Archive for ‘সম্পাদকীয়’

July 24th, 2011

বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনী নতুন প্রজন্মের ভাবনা

সোম, ২৫ জুলাই ২০১১, ১০ শ্রাবণ ১৪১৮

আমরা চেয়েছিলাম ধর্মনিরপেক্ষতা

কিন্তু পেয়েছি কি?

মোঃ আবুল কাসেম

মাস্টার্স, আইন ও বিচার বিভাগ

আইন ও বিচার বিভাগ

মাদার বখস হল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাদেশের রাজনীতি এখন মূলত দুটি জোটে বিভক্ত। মহাজোট ও ঐক্যজোট। মহাজোটের কোন কথা যেমন ঐক্যজোট মানতে চায় না তেমনি ঐক্যজোটের সকল কথায়ই মহাজোটের কাছে বিষবত। এমতাবস্থায় আমরা আমজনতা আছি সমস্যায়। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ যে সংবিধান গ্রহণ করেছিল একজন আইনের শিক্ষার্থী হিসেবে আমার কাছে সেখানে কোন দ্বিমত বা ভিন্নমত পোষণ করার কিছু নেই। এযাবত্কাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সংবিধানে ১৫টি সংশোধনী আনা হয়েছে কিন্তু জনগণের দাবীতে কি কোন সংশোধনী এমনকি সংশোধনীগুলোর কোন একটি কথাও গ্রহণ করা হয়েছে? কেউ সংশোধনী এনেছে সামরিক শাসনকে বৈধতা দিতে, কেউ বিসমিল­্লাহ যোগ করে পাবলিক সেন্টিমেন্ট নিজের করে নিতে, কেউবা ইসলামকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়ে স্বৈরাচারবৃত্তিকে পাকাপোক্ত করতে, আবার অনেকে অনেক রকম ফায়দা লুটতে সংবিধানে সংশোধনী এনেছিল। ধর্মনিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী দল যখন ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসল, যারা মুক্তমনের অধিকারী, সংস্কৃতিপ্রেমী এবং সকল ধর্মে আস্থাপরায়ণ তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল এই বলে যে, বাঁচলাম- কোন একক ধর্মকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম মানতে হবে না। সমাজে একটি শান্তির বাতাস বইবে। কিন্তু বাস্তবে কি তাই ঘটেছে? আমরা চেয়েছিলাম ধর্মনিরপেক্ষতা, কিন্তু পেয়েছি কি? রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করায় ১৯৮৮ সালের ১২ জুন বৃহত্তর দুই দলই প্রতিবাদের ঝড় তুলেছিল। কিন্তু বর্তমান পেক্ষাপট একদল রাষ্ট্রধর্ম রাখার পক্ষে ছিল অন্যদল বিরোধী ছিল, কিন্তু ৩০ জুন যখন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হল দেখা গেল যারা ধর্মনিরপেক্ষতার নামে চেঁচামেচি করছিলেন তারা অতি সন্তর্পণে সেটা মেনে নিয়েই বিলটি পাস করেছেন। বর্তমান সংবিধানের অবস্থা কি যে বলব! পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি রাষ্ট্রধর্ম ও ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধানে কোনদিন থাকতে পারে না। আর যদি থেকেও থাকে তাহলে সেটা রাজনীতি ও সমাজনীতির পরিবেশকে ঘোলাটে করবে বৈ আলোকিত করবে না।

সুতরাং বর্তমান সরকারের উচিত হবে আমাদের মত আমজনতাদের “হরতাল” নামের যে বেয়াদব শব্দটি আছে তার যেন মুখোমুখি না হতে হয় আর যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। যেখানে গণতন্ত্র থাকবে সমুন্নত। রাষ্ট্রের ধর্ম বলে কিছু থাকবে না। প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্র কোন ধর্মকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠে না। মানব ধর্মই রাষ্ট্রের ধর্ম, মানব কল্যাণই রাষ্ট্রের কল্যাণ।

