Archive for ‘প্রথম পাতা’

December 11th, 2011

বিশ্বব্যাপী খাদ্যের বাম্পার ফলন, দেশে উৎপন্ন ৫ কোটি টন

বন্যা ও বৃষ্টি সত্ত্বেও এশিয়ায় উৎপাদন ভাল
চলতি বছর বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী খাদ্যের বাম্পার ফলনে রেকর্ড সৃষ্টি হবে। ফলে নতুন বছরে খাদ্যের চাহিদা বাড়লেও তা নিয়ে কোন সমস্যা সৃষ্টি হবে না। চাহিদা পূরণ করে খাদ্য মজুদ থাকবে। অতিসম্প্রতি বিশ্ব খাদ্য উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফাও) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
ফাও বিশ্বের প্রতিটি দেশের অর্থবছরের ফলনের ওপর সমীক্ষা করে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে বেশিরভাগ দেশ রেকর্ড সৃষ্টি করলেও ৩৩টি দেশ খাদ্য উৎপাদনে লক্ষমাত্রা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। তাদের খাদ্য সহায়তার দরকার হবে। কিন্তু এশিয়া ও রাশিয়ায় এ বছর খাদ্য উৎপাদন ভাল হয়েছে। ফাওয়ের হিসাবে ২০১১-১২ অর্থবছরে সারা বিশ্বে মোট খাদ্য উৎপাদন হবে ২৩২ কোটি ৩০ লাখ মেট্রিক টন। ২০১০ সালের তুলনায় এ উৎপাদন ৩.৫ শতাংশ বেশি হবে। অন্যদিকে গত ২০১০-১১ অর্থবছরে উৎপাদন হয় ২২৪ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন। চলতি অর্থবছরে উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টির কারণে আগামী বছর খাদ্যের চাহিদা ১.৮ শতাংশ বাড়লেও মেটাতে কোন সমস্যা হবে না। আগামী অর্থবছরে খাদ্যের মোট চাহিদা দাঁড়াবে ২৩১ কোটি মেট্রিক টন। ওই চাহিদা পূরণ করার পরও মজুদ থাকবে ৫১ কোটি ১৩ লাখ মেট্রিক টন। তবে এই খাদ্য ঘিরে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য হবে ২৮ কোটি ৬৮ লাখ মেট্রিক টনের।
প্রবল বন্যার কারণে এ বছর পূর্ব এশিয়াতে ব্যাপক ফসলের ৰতি হয়। বিশেষ করে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশে ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এরপরও পূর্ব এশিয়াতে খাদ্য সংগ্রহ ভাল হয়েছে। তবে পণ্যের উচ্চমূল্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অভ্যন্তরীণ খাদ্য মূল্য বেশি থাকার কারণে ৩৩টি দেশ খাদ্য উৎপাদনে লক্ষমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।
প্রতিবেদনে এশিয়ায় বাংলাদেশ চ্যাপ্টারে খাদ্য উৎপাদনে রেকর্ডের কথা বলা হয় বন্যা ও বৃষ্টির মৌসুম থাকলে ভাল হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে চলতি অর্থবছরে মোট খাদ্য উৎপাদন হবে ৫ কোটি ৪২ লাখ মেট্রিক টন। এরমধ্যে ধান উৎপাদন হবে ৫ কোটি ১৯ লাখ মেট্রিক টন এবং গম উৎপাদন হবে ১১ লাখ মেট্রিক টন। অবশ্য গত অর্থবছরে ধান উৎপাদন দেখানো হয় ৫ কোটি ৩ হাজার টন এবং গম উৎপাদন হয় ১০ লাখ মেট্রিক টন। অমসৃণ মোটা দানাদার খাদ্যের উৎপাদন হবে ১২ লাখ টন। সব মিলে গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ বেশি খাদ্য উৎপাদন হবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
ফাওয়ের পর্যবেৰণে বলা হয়, ২০১১ সালে গম উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এ বছর গম উৎপাদন হবে ৬৯ কোটি ৪৮ লাখ মেট্রিক টন। এই উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ৬.৫ শতাংশ এবং ২০০৯ সালের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। তবে এশিয়া সবচেয়ে বেশি গমের বাম্পার ফলন হয়েছে। এই উৎপাদন ভাল হওয়ার কারণে বিশ্বের অনেক দেশের কৃষক আগামী বছরে গম উৎপাদনে ফের প্রসত্মতি নিচ্ছে। বিশেষ করে আমেরিকা ইতোমধ্যে ২০১২ সালের গম উৎপাদনের পরিকল্পনা ঠিক করেছে। ইউরোপ গম উৎপাদনের লৰ্যমাত্রা বাড়িয়েছে।
তবে বিশ্বব্যাপী চাল উৎপাদন কিছুটা কম হলেও এটি রেকর্ড সৃষ্টি করেছে বলে ফাওয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়। চলতি বছরে চাল উৎপাদন হবে ৪৮ কোটি মেট্রিক টন। এটি অবশ্য গত বছরের তুলনায় দুই লাখ মেট্রিক টন কম। কিন্তু ফাওয়ের পর্যবেৰণে বলা হয়, বন্যা ও বৃষ্টির পরও এই উৎপাদন সবদিক থেকে বাম্পার হয়েছে। তবে পর্যবেৰণে বলা হয় আফ্রিকার সাদ, বুরকেনিয়া, লেসটো, মুরতানিয়া, নায়াগ্রা, সোমালিয়া, জিম্বাবুইয়ে, ইরিতা, লাইবেরিয়া, সিরিয়া লিনো, বুরম্ননদিয়া, সেন্টাল আফ্রিকা, ইথুপিয়া, গুনিয়া, মেলিয়া, মোজাম্বিক, দৰিণ সুদান, আফগানিসত্মান, কম্বোডিয়া, কাজাখসত্মান, পাকিসত্মান, কেনিয়া, সোমালিয়ায় এ বছর খাদ্য উৎপাদন কম হয়েছে।
বাংলাদেশে খাদ্যের ব্যাপারে খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সরকারের হাতে চাল ও গম মিলে এই মুহূর্তে সাড়ে ১৫ লাখ মেট্রিক টন মজুদ আছে। আমদানিকৃত আরও তিন লাখ মেট্রিক টন গম আসছে। এবং আমন দুই লাখ টন হবে। ফলে মোট খাদ্যের মজুদের পরিমাণ ২০ লাখ মেট্রিক টন হবে। এই উৎপাদন ভাল হওয়ার পিছনে কৃষককে কম দামে সার দেয়া এবং সার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে অনেক বেশি চাল উৎপাদন হয়েছে। পর্যাপ্ত চাল থাকায় এ বছর চাল আমদানি করতে হবে না।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ে কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, সরকার কৃষককে ভতর্ুকি দিচ্ছে। বিশেষ করে ভতর্ুকি দেয়ায় কৃষক কম দামে সার পাচ্ছে। সার নিয়ে আগের মতো কোন সমস্যা হচ্ছে না। যে কারণে খাদ্য উৎপাদন ভাল হচ্ছে। এছাড়া এ বছর আউসে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৩৫ কোটি টাকার আউস প্রণোদনা দিয়েছে কৃষককে। এই প্যাকেজের আওতায় সুবিধা পেয়েছে সাড়ে পাঁচ লাখ কৃষক। তাদের প্র্রতিজনকে ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি টিএসপি ১০ কেজি এমওপি বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে। সরকারের লৰ্য এই ভর্তুকি দিয়ে অতিরিক্ত আড়াই লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদন করা হবে।
এছাড়া খাদ্যের উৎপাদন বাড়াতে কৃষি উন্নয়ন কর্পোরশেন ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগকে চারটি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে সারাদেশের জলাবদ্ধ জমিকে চাষের আওতায় আনা, শুষ্ক মৌসুমে ফিতা পাইপের প্রচলন ও ভূপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি, বৃষ্টি ও ভূগর্ভস্থ পানি ধরে রাখতে উত্তরাঞ্চলে ডাগ ওয়েল খননের নির্দেশ প্রদান করেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও খাদ্যের উৎপাদন বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে এসব নির্দেশ দেন।

