Archive for ‘অর্থ-ও-বাণিজ্য’

November 9th, 2011

ডিসেম্বরে দাম বাড়ানো হতে পারে সিএনজির

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজির) দাম আরেক দফা বাড়ানো হচ্ছে। তবে কি পরিমাণ দাম বাড়ছে তা সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট করা হয়নি। এমনকি পেট্রোবাংলা থেকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) কোন প্রস্তাবও যায়নি।
ঈদ ছুটি শেষে বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহতি সাংবাদিকদের সিএনজির দাম বৃদ্ধির আভাস দেন। অর্থমন্ত্রী বলেছেন সিনএনজির দাম ডিজেলের কাছাকাছি নেয়া হবে। তবে কবে নাগাদ সিএনজির দাম বৃদ্ধি করা হবে তা জানাননি মুহিত।
সন্ধ্যায় পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর জনকণ্ঠকে বলেন, একবারে না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে দাম বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের তরফ থেকে নির্দেশনা পেলে সিএনজির দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বিইআরসিতে প্রেরণ করা হবে। তিনি বলেন, দাম বৃদ্ধির বিষয়টি পেট্রোবাংলার ওপর নির্ভর করে না। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকার চিন্তা করবে কতটা চাপ জনগণ নিতে পারবে। সে হিসেবেই তারা দাম বৃদ্ধির নির্দেশনা দেবে। এক্ষেত্রে পেট্রোবাংলা শুধু সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়ন করবে।
এ বছরের মে মাসে সিএনজির দাম প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ বাডানো হয়। সেপ্টেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরের দিন প্রতি ঘনমিটার সিএনজির দাম আরও ৫ টাকা বাড়ানো হয়। এখন প্রতি ঘনমিটার সিএনজির দাম ৩০ টাকা।
অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, যানবাহন সিএনজিতে রূপান্তর করায় সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়নি। কারণ সিএনজিচালিত পরিবহন ও অন্য জ্বালানিচালিত পরিবহনের ভাড়া প্রায় সমান। তিনি আরও বলেন, সিএনজি কেবল সিএনজিচালিত পরিবহনের মালিকদেরই আর্থিকভাবে লাভবান করছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাডানো ও কমানোর একটি ফর্মুলা প্রণয়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, এখনই জ্বালানি তেলের দাম আর বাড়ছে না।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সূত্র জানায়, এখনও পেট্রোবাংলার তরফ থেকে তাদের কাছে সিএনজির দাম বৃদ্ধির কোন প্রস্তাব যায়নি। সঙ্গত কারণে সিএনজির দাম বৃদ্ধির বিষয়টি কমিশনের জানা নেই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিএনজির দাম বৃদ্ধি পেলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়লেও গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি ছাড়াও দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পায়। চলতি বছর দুই দফা সিএনজির দাম বৃদ্ধির পর সরকার বেশ সমালোচিতও হয়েছে। এর পর আরও এক দফা দাম বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি এবং ভাড়া বাড়বে।
সর্বশেষ সিএনজির দাম বৃদ্ধির প্রসত্মাবে পেট্রেবাংলা বলে, আশির দশকে দেশে সিএনজি সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ইত্যাদি জ্বালানির দাম যে হারে বেড়েছে, সিএনজির দাম সে হারে বাড়েনি। বাংলাদেশে সিএনজির বর্তমান দাম পাশ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় গড়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ কম এবং তরল জ্বালানির তুলনায় এটি প্রায় ৮০ শতাংশ সাশ্রয়ী। দাম বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি হিসেবে প্রস্তাবে আরও বলা হয়, দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র হতে গ্যাসের উপজাত হিসেবে পাওয়া কনডেনসেট ও এনজিএল প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে এলপিজি, পেট্রোল ও ডিজেল উৎপাদন করা হয়। সিএনজির মূল্য কম হওয়ায় দেশে উৎপাদিত পেট্রোলের চাহিদা কমে গেছে। কিন্তু এ পেট্রোল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা নেই। ফলে প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র (ফ্রাঙ্নেশন পস্নান্ট) বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। কিন্তু যেহেতু গ্যাস উৎপাদন বন্ধ রাখা সম্ভব নয়, তাই উৎপাদিত কনডেনসেট কম দামে বিদেশে রফতানি করতে হচ্ছে। এছাড়া সিএনজির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার যানজট সৃষ্টি করছে বলে প্রসত্মাবে বলা হয়। সিএনজি খাতে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে। দাম বাড়ানো হলে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া হিসেবে এর ব্যবহার ৮ কোটি ঘনফুটে নামবে। তবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর সেপ্টেম্বরে বিইআরসি অনত্মর্বর্তীকালীন আদেশে প্রতি ঘনমিটারে আরও ৫ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়।

August 27th, 2011

এক যাযাবর হাঁসের খামারি দুটি হাঁস থেকে ২ কোটি টাকার মালিক!