ধর্মনিরপেক্ষতা ও রাষ্ট্রধর্ম একই সাথে থাকতে পারে না। কিন্তু তাই করা হয়েছে

সাদিয়া আফসানা রিমা

৪র্থ বর্ষ, আইন ও বিচার বিভাগ

তাপসী রাবেয়া হল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

গত ৩০ জুন আমাদের মহান জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল ২৯১-১ ভোটে পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৯৭২ সালের সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত জাতীয় চার মূলনীতি-জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরে এল, রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্থায়ী হল-ইসলাম, বাদ পড়ল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, সংযুক্ত হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা, অবৈধ হলো সংবিধানের ৫০টির মতো বেশী অনু্চ্ছেদ সংশোধন, বাড়ানো হলো আরও ৫টি সংরক্ষিত নারী আসন, বাতিল হলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার। রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের প্রর্বতন হয়েছিল সংবিধান (অষ্টম সংশোধন) আইন, ১৯৮৮ (১৯৮৮ সালের ৩০ নং আইন) এর ২ ধারাবলে ২ক অনু্চ্ছেদে। রাষ্ট্রধর্ম প্রর্বতন বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো আঘাত করেছে। রাষ্ট্রধর্মের প্রবর্তন বাংলাদেশের মানুষকে মুসলমান (রাষ্ট্রধর্মের অনুসারী) এবং অমুলমান (শান্তিতে পালনযোগ্য অন্যান্য ধর্মের অনুসারী) বিভক্ত করেছে। রাষ্ট্রধর্মের প্রবর্তন বাংলাদেশের অমুসলমান নাগরিকদের মধ্যেও এক ধরনের স্বাতন্ত্র্যবাদের সূচনা করেছে। রাষ্ট্রধর্ম প্রবর্তনের পরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদের প্রতিষ্ঠা তারই দৃষ্টান্ত। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান সরকার রাষ্ট্রধর্ম শুধু বহালই রাখেননি বরং চিরকালের জন্য ‘সংশোধনের অযোগ্য’ ঘোষণা করেছে। জিয়া ও এরশাদ রাষ্ট্রধর্ম ও বিসমিল্লাহ সংবিধানে সংযোজন করে যা করতে পারেননি তা আওয়ামী লীগ করেছে এই দুটিকে অনন্তকালের জন্য সংশোধনের অযোগ্য ঘোষণা করে। এই একই সংশোধনের মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয় চার মূলনীতির একটি হিসেবে পুনরায় গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাত্ ধর্মনিরপেক্ষতা ও রাষ্ট্রধর্ম একই সাথে থাকছে। তাই বলা যায় সরকার গাছের ফলও চাচ্ছে আবার গাছের নিচে পড়ে থাকার ফলগুলোর লোভও সংবরণ করতে পারছে না। তাই ওই দুটোকে একসঙ্গে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো করা হয়েছে।

সংবিধানের কোন ্উপন্যাস নয় যে, এখানে ইচ্ছামত কল্পকাহিনী থাকবে। এর প্রতিটি অক্ষরই অর্থবহ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তার সুষ্ঠু প্রয়োগ না করা সর্বোচ্চ্ মাত্রার রাষ্ট্রবিরোধিতা। তবে এই পরম সম্মানীয় সংবিধানে একইসঙ্গে কিভাবে একটি রাষ্ট্রধর্ম, একটি ধর্মের বাণী উদ্ধৃত থাকা অবস্থায় ধর্মনিপেরক্ষতাও থাকে তা বুঝতে পারছি না। এর কোন মানে হয় না। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হ্চ্ছে ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার জন্য বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কিছুটা আপোষ করে রাষ্ট্রধর্মকে রাখা হয়েছে। অথচ ১৩টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র তাদের সংবিধানের সুনির্দিষ্টভাবে ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটির উল্লেখ ও ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। দেশগুলো হচ্ছে-আজারবাইজান, বারকিনো- ফাসো, চাদ, গায়না, কাজাখস্তান, কসোভা, কিরগিস্তান, মালি, নাইজার, সেনেগাল, তাজাকিস্তান, তুরস্ক ও তুর্কমেনিস্তান। এবং আরও ছয়টি দেশে কোন প্রধান রাষ্ট্রধর্ম নেই এবং তাদের আইন ব্যবস্থা ধর্মনিরপেক্ষ। দেশগুলো হচ্ছে-আলবেনিয়া, গাম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লেবানন, সিয়েরা লিওন, সিরিয়া ও উজবেকিস্তান। এই ১৯টি মুসলিম রাষ্ট্র ইসলাম না রেখে ধর্মনিরপেক্ষ থাকতে পারছে আমরা সেখানে কেন পারছি না? অথচ দেশের আপামর জনসাধারণ কেউ কখনো সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতার উচ্ছেদ চায়নি, রাষ্ট্রধর্মের প্রবর্তনও চায়নি। ক্ষমতাসীন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নিজের স্বার্থে এসব উদ্যোগ নিয়েছিল এবং বলা যায় দেশের অধিকাংশ মানুষ তা মেনে নিয়েছে। তবে সচেতন জনগোষ্ঠী বরাবরই এসব ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর বিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী বলে গণ্য করে এসেছে।

