December 9th, 2011
আটককৃত ড্রোন বিমানের ভিডিওচিত্র প্রদর্শন
ড্রোন বিমানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচরবৃত্তির প্রতিবাদে জাতিসংঘের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপনের দাবি জানিয়েছে তেহরান। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের বেআইনি কার্যক্রমের বিপরীতে জাতিসংঘের স্বচ্ছ ও কার্যকর ভূমিকায় দেখতে আগ্রহী। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আটককৃত একটি ড্রোন বিমান প্রদর্শন করেছে ইরান। এক ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ওই বিমানটিকে দেখানো হয়।-খবর রয়টার্স ও আল জাজিরা। বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, জাতিসংঘের নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ খাজি মহাসচিব বান কি মুনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের গুপ্তচরবৃত্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। ইরানের ঐ লিখিত আবেদনের কপি জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভিটালে পরকিন ও ৬৬তম বার্ষিক সাধারণ সভার সভাপতি নাসির এ আল নাসিরের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। এই আবেদনে বলা হয়েছে, গুপ্তচরবৃত্তির অভিপ্রায় যুক্তরাষ্ট্রের আর কিউ-১৭০ মডেলের মনুষ্যবিহীন বিমানটি ইরানের আকাশসীমার ২৫০ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে। যা তেহরানের জন্য খুবই উদ্বেগের বিষয়। এ বিষয়ে আমরা জাতিসংঘের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাই। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই ড্রোন বিমানটির ভিডিওচিত্র প্রদান করা হয়েছে।
সেখানে দেখা গেছে, তেহরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা বিমানটির নানা খুঁটিনাটি বিষয় পরীক্ষা করে দেখছেন। ইরান বলছে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রযুক্তিবিদরা দক্ষতার সঙ্গে ঐ বিমানটিকে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। বিবিসির নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিবেদক ফ্রাঙ্ক গাউনার বলেছেন, অক্ষত বিমানটির ভিডিওচিত্র দেখে ইরানের দাবির সত্যতা মিলেছে। অন্যদিকে একটি ড্রোন বিমান হারানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভূপাতিত হয়েছে বলেও দাবি করে তারা। যদিও ইরানের দাবি তাদের বাহিনী তড়িত্ প্রবাহের মাধ্যমে ড্রোনটি আটক করেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরো জানায়, ইরানী সেনাবাহিনীর ইলেক্ট্রনিক ওয়াফেয়ার গাউস ৪ ডিসেম্বর কাশমার শহরের ওপর দেখে ড্রোন বিমানটি উড়ন্ত অবস্থায় আটক করে। এছাড়া ইরানের বিপ্লবী গাউ বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিজাদেহ গণমাধ্যমকে জানান, এসময় ড্রোন বিমানটি আাাদের ফাঁদে এসে পড়ে এবং ন্যূনতম কোন ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই আমরা সেটিকে আটক করি।
Posted in আন্তর্জাতিক | No Comments »
December 8th, 2011
ভূপাতিত ড্রোন রাশিয়া বা চীনের কাছে বিক্রিও করতে পারে তেহরান
ইরানের ১৪০ মাইল ভেতরে গত সপ্তাহে মার্কিন স্টেলথ ড্রোন বিমান নিখোঁজ হয়। ইরান বলছে তারা এই ড্রোনটি ভূপাতিত করেছে। মার্কিনীদের আশঙ্কা ইরান ড্রোন প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে পারে। তারা ড্রোনটি রাশিয়া অথবা চীনের কাছেও বিক্রি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরানের পরমাণু স্থাপনা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কর্মসূচীর আওতায় বাদুড় ডানা সদৃশ স্টেলথ আরকিউ-১৭০ সেন্টিনাল ড্রোন পাঠানো হয়েছিল।
ইরান বলছে, আরকিউ-১৭০ ড্রোন তাদের কব্জায় রয়েছে। মার্কিন আরকিউ-১৭০ ড্রোন গত বছরের মে মাসে লাদেন হত্যা অভিযানের সময় মোতায়েন করা হয়েছিল।
আফগানিসত্মানে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ইন্টারন্যাশনাল সিউরিটি এ্যাসিসটেন্স ফোর্স রবিবার এক বিবৃতিতে বলেছে তাদের খোয়া যাওয়া ড্রোনটি ইরানের হস্তগত হতে পারে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে ইরানের কাছে ড্রোন প্রযুক্তি চলে যাচ্ছে কিনা সেটা। তারা ড্রোনটি খুলে প্রযুক্তি করায়ত্ত করতে সৰম কিনা সেটা। ইরান ড্রোনটি চীন অথবা রাশিয়ার কাছে বিক্রিও করতে পারে। চীন ও রাশিয়া ড্রোনের ব্যাপারে খুবই আগ্রহী।
