Archive for ‘খেলা’

October 16th, 2011

হোয়াইটওয়াশ বাঁচাতে মরিয়া এখন বাংলাদেশ

সম্মান রৰা সম্ভব, না হোয়াইটওয়াশ হবে বাংলাদেশ? আগামীকাল মঙ্গলবার ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ। বাংলাদেশের এটি সম্মান রৰার ম্যাচ। ম্যাচের আগে এই প্রশ্নগুলোই সবার মুখে ঘুরপাক খাচ্ছে। সিরিজের দুটি ওয়ানডে শেষ। দুটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। এবার তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে নামবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটিও দুপুর দেড়টায় শুরু হবে।
দুই দলই এই ম্যাচটির উদ্দেশে এখন চট্টগ্রামে অবস্থান করছে। ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটি শেষ হতেই টেস্টের মিশনে নেমে পড়বে দুই দল। টেস্টও একই স্টেডিয়ামে, ২১ থেকে ২৫ অক্টোবর। প্রথম ওয়ানডেতে ৪০ রানে এবং দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। সিরিজ হারও নিশ্চিত হয়ে গেছে। এখন সিরিজের ব্যবধান ০-২। তৃতীয় ওয়ানডে তাই আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচ রূপে পরিণত হয়েছে। ম্যাচটিতে স্বাভাবিকভাবেই জয় তুলে নিতে চাইবে বাংলাদেশ। দুই ওয়ানডে হেরে হারানো ভাবমূর্তি রৰা করার তাগিদ থাকবে। সেই লক্ষে সফল হলে ভাল। সম্মান রৰা হবে। নয়ত হোয়াইটওয়াশ হতে হবে।
সম্মান ধুলোয় মিশবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ আসার আগ থেকেই প্রতিশোধ শব্দটি বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ তিন ওয়ানডেতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছিল। সেই হারের প্রতিশোধ নিশ্চয়ই নেবে ক্যারিবীয়রা। তখন যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তৃতীয় সারির একটি দল ছিল তা এখন প্রমাণ হচ্ছে। দুটি ওয়ানডে হয়েছে, দুটিতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনায়াসেই জয় পেয়েছে। যেন জয় পেতে কোন কষ্টই করতে হয়নি। আরেকটি জয় পেলে প্রতিশোধও নেয়া হয়ে যাবে। অবশ্য প্রতিশোধ শব্দটি মুখ দিয়ে উচ্চারণ করতে নারাজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটাররা। তারা প্রস্তুত হয়েই এসেছে। এমনিই বলছে বার বার। টি২০ ম্যাচে সেই প্রস্তুত হওয়ার আলামত মিলেনি। কিন্তু ওয়ানডেতে যে ক্যারিবীয়রা এতটা বিধ্বংসী হয়ে উঠবে কেউ ভাবতেও পারেনি। ব্যাটসম্যান-বোলাররা মিলে বাংলাদেশকে একেবারে ধুয়েমুছে দিচ্ছে। জিম্বাবুইয়ে সফর শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য পুরোদমে প্রস্তুতি নেয়া হয়। বিসিবি কাপ, চারদিনের ম্যাচ এবং টি২০ খেলা হয়। টি২০ ম্যাচে তার সাফল্যও মিলে। কিন্তু ওয়ানডেতে এসে সেই সাফল্য মস্নান হয়ে গেছে। এখন সবার ভেতর চট্টগ্রামে বাংলাদেশ দলের সাফল্যই যেন পুঁজি হচ্ছে। আর যেহেতু জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ম্যাচ, এই মাঠে বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়েই এখন সাফল্য খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মনে করা হচ্ছে ঢাকার বিস্মৃতি এসে বাংলাদেশ যে চট্টগ্রামে সাফল্য কুড়িয়ে নেয়, এবারও তাই হবে। সর্বশেষ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অবস্থা এই রকমই হয়েছিল। ঢাকায় জয় ধরা দিচ্ছিল না। এমনকি কঠিন পরিস্থিতিতেও পড়ে গিয়েছিল দল। শেষপর্যনত্ম চট্টগ্রামে গিয়ে ঢাকার স্মৃতি একেবারে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে সৰম হয়। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ আবারও চাঙ্গা হয়। শেষপর্যনত্ম তা ধরে রাখা যায়নি। তবে বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য পাওয়া গেছে চট্টগ্রামেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরম্নদ্ধে অবশ্য এই স্টেডিয়ামে এখন পর্যনত্ম কোন ম্যাচ খেলা হয়নি। ক্যারিবীয়দের বিরম্নদ্ধে প্রথমবার বাংলা-দেশ এই স্টেডিয়ামে কোন ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে। ম্যাচটিতে যখন নামছে বাংলাদেশ এর আগেই বিধ্বসত্ম হয়ে আছে। আর ওয়েস্টইন্ডিজ পুরোদমে চাঙ্গা। দেশে পা রাখার পর থেকেই সিরিজ জয় করতেই এসেছে তারা, এমনটিই বলছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটাররা। সেই কাজ তারা করেও ফেলেছে। সিরিজ জিতে নিয়েছে। এখন তাদের সামনে মিশন তৃতীয় ওয়ানডে। ম্যাচটি জিতলেই বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করবে ওয়ে দলে ব্যাটসম্যান-বোলারের ছড়াছড়ি। তামিম, ইমরুল, আশরাফুল, শাকিব, মুশফিক, কাপালীদের মতো ব্যাটসম্যানরা আছেন। শফিউল, রুবেল, রাজ্জাকদের সঙ্গে শাকিবের মতো বোলাররা থাকতেও কিছুই করা যায়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসার কেমার রোচ, রাভি রামপাল এবং ব্যাটসম্যান ল্যান্ডল সিমন্স ও মার্লন স্যামুয়েলসের ব্যাটিংয়ের সামনে দাঁড়ানোই যায়নি। সিরিজ শুরুর আগে ‘কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে’-বলেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ড্যারেন সামি। আর বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম বলেছিলেন, ‘আমরা প্রতিটি ম্যাচেই জয়ের জন্য খেলব।’ সামি কিংবা মুশফিক কারও কথাই সত্য হয়নি। সিরিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে না। আর প্রতিটি ম্যাচে ঠিকই জয়ের জন্য নামছে বাংলাদেশ। প্রতিটি দলই নামে। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাস আর পাওয়া যাচ্ছে না।
এমন ছন্নছাড়া আত্মবিশ্বাস নিয়ে কী মঙ্গলবারও নামবে দল? তাহলে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়া নিশ্চিত বলা যায়। আর বিপরীত হলে অর্থাৎ বাংলাদেশ যদি জয় পেয়েই যায় তাহলে সম্মান রৰা হবে। এই সম্মান রক্ষার ম্যাচই মঙ্গলবার।