রূপকথার গল্পে রোজ ভোরে সোনার ডিম দেওয়া রাজহাঁসের কথা জেনেছেন অনেকে; কিন্তু বাস্তবে কি সোনার ডিম দেওয়া মূল্যবান হাঁসের কথা ভাবা যায়! অভাবনীয় হলেও বাস্তবে তেমনই এক বিস্ময়কর সাফল্যের ঘটনা ঘটেছে। দুটি হাঁস থেকে ২ কোটি টাকার মালিক হওয়ার মতো অবিশ্বাস্য ঘটনাটি ঘটিয়েছেন হাবিবুর রহমান। তার কথা শুনলে অবাকই হতে হয়।
‘হাঁসের শরীরে হাত দিলেই আমি বুঝতে পারি হাঁস ডিম দেবে কি-না’_ এটি কোনো চিকিৎসকের মন্তব্য নয়, এটি অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন হাঁস খামারি হাবিবের অভিজ্ঞতা। খামারি হাবিবুর রহমান সিলেট শহরের কুমুপাড়া এলাকার জালালউদ্দিনের ছেলে।
দুটি হাঁস থেকে ১২ বছরে ২ কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া হাবিবুর রহমান হাঁসের পাল চরিয়ে বেড়ান বিল-ঝিলে। ভ্রাম্যমাণ খামারি হাবিবুর রহমান এবার ২ হাজার ১০০ হাঁস নিয়ে তাঁবু গেড়েছেন গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের চকনদি গ্রামের বিলে। অর্থ উপার্জনের জন্য কীভাবে পরিশ্রম করতে হয়, কতটা ধৈর্য ধরতে হয়_ এর সবটুকু করছেন রোদ-বৃষ্টি, ঝড়-তুফান উপেক্ষা করে যাযাবরের মতো জীবনযাপনকারী হাবিবুর রহমান। এক যুগে হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসা হাবিবুরের হাঁসের খামার দেখে অনেকেই অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।
তিনি জানান, মায়ের পরামর্শে ১২ বছর আগে মাত্র দুটি হাঁস দিয়ে খামার শুরু করেন। এরপর আস্তে আস্তে পালে হাঁসের সংখ্যা বাড়তে থাকে; কিন্তু হাঁস পালনের জন্য নিজের জায়গা-জমি না থাকায় শুরু করেন যাবাবর জীবনযাপন। যেখানে বিল-ঝিল রয়েছে, সেখানেই ছুটছেন হাঁসের পাল নিয়ে। ভ্রাম্যমাণ খামারে জায়গা-জমির ভাড়া লাগে না, হাঁসের সমস্যা দেখা দেয় না। তাই অন্যের জমিতে হাঁস পালন করে নিজের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন হাবিবুর রহমান। উপার্জনের জন্যই হাঁসের খামার নিয়ে সিলেট থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সাদুল্যাপুরে এসেছেন। এ দীর্ঘ সময়ে তিনি রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সংযুক্ত মহাসড়ক সংলগ্ন প্রায় ২৫ জেলার বিল-ঝিলে হাঁসের খামার নিয়ে ঘুরেছেন। নিরাপত্তার কারণে বেশির ভাগ সময় মহাসড়কে পুলিশ বক্সের পাশে কিংবা ইটভাটার উঁচু মাটিতে তাঁবু গেড়ে হাঁসের পাল নিয়ে রাতযাপন করেন।
বিল-ঝিলে হাঁসের খাদ্যের সমস্যা হয় না। বছরে শুধু চার মাস (ফাল্গুন, চৈত্র, শ্রাবণ ও ভাদ্র) হাঁসের কিছু খাদ্য কিনতে হয়। এ ছাড়া বাকি আট মাস খাদ্য কিনতে হয় না। প্রকৃতিতে থাকা শামুক-ঝিনুক, পোকা-মাকড় খেলে হাঁস প্রচুর ডিম দেয় এবং রোগবালাই কম হয়। বদ্ধ পরিবেশে হাঁস কম ডিম দেয়। কাদামাটিতে হাঁস যত মুখ লাগাবে, ততো বেশি ডিম দেবে। তিনি নিজেই হাঁসের চিকিৎসা করেন। হাঁসের শরীরে হাত দিলেই বুঝতে পারেন হাঁস ডিম দেবে ও সুস্থ কি-না। সরকারি-বেসরকারি কোনোরকম প্রশিক্ষণ ছাড়াই তিনি এ পর্যায়ে এসেছেন বলে জানান হাবিব। হাঁসের সঙ্গে থাকতে থাকতেই তার অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে। তাই তিনি রাতে হাঁসের পালের সঙ্গেই তাঁবু গেড়ে ঘুমান। রাতে হাঁসগুলো নির্ধারিত বেষ্টনীতে (খোলা আকাশের নিচে বানা দিয়ে ঘেরা) থাকে। সকালে ডিম বের করার আগে হাঁসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
হাবিবুর রহমান বলেন, হাঁসগুলো তিন ভাগ করে (৭০০ করে) পাশাপাশি তিনটি বিলে রাখা হয়। তিন গ্রুপে দু’জন করে বেতনভুক্ত কর্মচারী রয়েছেন। খামারের হাঁস গড়ে প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ ডিম দেয়। সে ডিম ৯ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। পলাশবাড়ী উপজেলা সদরের পাইকার বাদশা মিয়া প্রতিদিন ডিম কেনেন। দীর্ঘদিন ধরে এ পাইকার তার ডিম কেনেন। কর্মচারীর বেতন এবং অন্য খরচ বাদ দিয়ে গড়ে প্রতি মাসে তার ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় হয়। তিনি সবসময় ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করেন। রাতে তাঁবুতে থাকার কারণে শুধু খরচের জন্য সামান্য কিছু টাকা কাছে রাখেন। হাঁসের খামার নিয়ে যখন যেখানেই যান, সেখানকার চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ গ্রামপুলিশ এবং সুধীজনের সাহায্য নেন। বিনিময়ে তাদের তিনি খুশি হয়ে ডিম উপহার দেন। এলাকার মানুষের এ সাহায্যের কারণে এখনও তিনি কোথাও কোনো প্রকার হুমকি-ধমকি, আর্থিক বা অন্য কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হননি। এ ছাড়া এখনও তিনি কোনো চাঁদাবাজি, ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের শিকার হননি বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, বড় হাওর-বাঁওড়ে বেশি পানি এবং স্রোতের কারণে হাঁসের খাবারের সমস্যা হয়। তাই ছোট বিল-ঝিলে হাঁসের পাল নিয়ে ঘোরেন। দেশের অন্যান্য স্থানের চেয়ে উত্তরাঞ্চলে বেশি ছোট বিল রয়েছে। তাই হাঁসের পাল নিয়ে এসব এলাকায় অবস্থান করছেন। বেশি দূরত্বের বিলে গেলে ট্রাকযোগে হাঁস পরিবহন করেন। হাবিবুর রহমানের খামারের হাঁস এতটাই পোষ মেনেছে যে, তিনি হাঁসগুলোকে যখন যেদিকে যেতে বলেন সেদিকেই যায়। যেন হাবিবুরের হাতের ইশারায় আর মুখের কথায় হাঁস ওঠাবসা করে। হাঁসের পোষ মানার কিছু দৃশ্য নিজ চোখে না দেখলে অন্যকে বিশ্বাস করানো যাবে না।
হাঁস খামারের আয়ের টাকায় হাবিবুর রহমানের ১০ সদস্যের পরিবারের ভরণ-পোষণ চলে। আয়ের টাকায় তিনি এ পর্যন্ত নেত্রকোনা শহরে বৃহৎ হাঁস খামার ও হ্যাচারি করার জন্য ছয় বিঘা জমি কিনেছেন। সিলেট শহরে সোহান-সোহাগ নামে একটি হাঁসের বাচ্চা ফোটানোর হ্যাচারি দিয়েছেন। সেটি তার স্ত্রী শিউলি আক্তার লায়লা দেখাশোনা করেন। সেই হ্যাচারি থেকেও প্রচুর লাভ হয়। পরিবার নিয়ে থাকার জন্য সিলেট শহরে ইটের দালান (পাকা ঘর-দরজা) করেছেন। তার মতে, এ ব্যবসায় হালাল উপার্জনের মাধ্যমে খুব সহজে কোটিপতি হওয়া সম্ভব। তিনি দেশের বেকার যুবকদের হাঁস পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধৈর্য সহকারে এ ব্যবসা করলে বেকার থাকতে হবে না; টাকার সমস্যায়ও পড়বে না কেউ।
খামারের কর্মচারী শফিকুর রহমান ও তমজিন ইসলাম বলেন, চার বছর ধরে এ খামারে কাজ করছি। হাঁসের সঙ্গে বিভিন্ন স্থান ঘুরে বেড়াচ্ছি। এখানে থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজেরাও ভ্রাম্যমাণ হাঁসের খামার করব। তাদের মতে, এ ব্যবসায় প্রচুর লাভ। প্রতিদিন নগদ টাকা হাতে আসে।
ধাপেরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন বলেন, হাঁসের খামার নিয়ে হাবিবুর রহমান তার এলাকায় আসার পর থেকেই দেখার জন্য মানুষ ছুটে আসছে। মানুষ এ খামার দেখে নিজেরাও হাঁস পালনে উৎসাহী হবে বলে তিনি আশাবাদী। সাদুল্যাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রহমতউন নবী বলেন, সবার পক্ষে এ কাজ সম্ভব নয়। এটি এক ধরনের অসম্ভব কাজ। হাবিবুর রহমান কঠিন কাজ সহজ বানিয়ে সফলতা দেখিয়েছেন। এ হাঁসের খামার পরিবেশবান্ধব। অন্য কোনো উদ্দেশ্য না থাকলে হাবিবুর রহমান একসময় হাঁসের খামারের জন্য দেশের মডেল হবেন।
সাদুল্যাপুর থানার ওসি আবু দিলওয়ার মোঃ হাসান ইনাম বলেন, হাঁস খামারি হাবিবুর রহমান তার এলাকায় থাকার কারণে নিরাপত্তা না চাইলেও হাইওয়ে পুলিশ তাকে সহায়তা করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল হক বলেন, এ ধরনের খামারিদের এলাকার সবারই সহযোগিতা করা উচিত। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেখে মানুষ উৎসাহিত ও কর্মমুখী হবে।