ব্রম্নকিং ইনস্টিটিউটের মিলিটারি রোবটিক বিভাগের পি ডবিস্নউ সিঙ্গার বলেন, গত কয়েকদিন ধরে তেহরান থেকে বেজিং ও মস্কোগামী বিমান ছিল যাত্রীপূর্ণ। তিনি বলেন, ঐ ড্রোনের রাডার ব্যবস্থা রাশিয়া ও চীন ব্যবহৃত ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি আধুনিক।
পিটার্সবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৰেপণাস্ত্র ও ড্রোন বিশেষজ্ঞ ডেনিস এম গর্মলি বলেন, ড্রোনগুলো তাঁর প্রযুক্তি আয়ত্ত করা উন্নত সেনাবাহিনীর পৰেও কষ্টকর।
২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং ফ্রান্স ও ব্রিটেনের নেতারা ইরানের কোন শহরের বাইরে পরমাণু স্থাপনা সম্পর্কে তথ্য উদঘাটন করতে সমর্থ হন। যদিও ইসরাইল এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। একজন মার্কিন পদস্থ কর্মকর্তা সম্প্রতি বলেন, এখন পর্যন্ত তারা গুরুত্বপূর্ণ কিছু পাননি, তবে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের ওপর গোয়েন্দাগিরি নতুন কিছু নয়। মার্কিন উপগ্রহগুলো বেশ কয়েক বছর ধরে ইরানের পরমাণু ও ৰেপণাস্ত্র স্থাপনার দিকে তাক করিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু আরকিউ-১৭০ ড্রোন ৫০ হাজার ফুট উঁচুতে উড়তে সৰম। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে এই ড্রোন গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সৰম।
উপগ্রহগুলো যেখানে লৰ্যবস্তুতে মাত্র কয়েক মিনিট নজর রাখতে পারে সেখানে এই ড্রোনটি কয়েক ঘণ্টা নজর রাখতে সৰম। সেখান থেকে ড্রোন লোকজন চলাচলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তা প্রেরণ করতে সৰম।
মার্কিন ড্রোন সম্পর্কে ইরানী কর্মকর্তারা বলেন, আফগান সীমানত্ম থেকে ১৪০ মাইল ইরানের অভ্যন্তরে ড্রোনটির সন্ধান পায় তেহরান কতর্ৃপৰ। ইরানের সামরিক বাহিনী ড্রোনটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হ্যাক করায় এটি ভূপাতিত হয়। _নিউইয়র্ক টাইমস।
Posted in আন্তর্জাতিক | No Comments »
November 30th, 2011
মিশরের তিন দফা নির্বাচনের প্রথম দফা সম্পন্ন হয়েছে। এতে ইসলামপন্থি দল মুসলিম ব্রাদারহুড ভাল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ অবস্থায়ই তারা বলে বসেছে, মিশরের ঐতিহাসিক নির্বাচনে যে দলই বিজয়ী হোক তাদের সরকার গঠন করতে দেয়া উচিত। তাদের এই ঘোষণায় ক্ষমতাসীন সামরিক শাসকদের সঙ্গে ইসলামপন্থি ওই দলের সংঘাত সৃষ্টি হওয়ার সমূহ আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সামরিক শাসকরা সবেমাত্র একজন নতুন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, তারা পার্লামেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন। নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। কিন্তু মুসলিম ব্রাদারহুডের তাড়াহুড়ো দেখে বিশ্লেষকরা আরেক দফা ক্ষমতার দ্বন্দ্বের আশঙ্কা করছেন। এরই মধ্যে দু’দিনের শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সামরিক শাসনের অবসান চেয়ে আন্দোলনও অব্যাহত আছে। এ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মঙ্গলবার রাতে সংঘর্ষে প্রায় ৮০ জন আহত হয়েছে। মিশরের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচন জানুয়ারি মাসের শুরু পর্যন্ত চলবে। কিন্তু এরই মধ্যে যে ভোট গ্রহণ হয়ে গেছে তার ফল গতকালই প্রকাশিত হওয়ার কথা। মিশরজুড়ে টেলিভিশনে এই ফল সরাসরি সমপ্রচার করে। এই মিশরেই ১৯৫২ সালে রাজতন্ত্রকে সেনা বাহিনী খতম করার পর আর কোন নির্বাচন হয়নি। তার পর থেকে এ পর্যন্ত এটাই মিশরীয়দের কাছে প্রথম নির্বাচন। ফলে ভোট দিতে উপস্থিত হন প্রায় সব ভোটার। নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সঙ্গত কিছু বাধা ও সহিংসতা ছাড়া নির্বাচন হয়েছে শান্তিপূর্ণ। শহরে বন্দরে দেখা গেছে নির্বাচনী পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন। বলা হচ্ছে, এই নির্বাচনে যে শক্তি ক্ষমতায় আসবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্রভাব ফেলবে। কারণ, মিশরের গণঅভ্যুত্থান দেখে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ আন্দোলনে উৎসাহিত হয়েছে।