December 10th, 2011

নকল পাজেরো ॥ মাঠে নেমেছে র্যাব পুলিশ গোয়েন্দারা

ঢাকায় তৈরি সবচেয়ে আধুনিক মডেলের সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় পাজেরো জীপ ব্যবহার করছে সমাজের অনেক প্রভাবশালী। এসব পাজেরোর বিষয়ে জোরালো অনুসন্ধান চলছে। মাহফুজের তৈরি করা কত পাজেরো দেশে চলছে তার তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ভুয়া রেজিস্ট্রেশনসহ পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে মাঠে নেমেছে র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দারা। উদ্ধারকৃত পাজেরোটি মাহফুজের তৈরি করা বলে দাবি করেছেন গাড়িটির যন্ত্রাংশ বিক্রেতা গ্রেফতারকৃত মোটরপার্টস ব্যবসায়ী আজম খান। পাজেরো তৈরির বিষয়ে আরও তথ্য জানতে গ্রেফতারকৃত মাহফুজ ও আজমের ৫ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করে শনিবার সিএমএম আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত শুনানি শেষে রিমান্ড নামঞ্জুর করে আসামিদের জেলহাজতে পাঠায়।
গত ৮ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর পলস্নবী থানার ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ১৭ নম্বর রোডের নিউ এস এস অটোমোবাইলস নামে একটি ওয়ার্কশপে অভিযান চালিয়ে মাহফুজুর রহমানকে (৩২) গ্রেফতার করে র্যাব-৪ এর একটি দল। পরে মাহফুজুর রহমানের তথ্যমতে চট্টগ্রাম থেকে র্যাব-৪ এর অপর একটি দল মোহাম্মদ আজম খানকে (৫৭) গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রাজধানীর পলস্নবী থানায় একটি চুরির মামলা হয়েছে। মাহফুজের তৈরি করা কত পাজেরো অবৈধভাবে চলছে তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব গাড়ির ক্রেতা ও ব্যবহারকারীদের বিষয়ে জানতে অনুসন্ধান চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার সেকেন্ড অফিসার ফিরোজ হোসেন মোল্লা জনকন্ঠকে জানান, মাহফুজের পিতার নাম সেকান্দর আলী। মাহফুজ রাজধানীর পল্লবী থানাধীন ১২ নম্বর সেকশনের ঘ ব্লকের ৩৪০ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা। তাঁর শিৰাগত যোগ্যতা সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা যায়নি। পল্লবী থানাধীন ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ১৭ নম্বর রোডের নিউ এস এস অটোমোবাইলস নামের ওয়ার্কশপ থেকে মাহফুজকে গ্রেফতার করা হয়। ওয়ার্কশপটি মাহফুজের। প্রায় ১০ বছর ধরে গাড়ির যন্ত্রাংশ কিনে পাজেরো তৈরি করে আসছিলেন। পাজেরো গাড়ি সমাজের প্রভাবশালীরা ব্যবহার করে থাকেন। এসব গাড়ি সাধারণত চেক করা হয় না। এমন চিনত্মা থেকেই মাহফুজ জাপানী যন্ত্রাংশ কিনে পাজেরো উৎপাদন করে আসছিলেন।
তবে মাহফুজ তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার কাছে দাবি করেছেন, আজম খানের কাছ থেকে তিনি উদ্ধারকৃত পাজেরো গাড়িটি সাড়ে ২৮ লাখ টাকায় কিনেছেন।
আজম খানের দাবি, তিনি মাহফুজের কাছে গাড়ি বিক্রি করেননি। তিনি গাড়ি বিক্রির ব্যবসা করেন না। গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রি করেন। দীর্ঘদিন ধরে মাহফুজের কাছে পাজেরোসহ বিভিন্ন দামি গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রি করে আসছিলেন। বিক্রীত যন্ত্রাংশ দিয়েই উদ্ধারকৃত পাজেরো গাড়িটি তৈরি করা। যন্ত্রাংশ কেনার সূত্রধরেই মাহফুজের সঙ্গে তার পরিচয়।
আজম খানের পিতার নাম আব্দুল গফুর। তিনি চট্টগ্রাম জেলার দেওয়ানহাটের শেখ মুজিব রোডের ৯৩৭ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা। র্যাব কর্মকর্তা মেজর সাখাওয়াত আলী জনকন্ঠকে জানান, একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় পাজেরো জীপ তৈরির জন্য প্রায় ১৮ লাখ টাকার যন্ত্রাংশ লাগে।

December 10th, 2011

যুদ্ধাপরাধী বিচার যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে :: ‘আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী ॥ কেউ আইনের উর্ধে নয় ॥ বেগম জিয়ার দুই পুত্র এ্যাঞ্জেল নয়’

