Archive for ‘তথ্যপ্রযুক্তি’

October 6th, 2011

স্টিভ জবসের ১০ ‘বিপ্লব’

তথ্যপ্রকৌশলে স্টিভ জবসের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। তার পরও যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় থাকা প্রায় ৩০০ প্রযুক্তি পেটেন্টের উদ্ভাবক অথবা সহ-উদ্ভাবক হিসেবে জবসের নাম জড়িয়ে রয়েছে। বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি উপকরণের উদ্ভাবক ও এগুলোর তৈরির আগে প্রাথমিক ভাবনার নিয়ামক হওয়ার কারণে অনেকেই এই প্রযুক্তিবিদকে আধুনিক পৃথিবীর ‘লেওনার্দো দ্য ভিঞ্চি’ হিসেবে অভিহিত করেন। প্রিয় পাঠক, আসুন দ্রুত চোখ বুলিয়ে নিই, তথ্যপ্রযুক্তি জগেক বদলে দেওয়া স্টিভ জবসের ১০টি যুগান্তকারী কাজের ওপর।

১. অ্যাপল-১ (১৯৭৬): এটি ছিল অ্যাপল কম্পিউটারের উদ্ভাবিত প্রথম পণ্য। মূলত শখের কম্পিউটার ব্যবহারকারী ও প্রকৌশলীদের কথা মাথায় রেখে এটি তৈরি হয়েছিল। অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ ওজিয়ানিকের ডিজাইন করা এই অ্যাপল-১ কম্পিউটারের অর্থায়ন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্টিভ জবসের নাম। এই অ্যাপল-১ বদলে দিয়েছিল ব্যক্তিগত কম্পিউটারের ধারণা।

২.অ্যাপল-২ (১৯৭৭): অ্যাপল-১-এর সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে পরের সংস্করণটি তৈরি করে অ্যাপল কম্পিউটার। অ্যাপল-১ খুব অল্প কয়েকটি তৈরি হলেও অ্যাপল-২-এর ক্ষেত্রে গণ-উত্পাদনের ব্যবস্থা করা হয়। এটি বিপুলভাবে জনপ্রিয় হয় ব্যক্তিগত কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের মধ্যে। পরের প্রায় ১৪-১৫ বছর ধরে এই অ্যাপল-২ কম্পিউটারের বাজারে টিকে ছিল। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি উন্নত সংস্করণও বাজারে ছাড়া হয়। ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত বিশ্ববাজারে এটি অ্যাপল-২ নামেই টিকে ছিল।

৩. লিসা (১৯৮৩): লিসা ছিল একটি বাণিজ্যিক কম্পিউটার। মূলত বাণিজ্যিক ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই এটি তৈরি করা হয়। এতেই প্রথমবারের মতো আইকন, মাউস-নিয়ন্ত্রিত কারসর ও গ্রাফিক্যাল ইউজারস ইন্টারফেস ব্যবহার করা হয়। বর্তমান সময়ে আমরা যে কম্পিউটার ব্যবহার করি, সেটার ধারণা এই লিসা থেকেই উত্সারিত।

৪. ম্যাকিনটোশ (১৯৮৪): এটিও গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস ব্যবহার করে তৈরি। লিসার চেয়েও ম্যাকিনটোশ ছিল সস্তা ও দ্রুতগতির। ব্যাপক বিপণন ও প্রচারণার মধ্য দিয়ে ম্যাকিনটোশ পৃথিবীময় বাজারজাত করা হয়। ম্যাকিনটোশ বাজারে আসার পরপরই ব্যবহারকারীরা বুঝতে পারে, বিভিন্ন অলংকরণের জন্য গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস কতটা জরুরি। ডেস্কটপ প্রকাশনার জগতেও নতুন বিপ্লব ঘটায় এই ম্যাকিনটোশ।