October 15th, 2011

ক্যারিবীয়দের কাছে সিরিজ হারলো বাংলাদেশ

ফ্লয়েড রেইফার নিশ্চই খুশি হবেন এখন, হাজার হাজার মাইল দূর থেকে ক্যারিবিয় সাবেক এই অধিনায়ক হয়তো বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচটি দেখে তৃপ্ত হতেই পারেন, কারণ ঠিক দুই বছর আগে তাদের দেশের মাটিতে বাংলাদেশ দল ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ হারিয়েছিল। পুরো সিরিজে এমন বিধ্বস্ত হওয়ার কষ্ট তো রেইফারকে এখনো বিদ্ধ করে। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ড্যারেন স্যামিরা বাংলাদেশকে বিধ্বস্ত করে দুই বছর আগের ওয়ানডে সিরিজ হারের প্রতিশোধ নিলেন। এক ম্যাচ হাতে রেখে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলল সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২২১ রানের টার্গেট নিয়ে মারলন স্যামুয়েলস ও লেন্ডল সিমন্স বাংলা-দেশী বোলারদের উপর দিয়ে বইয়ে দিলেন ঝড়। যে ঝড়ে খেলা শেষ হয় ৪৪ বল বাকি থাকতে। পেস ও স্পিন আক্রমণভাগকে তুলোধুনো করে স্যামুয়েলস তুলে ফেলেন ৭৪ বলে ৮২ রান, আর সিমন্স আউট হলেও তার নামের পাশে যোগ করেন ১২৫ বলে ৮০ রান।

মিরপুর স্টেডিয়ামের উইকেট সবসময় বিতর্কিত হয়েছে। এর আগে স্বাগতিকদের জন্য উইকেট তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে ফায়দা নিয়েছে সফরকারীরাই। প্রথম ম্যাচে উইকেট সম্পূর্ণ প্রতিপক্ষকে সহায়তা করেছে বলে দ্বিতীয় ম্যাচটির জন্য মূলত টার্নিং উইকেট বানানো হয় বলে জানা যায়। কিন্তু উইকেট এতটাই বিচিত্র আচরণ করেছে যে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে স্কোর বোর্ডে ১ রান তুলতেই তিন উইকেট নেই! ZviciI ২২০ রানের একটা সম্মানজনক স্কোর হয়েছে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও নাসির হোসেনের ফিফটির কারণে। প্রথম আধঘণ্টা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং দেখে ২২১ রানের টার্গেটকেও একটু চ্যালেঞ্জ বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সিমন্স, ডেনজা হায়াত ও স্যামুয়েলস স্বাগতিক বোলারদের ছন্দকে গুঁড়িয়ে দিতে থাকেন। বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারি মারা খুব সহজ সেটা টপ অর্ডার তিন ব্যাটসম্যানের ব্যাটিংই প্রমাণ করে। দুটি চার ও দুটি ছয়ে হায়াত ঝড় দিয়ে ইনিংস শুরু করলেও সাকিব আল হাসান তার দ্বিতীয় স্পেলে ফিরিয়ে দেন লং অনে রুবেলের এক চমত্কার ক্যাচে। তখনো ম্যাচে ফিরে আসা সম্ভব ছিল, কিন্তু বোলারদের ছন্দহীন বোলিং এবং ব্যাটিং পিচের কারণে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমটি আলোকিত হয়নি। প্রথম ম্যাচে সিমন্স ও স্যামুয়েলস মিলে ১৫০ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দিয়েছিলেন, কালও এই দুই ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি পার্টনারশীপ গড়ে দুই দলের ব্যবধান তৈরি করেন। ৩১টি ওয়ানডে খেলা সিমন্সের এই বছরটি বেশ ভালোই যাচ্ছে, ৭টি ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরি রয়েছে তার। বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর গতকালও শতরানকে প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছিলেন, কিন্তু সাকিবের তৃতীয় স্পেলের শেষ ওভারের পঞ্চম বলে এলবিডব্লিউ হয়ে শেষ করতে হয় তার ৩টি ছয় ও ৩টি চারে ১২৫ বলে ৮০ রানের ইনিংসটি। এরপরের গল্প অবশ্য ম্যাচ সেরা স্যামুয়েলসের। আইসিসির নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে জাতীয় দলে ফিরেই ফর্মের তুঙ্গে রয়েছেন এই ব্যাটসম্যান। কাল শফিউল, রুবেলের বোলিংকে তছনছ করেছেন তিনি একাই। রুবেলের শেষ ওভারে ৩টি চার ও শফিউলের সপ্তম ওভারে ২১ রান নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ১টি ছয়, ১২টি চারে ৮৮ রানে অপরাজিত থাকেন স্যামুয়েলস। এক ম্যাচ হাতে রেখে জয় পাওয়া ক্যারিবিয় ব্যাটসম্যানদের প্রশংসার চাইতেও সেই পুরানো সমালোচনার ঝড় আবারও বইছে। উইকেট যদি কিউরেটরা স্পিনারদের জন্য বানিয়ে থাকেন তবে বাংলাদেশের ৬ স্পিনার মিলে কেন ১১২ রান দিবেন? বিকেলের কুয়াশার কারণে বল ধরতে সমস্যা হলেও অধিনায়ক মুশফিক কেন টসে জিতে ব্যাটিং নিলেন। ম্যাচ শেষে এসব প্রশ্নই বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে ঘুরছে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য হোয়াইটওয়াশ থেকে বাঁচার ম্যাচ বটে, তবে এই সিরিজের আগে স্বাগতিকরা লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিল, গত দুই ম্যাচে তার ছিটে ফোটা দেখা যায়নি। ২০০৯ সালে ডোমিনিকা ও সেন্ট কিটসে তিনটি ওয়ানডে এবং দুটি টেস্ট জিতলেও সিরিজের শুরুতে টি-টোয়েন্টি হারতে হয় তখনকার সাকিবের দলকে। দুই বছর পর নিজেদের হোম গ্রাউন্ডে প্রথমে টি-টোয়েন্টি জিতে দারুণভাবে শুরু করার পর ওয়ানডে সিরিজ খোয়াতে হল মুশফিকদের। এবার মান রক্ষার জন্য প্রয়োজন চট্টগ্রামে শেষ ম্যাচটির জয়।