August 14th, 2011

বেক্সিমকোর দেড় কোটির বেশি শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার: বেক্সিমকো লিমিটেড পুঁজিবাজারে ১ কোটি ৬৪ লাখ ৯০ হাজার ৪৬৩টি শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিবিধ খাতের এ কোম্পানিটি বাজার থেকে ১৬ কোটি ৪৯ লাখ চার হাজার ৬৩০ টাকা সংগ্রহ করবে। সমপ্রতি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ এই অনুমোদন দিয়েছে। তবে বিশেষ সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) আনুমোদনের পর সিদ্ধান্তটি কার্যকর হবে বলে ডিএসই সূত্রে জানা গেছে। জানা যায়, পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের দাম নির্ধারণ করেছে ১০ টাকা। এছাড়া বেক্সিমকোর অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ। আর এই টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ইন্টারন্যাশনাল নিটওয়্যার অ্যান্ড অ্যাপারেলস লিমিটেড, বেক্সিমকো ফ্যাশন লিমিটেড, ক্রিসেন্ট ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন লিমিটেড ও ফ্রেসটেক্স বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড এবং বিইএল টাওয়ারসহ বেক্সিমকো ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের জমি ও ভবন অধিগ্রহণ করবে।
প্রতিষ্ঠানটির ইজিএম আগামী ১৫ই সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, সারাবো, কাশিমপুর, গাজীপুরে অনুষ্ঠিত হবে। ইজিএমের রেকর্ড ডেট আগামী ২৫শে আগস্ট।

August 1st, 2011

বিশ্বে ডলারের দাম কমলেওবাড়ছে বাংলাদেশে

বাড়ছে পণ্যমূল্য, উস্কে দিচ্ছে মূল্যস্ফীতি

বিশ্বজুড়ে ডলারের দাম কমলেও বাংলাদেশে বাড়ছে। অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিকারক দেশ হিসাবে ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্যের দাম বেশি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মূল্যস্ফীতিও। যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাজারে ডলারের দামে অস্থিরতা চলছে। ব্যাংক এবং খোলা বাজারে চড়ে গেছে ডলারের দাম। বিদ্যমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ডলারের দাম আরো বেড়ে যাবে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্রমতে, ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্য নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। যদিও ভাসমান বিনিময় হার নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিদিনই টেলিফোনে ডলার বাজারে হস্তক্ষেপ করে থাকে। ফলে প্রকৃত বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নিশ্চিত হচ্ছে না।

মূলত রেমিটেন্স ও রফতানি আয়ের কারণে ডলারের দাম বাড়তি দেখানো হচ্ছে। এর ফলে সার্বিকভাবে পণ্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে। আমদানি ঋণপত্র খুলতে গিয়ে ডলারের পাশাপাশি ইউরোও ব্যবহূত হচ্ছে। কিন্তু তাতে করে গড় আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। সূত্রমতে, সরকার পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের কথা বলছে। অথচ ডলার বাজার চড়ে যাচ্ছে। ডলারের দাম বেশি হলে বেশি মূল্যে পণ্য কেনার দায় পড়বে ক্রেতাদের ওপর। সেদিকে দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে না। ফলে দাম বাড়তে বাড়তে ব্যাংকেই ডলারের দাম এখন ৭৭ টাকার বেশি। কার্ব মার্কেটে তা ৭৯ টাকা পর্যন্ত গড়িয়েছে। অথচ চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও ব্যাংকগুলোতে সর্বোচ্চ ৭১ টাকা ৩০ পয়সা পর্যন্ত ডলারের কেনাবেচা হয়। ডিসেম্বরেও ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দাম ছিল কমবেশি ৭০ টাকা। এ সময়ে কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম ছিল সর্বোচ্চ ৭২ টাকা।

স্বাভাবিকভাবে আমদানির পরিমাণ বেড়ে গেলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। গত কয়েক মাস ধরেই চাহিদামত ডলার না পাওয়ায় ব্যাংকগুলোকে তৃতীয় মুদ্রায় এলসি খুলতে হচ্ছে। থার্ড কারেন্সি (ডলারের পরিবর্তে ইউরো বা পাউন্ড) কিনতেও বেশি দাম দিতে হয়। তাতে গড়ে ডলারের দাম বেড়ে যায়।

ডলারের এ মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসাবে আরো বলা হচ্ছে, ব্যাংকিং চ্যানেলে তারল্য সংকটের মতই ডলার সংকট দেখিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে। সরবরাহ কম থাকায় এই সুযোগটি নিচ্ছে কোন কোন ডিলার ব্যাংক। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্তানুযায়ী ১০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাধ্যতামূলকভাবে রাখতে হচ্ছে। আবার বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বাড়াতেও ডলার জমা রাখা জরুরি। ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক সোনাও কিনেছে।

বিশ্বব্যাপী ডলারের দাম কমলেও বাংলাদেশে ডলারের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিকে অনেকেই নেতিবাচক দিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, এর ফলে আমদানি পণ্যের দাম বেশি হবে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্রকৃত বিনিময় হার কার্যকর করা হলে টাকার মান বৃদ্ধি পেত। টাকার বিপরীতে ডলার দুর্বল হত। তাতে আমদানি পণ্যের দামও কম হতো। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতির কারণে ডলারের বাড়তি দাম অব্যাহত থাকলে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন হয়ে যাবে। তাতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা যাবে না। মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। সেক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নেয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতিও কার্যকারিতা হারাবে।

