Archive for December, 2011

December 1st, 2011

বাংলাদেশের ক্রিকেটের অগ্রগতি কোথায়?

বাংলাদেশ ক্রিকেট বদলাল কোথায়? যে স্থানে ছিল, সেখানেই আছে। দুর্যুগ পরও যখন দল এমন দুর্দশায় পড়ে তখন এমন প্রশ্ন চতুর্দিকেই শোনা যাবে, যাচ্ছেও। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৯১ রানে অলআউট হওয়ার পর ৫ উইকেটে হারতেই এমন প্রশ্ন উঠল যেমন গতকাল। দুর্যুগ আগের কথা। ৩১ মার্চ ১৯৮৬, স্বাধীনতার মাস। প্রতিপক্ষ পাকিসত্মান। বাংলাদেশ অলআউট হয়েছিল ৯৪ রানে। হেরেছিল ৭ উইকেটে। ২৫ বছর পেরিয়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ১ ডিসেম্বর, বিজয়ের মাস। প্রতিপক্ষ সেই পাকিস্তানই। বাংলাদেশ এবার তিন রান কমে, ৯১ রানে অলআউট হয়েছে। হেরেছে ৫ উইকেটে। ‘৮৬ সালের ম্যাচটি বাংলাদেশের ওয়ানডেতে পদার্পণের ম্যাচ ছিল। আর বৃহস্পতিবার প্রথম ওয়ানডেটি দলের ২৫৬তম ম্যাচ। এতদিন পরও বাংলাদেশ ক্রিকেট বদলাল কোথায়? একটি স্থানে অবশ্য বদল হয়েছে! সেটি হারের ব্যবধানে। এছাড়া সবকিছু যেন আগের মতোই আছে। বলতে গেলে উল্টো অধোপতন হয়েছে! দল যে এবার তিন রান কম করেছে।
গতকাল ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ। মুশফিকসহ কেউ-ই জানেন না কত রান করলে দল জিতবে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে এমন কথাই বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সঙ্গে নিজেদের আত্মবিশ্বাসেও যে ঘাটতি আছে সে কথাও বলে গেছেন। গতকাল পুরো ৫০ ওভার নয়, ৩০.৩ ওভারে ৯১ রানেই অলআউট বাংলাদেশ! হায়, পথভ্রষ্ট ক্রিকেটাররা! একই বছর ৫৮ ও ৭৮ রানে অলআউট হওয়ার পর এবার এক শ’র নিচে আবারও ইনিংস খতম। শহীদ আফ্রিদি একাই ৫ উইকেট নিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ইনিংস নাসির হোসেনের, ২১ রান।
এ রান তাড়া করা পাকিস্তানের কাছে কোন ব্যাপার নয়। বোলাররা কিছুটা হলেও ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ সৃষ্টি করেছিলেন। তাতে অবশ্য সফরকারীদের ম্যাচ জিততে ‘কিঞ্চিত’ কষ্ট হয়েছে। ম্যাচসেরা আফ্রিদি ব্যাখ্যা দিলেন, ‘উইকেট পারফেক্ট ছিল। এমন উইকেটে আগে সেট হতে হবে। এরপর সিঙ্গেল, ডবলস ও সুযোগ বুঝে বাউন্ডারি মারতে হবে। তাহলেই রান আসবে।’ তাঁর এ ব্যাখ্যাতেই বোঝা যায় পাকিসত্মান ততটা চাপে ছিল না। তবে বাংলাদেশ বোলাররা তাদের ঠিকই চাপ অনুভব করাতে পেরেছেন। আফ্রিদি যতই মুখে বলুন, কোন ব্যাপার ছিল না টাইপ কথা। ম্যাচেই তা বোঝা গেছে।
ম্যাচ শেষ করার অনেক আগেই ৬৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে পাকিসত্মান খাদের কিনারায় পড়ে যায়। আর একটি উইকেট নিতে পারলেই হতো। সেই সুযোগও মিলেছিল। ৬৫ রানে আফ্রিদির ক্যাচটি শাহরিয়ার লুফে নিতে পারলেই হতো। তা হয়নি। ম্যাচও তাই বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেনি। আফ্রিদিকে তখন ফেরানো গেলে হয়ত ম্যাচে অন্য কোন রূপ মিলত। শেষ পর্যনত্ম আফ্রিদিই সবচেয়ে বেশি রান (২৪*) করলেন। পাকিসত্মানও ম্যাচ জিতে নিল অনায়াসেই।
চাপ থাকলেও সেটি আর শেষে ধরা দিল না। আফ্রিদি এক সুযোগেই বাজিমাত করলেন। ২ উইকেট করে নেয়া শাকিব, রম্নবেল পাকিসত্মানকে চাপে ফেলেছিলেন। শেষদিকে শাকিবের ওভারে টানা তিনটি চার হাঁকিয়ে সে চাপ মোচন করে দিয়েছেন আফ্রিদি। ৬৩ রানে যে ৫ উইকেট পড়েছিল, সেটিতেই শেষ ম্যাচ। এরপর আর কোন উইকেটও পড়ল না। পাকিসত্মান ৫ উইকেটে ম্যাচও জিতে নিল। প্রথম ওয়ানডে জেতায় এখন সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়েও গেল পাকিসত্মান।
শেষে মুশফিকের কথাগুলোর একটিই সবচেয়ে গুরম্নত্বপূর্ণ। আর সেটিই প্রমাণ করে বাংলাদেশ কোথায় আছে। তিনি বলেছেন, ‘টেস্ট এবং ওয়ানডে যে ধরনের ক্রিকেটই হোক বাংলাদেশ এক পা এগিয়ে গেলে, পিছিয়েছে পাঁচ পা।’ উইকেটের বিভ্রানত্ম আচরণ, নিজেদের ঘাটতি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মুশফিক এমন কথা বলে যেন অন্য কিছু বোঝাতে চাইলেন। সেটি কী এখন খোঁজার বিষয়। আর এমন কথাবার্তা পাকিসত্মানের বিরম্নদ্ধে ৫ উইকেটে হারার পরই মুশফিকের মুখ থেকে বের হয়েছে।