বিদ্যুতের পাইকারি দাম ৩৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই দফায় এই দাম বাড়বে। প্রথম দফায় আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ১৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ দাম বাড়বে। আর দ্বিতীয় দফায় ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ হারে বিদ্যুতের দাম বাড়বে। প্রতিবার প্রতি ইউনিটে ৪৭ পয়সা করে দাম বাড়বে। তবে ভোক্তা পর্যায়ে এখনই বিদ্যুতের দাম বাড়ছে না।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
বিদ্যুতের পাইকারি দাম বাড়ল
টিপাইমুখ বাঁধ ॥ কঠোর অবস্থানে সরকার ॥ স্বার্থ ক্ষুন্ন হতে দেব না
সংসদে প্রধানমন্ত্রী
০ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে ওটা হবে না
০ ইতোমধ্যেই দিল্লীর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে
০ শীঘ্রই বিশেষ প্রতিনিধি পাঠানো হচ্ছে
সংসদ রিপোর্টার ॥ ভারতে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বিষয়ে বাংলাদেশের কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে খুব শীঘ্রই ভারতে বিশেষ প্রতিনিধি পাঠানো হচ্ছে। কেউ (ভারত) এককভাবে কিছু করে বাংলাদেশের স্বার্থ ৰুণ্ন করবে_ এটা অন্তত আওয়ামী লীগ ৰমতায় থাকতে হবে না। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পৰ থেকে ইতোমধ্যে দিল্লীর কাছে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে। বিএনপির মতো ক্ষমতায় থাকতে কোন দেশের পদলেহন ও গোলামী আওয়ামী লীগ করে না। তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে যখন হাত দিয়েছি, আজ হোক বা কাল হোক এই চুক্তি করেই ছাড়ব।
এদিকে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার দুই পুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর দুনর্ীতি ও বিদেশে অর্থ পাচার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তদন্ত কাজ শেষ হলে দেশবাসী জানতে পারবে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোসহ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মোট কত টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। পাচারকৃত সব টাকা যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরত আনা হবে।
বুধবার স্পীকার এ্যাডভোকেট আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত ত্রিশ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিরোধী দলে থাকতে আওয়ামী লীগই সর্বপ্রথম এই বাঁধ নির্মাণের বিরোধিতা করে আন্দোলন করেছে। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ রৰার পাশাপাশি কিভাবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রৰা করতে হয় তা আওয়ামী লীগ জানে। কারণ এ দেশকে স্বাধীন করেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ কারোর পদলেহন বা গোলামী করে না।
টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ প্রসঙ্গে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় থাকতে খালেদা জিয়ার এক সুর, বিরোধী দলে গেলে অন্য সুর। টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে আজ বড় বড় কথা বলছেন, হরতাল-আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন। অথচ ৰমতায় থাকতে তাঁর পানিসম্পদমন্ত্রী বলেছিলেন_ এই বাঁধ নির্মাণ হলে বাংলাদেশের স্বার্থ ৰুণ্ন হবে না! বিরোধী দলে গিয়ে আজ বলছেন অন্য কথা, খালেদা জিয়া চিঠি পাঠাচ্ছেন! তিনি (খালেদা) চিঠিতে কী লিখেছেন, কী জানতে চাচ্ছেন তা জানি না। কিন্তু ৰমতায় থাকতে কিছু বলেননি কেন?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা জীবন শুনে এসেছি মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি নাকি গোলামীর চুক্তি! একথা বিএনপিই বেশি বলেছে। এখন বিএনপিসহ সব বিরোধী দলই বলছে এই চুক্তি বাসত্মবায়ন হচ্ছে না কেন? তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘৭৫-পরবতর্ী ২১ বছর যারা ৰমতায় ছিল তারা কী করেছে? আমরা কখনও কারোর সঙ্গে গোলামীর চুক্তি করিনি। গঙ্গা চুক্তির মাধ্যমে ভারতের কাছ থেকে ন্যায্য হিস্যা আদায় করেছি। তিনি বলেন, স্বাধীনতার এতদিন পর আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে আমাদের সীমানা নির্ধারণ করেছি। তিনি কৌতুকের সুরে বলেন, বিএনপি নেত্রীর (খালেদা) জন্যও কিছু জায়গা দখল করে দিয়েছি।
তিসত্মা চুক্তি প্রসঙ্গে প্রশ্নোত্তরে শেখ হাসিনা পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, বিএনপি দু’বার ৰমতায় ছিল, তিসত্মা চুক্তি করতে পারেনি কেন? খালেদা জিয়া কি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন, নাকি ভারতের পদলেহন করেছেন? জনগণের কাছে তার জবাব তাদের দিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা কারও পদলেহন করি না। তিসত্মা নদীর চুক্তির কাজে যখন হাত দিয়েছি, আজ হোক বা কাল হোক_ এই চুক্তি করেই ছাড়ব।
তারেক-কোকোর দুনর্ীতি, অর্থ পাচার সরকারী দলের সংসদ সদস্য বেগম নাজমা আখতারের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোসহ বিগত জোট সরকারের আমলে বিদেশে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনতে মানিলন্ডারিং আইনসহ অন্য বিধিবিধান সংশোধন করা হচ্ছে। সংশিস্নষ্ট সংস্থাগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সন্দেহজনক লেনদেন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট দশটি দেশের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাৰর করেছে। তদনত্ম কাজ শেষ হলেই দেশবাসী জানতে পারবে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোসহ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে কত টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তিনি জানান, পাচারকৃত সমসত্ম টাকা যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরত আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরে পাচার করা ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৬১৩ টাকা ফেরত এনে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করা হয়েছে। এ টাকা দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনের প্রচারে ও দেশের সাতটি বিভাগে দুর্নীতিবিরোধী স্মৃতিসত্মম্ভ নির্মাণ করার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা যেতে পারে। তিনি জানান, তারেক রহমান ও কোকোর বিরম্নদ্ধে অর্থ পাচারের দায়ে দুনর্ীতি দমন কমিশন দুটি পৃথক মামলা করেছে। একটি মামলায় আরাফাত রহমান কোকো ও ইসমাইল হোসেন সাইমনকে ছয় বছর সশ্রম কারাদ- এবং সাড়ে ৩৮ কোটি টাকা অর্থদ- দিয়েছে। তারেক রহমানের বিরম্নদ্ধে দায়েরকৃত মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
ভারতের সঙ্গে যত চুক্তি ও প্রটোকল স্বাৰর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় দু’দেশের মধ্যে ১০টি দলিল স্বাৰরিত হয়েছে। এর মধ্যে সহযোগিতা ও উন্নয়নের কাঠামোগত একটি চুক্তিসহ আরও দু’টি প্রটোকল ও সাতটি সমঝোতা স্মারক স্বাৰর হয়েছে।
তিনি বলেন, সহযোগিতা এবং উন্নয়নের কাঠামোগত চুক্তিটি একটি রূপকল্প দলিল। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমান সহযোগিতার ৰেত্র ছাড়িয়ে আগামী বছরগুলোতে সম্ভাব্য সহযোগিতার ৰেত্র চিহ্নিত হয়েছে। তিনি বলেন, এ চুক্তির ফলে দু’দেশ দ্বিপাৰিক, উপ-আঞ্চলিক কিংবা আঞ্চলিকভাবে জলবিদু্যত, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদু্যত, শিৰা প্রভৃতি বিষয়ে যে কোন প্রকল্প গ্রহণ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ চুক্তির সহযোগিতার ৰেত্রে দ্বিপাৰিক ব্যবস্থাপনার বাইরেও আঞ্চলিক এবং উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্ভাবনাকে বিসত্মৃত করেছে।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, স্থলসীমানা চুক্তিসংক্রানত্ম প্রটোকলের আওতায় অচিহ্নিত সীমানা চিহ্নিতকরণ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে র্যাডক্লিফের সীমানা চিহ্নিতকরণের সময়ের পর এই প্রথম বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে একটি পরিপূর্ণভাবে সুনির্দিষ্ট সীমানা পেল। তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময় ছিটমহল এবং অপদখলীয় এলাকা বিনিময়সংক্রানত্ম কার্যপদ্ধতি স্থির করা হয়েছে। দুটো বিষয়ই দ্রম্নত এবং যুগপৎ ঘটবে।