ফিনান্সিয়াল ইকনোমিস্ট ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, এখন যেহেতু ডলার ছাড়াও অন্য মুদ্রায় আমদানি ঋণপত্র খোলা যাচ্ছে, তাই ডলারের বাড়তি দাম ধরে রাখার কোন যুক্তি নেই। বরং টাকা ও ডলারের মূল্যমান প্রকৃত বাজারভিত্তিক করে দেয়াই উত্তম। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহ শেষে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রাগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের দাম রেকর্ড পরিমাণ কমে যায়। মার্কিন অর্থনীতিতে ক্রান্তিকাল তথা আরেকটি বিশ্বমন্দার আশংকায় ডলারের দরপতন ঘটে।

Source: Ittefaq

July 26th, 2011

 মেঘনা ও যমুনা এক কোটির বেশি শেয়ার ছাড়বে

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জ্বালানি খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড ও যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিডেট এক কোটি আট লাখ ৫২ হাজার ৮০০টি শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুই কোম্পানির করপোরেট পৃষ্ঠপোষক বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এই ঘোষণা দেয়। আর এই ঘোষণাকে সাধুবাদ জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।
ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের অন্যতম করপোরেট পৃষ্ঠপোষক বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ৫৪ লাখ ৯৭ হাজার ৮০০টি শেয়ার বিক্রির ঘোষণা করেছে। বিদ্যমান বাজারমূল্যে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে শেয়ারগুলো আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে বিক্রি করা হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কাছে বর্তমানে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের তিন কোটি ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ৯৯৪টি শেয়ার রয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সরকারি আরেক কোম্পানি যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ৫৩ লাখ ৫৫ হাজার শেয়ার বর্তমান বাজারমূল্যে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কাছে বর্তমানে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের তিন কোটি ১৪ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৪টি শেয়ার রয়েছে।
এ দিকে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ। ডিএসইর পরিচালক আহমেদ রশিদ লালী সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি শেয়ার বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত বাজারের জন্য খুবই ইতিবাচক। সরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে বাজার লাভবান হবে, বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন। আর এতে বাজারে শেয়ার সরবরাহের দিকটা কিছুটা হলেও বাড়ল।
সরকারি মালিকানাধীন অন্য কোম্পানিগুলোর শেয়ারও দ্রুততম সময়ে বাজারে আসার ব্যাপারে আশাবাদী ডিএসইর এই নেতা।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার বিষয়টি বহুল প্রত্যাশিত। আর সঠিক সময়ে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ বলেন, বর্তমানে বহু বিনিয়োগকারী রয়েছেন, যাঁরা ভালো কোম্পানি না পাওয়ায় খারাপ কোম্পানির দিকে ঝুঁকছেন। তাঁর মতে, সরকারি কোম্পানির ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা অনেক বেশি। তাই বিনিয়োগকারীরা সরকারি শেয়ারের দিকেই ঝুঁকবেন। একই সঙ্গে সরকারঘোষিত ২৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দ্রুত বাজারে ছাড়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ফায়েকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা এরই মধ্যে আমাদের কাছে পৌঁছেছে। কাল বুধবার থেকে শেয়ার বিক্রি শুরু হবে।’ Source: Prothom alo

July 24th, 2011

আরও নতুন ব্যাংক অনুমোদন দেওয়ার পক্ষে সরকার

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বেসরকারি খাতে নতুন ব্যাংক স্থাপনের বিষয়টি সরকারের একটি রাজনৈতিক ইচ্ছা। তিনি বলেন, সরকার বেসরকারি খাতে আরও কিছু নতুন ব্যাংক অনুমোদন দেওয়ার পক্ষে। তবে ঠিক কয়টি ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংককে এ ব্যাপারে তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার নতুন ব্যাংক স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। সে অনুযায়ী লাইসেন্স দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছে।
আজ রোববার ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট বাস্তবায়ন ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ইআরএফের সভাপতি মনোয়ার হোসেন সভাপতিত্ব করেন। এ সময় ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবু কাওসার উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১১ সালের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকগুলোর সাময়িক মুনাফার তথ্যে প্রতীয়মান হয়, এ খাতে যথেষ্ট প্রতিযোগিতা হচ্ছে না। নতুন ব্যাংক করার অনুমতি দিলে এ খাতে প্রতিযোগিতা হবে বলে তিনি জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দিতে সরকার কোনো চাপ প্রয়োগ করছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক পৃথক করা যায় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা সরকারের আছে। সরকারের ইচ্ছা হয়েছে, তাই ব্যাংক স্থাপনের জন্য নতুন আবেদন আহ্বান করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এবারই সম্ভবত শেষবারের মতো সরকার নতুন ব্যাংক স্থাপনের লাইসেন্স দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নির্দেশনা দিয়েছে।
দেশের অর্থনীতির আকার বিবেচনায় দেশে নতুন কোনো ব্যাংক স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে ২০০৮ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ ধরনের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছিল বলে সাংবাদিকেরা উল্লেখ করলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত আড়াই বছরে অর্থনীতির আকার অনেক বেড়েছে। এখন ওই সমীক্ষার আর কোনো যৌক্তিকতা নেই। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলীয় ব্যক্তিদের সুবিধা দিতে সরকারের নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্পর্কে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, দেশের আর্থিক খাত অর্থাত্ তালিকাভুক্ত ব্যাংক ও অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি বাড়াতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি বিভাগকে আরও শক্তিশালী করে সম্পূর্ণ আলাদা বিভাগ করতে হবে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকিতে দুর্বলতা আছে। তা না হলে যেখানে ৮৫ শতাংশ ঋণ দেওয়ার কথা, সেখানে ১১০ শতাংশ ঋণ ব্যাংকগুলো কীভাবে দেয়? একইভাবে মুদ্রানীতি বিভাগকেও সক্ষমতা বাড়াতে হবে বলে তিনি জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জনসংখ্যা নিয়ে যে তথ্য সরকার তুলে ধরেছে, তা নিয়ে দ্বিমত থাকতে পারে। অনেকে মন্ত্রীই অভিযোগ করেছেন, তাঁর বাড়িতে কর্মীরা যাননি। আমার বাড়িতে যাঁরা গিয়েছিল, তাঁরাও দুর্বল। তবে আমি মনে করি, আগামী সেপ্টেম্বরে নমুনা নিয়ে জরিপ শেষ হলে বলা যাবে, জনসংখ্যা আসলে কত। তবে আমার ধারণা, প্রবাসীসহ প্রাপ্ত তথ্যাদিতে দেখা যাবে জনসংখ্যা ১৬ কোটি হবে।’ প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেও জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপি) বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটির বেশি উল্লেখ করেছিল। তখন অর্থমন্ত্রী এ তথ্যকে বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছিলেন।
মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভোজ্যতেল ও খাদ্যদ্রব্য ছাড়া অন্য সব পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে আছে। তবে মূল্যস্ফীতির কারণ আন্তর্জাতিক বাজার। এর পরও আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়েও দেশে পণ্যের দাম কমই আছে। তবে এর সঙ্গে কিছু ব্যবসায়ী জড়িত। যেহেতু রাতারাতি পণ্যের দর কমানো যাবে না, তাই গরিব মানুষকে কম মূল্যে পণ্য সরবরাহ করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, শেয়ারবাজারের তথাকথিত ধস নিয়ে যে ভাঙচুর হয়, তা রাজনৈতিক। শেয়ারবাজারে ওঠানামা থাকবেই। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা প্রতিদিন শেয়ার বাজারের দাম বাড়তে হবে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান কাজ পুঁজিবাজারের বিধিমালা তৈরি। বর্তমানে শেয়ারবাজারের বিধিমালার প্রণয়নের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এখন অনেক সক্রিয়। বুক বিল্ডিং পদ্ধতির নীতিমালায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। source: Prothom Alo

