Archive for ‘স্বাস্থ্য’

September 16th, 2011

মায়ের মৃত্যুর আড়াই মাস পর শিশুর জন্ম!

মায়ের মৃত্যু হয়েছে প্রায় আড়াই মাস আগে। কিন্তু এই দীর্ঘসময় পর সেই মৃত মায়ের গর্ভ থেকেই জন্ম নিয়ে পৃথিবীর আলো দেখেছে এক নবজাতক। বিরল এই ঘটনাটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের। তাওম হাসপাতাল নামের একটি চিকিৎসা কেন্দ্রের একদল ডাক্তার মাত্র কয়েকদিন আগে সার্জারির মাধ্যমে ওই নবজাতককে তার মায়ের গর্ভ থেকে জীবিত অবস্থায় বের করেন। ভ্রুণ থেকে শুরু করে তার বয়স এখন ৭ মাসে। বর্তমানে তাকে হাসপাতালে ইনকিউবেটরে ডাক্তারদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গালফ নিউজ এই খবর দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ওই সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, মস্তিস্কের সমস্যাজনিত কারণে অন্তঃসত্ত্বা ওই মহিলার মৃত্যু হয়। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডাক্তাররা দেখেন তার জরায়ুতে থাকা ভ্রুণটি জীবিত। তখন তারা তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখেন। মাতৃগর্ভস্থ ভ্রুণটিকে জীবিত রাখতে তারা নিয়মিত রক্ত এবং অঙিজেন সরবরাহ করেন। ভ্রুণটির বয়স ৭ মাস পূর্ণ হওয়ার পর ডাক্তাররা সার্জারীর মাধ্যমে তাকে মায়ের পেট থেকে বের করে আনেন। এ ধরণের ঘটনা সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই প্রথম এমনকি বিশ্বেও এ ধরণের ঘটনা বিরল। এটিকে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তির উন্নতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। নবজাতকের মাকে গত সপ্তাহে দাফন করা হয়।

September 2nd, 2011

একটি কয়েল ১০০ সিগারেটের সমান ক্ষতিকর

একটি কয়েল থেকে যে পরিমাণ ক্ষতিকর ধোঁয়া নির্গত হয়, তা ১০০টি সিগারেটের সমান। গত বুধবার ভারতে অনুষ্ঠিত ‘বায়ু দূষণ ও আমাদের স্বাস্থ্য’ শীর্ষক এক সম্মেলনে দেশটির বক্ষ গবেষণা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সন্দীপ সালভি এ কথা জানান।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় পরিচালিত এক গবেষণা থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিকেল রিসার্চ ও ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সেন্টার ফর সাইন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
সম্মেলনে উপস্থিত গবেষকেরা বলেন, কয়েল জ্বালিয়ে মশা তাড়ানো গেলেও তা বিপুল সংখ্যক মানুষের স্বাস্থ্য হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
সন্দীপ সালভি বলেন, ‘অনেক মানুষই মশার কয়েলের ধোঁয়ার ক্ষতিকর দিকটি জানেন না। কিন্তু এতে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ঘরের মধ্যে যে বায়ু দূষণ হয়, তাও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির একটি কারণ। তবে এ বিষয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে।’

July 12th, 2011

আমের কত গুণ!

