পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পুরো সিরিজটাতেই বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা খাবি খেয়েছেন। ওয়ানডে কি টেস্ট কোন ধরনের ক্রিকেটেই সম্প্রতি কয়েকটি সিরিজেই নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা। ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়েছে_ প্রতিপক্ষের কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছে বাংলাদেশ। সফরকারী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরও বিকট আকার ধারণ করেছে ব্যাটিং ব্যর্থতা। বাংলাদেশের জন্য ‘পয়মন্ত’ মাঠ সাগরিকায়ও ভিমড়ি খেয়েছেন তাঁরা। ইতোমধ্যে ২৪টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশের বড় লজ্জা বরণ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আগামীকালই আরেকটি হোয়াইটওয়াশ ঠেকানোর লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হবে ক্রিকেটারদের। উইকেটের কোন ধরনের দোষ-ত্রম্নটি নেই তা একদমই নিশ্চিত। কারণ যেকোন উইকেটেই প্রতিপৰরা রানের পাহাড় গড়লেও বাংলাদেশ পারেনি। ওই কথাটি স্বীকার করলেন বাংলাদেশ কোচ স্টুয়ার্ট ল নিজেও। তার মতে, টেস্ট ক্রিকেট কম খেলে বাংলাদেশ এবং তার চেয়েও বড় কথা চারদিনের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটও খুব একটা খেলেন না জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। তাই ল মনে করেন টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতির জন্য বেশি করে চারদিনের ম্যাচ খেলা উচিত ক্রিকেটারদের। গতকাল সকালে বাংলাদেশ দলের ৪ ঘণ্টা অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বাংলাদেশ কোচ।
বাংলাদেশ দলের মূল শক্তি ধরা হয় স্পিনারদের। প্রতিপৰকে ঘায়েল করতে ঘূর্ণি বলই একমাত্র ভরসার স্থল বাংলাদেশের। তবে পাকদের বিরম্নদ্ধে এখন পর্যনত্ম খুব একটা প্রভাব সৃষ্টি করতে পারেনি তারা। উল্টো পাকদের ঘূর্ণি বলেই বাংলাদেশ বিপর্যসত্ম হয়েছে বেশি। ওই ব্যাপারে বাংলাদেশ কোচ ল বলেন, ‘ওরা ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং সবদিক থেকেই অনেক মেধাবী একটা দল। তারা বর্তমানে শুধু মাঠেই নয় মাঠের বাইরেও অনেক ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। বিশেষ করে সাঈদ আজমল বিশ্বসেরা স্পিনার। সে ব্যাটসম্যানদের ওপরে অনেক প্রভাব খাটাতে সৰম। সে ব্যাটসম্যানদের উইকেটে বেঁধে রাখে এবং বেশি রান করতে দেয় না। অফস্পিনার হলেও রিস্ট স্পিনারদের মতো বল ঘুরাতে পারেন তিনি।’ তাহলে তো এখানেই কথা শেষ। পাক বোলাররা যদি ভিনগ্রহবাসী হয়ে থাকেন এবং তাদের বোলিং অস্বাভাবিক রকমেরই হয় তবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা আর রান করবেন কীভাবে? তবে ওই বিষয়টির সঙ্গে একমত নন ল। তিনি বলেন, ‘পাকিসত্মান বর্তমানে দারম্নণ খেলছে। দলটির বোলিং আক্রমণ বেশ সমৃদ্ধ। নতুন বলে সুইং করাতে পারে, পুরনো বলে রিভার্স করাতে সক্ষম তারা। তারা তরম্নণ একটি দল নিয়ে অসম্ভব উন্নতি করেছে। সম্ভাব্য সবকিছু ঠিক ভাবে করছে। তবে তাদের বিপক্ষে খেলা যাবে না এমন নয়। উইকেটে থাকলে ব্যাটসম্যানরা রান পাবেন। তবে তার আগে নিজের খেলার প্রতি মনোনিবেশ করাটা জরম্নরী বেশি।’ স্বাগতিক দল হয়েও উইকেটের সুবিধা নিতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। তবে উইকেট নিয়ে কথা বারবারই হলেও এবার ওই পথ থেকে সরে এসেছেন ল। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে তো ফ্ল্যাট ব্যাটিং উইকেট ছিল ওখানেও রান পায়নি ব্যাটসম্যানরা। তাই উইকেট নিয়ে ভাবছি না। দু’দলের জন্যই উইকেটের চরিত্র একই রকম হবে। ব্যাটসম্যানরা কঠিন সময় পার করছে। তাদের ব্যাট থেকে রান আসছে না। এ সময় তাদের ‘বেসিক’ ব্যাপারগুলোর দিকে আরও নজর দিতে হবে। বেসিক ব্যাপারগুলো ঠিকঠাক করতে পারলে রান আসবেই।’ তবে ল বললেও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা কাজের কাজ করতে পারছেন না। এর কারণ হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেট কম খেলা এবং ওয়ানডের তুলনায় টেস্ট কম খেলাকে দায়ী করছেন ল। তিনি বলেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে চার দিনের ম্যাচ থেকেই টেস্ট ক্রিকেটার বের হয়ে আসে। বাংলাদেশ খুব বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পায় না। সে তুলনায় ওয়ানডে বেশি খেলে। বাংলাদেশের ক্রিকেটাদের আরও বেশি করে চারদিনের ম্যাচ খেলতে হবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে আরও বেশি সময় দিতে হবে। প্রয়োজনে সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে চারদিনের ম্যাচ খেলা যেতে পারে।’ দ্বিতীয় টেস্টের দল এখনো ঠিক করা হয়নি। অধিনায়ক, নির্বাচকদের সঙ্গে আলোচনা করে দল নির্বাচন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ। তবে ব্যাটিং অর্ডার নিয়েই বেশি দুশ্চিনত্মায় রয়েছে দল বলে জানান তিনি।
December 15th, 2011