October 12th, 2011

টাইগারদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে

টি২০ ম্যাচ শেষ। এবার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে নামার পালা। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ওয়ানডে। এই ম্যাচটি দিয়েই ওয়ানডে সিরিজ শুরু হচ্ছে। দুপুর দেড়টায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি দিবারাত্রির। আর এই ম্যাচটিতে নামার আগে জয় সঙ্গী করেই নামছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজে নামার আগে টি২০ ম্যাচ হয়েছে। সিরিজের একমাত্র এই টি২০ ম্যাচটিতে অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের অসাধারণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ জিতেছে ৩ উইকেটে। এই জয় বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটাররা এখন আতঙ্কে ভুগছে। মানসিক দিক দিয়েও বিপর্যস্ত। আবার না ওয়ানডেতেও হারের খপ্পরে পড়তে হয়। এমন ভাবনাই কাজ করছে ক্যারিবিয়ানদের মনে। সেই আশঙ্কাতেই ভুগছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
‘সত্যি বলতে টি২০ ম্যাচটিতে জয় আমাদের মানসিকতা চাঙ্গা করেছে। আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন সামনের ম্যাচগুলো নিয়ে ভাবছি।’- বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অনুশীলন শেষে এমনটিই বললেন টি২০ ম্যাচে ২ উইকেট নেয়া স্পিনার আবদুর রাজ্জাক। ‘বাংলাদেশ মানসিক দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে থাকবে স্বাভাবিক। টি২০ ম্যাচে জয়টি তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।’-টি২০ স্কোয়াডে ছিলেন না কিরন পোলার্ড। ওয়ানডে স্কোয়াডে যুক্ত হয়েছেন। দুপুরে অনুশীলনের ফাঁকে তার বলা এই কথাতে স্পষ্ট, বাংলাদেশ মানসিকতায় এগিয়ে থাকবে। আর তারা থাকবে পিছিয়ে। বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে বরাবরই সমস্যা থাকে। টি২০ ম্যাচটিতেও সেই সমস্যা ধরা পড়েছে। বোলাররা নিজেদের কাজ করে গেছেন। যখন ব্যাটসম্যানদের সময় এসেছে তখন আবার সেই ভরাডুবির চিত্রই ফুটে উঠেছিল। মুশফিক যদি দলের হাল সঠিক সময়ে না ধরতেন তাহলে জয় দিয়ে সিরিজ শুরুর সম্ভাবনা মলিনই হয়ে গিয়েছিল। রাজ্জাকও যেন সেই বিষয়টিই আবার নজরে আনলেন, ‘আমাদের বোলাররা সঠিক কাজ করে দিয়েছিল। ফিল্ডাররাও ভাল ফিল্ডিং করেছে। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা সঠিক কাজ করতে পারেনি। এই স্থানে আরও ভালও করতে হবে।’ পোলার্ডও যেন ব্যাটসম্যানদের নিয়েই ভাবছেন। ১৩২ রানেই যে দল অলআউট হয়ে গিয়েছিল। তার ভাবনায় পেসাররাও আছেন। এই সিরিজ ধরা হয়েছিল বাংলাদেশের স্পিন বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস এ্যাটাকনির্ভর হবে। টি২০ ম্যাচে বাংলাদেশ স্পিনাররা বাজিমাত করেছে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসাররা সেই তুলনায় ছিলেন নিষ্প্রভ। পোলার্ডও একজন মিডিয়াম পেসার। আর তাই টি২০ ম্যাচের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বলছেন, ‘আশা করি আগের ম্যাচের স্মৃতি ভুলে গিয়ে ওয়ানডে সিরিজ নিয়েই ভাবতে পারব আমরা। পেসাররাও ওয়ানডেতে ভাল করবে। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব ভাল করার।’ বাংলাদেশের একটি জয় সিরিজের আবহই পরিবর্তন করে দিয়েছে। এখন সবাই ভাবতে শুরম্ন করেছে ওয়ানডে সিরিজেও জয় সম্ভব। বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম সিরিজ শুরম্নর আগে বলেছিলেন, ‘আমরা প্রতিটি ম্যাচ জিততে চাই।’ তার সেই কথা গদবাধা ছিল। তবে আত্মবিশ্বাসে ছিল পূর্ণ। আর সেটি নিজেই প্রমাণ করেছেন। একমাত্র টি২০ ম্যাচ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ানডেতেও দল জিততে পারে এবং স্পিনাররা আবারও ম্যাচ জেতাবে এমন আশা এখন সবার।
বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ মোট ১৭টি ওয়ানডে হয়েছে। তিনটি ম্যাচ শুধু জিতেছে বাংলাদেশ। এছাড়া ১২ টিতেই হেরেছে। তিনটি ম্যাচের কোন রেজাল্ট হয়নি। এই ম্যাচগুলোর মধ্যে সর্বশেষ দুই দলের মুখোমুখি হওয়া ম্যাচটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রেরণা। বাংলাদেশকে যে ৫৮ রানে অলআউট করে দিয়েছিল। আর বাংলাদেশের জন্য সেই ম্যাচটি দুঃখ স্মৃতি। যেটিকে জয় করতে হবে মুশফিকের দলের। অবশ্য বাংলাদেশ দলের প্রেরণাও আছে। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে আত্মবিশ্বাস। প্রেরণা ২০০৯ সালে তিন ওয়ানডে জয়ের স্মৃতি। আর আত্মবিশ্বাস মঙ্গলবার টি২০ ম্যাচটিতে জয়। এই প্রেরণা আর আত্মবিশ্বাস নিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে চায়। ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ জিততে চাই’-এমনটিও বলেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। আর সেটির দ্বিতীয় ধাপ আজ। এবং আসল লড়াইও। ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ের টি২০ ম্যাচ শেষ। এখন যোগ্যতা দেখানোর পালা। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এরআগে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছিল এই দুটি দল। একটিতেই জয় পেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বিশ্বকাপে। যেই ম্যাচটি এখনও লজ্জা দিয়ে বেড়ায়। এবার দুই দলের মধ্যকার মিরপুরে দ্বিতীয় ম্যাচ হবে। এবারও দিবারাত্রিতে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর তাই এগিয়ে যাওয়ার মিশনও রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। দেশের মাটিতে এখন পর্যনত্ম ক্যারিবীয়দের বিরম্নদ্ধ বাংলাদেশ জিততে পারেনি। ৬ ম্যাচের মধ্যে ৫টিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। একটি ম্যাচের রেজাল্ট হয়নি। এরমধ্যে ৫টি ম্যাচই হয় দিবারাত্রিতে। অর্থাৎ দিবারাত্রির ম্যাচে বাংলাদেশ পিছিয়েই আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরম্নদ্ধে। ১৯৯৯ সালে দুই ম্যাচে, ২০০২ সালে দুই ম্যাচে এবং এইবছর বিশ্বকাপে একটি ম্যাচে দিবারাত্রিতে হারে বাংলাদেশ।
টি২০ ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম আবারও প্রতিটি ম্যাচে জয়ের কথাই বলেছেন। ম্যাচ বাই ম্যাচ ভাবছে বাংলাদেশ। টি২০ ম্যাচে জয় তুলে নেয়া গেছে। এখন ওয়ানডে ম্যাচেও কী জয় মিলবে? মুশফিক বলেন, ‘জয়ের জন্যই নামব। টি২০ ম্যাচে জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। ক্রিকেটারদের মানসিকতাও চাঙ্গা। এখন শুধু মাঠে ভাল খেলার প্রয়োজন। সবদিকে ভাল খেলতে পারলে জয় আসবে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে মুশফিকের ব্যাটিং নিয়ে উচ্চবাচ্য করেছেন। তবে টি২০ ম্যাচে হারলেও ওয়ানডে সিরিজ হাতছাড়া করতে রাজি নন, ‘এই ম্যাচে যা হয়েছে তা নিয়ে বসে থাকতে রাজি নই। ওয়ানডেতে আমরা জয় পাব আশা করছি।’
বাংলাদেশের কাছে এরআগের সিরিজে হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিশ্বকাপে তাদের পারফরম্যান্স দেখে মনে হয়েছিল বাংলাদেশকে এবার চুরমার করে দেবে। কিন্তু কোথায় সেই ভাবনা উড়ে গেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি২০ ম্যাচে কিছুই করতে পারল না। এখন ওয়ানডে সিরিজ শুরু হচ্ছে। টি২০ ম্যাচে হেরে স্বাভাবিকভাবেই ভাবনায় পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এত ‘হোমওয়ার্ক’ কোন কাজেই আসেনি সিরিজের প্রথম ম্যাচে। ‘শুরম্নটা ভাল হতে পারলে সিরিজ জেতাও সম্ভব’-মুশফিকের কণ্ঠে এমন আভাস ছিল।-সেই আশা নিয়ে শুভ সূচনাও হয়েছে। তাহলে কী সিরিজেও জিতবে বাংলাদেশ? তা সময়ই বলবে। দেশের মানুষ সেই আশাতেই আছেন। যেই আসার প্রতিফলন আজ থেকেই শুরু হতে পারে। আজ প্রথম ওয়ানডে। আর এই ম্যাচটিতে জয় সঙ্গী করেই নামছে বাংলাদেশ।

October 5th, 2011

সারা বিশ্বপড়াশোনাসম্পাদকীয়খোলা কলমঅর্থ ও বাণিজ্যখেলাকম্পিউটার প্রতিদিনবিনোদনশেষের পাতাফিচার পাতা