৫. ‘নেক্সট’ কম্পিউটার (১৯৮৯): স্টিভ জবস ততদিনে অ্যাপল ছেড়ে দিয়েছেন অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে। তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন নেক্সট কম্পিউটার নামের একটি প্রতিষ্ঠান। যারা তৈরি করা শুরু করল বিভিন্ন কম্পিউটার প্ল্যাটফর্ম। সেই সময়ই তৈরি হয় এই ‘নেক্সট কম্পিউটার।’ এতে প্রথম সংযোজিত হয় ওয়েব ব্রাউজিংয়ের সুবিধা। যদিও নেক্সট কম্পিউটার কখনোই তেমন অধিক পরিমাণে বিক্রি হয়নি। কিন্তু একে বলা হয়, আজকের আইফোনের অপারেটিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত। একে আইফোনের জনকও বলা যেতে পারে।

৬. আই-ম্যাক (১৯৯৮): বিল গেটসের প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট করপোরেশনের ‘উইন্ডোজ’ অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে তখন মেতে আছে গোটা পৃথিবী। তখন ব্যক্তিগত কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম বলতেই মানুষ বোঝে উইন্ডোজের কথা। ১৯৯৬ সালে স্টিভ জবস ফিরে এসেছেন অ্যাপলে। সে সময় তাঁর প্রচ্ছন্ন উত্সাহ ও ভাবনার ফল ছিল এই আই-ম্যাক। নব্বই দশকের শেষ দিকে রং-বেরঙের বাহারি আই-ম্যাকের কথা নিশ্চয়ই কেউ ভুলে যায়নি। পুরো কম্পিউটার ও মনিটরটি ছিল একটি প্লাস্টিক বাবলের ভেতর। সেই সঙ্গে ছিল একটি মাউস। ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য দারুণ উপযোগী ছিল সেই আই-ম্যাক। কম্পিউটার ব্যবহারকারীরাও পেয়েছিল উইন্ডোজের বাইরে গিয়ে পছন্দের কম্পিউটারটি কেনার সুযোগ।

৭. আইপড (২০০১): আইপড হার্ডড্রাইভ-সমৃদ্ধ একটি ডিজিটাল মিউজিক প্লেয়ার। যদিও এটি পৃথিবীতে উদ্ভাবিত প্রথম ডিজিটাল মিউজিক প্লেয়ার নয়, তার পরও সফলতার দিক দিয়ে এটিকে শীর্ষে রাখতেই হবে। এটি সংগীতপ্রিয়দের এনে দেয় একসঙ্গে কয়েক হাজার পছন্দের গান একটি ছোট্ট ডিভাইসে স্টোর করে রাখার অনন্য সুযোগ। গান শোনার ক্ষেত্রেও এটি তৈরি যোগ করে নতুন এক মাত্রা।

৮. আই-টিউন স্টোর (২০০৩): এই দশকের শুরুর দিকে পাইরেসি ও ডিজিটাল চুরি ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছিল বিশ্বের সংগীতশিল্প। ব্যবসায়িকভাবেও মার খাচ্ছিল তারা। জবস এই সমস্যা সমাধানে ২০০৩ সালে নিয়ে এলেন আই-টিউন স্টোর নিয়ে। এটি হয়ে উঠল সংগীতের এক বিরাট সংগ্রহ। সংগীতশিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও খুঁজে পেলেন ডিজিটাল যুগে আদর্শ পরিবেশক-মাধ্যম। ২০০৮ সালে এটি যুক্তরাষ্ট্রে হয়ে ওঠে সংগীতের সবচেয়ে বড় খুচরা ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র।

৯. আইফোন (২০০৭): মোবাইল ফোন আইফোন আসার আগে ছিল কথা বলার মাধ্যম। একই সঙ্গে সেটাতে ইন্টারনেট ব্যবহারেরও সুযোগ ছিল। কিন্তু আইফোন নিয়ে এল স্পর্শের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের অনন্য সুযোগ-সুবিধা। ম্যাকিনটোশ যেমন ব্যক্তিগত কম্পিউটারের বিপ্লব ছিল, ঠিক তেমনি আইফোন হলো মোবাইল ফোনে একধরনের বিপ্লব। আইফোন বাজারে নিয়ে আসার পর খুব দ্রুতই অ্যাপল পরিণত হয় মোবাইল ফোন বাজারের শীর্ষ খেলোয়াড়ে।

১০. আইপ্যাড (২০১০): আইপ্যাড কিন্তু প্রথম ট্যাবলেট পিসি নয়। এর আগে অ্যাপলসহ অনেক প্রতিষ্ঠানই ট্যাবলেট পিসি বানানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু সফল হয়নি। আইপ্যাড ২০১০ সালে এসে বদলে দেয় ট্যাবলেট পিসির ধারণা। ল্যাপটপের পর কম্পিউটার কী চেহারার হবে, এটি প্রথম চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় অ্যাপলের আইপ্যাড।

September 16th, 2011

মায়ের মৃত্যুর আড়াই মাস পর শিশুর জন্ম!