ফলে সবার চোখ মুসলিম ব্রাদারহুডের দিকে। এই গ্রুপটিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক ও তার পূর্বসুরিরা নিষিদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু তারাই এখন দেশটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের পথে। মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখা দ্য ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি প্রতিষ্ঠা করা হয় এ বছরের শুরুতে। তারাই বলছে, মিশরের নতুন পার্লামেন্টেরই উচিত নতুন সরকার গঠন করা। ওই সংগঠনের প্রধান মোহাম্মদ মারসি বলেন, পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সরকার যদি গঠন করা না হয়, তাহলে সে সরকার কার্যত কোন ভাল কাজ করতে পারবে না। তাই আমরা মনে করছি, এটাই স্বাভাবিক ঘটনা- পার্লামেন্ট নির্বাচনে যে দলই বিজয়ী হোক তাদের উচিত নতুন সরকার গঠন করা। আমরা মনে করি, নতুন সরকার জোটবদ্ধ সরকার হলে তা ভাল কাজ করতে পারবে। ওদিকে গত সপ্তাহেই মিলিটারি কাউন্সিল হোসনি মুবারক আমলের ৭৮ বছর বয়সী কামাল আল গানজুরিকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছে। তাকে একটি নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করতে বলা হয়েছে। দ্য ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির জবাবে মিলিটারি কাউন্সিলের এক সদস্য বলেছেন, কামাল গানজুরির সরকারকে বরখাস্ত করে নতুন সরকার গঠনের কর্তৃত্ব নেই নতুন নির্বাচিত পার্লামেন্টের।
Posted in আন্তর্জাতিক | No Comments »
November 22nd, 2011
০ পশ্চিমা পদক্ষেপ অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য ॥ রাশিয়া
০ তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে ॥ ওবামা
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও কানাডা। তেহরানের পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের পরিপ্রেৰিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। খবর এএফপি ও বিবিসির।
ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছে রাশিয়া। পশ্চিমাদের এ নিষেধাজ্ঞাকে রাশিয়া অগ্রহণযোগ্য ও অবৈধ বলে মন্তব্য করেছে। এ নিষেধাজ্ঞা ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ বন্ধ করে দিতে পারে বলে রাশিয়া সতর্ক দিয়েছে। মস্কো এ নিষেধাজ্ঞাকে অগ্রহণযোগ্য ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে উলেস্নখ করেছে।
পশ্চিমের এ ব্যবস্থা তেহরানের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার পথকে জটিল করে তুলবে বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া। ইরান এ নিষেধাজ্ঞাকে নির্যাতনমূলক ও অকার্যকর বলে উলেস্নখ করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রামিন মেহমানপারাসত্ম মঙ্গলবার এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এ ব্যবস্থা ইরানের জনগণের প্রতি বৈরী আচরণের বহির্প্রকাশ। এ আচরণ নির্যাতনমূলক ও অকার্যকর বলে তিনি উলেস্নখ করেন। তিনি বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের পূর্বেকার নিষেধাজ্ঞা ইতোমধ্যে অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি মনত্মব্য করেন।
নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ইরান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকার পথ বেছে নিয়েছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে জাতিসংঘের রিপোর্ট প্রকাশ করার পর পশ্চিমা শক্তিগুলো সোমবার এ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও জ্বালানি খাতকে উদ্দেশ্য করেই এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
এ নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর যোগাযোগ সীমিত করা। ইরানের জ্বালানি বিক্রির অর্থ সরকারের হাতে আসার ৰেত্রে তেহরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ইরানের বাজেটের ৭০ ভাগ অর্থ যোগান দিয়ে থাকে দেশটির জ্বালানি খাত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক বিবৃতিতে বলেন, ইরান যতৰণ পর্যনত্ম না এ ভয়ঙ্কর পথ পরিহার করছে, ততৰণ পর্যনত্ম ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করবে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন তার মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করেই ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, ইরানকে আনত্মর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে। অন্যথায় তেহরানকে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখোমুখি হতে হবে। দেশটাকে একঘরে করা হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ইরানের বিরম্নদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞাকে উলেস্নখযোগ্য চাপ হিসেবে উলেস্নখ করেন। তিনি বলেন, এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানের জ্বালানি খাতকে লৰ্যবস্তু হিসাবে চিহ্নিত করেছে।