বার্সেলোনাকে একের পর এক জয় উপহার দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু পারছেন না জাতীয় দলকে জয় এনে দিতে। লিওনেল মেসির সমালোচকদের মোক্ষম ‘অস্ত্র’ বলতে এটিই। আসছে শুক্রবার বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে চিলি ও মঙ্গলবার ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। পুরোনো বিতর্ক আবারও উঠবে জেনেই মেসি জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর পক্ষে একা কোনো ম্যাচ জেতানো সম্ভব নয়।
‘আমি একা ম্যাচ জেতাতে পারব না। কোনো খেলোয়াড়ের পক্ষেই একা ভালো খেলে ম্যাচ জেতানো সম্ভব নয়। এই সত্যটা জাতীয় দল, বার্সেলোনা ও সব জায়গায় একইভাবে প্রযোজ্য। প্রতিটি দলের জন্যই “একটি দল” হয়ে খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ।’ বুয়েনস এইরেসে আজ বুধবার সাংবাদিকদের বলেছেন মেসি।
আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বশেষ ১৬টি আনুষ্ঠানিক ম্যাচের একটিতেও গোলের দেখা পাননি মেসি। অবশ্য তিনি খেলেছেন দুর্দান্ত। এর প্রমাণ, কোপা আমেরিকা আসর। জুলাইয়ে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় আর্জেন্টিনা ছিটকে পড়ে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। কোনো গোল না করেও জাদুকরী ফুটবল প্রদর্শনের জন্য ঠিকই কোপায় আর্জেন্টিনার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন মেসি।
লিওনেল মেসির ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে কোচ আলেক্সান্দ্রো সাবেলা বলেছেন, ‘মেসি গোল না পেলেও এ নিয়ে উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ আর্জেন্টিনা যে গোলগুলো পায়, তা আসে ওর পা অথবা মাথা থেকে। অন্য যেকোনো ফুটবলারের চেয়ে ও বেশি গোল বানিয়ে দেয়।’ ওয়েবসাইট।

October 4th, 2011

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল ঢাকায়

একটি টি-টোয়েন্টি, তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে আজ মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ঢাকায় আসছে দুই ভাগে ভাগ হয়ে। তবে দেশ থেকে আসছেন না কেউ। অধিনায়ক ড্যারেন স্যামির নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের মূল দলটি দুবাই থেকে আজ রাত আটটায় ঢাকায় এসে পৌঁছে। বাকি পাঁচ ক্রিকেটারকে নিয়ে সহকারী কোচ ডেভিড উইলিয়ামসের ঢাকায় পৌঁছার কথা কাল বুধবার।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কাল অনুশীলন করবেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা। ১১ অক্টোবর সিরিজ শুরুর আগে ৭ ও ৯ অক্টোবর দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ড্যারেন স্যামির দল।

September 18th, 2011

এ মাসের সাক্ষাৎ কার: অধিনায়কত্ব হারানোর পর

গত ৯ জানুয়ারি স্টেডিয়ামের এক পৃষ্ঠাজুড়ে ছিল ‘অধিনায়ক সাকিব’-এর সাক্ষাৎ কার। নিজের অধিনায়কত্ব-দর্শনের সঙ্গে বাংলাদেশ দল নিয়ে তাঁর পরিকল্পনার বিস্তারিত জানিয়েছিলেন সেই সাক্ষাৎ কারে। আট মাস পর আবারও পৃষ্ঠাজুড়ে সাকিবের সাক্ষাৎ কার। এবার অধিনায়কত্ব হারিয়ে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে অধিনায়কত্ব হারানোর পর সাকিব আল হাসানের মুখোমুখি হয়েছিলেন উৎ পল শুভ্র

