে সকল সহায়তা প্রদানের অশ্বাস প্রদান করেন।
বৈঠকে ড. শাহজাহান মাহমুদ বর্তমান বিরোধী দল বিএনপির সকল কার্যক্রমকে যুদ্ধাপরাধের বিচারে বাধা প্রদান এবং বেগম জিয়ার দুই দুর্নীতিবাজ দুই পুত্রকে রক্ষা করার মিশন হিসেবে উলেস্নখ করে বলেন, বিএনপি সকল আন্দোলন সংগ্রাম এখন শুধু যুদ্ধাপরাধী আর বেগম জিয়ার দুই দুর্নীতিবাজ দুই পুত্রকে রক্ষা করার জন্য পরিচালিত হচ্ছে। তাদের আর অন্য কোন মিশন নেই। দেশের কথা তারা ভাবে না। জনগণের কথাও তারা চিনত্মা করে না। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধের জন্য ওয়াশিংটনে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার করে এনে লবিস্ট নিয়োগ করেছে। কিন্তু নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধসহ সকল অপরাধীকে বিচারের সম্মুখীন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জনগণের সরকার এবং জনগণের সমস্যা সমাধানে সরকার সবকিছুই করে যাচ্ছে।
বৈঠকে বেগম জিয়ার দুর্নীতিবাজ দুই পুত্র সমপর্কে ড. শাহজাহান মাহমুদের এক প্রশ্নের জবাবে স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা জানান, বিএনপি নেতৃবৃন্দ আমাদের কাছে এসে বেগম জিয়ার দুই পুত্রকে এ্যাঞ্জেল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও বিভিন্ন তথ্যউপাত্তের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র তা মনে করে না। সম্প্রতি বেগম জিয়ার পুত্রের বিরম্নদ্ধে এফবিআই এজেন্টের সাক্ষ্য প্রদান এবং সাক্ষ্য সমপর্কে বিএনপির দেয়া বক্তব্য আমার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। যুক্তরাষ্ট্র আইনের শাসনে বিশ্বাসী। সেই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধের বিচারকে সমর্থন করে। কেউই আইনের উর্ধে নয়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তারা বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে এবং সেই কারণেই আগামী বছরের কোন এক সময়ে সেক্রেটারি অব স্টেট হিলারি ক্লিনটন বাংলাদেশ সফর করতে পারেন। তবে বর্তমান সরকারকে গণতন্ত্রের উন্নয়ন ও মানবাধিকারের বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।

December 9th, 2011

যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচরবৃত্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইরানের আবেদন

আটককৃত ড্রোন বিমানের ভিডিওচিত্র প্রদর্শন

ড্রোন বিমানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচরবৃত্তির প্রতিবাদে জাতিসংঘের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপনের দাবি জানিয়েছে তেহরান। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের বেআইনি কার্যক্রমের বিপরীতে জাতিসংঘের স্বচ্ছ ও কার্যকর ভূমিকায় দেখতে আগ্রহী। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আটককৃত একটি ড্রোন বিমান প্রদর্শন করেছে ইরান। এক ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ওই বিমানটিকে দেখানো হয়।-খবর রয়টার্স ও আল জাজিরা। বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, জাতিসংঘের নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ খাজি মহাসচিব বান কি মুনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের গুপ্তচরবৃত্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। ইরানের ঐ লিখিত আবেদনের কপি জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভিটালে পরকিন ও ৬৬তম বার্ষিক সাধারণ সভার সভাপতি নাসির এ আল নাসিরের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। এই আবেদনে বলা হয়েছে, গুপ্তচরবৃত্তির অভিপ্রায় যুক্তরাষ্ট্রের আর কিউ-১৭০ মডেলের মনুষ্যবিহীন বিমানটি ইরানের আকাশসীমার ২৫০ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে। যা তেহরানের জন্য খুবই উদ্বেগের বিষয়। এ বিষয়ে আমরা জাতিসংঘের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাই। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই ড্রোন বিমানটির ভিডিওচিত্র প্রদান করা হয়েছে।