তিনি পণ্য, সেবা ও জ্বালানি খাতের প্রযুক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, এটি অবশ্যই ইরানের ওপর প্রভাব ফেলবে। ইরানের ওপর জাতিসংঘের চার দফা নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী টিমোথি গেইথনার এক সতর্ক বার্তায় বলেন, ইরানের ব্যাংকগুলোর সঙ্গে যে প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করবে তাদের অবৈধ অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত বলে বিবেচনা করা হবে।
Posted in আন্তর্জাতিক | No Comments »
November 21st, 2011
০ গাদ্দাফিপুত্রকে ত্রিপোলির কাছে হস্তান্তরে অস্বীকৃতি সাবেক গেরিলা উপদলের
০ সাবেক গোয়েন্দা মন্ত্রী আটক
লিবিয়ার নতুন নেতৃবৃন্দ রবিবার বলেছেন, সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল ইসলামের বিচার দেশের মাটিতেই হবে। সাইফকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কাছে হস্তান্তর করা হবে না বলে তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া সরকার লিবিয়ার পতিত সরকারের গোয়েন্দা মন্ত্রী আবদুল্লাহ সিনুসিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে। খবর এএফপি ও ওয়েবসাইট।
সাইফের গ্রেফতার হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশকিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। লিবিয়ার সাবেক গেরিলা উপদল সাইফকে আটক করার একদিন পর তাকে ত্রিপোলির জাতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার হওয়া নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
লিবিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্যমন্ত্রী মাহমুদ শাম্মাম বলেছেন, সাবেক গোয়েন্দা মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল সিনুসিকে বিপ্লবী যোদ্ধারা রবিবার ফাজান এলাকা থেকে আটক করেছে। শনিবার সাইফকে কাছাকাছি এলাকা থেকে আটক করা হয়।
যোদ্ধারা গত দু’দিন ধরে সিনুসির ওপর নজর রাখছিল। সেবহা শহর থেকে ৪০ মাইল দূরে ফেরাত আল শাতিতে বোনের বাসায় অবস্থান করছিলেন সিনুসি। তাঁর গ্রেফতারের বিসত্মারিত তথ্য তাৎৰণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সিনুসিকে ত্রিপোলি কর্তৃপৰের কাছে বিপস্নবীরা হস্তান্তর করেছে কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়। ধারণা করা হচ্ছে, সিনুসিকে ত্রিপোলি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কাছে হসত্মানত্মর করবে না। তারা সাইফ ও সিনুসির বিচার লিবিয়ার মাটিতেই করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী মাহমুদ শাম্মাম বলেছেন, সাইফের বিচার লিবিয়ার মাটিতেই হবে। সিনুসি গ্রেফতার হওয়ার কিছু আগে তিনি এ কথা বলেন। লিবিয়ার নতুন নেতৃত্বে দেশে আদালত ব্যবস্থা এখনও চালু না হলেও তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সাইফ আল ইসলাম লিবিয়ার জনগণের বিরম্নদ্ধে অপরাধ করেছেন। সে কারণে লিবিয়ার জনগণের স্বার্থে তার বিচার দেশের মাটিতেই হবে।
তিনি বলেন, আইসিসি গৌণ আদালত মাত্র। লিবিয়ার জনগণ তার বিচার দেশের বাইরে হতে দেবে না।
আইসিসি আভাস দেয় যে, সাইফ ও সিনুসি গত জুন মাস থেকে গাদ্দাফির সঙ্গে মিলিতভাবে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন এবং হত্যাকা- চালায়। আইসিসি মুখপাত্র ফাদি আল আবদুলস্নাহ রবিবার বলেন, লিবিয়া যদি এ দুই ব্যক্তির বিচার দেশের মাটিতে করতে চায় তা হলে তা হবে আইসিসির প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার শামিল। তিনি বলেন, বিষয়টি হলো এ দু’জনের বিরম্নদ্ধে ইতোমধ্যে আনত্মর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা রয়েছে। সে কারণে লিবিয়ার আনত্মর্জাতিক আইন মেনে নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তিনি অবশ্য বলেন, এ মামলার বিচার করার ৰেত্রে উপযুক্ত ও নিরপেৰ বিচার ব্যবস্থা লিবিয়ায় রয়েছে এটা ত্রিপোলিকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে।
Posted in আন্তর্জাতিক | No Comments »
November 19th, 2011