July 24th, 2011

ডিএসইতে আবার রেকর্ড

ঢাকা, জুলাই ২৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বছরের সর্বোচ্চ লেনদেনের আগের দিনের রেকর্ড এক দিনের ব্যবধানে ভেঙেছে ঢাকার পুঁজিবাজার। সপ্তাহের প্রথম দিনে লেনদেন হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকার শেয়ার।

সাত মাসের বেশি সময়ের পর রোববার ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকার কোঠা ছাড়িয়েছে লেনদেনের পরিমাণ।

দিনের শুরু থেকেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশ লেনদেন দেখা যায়। দেড় ঘণ্টায় লেনদেন সাতশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিলো।

সারাদিনে ১ হাজার ৯৫৭ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা এ বছরের সর্বোচ্চ। বৃহস্পতিবার লেনদেনের পরিমাণ ছিলো ১ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা।

ডিএসইতে রোববারের চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিলো গত বছরের ৮ ডিসেম্বর। সে দিন ১ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। ডিএসইর ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিলো গত বছরের ৫ ডিসেম্বর।

দিন শেষে সাধারণ সূচক দাঁড়িয়েছে ৬৭১০ পয়েন্ট, যা দিনের শুরুর চেয়ে ৪৯ পয়েন্ট বেশি।

লেনদেন হওয়া ১২৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ১২৭টির, ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

July 21st, 2011

ডিএসইতে এক দিন বাদেই রেকর্ড ভঙ্গ

ঢাকা, জুলাই ২১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বছরের সর্বোচ্চ লেনদেনের আগের দিনের রেকর্ড ভেঙেছে ঢাকার পুঁজিবাজার। সাত মাসের বেশি সময়ের পর ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার কোঠা ছাড়িয়েছে লেনদেনের পরিমাণ।

সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। দিন শেষে সাধারণ সূচক দাঁড়িয়েছে ৬৬৬০ পয়েন্ট, যা দিনের শুরুর চেয়ে ৪১ পয়েন্ট বেশি।

সারাদিনে ১ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা এ বছরের সর্বোচ্চ। বুধবার লেনদেন পরিমাণ ছিলো ১ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবারের চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিলো গত বছরের ৮ ডিসেম্বর। সে দিন ১ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়।

লেনদেন হওয়া ১৪১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ১১১টির, ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত সপ্তাহ জুড়ে টানা চাঙাভাবের মধ্য দিয়ে চলা ঢাকার পুঁজিবাজারে রোববার সূচক কমে ৯১ পয়েন্ট। এরপর বাজার পুনরায় চাঙাভাবে ফেরে।