সেখানে দেখা গেছে, তেহরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা বিমানটির নানা খুঁটিনাটি বিষয় পরীক্ষা করে দেখছেন। ইরান বলছে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রযুক্তিবিদরা দক্ষতার সঙ্গে ঐ বিমানটিকে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। বিবিসির নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিবেদক ফ্রাঙ্ক গাউনার বলেছেন, অক্ষত বিমানটির ভিডিওচিত্র দেখে ইরানের দাবির সত্যতা মিলেছে। অন্যদিকে একটি ড্রোন বিমান হারানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভূপাতিত হয়েছে বলেও দাবি করে তারা। যদিও ইরানের দাবি তাদের বাহিনী তড়িত্ প্রবাহের মাধ্যমে ড্রোনটি আটক করেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরো জানায়, ইরানী সেনাবাহিনীর ইলেক্ট্রনিক ওয়াফেয়ার গাউস ৪ ডিসেম্বর কাশমার শহরের ওপর দেখে ড্রোন বিমানটি উড়ন্ত অবস্থায় আটক করে। এছাড়া ইরানের বিপ্লবী গাউ বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিজাদেহ গণমাধ্যমকে জানান, এসময় ড্রোন বিমানটি আাাদের ফাঁদে এসে পড়ে এবং ন্যূনতম কোন ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই আমরা সেটিকে আটক করি।

December 8th, 2011

ড্রোন প্রযুক্তি আয়ত্ত করছে ইরান ॥ শঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের

ভূপাতিত ড্রোন রাশিয়া বা চীনের কাছে বিক্রিও করতে পারে তেহরান
ইরানের ১৪০ মাইল ভেতরে গত সপ্তাহে মার্কিন স্টেলথ ড্রোন বিমান নিখোঁজ হয়। ইরান বলছে তারা এই ড্রোনটি ভূপাতিত করেছে। মার্কিনীদের আশঙ্কা ইরান ড্রোন প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে পারে। তারা ড্রোনটি রাশিয়া অথবা চীনের কাছেও বিক্রি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরানের পরমাণু স্থাপনা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কর্মসূচীর আওতায় বাদুড় ডানা সদৃশ স্টেলথ আরকিউ-১৭০ সেন্টিনাল ড্রোন পাঠানো হয়েছিল।
ইরান বলছে, আরকিউ-১৭০ ড্রোন তাদের কব্জায় রয়েছে। মার্কিন আরকিউ-১৭০ ড্রোন গত বছরের মে মাসে লাদেন হত্যা অভিযানের সময় মোতায়েন করা হয়েছিল।
আফগানিসত্মানে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ইন্টারন্যাশনাল সিউরিটি এ্যাসিসটেন্স ফোর্স রবিবার এক বিবৃতিতে বলেছে তাদের খোয়া যাওয়া ড্রোনটি ইরানের হস্তগত হতে পারে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে ইরানের কাছে ড্রোন প্রযুক্তি চলে যাচ্ছে কিনা সেটা। তারা ড্রোনটি খুলে প্রযুক্তি করায়ত্ত করতে সৰম কিনা সেটা। ইরান ড্রোনটি চীন অথবা রাশিয়ার কাছে বিক্রিও করতে পারে। চীন ও রাশিয়া ড্রোনের ব্যাপারে খুবই আগ্রহী।
ব্রম্নকিং ইনস্টিটিউটের মিলিটারি রোবটিক বিভাগের পি ডবিস্নউ সিঙ্গার বলেন, গত কয়েকদিন ধরে তেহরান থেকে বেজিং ও মস্কোগামী বিমান ছিল যাত্রীপূর্ণ। তিনি বলেন, ঐ ড্রোনের রাডার ব্যবস্থা রাশিয়া ও চীন ব্যবহৃত ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি আধুনিক।
পিটার্সবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৰেপণাস্ত্র ও ড্রোন বিশেষজ্ঞ ডেনিস এম গর্মলি বলেন, ড্রোনগুলো তাঁর প্রযুক্তি আয়ত্ত করা উন্নত সেনাবাহিনীর পৰেও কষ্টকর।
২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং ফ্রান্স ও ব্রিটেনের নেতারা ইরানের কোন শহরের বাইরে পরমাণু স্থাপনা সম্পর্কে তথ্য উদঘাটন করতে সমর্থ হন। যদিও ইসরাইল এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। একজন মার্কিন পদস্থ কর্মকর্তা সম্প্রতি বলেন, এখন পর্যন্ত তারা গুরুত্বপূর্ণ কিছু পাননি, তবে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের ওপর গোয়েন্দাগিরি নতুন কিছু নয়। মার্কিন উপগ্রহগুলো বেশ কয়েক বছর ধরে ইরানের পরমাণু ও ৰেপণাস্ত্র স্থাপনার দিকে তাক করিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু আরকিউ-১৭০ ড্রোন ৫০ হাজার ফুট উঁচুতে উড়তে সৰম। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে এই ড্রোন গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সৰম।
উপগ্রহগুলো যেখানে লৰ্যবস্তুতে মাত্র কয়েক মিনিট নজর রাখতে পারে সেখানে এই ড্রোনটি কয়েক ঘণ্টা নজর রাখতে সৰম। সেখান থেকে ড্রোন লোকজন চলাচলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তা প্রেরণ করতে সৰম।
মার্কিন ড্রোন সম্পর্কে ইরানী কর্মকর্তারা বলেন, আফগান সীমানত্ম থেকে ১৪০ মাইল ইরানের অভ্যন্তরে ড্রোনটির সন্ধান পায় তেহরান কতর্ৃপৰ। ইরানের সামরিক বাহিনী ড্রোনটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হ্যাক করায় এটি ভূপাতিত হয়। _নিউইয়র্ক টাইমস।

