Archive for ‘খেলা’

December 15th, 2011

উন্নতির লক্ষ্যে ঘরোয়া ক্রিকেটের মান বাড়াতে হবে ॥ কোচ স্টুয়ার্ট

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পুরো সিরিজটাতেই বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা খাবি খেয়েছেন। ওয়ানডে কি টেস্ট কোন ধরনের ক্রিকেটেই সম্প্রতি কয়েকটি সিরিজেই নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা। ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়েছে_ প্রতিপক্ষের কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছে বাংলাদেশ। সফরকারী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরও বিকট আকার ধারণ করেছে ব্যাটিং ব্যর্থতা। বাংলাদেশের জন্য ‘পয়মন্ত’ মাঠ সাগরিকায়ও ভিমড়ি খেয়েছেন তাঁরা। ইতোমধ্যে ২৪টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশের বড় লজ্জা বরণ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আগামীকালই আরেকটি হোয়াইটওয়াশ ঠেকানোর লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হবে ক্রিকেটারদের। উইকেটের কোন ধরনের দোষ-ত্রম্নটি নেই তা একদমই নিশ্চিত। কারণ যেকোন উইকেটেই প্রতিপৰরা রানের পাহাড় গড়লেও বাংলাদেশ পারেনি। ওই কথাটি স্বীকার করলেন বাংলাদেশ কোচ স্টুয়ার্ট ল নিজেও। তার মতে, টেস্ট ক্রিকেট কম খেলে বাংলাদেশ এবং তার চেয়েও বড় কথা চারদিনের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটও খুব একটা খেলেন না জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। তাই ল মনে করেন টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতির জন্য বেশি করে চারদিনের ম্যাচ খেলা উচিত ক্রিকেটারদের। গতকাল সকালে বাংলাদেশ দলের ৪ ঘণ্টা অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বাংলাদেশ কোচ।
বাংলাদেশ দলের মূল শক্তি ধরা হয় স্পিনারদের। প্রতিপৰকে ঘায়েল করতে ঘূর্ণি বলই একমাত্র ভরসার স্থল বাংলাদেশের। তবে পাকদের বিরম্নদ্ধে এখন পর্যনত্ম খুব একটা প্রভাব সৃষ্টি করতে পারেনি তারা। উল্টো পাকদের ঘূর্ণি বলেই বাংলাদেশ বিপর্যসত্ম হয়েছে বেশি। ওই ব্যাপারে বাংলাদেশ কোচ ল বলেন, ‘ওরা ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং সবদিক থেকেই অনেক মেধাবী একটা দল। তারা বর্তমানে শুধু মাঠেই নয় মাঠের বাইরেও অনেক ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। বিশেষ করে সাঈদ আজমল বিশ্বসেরা স্পিনার। সে ব্যাটসম্যানদের ওপরে অনেক প্রভাব খাটাতে সৰম। সে ব্যাটসম্যানদের উইকেটে বেঁধে রাখে এবং বেশি রান করতে দেয় না। অফস্পিনার হলেও রিস্ট স্পিনারদের মতো বল ঘুরাতে পারেন তিনি।’ তাহলে তো এখানেই কথা শেষ। পাক বোলাররা যদি ভিনগ্রহবাসী হয়ে থাকেন এবং তাদের বোলিং অস্বাভাবিক রকমেরই হয় তবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা আর রান করবেন কীভাবে? তবে ওই বিষয়টির সঙ্গে একমত নন ল। তিনি বলেন, ‘পাকিসত্মান বর্তমানে দারম্নণ খেলছে। দলটির বোলিং আক্রমণ বেশ সমৃদ্ধ। নতুন বলে সুইং করাতে পারে, পুরনো বলে রিভার্স করাতে সক্ষম তারা। তারা তরম্নণ একটি দল নিয়ে অসম্ভব উন্নতি করেছে। সম্ভাব্য সবকিছু ঠিক ভাবে করছে। তবে তাদের বিপক্ষে খেলা যাবে না এমন নয়। উইকেটে থাকলে ব্যাটসম্যানরা রান পাবেন। তবে তার আগে নিজের খেলার প্রতি মনোনিবেশ করাটা জরম্নরী বেশি।’ স্বাগতিক দল হয়েও উইকেটের সুবিধা নিতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। তবে উইকেট নিয়ে কথা বারবারই হলেও এবার ওই পথ থেকে সরে এসেছেন ল। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে তো ফ্ল্যাট ব্যাটিং উইকেট ছিল ওখানেও রান পায়নি ব্যাটসম্যানরা। তাই উইকেট নিয়ে ভাবছি না। দু’দলের জন্যই উইকেটের চরিত্র একই রকম হবে। ব্যাটসম্যানরা কঠিন সময় পার করছে। তাদের ব্যাট থেকে রান আসছে না। এ সময় তাদের ‘বেসিক’ ব্যাপারগুলোর দিকে আরও নজর দিতে হবে। বেসিক ব্যাপারগুলো ঠিকঠাক করতে পারলে রান আসবেই।’ তবে ল বললেও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা কাজের কাজ করতে পারছেন না। এর কারণ হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেট কম খেলা এবং ওয়ানডের তুলনায় টেস্ট কম খেলাকে দায়ী করছেন ল। তিনি বলেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে চার দিনের ম্যাচ থেকেই টেস্ট ক্রিকেটার বের হয়ে আসে। বাংলাদেশ খুব বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পায় না। সে তুলনায় ওয়ানডে বেশি খেলে। বাংলাদেশের ক্রিকেটাদের আরও বেশি করে চারদিনের ম্যাচ খেলতে হবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে আরও বেশি সময় দিতে হবে। প্রয়োজনে সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে চারদিনের ম্যাচ খেলা যেতে পারে।’ দ্বিতীয় টেস্টের দল এখনো ঠিক করা হয়নি। অধিনায়ক, নির্বাচকদের সঙ্গে আলোচনা করে দল নির্বাচন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ। তবে ব্যাটিং অর্ডার নিয়েই বেশি দুশ্চিনত্মায় রয়েছে দল বলে জানান তিনি।