মায়ের মৃত্যু হয়েছে প্রায় আড়াই মাস আগে। কিন্তু এই দীর্ঘসময় পর সেই মৃত মায়ের গর্ভ থেকেই জন্ম নিয়ে পৃথিবীর আলো দেখেছে এক নবজাতক। বিরল এই ঘটনাটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের। তাওম হাসপাতাল নামের একটি চিকিৎসা কেন্দ্রের একদল ডাক্তার মাত্র কয়েকদিন আগে সার্জারির মাধ্যমে ওই নবজাতককে তার মায়ের গর্ভ থেকে জীবিত অবস্থায় বের করেন। ভ্রুণ থেকে শুরু করে তার বয়স এখন ৭ মাসে। বর্তমানে তাকে হাসপাতালে ইনকিউবেটরে ডাক্তারদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গালফ নিউজ এই খবর দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ওই সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, মস্তিস্কের সমস্যাজনিত কারণে অন্তঃসত্ত্বা ওই মহিলার মৃত্যু হয়। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডাক্তাররা দেখেন তার জরায়ুতে থাকা ভ্রুণটি জীবিত। তখন তারা তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখেন। মাতৃগর্ভস্থ ভ্রুণটিকে জীবিত রাখতে তারা নিয়মিত রক্ত এবং অঙিজেন সরবরাহ করেন। ভ্রুণটির বয়স ৭ মাস পূর্ণ হওয়ার পর ডাক্তাররা সার্জারীর মাধ্যমে তাকে মায়ের পেট থেকে বের করে আনেন। এ ধরণের ঘটনা সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই প্রথম এমনকি বিশ্বেও এ ধরণের ঘটনা বিরল। এটিকে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তির উন্নতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। নবজাতকের মাকে গত সপ্তাহে দাফন করা হয়।

September 11th, 2011

প্রতিদিন তৈরি হবে দেড় লাখ আইফোন!

নানা ধরনের নতুন বৈশিষ্ট্যের পণ্য দিয়ে প্রযুক্তির বাজার মাত করে রেখেছে অ্যাপল কম্পিউটার। এবার তাতে যুক্ত হচ্ছে নতুন এক রেকর্ড। অ্যাপলের তৈরি আইফোন ৫ বাজারে আসছে শিগগিরই, এ কথা ইতিমধ্যে জেনে গেছেন সবাই। নতুন খবর হলো, আইফোন ৫ প্রতিদিন তৈরি হবে এক লাখ ৫০ হাজার!
চমকপ্রদ খবরটি জানিয়েছে অ্যাপলের সঙ্গে আইফোন তৈরিতে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান ফক্সকন। আর উ ৎ পাদনের এ সংখ্যা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি ওভারটাইম কাজের পরিধি বাড়িয়েছে। এভাবে মাসে প্রায় ৫০-৬০ লাখ আইফোন ৫ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবারই আইফোনের নতুন সংস্করণ বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়। আর তাতে অনেকেই কিনতে পারেন না প্রিয় আইফোনটি। এ জন্য বাজারে আইফোনের তুমুল চাহিদা মেটাতেই এ ধরনের উদ্যোগ বলে জানা গেছে। অ্যাপলের পণ্য উ ৎ পাদনের ইতিহাসে এমন আর হয়নি। পঞ্চম প্রজন্মের আইফোনের নতুন সংস্করণটি আরও পাতলা এবং আট মেগাপিক্সেল ক্যামেরার সুবিধা নিয়ে আসছে। এ ছাড়া থাকছে আরও নানা সুবিধা। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে আইফোন ৫ বাজারে ছাড়া হবে বলে জানা গেছে। —টাইমস অব ইন্ডিয়া