July 15th, 2011

ব্যবসায়ীদের নতুন কৌশল: রোজার আগেই বাজার চড়া

রমজান মাস শুরুর আগেই বিভিন্ন পণ্যের দর বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ওই সময় বেশি ব্যবহূত হয়, এমন সব পণ্যের দাম এরই মধ্যে প্রায় সর্বোচ্চ পরিমাণে বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা এবার নতুন কৌশল নিয়েছেন। রমজান মাসে বাড়ানো হলে সমালোচনা হয় বলে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে নিয়েছেন বেশ আগেই। দাম এমনভাবে বাড়ানো হচ্ছে যে রমজান শুরু হলে আর বাড়ানোর প্রয়োজনই পড়বে না। যুক্তি হিসেবে ব্যবসায়ীরা দেখাচ্ছেন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার সেই পুরোনো অজুহাত। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরতাল ও বৃষ্টি।
ঈদের সময় চাকরিজীবীরা বোনাস পেলেও রমজান মাসের জন্য বাড়তি আয়ের কোনো সুযোগ নেই। বরং নিত্যপণ্যের দাম রমজানে এতটাই বাড়ছে যে বাজেট সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সীমিত আয়ের মানুষের। রমজান মানেই যেন ব্যবসায়ীদের বাড়তি আয়ের বিশেষ সুযোগ।
টিসিবির পণ্য বিক্রির গতানুগতিক আশ্বাস ছাড়া এবার সরকারের পক্ষ থেকেও জোরালো তেমন কোনো পদক্ষেপ নেই। ভোজ্যতেল ও চিনি বিক্রিতে পরিবেশক নিয়োগের সিদ্ধান্তের পর পণ্য দুটির দর আরও বেড়েছে। রমজানের অপরিহার্য পণ্য ছোলার দাম বাড়ছে প্রতিদিনই। দাম কমছে এমন পণ্যের তালিকা প্রায় শূন্য।
রমজান মাস শুরু হতে আরও ১৭ দিন বাকি। দাম বাড়াতে ব্যবসায়ীদের হাতেও রয়েছে এই ১৭ দিন। এরপর রোজা শুরু হলে নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না বলে সরকারও বলতে পারবে, রমজানে বাজার স্থিতিশীল।
বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য বাড়বে না। শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারাও রমজানে পণ্যমূল্য বাড়াবেন না বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে গিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন।
কিন্তু বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। কারওয়ান বাজারের খুচরা দোকানে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে এসেছিলেন চাকরিজীবী আবদুর রশিদ। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে চিনি, তেল, ডাল ও চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। দাম বাড়ার জন্য সরকারকে দায়ী করে তিনি বলেন, সরকার যদি তদারকি বাড়ায়, তাহলে ব্যবসায়ীরা চাইলেও দাম বাড়তে পারবেন না।
গৃহিণী আসমা খাতুন বলেন, ‘এখনই যদি এভাবে দাম বাড়তে থাকে, তাহলে রমজান মাসে তো কোনো কিছুই কেনা যাবে না।’
বিভিন্ন পণ্যের দর বাড়ার তথ্য পাওয়া যায় সরকারি বিক্রয়কারী সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ওয়েবসাইটেও। টিসিবির তথ্যমতে, গত এক মাসে চাল, চিনি, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, ছোলা, ডাল, মসলাসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম কয়েক দফা বেড়েছে।
এর মধ্যে ভোজ্যতেলের ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) দুই দফা প্রত্যাহার করা হয়েছে। চিনির ওপরও প্রত্যাহার করা হয়েছে আগেই। এ জন্য সরকারকে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ছাড় দিতে হলেও সাধারণ ভোক্তারা এর কোনো সুবিধা পাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরাই এতে কেবল লাভবান হয়েছেন।
যোগাযোগ করলে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, যেসব পণ্যের দাম বেড়েছে, তা স্বাভাবিক কারণেই বেড়েছে। এখানে ব্যবসায়ীদের কোনো কৌশল নেই।
মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল গতকাল রাতে মুঠোফোনে বলেন, আগামী রমজানে পণ্যমূল্য বাড়বে না। তবে ডলারের দাম যদি বেশি বেড়ে যায়, তাহলে ভিন্ন কথা। মোস্তফা কামাল আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রমজানে মুনাফা তো করবই না, প্রয়োজনে লোকসান দিয়ে হলেও পণ্য বিক্রি করব।’ ব্যবসায়ীরা এবার রমজান শুরুর আগেই দাম বাড়িয়ে নিয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি।
টিসিবির সামান্য প্রস্তুতি: রমজান মাসে পাঁচটি পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে টিসিবি। টিসিবির গুদামে যে পরিমাণ পণ্য মজুদ আছে সেটা তাদের ডিলারদের দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত মনে করছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
মসুর ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল, ছোলা ও খেজুর বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করবে সংস্থাটি। ১৯ অথবা ২০ জুলাই এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।
টিসিবির কর্মকর্তারা বলছেন, কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে রমজানের আগে হঠাৎ করে ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। অসাধু ব্যবসায়ীদের এমন প্রবণতা ঠেকাতে টিসিবি ডিলারদের কাছে পণ্য সরবরাহ শুরু করছে আগেভাগেই।
টিসিবির দুই হাজার ৪০০ ডিলার এসব পণ্য নির্ধারিত দামে বিক্রি করবেন। কেজিপ্রতি চিনি ৫৮ টাকা, মসুর ডাল (দেশি) ৬৮ টাকা, ছোলা ৫৮ টাকা, খেজুর মানভেদে ৫৫ থেকে ৭০ টাকা এবং ভোজ্যতেল লিটারপ্রতি ১০২ টাকা দরে বিক্রি করা হবে। দুই কিস্তিতে ডিলারদের এই পাঁচটি পণ্য সরবরাহ করা হবে। প্রতি কিস্তিতে একজন ডিলার দুই টন চিনি, এক হাজার ২০০ লিটার ভোজ্যতেল, এক টন মসুর ডাল, ৭০০ কেজি ছোলা ও ৫০০ কেজি খেজুর পাবেন। রমজানের প্রথম সপ্তাহে আরেক কিস্তিতে ডিলারদের পণ্য দেওয়া হবে।
প্রতি রমজানের আগেই টিসিবি বাজার স্থিতিশীল রাখতে পণ্য আমদানি ও বিক্রির নানা ধরনের আশ্বাস দিলেও তাদের মজুদ পণ্য চাহিদার সামান্যই। টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, তাদের কাছে যে পরিমাণ পণ্যের মজুদ আছে তা দিয়ে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বাজার-চাহিদা মেটানো সম্ভব। অবশ্য যোগাযোগ করা হলেও কী পরিমাণ পণ্য মজুদ আছে, সেই হিসাব দিতে তারা নারাজ।