December 3rd, 2011

নাসিরের সেঞ্চুরি সান্তনা

পাকিস্তানের ২৬৩ রানের জবাবে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১৮৭ রান। ৭৬ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত হয়ে গেছে পাকিস্তানের। তবুও ম্যাচ শেষে তৃপ্তি নিয়েই বাড়ি ফিরেছে বাংলাদেশের সমর্তকেরা। কারণ আর কিছুই না- নাসিরের লড়াকু শতরান আর বাংলাদেশের অলআউট না হওয়া। সিরিজের দ্বিতীয় এই ম্যাচে বাংলাদেশ হেরে গিয়েছিল শুরুতেই। ১৯ রানের ৪ উইকেট খোয়ালে লড়াইয়ের শক্তি হারিয়ে ফেলে স্ব্গাতিকরা। বড় ধস থেকে বাঁচার সংগ্রামে নামেন সাকিব আর নাসির। প্রথম ম্যাচে ৯১ রানের অলআউট হওয়ার লজ্জাতো না ভোলারই কথা। নাসির-সাকিব দলকে বিপর্যয় থেকে বাঁচালেও দলকে নিয়ে গেছেন জয থেকে অনেক দূরে। ৩৫ ওভারেও ১০০ ছুঁতে না পারা দলের জন্য ২৬৩ রানছোঁয়া অকল্পনীয়ই। তাই সাকিব আউট হওয়ার পর তাই আর নাসিরের সেঞ্চুরি পূর্ণ করাই চ্যালেজ্ঞ হয়ে দাঁড়ায়। সেই চ্যালেঞ্জে শতভাগ সফল নাসির। নবম ম্যাচে আর সপ্তম ইনিংসে পেয়ে গেলেন প্রথম শতরান। ৮০ পার হবার পর একটু স্নায়ুর চাপে পড়লেও ৮৬ থেকে দুই চার আর ছক্কায় ছুঁয়ে ফেলেন শতক। ১৩১ বলে ১৫০ মিনিটে ১১টি চার ও ১টি ছয় দিয়ে সেঞ্চুরি করা নাসির আফ্রিদির করা ইনিংসের ৪৯তম ওভারে ১৪ রান নেন। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ২৩ তম শতরান এটি। গতকাল তামিম ৪, ইমরুল ৬ আর শাহরিয়ার ৭ রানে সাঁজ ঘরে । নির্ভরতার প্রতীক অধিনায়ক মুশফিকও ১ রানেই ফেরত। ১৯ রানে ৪ উইকেট। ২০০৮ সালে একই ভেন্যুতে ১৮ রানে হারিয়েছিল ৪ উইকেট। প্রতিপক্ষ ছিল দ. আফ্রিকা। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ ৪৮.২ ওভারে ১৭৩ রানে অলআউট হয়। ৫ম উইকেট জুটিতে সাকিব-রকিবুল গড়েন ১১৯ রানে পার্টনারশীপ। এবারও সাকিব হাল ধরেন নাসির হোসেনকে নিয়ে। সেবার সাকিব ৫২ আর রকিবুল ৬৩ রান করেছিলেন। এবার আর সাকিব পারলেন না। ১০৬ রানের পার্টনাশীপ ভেঙ্গে যায় সাকিব ব্যক্তিগত ৩৭ রানে আউট হয়ে। সাকিব ক্যারিয়ারের ২৩তম ফিফটি থেকে বঞ্চিত হলেন। আর অল্পের জন্য ৫ম উইকেট জুটিতে ১১৯ রানের রেকর্ড পার্টনারশীপ ভাঙ্গার সুযোগ হাত ছাড়া করেন। যদিও সাকিব-নাসির জুটি পাকদের বিপক্ষে দলকে ১০৬ রান উপহার দিতে তা কেউ প্রত্যাশা করেনি। ইনিংসের শেস ওভারে উমর গুলের একটি শটপিচ বল পুল করতে গিয়ে ডিপ থার্ড ম্যানে ইমরান ফরহাতের তালুবন্দি হন নাসির। তার ইনিংসে মুগ্ধ ছিলেন গুলও। আর তাই সাজঘরমুখো নাসিরকে থামিয়ে হাত মেলাতে ভুললেন না গুল। এগিয়ে এসে পিঠ চাপড়ে দিলেন আকমলও।

December 1st, 2011

বাংলাদেশের ক্রিকেটের অগ্রগতি কোথায়?