December 6th, 2011

প্রিজন সেলে রুমানার স্বামীর রহস্যঘেরা মৃত্যু

কারা কর্তৃপক্ষ বলেছে, হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুমানা মনজুরের স্বামী হাসান সাঈদের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোর ৫টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে তাকে মৃত অবস্থায় পায় কারারক্ষীরা। গত ২৩ নভেম্বর চোখের চিকিত্সার জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে নেয়া হয়। এর আগে স্ত্রীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগে গত ১৫ জুন রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করে। হাসান সাঈদের মৃত্যুতে তার পরিবার হত্যা বলে অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে এ ঘটনায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুব ইসলাম বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। তবে হাসান সাঈদের সুরতহাল রিপোর্টে তার দুই হাতের কনুইয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সোমবার বিকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলের দোতলার কক্ষে রাখা হয় হাসান সাঈদকে। একই কক্ষে বিজিবি বিদ্রোহের মামলার আসামি ইউসুফকেও চিকিত্সার জন্য রাখা হয়। চার তলা ভবনে প্রিজন সেলের নিরাপত্তার জন্য একজন হাবিলদারের নেতৃত্বে ১১ জন কারারক্ষী ও ৪ জন পুলিশ দায়িত্ব পালন করেন। কারারক্ষী তাহের জানান, সোমবার ভোর ৫টার দিকে তিনি নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় দেখতে পান যে, প্রিজন সেলের বাথ রুমের বাতি জ্বালানো। বাথ রুমের পানির ট্যাপ থেকে অনবরত পানি পড়ে যাওয়া শব্দ পাচ্ছিলেন। তিনি বাথ রুমের দরজা ঠেলতেই দেখতে পান যে, ভিতর থেকে ছিটকিনি দেয়া। বাথ রুমের দরজার পাশে একটি ছিদ্র আছে যেখান থেকে ছিটকিনি খোলা যায়। তিনি ছিটকিনি খুলে দরজা ঠেলতেই দেখতে পান হাসান সাঈদ বাথ রুমের মেঝেতে পড়ে আছে। পরে বিষয়টি অন্যান্য কারারক্ষীকে জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কারারক্ষী জানান, হাসান সাঈদকে উদ্ধার করার সময় তার মুখ কাপড় দিয়ে প্যাঁচানো ছিল।