 অধিনায়কত্ব হারানোর পর আপনার প্রতিক্রিয়া দিয়েই শুরু করি। এক বছরের জন্য দায়িত্ব দিয়ে যেভাবে আট মাসের মাথায় আপনাকে সরিয়ে দেওয়া হলো, এর পরও এটাকে এত সহজভাবে নিতে পারলেন কীভাবে?
সাকিব আল হাসান: আমি সহজেই কোনো কিছুতে বিস্মিত, মর্মাহত কিংবা আনন্দে আত্মহারা হই না। এটা আমার অভ্যাস বলতে পারেন। নেতৃত্ব চলে গেছে ঠিক আছে, না গেলে ভালো হতো, এই আর কি। তবে খারাপ তো একটু লেগেছেই। যেকোনো রক্ত-মাংসের মানুষেরই খারাপ লাগার কথা। তবে সবার আগে আমি একজন প্লেয়ার। আমার কাজ হচ্ছে মাঠে খেলা। দলের জন্য কিছু করার চেষ্টা করা। আর ওটা করার সুযোগ যতক্ষণ পাচ্ছি, আমার কোনো সমস্যা নাই।
 যখন খবরটা শুনলেন, ওই মুহূর্তের অনুভূতিটা কী ছিল?
সাকিব: মাগুরায় থাকলে সাধারণত আমি বাড়ির বাইরে যাই না। কিন্তু সেদিন বাইরে ছিলাম। ফোন আসতে শুরু করলে আমি বুঝে যাই, কোনো খবর আছে হয়তো। এরপর আমি রাবীদ ভাইকে (বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার রাবীদ ইমাম) ফোন দিই। তিনিই খবরটা বলেছেন আমাকে। কী হয়েছে, কী কারণে বাদ, এমন কোনো চিন্তা আমার মাথায় আসেনি। তবে হ্যাঁ, তাৎ ক্ষণিকভাবেই বুঝতে পেরেছিলাম, খবরটা শুনে বাসার সবারই মন খারাপ হবে। কিন্তু আমি এ নিয়ে বেশি মন খারাপ করিনি।
 এটা কীভাবে পারেন, মানে এমন একটা খবর পেয়েও কীভাবে স্বাভাবিক থাকা সম্ভব?
সাকিব: এটা আসলে বলা মুশকিল। ব্যাপারটা আমি নিজেও ঠিক বলে বোঝাতে পারব না। ক্যাপ্টেনসি হারানোর পরও আমি অনুশীলন করেছি। কিন্তু কেউ বলতে পারবে না যে আমার মন খারাপ ছিল কিংবা অনুশীলনে আন্তরিক ছিলাম না। অধিনায়কত্বটা থাকল না—এমন একটা চিন্তা কখনোই আসেনি আমার।
 এর মধ্যে কি আপনি মানসিকভাবে খুব শক্ত—এটা দেখানোর কোনো সচেতন চেষ্টা আছে?
সাকিব: (হাসি) থাকতে পারে। আমি নিশ্চিত নই। দু-একজন ফ্রেন্ড বলেছে, ‘দ্যাখ্, আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন।’ ওরা এমনও বলছে, অধিনায়কত্ব না থাকাটা আমার জন্য ভালো হয়েছে। আমি আরও ভালো পারফর্ম করতে পারব। সেটা হলে তো ভালোই। আর আমিও বিশ্বাস করি, আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন। খারাপ কিছুর পরই ভালো কিছু আসবে, এই বিশ্বাসও আছে আমার। এই কারণেই আমার আর টেনশন হয় না।
 আপনার যে বয়স, যে পারফরম্যান্স—তাতে মনে করা হয়েছিল অধিনায়ক হিসেবে অনেক দিন থাকবেন। আপনার নিজেরও কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিল। ঠিক হোক কিংবা বেঠিক, বোর্ড তো একটা দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে আপনাকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আপনি নেতৃত্ব হারানোর কারণটা কী বলে মনে করেন? আপনি কি মনে করেন, কোথাও ভুল ছিল আপনার?
সাকিব: আমি বলব না যে আমি হান্ড্রেড পারসেন্ট ঠিক ছিলাম। হয়তো কিছু ভুল ছিল। কিছু কিছু ব্যাপার, কোনো কোনো পরিস্থিতি ছিল, যেগুলো আরও ভালোভাবে সামলাতে পারলে আমার জন্য হয়তো ভালো হতো। অনেকের ভুল ধারণাও প্রক্রিয়াটাকে ত্বরান্বিত করেছে। যা শুনেছেন, সেটাকেই সত্যি বলে মেনে নিয়েছেন অনেকে। কাছ থেকে দেখা কিংবা তা যাচাই করার চিন্তা করেননি। আমার মনে হয়েছে, এ ক্ষেত্রে মিডিয়ারও একটা ভূমিকা আছে। যেমন ধরেন, গত বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর আমি কোনো বিষয়ে একটা মজা করেছিলাম, কিন্তু সেটা ছাপা হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারার পর। মানুষ তো ওটাকেই সত্যি মনে করবে। তারা তো আর বুঝবে না যে আমি ওই কথাগুলো (‘লাঞ্চটা খুব ভালো ছিল। তাই ব্যাটসম্যানরা তাড়াতাড়ি আউট হয়ে ফিরে এসেছে’) বলেছিলাম আয়ারল্যান্ড ম্যাচের পর।
কেউ হয়তো বলছে, দলের মধ্যে দলাদলি আছে। এ কথা শোনার পর দূর থেকে দলের পাঁচজনকে আলাদা গল্প করতে দেখে তারা হয়তো ভাববে, এই পাঁচজনই একটা গ্রুপ। কিন্তু পাঁচজন মিলে কোনো বিষয়ে স্বাভাবিক আলাপও হতে পারে—সেটা তাদের মাথায় না-ও আসতে পারে। খোলা মন নিয়ে চিন্তা করা এক রকম আর পূর্ব ধারণা নিয়ে চিন্তা করাটা আরেক রকম। এই ব্যাপারগুলোই আমার বিপক্ষে কাজ করেছে। তবে শুধু প্রেসের দোষ, শুধু আমার দোষ কিংবা বোর্ডের দোষ—কোনো একটার কথা বলব না। সবকিছু মিলিয়েই এটা হয়েছে।
 কিন্তু আপনার সঙ্গে বোর্ডের টুকটাক ঝামেলা লেগেই ছিল। এটা কি যোগাযোগের সমস্যার কারণে?
সাকিব: আমার সঙ্গে বোর্ডের সম্পর্ক খারাপ ছিল বলব না। বোর্ড প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্কটা ভালোই ছিল বলে মনে করি আমি। উনার সঙ্গে আমার সম্পর্ক নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলছে। হ্যাঁ, কোনো বিষয়ে তর্ক হতেই পারে। কিন্তু আমি বলব, বোর্ড প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালোই ছিল। উনি সব সময়ই আমাকে সাপোর্ট দিয়ে গেছেন।