সংবিধানে এমন কিছু থাকা উচিত নয়

যা বিতর্ক বা সংঘাতের জন্ম দেয়

মোত্তাকিয়া খাতুন কেয়া

৪র্থ বর্ষ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান

মন্নুজান হল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

আদালতের রায় মেনে যদিও তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তবুও এক্ষেত্রে অনেক দ্রুততার সাথে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যেখানে আরও দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছে আদালত। আর এ বিষয়টি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম ধর্মকে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বহাল রাখার মধ্য দিয়ে সরকার সংবিধানের সাথে একটি সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি করেছে। সংবিধানের ধর্মনিরাপেক্ষতার প্রশ্নে ক্ষমতাসীনদের মিত্ররা যেমন হতাশ হয়েছে, তেমনি ইসলামী দলগুলো সংবিধানে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বহাল রাখার দাবিতে বিক্ষোভ করছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে ইতোমধ্যে ৩৬ ঘন্টা, ৪৮ ঘন্টা, ৩০ ঘন্টাসহ কয়েক দফা হরতালও হয়েছে, যা জনজীবনকে অনেকখানি অস্থির করে দিয়েছে। তবে এই সংশোধনীর গ্রহণযোগ্য দিক যে নেই, তা কিন্তু নয়। দেশের নাগরিকের বাঙ্গালি জাতি পরিচয়, সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন বৃদ্ধি, জাতির পিতার স্বীকৃতি, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ ঐতিহাসিক দিবসের ভাষণ সমূহের সংযোজন অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। জাতীয় চার মূলনীতিসহ এই বিষয়গুলো সংযোজনের মাধ্যমে দেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রচিত আদি সংবিধানে মুখ ফেরাতে শুরু করেছে। তবে সংবিধানে যে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার বিষয়টি স্থান পেয়েছে তা অনেকখানি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যদিও আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবি ছিল সংখ্যালঘুদের। এক্ষেত্রে দেশের সব নাগরিকের সাথে তাদের সমঅধিকার সরকার নিশ্চিত করতে পারছে কিনা তার দিকেই দৃষ্টি থাকবে সবার। তাছাড়া নতুন সংযোজিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কতটা নিরপেক্ষ হবে তা নিশ্চিত করাও সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ নি:সন্দেহে।

তবে এক্ষেত্রে আরও সময় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে এবং বিরোধী দলকে অন্তর্ভুক্ত করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অধিকতর গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধন হলে সবার জন্য মঙ্গলজনক হতো। দেশ পরিচালনার ব্যাপারে স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাই যেহেতু সংবিধানের কাজ, সেহেতু সংবিধানে এমন কিছু থাকা উচিত নয় যা বিতর্ক বা সংঘাতের জন্ম দেয়। আর তাই সামপ্রতিক সময়ে সৃষ্ট সংঘাত নয়, পরিস্থিতি মোকাবিলায়ই সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে, বিরোধী দলের সাথে সমঝোতার পথ তৈরি করতে হবে। বিরোধী দলগুলো যেন এমন কোন ইস্যু না পায় যাকে কেন্দ্র করে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এজন্য প্রয়োজন উভয় দলের রাজনীতিবিদদের মানসিকতার ব্যাপক পরিবর্তন। তাহলেই কেবল দেশে গণতান্ত্রিক ধারার সুষ্ঠু বিকাশ প্রত্যাশা করা যায়।