অন্যদিকে, সাঈদের ছোট ভাই ফারুক সাঈদ বলেন, গত শনিবার প্রিজন সেলে তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ঐ সময় তাকে বেশ ফুরফুরে দেখাচ্ছিল। সোমবার সকালে জেল সুপার মাহবুব ইসলাম মোবাইল ফোনে তার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর দেন। জেলসুপার তাকে আরো জানায় যে, সাঈদের লাশ কম্বল মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। ফারুক সাঈদ জানান, হাসান সাঈদের চোখে ছাড়া অন্য কোনো সমস্যা ছিল না। চোখের সমস্যার জন্য গত ২৩ নভেম্বর তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে, হাসান সাঈদের মৃত্যুর পর বেলা ১২টার দিকে শাহবাগ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। জেলার মাহবুব আলম বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, হাসান সাঈদ হূদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।

বেলা ১টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ম্যাজিস্ট্রেট শামীমা খন্দকার প্রিজন সেলে গিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট করেন। প্রায় ঘণ্টাকালীন সময়ে এ রিপোর্ট তৈরির পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে এটাকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার দুই হাতে শিকল ও রশির দাগ রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে শামীমা বলেন, ময়না তদন্তের পর জানা যাবে এটি আত্মহত্যা, হত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু।

অন্যদিকে, বিকাল ৩টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. আখম শফিউজ্জামান মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। তিনি জানান, তার মৃত্যু কী কারণে হয়েছে তা নিশ্চিত করে এখনো বলা যাচ্ছে না। নিশ্চিত হওয়ার জন্য রাসায়নিক পরীক্ষা করতে ভিসেরা মহাখালীতে পাঠানো হয়েছে। হার্ট পরীক্ষা করা হবে হিস্টোপ্যাথলজি বিভাগে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক জামালউদ্দিন খলিফা বলেন, চোখের চিকিত্সার জন্য সাঈদ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। হাসপাতাল শুধু ওষুধ সরবরাহ করেছে। সব দেখাশুনা করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। হাসান সাঈদ চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. শফিকুল ইসলামের অধীনে ভর্তি হন। তার চিকিত্সা তত্ত্বাবধান করেন ডা. পল্লব কুমার সেন।

এদিকে সাঈদের পরিবার এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছেন। সাঈদের বাবা সাঈদ আহমেদ কবীর বলেন, প্রিজন সেলের ভিতর বিছানার উপর তিনি তার ছেলের মৃতদেহ দেখেছেন। তাছাড়া হাতা-পা বাঁধা থাকলেও তারা (সেল কর্তৃপক্ষ) তাকে বলবে না।

তার ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী মিডিয়া। রুমানা মনজুরের সব কিছু ঠিক আছে। এখনো সে সব দেখতে পায়; কিন্তু মিডিয়ার সামনে আসলে সে চোখে কালো চশমা দিয়ে আসে। তিনি আরো বলেন, রুমানা, মিডিয়া ও কতিপয় নারী নেত্রীর জন্যই তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রুমানা মনজুরকে নির্যাতনের ঘটনায় তার স্বামী হাসান সাইদকে গত ১৫ জুন রাজধানীর উত্তর মুগদার এক আত্মীয়র বাসা থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এর আগে গত ৫ জুন ধানমণ্ডির বাসায় স্বামী হাসান সাঈদের নির্যাতনের শিকার হন রুমানা। সাঈদের নির্যাতনে রুমানার দুটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। ঘটনার পরদিন রুমানার বাবা মঞ্জুর হোসেন ধানমণ্ডি থানায় হাসান সাঈদকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

December 5th, 2011

গোলাম আযম গ্রেফতার হচ্ছে ১৬ ডিসেম্বর!