স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তাদের মন্তব্য
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, বেগম জিয়ার দুই পুত্রকে তাঁরা এ্যাঞ্জেল দেবদূত মনে করেন না এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই তাঁদের এই অভিমত। তাঁরা উল্লেখ করেন, সম্প্রতি বেগম জিয়ার পুত্রের বিরুদ্ধে এফবিআই এজেন্টের সাৰ্য প্রদান এবং সাৰ্য সম্পর্কে বিএনপির দেয়া বক্তব্য আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। যুক্তরাষ্ট্র আইনের শাসনে বিশ্বাসী। সেই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধের বিচারকে সমর্থন করে। কেউই আইনের উর্ধে নয়।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) কর্মকর্তারা বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে। সেই কারণেই আগামী বছরের কোন এক সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বাংলাদেশ সফর করতে পারেন।
গত বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের এক প্রতিনিধি দল স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে গেলে তাঁরা উপরক্ত মনত্মব্য করেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এই কর্মকর্তারা হচ্ছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের বাংলাদেশ বিষয়ক কর্মকর্তা এ্যান্থনী ডিন ট্রানচিলা ও আরবি শ্রফ ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ড. শাহজাহান মাহমুদ। প্রতিনিধি দলে ছিলেন ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগ নেতা রফিক পারভেজ, মাহমুদুন নবী বাকী, আলমগীর সোহেল, মইনুল ইসলাম তাপস ও লেখক শিব্বীর আহমেদ।
বৈঠকে ড. শাহজাহান মাহমুদ বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের গত তিন বছরের সাফল্যসহ জঙ্গীবাদ দমন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি দমন, শিক্ষা, মানব অধিকার, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, সংসদকে সকল রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত তুলে ধরেন। এ ছাড়াও বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক মূলনীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব’ অনুসারে পার্শবর্তী দেশ ভারত, মিয়ানমারসহ সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সমপর্ক তৈরি করে চলেছে বলে স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করেন।
বৈঠকে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে কথা বলেন ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুন নবী বাকী ও রফিক পারভেজ। টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তাদের এক প্রশ্নের জবাবে নেতৃবন্দ বলেন, ১৯৭০ সালে টিপাইমুখ বাঁধের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার কখনই টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অথচ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর বন্দুকের নলে দেশবিরোধী শক্তিকে হাত করে বিএনপি গঠন বিএনপি সবচাইতে বেশি সময় ক্ষমতায় থেকেও কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পরপরই উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম টিপাইমুখ পরিদর্শনে পাঠায়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় এই বিষয়ে ড. মনমোহন সিংয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বারবার বাংলাদেশের কোন ক্ষতি হবে এমন কিছু ভারত করবে না বলে আশ্বাস দেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, কিছুদিন আগে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে ভারত সরকার একটি চুক্তি স্বাক্ষরের খবর মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চুক্তি সমপর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য তাঁর দুই উপদেষ্টাকে তাৎক্ষণিকভাবে ভারতে পাঠান। ভারতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে ভারত সরকার আবারো বাংলাদেশের কোন ক্ষতি হয় এমন কিছু ভারত করবে না বলে আশ্বাস দেন।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা এ্যান্থনি ডিন ট্রানচিনা ও আরতি শ্রফকে আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর সোহেল ও মইনুল ইসলাম তাপস জানান, টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে সরকার নীরব নেই।
বৈঠকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তা এ্যান্থনি ডিন ট্রানচিনা ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ভাগ সমপর্কে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সংসদকে কার্যকর করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই দেশের সকল সিদ্ধানত্মের মালিক। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ভাগ বর্তমান সরকার সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের কন্ঠভোটে পাস করেছে। বিএনপি এই ডিসিসি ভাগকে ‘ঢাকা ভাগ’ নামে জনগণের সঙ্গে মিথ্যাচার করছে। তিনি বলেন, ঢাকা ভাগ যদি বিএনপি না চাইত তাহলে তারা সংসদে এসে তা নিয়ে আলাপ আলোচনা করতে পারত। কিন্তু তারা তা না করে জনগণকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রানত্ম করার চেষ্টা করছে।
ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যেই দেশে বিদু্যত সমস্যা সমাধানের পথে। জনজীবনে স্বসত্মি এসেছে। নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম শুরম্ন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়েছে। সরকার জনগণের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করার চেষ্টা করছে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণে বিভক্ত করে জনগণের সেবা বৃদ্ধি করা হবে। একটি সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এক কোটিরও বেশি মানুষকে সেবা দেয়া সম্ভব নয়। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার জনগণকে সেবা প্রদানের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তাদেরকে ড. শাহজাহান মাহমুদ আরও জানান, বর্তমান সরকার খুব শীঘ্রই পরীক্ষামূলকভাবে নগর সরকার ব্যবস্থা চালু করছে কুমিলস্নায় ও রংপুরে এবং এই পদ্ধতি সফল হলে তা পর্যায়ক্রমে দেশের সব সিটি কর্পোরেশনে চালু করা হবে।
বৈঠকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তাদের কােেছ সন্ত্রাসবাদ জঙ্গীবাদ দমনে বর্তমান সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন লেখক সাংবাদিক শিব্বীর আহমেদ। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বর্তমান সরকার জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস কঠোর হসত্মে দমন করে চলেছে। তিনি বলেন, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যনত্ম বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে বাংলাদেশ হয়ে যায় সন্ত্রাসী আর জঙ্গীবাদের স্বর্গরাজ্য। ২০০১ সালের পহেলা আগস্টে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট জয়লাভ করার সঙ্গে সঙ্গে সারাদেশে মৌলবাদী আর জঙ্গীবাদের উন্মাদনায় মেতে ওঠে।
বৈঠকে শিব্বীর আহমেদ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের জঙ্গীবাদ সন্ত্রাসবাদের একটি বিবরণ স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তাদের হাতে দিয়ে বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতৃত্বাধীন সরকারের ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মেয়াদে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ১৯বার হামলা চালায়। তথ্যমতে ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে প্রায় ২১ হাজার বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। গ্রামের গ্রাম খালি করে ফেলা হয় রাতের অন্ধকারে। জ্বালিয়ে দেয়া হয় বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদ জঙ্গীবাদের কথা শুনে স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা এ্যান্থনি ডিন ট্রানচিনা জানান শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের সন্ত্রাসবাদ দমনে সফলতা যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তে দেখছে। এই ব্যাপারে বর্তমান সরকারকে এ পস্নাস পস্নাস মার্ক দিয়ে সরকারকে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে সকল সহায়তা প্রদানের অশ্বাস প্রদান করেন।
বৈঠকে ড. শাহজাহান মাহমুদ বর্তমান বিরোধী দল বিএনপির সকল কার্যক্রমকে যুদ্ধাপরাধের বিচারে বাধা প্রদান এবং বেগম জিয়ার দুই দুর্নীতিবাজ দুই পুত্রকে রক্ষা করার মিশন হিসেবে উলেস্নখ করে বলেন, বিএনপি সকল আন্দোলন সংগ্রাম এখন শুধু যুদ্ধাপরাধী আর বেগম জিয়ার দুই দুর্নীতিবাজ দুই পুত্রকে রক্ষা করার জন্য পরিচালিত হচ্ছে। তাদের আর অন্য কোন মিশন নেই। দেশের কথা তারা ভাবে না। জনগণের কথাও তারা চিনত্মা করে না। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধের জন্য ওয়াশিংটনে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার করে এনে লবিস্ট নিয়োগ করেছে। কিন্তু নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধসহ সকল অপরাধীকে বিচারের সম্মুখীন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জনগণের সরকার এবং জনগণের সমস্যা সমাধানে সরকার সবকিছুই করে যাচ্ছে।
বৈঠকে বেগম জিয়ার দুর্নীতিবাজ দুই পুত্র সমপর্কে ড. শাহজাহান মাহমুদের এক প্রশ্নের জবাবে স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা জানান, বিএনপি নেতৃবৃন্দ আমাদের কাছে এসে বেগম জিয়ার দুই পুত্রকে এ্যাঞ্জেল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও বিভিন্ন তথ্যউপাত্তের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র তা মনে করে না। সম্প্রতি বেগম জিয়ার পুত্রের বিরম্নদ্ধে এফবিআই এজেন্টের সাক্ষ্য প্রদান এবং সাক্ষ্য সমপর্কে বিএনপির দেয়া বক্তব্য আমার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। যুক্তরাষ্ট্র আইনের শাসনে বিশ্বাসী। সেই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধের বিচারকে সমর্থন করে। কেউই আইনের উর্ধে নয়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তারা বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে এবং সেই কারণেই আগামী বছরের কোন এক সময়ে সেক্রেটারি অব স্টেট হিলারি ক্লিনটন বাংলাদেশ সফর করতে পারেন। তবে বর্তমান সরকারকে গণতন্ত্রের উন্নয়ন ও মানবাধিকারের বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।

December 6th, 2011

প্রিজন সেলে রুমানার স্বামীর রহস্যঘেরা মৃত্যু

কারা কর্তৃপক্ষ বলেছে, হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুমানা মনজুরের স্বামী হাসান সাঈদের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোর ৫টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে তাকে মৃত অবস্থায় পায় কারারক্ষীরা। গত ২৩ নভেম্বর চোখের চিকিত্সার জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে নেয়া হয়। এর আগে স্ত্রীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগে গত ১৫ জুন রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করে। হাসান সাঈদের মৃত্যুতে তার পরিবার হত্যা বলে অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে এ ঘটনায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুব ইসলাম বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। তবে হাসান সাঈদের সুরতহাল রিপোর্টে তার দুই হাতের কনুইয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সোমবার বিকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলের দোতলার কক্ষে রাখা হয় হাসান সাঈদকে। একই কক্ষে বিজিবি বিদ্রোহের মামলার আসামি ইউসুফকেও চিকিত্সার জন্য রাখা হয়। চার তলা ভবনে প্রিজন সেলের নিরাপত্তার জন্য একজন হাবিলদারের নেতৃত্বে ১১ জন কারারক্ষী ও ৪ জন পুলিশ দায়িত্ব পালন করেন। কারারক্ষী তাহের জানান, সোমবার ভোর ৫টার দিকে তিনি নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় দেখতে পান যে, প্রিজন সেলের বাথ রুমের বাতি জ্বালানো। বাথ রুমের পানির ট্যাপ থেকে অনবরত পানি পড়ে যাওয়া শব্দ পাচ্ছিলেন। তিনি বাথ রুমের দরজা ঠেলতেই দেখতে পান যে, ভিতর থেকে ছিটকিনি দেয়া। বাথ রুমের দরজার পাশে একটি ছিদ্র আছে যেখান থেকে ছিটকিনি খোলা যায়। তিনি ছিটকিনি খুলে দরজা ঠেলতেই দেখতে পান হাসান সাঈদ বাথ রুমের মেঝেতে পড়ে আছে। পরে বিষয়টি অন্যান্য কারারক্ষীকে জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কারারক্ষী জানান, হাসান সাঈদকে উদ্ধার করার সময় তার মুখ কাপড় দিয়ে প্যাঁচানো ছিল।