বাংলাদেশ ক্রিকেট বদলাল কোথায়? যে স্থানে ছিল, সেখানেই আছে। দুর্যুগ পরও যখন দল এমন দুর্দশায় পড়ে তখন এমন প্রশ্ন চতুর্দিকেই শোনা যাবে, যাচ্ছেও। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৯১ রানে অলআউট হওয়ার পর ৫ উইকেটে হারতেই এমন প্রশ্ন উঠল যেমন গতকাল। দুর্যুগ আগের কথা। ৩১ মার্চ ১৯৮৬, স্বাধীনতার মাস। প্রতিপক্ষ পাকিসত্মান। বাংলাদেশ অলআউট হয়েছিল ৯৪ রানে। হেরেছিল ৭ উইকেটে। ২৫ বছর পেরিয়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ১ ডিসেম্বর, বিজয়ের মাস। প্রতিপক্ষ সেই পাকিস্তানই। বাংলাদেশ এবার তিন রান কমে, ৯১ রানে অলআউট হয়েছে। হেরেছে ৫ উইকেটে। ‘৮৬ সালের ম্যাচটি বাংলাদেশের ওয়ানডেতে পদার্পণের ম্যাচ ছিল। আর বৃহস্পতিবার প্রথম ওয়ানডেটি দলের ২৫৬তম ম্যাচ। এতদিন পরও বাংলাদেশ ক্রিকেট বদলাল কোথায়? একটি স্থানে অবশ্য বদল হয়েছে! সেটি হারের ব্যবধানে। এছাড়া সবকিছু যেন আগের মতোই আছে। বলতে গেলে উল্টো অধোপতন হয়েছে! দল যে এবার তিন রান কম করেছে।
গতকাল ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ। মুশফিকসহ কেউ-ই জানেন না কত রান করলে দল জিতবে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে এমন কথাই বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সঙ্গে নিজেদের আত্মবিশ্বাসেও যে ঘাটতি আছে সে কথাও বলে গেছেন। গতকাল পুরো ৫০ ওভার নয়, ৩০.৩ ওভারে ৯১ রানেই অলআউট বাংলাদেশ! হায়, পথভ্রষ্ট ক্রিকেটাররা! একই বছর ৫৮ ও ৭৮ রানে অলআউট হওয়ার পর এবার এক শ’র নিচে আবারও ইনিংস খতম। শহীদ আফ্রিদি একাই ৫ উইকেট নিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ইনিংস নাসির হোসেনের, ২১ রান।
এ রান তাড়া করা পাকিস্তানের কাছে কোন ব্যাপার নয়। বোলাররা কিছুটা হলেও ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ সৃষ্টি করেছিলেন। তাতে অবশ্য সফরকারীদের ম্যাচ জিততে ‘কিঞ্চিত’ কষ্ট হয়েছে। ম্যাচসেরা আফ্রিদি ব্যাখ্যা দিলেন, ‘উইকেট পারফেক্ট ছিল। এমন উইকেটে আগে সেট হতে হবে। এরপর সিঙ্গেল, ডবলস ও সুযোগ বুঝে বাউন্ডারি মারতে হবে। তাহলেই রান আসবে।’ তাঁর এ ব্যাখ্যাতেই বোঝা যায় পাকিসত্মান ততটা চাপে ছিল না। তবে বাংলাদেশ বোলাররা তাদের ঠিকই চাপ অনুভব করাতে পেরেছেন। আফ্রিদি যতই মুখে বলুন, কোন ব্যাপার ছিল না টাইপ কথা। ম্যাচেই তা বোঝা গেছে।
ম্যাচ শেষ করার অনেক আগেই ৬৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে পাকিসত্মান খাদের কিনারায় পড়ে যায়। আর একটি উইকেট নিতে পারলেই হতো। সেই সুযোগও মিলেছিল। ৬৫ রানে আফ্রিদির ক্যাচটি শাহরিয়ার লুফে নিতে পারলেই হতো। তা হয়নি। ম্যাচও তাই বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেনি। আফ্রিদিকে তখন ফেরানো গেলে হয়ত ম্যাচে অন্য কোন রূপ মিলত। শেষ পর্যনত্ম আফ্রিদিই সবচেয়ে বেশি রান (২৪*) করলেন। পাকিসত্মানও ম্যাচ জিতে নিল অনায়াসেই।
চাপ থাকলেও সেটি আর শেষে ধরা দিল না। আফ্রিদি এক সুযোগেই বাজিমাত করলেন। ২ উইকেট করে নেয়া শাকিব, রম্নবেল পাকিসত্মানকে চাপে ফেলেছিলেন। শেষদিকে শাকিবের ওভারে টানা তিনটি চার হাঁকিয়ে সে চাপ মোচন করে দিয়েছেন আফ্রিদি। ৬৩ রানে যে ৫ উইকেট পড়েছিল, সেটিতেই শেষ ম্যাচ। এরপর আর কোন উইকেটও পড়ল না। পাকিসত্মান ৫ উইকেটে ম্যাচও জিতে নিল। প্রথম ওয়ানডে জেতায় এখন সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়েও গেল পাকিসত্মান।
শেষে মুশফিকের কথাগুলোর একটিই সবচেয়ে গুরম্নত্বপূর্ণ। আর সেটিই প্রমাণ করে বাংলাদেশ কোথায় আছে। তিনি বলেছেন, ‘টেস্ট এবং ওয়ানডে যে ধরনের ক্রিকেটই হোক বাংলাদেশ এক পা এগিয়ে গেলে, পিছিয়েছে পাঁচ পা।’ উইকেটের বিভ্রানত্ম আচরণ, নিজেদের ঘাটতি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মুশফিক এমন কথা বলে যেন অন্য কিছু বোঝাতে চাইলেন। সেটি কী এখন খোঁজার বিষয়। আর এমন কথাবার্তা পাকিসত্মানের বিরম্নদ্ধে ৫ উইকেটে হারার পরই মুশফিকের মুখ থেকে বের হয়েছে।

November 13th, 2011

পাকিস্তানের কারাগারে থাকতে চান বাট-আসিফ

যুক্তরাজ্যের কারাগারে সাজা খাটছেন। তবে সেখানে স্বস্তিবোধ করছেন না সালমান বাট ও মোহাম্মদ আসিফ। নিজ দেশ পাকিস্তানের কারাগারে থাকতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এ দুই ক্রিকেটার।
ব্রিটিশ দৈনিক দি ইন্ডিপেন্ডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের কারাগারে থাকার আগ্রহের কথা নিজেদের আইনজীবীদের জানিয়েছেন বাট ও আসিফ। আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে এ নিয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করবেন ক্রিকেটাররা।
গত বছর অনুষ্ঠিত লর্ডস টেস্টে স্পট ফিক্সিংয়ের মাধ্যমে গোপনে অবৈধ অর্থ নেওয়া ও প্রতারণা করার অপরাধে সালমান বাটকে দুই বছর ছয় মাস, মোহাম্মদ আসিফকে এক বছর এবং মোহাম্মদ আমিরকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্ট। রায় ঘোষণার পর বাট ও আসিফকে কারাগারে এবং ১৯ বছর বয়সী আমিরকে কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ওয়েবসাইট।