তিনি বলেন, এ প্রটোকল স্বাৰরের ফলে দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান অনিষ্পন্ন ইসু্যর সমাপ্তি হয়েছে। বিশেষভাবে উলেস্নখ্য, স্বাধীনতার পর হতে এই প্রথম আমাদের দেশ আনত্মর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা পাবে। বাংলাদেশী নাগরিক দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা অধিবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে এবং স্থলসীমানা চুক্তির একটি অনুচ্ছেদ বাসত্মবায়িত হয়েছে।
কামাল আহমেদ মজুমদারের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতের বাজারে বাংলাদেশের ৪৬টি পোশাকজাত পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাওয়ায় সম্প্রতি রফতানির সীমা আট মিলিয়ন পিস থেকে দশ মিলিয়ন পিসে উন্নীত হয়েছে।
বর্তমান সরকারের মেয়াদেই মেট্রোরেল মেহের আফরোজ চুমকির এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী বছরের মার্চ মাস নাগাদ মেট্রোরেল নির্মাণের বিষয়ে জাপান সরকারের সঙ্গে লোন নেগোসিয়েশনের কাজ শেষ হবে। বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যেই মেট্রোরেলের কাজ শুরম্ন করে একটি উলেস্নখযোগ্য অংশ শেষ করার ব্যাপারে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ফরিদুল হক খানের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, কৃষির উৎপাদন বাড়ানোর লৰ্যে সরকার কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এরই মধ্যে ৫২টি প্রকল্প বাসত্মবায়ন করেছে। আরও ৪৭টি নতুন প্রকল্প বাসত্মবায়নাধীন রয়েছে। এছাড়া ১৮টি নতুন প্রকল্প অনুমোদনের অপেৰায় রয়েছে। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে সার ও অন্যান্য কৃষি কার্যক্রমে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ভতর্ুকির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
আশরাফুননেছা মোশারফের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা জানান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত চারটি প্রকল্পের ২৬টি কারিগরি প্রশিৰণ কেন্দ্রের মাধ্যমে বছরে ২০ হাজার শিৰিত ও স্বল্পশিৰিত বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের প্রশিৰণ দেয়া হচ্ছে।
এবিএম আবুল কাশেমের তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রানত্ম এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, টেলিফোন শিল্প সংস্থার (টেশিস) ল্যাপটপ পস্ন্যানটি প্রায় দু’শ’ কোটি টাকার। টেশিসের তৈরি ল্যাপটপ ‘দোয়েল’-এর ওপর তেমন কোন মুনাফা ধরা হয়নি। জনগণের স্বার্থে এর দাম সংযোজন দামের কিছুটা নিচে ধরা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আনত্মর্জাতিক সাহায্য প্রসঙ্গে মোঃ রহমত আলীর প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলেন্স ফান্ড (বিসিসিআরএফ) থেকে এ পর্যনত্ম ১২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেছে। এছাড়া দেড় শ’ থেকে দু’শ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, গত বছরের ৩১ মে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, সুইডেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বিসিসিআরএফ গঠনের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাৰর হয়েছে। ওই স্মারক অনুযায়ী মোট এক শ’ ২৫ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাওয়া গেছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য ৮৬ দশমিক সাত দশমিক, ডেনমার্ক এক দশমিক ছয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন দশ দশমিক চার, সুইডেন ১১ দশমিক পাঁচ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়েছে। পরে সুইজারল্যান্ড তিন দশমিক চার ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরও ১২ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়েছে।
মোঃ শফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে প্রতিযোগিতা আইন-২০১১ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরৰণ অধিদফতর রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা শহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এযাবত ২ হাজার ছয় শ’ ৩৮টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযান থেকে দুই কোটি ৭৮ লাখ দুই হাজার পাঁচ শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ্যান্টিহোর্ডিং আইন হালনাগাদ করায় যে কোন ব্যবসায় সিন্ডিকেটের অসত্মিত্ব মুছে গেছে।
তোপের মুখে মিজারম্নল বিশেষ প্রতিনিধি জানান, টিপাইমুখ ইসু্যতে প্রশ্ন ওঠার আগেই তড়িঘড়ি স্থান ত্যাগ করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বুধবার মন্ত্রণালয়ে ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং সামিট উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্স শেষ করেই আরেকটি জরম্নরী মিটিংয়ের কথা বলে তিনি চলে যান। তবে যাওয়ার আগে বলে যান, ‘আমি জানি আপনাদের মনে অনেক প্রশ্ন জমা হয়ে আছে, কালকেই একটা প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে সে সব প্রশ্নের জবাব দেব।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, আগামী বছর পহেলা থেকে ৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু আনত্মর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং সামিট। এতে বাংলাদেশসহ সাতটি দেশ অংশ গ্রহণ করবে।
লিখিত বক্তব্য শেষ না করেই তিনি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ট্রাস্ট ফা-ের সভায় যোগ দিতে তড়িঘড়ি সম্মেলনস্থল ছেড়ে চলে যান। ফলে সাংবাদিকরা টিপাইমুখ নিয়ে কোনও প্রশ্ন করারও সুযোগ পায়নি। এমনকি যে জন্য সংবাদ সম্মেলন সে অনুষ্ঠানও শেষ করে যাননি তিনি বা ওই ব্যাপারে কোন প্রশ্নের জবাবও দেননি।
গত শনিবার টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যুটি আলোচনায় আসার চারদিন পর এদিনই প্রথম তাঁকে গণমাধ্যমের সামনে পাওয়া যায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বিলক্ষণ বুঝতে পারছিলেন, তাঁকে ওই বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে। এজন্যই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দিয়েই তিনি অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে যান।
যাওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের একটি বৈঠকে তিনটায় আমার যোগ দেয়ার কথা। আমি দেরি করে ফেলেছি।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী তড়িঘড়ি চলে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়েন সেখানে উপস্থিত পররাষ্ট্রসচিব মোহাম্মদ মিজারম্নল কায়েস। ফলে একানত্ম বাধ্য হয়েই তিনি মিডিয়ার সামনে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, ‘আমি অত্যনত্ম প্রত্যয়ের সঙ্গেই বলছি টিপাইমুখ ইস্যুতে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে তার সমাধান একমাত্র দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব। আমরা সে পথেই আছি।’
বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর কিছু করবে না- ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এমন আশ্বাসে বাংলাদেশ কতটা নির্ভর করতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘আমরা এখনও এ আশ্বাসে বিশ্বাসী এবং মনে করি এ বিষেয়ে এখনও আলোচনার সুযোগ রয়েছে।’
বিবিসি যদি টিপাইমুখ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ না করত তাহলে বিষয়টি বাংলাদেশের অগোচরে থেকে যেত কিনা এমন প্রশ্নে তিনি জানান, ‘ভারতের সঙ্গে সব বিষয়েই বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।’
টিপাইমুখ ইস্যুতে সরকারকে বিরোধী দলীয় নেতার সহায়তার ঘোষণা সরকার কিভাবে দেখছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘এ বিষয়টি যারা ডিল করছে তাদের ব্যাপার।’
এক সময় প্রশ্নবাণে জর্জরিত সচিব উত্তেজিত হয়ে যান। তিনি বলেন, ‘আপনারা একই প্রশ্ন বার বার করছেন। পিস্নজ, নো মোর কোয়েশ্চেন।’
এরপর তিনি বলেন, ‘আসলে বিষয়টি মন্ত্রী মহোদয়ের। তিনি বলেছেন কালই (বৃহস্পতিবার) আপনাদের ব্রিফ করবেন, উনিই বিষয়টি দেখবেন
৬ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ॥ যে সুবিধা পাবেন
শেয়ারবাজার রক্ষা
০ ৫০ হাজার পর্যনত্ম যাঁরা বিনিয়োগ করেছেন তাঁরা পেতে পারেন প্রত্যৰ সহায়তা
০ সরকারী শেয়ারে বিশেষ সুবিধা দেয়া হতে পারে
০ মার্জিন সুদ মওকুফ নিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে
রাজু আহমেদ ॥ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে ৰতিগ্রসত্মদের মধ্যে স্বল্প পুঁজির প্রায় ৬ লাখ ৩৭ হাজার বিনিয়োগকারীকে কিছু বিশেষ সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বেশ কয়েকটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা হলেও ৰুদ্র এই বিনিয়োগকারীদের কী কী সুবিধা দেয়া যায়_ এখন পর্যনত্ম তা চূড়ানত্ম হয়নি। তবে পুঁজিবাজার পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার বাজারসংশিস্নষ্টদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকে ৰতি পুষিয়ে দিতে সর্বজন গ্রহণযোগ্য একটি পদৰেপ নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধানত্ম হয়েছে। এ সংক্রানত্ম প্রসত্মাবগুলো পর্যালোচনা করে আগামী রবিবার সরকারের পৰ থেকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেয়া হতে পারে।
পাশাপাশি বাজারে তারল্য সঙ্কট কাটাতে ব্যাংকিং খাতের এসএলআর ও সিআরআর হ্রাস, শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা হিসাবের পদ্ধতি পরিবর্তন, মার্জিন ঋণের সুদ মওকুফ, এই ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা জামানত (প্রভিশন) রাখার বাধ্যবাধকতা শিথিল এবং গত দু’বছরে শেয়ারবাজার থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্জিত মুনাফা পুনর্বিনিয়োগের বিষয়ে পদৰেপ নেয়া হবে।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধানত্মগুলোর বাসত্মবায়নের লৰ্যে ইতোমধ্যেই অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশিস্নষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কাজ শুরম্ন করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রাথমিক বৈঠক হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১১টায় অর্থ মন্ত্রণালয়, এসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআরসহ সরকারের সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন অর্থমন্ত্রী। এই বৈঠকে পুঁজিবাজারের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা চূড়ানত্ম করা হতে পারে। ৰুদ্র বিনিয়োগকারীদের ৰতি পুষিয়ে দেয়া এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের সামগ্রিক পরিকল্পনা আগামী রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়া হবে। ৰুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য পদৰেপ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এসইসির পৰ থেকে বিনিয়োগ সীমার ভিত্তিতে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের সামগ্রিক তথ্য উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৰুদ্র বিনিয়োগকারীদের ৰতি পুষিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় পদৰেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন। এরমধ্যে ৰতিগ্রসত্ম বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রত্যৰ কোন সহায়তা দেয়া যায় কিনা_ সে বিষয়ে বিসত্মারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে ২৫ হাজার টাকা পর্যনত্ম বিনিয়োগ করে ৰতিগ্রসত্ম হয়েছেন এ ধরনের বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রত্যৰ সহায়তা প্রদানের সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়। শেয়ারবাজারে এ পর্যায়ের বিনিয়োগকারীর মোট সংখ্যা ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫২ জন বলে বৈঠকে জানানো হয়। সেইসঙ্গে ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যনত্ম পুঁজি বিনিয়োগকারীদের জন্যও কিছু করা যায় কিনা_ তা বিবেচনা করা হচ্ছে। এ পর্যায়ের বিনিয়োগকারীর সংখ্যা প্রায় ৭৬ হাজার।
জানা গেছে, ৰুদ্র বিনিয়োগকারীদের ৰতি পুষিয়ে নিতে করণীয় সম্পর্কে কিছু প্রসত্মাব বিবেচনায় রয়েছে। এরমধ্যে বাজার ধসের শুরম্ন থেকে এ পর্যনত্ম নেয়া মার্জিন ঋণের সুদ সম্পূর্ণ মওকুফ করার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। এছাড়া এই বিনিয়োগকারীদের নেয়া ঋণকে আগামী এক বছরের জন্য সুদমুক্ত রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব বিনিয়োগকারী মার্জিন ঋণ নেননি তাদের জন্য কী ধরনের সুবিধা দেয়া যায়_ সে বিষয়েও আলোচনা এসেছে। এরমধ্যে সরকারী প্রতিষ্ঠানের আইপিওতে এসব বিনিয়োগকারীকে বিশেষ সুবিধা প্রদানসহ আরও কিছু প্রসত্মাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বুধবার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসইসি সদস্য আরিফ খান বলেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ও ৰুদ্র বিনিয়োগকারীদের ৰতি পুষিয়ে নিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধানত্ম হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেয়া হবে।
তারল্য সঙ্কট কাটাতে পদৰেপ পুঁজিবাজারে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ সৰমতা বাড়াতে তারল্য সঙ্কট দূর করার বিষয়ে পদৰেপ নেয়া হচ্ছে। এরমধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিধিবদ্ধ জমার হার (এসএলআর) এবং বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) হার কমানোর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে শেয়ারবাজারে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগসীমা (এঙ্পোজার লিমিট) হিসাবের ৰেত্রে বিদ্যমান পদ্ধতি পরিবর্তন হতে পারে। বর্তমানে ব্যাংকের নিজস্ব বিনিয়োগের সঙ্গে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের (সাবসিডিয়ারি) বিনিয়োগ ও ঋণ যোগ করে বিনিয়োগসীমা হিসাব করা হয়। এর পরিবর্তে শুধু ব্যাংকের নিজস্ব বিনিয়োগের ভিত্তিতে এই সীমা নির্ধারণ করা হতে পারে। অন্যদিকে মার্জিন ঋণের সুদ মওকুফের ৰেত্রে বিধিগত জটিলতা এড়াতে এই ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা জামানত (প্রভিশন) রাখার বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হবে। একইসঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যনত্ম মার্জিন ঋণ আদায় বন্ধ রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সিদ্ধানত্ম বাসত্মবায়নে আজ (শুক্রবার) অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে এসইসির পৰ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু প্রসত্মাব তুলে ধরা হবে। এরমধ্যে ব্যাংকের এসএলআর ও সিআরআর কমানোর বিষয়টিও রয়েছে। তবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই এ বিষয়ে চূড়ানত্ম সিদ্ধানত্ম নেয়া হবে।
এদিকে এসএলআর এবং সিআরআর কমানোর বিষয়ে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত সিদ্ধানত্ম নিয়েছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, গবর্নর ড. আতিউর রহমান শুক্রবার দেশে ফিরবেন। তাঁর অনুমোদনের পর এসএলআর এবং সিআরআর কমানোর বিষয়ে আগামী রবিবার সাকর্ুলার জারি করা হতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক চৌধুরী মহিদুল হক জনকণ্ঠকে বলেন, সিআরআর ও এসএলআর কমানো হলে পুঁজিবাজারের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তারল্য সঙ্কট কাটাতেও তা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
অন্যান্য পদৰেপ প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে পুঁজিবাজারে নতুন অর্থপ্রবাহ বাড়াতে অপ্রদর্শিত অর্থের প্রশ্নহীন বিনিয়োগের সুযোগ কার্যকর করার ওপর গুরম্নত্বারোপ করা হয়েছে। এ ধরনের অর্থ বিনিয়োগ করা হলে সরকারের কোন সংস্থা থেকে প্রশ্ন করা হবে না বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে। ব্যাংকের তারল্য সঙ্কট সমাধানে প্রয়োজনীয় পদৰেপ নেয়া হলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।
বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে ইতোমধ্যেই ব্রোকারেজ কমিশনের ওপর উৎসে কর হ্রাস, মিউচু্যয়াল ফান্ডের আয়কে করমুক্ত রাখা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের অর্থে কর রেয়াত সুবিধা প্রদান করা হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। আগে নেয়া পদৰেপগুলো কার্যকর করার পাশাপাশি নতুন আঙ্গিকে বেশকিছু পদৰেপ গ্রহণের বিষয়ে প্রসত্মাব এসেছে। সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হবে।
আশরাফ মুহিত এইচটি ইমামের পদত্যাগের খবর নিছকই গুজব