August 9th, 2011

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নতুন নির্দেশনা জারি: অনলাইনেই আনা যাবে তথ্যপ্রযুক্তি সেবার অর্থ

ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশের বাইরে তথ্যপ্রযুক্তির সেবা দিয়ে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে সে অর্থ দেশে আনা যাবে। এ ব্যবস্থায় সেবার বিপরীতে অর্জিত অর্থের ৫০০ ডলার পর্যন্ত একসঙ্গে আনতে হবে। গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি গতকাল সোমবার সব ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। অনলাইন সেবা রপ্তানির বিপরীতে অর্জিত বৈদেশিক আয় সহজে দেশে আনার জন্য এ নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে ডেটা এন্ট্রি, ডেটা প্রসেসিং, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং, অফশোর তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ইত্যাদি কাজ করা হচ্ছে। এসব সেবা থেকে অর্জিত অর্থ এর আগে ব্যাংকব্যবস্থায় আনতে হতো। এতে বিদেশের অনেক প্রতিষ্ঠান অর্থ পরিশোধে বিব্রত বোধ করত। কেননা, বেশির ভাগ দেশে এ ধরনের সেবার বিপরীতে অর্থ অনলাইনে পরিশোধ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বৈদেশিক আয় প্রত্যাবাসনে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে সেবা দিয়ে থাকে। বর্তমানে পেপলসহ বেশ কয়েকটি অনলাইনব্যবস্থায় এ ধরনের সেবা চালু আছে। প্রচলিত ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও স্বল্পমূল্যের লেনদেন নিষ্পত্তিতে এ পেমেন্ট-ব্যবস্থা সহজলভ্য হিসেবে বিবেচিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে সেবার বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ দেশে আনা যাবে। সেবা রপ্তানি করে পাওয়া অর্থ অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের হিসাবে (নষ্ট কালেকশন অ্যাকাউন্ট) স্থানান্তরিত হবে। পরবর্তী সময়ে ওই ব্যাংক সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের হিসাবে সে অর্থ জমা করার ব্যবস্থা করবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে সেবার অর্থ সহজে দেশে আনতে এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে গ্রাহকের হিসাবে অর্থ জমা করার আগে ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট লেনদেন সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেবে। অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে সম্পাদিত লেনদেন সম্পর্কে ওই ব্যাংকের নিয়মিত মাসিক বিবরণীতে বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্ট করতে হবে। এখন থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করে ফ্রিল্যান্স সেবা রপ্তানিকারকেরা স্বল্প খরচে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে সহজে অর্থ আনতে পারবেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, অনলাইন সেবা রপ্তানিকারকেরা অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েতে হিসাব পরিচালনা করতে পারবেন। পাশাপাশি সেবা রপ্তানিকারকদের হিসাবে জমা করা অর্থ প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবে। —নিজস্ব প্রতিবেদক Prothom Alo

July 4th, 2011

সৈন্যদের দক্ষতা বাড়াতে অনলাইন গেম

অনলাইন গেম

চীনে সৈন্যদের যুদ্ধ-দক্ষতা ও প্রযুক্তি-সচেতনতা বাড়াতে তৈরি করা হয়েছে প্রথম অনলাইন সামরিক গেম ‘দ্য গ্লোরিয়াস মিশন’। গেমটি তৈরি করেছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি।
সেনাসদস্যরা গেমটি একা বা দলগতভাবে খেলতে পারবেন। এতে পিপলস লিবারেশন আর্মিতে ব্যবহূত অস্ত্র ও যুদ্ধের সম্ভাব্য বাস্তব দৃশ্য যুক্ত করা হয়েছে। গেমটি তৈরি করতে ৩২ মাস সময় লেগেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিপলস লিবারেশন আর্মির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি মনে করি, এই গেমটি চীনের সেনা-ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে। তারা গেমটি ডাউনলোড করে খেলতে পারবে। গেমটির সর্বশেষ সংস্করণ ২০ জুন প্রকাশিত হয়।
বিশ্বের সর্ববৃহত্ ইন্টারনেট বাজারের একটি হচ্ছে চীন। সরকারি হিসাবে দেশটিতে ৩০ কোটির বেশি মানুষ আছেন, যাঁরা অনলাইনে গেম খেলেন।—রয়টার্স.