সরকারকে অবশ্যই বিভিন্ন পক্ষের এই ক্ষোভকে প্রশমিত করতে হবে

সাব্বির আহমেদ

৪র্থ বর্ষ

রাষ্ট্রবিজ্ঞান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

পঞ্চদশ সংশোধনীর পর টালমাটাল হয়ে পড়েছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। বর্তমান মহাজোট সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সংবিধান সংশোধনে মনোবিবেশ করে। এরপর ১০মে ২০১১ সুপ্রিম কোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ ঘোষণা এবং সেই সঙ্গে আরোও দুই মেয়াদ এই ব্যবস্থা বহাল রাখা যেতে পারে বলে অভিমত দেয়। এটিকে পুঁজি করে সরকার যে সংশোধনী আনে তাতে পূর্বের সংবিধানের মূলনীতি থেকে শুরু করে ৪৮টি সংশোধনী আনে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এই সংশোধনীর ফলে, সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণ কল্যাণকামী রাষ্ট্রের নাগরিক সুবিধা ভোগ করবে। ৭২ এর সংবিধানের মূল নীতিগুলো প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে একদিকে ধর্ম- নিরপেক্ষতাকে সংবিধানের মূলনীতি বলা হচ্ছে, অপরদিকে ইসলামকে রাষ্র্বধর্ম হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এতে করে বিভিন্ন বামপন্থী দল ও গোষ্ঠী রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের দাবি করছে, তেমনি ধর্মভিত্তিক ইসলামী দলগুলো সংবিধানের মূলনীতি থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিলের দাবি করছে। তবে সবচেয়ে বেশী বিতর্ক হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল প্রসঙ্গে। সরকারের ভিতরের একটি অংশ, সরকারের বাইরের প্রায় সব দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এ ব্যবস্থা বাতিলের তীব্র নিন্দা জানায়। প্রধান বিরোধী দল বি.এন.পি-সহ সমমনা দলগুলো এ ব্যবস্থা বাতিলের প্রতিবাদে হরতাল, বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। এতে করে আবারও অস্থির হয়ে উঠছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন।

সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদে অবৈধ ক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ঘোষণা করলেও রাজনীতিবিদদের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব সংঘাতের ফলে আবারও কেউ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে পারে। সংবিধানের ২৩(ক) অনুচ্ছেদে উপজাতীয়দের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু অনেক উপজাতি সংগঠন এতে সন্তুষ্ট নয়। তারা আদিবাসী স্বীকৃতি চায়। ইউপিডিএফসহ বিভিন্ন উপাজাতি সংগঠন অবরোধ, মানবন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী ঘোষণা করেছে। আবার সংবিধান সংশোধন কমিটির কো-চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন ৩৮টি বিষয়ে তাদের কমেপ্রামাইজ করতে হয়েছে। সবমিলিয়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর ফলে সরকার কোন পক্ষকেই সন্তুষ্ট করতে পারেনি। সরকারকে অবশ্যই বিভিন্ন পক্ষের এই ক্ষোভকে প্রশমিত করতে হবে, নয়তো দেশ আবার সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাবে। তবে সংশোধনীতে নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সংরক্ষিত নারী আসন ৪৫ থেকে ৫০-এ উন্নীত এবং শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হবে এটিই সকলের প্রত্যাশা।

July 4th, 2011

মন্তব্য প্রতিবেদন: সত্য বেরিয়ে আসছে, ‘আষাঢ়ে গল্পকারদের’ কী হবে?

২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র গতকাল রোববার আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। দীর্ঘ সময় ধরে এ ঘটনার ওপর অসংখ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছে প্রথম আলোয়। ২০০৪ সালের এই ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনার পর এ মামলাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল শুরু থেকেই। কিন্তু প্রথম আলো এ ঘটনার প্রকৃত সত্য বের করার কাজ চালিয়ে গেছে অব্যাহতভাবে। এ মামলা নিয়ে কল্পকাহিনি বানানোর ঘটনা প্রথম আলোই প্রকাশ করেছে প্রথম। ২০০৮ সালের ২৬ জানুয়ারি সম্পাদক মতিউর রহমানের একটি মন্তব্য প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল প্রথম আলোয়, যে লেখাটিতে ২১ আগস্ট ঘটনার সামগ্রিক দিক ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে প্রথম আলোর ভূমিকার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় লেখাটি আজ পুনর্মুদ্রণ করা হলো।