অন্যদিকে, সাঈদের ছোট ভাই ফারুক সাঈদ বলেন, গত শনিবার প্রিজন সেলে তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ঐ সময় তাকে বেশ ফুরফুরে দেখাচ্ছিল। সোমবার সকালে জেল সুপার মাহবুব ইসলাম মোবাইল ফোনে তার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর দেন। জেলসুপার তাকে আরো জানায় যে, সাঈদের লাশ কম্বল মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। ফারুক সাঈদ জানান, হাসান সাঈদের চোখে ছাড়া অন্য কোনো সমস্যা ছিল না। চোখের সমস্যার জন্য গত ২৩ নভেম্বর তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে, হাসান সাঈদের মৃত্যুর পর বেলা ১২টার দিকে শাহবাগ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। জেলার মাহবুব আলম বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, হাসান সাঈদ হূদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।

বেলা ১টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ম্যাজিস্ট্রেট শামীমা খন্দকার প্রিজন সেলে গিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট করেন। প্রায় ঘণ্টাকালীন সময়ে এ রিপোর্ট তৈরির পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে এটাকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার দুই হাতে শিকল ও রশির দাগ রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে শামীমা বলেন, ময়না তদন্তের পর জানা যাবে এটি আত্মহত্যা, হত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু।

অন্যদিকে, বিকাল ৩টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. আখম শফিউজ্জামান মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। তিনি জানান, তার মৃত্যু কী কারণে হয়েছে তা নিশ্চিত করে এখনো বলা যাচ্ছে না। নিশ্চিত হওয়ার জন্য রাসায়নিক পরীক্ষা করতে ভিসেরা মহাখালীতে পাঠানো হয়েছে। হার্ট পরীক্ষা করা হবে হিস্টোপ্যাথলজি বিভাগে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক জামালউদ্দিন খলিফা বলেন, চোখের চিকিত্সার জন্য সাঈদ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। হাসপাতাল শুধু ওষুধ সরবরাহ করেছে। সব দেখাশুনা করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। হাসান সাঈদ চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. শফিকুল ইসলামের অধীনে ভর্তি হন। তার চিকিত্সা তত্ত্বাবধান করেন ডা. পল্লব কুমার সেন।

এদিকে সাঈদের পরিবার এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছেন। সাঈদের বাবা সাঈদ আহমেদ কবীর বলেন, প্রিজন সেলের ভিতর বিছানার উপর তিনি তার ছেলের মৃতদেহ দেখেছেন। তাছাড়া হাতা-পা বাঁধা থাকলেও তারা (সেল কর্তৃপক্ষ) তাকে বলবে না।

তার ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী মিডিয়া। রুমানা মনজুরের সব কিছু ঠিক আছে। এখনো সে সব দেখতে পায়; কিন্তু মিডিয়ার সামনে আসলে সে চোখে কালো চশমা দিয়ে আসে। তিনি আরো বলেন, রুমানা, মিডিয়া ও কতিপয় নারী নেত্রীর জন্যই তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রুমানা মনজুরকে নির্যাতনের ঘটনায় তার স্বামী হাসান সাইদকে গত ১৫ জুন রাজধানীর উত্তর মুগদার এক আত্মীয়র বাসা থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এর আগে গত ৫ জুন ধানমণ্ডির বাসায় স্বামী হাসান সাঈদের নির্যাতনের শিকার হন রুমানা। সাঈদের নির্যাতনে রুমানার দুটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। ঘটনার পরদিন রুমানার বাবা মঞ্জুর হোসেন ধানমণ্ডি থানায় হাসান সাঈদকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

December 5th, 2011

গোলাম আযম গ্রেফতার হচ্ছে ১৬ ডিসেম্বর!

যুদ্ধাপরাধীর বিচার
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অধ্যাপক গোলাম আযমকে অতিশীঘ্র গ্রেফতার করা হচ্ছে। এটি হবে সরকার ও ট্রাইব্যুনালের ৪০তম বিজয় দিবসের উপহার। অন্যদিকে গ্রেফতারকৃত বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর দুটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সাকার নতুন ছয়টি আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ১২ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। অপরদিকে জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ অন্য চারজনের ফরমাল চার্জ ১১ ডিসেম্বর দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। সোমবার চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ নিজামুল হকের সমন্বয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দিয়েছে।
বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর দু’টি আবেদনের মধ্যে একটি আবেদনে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ আমলে নেয়ার আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন জানান। তিনি বলেছিলেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে অপরাধ আমলে নেয়ায় বিধি ভঙ্গ করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এ আবেদনের আদেশে জানায়, বিধিমালা ২১(১) অনুসারে অপরাধ আমলে নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আসামিকে সশরীরে উপস্থিত করার কোন নির্দেশনা নেই। এ জন্য বিধি ভঙ্গের কোন ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিতের আবেদনের আদেশে ট্রাইব্যুনাল জানায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন ১৯৭৩ অনুসারে ট্রাইব্যুনালের বিধি তৈরির ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালের নিজের ওপর রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোন বিধি ভঙ্গ হয়নি। আদেশে আরও বলা হয়, হাইকোর্ট বিভাগের দু’জন বিচারপতি এই ট্রাইব্যুনালে কার্যক্রম চালাতে পারেন কি না, সেটি একটি সাংবিধানিক বিষয়। এটি নিষ্পত্তি করার ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালের নেই। এ ছাড়া আসামি আরও কয়েকটি যুক্তি উপস্থাপন করলেও সেগুলো এই ট্রাইব্যুনালে উত্থাপনযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনাল। এসব যুক্তির ভিত্তিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা স্থগিত করার আবেদন খারিজ করা হয়।
এদিকে সোমবার ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের শুরুতেই সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী নতুন ছয়টি আবেদন করেন । এ গুলো হলো, (১) তাঁর পৰের পিটিশনের প্রস্তুতির জন্য ১১ মাস সময় দিতে হবে। (২) বিদেশী আইনজীবীদের আসার অনুমতি দিতে হবে। (৩) অপরাধগুলো ডিভাইন করতে হবে। (৪) ফৌজদারী কার্যবিধি এবং সাৰ্য আইনের প্রকৃতি নিধারণ করতে হবে। (৫) আন্তজার্তিক আইনের প্রয়োগ করতে হবে। (৬) বিচারকাজ সরাসরি ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে সম্প্রচার করতে হবে। এই আবেদনগুলোর ওপর শুনানি হবে ১২ ডিসেম্বর।
নিজামীসহ অন্যরা ॥ এদিকে জামায়াতে ইসলামীর চার নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোলস্নার বিরম্নদ্ধে ১১ ডিসেম্বর ফরমাল চার্জ দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আনত্মর্জতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনাল। সোমবার চীফ প্রসিকিউটর বলেন, এখনও কিছু কাজ বাকি আছে। চীফ প্রসিকিউটরের আবেদনে ট্রাইবু্যনাল ফরমাল চার্জ দাখিলের পরবর্তী দিন নির্ধারণ করে। জামায়াতের ঐ চার নেতা আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারম্নজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোলস্নাকে সোমবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
গোলাম আযম ॥ জামায়াতের ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম যে কোন সময় গ্রেফতার হতে পারেন। ট্রাইবু্যনাল সূত্রে জানা গেছে, বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে। গত বছরের বিজয় দিবসে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এদিকে প্রসিকিউটর গালাম আরিফ টিপু জনকণ্ঠকে বলেছেন, একটু ধৈর্য ধরম্নন। সুখবর অপেৰা করছে। এ ছাড়া আনুষঙ্গিক কাগজপত্রসহ ৪ হাজার পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট রয়েছে।

December 2nd, 2011

এবার সাগরিকার সৌভাগ্যে যদি কিছু হয়!