November 11th, 2011

ব্যাটিং দৈন্য, লজ্জা পেয়েছেন অসি অধিনায়ক ক্লার্ক

দক্ষিণ আফ্রিকার অভিষিক্ত পেসার ভারনন ফিলান্ডারের বোলিং তোপে পরশু কেপটাউন টেস্টে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৪৭ রানে অলআউট হয় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। একপর্যায়ে মাত্র ২১ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল মাইকেল ক্লার্কের দল। কিন্তু শেষ উইকেট জুটিতে পিটার সিডল ও নাথান লিয়ন ২৬ রান যোগ করে অস্ট্রেলিয়াকে লজ্জা থেকে রক্ষা করেন। এর ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসের চেয়ে ১৮৮ রানে এগিয়ে থাকার পরও টেস্ট হারতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। প্রথম ইনিংসে নিজেরা ২৮৪ রান করার পর স্বাগতিক প্রোটিয়াসকে মাত্র ৯৬ রানে অলআউট করেছিল সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। গ্রায়েম স্মিথের দলকে ধসিয়ে দেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে উল্টো ফাঁপরে পড়ে অসি ব্যাটসম্যানরা। যাওয়া-আসার মিছিল করে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় মাত্র ৪৭ রানে। এর ফলে জয়ের জন্য দৰিণ আফ্রিকার টার্গেট দাঁড়ায় ২৩৬ রান। পরশু ১ উইকেটে ৮১ রান করা প্রোটিয়াসরা গতকাল আর মাত্র এক উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পেঁৗছে যায়। ঘটনাবহুল ম্যাচটি ৮ উইকেটে জিতে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে দৰিণ আফ্রিকা। দুই দলের প্রথম দুই ইনিংসে সুস্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পরও বাজেভাবে ম্যাচ হারার জন্য নিজেদের লজ্জাজনক ব্যাটিংকেই দায়ী করেছেন অসি অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক।
কেপটাউন টেস্টের প্রথম দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্লার্ক বলেন, জঘন্য ব্যাটিংয়ের দায়ভার প্রথম সাত ব্যাটসম্যানকেই নিতে হবে। আমরা যেভাবে ব্যাট করেছি, তা মোটেই ভাল ছিল না। আমাদের পুরো পারফরমেন্সটাই খুব লজ্জাজনক। মাত্র ৪৭ রানে অলআউট হওয়ার পেছনে কোন অজুহাতও দেয়া যেতে পারে না। আমি আমার ক্যারিয়ারে এ ধরনের দিন কখনও কাটাইনি।
আশা করছি আর কখনও কাটাতেও হবে না। অসি ব্যাটিং ধসে পড়ার জন্য প্রোটিয়াস বোলাদের কৃতিত্ব থাকলেও ব্যর্থতার জন্য নিজেদের দায়ী করেছেন ক্লার্ক। অধিনায়ক হিসেবে নিজেরও আত্মসমালোচনা করেছেন অসি অধিনায়ক, দলের অধিনায়ক হিসেবে, বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে আমি যে ব্যাটিং করেছি তাতে নিজের সমালোচনা করা উচিত। এটা ঠিক যে দৰিণ আফ্রিকার বোলাররা অত্যনত্ম ভাল বোলিং করেছে। তাই বলে আমরা যেভাবে ব্যাটিং করেছি তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
কেপটাউন টেস্টের প্রথম দিন শেষে জয়ের জন্য দৰিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ছিল ১৫৫ রান। ওই অবস্থায় ক্লার্ক বলেছিলেন, আমরা যে এই টেস্ট এখনও জিততে পারি, তাতে কোন সন্দেহ নেই। বোলাররা নির্দিষ্ট জায়গায় বল করতে পারলে জয় পাওয়া কঠিন হবে না; কিন্তু ক্লার্কের আশাটা নিরাশায় পরিণত হয়েছে। গতকাল অসি বোলারদের হতাশায় ডুবিয়ে অধিনায়ক স্মিথের হার না মানা ও আমলার সেঞ্চুরিতে ভর করে সহজেই ম্যাচ জিতে নিয়েছে দৰিণ আফ্রিকা। এখন কী বললেন ক্লার্ক? পরিস্থিতি বলছে, আরেকবার নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে নিদারম্নণ ব্যর্থতার ফিরিসত্মি গাওয়া ছাড়াও উপায় নেই!

November 4th, 2011

‘রোনাল্ডো নয় মেসিই হীরের টুকরো’

এসি মিলানকে টানা দুইবার ইউরোপ সেরা ক্লাবের শিরোপা এনে দিয়েছেন কিংবদন্তী কোচ আরিগো সাচ্চি। মার্কো ভন বাস্তেন, রুডগুলিত, ফ্রাঙ্ক রাইকার্ড ও ফ্রাঙ্কো বারেসিদের নিয়ে ১৯৮৯ ও ১৯৯০ সালে এ সাফল্য পান সাচ্চি। কোচিং জীবনে অনেক তারকা খেলোয়াড়কেই কাছ থেকে দেখেছেন ইতালির সাবেক এ কোচ। সে অভিজ্ঞতা থেকেই বর্তমানের বিশ্বসেরা দুই ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো ও লিওনেল মেসির মধ্যে আর্জেন্টাইন তারকাকেই সত্যিকার হীরের টুকরো বলে মনে করেন ৬৫ বছর বয়সি সাচ্চি।

সাচ্চির মতে রোনাল্ডো ও মেসি দুজনকেই অসাধারণ খেলোয়াড়। কিন্তু বার্সেলোনার তারকার মাপকাঠির সঙ্গে পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড যায় না বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি। এএসকে সাচ্চি বলেন ,‘ ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো অসাধারণ ফুটবলার । কিন্তু সামপ্রতিক সময়ে মেসির ধারে-কাছেও সে নেই।’ বর্তমান বিশ্ব ফুটবলে মেসিই যে সত্যিকারের হীরের টুকরো তা উল্লেখ করে সাচ্চি আরো বলেন ,‘ মেসিই নিখাদ হীরের টুকরো। আবারো বলছি রোনাল্ডো অসাধারণ কিন্তু মেসি যে অনুভূতি জাগায় সে তা করতে পারে না। আমি জানি না কেন এটা মনে হয়। হয়তো তার (রোনাল্ডো) আগ্রহ কমে গেছে তাই।’ রোনাল্ডো একটু ব্যক্তিকেন্দ্রিক ফুটবলার বলেও মনে করেন সাচ্চি। তিনি বলেন ,‘ তার অনেক যোগ্যতা আছে। কিন্তু ফুটবল ১১ জন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত খেলা নয়। এ মুহূর্তে মেসি যে প্রভাব বিস্তার করে চলছে রোনাল্ডোর তা নেই।’

ইতালিয়ান কিংবদন্তী এ কোচ কখেনোই ফুটবল খেলেননি। কোচিং ক্যারিয়ারে আসার আগে তিনি জুতোর সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। তার একটি বিখ্যাত উক্তি না বললেই নয়। কোচিংয়ে সাফল্য ধরা দেয়ার পর সাচ্চিকে কেউ একজন তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেছিলেন ,‘ আমি বুঝি না ঘোড়ায় চড়া শেখার জন্য প্রথমে ঘোড়ার মালিক হওয়ার প্রয়োজন আছে কি না।’