June 16th, 2011

 টুকিটাকি

মহাকাশে কসমিক রশ্মি শনাক্ত করার যন্ত্র

সৌরজাগতিক নাক
বিজ্ঞানীরা সমস্বরে বলছেন, আটটি গ্রহ নিয়ে গড়া এই সৌরজগতেরও নাক আছে! সূর্য ছায়াপথে পরিভ্রমণ করায় সৌরঝড় ও নাক্ষত্রিক গ্যাসের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ফলে সৌরজগতের চারদিকে হেলিওস্ফেয়ার নামে একটি অঞ্চলের সৃষ্টি হয়। অঞ্চলটির ধারকে হেলিওপজ বলে।
সূর্য থেকে হেলিওপজ ৯০০ কোটি মাইল (এক হাজার ৪৫০ কোটি কিলোমিটার প্রায়) দূরে অবস্থান করে। ইন্টারস্টেলার বাউন্ডারি এক্সপ্লোরার স্যাটেলাইট থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এই কৃত্রিম উপগ্রহ ২০০৮ সাল থেকে কাজ করছে।
ছায়াপথে সূর্যের চলার পথ চিত্রায়িত করতে গিয়ে নাসার একদল নভোচারী ওই অঞ্চলকে ‘নাক’ আকৃতির বলে অভিহিত করেন। মানে এটা হলো ‘সৌরজগতের নাক’।

মহাকাশে কসমিক রশ্মি ডিটেক্টর স্থাপন
২৬ মে নাসার খেয়াযান এন্ডিয়েভারের নভোচারীরা মহাকাশে সফলভাবে কসমিক রশ্মি শনাক্তকারী যন্ত্র (ডিটেক্টর) স্থাপন করেন। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে স্থাপিত এ ডিটেক্টরের মূল্য ২০০ কোটি ডলার। অ্যান্টিম্যাটার ও ডার্ক ম্যাটারের খোঁজে এই ডিটেক্টর ব্যবহার করা হবে। সাত টন ওজনের এই আলফা ম্যাগনেটিক স্পেকট্রোমিটার স্থাপনের মিশন নাসা ১৯৯৪ সালে শুরু করে। ডিটেক্টরের আটটি অংশ ন্যানো সেকেন্ডের মধ্যে পৃথিবীতে তথ্য পাঠাতে সক্ষম। পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী (১৯৭৬) ম্যাসাসুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক স্যামুয়েল টিং ১৬টি দেশের ৬০০ জন বিজ্ঞানীর দল নিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই বৃহৎ ডিটেক্টর পৃথিবীতে তথ্য পাঠাতে শুরু করবে। খেয়াযান এন্ডিয়েভারের কমান্ডার মার্ক কেলি ছয়জন নভোচারী নিয়ে এই মিশনে অংশ নেন।

সবচেয়ে বয়স্ক পান্ডার মৃত্যু
তৃণভোজী প্রাণী পান্ডা সাধারণত ১৫ থেকে ২২ বছর বাঁচে। সবচেয়ে বেশি বয়স্ক পান্ডা বাস করত চীনে। চীনের গোয়াংডং প্রদেশের চিড়িয়াখানায় ৩৪ বছর বয়সী মিং মিং নামের পান্ডার বয়স ছিল সবচেয়ে বেশি। কিডনি জটিলতার কারণে মিং মিং ১৭ মে মারা যায়।

নাসার লবণ গবেষণা শুরু
মহাকাশ সংস্থা নাসা চলতি জুন মাসের মধ্যে পৃথিবীর লবণাক্ততা-সংক্রান্ত গবেষণার জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করবে। ৯ জুন ৪২ কোটি ৪০ লাখ ডলার দামের এক্যুয়ারিস/এসএসি-ডি নামের এই কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হবে। পৃথিবী থেকে ৪০৮ মাইল দূরে থেকে এটি সমুদ্রে লবণাক্ততা নিয়ে জলবায়ু গবেষণায় কাজ করবে।