‘গাঁজার নৌকা পাহাড় দিয়ে যায়’ _প্রবাদটি বাংলাদেশের সমাজে যেন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে! বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে গুজবের ডালপালা মেলে হরহামেশাই। একেকটি গুজবে তোলপাড় হয় সারাদেশ, ৰণেকপরেই সেই গুজবের মৃতু্য ঘটে! সোমবারও এ ধরনের একটি গুজবজ্বরে আক্রানত্ম হয়েছিল গোটা দেশ। শেষ পর্যনত্ম সেই গুজবেরও মৃতু্য ঘটেছে। সারাদিনের আলোচনা, কৌতূহল আর গুঞ্জন শেষ পর্যনত্ম বাসত্মবে রূপ নেয়নি। তবে গুজব হিসাবে এটা ছিল বেশ সফল।
আর সেই গুজবটি ছিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের এলজিআরডি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ! মন্ত্রীর ফ্লাগ নিয়ে সোমবার দিনভর সরকারের নানা কর্মসূচীতে যোগ দিয়ে সৈয়দ আশরাফ বিষয়টিকে নিতানত্মই ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সকালের দিকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমামের পদত্যাগের গুজব ছড়ানো হলেও তা শেষ পর্যনত্ম খুব একটা হালে পানি পায়নি। আওয়ামী লীগের পৰ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবেও জানানো হয়, বিষয়টি নিতানত্মই গুজব, সত্যের লেশমাত্র নেই।
নিউইয়র্কের একটি বাংলা নিউজ এজেন্সি ‘নিউজ ওয়ার্ল্ড’ গুজবটির উৎস। ওই এজেন্সির রিপোর্টটি ছিল_ ‘মন্ত্রী ও দল থেকে পদত্যাগ করলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণেই তাঁর এই পদত্যাগ।’ ওই এজেন্সির রিপোর্টি বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশ হওয়ার পর গুজবটা ডালপালা ভালই মেলেছিল। সোমবার দ্রম্নতই তা হয়ে ওঠে ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’তে। দুপুরের দিকে পুঁজিবাজার-সংশিস্নষ্টদের মাঝে গুজব ছড়িয়ে পড়ে শুধু এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামই নন, পদত্যাগ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও।
ব্যাপক গুজবের এক পর্যায়ে মন্ত্রিসভার মন্ত্রীরাও নড়েচড়ে ওঠেন। তাঁরা না নড়ে কী করবেন! কারণ দু’একটি পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশের পাশাপাশি চতুর্দিক থেকে সেই একই ফোন। সরকারদলীয় নেতাকমর্ী থেকে শুরম্ন করে দেশের প্রানত্ম থেকে কেন্দ্র পর্যনত্ম সবাই গুজবের সত্যতা নিরূপণে ব্যতিব্যসত্ম। পরিচিত এমপি বা মন্ত্রী থেকে শুরম্ন করে সরকারের উচ্চপর্যায়ে এবং গণমাধ্যমে সকাল থেকে রাত অবধি শুধু ফোন আর ফোন।
সবারই এক প্রশ্ন_ “সৈয়দ আশরাফ কী সত্যিই পদত্যাগ করেছেন? অর্থমন্ত্রীর কী খবর? পদত্যাগ করলে ওইসব পদে কারা মন্ত্রী হচ্ছেন? শপথগ্রহণ কখন? ইত্যাদি।” প্রতু্যত্তরে বিষয়টি গুজব জানালে ফোনদাতারা কেউই খুশি হতে পারেননি। পাল্টা প্রশ্ন_ ‘ভাই, ভাল করে খোঁজ নেন, সকালে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দিয়ে এসেছেন এলজিআরডি মন্ত্রী।’
‘বিষয়টি মোটেই সঠিক নয়’_ জানিয়ে ফোনদাতাকে বলা হয়, মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ গণভবনে নয়, সকালে মন্ত্রী ভাষাসৈনিক ইমদাদ হোসেনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মন্ত্রীর ফ্লাগ উড়িয়ে শহীদ মিনারে গিয়েছিলেন। তখন ফোনদাতারা আশ্বসত্ম হলেও খুব একটা বিশ্বাস হতে পারেননি তাঁরা। এমনকি দলের অনেক সিনিয়র নেতাও ঘনিষ্ঠ সাংবাদিকদের কাছে ফোন করে গুজবের সত্যতা জানার চেষ্টা করেছেন। সব মিলে একটি সফল গুজব সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি বেশ নাড়া দিয়ে যায় দেশের নানা মহলকে।
এদিকে দলীয় পদ ও মন্ত্রিসভা থেকে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পদত্যাগের ঘটনা নিছক গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এ খবরের সত্যতা জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ সিনিয়র নেতাই জনকণ্ঠকে বলেন, ‘এটি অসত্য, বানোয়াট খবর। কেউ হীনউদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে এ গুজব রটিয়েছে। যার কোনই সত্যতা নেই।’
আওয়ামী লীগের পৰ থেকে দলের কেন্দ্রীয় উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কানত্মি দাস স্বাৰরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পলস্নী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপির পদত্যাগের একটি গুজবের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে এ বিষয়ে জানাতে চাই, এটি সর্বৈবভাবে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বাসত্মবতাবিবর্জিত, অনভিপ্রেত ও বিভ্রানত্মিমূলক অপপ্রচার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালেও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ভাষাসৈনিক ইমদাদ হোসেনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে যান। পরে তিনি রাজধানীর একটি হোটেলে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আনত্মর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে জাতিসংঘ মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অপর একটি অনুষ্ঠানেও যোগ দেন এবং বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি হেসেই তা উড়িয়ে দেন। অপরদিকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও দিনভর সরকারের নানা কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ এবং বক্তব্য রাখেন।
এসব গুজবের কারণ সম্পর্কে খোদ সরকারী দলের অনেক সিনিয়র ও মধ্যম সারির নেতা একেকজন একেক কথা বলেছেন। তবে কেউ নাম প্রকাশ করতে চাননি। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পদত্যাগের গুজব সম্পর্কে তাঁদের মত হচ্ছে_ দলের মধ্যে তিনি (সৈয়দ আশরাফ) অনেকটাই ডুমুরের ফুল। ব্যক্তিগত সাৰাত তো দূরের কথা, কোন পর্যায়ের নেতাই তাঁকে ফোন করেও পান না। তাঁর সম্পর্কে এমনও প্রচার আছে_ তিনি নাকি খোদ প্রধানমন্ত্রীর ফোনও অনেক সময় ধরেন না। সোমবারও গুজবের সত্যতা জানতে সাংবাদিকরা সৈয়দ আশরাফকে মোবাইলে অসংখ্যবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।
এছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েও দলীয় কর্মকা-ে তাঁর অনুপস্থিতি, পদ পাওয়ার পর পৌনে তিন বছরেও একটি জেলার সম্মেলন করতে না পারা, মন্ত্রণালয়ে তাঁর গরহাজিরসহ নানা কারণে দলের নেতাকমর্ীরাই তাঁর ওপর ৰুব্ধ ও হতাশ। তাই দলের মধ্য থেকেও এ ধরনের গুজব ছড়ানো হতে পারে। তাঁরা এও বলেন, সৈয়দ আশরাফের পদত্যাগের কোন কারণ নেই। কেননা বর্তমান সরকারের আমলে সবচেয়ে সুখী মানুষটিই হচ্ছেন সৈয়দ আশরাফ। তিনি সরকারের গুরম্নত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এলজিআরডির মন্ত্রিত্বের পাশাপাশি দলের সাধারণ সম্পাদকের মতো দুটো পদই তাঁর কপালে জুটেছে। প্রধানমন্ত্রীও তাঁকে বেশ পছন্দ করেন। আর তাঁর মন্ত্রণালয় বা দলের কর্মকা-ে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি যে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী সম্পর্কে গুজবের নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে তাঁদের মূল্যায়ন হচ্ছে_ অর্থমন্ত্রীর অতিকথন সরকারকে প্রায়শই প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে। তাঁর একেক সময় একেক কথা, পুঁজিবাজারে ভয়াবহ ধস ঠেকাতে ব্যর্থতা, ব্যাংক থেকে অতিমাত্রায় ঋণ গ্রহণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস এবং সর্বশেষ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তাঁর স্ববিরোধী বক্তব্যে এমনিতেই তিনি (অর্থমন্ত্রী) চাপের মুখে রয়েছেন। পুঁজিবাজারের অব্যাহত ধসে প্রায় প্রতিদিনই বিনিয়োগকারীরা অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মিছিল-সমাবেশ করছে। আর এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে হয়ত কিছু লোক তাঁর পদত্যাগের গুজবটি বাজারে ছেড়ে দেয়। আর তা ডালপালা মেলে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
সারাদিনের আলোচনা, কৌতূহল আর গুঞ্জন শেষ পর্যনত্ম বাসত্মবে রূপ নেয়নি। তবে গুজব হিসাবে এটা ছিল বেশ সফল। ৰমতাসীন মহলে রদ বদলের গুজবের ডামাডোলে আগামীতে আরও চমকপ্রদ গুজব ছড়ানো হবে এমনটাই মনে করছেন সংশিস্নষ্টরা। এসব গুজবের মধ্যে দু’একটা হঠাৎ করেই বাসত্মব রূপ নিতে পারে। যেমনটা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর তাজউদ্দীন আহমেদের ছেলে তানজীম আহমেদ সোহেল তাজের ৰেত্রে। তাই সব গুজবকেই একেবারে উড়িয়ে দিতে চান না অনেকেই।
জাল বিছানো হয়ে গেছে, রুই কাতলা চুনোপুঁটিও ধরা পড়বে
‘আমরা ঘুমিয়ে যাইনি, আমাদের প্রিয় নেতা লোকমান হোসেন হত্যার বিচার দেখতে জেগে আছি। লোকমান হত্যাকারীরা বাঁচতে পারবে না। জাল বিছানো হয়ে গেছে, এবার রুই-কাতলা এমনকি চুনোপুঁটিও ধরা পড়বে।’