চিনি: রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা দোকানে এখন চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭২ টাকায়। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১৫ দিন আগেও তাঁরা ৬২ থেকে ৬৫ টাকায় চিনি বিক্রি করতেন। চিনির দাম বাড়ার কারণ পাইকারি বাজারে চলতি মাসের শুরু থেকে ক্রমাগত মূল্য বৃদ্ধি। মাসের শুরুতে মৌলভীবাজারে চিনির দাম ছিল কেজিপ্রতি ৫৯ থেকে ৬০ টাকা। তিন দিন পর দাম বেড়ে হয় ৬২ টাকা। ১০ জুন পাইকারি ব্যবসায়ীরা চিনি বিক্রি করেছেন কেজিপ্রতি ৬৬ টাকায়। আর গতকাল বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৬৫ টাকায়। অর্থাৎ, জুলাইয়ের প্রথম ১৪ দিনে চিনির দাম পাইকারি বাজারেই বেড়েছে অন্তত ছয় টাকা।
ভোজ্যতেল: আগের বেঁধে দেওয়া দর অনুযায়ী খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হওয়ার কথা ১০৯ টাকায়। কিন্তু তা বিক্রি হচ্ছে ১১৬ টাকায়, যদিও টিসিবির তথ্যে তা ১০৭ থেকে ১১০ টাকায় দেখানো হয়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৩ টাকা লিটার।
ট্যারিফ কমিশনকে ভোজ্যতেলের দর নির্ধারণের দায়িত্ব দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কয়েক দিন ধরে ট্যারিফ কমিশন এ কাজই করছে বলে জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার এবং তেল পরিশোধন কারখানাগুলোর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করার পর সার্বিক দিক বিবেচনা করে কয়েক দিনের মধ্যে সয়াবিন ও পামতেলের মূল্য কাঠামোর সুপারিশ করা হবে।
রমজানে চিনি ও ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই বলে মনে করেন বাণিজ্যসচিব গোলাম হোসেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, রমজান মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত চিনি ও ভোজ্যতেলের সরবরাহ পরিস্থিতি খুবই ভালো। চাহিদার তুলনায় এক লাখ টনেরও বেশি করে এই দুই পণ্যের অতিরিক্ত মজুদ থাকবে।
চাল: রাজধানীতে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৩ থেকে ৩৫ টাকায়। নাজিরশাইল ৫৪ থেকে ৫৮, মিনিকেট ৪৪ থেকে ৪৭, পারিজা ৩৬ থেকে ৩৮, লতা ৩৬ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই চালের দাম বেড়েছে তিন থেকে চার টাকা।
বাবুবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে মানভেদে চালের দাম বেড়েছে অন্তত ছয় টাকা। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বাবুবাজারের একজন ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যখন ২৬ থেকে ২৭ টাকায় চাল বিক্রি করি, তখন সরকার ২৯ টাকায় চাল কেনা শুরু করে। দাম তো বাড়বেই।’
মসলা: মসলার মধ্যে গত দুই মাসে লবঙ্গের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। মে মাসের মাঝামাঝি যে লবঙ্গের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৬৫০ টাকা, জুনের শুরুতে তা বেড়ে হয় এক হাজার ১০০ টাকা। গতকাল তা বিক্রি হচ্ছিল এক হাজার ৪০০ টাকায়। মে মাসে জয়ত্রী বিক্রি হতো কেজিপ্রতি দুই হাজার ৬০০ টাকায়। এখন তা বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। একই সময়ে জায়ফলের দাম ৯০০ থেকে বেড়ে এক হাজার ১০০ টাকা হয়েছে।
এক মাসে জিরার দাম প্রায় ১০০ টাকা বেড়ে ৪৭০, দারুচিনির দাম ৩০ টাকা বেড়ে ২২০, ২০০ টাকা বেড়ে গোলমরিচ ৮০০, ৫০ টাকা বেড়ে কিশমিশ ৩৫০ টাকা হয়েছে। আর এক হাজার ৬৩০ টাকার পেস্তাবাদাম এক হাজার ৮০০, ৫৩০ টাকার আলুবোখারা ৭০০ টাকা। মসলার মধ্যে শুধু ধনিয়ার দামই সাধারণের নাগালে আছে। কেজিপ্রতি ধনিয়া বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়।
ছোলা ও ডাল: বাজারে ছোলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৭২ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৬৫ টাকা। ডাবলি (মটর) ও নিম্নমানের অ্যাংকর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৬ টাকায়। দুই ডালের দামই এক সপ্তাহে দুই টাকা বেড়েছে।
বাজারে দেশি মসুর ডাল ৯৫ থেকে ১০০ ও বিদেশি ডাল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা মুগ ডাল বিক্রি করছেন ১১৫ থেকে ১২৫ টাকায়। পাইকারি বাজারে চিকন মুগ ডালের দাম এক সপ্তাহে ৯০ থেকে বেড়ে ১০৫ ও মোটা মুগের দাম ৬৮-৭০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৫ টাকা।
পেঁয়াজ: বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৩২ থেকে ৩৬ টাকা ও বিদেশি পেঁয়াজ ২৭ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, গত ১০ দিনে সব ধরনের পেঁয়াজের দামই তিন টাকা করে বেড়েছে।
শ্যামবাজারের পাইকারেরা বলছেন, দেশি পেঁয়াজের ব্যাপক মজুদ থাকলেও ভালো দাম পাওয়ার আশায় অনেক কৃষক বিক্রির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। এ কারণে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আসছে না। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজার থেকেই তাঁদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
রসুন: খুচরা বাজারে চীনা রসুনের দাম ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। কিছু দেশি রসুনও (নতুন) পাওয়া যাচ্ছে। তবে তা ১২০ টাকা কেজি। এ মাসের শুরুতে শ্যামবাজারে কেজিপ্রতি চীনা রসুনের দাম ছিল ৫০ থেকে ৫২ টাকা। ৫ জুলাই তা বেড়ে হয় ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। পরের দিন আরেক দফা বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ টাকা পর্যন্ত।
মুড়ি: রমজান মাস আসছে, তাই বেড়েছে মুড়ির দামও। মেশিনে বানানো মুড়ি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। আর হাতে ভাজা প্যাকেট মুড়ির দাম ৯০ থেকে ১০০ টাকা। বাজারে গত ১০ দিনে মুড়ির দাম বেড়েছে কেজিতে ছয় থেকে ১০ টাকা।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কোনো কারণই নেই। ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনে মুনাফা না করে পণ্য বিক্রি করবেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁরা এমন আশ্বাসই দিয়ে এসেছেন।