ফলের রাজা আম। টসটসে রসে ভরা এই ফল শুধু নামেই নয়, কাজেও ‘রাজা’। মানবদেহের কোষ ধ্বংস রোধ থেকে শুরু করে হৃদরোগ, অল্প বয়সেই বুড়িয়ে যাওয়া, ক্যানসার প্রভৃতি রোধ করতেও আমের জুড়ি নেই। আমাদের চিরচেনা এই ফলের যত গুণ তুলে ধরা হয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক নিবন্ধে।
—আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ লোহা। এ কারণে গর্ভবতী নারী ও যারা রক্তাল্পতায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য ফলটি খুবই উপকারী। তবে কত বেশি পরিমাণ খাবেন, তা জানার জন্য চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে।
—জুতা পরার পর যদি পায়ে সমস্যা হয়, তাহলে ত্বকের ওই অংশে আমের ফালি ১০ মিনিট রাখুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। উপকার পাবেন।
—হজমের সমস্যায় ভুগলে আমই হতে পারে আপনার সবচেয়ে বড় সহায়ক। আমে রয়েছে হজমের জন্য উপকারী এনজাইম। এটি এসিডিটির পরিমাণও কমাবে।
—আম পটাশিয়াম সমৃদ্ধ। এটি উচ্চ রক্তচাপ হ্রাস করে।
—শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান? তাহলে খাদ্যতালিকায় আম রাখতে ভুলবেন না। কারণ আম খেলে প্রচুর পরিমাণ ক্যালরি যেমন মিলবে, তেমনি পাওয়া যাবে শর্করা।
—কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকি কমায় আম।
—আমে রয়েছে ভিটামিন ‘ই’। এটি যৌনশক্তি বৃদ্ধি করে। শরীর গঠনেও সহায়তা করে আম।
—পরীক্ষা নিয়ে ভয়? আপনার ভরসা হতে পারে আম। এর মধ্যে থাকা গ্লুটামিন এসিড মনোযোগ বাড়াতে ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
—চীনা চিকিত্সায় আমকে অনেক রোগ উপশমের দাওয়াই হিসেবে দেখা হয়। বলা হয়ে থাকে, রক্ত-স্বল্পতা, সর্দি, জ্বর, সামুদ্রিক ভ্রমণজনিত অসুস্থতা প্রভৃতি দূর করতে আমের জুড়ি নেই।
—যদি এসব কোনো উপকারকেই আপনি গুরুত্ব না দেন, তবু আম খাবেন। কারণ, এটি বছরের সব সময় পাওয়া যায় না।

July 11th, 2011

শিশুদের জন্য পরামর্শ

শরীরচর্চা

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের শরীরচর্চা করাতে বাবা-মায়েদের পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দিনে অন্তত তিন ঘণ্টা পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের হাঁটাচলা করানো অথবা শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখা উচিত। ভবিষ্যতের কথা ভেবে শিশুদের পেরামবুলেটর অথবা গাড়ির আসনে বসিয়ে রাখার সময় কমিয়ে আনতে হবে।
সরকারি এ পরামর্শের পর ব্রিটেনে যেসব শিশু যথেষ্ট পরিমাণে শরীরচর্চা করে না, তাদের বিষয়ে সরকারের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। শরীরচর্চা না করার ফলে এসব শিশুর স্থূলকায় ও মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের চিকিৎ সা কর্মকর্তারা যৌথভাবে এ পরামর্শ দিয়েছেন। শিশুদের শরীরচর্চার ব্যাপারে যুক্তরাজ্যব্যাপী পরামর্শ দেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।
সরকারের নতুন নির্দেশনায় জন্ম থেকেই শিশুদের হামাগুড়ি ও সাঁতার কাটার মতো শারীরিক কসরতে উৎ সাহিত করতে বলা হয়েছে। কেবল ঘুম ছাড়া পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে যতটা কম পারা যায়, শুয়ে থাকতে অথবা বসে থাকতে কম সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিশুরা হাঁটতে শেখামাত্র দিনে তাদের কমপক্ষে তিন ঘণ্টা শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা ও চারদিকে ছোটাছুটি করার সুযোগ দিতে হবে।
ইংল্যান্ডে প্রধান চিকিৎ সা কর্মকর্তা ডেইম স্যালি ডেভিস বলেছেন, ছোট্ট শিশুকে শারীরিকভাবে সক্রিয় করতে তাদের উৎ সাহ দেওয়ার দায়িত্ব মা-বাবার। তিনি বলেন, ‘যেসব শিশু হাঁটতে শেখেনি তাদের মেঝেতে খেলতে, হামাগুড়ি দিতে অথবা চারদিকে ছোটাছুটি করতে দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ।’
স্যালি ডেভিস আরও বলেন, ‘যেসব খেলা পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুকে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে, সেসব খেলা হয়তো ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু দিনে অন্তত তিন ঘণ্টা এটা করতে দেওয়াটা জরুরি।’ তিনি বলেন, এমন অনেক অভিভাবক আছেন, যারা তাদের শিশু-সন্তানদের শারীরিকভাবে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় অথবা তিন ঘণ্টা সক্রিয় রাখার ব্যাপারে সচেতন নন। আবার কেউ কেউ হয়তো এতটাই ব্যস্ত যে এ বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়ার মতো সুযোগই পান না।
ডেভিস বলেন, ‘আমরা যা বলছি, তা সবই আপনাদের শিশুসন্তানের ভালোর জন্য। তাদের শৈশব ও কৈশোর এবং মাঝ বয়স ও পরবর্তী জীবনের কল্যাণের জন্য।’
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুই থেকে ১৫ বছর বয়সী মাত্র ৩০ শতাংশ শিশু প্রয়োজনমাফিক শরীরচর্চা করে।
স্কুলে ভর্তি হয়নি, যুক্তরাজ্যের এমন বেশির ভাগ শিশুর দিনে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সক্রিয় থাকার প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে খুঁটি বাওয়া, সাইকেল চালানো, দৌড়াদৌড়ি, খেলাধুলা, সাঁতার কাটা অথবা লাফালাফি করা।
সরকারি পরামর্শকে স্বাগত জানিয়েছেন রয়াল কলেজ অব পেডিয়াট্রিক্স অ্যান্ড চাইল্ড হেলথের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক টেরেন্স স্টিফেনসন। তবে চিলড্রেনস সোসাইটি ক্যাম্পেইন ফর চাইল্ডহুডের পরিচালক এলাইন হিন্ডাল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের ব্যয়সংকোচন নীতির ফলে সন্তানকে যথার্থ শরীরচর্চা করানোর মতো সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন বাবা-মায়েরা। বিবিসি।