যুদ্ধাপরাধীর বিচার
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অধ্যাপক গোলাম আযমকে অতিশীঘ্র গ্রেফতার করা হচ্ছে। এটি হবে সরকার ও ট্রাইব্যুনালের ৪০তম বিজয় দিবসের উপহার। অন্যদিকে গ্রেফতারকৃত বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর দুটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সাকার নতুন ছয়টি আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ১২ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। অপরদিকে জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ অন্য চারজনের ফরমাল চার্জ ১১ ডিসেম্বর দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। সোমবার চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ নিজামুল হকের সমন্বয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দিয়েছে।
বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর দু’টি আবেদনের মধ্যে একটি আবেদনে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ আমলে নেয়ার আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন জানান। তিনি বলেছিলেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে অপরাধ আমলে নেয়ায় বিধি ভঙ্গ করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এ আবেদনের আদেশে জানায়, বিধিমালা ২১(১) অনুসারে অপরাধ আমলে নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আসামিকে সশরীরে উপস্থিত করার কোন নির্দেশনা নেই। এ জন্য বিধি ভঙ্গের কোন ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিতের আবেদনের আদেশে ট্রাইব্যুনাল জানায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন ১৯৭৩ অনুসারে ট্রাইব্যুনালের বিধি তৈরির ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালের নিজের ওপর রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোন বিধি ভঙ্গ হয়নি। আদেশে আরও বলা হয়, হাইকোর্ট বিভাগের দু’জন বিচারপতি এই ট্রাইব্যুনালে কার্যক্রম চালাতে পারেন কি না, সেটি একটি সাংবিধানিক বিষয়। এটি নিষ্পত্তি করার ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালের নেই। এ ছাড়া আসামি আরও কয়েকটি যুক্তি উপস্থাপন করলেও সেগুলো এই ট্রাইব্যুনালে উত্থাপনযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনাল। এসব যুক্তির ভিত্তিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা স্থগিত করার আবেদন খারিজ করা হয়।
এদিকে সোমবার ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের শুরুতেই সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী নতুন ছয়টি আবেদন করেন । এ গুলো হলো, (১) তাঁর পৰের পিটিশনের প্রস্তুতির জন্য ১১ মাস সময় দিতে হবে। (২) বিদেশী আইনজীবীদের আসার অনুমতি দিতে হবে। (৩) অপরাধগুলো ডিভাইন করতে হবে। (৪) ফৌজদারী কার্যবিধি এবং সাৰ্য আইনের প্রকৃতি নিধারণ করতে হবে। (৫) আন্তজার্তিক আইনের প্রয়োগ করতে হবে। (৬) বিচারকাজ সরাসরি ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে সম্প্রচার করতে হবে। এই আবেদনগুলোর ওপর শুনানি হবে ১২ ডিসেম্বর।
নিজামীসহ অন্যরা ॥ এদিকে জামায়াতে ইসলামীর চার নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোলস্নার বিরম্নদ্ধে ১১ ডিসেম্বর ফরমাল চার্জ দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আনত্মর্জতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনাল। সোমবার চীফ প্রসিকিউটর বলেন, এখনও কিছু কাজ বাকি আছে। চীফ প্রসিকিউটরের আবেদনে ট্রাইবু্যনাল ফরমাল চার্জ দাখিলের পরবর্তী দিন নির্ধারণ করে। জামায়াতের ঐ চার নেতা আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারম্নজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোলস্নাকে সোমবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
গোলাম আযম ॥ জামায়াতের ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম যে কোন সময় গ্রেফতার হতে পারেন। ট্রাইবু্যনাল সূত্রে জানা গেছে, বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে। গত বছরের বিজয় দিবসে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এদিকে প্রসিকিউটর গালাম আরিফ টিপু জনকণ্ঠকে বলেছেন, একটু ধৈর্য ধরম্নন। সুখবর অপেৰা করছে। এ ছাড়া আনুষঙ্গিক কাগজপত্রসহ ৪ হাজার পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট রয়েছে।