তবে হয়তো অনেকেই অনেক রকম চিন্তা করছেন। যাঁরা চিন্তা করেছেন, তাঁদের সঙ্গে হয়তো আমার কথাই হয়নি। আসল তথ্যটা জানার জন্য তাঁরা কখনোই আমার সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন মনে করেননি। এটাও একটা ব্যাপার ছিল। তাঁদের সঙ্গে কথা হলে অনেক কিছুই ক্লিয়ার হয়ে যেত, কিন্তু কথা হয়নি। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সামনাসামনি বসিয়ে দুই পক্ষেরই কথা শোনা হলে মনে হয় আসল ব্যাপারটা বেরিয়ে আসত। কিন্তু হয় উনারা কথা বলেছেন কিংবা আমি বলেছি…তবে সেটা কারও মাধ্যমে, বেশির ভাগই মিডিয়ার মাধ্যমে।
 আপনার সম্পর্কে অনেকের ধারণা, আপনি উদ্ধত-দুবির্নীত। এটার কারণ কী বলে মনে হয়?
সাকিব: যারা আমার সঙ্গে মিশেছে, আমার সম্পর্কে তারা কী মন্তব্য করে, সেটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। যারা আমার সঙ্গে মিশেছে, আমার বিশ্বাস, তারা আমার সম্পর্কে খুব কমই নেগেটিভ কিছু বলবে। আমি মনে করি, আমার কোনো টিমমেট যদি কখনো বলে, কোচিং স্টাফের কেউ নেগেটিভ কিছু বলে, তাহলে আমি মনে করব হয়তো আমার কোনো ভুল হচ্ছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যার সঙ্গে আমার দেখা-সাক্ষাৎ ই হয়নি, দূর থেকে দেখে সে একটা কমেন্ট করে দিল।
 কারণ যেটাই হোক, দেশের মানুষ যদি ভুল বুঝেও আপনাকে উদ্ধত মনে করে, সেটা কি আপনাকে কষ্ট দেয় না?
সাকিব: এই ব্যাপারগুলো আমাকে খুব বেশি ফেস করতে হয় না। কারণ, সাধারণ মানুষের সঙ্গে তো সেভাবে মেশার সুযোগ হয় না। সমস্যা হয় আমার কাছের মানুষদের। কথার কথা, মাগুরায় আব্বুর কোনো বন্ধু কিংবা পরিচিত কেউ হয়তো মাগুরার ভাষায় বলল, ‘আরে, তোর ছেলে নাকি এই করিছে?’ এটা শুনে আব্বু তো একটু মন খারাপ করবেই। মাগুরা ছোট শহর, সবাই সবাইকে চেনে। এই কথাগুলো সেখানে বেশি হয়। আম্মা হয়তো কোনো বাসায় গেল, কেউ তাকে বলল, ‘তোমার ছেলের নামে এ রকম শুনলাম। পেপারে দেখলাম। এ রকম হয়েছে নাকি?’ আমার সঙ্গে পরিবারের কারও ক্রিকেট নিয়ে বেশি কথা হয় না। তারা তো অত বোঝেও না। উত্তরও ঠিকভাবে দিতে পারে না। সমস্যাটা হয় তাদেরই। অধিনায়কত্ব যাওয়ায় আমি হয়তো পাঁচ পারসেন্ট কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু তারা পেয়েছে শতকরা আশি ভাগ।
 আপনি এত ভালো প্লেয়ার, এত ভালো খেলছেন। সবার আপনাকে মাথায় তুলে রাখার কথা। কিন্তু আপনাকে নিয়ে মানুষের মধ্যে এই যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, এতে খারাপ লাগে না?
সাকিব: মাঝেমধ্যে এই চিন্তাটা আসে। মানুষ আমার সম্পর্কে একটা ভুল জানবে কিংবা ভুল ধারণা করবে, এটা কেন হবে? আমি যেমন, তাদের ধারণাটা যদি সে রকম হয়, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু এখন তো বেশির ভাগই নেগেটিভ নিউজ আসছে। ওর আচরণ ভালো না, এটার অর্থ কী? সবাই তো এটাই ভাববে, ও বেয়াদব-টাইপের। অনেকে বলে, আমি নাকি অ্যারোগ্যান্ট। কিন্তু কী কারণে? ইন্টারভিউ না দিলে আমি অ্যারোগ্যান্ট? কিংবা কারও সঙ্গে কথা না বললেই অ্যারোগ্যান্ট? কে যেন আমাকে বলছিল, আমাদের দেশে অ্যারোগ্যান্টের সংজ্ঞা এক রকম, বাইরের দেশগুলোতে এক রকম। আমাদের দেশে যে কারণে আমাকে অ্যারোগ্যান্ট মনে হয়েছে, অন্য দেশ হলে হয়তো এটা কোনো ব্যাপারই হতো না।
 কখনো কি এমন মনে হয়, জেনারেশন গ্যাপের কারণে আপনার বা তামিমের মতো নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সঙ্গে আমাদের সাংবাদিক বা কর্মকর্তাদের মানিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে?
সাকিব: হতে পারে। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমরা দুজন—দুজন বলব না, আরও হয়তো এক-দুজন আছে—একটু আলাদা-টাইপের। একই সঙ্গে আমরা অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলে খেলায় একটা ব্যাপার যেভাবেই হোক আমাদের মধ্যে এসেছে যে নিজেদের দলের মধ্যে কখনোই তোমরা প্রতিযোগিতা করবে না। তুমি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবে তোমার জায়গায় অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড দলে যে আছে তার সঙ্গে। আমরা যখন এ রকম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছি, তখন আমাদের মনমানসিকতায় পুরো না হলেও কিছু পরিবর্তন তো আসছে। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ায় কী হয়, ইন্টারভিউ নিতে গেলে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়, অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়। ঠিক কিনা? ও সব দেশে এটা নরমাল। কিন্তু আমাদের দেশে এ রকম কালচার গড়ে ওঠেনি।