নতুন জীবাশ্ম আবিষ্কার
সম্প্রতি জার্মানিতে আবিষ্কৃত হয়েছে চার কোটি ৭০ লাখ বছরের পুরোনো টিকটিকির জীবাশ্ম। গবেষকেরা এই জীবাশ্মকে পরিবর্তিত বা ট্রানজিশনারি প্রাণী বলে ধারণা করছেন। জীবাশ্মে টিকটিকি ও সাপের বৈশিষ্ট্যের মিশ্রণ আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফসিলবিজ্ঞানী জোহানেস মুলারের নেতৃত্বে কানাডার টরন্টো মিসইসাউগা বিশ্ববিদ্যালয় ও বার্লিন ন্যাচারাল হিস্টোরি মিউজিয়ামের গবেষক দল টিকটিকির এই জীবাশ্ম আবিষ্কার করে। ‘ক্রিপ্টোল্যাসের্টা হ্যাসিয়াকা’ নামের এই জীবাশ্মের দৈর্ঘ্য তিন ইঞ্চির কম। জীবাশ্মটি আবিষ্কৃত হয়েছে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের মেজেল পিট অঞ্চলে।
জাহিদ হোসাইন ও মোস্তাকিম আলী

June 16th, 2011

দিন বদলাবে মোবাইল ও ই-ব্যাংকিং

মোবাইল ও ই-ব্যাংকিং

এখন মানুষের ব্যস্ততার শেষ নেই। কম সময়ে মানুষ সঠিক সেবাটি পেতে চায়। আর এসব ক্ষেত্রে একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে মোবাইল ও ই-ব্যাংকিং, যা দিন বদলাতে সহায়তা করবে। গতকাল বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত তৃতীয় আন্তর্জাতিক ই-ব্যাংকিং ও মোবাইল কমার্স সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন সার্ক আইসিটির সভাপতি শাফকাত হায়দার।

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে বক্তারা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন। এ সময় বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং আমাদের দেশে তথ্যপ্রযুক্তিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর ফলে একদিক থেকে মানুষের যেমন সময় বাঁচবে, তেমনি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ সহজেই মোবাইলের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বিল পরিশোধসহ নানা ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে। এ অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন—বিটিআরসির চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ, আল-ফালাহ্ ব্যাংক লিমিটেডের হেড অব আইটি তসলিমুল হক, বিসিটিও ফোরাম বাংলাদেশের সভাপতি তপন কান্তি সরকার, এয়ারটেল ইন্ডিয়ার হেড অব মোবাইল কমার্স শ্রীরমন জগন্নাথন, পাকিস্তানের এমসিবি ব্যাংকের হেড অব মোবাইল কমার্স কাসিফ শহীদসহ আরও অনেকে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে ই-ব্যাংকিং নিয়ে বক্তারা বলেন, ই-ব্যাংকিং শুধু সময়ই সাশ্রয় করে না, সঙ্গে সঙ্গে অর্থের সঠিক ও নিরাপদ সরবারহ নিশ্চিত করে।

ই-ব্যাংকিংয়ের সুবিধা নিয়ে মানুষ ঘরে বসেই বিভিন্ন লেনদেন করতে পারে। এ ছাড়াও জীবনের বিভিন্ন ধরনের চাহিদা পূরণ করতেও ই-ব্যাংকিং দারুণ সহায়ক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ই-ব্যাংকিং আরও ছড়িয়ে পড়বে বলে বক্তারা মনে করেন। এ অধিবেশনে গ্লোবাল ডেভেলপমেন্টের প্রধান শাহজাদ শহিদ, সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ ইন্ডিয়ার চেক পয়েন্ট সফটওয়্যার টেকনোলজিসের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা পরামর্শক কপিল অবস্থি, জেডআরজি ইন্টারন্যাশনালের হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট আলী শামিম বক্তব্য দেন এবং বাংলাদেশ স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাস্টমার অপারেশনসের প্রধান মনিতুর রহমান সঞ্চালক হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন। —মোছাব্বের হোসেন