এই বক্তব্য নরসিংদী সদর আসনের সাংসদ নজরুল ইসলামের। তিনি আজ শনিবার সন্ধ্যায় মেয়র লোকমানের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
অথচ এই সাংসদ এক দিন আগে গত বৃহস্পতিবার নরসিংদী জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলন করে লোকমান হত্যার এজাহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি হত্যা মামলার প্রধান আসামি টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর ভাই সালাহউদ্দিনের পক্ষে সাফাই গেয়ে ব্যাপক সমালোচিত হন।
আর আজ পৌরবাসীর ব্যানারে শহরের নওয়াববাড়ী পৌর কামালউদ্দিন ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত সমাবেশে সাংসদ নজরুল ইসলাম ভোল পাল্টান। তিনি বলেন, ‘নরসিংদীর মানুষের অপেক্ষা, কখন লোকমান হত্যাকারীদের ফাঁসিতে ঝোলানো হবে। লোকমান হত্যাকারীর ফাঁসির পর তাদের নিয়ে শোকসভা হওয়া তো দূরের কথা, লাশ নিয়ে আনন্দ-উল্লাস করতে নরসিংদীর মানুষ বসে আছে।’
পৌরবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে সাংসদ বলেন, ‘লোকমান হত্যার বিচার দেখতে হলে আমাদের আর একটু ধৈর্য ধরতে হবে।’ তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিশ্বাস রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শফিকুল ইসলাম সাংসদকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মুখে বললে হবে না, শুধু কথায় পেট ভরবে না, কার্যকারিতা দেখতে চাই। আপনি প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা। আমরা আপনার মাধ্যমে হত্যাকারীদের বিচার দেখতে চাই।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভূঁইয়া সাংসদের উদ্দেশে বলেন, ‘মাননীয় সাংসদ, আমি লোকমান হত্যার বিচার প্রশাসনের কাছে চাই না। এ বিচার আপনার কাছে চাই। প্রশাসন আজ আছে, কাল থাকবে না। আপনার নরসিংদী ত্যাগ করার কোনো রাস্তা নাই।…আপনার দলীয় কার্যালয়ে একজন জনপ্রতিনিধিকে হত্যা করা হয়েছে। মনে রাখবেন, আপনিও একজন জনপ্রতিনিধি।’
পৌরসভার কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শামসুল আলম, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী, প্যানেল মেয়র জহির আহমেদ প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা চুক্তি হবে, কাজ চলছে
শেখ হাসিনাকে আশ্বাস মনমোহনের
আলোচিত তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি হবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। সপ্তদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি আদ্দুর শাংরিলার ভিলিঙ্গিলি রিসোর্টে বৃহস্পতিবার মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যাশিত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, আধাঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে তাঁরা তিস্তার পানি বণ্টন ও ট্রানজিটসহ বিভিন্ন ইসু্যতে আলোচনা করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেছেন, প্রায় আধাঘণ্টার বৈঠকে দুই প্রধানমন্ত্রী অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, যোগাযোগ, সীমানা নির্ধারণ, বাণিজ্য, ঋণ, বিদু্যত খাতে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, ভারত জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে (তিসত্মার পানি বণ্টন) কাজ করছে। যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। গত ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতে শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। মমতার অভিযোগ ছিল, চুক্তির খসড়া তাঁকে দেখানো হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্ট নিয়েও আলোচনা হয়। ট্রানশিপমেন্টের আওতায় আশুগঞ্জ হয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ভারতীয় পণ্যের চালান অসমে যাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এলে দুই পক্ষেই বলা হয়, পরীক্ষামূলক এই ট্রানশিপমেন্টের ত্রুটি-বিচু্যতিগুলো খুঁটিয়ে দেখে ভবিষ্যতে পুরো মাত্রায় ট্রানজিট চালু করা হবে। খবর বাসস’র ও বিডিনিউজের।
দুই প্রধানমন্ত্রীই বৈঠকে একমত হন যে, আঞ্চলিক উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই।
ভারত থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত কিনতে চুক্তি করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয় বলে জানান এ কর্মকর্তা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, এ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ ওয়াহিদুজ্জামান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
গরু সঙ্কট ॥ শেষ সময়ে
নেপথ্যে
সীমান্ত উন্মুক্ত, প্রচুর ভারতীয় গরু আসছে গুজব রটিয়ে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করা হয়
স্মরণকালের কোরবানির গরু সঙ্কটের নেপথ্যে রয়েছে ভারতীয় গরু আমদানি বন্ধ থাকা। ঈদের চার দিন আগে থেকে গুজব ছড়িয়ে পড়ে সীমান্ত উন্মুক্ত, প্রচুর ভারতীয় গরু আসছে। বিভ্রান্তিকর এই তথ্যের কারণে প্রকৃত ব্যাপারিদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। লোকসানের ভয়ে গরু আমদানি বন্ধ রাখে হাজার হাজার ব্যাপারি। যে কারণে শেষ দুই দিনে কোরবানির গরুর মারাত্মক সঙ্কট সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়ে কোরবানিদাতারা।
ঈদের দু’দিন আগে কেন গরুর সঙ্কট সৃষ্টি হলো তা খুঁজতে মাঠপর্যায়ে একাধিক পাইকার, ব্যাপারি, হাট ইজারাদারের সঙ্গে জনকণ্ঠের পৰ থেকে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে। গাবতলীর হাটেই রয়েছে তালিকাভুক্ত ১৩শ’ বেপারি। এর বাইরে রয়েছে আরও তিন হাজার। কিন্তু অধিকাংশ ব্যাপারি ঈদের তিন দিন আগে থেকে গরু আমদানি বন্ধ করে দেয়।
দীর্ঘ বিশ বছর ধরে গাবতলী হাটে গরুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মোমিন ব্যাপারি জনকণ্ঠকে বলেন, এ বছর গরু সঙ্কটের মূল কারণ হচ্ছে ভারত থেকে আমদানি বন্ধ ছিল। তার মতে বৃহস্পতিবার থেকে বাজারে গুজব রটে সীমান্ত উন্মুক্ত, ভারতীয় প্রচুর গরু আসছে। শুধু গুজব নয়, অনেক টিভি চ্যানেল এই সংবাদ ফলাও করে প্রচার করে। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ক্রেতারা গরম্ন কিনতে যাননি। হাটগুলোতে গরু থাকলেও বেচা বিক্রি ছিল না। ফলে অনেক ব্যাপারি লোকসানের ভয়ে শেষ দু’দিন ভারত থেকে আমদানির অর্ডার দেয়নি।
তিনি আরও বলেন, আমিও ভারত থেকে গরু আমদানি করি। ২০ বছর ধরে গরুর ব্যবসা করছি। এ বছর ছয়টি গরু, একটি উট ও একটি দুম্বা গাবতলীর হাটে নিয়ে আসি। কিন্তু বিভিন্ন দিক থেকে ভারতীয় গরুর সয়লাবের সংবাদে আমি নিজেও বৃহস্পতিবারের মধ্যে ছয়টি গরু বিক্রি করি। তড়িঘড়ি করতে গিয়ে কিছুটা লোকসান দিতে হয়। পরে আমি নতুন করে ভারত থেকে কোন গরু আমদানি করিনি। ব্যাপারি মোমিনের মতে, ভারত থেকে গরু আনতে একটি মোবাইল ফোন আমাদের জন্য যথেষ্ট। ফোন করে দিলেই ওপারের ব্যাপারিরা গরু পাঠিয়ে দেয়। শুধু আমি নই, আমার মতো অনেক ব্যাপারি শেষ তিন দিন ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ রাখে। কারণ গরু আনার পর বিক্রি না হলে প্রতিটি ট্রাকে একজন ব্যাপারির দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে। তিনি আরও বলেন, কোরবানির গরম্ন বিক্রি না হলে পরে ওইসব গরুর শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে জ্বরসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। বাধ্য হয়ে হাট থেকে বাড়ি ফেরত নিয়ে গরম্ন সুস্থ করতে আরও অর্থ ব্যয় করতে হয়। এছাড়া কোরবানির ঈদের পর বিশ দিনের আগে কসাই দোকান খোলে না। এই বিশ দিন অবিক্রীত গরু লালনপালন করতে হয়। এসব হিসাব করেই গাবতলীর অধিকাংশ বেপারি শেষ ঝুঁকি নেয়নি বলে একাধিক ব্যাপারি তথ্য দিয়েছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, দেশীয় গরুর সংখ্যাও কম ছিল। গ্রামগঞ্জে অনেকে গরু লালনপালন বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে বর্তমান গো-খাদ্যের আকাশছোঁয়া মূল্য। প্রতিকেজি ভুসির মূল্য ৩৫ টাকার হিসাব দিয়ে টাঙ্গাইলের গরু বিক্রেতা জনকণ্ঠকে বলেন, একটি সুস্থ স্বাভাবিক গরম্নর পিছনে ওষুধ, খড়কুটা, খাবার মিলে প্রতিদিন ৫শ’ টাকা ব্যয় হয়। কোরবানির জন্য একটি গরম্ন কমপৰে ছয় মাস লালনপালন করতে গিয়ে যে ব্যয় হয় গত কয়েক বছর হাটে বিক্রি করে ওই মূল্য পায়নি বিক্রেতারা। ফলে ধীরে ধীরে গরু লালনপালন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে অনেকে। অন্যদিকে কোরবানির সংখ্যাও বাড়ছে। একই সময়ে ভারতীয় গরম্ন আসা বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