বিগত এক বছরের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনকালে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর জোট সরকারের দুর্নীতি আর সন্ত্রাসের যেসব তথ্য জানা গেছে, সেগুলো এককথায় ভয়ংকর। তবে সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ঘটনা হলো, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের হত্যার জন্য ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট জনসভায় যে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল, তার সঙ্গে জোট সরকারের সম্পৃক্ততার কিছু কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। ওই চাঞ্চল্যকর গ্রেনেড হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে পুলিশ জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করেছে। তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি জিজ্ঞাসাবাদ কর্তৃপক্ষ—টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশনে (টিএফআই) জিজ্ঞাসাবাদ করে।
২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতারা অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছিলেন। তবে আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২২ নেতা-কর্মী নিহত হয়েছিলেন। আহত হয়েছিলেন শতাধিক। আহতদের অনেকেই পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাঁদের অনেকেই আর স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি।
২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ঘটনাবলি নিয়ে সে সময়ে তৎকালীন জোট সরকারের নেতারা জাতীয় সংসদের ভেতরে ও বাইরে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে একথা বোঝানোর প্রাণান্ত চেষ্টা করেছিলেন যে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব নিজেরাই ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। তারপর মামলার তদন্ত নিয়ে যে কত রকম গল্প বানানো ও প্রচার করা হয়েছিল, সেসব তো সবার জানা।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার শুধু বিভ্রান্তিকর প্রচারই চালায়নি, ২১ আগস্ট মামলাটির তদন্তের নামে কার্যত সুদূরপ্রসারী একটি ষড়যন্ত্রকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। সশস্ত্র বাহিনী-সমর্থিত বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন গ্রেনেড হামলার ঘটনার নেপথ্যের অনেক কথাই বেরিয়ে আসছে। প্রমাণিত হচ্ছে যে, জোট সরকার জেনে-শুনে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রকৃত আসামিদের আড়াল করার চেষ্টা করেছিল। এবং তদন্তকে উল্টো পথে পরিচালনা করেছিল। বিলম্বে হলেও এখন প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসছে।
সাড়ে তিন বছর পর প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত করতে গিয়ে ওই মামলার তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে এবং বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সব চক্রান্ত ও মিথ্যা প্রচারণা ফাঁস হয়ে গেছে। প্রকৃত তথ্য ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে।
আমরা আশা করব, সিআইডি দ্রুত এই মামলার তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দেবে। মামলাটির বিচারকাজ দ্রুত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া হবে।
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের একাংশের শীর্ষস্থানীয় নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ২০০৫ সালের ১ অক্টোবর রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তখন যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে (জেআইসি) মুফতি হান্নান ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার এবং এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছিলেন। সে সময় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায়। কিন্তু তখন মুফতি হান্নানকে এই মামলার আসামি করা বা তাঁর কাছ থেকে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি মুফতি হান্নান গ্রেনেড আক্রমণকারী ও সহযোগী হিসেবে যাদের নাম প্রকাশ করেছিলেন, তাদের গ্রেপ্তারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
মুফতি হান্নান ওই সময়ে অর্থাৎ বিগত জোট সরকারের আমলে জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দাদের কাছে যেসব তথ্য ও বর্ণনা দিয়েছিলেন, তা আমাদের হাতে রয়েছে। এসব তথ্যের সঙ্গে পরে দুই দফা আদালতে দেওয়া হান্নানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি মিলিয়ে ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য জানা যায়। মুফতি হান্নানের দেওয়া এসব তথ্য ও স্বীকারোক্তি নিয়ে গত বছরের আগস্টে প্রথম আলোতে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
গত অক্টোবরে র‌্যাব মুফতি হান্নানের সহযোগী নয় জঙ্গিকে অস্ত্র, গ্রেনেড, বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে ২১ আগস্টের হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল ও জাহাঙ্গীর আলম ছিলেন। মুফতি হান্নান ও এই দুজনসহ ছয় জঙ্গি গত নভেম্বর মাসে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এদের জবানবন্দি যাচাই-বাছাই করে পরিকল্পনা, গ্রেনেড সরবরাহ, আক্রমণ ও আক্রমণে সহায়তাকারী ২৭ জনের নাম বেরিয়ে এসেছে। সর্বশেষ গত ১৭ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুকে। অবশ্য এর আগে তাঁকে একবার ধরে এক দিন পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। হামলার তিন দিন আগে সাবেক এই উপমন্ত্রীর ধানমন্ডির বাসায় জঙ্গিরা এক পরিকল্পনা বৈঠক করেছিল বলে মুফতি হান্নান আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন। আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় অপরাধী হিসেবে যাঁর নাম এসেছে, তাঁকে ধরে আবার ছেড়ে দেওয়াটাও নজিরবিহীন। তার ওপর মামলাটি এমন চাঞ্চল্যকর এবং ব্যক্তিটি সাধারণ কেউ নন যে, ভুল করে বা না জেনে-শুনে ধরা হয়েছিল। এই সাবেক উপমন্ত্রীর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন যে গ্রেনেড সরবরাহ করেছিলেন, তা নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের কোনো সন্দেহ নেই। মাওলানা তাজউদ্দিন এখন পাকিস্তানে রয়েছেন বলে সাবেক উপমন্ত্রী পিন্টু গোয়েন্দাদের বলেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সাহায্য চাওয়া হয়েছে।
সিআইডির তদন্তে গ্রেনেড আক্রমণে সরাসরি অংশগ্রহণকারী হিসেবে শনাক্ত হওয়া বাংলাদেশের হরকাতুল জিহাদের দুই সদস্য মুরসালিন ও মুত্তাকিন এখন ভারতের তিহার জেলে বন্দী। নাশকতার জন্য অস্ত্র-বিস্ফোরক বহনের দায়ে এই দুই যমজ ভাইকে ২০০৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি দিল্লি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাদের বাড়ি বাংলাদেশের ফরিদপুরে।
২১ আগস্ট আক্রমণে অংশ নেওয়া আরেকজন মুফতি আহসান উল্লাহ ওরফে কাজল একই বছরের ৮ মার্চ দিল্লি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। কাজল ভারতে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড চালাতে গিয়ে লস্কর-ই-তাইয়েবার শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি ইয়াজদানির সঙ্গে নিহত হন।
এ ছাড়া মুফতি হান্নানসহ হরকাতুল জিহাদের বেশির ভাগ নেতাই আফগানিস্তানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাঁদের সঙ্গে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের পাশাপাশি ভারতে তৎপর জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গেও যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে, তা এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মুফতি হান্নান ও গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গিদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এটা পরিষ্কার যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মূল লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হত্যা করা। অথচ আমরা দেখেছি, ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পক্ষ থেকে এমন অবিশ্বাস্য কথাও প্রচার কর%E