October 27th, 2011

সাকিব আবারও এক নম্বর

গত এপ্রিলে প্রায় সোয়া দুই বছর পর হারিয়েছিলেন ওয়ানডের সেরা অলরাউন্ডারের মুকুট। ছয় মাসের মধ্যেই হারানো সেই মুকুট ফিরে এল সাকিব আল হাসানের মাথায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাঁর অলরাউন্ড পারফরম্যান্সই শেন ওয়াটসনকে দুইয়ে ঠেলে দিয়েছে। ব্যাটিংয়ে ৭৯ গড়ে ৭৯ রান এবং বোলিংয়ে ১৬ গড়ে ৬ উইকেট নিয়েই আবারও শীর্ষে ফেরাটা নিশ্চিত করেছেন সাকিব।
কাল প্রকাশিত র‌্যাঙ্কিংয়ে টেস্ট অলরাউন্ডারদের তালিকায় সাকিব আছেন পাঁচে। বোলিংয়ে টেস্ট ও ওয়ানডে দুই তালিকারই শীর্ষ দশে আছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক, টেস্টে আটে ও ওয়ানডেতে নয়ে। ব্যাটিংয়ে দুই তালিকাতেই বাংলাদেশের সেরা দুজন আছেন ২১ নম্বরে, টেস্টে তামিম ও ওয়ানডেতে সাকিব।
ইংল্যান্ডের গ্রায়েম সোয়ানকে সরিয়ে ওয়ানডের সেরা বোলার হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফাস্ট বোলার মরনে মরকেল। ফলে টেস্ট ও ওয়ানডের ব্যাটিং-বোলিং চার বিভাগের এক নম্বর জায়গা চলে গেল দক্ষিণ আফ্রিকানদের দখলে। মরকেলকে ছাড়াও হাশিম আমলা (ওয়ানডে ব্যাটিং), জ্যাক ক্যালিস (টেস্ট ব্যাটিং) ও ডেল স্টেইনের (টেস্ট বোলিং) দখলেই এখন এক নম্বর স্থানগুলো। ওয়েবসাইট।

October 24th, 2011

অভিষেকেই চমক সানির: নাসিরের ৩৪ রান, সানির ৪ উইকেট

অনেকদিন ধরেই জাতীয় দলের ভেতরে মাথা গলানোর সুযোগ খুঁজছিলেন। কিন্তু কয়েকবার উঁকিঝুঁকি মারলেও ভাগ্যের শিকে ছেঁড়েনি। তবে সম্প্রতি দেশসেরা স্পিনার আব্দুর রাজ্জাকের পড়তি ফর্ম আর নিজেকে আরও বেশি উজ্জ্বল করে মেলে ধরার সুবাদে সুযোগ পেলেন একেবারে ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠ ঘরানা টেস্টে বিচরণের। বাজিমাত করলেন প্রথম সুযোগেই। বাংলাদেশকে সমুচিত জবাব দিতে পারল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ মূলত তার মায়াবী ঘূর্ণিতে মোহাবিষ্ট হয়েই। ক্যারিবীয় ইনিংসের চেহারা ৫ উইকেটে ১৪৪ হয়ে গেল কারণ তিনি একাই নিলেন ৪ উইকেট। দুই টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ক্যারিবীয়দের মুখোমুখি হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ম্যাচে অভিষেক ঘটে ২৫ বছর বয়েসী বাঁ-হাতি অর্থোডঙ্ ইলিয়াস সানীর। গল্পটা তাকে নিয়েই। গাল-গপ্পো বলে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। অভিষেকেই ওমনটা করে দেখিয়েছেন তিনি। আরেক অভিষিক্ত ১৯ বছর বয়েসী তরম্নণ অলরাউন্ডার নাসির হোসেন তার আগেই কিছু করে দেখানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। ব্যাট হাতে নেমে খুব বেশি উজ্জ্বলতা ছড়াতে না পারলেও ৮ নম্বরে নেমে ৩৪ রানের যে মাঝারি ইনিংস উপহার দিয়েছেন তাতে জড়তার লেশমাত্র ছিল না। সানি-নাসিরের চমৎকার অভিষেক বাংলাদেশ দলকে ৪র্থ দিনশেষে স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রেখেছে।