টাইগারদের সৌভাগ্যের প্রতীক সাগরিকায় আবারও বসতে যাচ্ছে ক্রিকেটের আসর। পাকিসত্মানের সঙ্গে সিরিজের একটি ওয়ানডে ও টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে জহুর আহমদ চৌধুরী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে। শনিবার সিরিজের শেষ ও তৃতীয় ওয়ানডের পর প্রথম টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে এ মাঠে। সাগরিকাকে নিয়ে টাইগার সমর্থকদের গর্ব বরাবরই। বিশেষ করে দলপতি মুশফিকের লাকি একটি গ্রাউন্ড। তাই ওয়ানডেতে না হোক টেস্ট সিরিজে পাকিসত্মানের বিরম্নদ্ধে সৌভাগ্যের কিছু একটা পাওয়ার আশা করছে এখানকার সমর্থকরা। ইতোমধ্যে ওয়ানডে দেখার জন্য বিপুলসংখ্যক উৎসুক দর্শকের ভিড় শুরম্ন হয়ে গেছে স্টেডিয়াম পাড়ায়। টিকেটের জন্য নানাভাবে ধরনা দেয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সাগরিকায় জাতীয় ক্রিকেট লীগের বরিশাল-সিলেট ম্যাচ শেষ হওয়ার পর শুরম্ন হয়েছে মাঠ ও উইকেটের পরিচর্যা। আগামী মঙ্গলবার এখানে সিরিজের শেষ ও চট্টগ্রামের একমাত্র ওয়ানডে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। এর আগেই মিরপুরে তৃতীয় ওয়ানডে খেলে রবিবার পেঁৗছে যাবে দুদল। সোমবার অনুশীলন পর্ব থাকছে সাগরিকায়। ওয়ানডের সিরিজের ভাগ্য এর আগেই নিষ্পত্তি হয়ে যেতে পারে। আর যদি টাইগাররা সমতা নিয়ে আসতে পারে শেষ ওয়ানডেতে চট্টগ্রামই হতে পারে সিরিজের ভাগ্য নির্ধারক। তাই এখানকার দর্শকরা শেষ ওয়ানডে নিয়ে এখন থেকেই আগ্রহের সঙ্গে তাকিয়ে আছে। বিশেষ করে গেল বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডকে পরাজয়ের পর সাগরিকার সুনাম উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। টাইগারদের জন্য সৌভাগ্যের এ মাঠটি মাত্র একমাস আগে শেষ হওয়া ক্যারিবীয়দের সিরিজে আবারও প্রমাণ মিলেছে। বিশ্বকাপে এ ক্যারিবীয়দের বিরম্নদ্ধে ঢাকায় ৫৮ রানের অলআউট হওয়ার জ্বালা ৬২-তে চট্টগ্রামে মিটেছে। তাই চট্টগ্রামকে নিয়ে এখন টাইগার ভক্তদের দারম্নণ আগ্রহ। ‘৯৯ সালের পর পাকিসত্মানের বিরম্নদ্ধে জয় মেলেনি। চট্টগ্রামে সৌভাগ্যের মাঠে সে সুযোগের অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছে এখানকার ভক্তরা। এদিকে, সাগরিকার মাঠের পরিচর্যা নতুন করে শুরম্ন হয়েছে। ক্যারিবীয়দের সঙ্গে শেষ টেস্টে তিন দিন বৃষ্টির বাগড়ায় আউট ফিল্ডের উলেস্নখযোগ্য ক্ষতি হয়েছিল। সে বৃষ্টির পর নতুন করে আর বর্ষণ হয়নি। বিসিবিও জানিয়ে দিয়েছিল বর্ষণের উপর নির্ভর করছে পাকিসত্মান টু্যরের চট্টগ্রাম ভেনু্যর ভাগ্য। অবশ্য আবহাওয়া আর কোনভাবে বদলায়নি। বৃষ্টিও হয়নি। তাই আউটফিল্ডের নতুন কোন ক্ষতি হয়নি। বৃষ্টি না থাকায় পানি নিষ্কাশনের যন্ত্রণাও এখন আর নেই। শুধু সমস্যা আর্দ্রতা। কুয়াশার প্রাদুর্ভাব কিছুটা ভোগাতে পারে। সকালে সঁ্যাতসেঁতে ভাব এবং কুয়াশার কারণে ম্যাচে হয়ত টসের ভাগ্যই অন্যতম হয়ে উঠতে পারে। সাগরিকার আয়োজকরা জানিয়েছেন, ঢাকার মতো একঘেয়েমি উইকেট নয়, একটি স্পোর্টিং উইকেটই উপহার দেয়া হবে দু’দলকে। যে উইকেটে ব্যাটসম্যানদের বেশি কষ্ট না হলেও ধৈর্যের পরীক্ষায় পড়তে হবে।

November 29th, 2011

‘ব্যবহারকারীর তথ্য বিক্রি করেছে ফেসবুক’

যোগাযোগের জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে তার ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করার এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
যেভাবে ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্যে আড়ি পাতে এবং তা সংগ্রহ করে; সে পথ বন্ধে ইউরোপিয়ান কমিশন কাজ শুরু করেছে।
ইউরোপিয়ান কমিশনের বরাতে সানডে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেসবুক তাদের ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে তা বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে বিক্রি করছে। বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে বিক্রি করা তথ্যের মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশ্বাস, যৌনতা এবং অন্যান্য তথ্য। ফেসবুকের এ তথ্য পাচার প্রক্রিয়া বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে ইউরোপিয়ান কমিশন।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অত্যাধুনিক সফটওয়্যার ব্যবহার করে ফেসবুক তাদের ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছে। এমনকি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সেটিংস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তা বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে তা সরবরাহ করছে ফেসবুক।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপিয়ান কমিশন ফেসবুকের এ ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এর ফলে ব্যবহারকারীর অনুমোদন ছাড়া ফেসবুকে কোনো বিজ্ঞাপন থাকবে না।
ইউরোপিয়ান কমিশনের এ নতুন বিধান মানতে ব্যর্থ হলে ফেসবুককে আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।
ইউরোপিয়ান কমিশনের উপ-প্রেসিডেন্ট ভিভিয়ান রেডিং বলেছেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের প্রতি অধিক স্বচ্ছতা আহ্বান জানাচ্ছি। তা কীভাবে পরিচালিত হয়, ব্যবহারকারীর কী কী তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য ব্যবহারকারীর জানার অধিকার রয়েছে।
তবে কারও কাছে ব্যবহারকারীর তথ্য সরবরাহ বা বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছে ফেসবুক।