রণাঙ্গনে নিহত গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল ইসলামকে অবশেষে শনিবার গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ নাইজারে পালিয়ের যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার সময় তিন দেহরক্ষীসহ জিনতানের যোদ্ধারা সাইফকে সুস্থ অবস্থায় গ্রেফতার করে। তবে এর আগে তাঁকে বহুবার গ্রেফতারের খবর প্রকাশিত হলেও শেষ পর্যন্ত তা ভুল প্রমাণিত হয়। ২০ অক্টোবর যুদ্ধক্ষেত্রে গাদ্দাফি বিদ্রোহীদের হাতে আরেক পুত্রসহ নিহত হওয়ার প্রায় এক মাস পর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চোখে ফেরারি সাইফকে লিবিয়ার দৰিণাঞ্চলের দুবারি থেকে তাকে আটক করে। গত আগস্টে জাতীয় অন্তর্বর্তী পরিষদের (এনটিসি) যোদ্ধারা ত্রিপোলি দখলে নেয়ার পর সাইফ আত্মগোপনে চলে যান। গাদ্দাফির আট সন্তানের মধ্যে সাইফ আল ইসলাম দ্বিতীয়। গাদ্দাফির জমানায় লিবিয়া সরকারে তাঁর কোন আনুষ্ঠানিক পদ না থাকলেও আধৃনিক শিৰায় শিৰিত ৩৯ বছর বয়সী সাইফকেই গাদ্দাফির যোগ্য উত্তসূরি মনে করা হতো। গাদ্দাফির বিরুদ্ধে গণজাগরণ শুরু হওয়ার আগে সাইফকে সংস্কারবাদী আধুনিক চিন্তার এক নেতা হিসেবে মনে করা হলেও বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পর তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠুরতার পরিচয় দেন। লিবিয়াজুড়ে গণহত্যার নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গ্রেফতারি পেরোয়ানা জারি করে। এনটিসি সরকারের বিচারমন্ত্রী মোহাম্মদ আল আলাগুই সাইফের গ্রেফতারের কথা স্বীকার করেছেন। লিবিয়ায় নতুন করে সরকার গঠিত হওয়ার একদিন আগে তাঁকে গ্রেফতার করা হলো। রাজধানী ত্রিপোলির ১৭০ কিলোমিটার দৰিণে মরু শহর থেকে গ্রেফতার করার পর পরই তাঁকে হেলিকপ্টারে করে জিনতান শহরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পরে তাকে ত্রিপোলি নিয়ে যাওয়া হতে পারে। সাইফের গ্রেফতারে খবরে দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লাস প্রকাশ করছেন লিবিয়ার জনগণ। তারা ফাঁকা গুলি ছোড়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন। খবর এএফপি ও বিবিসি অন লাইনের।
গাদ্দাফির পরই লিবিয়ায় তাঁকে দ্বিতীয় ৰমতাধর ব্যক্তি মনে করা হতো। জিনতানে সাবেক বিদ্রোহী যোদ্ধাদের প্রধান বশির তাইব জিনতানে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তাঁর যোদ্ধারাই মরম্ন শহর দুবারি থেকে সাইফকে তিন দেহরক্ষীসহ গ্রেফতার করেছে। দেশজুড়ে গণহত্যা চালানোর দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২৭ জুন সাইফ আল-ইসলাম, লিবীয় নেতা গাদ্দাফি এবং গাদ্দাফির গোয়েন্দা প্রধান আব্দুলস্নাহ আস সেনুসির বিরম্নদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। সেনুসি এখনও আত্মগোপনে রয়েছেন। এর আগে বিদ্রোহীর হাতে ত্রিপোলির পতনের পর সাইফকে গ্রেফতারের কয়েক দফা গুজব ছড়িয়ে পড়লেও তিনি নিজে প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের সামনে হাজির হয়ে সেই গুজবের অবসান ঘটান। তবে গাদ্দাফি নিহত হওয়ার সময় সাইফকে গ্রেফতার করার খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলেও তার পর থেকে সাইফকে আর দেখা যায়নি প্রকাশ্যে। তবে লিবিয়ার সীমানত্মবর্তী এলাকায় তাঁর অবস্থান এবং আইসিসির কাছে আত্মসমর্পণ করা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। তবে গত ৯ নবেম্বরে আইসিসির আইনজীবী লুইস মোরেনো ওক্যামপো বলেছেন, সাইফকে গ্রেফতারের বিষয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি বলেছেন, সাইফ যে গ্রেফতার হবেন এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি কখন গ্রেফতার হবে। তাঁর গ্রেফতার সময়ের ব্যাপার মাত্র, সাইফকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে এবং তাঁর একমাত্র গন্তব্য এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। আইসিসির আইনজীবী এক সপ্তাহ আগে নিরাপত্তা পরিষদকে অবিহত করেন যে, সাইফ আল-ইসলামের ঘনিষ্ঠ কেউ আইসিসির বিচার প্রক্রিয়া বা এ সংক্রানত্ম বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের কাছে বেশ কিছু প্রশ্নের জবাব জানতে চেয়েছিলেন। সাইফ আল-ইসলাম ১৯৭২ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং গাদ্দাফির আট সনত্মানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় এবং গাদ্দাফির দ্বিতীয় স্ত্রী সাফিয়ার প্রথম সনত্মান। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন। গাদ্দাফির বিরুদ্ধে গণজাগরন শুরু হওয়ার আগে তাঁকে লিবিয়া ও বিশ্ববাসী সংস্কারবাদী নেতা হিসেবেই জানতেন।
Posted in আন্তর্জাতিক | No Comments »
November 13th, 2011
ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনি (৭৫) পদত্যাগ করেছেন। তিনি ১৭ বছর দেশটির রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট জিওরজিও নেপোলিতানো বারলুসকোনির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন এবং তিনি টেকনোক্র্যাট মারিও মনত্মিকে বারলুসকোনির উত্তরাধিকারী নিয়োগ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউরোজোনের জন্যই হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে এমন এক গুরুতর ঋণসঙ্কটের মধ্যে তিনি দেশের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারান। পার্লামেন্ট সদস্যরা নতুন কৃচ্ছ্র সাধন পদৰেপ অনুমোদন করার পর তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতিমতো পদত্যাগ করলেন। ইতালির রাজধানী রোমে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বাইরে হাজার হাজার লোক আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করে বারলুসকোনির পদত্যাগের ঘটনাকে স্বাগত জানায়। তিনি যখন পদত্যাগপত্র পেশ করতে প্রাসাদে পৌঁছান, তখন তারা তার প্রতি ‘ভাঁড়’ ‘ভাঁড়’ বলে চিৎকার করে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বারলুসকোনির শেষ যাত্রা অমর্যাদা করছিল বলে বিবিসির রোম সংবাদদাতা মন্তব্য করেন। খবর এএফপি ও বিবিসি অনলাইনের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর যুগে বারলুসকোনিই সবচেয়ে বেশিদিন প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন ছিলেন। সম্প্রতি তিনি অনেক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন। বিবিসির সংবাদদাতা এ্যালান জনসন বলেন, তিনি এসব কেলেঙ্কারির মুখে টিকে থাকতে সফল হলেন বটে, কিন্তু ইতালির সর্বগ্রাসী আর্থিক সঙ্কট তাঁর জন্য পরাজয় ডেকে আনে।
পার্লামেন্টে মঙ্গলবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর বারলুসকোনি প্রতিশ্রম্নতি দেন যে, পার্লামেন্টের উভয় কৰে কৃচ্ছ্রসাধন পদৰেপগুলো গৃহীত হওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এসব পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছিল এবং দেশের অর্থনীতিতে বাজারের আস্থা ফিরিয়ে আনাই ছিল এদের লৰ্য। শনিবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের সদস্যদের অধিকাংশই ঐসব পদক্ষেপের পৰে ভোট দেন। এর আগের দিন সনেটে সেগুলো অনুমোদিত হয়। ফলে সেগুলো আইনে পরিণত হলো। নেপোলিতানোর মুখপাত্র দোনাতো মারা বলেন, প্রেসিডেন্ট বর্তমান কার্যাদি শেষ করার জন্য ৰমতা থেকে যেতে বিদায়ী সরকারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠন প্রশ্নে এখন আলোচনা শুরম্ন হবে। নেপোলিতানো টেকনোক্র্যাটদের নিয়ে কোন সরকার গঠন করতে মন্ডি বা অন্য কোন প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানাবেন বলে মনে করা হয়। বিবিসির সংবাদদাতা বলেন, এ সঙ্কটকালে মুদ্রা বাজার যে ধরনের ব্যক্তি দেশ দায়িত্ব নিক বলে দেখতে চায়, অর্থনীতিবিদ মন্ডি সেই ধরনেরই ব্যক্তি। তাঁর প্রতি অনেক মহলেরই সমর্থন রয়েছে। কিন্তু দেশের ভিতরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তি তার বিরোধিতা করছেন। অনেকের ধারণা এই যে, ইতালির সঙ্কট এতই গভীর যে, কেবল সরকারের পরিবর্তনই দ্রুত ও তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি সাধন করতে পারবে বলে মনে হয় না।
এদিকে, রোমে হাজার হাজার মানুষ গাড়ি হর্ণ বাজিয়ে ও নেচে গেয়ে বারলুসকোনির পদত্যাগের ঘটনায় উলস্নাস প্রকাশ করেন। কেলেঙ্কারি জর্জরিত বারলুসকোনি তাঁর পদত্যাগপত্র পেশ করতে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে পৌঁছলে জনতা তাঁকে লক্ষ্য করে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ প্রকাশ করে এবং ‘ভাঁড়’ বা ‘ভাঁড়’ বলে চিৎকার করে।
Posted in আন্তর্জাতিক | No Comments »
November 4th, 2011
আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানে মার্কিন অভিযানে নিহত হন গত মে মাসে। কিন্তু তিনি কিভাবে প্রাণ হারালেন তা নিয়ে জল্পনার অবসান হয়নি আজও। অভিযানে অংশ নেয়া মার্কিন নেভি সিল টিম সিঙ্রে সাবেক কমান্ডার চাক ফারার। লাদেন হত্যা প্রসঙ্গে অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ করে তিনি একটি বই লিখেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে ফারার বলেন, নেভি সিলের কয়েকজন সদস্য ওই অভিযানে অংশ নেন। তবে কপ্টার থেকে মাটিতে অবতরণ ও ব্ল্যাক হুক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ব্যাপারে সরকারের দেয়া বর্ণনার সঙ্গে তিনি দ্বিমত পোষণ করেছেন।
তিনি বলেন, ৪৫ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর ওই অভিযানের শুরুতেই লাদেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ফারার বলেন, অভিযান শুরুর ৯০ সেকেন্ডের মধ্যেই নিভে যায় লাদেনের জীবন প্রদীপ। তুমুল বন্দুকযুদ্ধের আগে মাত্র ৪ রাউন্ড গুলি খরচেই এ ঘটনা ঘটে। দ্বিতীয় দফায় চালানো গোলাগুলিতে আল কায়েদা প্রধানের কনিষ্ঠ স্ত্রী আমল বিন লাদেন আহত হন। তিনি পায়ের গোড়ালির একটু ওপরে মাংসপেশীতে গুলিবিদ্ধ হন। ফারার তাঁর লেখা বইটিকে একটি অতুলনীয়, দুঃসাহসিক, নির্ভুল ও যথার্থ রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযান বলে বর্ণনা করেছেন। খবর টেলিগ্রাফ অনলাইনের।