২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে বাংলাদেশের জাতীয় লীগে খেলা শুরম্ন করে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ভাস্বর ছিলেন সানি। টি২০ বিশ্বকাপ ও জিম্বাবুইয়ে সফরের আগে প্রাথমিক স্কোয়াডে জায়গা হলেও চূড়ানত্মভাবে বিবেচিত হতে পারেননি। তবে ক্যারিবীয়রা বাংলাদেশে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে আসার আগে আবারও প্রাথমিক দলে জায়গা পান। প্রস্তুতি ম্যাচগুলোয় দুর্দানত্ম বোলিং করে জাতীয় দলে নিতে একপ্রকার বাধ্যই করেন নির্বাচকদের। তবে একমাত্র টি২০ দলে থাকলেও মূল একাদশে জায়গা হয়নি তার। ওয়ানডে সিরিজে ছিটকে পড়েন। তবে টেস্ট স্কোয়াডে জায়গা হয় মূলত সোহরাওয়াদর্ী শুভ আর রাজ্জাকের সম্প্রতি ফর্ম খারাপ হওয়ায়। সুযোগ পেয়েই তা কাজে লাগান তিনি। পরপর দু’দিন বৃষ্টির কারণে খেলা না হওয়ায় বেশ আশাহতই ছিলেন।
অনিশ্চিত হয়ে পরে চট্টগ্রাম টেস্ট। তবে ৪র্থ দিনে আলো ঝলমল হয়ে ওঠে। ঝলমলে দিনে বাংলাদেশ ইনিংস ঘোষণার পর ক্যারিবীয় ইনিংসে আগুন উগড়ে দেন এ বাঁ-হাতি অর্থোডঙ্। ক্যারিয়ারের ১৭তম বলেই স্মরণীয় মুহূর্ত উপভোগের উপলৰ পেয়ে যান। ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা কার্ক এডওয়ার্ডসকে এলবিডবিস্নউর ফাঁদে ফেলেন। এরপর আরও ৩ উইকেট নিয়েছেন। ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারানো ক্যারিবীয় ইনিংসের মূল সংহারক সানিই। সবচেয়ে বড় পুরস্কার পেয়েছেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটের ব্যাটিং সত্মম্ভ অভিজ্ঞ শিবনারায়ণ চন্দরপলের উইকেটটি নিয়ে। ইনিংস মেরামত করার পথে সাবলীল চন্দরপলকে ৪৯ রানেই থেমে দেন তিনি। অভিষেকেই বাংলাদেশী হিসেবে ৪ বা ততধিক উইকেট নেয়ার কাতারে তার অবস্থান এখন চারে। এখনও পঞ্চম দিন আছে আর ক্যারিবীয় ইনিংসেরও ৫ উইকেট বাকি। চতুর্থ দিনে যেমন বোলিং করেছেন তা ধরে রাখতে পারলে হয়ত ছাড়িয়ে যেতে পারবেন ২০০১ সালের এপ্রিলে অভিষেকে ৮১ রানে জিম্বাবুইয়ের বিরম্নদ্ধে পেসার মঞ্জুরম্নল ইসলামের ৬ উইকেট নেয়ার রেকর্ডকে। দিনশেষে তার বোলিং বিশেস্নষণও হয়েছে দেখার মতো-১৬-০-৫৬-৪। তারও আগে নাসির চতুর্থ দিনে নেমে বেশ সাবলীল ভাবেই করেছেন ৩৪ রান। অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম ও শাহরিয়ার নাফীস দ্রম্নত ফিরলে নাসির বিপর্যয় সামাল দেন। ৪৭ বলের ইনিংসে ২৪ রানই নিয়েছেন বাউন্ডারিতে। সবমিলিয়ে দু’জনের অভিষেক আলোচনায় আসবার মতোই হয়েছে। আর পঞ্চম দিনে আরও রেকর্ড তো হাতছানি দিচ্ছেই সানির সামনে। পেছন থেকে ক্রিকেট ভক্ত-সমর্থকদের কাছ থেকে পাবেন অকুণ্ঠ সমর্থন।