November 28th, 2011

মন্ত্রী হলেন সুরঞ্জিত, ও. কাদের ::: পূর্ণ মন্ত্রী পদে হাছান মাহমুদ

সকল জল্পনা-কল্পনা ও গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভার কলেবর বৃদ্ধি হলো। তৃতীয় দফা সম্প্রসারণে এবার দু’জন নতুন মুখ পূর্ণমন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন। নতুন মন্ত্রী হয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং সভাপতিম-লীর সদস্য ওবায়দুল কাদের। প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। স্বাধীনতার পর থেকে অধিকাংশ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এই প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হলেন। এতে মহাজোট সরকারের বর্তমান মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা দাঁড়াল ৪৫ জন। সোমবার রাত সোয়া ৮টায় বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রীদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান। ১০ মিনিটের এ শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসেন ভূইয়া। অনাড়ম্বর এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি ছিলেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান।
নতুন দুই মন্ত্রী সাধারণ গাড়ি নিয়ে বঙ্গভবনে গেলেও শপথগ্রহণ শেষে বঙ্গভবন থেকে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে তাঁরা নিজ নিজ বাসায় ফেরেন। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নতুন দুই মন্ত্রীর দফতর ভাগ করে দেয়া না হলেও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ওবায়দুল কাদের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। নতুন দুই মন্ত্রী আজ সকালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
শপথগ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মন্ত্রিসভায় রদবদল একটি স্বাভাবিক ঘটনা। তিন বছর হয়ে গেল। ভাবছিলাম কিছুটা রদবদল করব। কিন্তু তা হয়ে ওঠেনি। এখন দুজন নতুন মন্ত্রী এবং একজন পদোন্নতি পেয়েছেন। গত তিন বছরে বর্তমান মন্ত্রিসভার কার্যক্রমে তিনি সনত্মোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘চোখ থাকতেও যারা অন্ধ’ তারা কখনও সরকারের সফলতা দেখে না।
জীবনের প্রথম মন্ত্রী হিসাবে শপথগ্রহণের পর প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রাজনীতি কোন আঞ্জুমানে মফিদুল কিংবা রামকৃষ্ণ মিশন নয়_ রাজনীতিবিদদের বিভিন্ন মিশন-ভিশন থাকে। পরবর্তীতে ৰমতায় যাওয়ার জন্য কাজ করার বিষয় থাকে। তিনি বলেন, মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছি। সততা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব।
পদোন্নতি পাওয়া মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, প্রতিমন্ত্রী হিসাবে যে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম, পূর্ণমন্ত্রী হওয়ার পর সেই কাজের ৰেত্র আরও প্রশসত্ম হলো।
গত কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদল আসছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ ব্যাপারে বারংবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হলেও কৌশলে তা এড়িয়ে যান। সর্বশেষ কয়েক মন্ত্রীর বিরম্নদ্ধে নানা অভিযোগ, ব্যর্থতা, এমনকি দুনর্ীতির পরোৰ অভিযোগ আসার পর মন্ত্রিসভার রদবদলের বিষয়টি বাসত্মবে রূপ নেয়।
রাজনৈতিক মহলে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে বেশ ক’দিন ধরেই আলোচনা চলছিল, গত প্রায় তিন বছরে মন্ত্রীরা তেমন কোন চমক দেখাতে না পারায় কপাল খুলছে দলটির মন্ত্রী ও দলের গুরম্নত্বপূর্ণ পদ থেকে বাদ পড়া সিনিয়র নেতাদের। সোমবার মন্ত্রিসভার রদবদলের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হয়। তবে সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক ইঙ্গিত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে জরম্নরী ভিত্তিতে তাঁকে দেশে ডেকে আনার পর মন্ত্রিপরিষদের রদবদলের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
দলের একাধিক সূত্র জানায়, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও ওবায়দুল কাদেরের কপাল খুললেও সাইডলাইনে থাকা অপর শীর্ষ নেতা আমির হোসেন আমু, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, আবদুল জলিলদের কী হবে_ এ নিয়েও দলের মধ্যে জোর আলোচনা চলছে। সেৰেত্রে অন্য তিন জনের ব্যাপারে দলের হাইকমান্ড এখনও কঠোর অবস্থানে থাকলেও তোফায়েল আহমেদ বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গুডবুকে’ রয়েছেন। দিনভর গুঞ্জন ছিল সুরঞ্জিত ও ওবায়দুল কাদেরের পাশাপাশি তোফায়েল আহমদও শপথ নিচ্ছেন। কিন্তু শেষ পর্যনত্ম তা হয়নি।
অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, এবার মন্ত্রিসভায় সামান্য রদবদল হলেও শীঘ্রই আরেকটি রদবদলের ঘটনা ঘটবে। এবার কোন মন্ত্রীকে বাদ দেয়া না হলেও সামগ্রিক মূল্যায়নে পরবতর্ী রদবদলে কপাল পুড়তে পারে মন্ত্রিসভার বেশ কয়েক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর। নতুন করে শপথ নিতে পারেন দলের সিনিয়র আরও দু’তিন নেতা।
এছাড়া মন্ত্রিসভায় স্থান না হলেও আগামী জুন মাসে আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় কাউন্সিলে দূরে ঠেলে দেয়া এ সিনিয়র নেতাদের আবারও দলের গুরম্নত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করে তাঁদের কাছে টানবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগে কিছু দূরে থাকলেও সম্প্রতি দলের যে কোন গুরম্নত্বপূর্ণ কর্মসূচীতে দলের সিনিয়র নেতারা এখন থাকছেন সামনের সারিতে।
২ বছর ১১ মাসে ৩ বার মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর মন্ত্রিসভা তিনবার সম্প্রসারিত করা হয়েছে। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের ৩২ সদস্যের মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। এরপর মাত্র ১৮ দিনের মাথায় ২৪ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায় প্রথম দফা সম্প্রসারণ করা হয়। এ সময় আরও ৬ জন শপথ নিলে মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়ায় ৩৮ জনে। দ্বিতীয় দফায় আরও ৬ জন শপথ নেয়ায় মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৪ জনে। কিন্তু স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজীম আহমেদ সোহেল তাজ পদত্যাগ করার পর মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৩ জনে। সোমবারে আরও দুইজন শপথ নেয়ার এ সংখ্যা ৪৫-এ উন্নীত হলো। আর প্রধানমন্ত্রী ৭ উপদেষ্টাকে নিয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে। মহাজোট সরকারের নতুন তিন মন্ত্রী এ্যাডভোকেট সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সুনামগঞ্জ-২ আসন থেকে এবং ওবায়দুল কাদের নোয়াখালী-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এছাড়া মোহাম্মদ হাছান চট্ট্গ্রাম-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হন।
সরকারের বর্তমান মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা বর্তমান হাসিনা সরকারে পূর্ণমন্ত্রীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতারা হলেন মতিয়া চৌধুরী, আবুল মাল আবদুল মুহিত, একে খন্দকার, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, শফিক আহমেদ, রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, সাহারা খাতুন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, খোন্দকার মোশাররফ হোসেন, রেজাউল করিম হীরা, আবুল কালাম আজাদ, আফম রম্নহুল হক, দীপু মনি, আফছারম্নল আমীন, আব্দুর রাজ্জাক, এনামুল হক মোসত্মফা শহীদ, নূরম্নল ইসলাম নাহিদ, আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, সৈয়দ আবুল হোসেন, ফারম্নক খান ও রমেশচন্দ্র সেন। মন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন জাতীয় পার্টির নেতা জিএম কাদের ও সাম্যবাদী দলের নেতা দিলীপ বড়ুয়া।
প্রতিমন্ত্রীরা হলেন শামসুল হক টুকু, আব্দুল মান্নান খান, মোঃ মোতাহার হোসেন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোঃ কামরম্নল ইসলাম, মোঃ শাহজাহান মিয়া, মাহবুবুর রহমান, মুস্তাফিজার রহমান ফিজার, দীপঙ্কর তালুকদার, এবি তাজুল ইসলাম, মুন্নুজান সুফিয়ান, আহাদ আলী সরকার ও ইয়াফেস ওসমান।
মহাজোট সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আওয়ামী লীগের বাঘা অনেক নেতাকে বাদ দিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। শুরুতে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন বর্ষীয়ান নেতা আমির হোসেন আমু, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, তোফায়েল আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল জলিল, ওবায়দুল কাদেরসহ অনেকে। তখন বলা হয়, ওয়ান ইলেভেনের পর নানাবিধ ভূমিকা থাকায় আওয়ামী লীগের অনেক বাঘা নেতাদের স্থান হয়নি মন্ত্রিসভায়। অবশেষে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং ওবায়দুল কাদের মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেও অপেৰার পালা বাড়ল বাকিদের।
বিএনপি নেতাদের প্রতিক্রিয়া ॥ মন্ত্রিসভায় নতুন দুজন মন্ত্রী যোগ হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন তাৎৰণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, নতুন মন্ত্রী নিয়োগ করা একেবারেই সরকারের নিজস্ব ব্যাপার। বিষয়টি সম্পূর্ণই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। এ বিষয় নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে কোন প্রতিক্রিয়া দেব না। তবে দলের পৰ থেকে রাজনৈতিক কোন প্রতিক্রিয়া যদি দেয়া হয় তা দেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর। একই বিষয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম বলেন, বর্তমান সরকার এখন ডুবনত্ম নৌকা। মাঝি পরিবর্তন করে এ নৌকাকে বাঁচানো যাবে না। জনগণ এখন চায় এ সরকার পদত্যাগ করে নির্বাচন দিক। ব্যক্তিকে খুশি করার জন্য পতাকা দেয়া যেতে পারে কিন্তু দেশের সমস্যার কোন সমাধান হবে না। সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসহ যেসব সমস্যা সৃষ্টি করেছে নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