Tags:
June 16th, 2011

এক্স-রের জানা-অজানা

এক্স-রে

এক্স-রে কী?
সহজভাবে এক্স-রে হচ্ছে একধরনের কৃত্রিমভাবে তৈরি তেজস্ক্রিয় রশ্মি, যা দিয়ে মানবদেহের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং স্থানভেদে চিকিৎসাও প্রদান করা হয়। এটি রঞ্জনরশ্মি নামেও পরিচিত। ১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিদ ডব্লিউ সি রোয়েন্টজেন এটি আবিষ্কার করেন।
এক্স-রের মাত্রা
রেগুলেশন ১৯৯৯ অনুযায়ী যেকোনো সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এ মাত্রা সারা বছরে এক মিলি সিভার্টের অনধিক। তবে যত কম তেজস্ক্রিয় বিকিরণের কাছে যাওয়া যায় ততই মঙ্গল।
এক্স-রে কি ক্ষতিকর?
অবশ্যই। যদিও শরীর অল্পদিনের মাঝেই সে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি অপূরণীয়। এতে শরীরের স্থায়ী কোষ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, মাত্র একটি এক্স-রে কণা একটি মূল্যবান কোষ ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট। তবে সবসময় সবারই যে একই রকম ক্ষতি হবে বা হবেই বা এটা তর্কসাপেক্ষ।
এর ফলাফল কি?
যদি মানব ভ্রূণ সৃষ্টির শুরুতে কোন কোষ নষ্ট হয়, এর প্রভাব ওই শিশুটির ওপর পড়তে পারে। শিশুটি বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নিতে পারে অথবা হতে পারে মানসিক প্রতিবন্ধি। আবার কারণে অকারণে বারবার এক্স-রে করালে শরীরের জনন কোষগুলোর (শুক্রাশয় বা ডিম্বাশয়) ওপর এর প্রতিক্রিয়ার কারণে প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে যারা এক্স-রের সংস্পর্শে থাকেন বা থাকবেন তাদের ত্বকের ক্যানসার, লিউকোমিয়া, চোখে ছানি পড়া, খাদ্য নালীর ক্যানসার ইত্যাদি হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে।
তাহলে কি এক্স-রে করা যাবে না?
অবশ্যই যাবে। এটি একটি অল্প খরচে ও স্বল্প সময়ে অতি প্রয়োজনীয় একটি পরীক্ষা। উন্নত বিশ্বে যে কেউ ইচ্ছে করলেই এক্স-রে পরীক্ষা লিখতে বা করাতে পারে না। এ ক্ষমতা সেখানে নির্দিষ্ট কিছু ডাক্তারের হাতে থাকে। আমাদের দেশে যত্রতত্র এর ব্যবহার হয়ে থাকে, তাই আমরা যদি একটু সচেতন হই তাহলে অনেকাংশে-এর খারাপ প্রতিক্রিয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারব।
মো. ফরহাদ হোসেন
সহকারী অধ্যাপক, রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগ
সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সিলেট।