October 19th, 2011

টেস্ট দলটিও সমৃদ্ধ: এখন খেলতে পারলেই হয়, অভিব্যক্তি পাইলটের

টি২০ ও ওয়ানডে দল দিয়ে প্রশংসায় ভেসেছেন আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশারকে নিয়ে গড়া নির্বাচক কমিটি। কিন্তু টেস্ট দলটি নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন তাঁরা। ১৪ সদস্যের ঘোষিত দল নিয়ে এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে সমালোচনা। নতুনদের সুযোগ দেয়া হয়েছে। তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ করে দিতে টেস্টের মতো খেলায় মোহাম্মদ আশরাফুলের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে দলের বাইরে রাখা হয়েছে। বাদ পড়েছেন আরও দু’এক প্রতিভাবান। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট বিষয়টিকে অন্যভাবেই দেখছেন। ‘ভালদেরই সুযোগ হয়েছে। ফর্মে যারা থাকবে তাদেরই সুযোগ দেয়া উচিত। তাই হয়েছে। টি২০, ওয়ানডের পর টেস্ট দলটিও ভাল হয়েছে’-বলেছেন পাইলট। এই দল নিয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যাও দিয়েছেন সাবেক এই ক্রিকেটার। বলেছেন, ‘আমি অবাক হয়েছি ইলিয়াস সানিকে ওয়ানডেতে না নেয়ায়। তাকে ওয়ানডেতে নিলে ভাল হতো। যদিও যা চলে গেছে তা নিয়ে কথা বলে লাভ নেই। এখন টেস্ট দল নিয়ে আলোচনা করা শ্রেয়। আমার কাছে মনে হচ্ছে টেস্ট দলটি অনেক ভাল হয়েছে। বর্তমান সময়ের সেরাদের নিয়েই দল গঠন হয়েছে।
কেন? যেখানে আশরাফুলের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান উপেৰিত। সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচেও সবচেয়ে ভাল ব্যাটিং করেছেন আশরাফুল। জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ৭৩ রানের একটি ইনিংসও আছে। আর অলক কাপালীর বাদ পড়াও কী যৌক্তিক? যেখানে তার ব্যাটে ভাল সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছিল। ওয়ানডে দল থেকে টেস্টে সুযোগ হয়নি আবদুর রাজ্জাকেরও।
পাইলট বলেন, ‘অভিজ্ঞতা দিয়ে আপনি সবসময় পার পেতে পারেন না। আপনাকে অবশ্যই পারফর্ম করে দেখাতে হবে। পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেখাতে হবে। যদি তা না পারেন তাহলে কেন দলে রাখা হবে? একজন ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে ভাল ব্যাটিং না মিললে দলে সে থাকবেই কি করে। আগে কি করেছে তা নিয়ে বসে থাকলে আর দল চলবে না। আর একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে যারা দলে আছে কয়েকজন বাদ দিয়ে বাকি সবাই একই খেলছে। এদের মধ্য থেকে যারা একটু এগিয়ে তাদেরই দলে নেয়া হবে। এটাই কী স্বাভাবিক নয়? আশরাফুল নিঃসন্দেহে ভাল ক্রিকেটার। অভিজ্ঞও। কিন্তু তাঁকে কম সুযোগ দেয়া হয়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরম্নদ্ধে সিরিজে দুটি ওয়ানডেতেও তাঁকে খেলানো হয়েছে। কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেনি আশরাফুল। তাঁকে ছাড়িয়ে অন্যরা আরও ভাল করেছে।’
রাজ্জাকের বিষয়ে পাইলট বলেন, ‘রাজ্জাক আসলে ওয়ানডেতে ভাল। টেস্টে নয়। আমার মনে হয় তাকে বাদ দেয়ার বিষয়টি অযৌক্তিক নয়।’ আর কাপালীকে নিয়ে বলতে গিয়ে পাইলটের ভাষ্য, ‘কাপালী সিরিজে ভাল খেলেছে। তবে তার পরিবর্তে যাকে নিয়ে ভাবা হয়েছে সে নিশ্চয়ই নির্বাচকদের কাছে কাপালীর চেয়ে ভাল।’
দল ঘোষণা হয়েছে মঙ্গলবার। যেদিন বাংলাদেশ দল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬১ রানে অলআউট করে দিয়ে ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিয়েছিল। ১৪ সদস্যের দলে যথারীতি মুশফিকুর রহীম, তামিম ইকবাল, ইমরম্নল কায়েস, শাকিব আল হাসান, শাহরিয়ার নাফীস, রম্নবেল হোসেন, শাহাদাত হোসেন রাজিব, নাজমুল হোসেন সুযোগ পাবেন, তা বোঝাই যাচ্ছিল।
এর বাইরে রকিবুল হাসান, নাঈম ইসলাম আবার সুযোগ পেয়েছেন। আর তরম্নণদের মধ্যে একেবারেই নতুন মুখ ইলিয়াস সানি। তার এখনও আনত্মর্জাতিক কোন ম্যাচই খেলা হয়নি। দলে আছেন নাসির হোসেন, সোহরাওয়াদর্ী শুভ, শুভগত হোম চৌধুরীও। এই তিনজনের টেস্ট খেলা হয়নি এখনও। ইনজুরির কারণে শফিউল ইসলামকে টেস্ট দলে রাখা হয়নি। আর সর্বশেষ জিম্বাবুইয়ের বিরম্নদ্ধে টেস্ট ম্যাচটি থেকে বাদ পড়েছেন জুনায়েদ সিদ্দিকী ও রবিউল ইসলাম শিপলু। মাহমুদুলস্নাহ রিয়াদ সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। তাই টি২০, ওয়ানডের পর টেস্টেও তার খেলা হচ্ছে না। রকিবুল হাসানকে আবার টেস্টে সুযোগ করে দেয়ার কারণ চলতি জাতীয় লীগে ঢাকার হয়ে একটি ফিফটি (৫৩) করেছেন। নাঈম ইসলাম ওয়ানডেতে ভাল খেলার পুরস্কার পেয়েছেন। শাহাদাত হোসেন এক বছর পর আবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে টেস্টে খেলার আশায় আছেন। ইনজুরির কারণে জিম্বাবুইয়ের বিরম্নদ্ধে সর্বশেষ টেস্টে খেলতে পারেননি শাহাদাত। ২০০৪ সালের পর নাজমুলের টেস্ট খেলা আর হয়নি। একমাত্র টেস্টটি খেলার পর আবার প্রায় সাড়ে ছয় বছর পর দ্বিতীয় টেস্ট খেলার সুযোগে আছেন নাজমুলও। আর তরম্নণদের মধ্যে নাসির, সোহরাওয়াদর্ী, শুভগত ও ইলিয়াসের মধ্যে দলে স্থান করে নেয়ার লড়াই চলবে। যিনি সুযোগ পাবেন তিনিই দলে স্থায়ী হওয়ার জন্য খেলবেন। আর সেটি দলের জন্যই উপকারে আসবে বলেই মনে করছেন পাইলট, ‘দলে যে সব তরম্নণ ক্রিকেটার আছে, তাদের জন্য টেস্ট সিরিজটি দলে পাকাপোক্ত স্থান করে নেয়ার পরীৰা। তাদের সুযোগ দেয়া হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। তারাও নিশ্চয়ই তাই চাইছে। যখন দলে টিকে থাকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে তখন দলেরই তা উপকার হবে। তরম্নণরা পারফর্ম করতে চাইবে। সেই পারফরম্যান্স দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
টি২০ এবং ওয়ানডে দলে ছিলেন আশরাফুল, রাজ্জাক, কাপালী। টেস্টে এই তিনজনই নেই। অভিজ্ঞতা বিচারে অনত্মত আশরাফুলকে নেয়া যেতে পারত। এমনই বলাবলি হচ্ছে। তবে বাস্তবতা তার পৰে নেই। পারফর্ম না করতে পারলে দলে টিকে থাকাও কষ্টসাধ্য। সেটিই হয়েছে। যখন টেস্ট দল নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে তখন পাইলট যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়ে বলছেন, ‘টেস্ট দলটিও ভাল হয়েছে।’