November 26th, 2011

সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ ॥ ঢেলে সাজা হচ্ছে

০ বিন্যস্তকরণের ক্ষমতা পাচ্ছে সরকার
০ ব্যাংক হিসাব তলব করা যাবে
০ মামলা নিষ্পত্তিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল
০ কারসাজির দায়ে জরিমানার একাংশ ক্ষতিগ্রস্তদের প্রদান
০ আপীলের আগে জামানত রাখতে হবে রশেয়ার লেনদেন স্থগিত রাখার সময় বৃদ্ধি
স্টক এক্সচেঞ্জ বিন্যস্তকরণে (ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন) যে কোন সময় আইন প্রণয়নের ৰমতা পাচ্ছে সরকার। বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজারের বৃহত্তর স্বার্থে সরকারের হাতে এই ক্ষমতা প্রদান করে ১৯৬৯ সালের সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশে একটি নতুন ধারা সংযোজন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) অনুমোদন নিয়ে স্টক এঙ্চেঞ্জের লেনদেন ব্যবস্থা থেকে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা পৃথক করার বিষয়টিও অধ্যাদেশে যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া সংশোধনীতে এসইসিকে ব্যাংক হিসাব তলবের ক্ষমতা প্রদান, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুযনাল গঠন, কারসাজির দায়ে জরিমানা আদায় করে এর একাংশ ক্ষতিগ্রস্তদের প্রদান, আপীলের আগে জামানত রাখা এবং শেয়ারের লেনদেন স্থগিত রাখার সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। অধ্যাদেশ সংশোধনের লৰ্যে ইতোমধ্যেই এসইসি থেকে চূড়ান্ত প্রস্তাব তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে শীঘ্রই অধ্যাদেশ সংশোধনের বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপনের জন্য পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ১৯৬৯ সালের অধ্যাদেশ সংশোধনে প্রাথমিক খসড়া প্রণয়ন করা হলেও সেখানে বিন্যস্তকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। কিন্তু শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার দুই স্টক এঙ্চেঞ্জ বিন্যস্তকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যেই ২০১২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে বিন্যস্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সামগ্রিক পরিকল্পনা করেছে ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জ (ডিএসই)। চট্টগ্রাম স্টক এঙ্চেঞ্জ (সিএসই) বিন্যস্তকরণের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। এই লক্ষে স্টক এক্সেচেঞ্জের মালিকানা বিভাজন, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্সের ক্ষমতা, কার্যক্রম ও জবাবদিহিতা নির্দিষ্টকরণ এবং লেনদেনে মধ্যস্থতাকারী (ব্রোকারেজ) প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকা- ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া পুনর্বিন্যাস করতে হবে। বিন্যস্তকরণের প্রাথমিক কাজ হিসেবে প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি-বিধান সংস্কার করতে হবে। চূড়ান্ত পদৰেপ হিসেবে স্টক এঙ্চেঞ্জ বিন্যস্তকরণের জন্য একটি পৃথক আইন প্রণয়ন করতে হবে।
সূত্র জানায়, পুঁজিবাজারের সামগ্রিক কর্মকা- পরিচালনার ৰেত্রে ১৯৬৯ সালের সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ সবচেয়ে মৌলিক আইন। এই অধ্যাদেশের বাইরে আইনগত কোন পদৰেপ গ্রহণের ক্ষমতা সরকার বা এসইসির নেই। এ কারণেই শেয়ারবাজার বিন্যস্তত্মকরণ পরিকল্পনা বাসত্মবায়নের জন্য কোন আইন প্রণয়ন করতে হলে আগে অধ্যাদেশ সংশোধন করে সরকারকে সে ৰমতা প্রদান করতে হবে। বিন্যসত্মকরণ পরিকল্পনা বাসত্মবায়নের মৌলিক প্রয়োজনেই অধ্যাদেশের সংশোধনী প্রসত্মাবে বিন্যসত্মকরণের বিষয়টি অনত্মর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, প্রসত্মাবিত সংশোধনীতে বিন্যসত্মকরণের বিষয়ে অধ্যাদেশে দু’টি নতুন ধারা সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্যে অধ্যাদেশের দ্বিতীয় অধ্যায়ে বিন্যসত্মকরণের সংজ্ঞা অনত্মর্ভুক্ত করে বলা হয়েছে। এতে বিন্যসত্মকরণ বলতে ‘এসইসি অনুমোদিত স্কিমের আওতায় স্টক এঙ্চেঞ্জের লেনদেন ব্যবস্থা থেকে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনাকে পৃথক করা’ বোঝানো হয়েছে। এই সংশোধনীর পৰে যুক্তি তুলে ধরে প্রসত্মাবে বলা হয়েছে, একটি দৰ পুঁজিবাজার সৃষ্টির লৰ্যে অন্যান্য দেশের স্টক এঙ্চেঞ্জের ন্যায় বাংলাদেশেও স্টক এঙ্চেঞ্জ বিন্যসত্মকরণ করা প্রয়োজন।’
স্টক এঙ্চেঞ্জ বিন্যসত্মকরণের স্বার্থে অধ্যাদেশে ‘১০এ’ শীর্ষ একটি নতুন ধারা সংযোজনের প্রসত্মাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘সরকার যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরৰণ ও পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্য স্টক এঙ্চেঞ্জ বিন্যসত্মকরণ প্রয়োজন, তাহলে যে কোন সময় এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন করতে পারবে।’
বিন্যসত্মকরণের পথ প্রশসত্ম করতে প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে কারসাজি বা অনৈতিক কর্মকা- তদনত্মের ৰেত্রে এসইসিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলবের ৰমতা দিয়ে সংশিস্নষ্ট ধারা সংশোধনেরও প্রসত্মাব করা হয়েছে। অধ্যাদেশের ২১(২) ধারা অনুযায়ী বর্তমানে পুঁজিবাজারসংশিস্নষ্ট যে কোন বিষয়ে তদনত্ম পরিচালনার স্বার্থে এসইসি স্টক এঙ্চেঞ্জের যে কোন সদস্য এবং ইসু্যয়ার কোম্পানির পরিচালক, ব্যবস্থাপক বা অন্য কর্মকর্তার কাছ থেকে যে কোন তথ্য সংগ্রহের ৰমতা রাখে। এর ফলে তদনত্মকারী কর্মকর্তা শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তির বিও হিসাবের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন বা শেয়ারের মূল্য পরিশোধের তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। কিন্তু শেয়ার লেনদেনে ব্যবহৃত অর্থের উৎস কিংবা শেয়ার বিক্রি করে অর্জিত অর্থ হসত্মানত্মরের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। এর ফলে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বেনামে শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে কারসাজিতে লিপ্ত হলে তা চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ কারণে অধ্যাদেশের সংশিস্নষ্ট ধারা সংশোধন করে এসইসির তদনত্মকারী কর্মকর্তাকে যে কোন বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি বা অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে লেনদেনের সম্পর্ক থাকতে পারে এমন যে কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরাসরি আর্থিক লেনদেনের তথ্য তলবের ৰমতা দেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে সব ধরনের আর্থিক কারসাজি চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে সংশিস্নষ্টরা মনে করেন।