জানা গেছে, ভারতের সবচেয়ে বড় হাট হচ্ছে এলেমবাজার হাট। প্রতি সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার ওই হাট বসে। বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা ওই হাট থেকে বেশিরভাগ গরম্ন আমদানি করেন। গরম্ন নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা ওই হাট থেকে গরম্ন আমদানির অর্ডার দিতে পারেনি। ফলে ববিবার পরিস্থিতি বুঝে উঠতে পারলে ব্যাপারিদের হাতে আমদানি করার মতো সময় ও অর্থ কোনটাই ছিল না বলে জানিয়েছে অপর গরম্ন ব্যাপারি মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ছিল শেষ ব্যাংকিং সময়। অনেক ব্যাপারি গরম্ন আমদানি করবে না বলে শেষ দিনে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেনি। কিন্তু শনিবার রাতে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে তা বুঝতে পারলেও ব্যাংক থেকে কোন টাকা উত্তোলনের সুযোগ ছিল না এবং আমদানির জন্য পর্যাপ্ত সময়ও ছিল না।
এদিকে সঙ্কটের কারণে মহাবিপাকে পড়ে কোরবানিদাতারা। শনিবার দুপুর থেকে হাটগুলোতে কেনাকাটা করতে নামে। শনিবার রাত আটটায় সরেজমিনে গাবতলীর হাট পরিদর্শন করা হয়। অন্যান্য বছর গাবতলীর হাট কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে বেড়িবাঁধের আধা কিলোমিটার পর্যনত্ম দুই পাশ দখলে থাকে গরম্ন বিক্রেতাদের। কিন্তু এ বছর পুরো ভিন্ন চিত্র ফুটে ওঠে। গাবতলীর মূল হাটের মধ্যেই গরম্ন শূন্যতা দেখা যায়। বেড়িবাঁধে কোন গরম্ন দেখা যায়নি। এ সুযোগে ব্যাপারিরা ইচ্ছে মতো দাম হাঁকায়। অন্যান্য বছর ৪০ হাজার টাকা দামের একটি গরম্ন বিক্রেতারা হাঁকায় ৭০ হাজার টাকা। বেশি দাম দিয়েই ক্রয় করেন ক্রেতারা।
উত্তাল নরসিংদী
০ লাখো মানুষের কান্নায় লোকমানের দাফন
০ ট্রেনে আগুন, ৬ বগি ভস্মীভূত, আহত অর্ধশত
০ সার্কিট হাউস রেলস্টেশনে ভাংচুর আগুন, মহাসড়ক অবরোধ
০ ৩১১ পৌরসভায় আজ কালো পতাকা উত্তোলন
০ বিএনপি নেতা খায়রুল কবীর খোকন গ্রেফতার
লাখো মানুষের বুক ফাটা কান্না আর আহাজারিতে চিরনিন্দ্রায় শায়িত হলেন সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত নরসিংদী পৌর মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জননন্দিত নেতা লোকমান হোসেন। বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর লাশ শহরের শালিধার পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। স্টেডিয়ামে জনপ্রিয় এই নেতার জানাজায় লৰাধিক মানুষ শরিক হয়ে তাঁকে চিরবিদায় জানান।
লোকমান হোসেনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো নরসিংদী। এই হত্যার প্রতিবাদে বিৰোভকারীরা আন্তঃনগর এগারোসিন্ধুর এঙ্প্রেসে আগুন ধরিয়ে দিলে ছয়টি বগি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। এতে আহত হন অর্ধশতাধিক যাত্রী। রাতে বিক্ষুব্ধ জনতা নরসিংদী সার্কিট হাউস এবং রেলস্টেশনে ব্যাপক ভাংচুর, অগি্নসংযোগ ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে রাখে। হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে শহরে অসংখ্য বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।
হরতাল ও বিৰোভ চলাকালে র্যাব ও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল বিনিময় হয়েছে বিৰোভকারীদের। মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি ও দলটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর খোকনকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে নরসিংদী নিয়ে গেছে গোয়েন্দা পুলিশ। হত্যাকারীদের গ্রেফতারে পুরো জেলা এবং আশপাশের এলাকায় চিরম্ননী অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উত্তেজিত জনতার রোষ ঠেকাতে শহরের বিভিন্ন সড়কে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এদিকে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ লোকমান হোসেনের এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনতিবিলম্বে সুষ্ঠু তদনত্ম সাপেৰে এই কাপুরম্নষোচিত বর্বর হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত দোষীদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টানত্মমূলক শাসত্মি প্রদান নিশ্চিত করার জন্য সংশিস্নষ্ট কতর্ৃপৰের প্রতি নির্দেশ দেন। এ জঘন্য হত্যাকা-ের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি শোক সনত্মপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
নরসিংদী মেয়রকে হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে সারাদেশের ৩শ’ ১১ পৌরসভায় আজ বৃহস্পতিবার কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারণের কর্মসূচী ঘোষণা করেছে মিউনিসিপ্যাল এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ম্যাব) মহাসচিব, নাটোরের সিংড়া পৌর মেয়র শামিম আল রাজি।
মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে শহরের সদর রোডের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে মুখোশধারীদের গুলিতে গুরম্নতর আহত হন মেয়র লোকমান হোসেন। মুমূষর্ু অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তাঁর মৃতু্য হয়। হাসপাতাল মর্গে বুধবার সকালে নিহত মেয়র লোকমান হোসেনের ময়নাতদনত্ম সম্পন্ন হয়। শাহবাগ থানার এসআই কাজী জসিমউদ্দিন তাঁর লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। ময়নাতদনত্ম শেষে তাঁর লাশ ছোট ভাই তামিম নেওয়াজ গ্রহণ করে নিজ গ্রামে নিয়ে যান। ফরেনসিক বিভাগ সূত্র জানায়, লোকমানের বুক, পেট ও হাত থেকে মোট তিনটি গুলি বের করা হয়। ময়নাতদনত্মকালে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে হাজার হাজার শোকার্ত মানুষের ভিড় ছিল।
নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগ পৌর মেয়র লোকমান হোসেনের মৃতু্যতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিন দিনের শোক পালন, ঘরে ঘরে কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণের কর্মসূচী ঘোষণা করেছে। এছাড়া শুক্রবার জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কোরানখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং বিকেলে প্রতিবাদ সমাবেশ হবে।
লাখো মানুষের চোখের জলে দাফন সম্পন্ন নরসিংদী থেকে আমাদের নিজস্ব সংবাদদাতা মোসত্মফা কামাল সরকার জানান, সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত নরসিংদী পৌর মেয়র লোকমান হোসেনের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদনত্ম শেষে বুধবার দুপুরে শহরের বাসাইলে তাঁর নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পরপর দু’বার বিপুল ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ও স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত পৌর মেয়র লোকমান হোসেনের লাশ দেখতে সেখানে লাখো মানুষের ঢল নামে। স্বজনসহ হাজারো মানুষের কান্না আর আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে ওই এলাকার বাতাস। নরসিংদী মোসলেহ উদ্দিন ভূইয়া স্টেডিয়ামে বাদ আছর প্রথম জানাজা এবং শহরের কাউরিয়াপাড়া পৌর ঈদগাহে দ্বিতীয় জানাজা শেষে লোকমান হোসেনের লাশ সন্ধ্যায় শহরের শালিধার পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, লে. কর্নেল (অব) নজরম্নল ইসলাম হীরম্ন বীরপ্রতীক এমপি, ডা. আনোয়ারম্নল আশরাফ খাঁন দিলীপ এমপি, জহিরম্নল হক ভঁূইয়া মোহন এমপি, এ্যাডভোকেট নুরম্নল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এমপি, নজরম্নল ইসলাম বাবু এমপি, পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি আসাদুজ্জামান, নরসিংদী জেলা প্রশাসক ওবায়দুল আজম, পুলিশ সুপার ড. আক্কাছ উদ্দিন ভূইয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আঃ মতিন ভূইয়া, বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুল কাদির মোলস্নাসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত লাখো মানুষ জানাজায় শরিক নেন।
এদিকে, লোকমান হোসেনের হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নরসিংদী জেলা সদর। বিৰুব্ধ জনতা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলসড়ক অবরোধ এবং সার্কিট হাউসসহ বিভিন্নস্থানে ব্যাপক ভাংচুর ও অগি্নসংযোগ করে। খবর পেয়ে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি এমএইচ নুরম্নজ্জামান ও র্যাব-১১-এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মোসত্মফা কামাল রাতেই নরসিংদী পেঁৗছেন।