October 18th, 2011

উড়ে গেল উইন্ডিজ: সাগরিকায় বিশাল জয় টাইগারদের

পূর্বকোণ থেকে মেঘের ঘনঘটা সেই সকাল থেকেই। কখনও গরমের ভ্যাপসা ভাব, আবার কখনও এই নামছে বৃষ্টি এমন ভাব। কিন্তু এ বৃষ্টি নেমেছে সন্ধ্যায়। তাও গুঁড়ি গুঁড়ি। তখন বাংলাদেশের জয় শুধু নিশ্চিত নয় পুরস্কার বিতরণী পর্বটিও শেষ হওয়ার পথে। আবার বৃষ্টি উধাও হয়ে যায়। প্রকৃতি যেন জানান দিচ্ছিল সবকিছুই টাইগারদের শুভার্থীর মতো। না হয় শহরের কোন কোন প্রান্তে প্রবল বর্ষণ হলেও সাগর পাড়ের সাগরিকা জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ছিটেফোঁটাও বৃষ্টি নামেনি। ক্যারিবীয়রা ৫০ ওভারের পুরো ইনিংস খেলতে পারলে ম্যাচ শেষ হতো কিনা সন্দেহ ছিল। কালো মেঘের ঘনঘটা আর রাতে হাল্কা বৃষ্টিই বলে দেয় প্রকৃতি দিনভর টাইগারদের জন্য উদার ছিল। এমন অনিশ্চিত দিনেও টাইগারদের বিশাল জয় দেখে চট্টগ্রামের দর্শকরা আবারও মুগ্ধ। এ মাঠে পর পর তিনটি ম্যাচে তারা জয় নিয়ে ঘরে ফিরতে পারল। গ্যালারিতে আর রাস্তায় রাস্তায় উৎসবের আরও একটি দিন অতিবাহিত করার সুযোগটি তারা হাতছাড়া করেনি। তাই অন্তত পনেরো হাজার দর্শক ছুটে যায় শহর থেকে কিছুটা দূরে নির্জন এলাকার এ স্টেডিয়ামটিতে। আগের দিন শহরের মূল অংশে তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। অথচ সাগরিকার আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি হয়েছে। সারা মাঠ ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। তারপরও কোথাও কোথাও ছুয়েছে আউটফিল্ড। এ স্টেডিয়ামটির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্বল থাকার সমালোচনা প্রায়ই। কিন্তু চট্টগ্রামের মাঠ টাইগারদের জন্য সৌভাগ্যের। সেটি প্রমাণিত হয়েছে আগেই। তাই তো বৃষ্টির পরও এ মাঠে জয়ের ব্যাপারে উজ্জীবিত ছিল স্বাগতিকরা। বাস্তবেও ঘটেছে সে রকম। ৮ উইকেটে বিশাল জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজরা ঢাকায় ব্যাটিং তা-ব চালিয়ে স্বাগতিকদের বড় ব্যবধানে দুই ম্যাচে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলে। অথচ চট্টগ্রামে এসে গো হারা হারল। মাত্র ৬১ রানে অল আউট। আর ৩ রান আগে হলে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ঢাকায় এদের বিরম্নদ্ধে টাইগারদের কুপোকাত হওয়ার সেই যন্ত্রণার অধ্যায়টির প্রতিশোধ নেয়া যেত। মুশফিকদের এদিন আগে থেকেই প্রস্তুতি ছিল। বৃষ্টির কারণে ওভার কাটা হলে কি করতে হবে। বোলিংয়ে প্রেসার এবং স্পিনারদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ক্যারিবীয়দের মাটিতে নামিয়ে আনে।
সকাল থেকেই এ ম্যাচটির প্রতি নগরবাসীর আকর্ষণ ছিল। বৃষ্টি হওয়ার মতো মেঘের ঘনঘটা তেমন ছিল না। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে যে মেঘ আসছিল তাতে ভারি বর্ষণের অবস্থা ছিল না। আবার বৃষ্টিতে ম্যাচ ধুয়ে যাবে এমন পরিস্থিতি না থাকলেও শেষ বিকেলে শহরের মূল অংশে হাল্কা বৃষ্টি হয়েছে। আর সাগরিকার মাঠ থেকে আশপাশের আকাশ কালো ঘন মেঘে ঘুর ঘুর করলেও মাঠের দিকে একটুও আসেনি। ফলে বৃষ্টিহীন অবস্থায় ২২ ওভারে অল আউট হয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। দ্রম্নত উইকেট পড়ে যাবার পর টাইগাররাও বার বার আকাশের দিকে তাকিয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ে ম্যাচ শেষ করার তাগাদা দিতে থাকে। জয় হাতছাড়ার আশঙ্কায় একটু তড়িঘড়ি করেই ব্যাট চালাতে হয়। অধিনায়ক মুশফিক স্বীকারও করলেন- বৃষ্টির কারণে জয় হাতছাড়া হওয়া থেকে বাঁচতে তারা তৎপর ছিলেন। প্রকৃতিও ছিল তাদের পক্ষে। নয়ত ম্যাচ শেষ হয়ে পুরস্কার বিতরণীর পর্বে হাল্কা বৃষ্টি আসতে আসতেই আবার থেমে যায়। এরই মধ্যে শেষ হয় পুরস্কার বিতরণী আর সারা মাঠ ত্রিপল দিয়ে ঢেলে ফেলার পর্বটি। কারণ আগামী শুক্রবার থেকে এ মাঠে শুরম্ন হচ্ছে প্রথম টেস্ট ম্যাচ।
চট্টগ্রামের ম্যাচে টাইগারদের উজ্জীবিত করতে দুপুরেই অনত্মত ১৫ হাজার দর্শক রঙ বেরঙের পোশাক আর পতাকা জড়িয়ে বুবুজেলার শব্দে সারা গ্যালারি উজ্জীবিত। কাছে থেকে মুশফিকদের বার বার প্রেরণা দিয়েছে চট্টগ্রামের ক্রিকেটপ্রেমীরা। গেল বিশ্বকাপ ক্রিকেটে এখানে স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চট্টগ্রামের ভেনু্য সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে রূপ নেয়। মূলত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পরও সেই টানে সেখানে বিপুল দর্শকের উপস্থিতি। যেখানে ম্যাচ নিয়েই শঙ্কা ছিল সে অবস্থায় এমন খোলার দিনে ডে-নাইট ম্যাচে বিপুল দর্শকের উপস্থিতি আয়োজকদেরও বিস্মিত করেছে। টাইগারদের বোলিংয়ে আগুন ঝরা এবং ব্যাটিংয়ে এসে লোকাল হিরো তামিমের অপরাজিত ব্যাটিংয়ে স্থানীয়রা দারম্নণ খুশি। তাই বিজয়ী দলের ক্রিকেটারদের মাঠ ছাড়ার সময় রাসত্মার দুপাশে হাজারো দর্শক বিশ্বকাপের সে জয়ের আবহ সৃষ্টি করে ফেলে। দীর্ঘ এলাকাজুড়ে দর্শকরা নানাভাবে স্বাগত জানায় ক্রিকেটারবাহী বাসকে। তাদের নতুন বাসনা এখন টেস্ট ম্যাচকে ঘিরে।
আজ সকাল সাড়ে ৯টায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল এবং দুপুর দেড়টায় বাংলাদেশ দল সাগরিকায় টেস্ট ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য প্রাকটিসে নামবে।
খালেদা জিয়ার অভিনন্দন ॥ চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ পরাজিত করায় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ক্রীড়া নৈপুণ্য এবং ঐতিহাসিক বিজয়ে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, ‘এ গৌরবোজ্জ্বল বিজয়ে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল হয়েছে। বাংলাদেশ দলের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি। আমিও তাদের আনন্দে নিজেকে শামিল করছি। বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই অবিস্মরণীয় সাফল্যে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। দলের সব ক্রিকেটার, কোচ, কর্মকর্তাসহ সংশিস্নষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আশা করি, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশী টাইগাররা এমন সফলতা অর্জনে সৰম হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এই সাফল্য আমাদের আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগাবে।’
অপর এক বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।