December 3rd, 2011

নাসিরের সেঞ্চুরি সান্তনা

পাকিস্তানের ২৬৩ রানের জবাবে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১৮৭ রান। ৭৬ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত হয়ে গেছে পাকিস্তানের। তবুও ম্যাচ শেষে তৃপ্তি নিয়েই বাড়ি ফিরেছে বাংলাদেশের সমর্তকেরা। কারণ আর কিছুই না- নাসিরের লড়াকু শতরান আর বাংলাদেশের অলআউট না হওয়া। সিরিজের দ্বিতীয় এই ম্যাচে বাংলাদেশ হেরে গিয়েছিল শুরুতেই। ১৯ রানের ৪ উইকেট খোয়ালে লড়াইয়ের শক্তি হারিয়ে ফেলে স্ব্গাতিকরা। বড় ধস থেকে বাঁচার সংগ্রামে নামেন সাকিব আর নাসির। প্রথম ম্যাচে ৯১ রানের অলআউট হওয়ার লজ্জাতো না ভোলারই কথা। নাসির-সাকিব দলকে বিপর্যয় থেকে বাঁচালেও দলকে নিয়ে গেছেন জয থেকে অনেক দূরে। ৩৫ ওভারেও ১০০ ছুঁতে না পারা দলের জন্য ২৬৩ রানছোঁয়া অকল্পনীয়ই। তাই সাকিব আউট হওয়ার পর তাই আর নাসিরের সেঞ্চুরি পূর্ণ করাই চ্যালেজ্ঞ হয়ে দাঁড়ায়। সেই চ্যালেঞ্জে শতভাগ সফল নাসির। নবম ম্যাচে আর সপ্তম ইনিংসে পেয়ে গেলেন প্রথম শতরান। ৮০ পার হবার পর একটু স্নায়ুর চাপে পড়লেও ৮৬ থেকে দুই চার আর ছক্কায় ছুঁয়ে ফেলেন শতক। ১৩১ বলে ১৫০ মিনিটে ১১টি চার ও ১টি ছয় দিয়ে সেঞ্চুরি করা নাসির আফ্রিদির করা ইনিংসের ৪৯তম ওভারে ১৪ রান নেন। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ২৩ তম শতরান এটি। গতকাল তামিম ৪, ইমরুল ৬ আর শাহরিয়ার ৭ রানে সাঁজ ঘরে । নির্ভরতার প্রতীক অধিনায়ক মুশফিকও ১ রানেই ফেরত। ১৯ রানে ৪ উইকেট। ২০০৮ সালে একই ভেন্যুতে ১৮ রানে হারিয়েছিল ৪ উইকেট। প্রতিপক্ষ ছিল দ. আফ্রিকা। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ ৪৮.২ ওভারে ১৭৩ রানে অলআউট হয়। ৫ম উইকেট জুটিতে সাকিব-রকিবুল গড়েন ১১৯ রানে পার্টনারশীপ। এবারও সাকিব হাল ধরেন নাসির হোসেনকে নিয়ে। সেবার সাকিব ৫২ আর রকিবুল ৬৩ রান করেছিলেন। এবার আর সাকিব পারলেন না। ১০৬ রানের পার্টনাশীপ ভেঙ্গে যায় সাকিব ব্যক্তিগত ৩৭ রানে আউট হয়ে। সাকিব ক্যারিয়ারের ২৩তম ফিফটি থেকে বঞ্চিত হলেন। আর অল্পের জন্য ৫ম উইকেট জুটিতে ১১৯ রানের রেকর্ড পার্টনারশীপ ভাঙ্গার সুযোগ হাত ছাড়া করেন। যদিও সাকিব-নাসির জুটি পাকদের বিপক্ষে দলকে ১০৬ রান উপহার দিতে তা কেউ প্রত্যাশা করেনি। ইনিংসের শেস ওভারে উমর গুলের একটি শটপিচ বল পুল করতে গিয়ে ডিপ থার্ড ম্যানে ইমরান ফরহাতের তালুবন্দি হন নাসির। তার ইনিংসে মুগ্ধ ছিলেন গুলও। আর তাই সাজঘরমুখো নাসিরকে থামিয়ে হাত মেলাতে ভুললেন না গুল। এগিয়ে এসে পিঠ চাপড়ে দিলেন আকমলও।

December 2nd, 2011

এবার সাগরিকার সৌভাগ্যে যদি কিছু হয়!