Posted in আন্তর্জাতিক | No Comments »
November 3rd, 2011
০ তেহরানের কঠোর হুঁশিয়ারি রসামরিক ব্যবস্থা নিয়ে বিভক্ত ইসরাইলের মন্ত্রিসভা
০ হামলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন
আজিজুর রহমান ॥ মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার সুযোগে ইরানে গোপনে হামলার পরিকল্পনা কার্যকর করা নিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছে ইসরাইল। রিপোর্ট রয়েছে, এ ব্যাপারে সায় রয়েছে বিশ্বের দুই ক্ষমতাধর শক্তি বারাক ওবামা ও ক্যামেরন প্রশাসন যন্ত্রের। তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচী সম্পর্কে জাতিসংঘের সর্বশেষ একটি রিপোর্টের সূত্র ধরে ইসরাইল এ ব্যাপারে তৎপর হয়ে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে আর্থিক মন্দার এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে ইরানে সামরিক হামলা চালানোর ব্যাপারে ইসরাইলের মন্ত্রিসভা রীতিমতো বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তবে হামলার ব্যাপারে মরিয়া হয়ে উঠেছেন খোদ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি ইসরাইলী মন্ত্রিসভার সদস্যদের সমর্থন পেতে জোর তদ্বির শুরু করেছেন। সমর্থন আদায়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক্কাট্টা হয়ে কাজ করছেন তাঁরই প্রতিরৰামন্ত্রী এহুদ বারাক। তবে হামলার প্রস্তুতির এ খবর আগেভাগে পত্রিকায় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে নেতানিয়াহু বিষয়টি তদনত্মের নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে অন্য একটি খবরে বলা হয়েছে, ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনায় যুক্ত হয়েছে পশ্চিমা দুই শক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন। চারটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম এখন ইরানের হাতে মজুত রয়েছে_ এমন একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিট ক্যামেরন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল হাসান ফিরোজাবাদি এ ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, যেকোন হুমকিকেই আমরা সত্যিকার হুমকি মনে করে থাকি। ইসরাইলে যে কোন হামলার উপযুক্ত শাস্তি তাঁর দেশ দেবে। এর মধ্যদিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। এর আগে গোপনে এমনই একটি অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশ ইরাকে একতরফাভাবে বিমান চালিয়ে পার পেয়ে যায় ইসরাইল। বৃহস্পতিবার ফ্রান্স সফরকালে সে দেশের প্রেসিডেন্ট সারকোজির সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরম্নত্বারোপ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন। তবে তিনি ইরানে হামলার ব্যাপারে কোন কিছু বলেননি। ইরান বরাবই জোর দিয়ে বলে এসেছে, শানত্মিপূর্ণ কাজেই তাঁরা পারপারমাণবিক কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছে। খবর এএফপি, হারেজ, বিবিসি ও ডেইলি মেইল অন লাইনের।
ইরানের সেনাবাহিনী প্রধান হাসান বলেছেন, আমরা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি নিয়ে হামলাকারীদের শাসত্মি দেয়ার জন্য তৈরি আছি। যে কোন ভুলের জন্য তাদের অনুতাপ করতে হবে। ইসরাইলের স্থানীয় পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী নেতানিয়াহু সরকার সফলভাবে ‘ব্যালিস্টিক ৰেপণাস্ত্র’ পরীৰা চালানোর কয়েকদিন যেতে না যেতেই ইরানের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। তবে ইসরাইলের প্রতিরৰা মন্ত্রণালয় একে ‘রকেট চালিত পদ্ধতির পরীৰামূলক উৎৰেপণ’ হিসেবে অবিহিত করেছেন। ইসরাইলের প্রভাবশালী হারেজ পত্রিকার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানে হামলা চালানোর ব্যাপারে দ্বিমত পোষণকারী ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিবারম্যানকে বুঝিয়ে রাজি করাতে সৰম হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও তাঁর প্রতিরৰামন্ত্রী। তবে ইসরাইলের সিনিয়র এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভায় এখনও ছোট মতপার্থক্য রয়ে গেছে। হারেজ পত্রিকার রিপোর্টে বলা হয়েছে, এখনও