সংশোধনীর খসড়ায় তদনত্মের মধ্য দিয়ে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আদায়কৃত জরিমানা থেকে সংশিস্নষ্ট ঘটনায় ৰতিগ্রসত্মদের ৰতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খসড়ায় এ সংক্রানত্ম একটি ধারা সংযোজনের প্রসত্মাব করা হয়েছে। প্রসত্মাবিত ওই ধারা অনুযায়ী, বিধিবহির্ভূত কর্মকা- প্রমাণের পর এসইসি কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করলে ওই অর্থ থেকে সর্বপ্রথম তদনত্ম কাজের সামগ্রিক ব্যয় নির্বাহ করা হবে। দ্বিতীয়ত, বিধিবহির্ভূত কর্মকা-ের ফলে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ৰতিগ্রসত্ম হয়েছে বলে প্রমাণিত হলে জরিমানার অর্থ থেকে তাদের ৰতিপূরণ প্রদান করা হবে। এৰেত্রে ৰতিগ্রসত্ম ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময়কালে শেয়ারের বাজার মূল্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
তবে কমিশনের বিবেচনায় সংঘটিত অপরাধটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক বা বিধিগত হলে কিংবা প্রকৃত ৰতিগ্রসত্মদের চিহ্নিত করা অসম্ভব হলে ৰতিপূরণ প্রদান থেকে বিরত থাকতে পারবে। এৰেত্রে আদায়কৃত জরিমানার অর্থ স্টক এঙ্চেঞ্জের ‘বিনিয়োগকারী সুরৰা তহবিল (ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ড)’ অথবা এসইসির বিনিয়োগকারী প্রশিৰণ তহবিলে (ইনভেস্টরস এডুকেশন ফান্ড)’ প্রদান করতে পারবে।
সংশোধনী প্রসত্মাবে পুঁজিবাজার সংক্রানত্ম মামলা দ্রম্নত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইবু্যনাল গঠনের ব্যবস্থা রাখার প্রসত্মাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘পুঁজিবাজার সংক্রানত্ম মামলা নিষ্পত্তির জন্য অফিসিয়াল গেজেটের মাধ্যমে সরকার এক বা একাধিক বিশেষ ট্রাইবু্যনাল গঠন করতে পারবে। এই ট্রাইবু্যনালে কোন্ কোন্ বিষয়গুলোর বিচার করা যাবে গেজেটে তাও নির্দিষ্ট করে দেয়া যাবে।
খসড়া সংশোধনীতে এসইসির সিদ্ধানত্মের বিরম্নদ্ধে আদালতে আপীল করার ৰেত্রে শর্ত আরোপের প্রসত্মাব করা হয়েছে। বর্তমানে এসইসির পৰ থেকে জরিমানা আরোপের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলে আদালতে আপীল করতে পারে। সংশোধনীতে আপীলের সুযোগ বহাল রাখা হলেও তার আগে ধার্যকৃত জরিমানার কমপৰে ২৫ শতাংশ অর্থ আদালতে জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে এসইসির পৰে জরিমানা আদায় করা সহজ হবে বলে সংশিস্নষ্টরা মনে করছেন।
১৯৬৯ সালের অধ্যাদেশের ৯(৮) ধারা অনুযায়ী পুঁজিবাজার বা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এসইসি বা স্টক এঙ্চেঞ্জ তালিকাভুক্ত যে কোন কোম্পানির শেয়ার লেনদেন ১৪ দিনের জন্য স্থগিত রাখতে পারে। একই কারণে এই স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র একবারের জন্য আরও ১৪ দিন বাড়ানো যায়। অধ্যাদেশের এই ধারাটি সংশোধন করে লেনদেন স্থগিত রাখার ক্ষমতা প্রথমে ৩০ দিন এবং পরবর্তীতে আরও ১৪ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

November 25th, 2011

স্বাস্থ্যসেবাকে বাণিজ্যিকীকরণ করবেন না ॥ চিকিৎসকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

কার্ডিওলজি সম্মেলন উদ্বোধন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্যসেবাকে বাণিজ্যিকীকরণ না করার এবং চিকিৎসাসেবাকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনার উদ্যোগ নেয়ার জন্য চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্র স্বার্থে আপনারা চিকিৎসা স্বাস্থ্যসেবাকে কখনোই বাণিজ্যিকীকরণ করবেন না এবং সামর্থ্যহীন মানুষ যাতে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সে দিকটিতে আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে।’ শুক্রবার কার্ডিওলজি ও কার্ডিয়াক সার্জারি বিষয়ক ৪র্থ আন্তর্জাতিক সম্মেলন ২য় ঢাকা লাইভ ২০১১ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। খবর বাসসর।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি চিকিৎসকগণ তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়ে সচেতন। তিনি নিয়মিত নির্ধারিত দিনে বিনামূল্যে দরিদ্র রোগী দেখার জন্য চিকিৎসকদের প্রতি অনুরোধ জানান।’
প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে একটি দিন নির্ধারণ করবেন এবং গ্রামের লোকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে আপনার গ্রামে যাবেন।’
ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতাল এখানে প্যানপ্যাসেফিক সোনারগাঁও হোটেলে দু’দিনব্যাপী এ সম্মেলন আয়োজন করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা প্রফেসর সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব) ডা. মজিবুর রহমান ফকির অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। সম্মেলন আয়োজক কমিটির সভাপতি ডা. এম জালালুদ্দিন এতে সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এএম শামীম স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’ এই প্রবাদ উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হৃদরোগ যাতে না হয় সেদিকে সকলকে বেশি গুরম্নত্ব দিতে হবে এবং শারীরিক সুস্থতার জন্য এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা হৃদরোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা কৌশলে অন্তর্ভূক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
‘হৃদরোগ প্রতিরোধের জন্য জীবন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা জরম্নরী উলেস্নখ করে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মসূচী বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চিকিৎসক, বেসরকারি সংস্থা ও সেবা প্রদানকারীদের এগিয়ে আসতে হবে।’