বিক্ষুব্ধ জনতা বুধবার সকালে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে হামলা চালিয়ে প্যানেল বোর্ডসহ ব্যাপক ভাংচুর ও অগি্নসংযোগ করে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলসড়কের শহরের বাসাইলে কিশোরগঞ্জগামী এগারোসিন্দুর এঙ্প্রেস ট্রেনটিতে আগুন ধরিয়ে দিলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে ট্রেন থেকে লাফ দেয়ায় অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। ভয়াবহ আগুনে ট্রেনটির ৮ বগি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে আশপাশের সকল রম্নটে বাস ও রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে র্যাব-১১ এর টহল দল ওই স্থানে গেলে বিক্ষোভকারীরা র্যাবের গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তবে কিছুৰণ পর পরিস্থিতি শানত্ম হলে দমকল বাহিনী এসে ট্রেনটির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই বর্বরোচিত হত্যাকা-ের প্রতিবাদে জেলা ছাত্রলীগ ৭২ ঘণ্টার হরতাল আহ্বান করে। কিন্তু নিহত মেয়র লোকমান হোসেনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করার স্বার্থে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এসএম কাইয়ুম আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যনত্ম হরতাল কর্মসূচী শিথিল করেন। এদিকে, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ মঙ্গলবার গভীর রাতে এ ঘটনায় নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রম্নল কবির খোকনকে ঢাকায় তাঁর নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে বুধবার নরসিংদী জেলা পুলিশের কাছে হসত্মানত্মর করে। পুলিশ আদালতের নির্দেশে তাঁকে নরসিংদী জেলা কারাগারে প্রেরণ করে।
সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত আধুনিক শহর উন্নয়নের রূপকার পৌর মেয়র লোকমান হোসেন বাংলাদেশ টেঙ্টাইল মিলস ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন ছাড়াও বাংলাদেশ মেয়র এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ছিলেন অন্যায়কারী, জঙ্গীবাদ ও স্বাধীনতাবিরোধীদের আতঙ্ক। নিহত লোকমান এক কন্যা ও এক পুত্র রেখে গেছেন। নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান এ ন্যক্কারজনক হত্যাকা-ের তীব্র নিন্দা জানান এবং এ পরিকল্পিত হত্যাকা-ের বিচার দাবি করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ অহিভূষণ চক্রবতর্ী জানান, ঘটনার সময় তিনি লোকমান হোসেনের সঙ্গেই বসা ছিলেন। হঠাৎ ১৭-১৮ বছরের মুখোশধারী এক সন্ত্রাসী (বস্নু রঙের গেঞ্জি পরিহিত) মেয়রকে লক্ষ্য করে পর পর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় মেয়র মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তিনি এ পরিকল্পিত হত্যাকা-ের বিচার দাবি করেন।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার ড. আক্কাছ উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, জনপ্রিয় পৌর মেয়র লোকমান হোসেন সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজিত জনতা রাসত্মায় নেমে বিক্ষোভ মিছিল করে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। জনরোষ ঠেকাতে আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ নরসিংদীতে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টানত্মমূলক শাসত্মির ব্যবস্থা করা হবে।
পৌর মেয়র লোকমান হোসেনের ছোট ভাই জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও নরসিংদী সরকারী কলেজের ভিপি শামীম নেওয়াজ এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকা- উলেস্নখ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি দাবি করেন।
জাতিসংঘ তদন্ত চেয়েছে ॥ গাদ্দাফির মৃত্যুর কারণ নির্ণয়
০ ন্যাটোর অভিযান শেষ হওয়ার ঘোষণা যে কোন সময়
০ লিবীয় নেতার রক্তাক্ত মরদেহ হিমঘরে
০ দাফন নিয়ে রহস্য
০ সাগরে সমাহিত করা হতে পারে
লড়াইয়ের ময়দানে জীবিত ধরার পর লিবিয়ার সাবেক স্বৈরশাসককে কিভাবে হত্যা করা হলো এ প্রশ্ন ধীরে ধীরে জোরালো হয়ে উঠছে। এ নিয়ে রীতিমতো বেকায়দায় এখন লিবিয়ার জাতীয় অন্তর্বর্তী পরিষদের (এনটিসি) কর্তা ব্যক্তিরা। ধরার পর সাবেক লিবীয় নেতা গাদ্দাফির ওপর নির্যাতনের ভিডিও চিত্র প্রকাশ হওয়ার পর রীতিমতো চাপের মুখে এখন লিবিয়ার প্রশাসনযন্ত্র। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ঐ ভিডিও চিত্রের বরাত দিয়ে গাদ্দাফির মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থাটি গাদ্দাফির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, গ্রেফতারের পর গাদ্দাফিকে নিয়ে ঐ ভিডিও চিত্রটি খুবই অস্বস্তিকর ও বিচলিত হওয়ার মতো। জাতিসংঘ বলছে, গাদ্দাফির ৪২ বছরের শাসনামল নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও কাউকে বিনা বিচারে হত্যা করা যায় না। তবে এনটিসি এরই মধ্যে সাবেক এই লিবীয় নেতার মৃতু্যর কারণ হিসেবে ক্রসফায়ারের গল্প সাজিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে। গাদ্দাফির মৃত্যুর বিষয়টি জাতিকে অবহিত করার জন্য জাতির উদ্দেশে বৃহস্পতিবার রাতে এনটিসি প্রধানের ভাষণ দেয়ার কথা থাকলেও পরে অজানা কারণে তা আর করা হয়নি। মৃত্যুর একদিন পর গাদ্দাফির লাশ কিভাবে দাফন করা হবে সে বিষয়টি সুরাহা করতে পারেনি এনটিসি। ‘কিং অব কিংস অব আফ্রিকা’ হিসেবে পরিচিত এই বীরের লাশ রাখার জায়গা খুঁজে পেতে এখন গলদঘর্ম অবস্থা তাদের। ইসলামী রীতি অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাদ্দাফির লাশ দাফন করার কথা উঠলেও ঐ অবস্থান থেকে এনটিসি সরে এসেছে। ত্রিপোলিতে বিবিসি’র প্রতিনিধি ক্যারোলিন হাওলে বলেছেন, কর্নেল গাদ্দাফির মৃত্যু পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে তাঁর লাশ দাফন কিভাবে করা হবে সে ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে এনটিসি নীতি নির্ধারকদের। গোপনে গাদ্দাফির লাশ দাফন নিয়েও জোর আলাপ আলোচনা চলছে। আজানা আতঙ্কে গাদ্দাফির লাশ ওসামা বিন লাদেনের মতো সাগরে ভাসিয়ে দেয়ার বিষয়টিও আলোচনার সামনে চলে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে, জীবিত গাদ্দাফির চেয়ে মৃত গাদ্দাফি কি অনেক বেশি শক্তিশালী? লিবিয়া তো বটেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার শীর্ষে এখন যে কথাটি তা হচ্ছে_ গাদ্দাফি কথা রেখেছেন। তিনি বলেছিলেন, আমি লিবিয়া ছেড়ে পালাব না, মরলে বীরের মতোই মরব, লিবিয়ার মাটিতেই মরব। এদিকে ন্যাটো জানিয়েছে, লিবিয়ায় তাদের অভিযান শেষ হওয়ার পথে। ফরাসী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সার্কোজি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, কর্নেল গাদ্দাফির মৃতু্যর মধ্যদিয়ে লিবিয়ায় ন্যাটোর সামরিক অভিযান শেষ হয়ে গেছে। আমরা পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি অপারেশন সম্পন্ন। শুক্রবারই ন্যাটো এ ব্যাপারে একটি সিদ্ধানত্ম নিতে পারে বলে এনটিসির এক কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন। সিরতে নিহত হওয়ার পর গাদ্দাফির রক্তাক্ত মরদেহ এখন মিসরাতার একটি হিমঘরে জনসাধারণের জন্য রাখা হয়েছে। খবর বিবিসি, আল-জাজিরা ও এএফপি’র।
লিবিয়ার তেলমন্ত্রী আলী তারহোনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যে কর্নেল গাদ্দাফির লাশ ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে। তাঁর লাশ মিসরাতায় রাখা আছে। সবাইকে আমরা নিশ্চিত করতে চাই, গাদ্দাফি মারা গেছেন এবং এ জন্যই কয়েকদিন তাঁর লাশ মিসরাতায় হিমাগারে রাখার সিদ্ধানত্ম নিয়েছি। কিভাবে লাশ দাফন করা হবে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধানত্ম এখনও নেয়া হয়নি। তবে এনটিসির কোর কমিটির কয়েকজন সদস্যের বরাত দিয়ে রয়টার্সের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, গাদ্দাফির লাশ কি করা হবে তা নিয়ে এনটিসি কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না। গ্রেফতার করার পর গাদ্দাফিকে ঘিরে আসলে কি ঘটেছিল তা নিয়ে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। এনটিসির সিনিয়র সদস্য মোহাম্মদ সায়েহ বিবিসিকে বলেছেন, কর্নেল মারা গেছে, যদি বলি তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে মারা হয়েছে তাহলে আমি বলব তিনি এটা প্রাপ্য ছিলেন। এনটিসির ঐ কর্মকর্তা বলেন, যদি তাঁকে হাজারবার হত্যা করা হতো, আমার মনে হয় তাহলেও তিনি অতীতে যা করেছেন তাঁর শোধ হয় না। তবে শুক্রবার মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ হাইকমিশনার বলেছেন, কিভাবে গাদ্দাফি মারা গেলেন তা উদঘাটনে তদন্ত হওয়া দরকার। কমিশনের মুখপাত্র রুপার্ট কলভিলে বলেছেন, মোবাইল ভিডিও চিত্রে দেখা যাচ্ছে, গ্রেফতারের পর গাদ্দাফি জীবিত ছিলেন এবং পরে তিনি মারা যান এবং মোবাইলের ভিডিও চিত্রকে অস্বস্তিকর ও বিচলিত হওয়ার মতো বিষয় বলে মনে করছেন। ব্রিটিশভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কর্নেল গাদ্দাফির মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। এ সবের জবাবে এনটিসির সিনিয়র সদস্য মোহাম্মাদ সায়ে বলেছেন, গাদ্দাফির মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য তৃতীয় কোন পক্ষ লিবিয়ায় আসবে। তিনি বলেছেন, ইসলামী রীতি মেনে যথাযোগ্য মর্যাদায় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া গাদ্দাফিকে দাফন করা হবে। এদিকে গাদ্দাফির আহত পুত্র সাইফ আল ইসলাম এনটিসির যোদ্ধাদের হাত থেকে পালিয়ে গেছেন বলে বিসিসির এক খবরে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তবে এর সত্যতা যাচাই করা যায়নি। তাঁর ভাই মুতাস্মিম লড়াইয়ের ময়দানে বৃহস্পতিবার প্রাণ হারান।