July 9th, 2011

 নতুন-পুরোনো বরাদ্দের চক্রে এডিপি

রেলওয়ে অবকাঠামোতে বিনিয়োগ হতে পারে এডিপির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নিয়ে নানা ধরনের ফাঁকফোকর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। বছর বছর এডিপির আকার বাড়ানো হয়। বড় আকারের এডিপি গ্রহণ করে ক্ষমতাসীনেরা বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাড়ছে। আর আমলারা বলেন, এডিপি বাস্তবায়নে সক্ষমতা বেড়েছে।
আবার প্রতিবছর রাজনৈতিক বিবেচনায় বছরের শেষদিকে নতুন নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়। এতে পরবর্তী বছরের এডিপিতে নতুন প্রকল্পে বরাদ্দ দিতে হিমশিম খেতে হয়। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন প্রকল্প নেওয়ার সুযোগ কমে আসে।
আবার বরাদ্দ কম দিয়ে নতুন প্রকল্প নিতে হয় বিভিন্ন পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে। এতে করে চলমান পুরোনো প্রকল্পেও পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া যায় না। ফলে বছর শেষে সমাপ্ত প্রকল্পের সংখ্যা কমে যায়, মেয়াদ বাড়িয়ে আবারও বরাদ্দ দেওয়া সেসব প্রকল্পে। এভাবে প্রকল্প চলে বছরের বছরের পর। এক ধরনের চক্রের মধ্যে পড়ে যায় পুরো এডিপি ব্যবস্থাপনা।
এ নিয়ে সম্প্রতি পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকারের সভাপতিত্বে পরিকল্পনা কমিশনের সভায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
সদ্য বিদায়ী ২০১০-১১ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির আকার কমিয়ে ৩৫ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা করা হয়। কিন্তু বছরের মাঝখানে নতুন প্রকল্প ঢুকেছে ২৭০টি। আর এসব নতুন প্রকল্প পুরোনো চলমান প্রকল্প হিসেবে দেখিয়ে চলতি অর্থবছরের এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
৪৬ হাজার কোটি টাকার নতুন এডিপিতে প্রকল্প সংখ্যা ১০৩৯। এর মধ্যে ‘নতুন’ প্রকল্প মাত্র ৭৭টি।
এভাবে প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করাকে ‘চালাকি’ ও ‘অর্থের অপচয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) পরিচালক জায়েদ বখত। তিনি আরও বলেন, ‘নতুন প্রকল্পগুলো মূলত মন্ত্রী-এমপিদের চাপে রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া হয়। বছরের শেষদিকে এসে নেওয়া এসব প্রকল্পে তাড়াহুড়া করে অর্থ খরচ করতে গিয়ে কাজের গুণগত মান থাকে না, এটা অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।’
এভাবে বছরের পর বছর নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার ফলে সমাপ্ত প্রকল্পের সংখ্যা তুলনামূলক কমছে। এসব ‘নতুন’ প্রকল্পে প্রতিবছর বরাদ্দ দিতে গিয়ে পুরোনো প্রকল্প সময়মতো শেষ করা যাচ্ছে না। মেয়াদ বাড়িয়ে পুরোনো প্রকল্পগুলোতে আবার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের একটি চক্রের মধ্যে পড়েছে এডিপি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া।
আবার ঢাউস আকারের এডিপির বাস্তবতা হলো, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধিজনিত কারণে মূল্য সমন্বয়। এই মূল্য সমন্বয় করতে গিয়ে প্রকল্প ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। তাতে গুণগত কোনো পরিবর্তন হয় না।
এডিপির এই বিশৃঙ্খল অবস্থা সম্পর্কে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জায়েদ বখত প্রথম আলোকে বলেন, ‘মূল্য সংশোধনের বা সমন্বয়ের কারণে এডিপির আকার বাড়ে এটা সত্য। তবে প্রকৃত মূল্যেও এডিপির আকার বাড়ছে। এখানে সমস্যা হলো, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় এডিপির আকার কমে এসেছে। এর মানে হলো, প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি ব্যয় হ্রাস পাচ্ছে। আর সরকারি ব্যয় কম হলে বেসরকারি বিনিয়োগও তুলনামূলক কম আকৃষ্ট হবে।’
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরের ২৯ মে পর্যন্ত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে যেসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী সেগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা চলতি অর্থবছরের এডিপির জন্য ৬৯ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। কিন্তু অর্থসংকটে ৪৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম প্রথম আলোকে জানান, প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় প্রকল্পগুলোর মেয়াদ বাড়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। ফলে স্বভাবতই প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে।
ব্যয় বৃদ্ধির নমুনা: টঙ্গী থেকে ভৈরববাজার পর্যন্ত ডবল রেলপথ নির্মাণে খরচ করা হবে দুই হাজার ৩৭ কোটি টাকা। আর ২০০৬ সালে একই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল মাত্র ৭২০ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে।
নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি শুরু করতে না পারায় জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে পাঁচ বছরের ব্যবধানে প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। গত ২০ জুন ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্প আবারও অনুমোদন দেওয়া হয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক)।
অনুমোদনের পর এ বিষয়ে পরিকল্পনাসচিব মনজুর হোসেন বলেছেন, ‘যখন প্রকল্পটির ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়, তখন জিনিসপত্রের দাম অনেক কম ছিল। দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অনেক সময় লেগেছে। ততক্ষণে জিনিসপত্রের দাম আরও বেড়েছে। জমি অধিগ্রহণেও আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ খরচ করতে হবে।’ প্রকল্পটির মেয়াদকাল বাড়িয়ে ২০০৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে।
এমন আরেকটি প্রকল্প হলো খুলনা ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান নির্মাণ প্রকল্প। গত ২২ মার্চ একনেকে এক হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। কিন্তু ২০০৬ সালে যখন প্রকল্পটি প্রথম অনুমোদন করা হয়, তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮০৩ কোটি টাকা।
সমস্যা হলো, দাতা সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক অনুমোদন পেতে সময় লাগে প্রায় পাঁচ বছর। এই সময়ের মধ্যে প্রকল্পটির জন্য আনুষঙ্গিক সব নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যায়। ফলে ২০১১ সালে প্রকল্প বাস্তবায়ন নতুন করে ব্যয় নির্ধারণ করতে হয়েছে।
দুটি প্রকল্পই ২০০৬ সালে বাস্তবায়ন শুরু হলে ব্যয় বর্তমানের অর্ধেকেরও কম হতো। কিন্তু ২০১১ সালে এসে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ব্যয় বাড়ছে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বড় হচ্ছে। দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নেই ব্যয় বাড়ানো হয়েছে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে।
এদিকে গত পাঁচ বছরে এডিপির আকারও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে এডিপির আকার ছিল ২৬ হাজার কোটি টাকা, পরে সংশোধন করে ২১ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। ২০০১১-১২ অর্থবছরে মূল এডিপির আয়তন ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। গত পাঁচ বছরে এডিপির আকার কমবেশি দ্বিগুণ হয়েছে।
মূলত এডিপির প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার এক ধরনের কেনাকাটা করে। পাঁচ বছরে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ করে পূর্ত কাজের মূল উপাদান ইট, বালু, সিমেন্ট, রডসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। বর্তমানে এক ট্রাক ইটের দাম ১৮-২০ হাজার টাকা। পাঁচ বছর আগে এক ট্রাক ইটের দাম ছিল ১২-১৩ হাজার টাকা। রডের দাম আলোচ্য সময়ে ওঠানামা করেছে। খুচরা পর্যায়ে এখন ভালোমানের এক টন রডের দাম ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। পাঁচ বছর আগে এর দাম ছিল ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা। উল্লেখযোগ্য হারে সিমেন্টের দামও বেড়েছে।
অথচ বিভিন্ন আমলের সরকার প্রতিবারই বড় এডিপি করে বাহবা নেয়। মন্ত্রী-এমপিরা চিৎকার করে গলা ফাটান উন্নয়নের জোয়ারে দেশকে ভাসিয়ে দেওয়ার জন্য। আর আমলারা দাবি করেন, ব্যয়ের সক্ষমতা বেড়েছে।
বাস্তবতা হলো, মূল্য সমন্বয়ের জন্যই এডিপির আকার বড় করতে হয়। পাঁচ বছর আগে সাড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকার এডিপিভুক্ত একই প্রকল্প এখন বাস্তবায়ন করতে ৪৫-৪৬ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। ঠিকাদারও বর্ধিত মূল্য ধরেই দরপত্র জমা দেন।
প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণেও নানা জটিলতা রয়েছে। প্রকল্পের জন্য কোনো এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলেই সেখানে জমির দাম বাড়তে থাকে হু হু করে। এমনকি রাতারাতি কৃষিজমিতে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসতভিটা দেখানো হয়। ভূমি অধিগ্রহণকালে ক্ষতিপূরণ বাবদ অনেক বেশি অর্থ প্রাক্কলন করতে হয়।
এ সম্পর্কে মূল্যায়ন, পরিবীক্ষণ ও বাস্তবায়ন বিভাগের (আইএমইডি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ‘একটি প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবনা তৈরির সময় ভূমির যে দাম নির্ধারণ করা হয়, অধিগ্রহণকালে তা দ্বিগুণ হয়ে যায়। এর অন্যতম উদাহরণ হলো, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প।’
জিডিপি-এডিপি অনুপাত: মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে এডিপির আকার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে না। চলতি মূল্যে হিসাব করে পাঁচ বছর আগে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে এডিপির আকার ছিল জিডিপির ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আর সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে জিডিপির ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশই সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এই অনুপাত ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশে নেমে এসেছিল।
এভাবে সরকারি বিনিয়োগ কম হলে সরকার যে অবকাঠামোগত সুবিধা দেয়, তাও সেভাবে বাড়বে না। অথচ এই অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়েই বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা উৎপাদন বাড়ান, যা জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়তা করে।