টাইগারদের সৌভাগ্যের প্রতীক সাগরিকায় আবারও বসতে যাচ্ছে ক্রিকেটের আসর। পাকিসত্মানের সঙ্গে সিরিজের একটি ওয়ানডে ও টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে জহুর আহমদ চৌধুরী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে। শনিবার সিরিজের শেষ ও তৃতীয় ওয়ানডের পর প্রথম টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে এ মাঠে। সাগরিকাকে নিয়ে টাইগার সমর্থকদের গর্ব বরাবরই। বিশেষ করে দলপতি মুশফিকের লাকি একটি গ্রাউন্ড। তাই ওয়ানডেতে না হোক টেস্ট সিরিজে পাকিসত্মানের বিরম্নদ্ধে সৌভাগ্যের কিছু একটা পাওয়ার আশা করছে এখানকার সমর্থকরা। ইতোমধ্যে ওয়ানডে দেখার জন্য বিপুলসংখ্যক উৎসুক দর্শকের ভিড় শুরম্ন হয়ে গেছে স্টেডিয়াম পাড়ায়। টিকেটের জন্য নানাভাবে ধরনা দেয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সাগরিকায় জাতীয় ক্রিকেট লীগের বরিশাল-সিলেট ম্যাচ শেষ হওয়ার পর শুরম্ন হয়েছে মাঠ ও উইকেটের পরিচর্যা। আগামী মঙ্গলবার এখানে সিরিজের শেষ ও চট্টগ্রামের একমাত্র ওয়ানডে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। এর আগেই মিরপুরে তৃতীয় ওয়ানডে খেলে রবিবার পেঁৗছে যাবে দুদল। সোমবার অনুশীলন পর্ব থাকছে সাগরিকায়। ওয়ানডের সিরিজের ভাগ্য এর আগেই নিষ্পত্তি হয়ে যেতে পারে। আর যদি টাইগাররা সমতা নিয়ে আসতে পারে শেষ ওয়ানডেতে চট্টগ্রামই হতে পারে সিরিজের ভাগ্য নির্ধারক। তাই এখানকার দর্শকরা শেষ ওয়ানডে নিয়ে এখন থেকেই আগ্রহের সঙ্গে তাকিয়ে আছে। বিশেষ করে গেল বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডকে পরাজয়ের পর সাগরিকার সুনাম উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। টাইগারদের জন্য সৌভাগ্যের এ মাঠটি মাত্র একমাস আগে শেষ হওয়া ক্যারিবীয়দের সিরিজে আবারও প্রমাণ মিলেছে। বিশ্বকাপে এ ক্যারিবীয়দের বিরম্নদ্ধে ঢাকায় ৫৮ রানের অলআউট হওয়ার জ্বালা ৬২-তে চট্টগ্রামে মিটেছে। তাই চট্টগ্রামকে নিয়ে এখন টাইগার ভক্তদের দারম্নণ আগ্রহ। ‘৯৯ সালের পর পাকিসত্মানের বিরম্নদ্ধে জয় মেলেনি। চট্টগ্রামে সৌভাগ্যের মাঠে সে সুযোগের অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছে এখানকার ভক্তরা। এদিকে, সাগরিকার মাঠের পরিচর্যা নতুন করে শুরম্ন হয়েছে। ক্যারিবীয়দের সঙ্গে শেষ টেস্টে তিন দিন বৃষ্টির বাগড়ায় আউট ফিল্ডের উলেস্নখযোগ্য ক্ষতি হয়েছিল। সে বৃষ্টির পর নতুন করে আর বর্ষণ হয়নি। বিসিবিও জানিয়ে দিয়েছিল বর্ষণের উপর নির্ভর করছে পাকিসত্মান টু্যরের চট্টগ্রাম ভেনু্যর ভাগ্য। অবশ্য আবহাওয়া আর কোনভাবে বদলায়নি। বৃষ্টিও হয়নি। তাই আউটফিল্ডের নতুন কোন ক্ষতি হয়নি। বৃষ্টি না থাকায় পানি নিষ্কাশনের যন্ত্রণাও এখন আর নেই। শুধু সমস্যা আর্দ্রতা। কুয়াশার প্রাদুর্ভাব কিছুটা ভোগাতে পারে। সকালে সঁ্যাতসেঁতে ভাব এবং কুয়াশার কারণে ম্যাচে হয়ত টসের ভাগ্যই অন্যতম হয়ে উঠতে পারে। সাগরিকার আয়োজকরা জানিয়েছেন, ঢাকার মতো একঘেয়েমি উইকেট নয়, একটি স্পোর্টিং উইকেটই উপহার দেয়া হবে দু’দলকে। যে উইকেটে ব্যাটসম্যানদের বেশি কষ্ট না হলেও ধৈর্যের পরীক্ষায় পড়তে হবে।