তিশা
অভিনেত্রী হিসেবে তিশা বেশ সচেতন। কিছুটা খুঁতখুঁতেও বটে। তবে মানুষ হিসেবে ঠিক তার উল্টোটি। এমন বিপরীতধর্মী কেন আপনি? ‘অভিনেত্রী তিশা ভক্ত-শ্রোতার ভালোবাসায় তৈরি। তাই তাকে কাজ করতে হয় বেছে বেছে। মনে রাখতে হয় সমালোচকদের কথাও। সে তার কাজের ক্ষেত্রে যুক্তির বাইরে কোনো কিছু মানতে রাজি হয় না। অন্য কে কী করল, সেটা সে দেখে না। শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। কিন্তু ব্যক্তি তিশা তার উল্টোটি। নিজে কী পেল বা পেল না, তা নিয়ে চিন্তিত হয় না। অন্যের জন্য ভাবনা যেন তাকে বেশি পেয়ে বসে।’
ঝটপট কথাগুলো বলে দিলেন তিশা।
আপনি নাকি খুবই জেদি? একবার ‘না’ বললে, সেটা নাকি আর ‘হ্যাঁ’ হয় না?
‘জেদি কি না বলতে পারব না। কেউ কিছু বললে আগে বাস্তবতা বিচার করি। তারপর দেখি, আমি যে কাজটা করব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তার উল্টো পিঠে অন্য কোনো যুক্তি আছে কি না। যদি দেখি জোরালো যুক্তি নেই, তাহলে নিজের সিদ্ধান্তেই অটল থাকি।’
তিশার কাছের মানুষ বলে থাকেন, মেয়েটি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ। কিন্তু তা কখনোই প্রকাশ করে না। একাকী কাঁদতে ভালোবাসে।
কথাগুলো শুনে তিশার হো হো হাসি।
‘আমার কান্না কেউ দেখেছে বলে মনে হয় না।’
সরয়ার ফারুকী কী দেখেছেন?
কপালে চিন্তার রেখাগুলো স্পষ্ট তিশার। ‘বিয়ের দিনে, কবুল বলার সময় চোখ থেকে পানি ঝরেছিল। সরয়ার সেটি দেখেছিল। তাতেই বিচলিত। বলে ফেলল, “এত বছর প্রেম করলা, আর আজ কবুল বলতে গিয়ে কান্না করলা! তুমি কী হে?” আর একদিন আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে কেঁদেছিলাম। এতেই ওর অবস্থা এমন হয়েছিল, এখন যদি বলি যে শরীরটা ভালো লাগছে না, তাতেই সব কাজ ফেলে বলে, “চলো, চিকিৎসকের কাছে যাই।” বিয়ের পর বোধহয় দুবারই কেঁদেছি আমি।’
সরয়ারের বকুনি খেয়েছেন কখনো?
‘আমার বকা খায় ও। বকা দিই, আর হাসে।’
কোনো আফসোস আছে আপনার? আপনার বয়সী অনেকেই এখনো পড়াশোনা করছেন, চুটিয়ে কাজ করছেন।
তিশা জানান, এখন পর্যন্ত তিনি যেভাবে যা চেয়েছেন, সময় অনুযায়ী তিনি সবই পেয়েছেন। হতে চেয়েছিলেন মডেল, হয়েছেন। তারপর অভিনয় করতে চেয়েছিলেন, সেখানেও সফল। একটা সিনেমায় কাজ করার ইচ্ছে ছিল, সেটাও করেছেন। প্রেম করার ইচ্ছে ছিল, করেছেন এবং তাকেই বিয়ে করেছেন। তাই কোনো আফসোস নেই। তিনি মনে করেন, জীবনটা উপভোগ করতে যে সময় বিয়ে করা উচিত ছিল, তিনি সেই সময়টিই ধরতে পেরেছেন।
কোনো অপ্রাপ্তি নেই তাহলে?
‘তা তো আছেই। যেটুকু অপ্রাপ্তি আছে, তা আমাকে খুব বেশি ছুঁয়ে যেতে পারে না। কারণ, প্রাপ্তির গভীরতা অনেক বেশি।’
প্রসঙ্গ বদলাই। বিয়ের পর কি কখনো মনে হয়েছে যে কাজ কমে যাচ্ছে? সংসারের কারণে অভিনয়ে পুরো সময় দেওয়া সম্ভব হয় না?
‘কী বলেন? আমি তো মাসের ৩০ দিনই প্রায় শুটিং করি। সরয়ার তো আমাকে আরও উৎসাহ দেয়। দুজন মানুষের সংসার আমাদের। সংসারের কারণে কাজের সমস্যা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার-এ কাজ করলেন। এখন ফারুকী টেলিভিশন নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চাইছেন। কিন্তু আপনি করতে চাইছেন না কেন?
‘আমাদের দেশে একটা রেওয়াজ চালু হয়েছে। স্বামী নির্মাতা হলে স্ত্রী যদি অভিনেত্রী হয়, তখন স্বামীর সব কাজেই স্ত্রীকে অভিনয় করতে দেখা যায়। তখন মানুষ মনে করে, স্বামীর কারণেই মেয়েটি কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। আমি এ সমালোচনা নিতে চাই না। তা ছাড়া ছবিটি ভালো হলেও লোকে স্বামী-স্ত্রীর ছবি বলে কটূক্তি করবে। আমি চাই না আমার জন্য সরয়ারকে নিয়ে কেউ মন্দ কথা বলুক। এ জন্য টেলিভিশন ছবিটিতে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দ্বিতীয়ত, সরয়ারকে বলেছি, “তুমি আমার জায়গায় অন্য একজনকে নাও। তাহলে অন্তত নতুন একজনের আসার সুযোগ হবে।” কিন্তু সরয়ার এটা মানতে রাজি নয়। তার যুক্তি হলো, এ ছবিতে ১৮ বছরের গ্রাম্য দুষ্টু এবং দৃঢ় মেয়ের চরিত্রটির জন্য প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীদের মধ্যে তিশাই হচ্ছে মানানসই।’
বলছিলেন তিশা।
সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে অনেকেই কাজ করতে চান। আপনি সিনেমায় অন্য কাউকে নিতে বলছেন। পরে কিন্তু ঈর্ষান্বিত হবেন।
তিশা হেসেই খুন। ‘শোনেন, আমি তো গর্বিত। আমার স্বামীর সঙ্গে অন্য মেয়েরা কাজ করার জন্য আগ্রহী থাকে, আমি তো তখন মনে করি যে উপযুক্ত মানুষকেই স্বামী হিসেবে বেছে নিয়েছি। আর ঈর্ষা করব কেন? কেউ কি কারও জায়গা চাইলেই নিতে পারে? নতুনেরা আসবে, তারা তাদের মতো কাজ করবে। সরয়ার ফারুকী যদি নতুন একজনকে নিয়ে কাজ করে তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, আমি তো বলব, এটা আমার স্বামীর কৃতিত্ব।’ স্বামীর এমন কৃতিত্বে স্ত্রীরা তো খুশি হবেনই।