মন্ত্রিসভার যেসব সদস্য হামলার বিরোধিতা করছেন তাঁরা হচ্ছেন, উগ্র অর্থডঙ্ শাহ পার্টির নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এলি ইয়াশাই, গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ডন মেরিডর, কৌশলগত বিষয়ক মন্ত্রী মোশে ইয়ালন ও অর্থমন্ত্রী ইয়ুভাল স্টেইনিজ। ইরানে হামলার বিরোধিতাকারীদের মধ্যে ইসরাইলের আরও অনেকেরই নাম শোনা যাচ্ছে এবং তাঁরা হলেন, সেনাবাহিনী প্রধান, গোয়েন্দা প্রধান, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানসহ ইসরাইলের অভ্যনত্মরীণ গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান। সর্বশেষ ইসরাইলের ন্যায় যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরম্নদ্ধে হামলা চালানোর বিষয়টি নাকচ করে দেয়নি। সর্বশেষ ইরানের বিরম্নদ্ধে হামলা চালানোর ঘটনাকে জল্পনা বা অনুমান হিসেবে আখ্যায়িত করে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কারনে বলেছেন, অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কোন মন্তব্য করা যায় না। তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইরানের সঙ্গে আমরা এখনও কূটনৈতিক চ্যানেলের ওপরই গুরম্নত্বারোপ করছি। তবে সামরিক ও গোয়েন্দা প্রধানদের বিরোধিতা সত্ত্বেও ইরানের বিরম্নদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর সিদ্ধানত্ম ইতোমধ্যেই নেয়া হয়েছে বলে পত্রিকার রিপোর্ট নাকচ করে দিয়েছেন ইসরাইলের প্রতিরৰামন্ত্রী এহুদ বারাক। তিনি বলেছেন, ২০১১ সালে ইসরাইলের মাটিতে বসে এ ধরনের একটি খবর সত্য হিসেবে গ্রহণ করার কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। দু’জন লোক এমন একটি সিদ্ধানত্ম নিতে পারে না। সম্প্রতি বিদেশের মাটিতে তিন তিনটি হামলার ষড়যন্ত্রের জন্য প্রেসিডেন্ট আহমদিনেজাদ সরকারকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে লিবিয়ায় রক্তৰয়ী সংঘাতের অবসানের পর ইরানের বিরম্নদ্ধে আনা এসব অভিযোগের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল তেহরান। ব্রিটেনের বহুল প্রচারিত পত্রিকা ডেইলি মেইলের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানের বিরম্নদ্ধে সামরিক হামলার সিদ্ধানত্ম যদি যুক্তরাষ্ট্র নেয় তাহলে ব্রিটেনে তাতে সাড়া দেবে। ক্যামেরন সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে এর সুরাহা হোক। কিন্তু সব অপশন খোলা রয়েছে আমাদের।
Posted in আন্তর্জাতিক | No Comments »
October 28th, 2011
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি বলেছেন, গ্রিসকে ইউরোজোনে প্রবেশ করতে দেয়া ভুল হয়েছিল। ইইউর সদস্য রাষ্ট্রগুলো যখন গ্রিসকে উদ্ধারের জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে, তখন সারকোজির একই মন্তব্য দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ছড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাত্কারে সারকোজি বলেন, গ্রিসকে একক মুদ্রা ইউরোর আওতায় আনা ঠিক হয়নি, কারণ এ জোটে ঢোকার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সচ্ছলতা গ্রিসের ছিল না। এদিকে ইউরোজোনের ঋণ সংকট দূরীকরণের জন্য ইউরোপের নৃেতবৃন্দ ব্রাসেলসে একটি চুক্তির ব্যাপারে একমত হওয়ায় বিশ্ব পুঁজিবাজারে তেজীভাব দেখা গেছে। ডলারের বিপরীতে ইউরোর দাম আরো বেড়ে গেছে। নতুন পরিকল্পনার ব্যাপারে বিনিয়োগকারীরা ইতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন। ইউরোজোনকে উদ্ধারের জন্য তহবিল বাড়িয়ে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কীভাবে ঐ তহবিলে টাকা দেয়া হবে এবং কীভাবে ব্যাংকগুলো পুঁজি বাড়াবে।
তিন বছরের অর্থনৈতিক মন্দার পর গ্রিস ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা জানান, গ্রিসের অর্থনৈতিক সংকট ইউরোজোনের অন্যান্য দেশের অর্থনীতিকে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপের নেতৃবৃন্দ গ্রিসের ঋণ সংকট মোকাবিলার জন্য একটি তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী এ পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আমাদের জয় হয়েছে। গ্রিসকে উত্পাদনশীল করতে আমরা কঠোর পরিমশ্র করে যাব। তবে অনেকে বলেছেন, ইউরোজোনের অর্থনীতিকে জাগিয়ে তুলতে আরো অনেক কিছু করতে হবে। সংকটের সমাধান হয়ে গেছে তা এখনই বলা যাবে না। এদিকে পথের সূচনা বলা যেতে পারে। গ্রিসকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে আরো কয়েক বছর লেগে যাবে।
Posted in আন্তর্জাতিক | No Comments »