আল-জাজিরা টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, লিবিয়ার সাবেক স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির মৃতদেহ মিসরাতা শহরের একটি মসজিদে নেয়া হয়েছে। আল-আরাবিয়া টেলিভিশনও বলেছে, গাদ্দাফির মৃতদেহ মিসরাতায়। তবে তারা জানায়, লাশ রাখা হয়েছে শহরের বাণিজ্যিক এলাকা সোক তাওয়ানসায়। এর আগে লিবিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের (ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিল-এনটিসি) এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার নিরাপত্তার কারণে গোপন এক জায়গায় গাদ্দাফির মৃতদেহ স্থানানত্মরের কথা জানান। মিসরাতা শহরে এনটিসি কর্মকর্তা মোহাম্মেদ আব্দুল কাফি বলেন, গাদ্দাফির লাশ আমাদের ইউনিটের একটি গাড়িতে রয়েছে এবং নিরাপত্তার কারণে আমরা তা গোপন একটি স্থানে নিয়ে যাচ্ছি।
এনটিসির উর্ধতন সামরিক কর্মকর্তা আব্দেল মজিদ রয়টার্সকে বলেন, পায়ের পাশাপাশি তাঁর (গাদ্দাফির) মাথায়ও আঘাত লাগে। গাদ্দাফির গ্রুপের সেনাদের ওপর ব্যাপক গুলি চালানো হয় এবং তিনি মারা যান। তবে মজিদের এ দাবির পক্ষে নিরপেক্ষ কোন তথ্য জানা যায়নি।
গাদ্দাফি নিহত
গত ২১ আগস্ট লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি দখল করে বিদ্রোহীরা। বেদখল হয় গাদ্দাফির রাজকীয় প্রাসাদ। এরপর গাদ্দাফির অবস্থান নিয়ে গুজব তার ইচ্ছেমতো ডালপালা মেলে। কেউ বলে, মাটির নিচে গাদ্দাফির অসংখ্য সুড়ঙ্গ, বাঙ্কার আছে।
হয়তো সেখানেই ঘাঁপটি মেরে আছেন তিনি। কেউ বলে তিনি আলজেরিয়ায় পালিয়ে গেছেন। কারো মতো
ভেনিজুয়েলায় আবার কেউ বলেন নাইজারে। কিন্তু সব গুজব ভ্রান্ত।
লিবিয়ার পতিত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার তার জন্মশহর সির্তের কাছে বিদ্রোহীরা হামলা চালালে গাদ্দাফির অনুগত বাহিনী তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তারা বিদ্রোহীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়। গাদ্দাফির শরীরে এসময় গুলি লাগে। বিদ্রোহীদের সহায়তায় পশ্চিমা ন্যাটো বাহিনীও যুদ্ধবিমান নিয়ে এগিয়ে আসে। গাদ্দাফির যোদ্ধারা বিপদ বুঝে নেতাকে নিয়ে নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। কিন্তু গাদ্দাফির পলায়নরত গাড়িবহরে বিমান হামলা চালায় ন্যাটো। এতে আরো গুরুতর আহত হন গাদ্দাফি। এ অবস্থাতেই ধরা পড়েন তিনি। কিন্তু তার চিকিত্সার পরিবর্তে বিদ্রোহীরা উলাসে ব্যস্ত থাকায় একসময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। অবসান হয় লিবিয়ার লৌহমানবের ৪২ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের।
গাদ্দাফির মৃত্যু নিয়ে সব মহল প্রথমে সংশয় প্রকাশ করলেও ধীরে ধীরে এই বিশ্বাস জন্মাতে থাকে যে সত্যিই নিহত হয়েছেন তিনি। সব সংশয় দূর করতে গতকাল সন্ধ্যায় লিবিয়ার অন্তবর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহমুদ জিবরিল গাদ্দাফির নিহত হবার খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, গাদ্দাফি আর বেঁচে নেই, এটাই চরম বাস্তবতা। এই দিনটার জন্যই দীর্ঘদিন ধরে তারা অপেক্ষা করছিলেন বলে জানান।
লিবিয়ার সাবেক নেতা নিহত হবার খবরে উলাস প্রকাশ করেছে লিবিয়ার গাদ্দাফি বিরোধীরা। তারা গাদ্দাফির ধরা পড়ার ও নিহত হবার খবর শুনে দলে দলে রাস্তায় নেমে এসে উলাস প্রকাশ করে। রাস্তাঘাট ছেয়ে যায় লিবিয়ার জাতীয় পতাকায়। লোকজন গাড়ির হর্ন বাজিয়ে জানালা দিয়ে পতাকা উড়াতে উড়াতে আনন্দ প্রকাশ করে।
অন্যদিকে, বিশ্ব নেতারাও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন গাদ্দাফি অধ্যায়ের যবনিকা হয়েছে শুনে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, সত্যিই যদি গাদ্দাফি নিহত হয়ে থাকেন সেটা গোটা বিশ্বের জন্য অবশ্যই একটি ভাল খবর। আনন্দ প্রকাশ করেছে ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়স, রাশিয়াসহ অনেক দেশ। তারা মনে করছেন গাদ্দাফি নিহত হওয়ায় এখন বিদ্রোহী কাউন্সিল নিশ্চিন্ত মনে দেশের শাসনকাজ চালাতে পারবে।
গত ২১ আগস্ট লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি দখল করে বিদ্রোহীরা। বেদখল হয় গাদ্দাফির সুরম্য রাজকীয় প্রাসাদ। এরপর গাদ্দাফির অবস্থান নিয়ে গুজব তার ইচ্ছেমতো ডালপালা মেলে। কেউ বলে, মাটির নিচে গাদ্দাফির অসংখ্য সুড়ঙ্গ, বাঙ্কার আছে। হয়তো সেখানেই ঘাঁপটি মেরে আছেন তিনি। কেউ বলে তিনি আলজেরিয়ায় পালিয়ে গেছেন। কারো মতো ভেনিজুয়েলায় আবার কেউ বলেন নাইজারে। কিন্তু সব গুজব ভ্রান্ত প্রমাণ করে বিদ্রোহীদের হাতে নিজ জন্মশহরে আহত অবস্থায় ধরা পড়ার পর মৃত্যু হয়েছে তার।
গাদ্দাফি অধ্যায় শেষ : বিদ্রোহীদের দাবির পরেও গতকাল কোনো সংবাদমাধ্যমই গাদ্দাফির মৃত্যুর খবর প্রচার করার দায়িত্ব নিতে চায়নি। কারণ, বেশিরভাগ মানুষের কাছেই অবিশ্বাস্য ঠেকছিল গাদ্দাফির মৃত্যুর খবরটি। কেউ মনে করেন বিদ্রোহীদের মানসিকভাবে দুর্বল করার জন্য এটা হতে পারে ‘চালবাজি’। কারো মতে এটা মার্কিন ফন্দি। কিন্তু সব সংশয়ের অবসান ঘটান লিবিয়ার অন্তবর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহমুদ জিবরিল। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় এক সংবাদ সংম্মেলন করেই ঘোষণা দেন- দায়িত্ব নিয়েই বলছি গাদ্দাফি আর বেঁচে নেই। তার উভয় পায়ে এবং মাথায় গুলি লেগেছে। শিগগিরই তার মৃতুদেহ মিসরাতায় নিয়ে যাওয়া হবে। সবাইকে দেখানো হবে। অপরদিকে, তথ্যমন্ত্রী মাহমুদ সাম্মান বলেন, যারা মৃতদেহ দেখেছেন তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের মিথ্যা বলার মতো কোনো কারণ দেখছি না। প্রধানমন্ত্রী শতভাগ নিশ্চিত করে ঘোষণা দিচ্ছেন যে গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন। লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং তথ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরই সব বিশ্ববাসীর মন থেকে প্রশ্নবোধক চিহ্ন উঠে যায়।
যেভাবে গাদ্দাফি ধরা পড়েন : বিদ্রোহীদের একজন নেতা জানান, বৃহস্পতিবার খুব ভোরে সির্তের কাছ থেকে গাদ্দাফিকে বন্দি করা হয়। গাড়ি বহর নিয়ে পালানোর চেষ্টার সময় ন্যাটো বিমান হামলার শিকার হন গাদ্দাফি। তার দুই পায়ে আঘাত লাগে। লিবিয়ার সাবেক এ শাসককে বন্দি করার সময় তার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবু বকর নিহত হন। গাদ্দাফিবিরোধী এক যোদ্ধা জানান, আহত অবস্থায় গাদ্দাফি কোনোরকমে মাটিতে নেমে কাছে থাকা একটি পাস্টিকের পাইপের গর্তে ঢুকে যান। সেখান থেকেই তাকে টেনে বের করে বিদ্রোহীরা। দুই যোদ্ধা যখন তাকে গর্ত থেকে টেনে বের করতে যায় তখন গাদ্দাফি করুণ আর্তি জানিয়ে বলতে থাকেন, ‘দয়া করো গুলি করো না, গুলি করো না’।
গাদ্দাফির রক্তাক্ত মৃতদেহের ছবি বিভিন্ন আন্তজার্তিক পত্রিকা এবং টিভিতে দেখানো হয়। গুলিতে নিহত গাদ্দাফির মরদেহ নিরাপত্তার কারণে প্রথমে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। টিভিতে দেখা যায়, গুলিতে গাদ্দাফির নাক মুখ ঝাঁঝরা হয়ে গেছে।
এদিকে গতকাল দিন এবং রাতভর লিবিয়াতে শোনা গেছে বন্দুকের ফাঁকা গুলির শব্দ। নারী পুরুষ শিশুরা দলে দলে রাস্তায় নেমে উলাস প্রকাশ করছে। তাদের মুখে সমবেত শোগান -‘আলাহু আকবর, লিবিয়া দীর্ঘজীবি হোক’।