June 16th, 2011

কাঠের বিড়াল ইঁদুর ধরে না

ওপরে বসে আছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, নিচে পরিবেশ অধিদপ্তর আর তার নিচে আছে থানা-পুলিশ। এর ওপরে আছেন আদালত, যেখান থেকে প্রায়ই দখল উচ্ছেদ ও দূষণ বন্ধের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু কাজ হচ্ছে কি? তাৎক্ষণিক কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থায়ী ফল পাওয়া যায় না। বিভিন্ন এলাকায় নদী-জলাশয় দূষণ ও দখল অপ্রতিরোধ্য গতিতে চলছে। এখন এসব রোধে একটি স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় কমিটির পক্ষ থেকে এ সুপারিশ এসেছে।
কিন্তু মনে রাখতে হবে, কাঠের বিড়াল ইঁদুর ধরে না। নতুন কর্তৃপক্ষ হবে, তাকে যথেষ্টভাবে ক্ষমতায়িত করা হবে, সে তো ভালো কথা। এত কর্তৃপক্ষে যখন কাজ হয় না, তখন আরেকটি কর্তৃপক্ষ এসে কী করবে, তা ভেবে দেখা দরকার। কর্তৃপক্ষের আধিক্যে যেন পরিবেশ ভারাক্রান্ত না হয়ে ওঠে, সেটা সর্বাগ্রে নিশ্চিত করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় রাজধানীর চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, বংশী—এসব নদ-নদীর দূষণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এর প্রতিকারের লক্ষ্যে একটি খসড়া পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীদূষণের জন্য সরকারের কয়েকটি কর্তৃপক্ষ অনেকাংশে দায়ী। যেমন—রাজধানীর বর্জ্যের প্রায় অর্ধেক এসব নদীতে ফেলা হয়। কে ফেলে? এ ক্ষেত্রে ওয়াসার দায় বেশি। সিটি করপোরেশনও কম দায়ী নয়।
প্রায় ১০০ বছর আগে রাজধানীর ওয়ারীতে আধুনিক আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার সময় সেখানে পয়োনিষ্কাশন-ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। অথচ মাত্র ৫০-৬০ বছর আগে গড়ে তোলা গুলশান-বনানী এলাকায় সে রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই এলাকার পয়োবর্জ্য ফেলার জন্য বেছে নেওয়া হয় চারপাশের নদী। তখন থেকেই এসব এলাকার চারপাশের জলাধার দূষিত হতে থাকে। একটি মহানগর এমন পরিকল্পনাহীনভাবে যে গড়ে তোলা হতে পারে, তা অবিশ্বাস্য।
সম্প্রতি পয়োনিষ্কাশনের আধুনিক ব্যবস্থা চালু করার কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ক্যানসারের মতো দূষণ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক দেরিতে হলেও সংসদীয় স্থায়ী কমিটি উদ্যোগ নিয়েছে। এখন স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ যদি আটঘাট বেঁধে মাঠে নামে, কাজ হবে নিশ্চয়ই। ঢাকার চারপাশের মানুষ দূষণমুক্ত পরিবেশে এক সোনালি সকালের অপেক্ষায় থাকবে।