এখন আপনি চিন্তা করেন, আমার আচরণে সমস্যা কী। হয়তো কেউ বলবে, আমি প্র্যাকটিস বাদ দিয়ে শুটিং করতে গিয়েছিলাম। আমি টানা আড়াই-তিন মাস ক্রিকেট খেললাম। আমার বিশ্রামের দরকার ছিল। ক্রিকেটের বাইরে থাকার দরকার ছিল। আমি ভেবেছিলাম, ইংল্যান্ড থেকেই যেহেতু দলের সঙ্গে পরে যোগ দেওয়ার কথা বলা আছে, আমার আর কথা বলার দরকার নাই। পরে পেপারে যখন অন্য রকম দেখেছি, খবরে শুনেছি, তখন মনে হয়েছে তাহলে হয়তো আমার চিঠিটিঠি দেওয়া লাগবে। তখন আমি তা জমা দিয়েছি।
 এবার জিম্বাবুয়ে সফরের প্রসঙ্গে আসি। আমার চোখে সিরিজটা ছিল ভালো প্রস্তুতি নেওয়া একটা দলের বিপক্ষে অপ্রস্তুত একটা দলের লড়াই। ফলাফল যা হওয়ার তা-ই হয়েছে। আপনি কি মনে করেন, হারের জন্য সাকিব-তামিমকে দায়ী করে ব্যর্থতার আসল কারণটা চাপা দেওয়া হয়েছে?
সাকিব: যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটা তো হয়েছেই। তবে আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত, কোনো সিরিজের আগে যেন আমাদের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি না থাকে। আজও আমার এক টিমমেট আমাকে বলছিল যে জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে আমাদের প্রিপারেশনই হয় নাই। বিকেএসপিতে আমরা অনেক দিন ফিটনেস ট্রেনিং করেছি, কিন্তু স্কিল ট্রেনিং করেছি মাত্র ১৫ দিন। কিন্তু সাড়ে তিন মাস ম্যাচ না খেলার ঘাটতি ১৫ দিন ব্যাটিং-প্র্যাকটিস করে পোষানো যায় না। নেট প্র্যাকটিস আর ম্যাচ এক না, ম্যাচে কেউ ৫০ রান করলে তার কনফিডেন্স অন্য রকম থাকবে।
আমরা আসলে আসল কারণটা বাদ দিয়ে অগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বেশি চিন্তা করি। এখন এই যে সবাই বলে গ্রুপিং-গ্রুপিং। ধোনি একবার একটা ভালো কাজ করেছিল। গোটা দল নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে চলে গিয়েছিল। আমারও মনে হয়েছে, ও রকম যদি পুরো দল নিয়ে সবার সামনে হাজির হওয়া যায়, তাহলে ভালো হয়। দলের কোনো সদস্য যদি বলে যে আমার কাছে এ রকম মনে হচ্ছে…মনে হচ্ছে বললেও মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু বাইরে থেকে, দলের ভেতরে না থেকে কেউ যদি এ রকম বলে, তখন তো মুশকিল।
 বাইরে একটা ধারণা আছে যে আপনি আর তামিম আলাদা, দলের বাকি সবাই আলাদা…
সাকিব: তামিমের সঙ্গে আমি অনূর্ধ্ব-১৫ দল থেকে খেলছি। ২০০৩-এ মনে হয় প্রথম খেলেছি, তাহলে আট বছর। আট বছরের এই সম্পর্কের মতো সম্পর্ক তো দলের আর সবার সঙ্গে হবে না। তার মানে এই নয় যে অন্যদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খারাপ। জিম্বাবুয়ে সফরে তো তামিম, নাসির, সুহাস (শফিউল), রুবেলদের সঙ্গেই সারাক্ষণ থেকেছে। আমাকে আর কতক্ষণ ওর সঙ্গে দেখেছেন, শুধু ডিনারের সময়। তা-ও সব দিন না। আমাদের দলের বেশির ভাগ সদস্যই ইন্ডিয়ান ফুড পছন্দ করে। আমার আর তামিমের আবার নানা রকম খাওয়া পছন্দ। হয়তো ওর ইচ্ছা হলো আমরা আজকে স্টেক খাব, আরেক দিন বারবিকিউ খেলাম, নান রুটি খেলাম। ওই সময়গুলোতেই ওর সঙ্গে থেকেছি। রুমেও আমরা একসঙ্গে বেশি সময় কাটাইনি। তার পরও আমি বুঝলাম না যে এ ধরনের কথা কেন ওঠে।
 একাদশ নির্বাচনের ব্যাপারে আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আপনি পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন। ভবিষ্যতে অধিনায়কের ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার আলোচনাও শোনা যাচ্ছে এ কারণে…
সাকিব: ব্যাপারটিকে আমি এ রকমভাবে দেখি, কাউকে যদি আপনি নেতৃত্বই দেবেন, সেটা তার ওপর ভরসা করেই দেবেন। দেন না আপনি তার ওপর সব কিছু ছেড়ে। ভালো ফলাফল না হলে, প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে, তখন নেতৃত্ব বদলানোর বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কিন্তু নেতৃত্ব দিয়ে যদি আপনি ভরসা করতে না পারেন…যদি ভাবেন ও যদি এমন এমন করে, ও মনে হয় ঠিক করবে না, তাহলে তো অধিনায়কত্ব দেওয়ার কোনো দরকারই নেই। কাউকে যখন দায়িত্ব দেবেন, তার ওপর আস্থা রাখতে হবে।
 আপনি কি সব ব্যাপারে পুরোপুরি পক্ষপাতহীন ছিলেন বলে দাবি করবেন?
সাকিব: আমার মনে হয়, আমি সব সময়ই ফেয়ার ছিলাম। হারারে টেস্টে আশরাফুল ভাইকে খেলাতে চাইনি বলে কথা উঠেছে। আমি এখনো বিশ্বাস করি, ওই টেস্টে জুনায়েদের দরকার ছিল। এখন এ নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। নির্বাচনের নিয়মই তো এটা—চারজনের মধ্যে বিতর্ক হবে, তার পরে ডিসিশন হবে। ডিসিশন হওয়ার পরে কিন্তু আমি কখনোই বলি নাই যে ওটা হলে ভালো হতো।
 আশরাফুলের ব্যাপারটা নিয়ে বেশি কথা হয়েছে, কারণ সবাই জানত আশরাফুল টেস্টে নিশ্চিত। এর আগে মাশরাফির সঙ্গেও আপনার একটা ঝামেলা হয়েছিল বলে অনেকের ধারণা। এ থেকে অনেকে দুয়ে দুয়ে চার মিলিয়ে ধরে নিয়েছে, সিনিয়র প্লেয়ারদের আপনি দলে চান না…
সাকিব: কেন আমি এমন ভাবব? আমি যদি চিন্তা করি, দলে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী কে হতে পারে…বোলিংয়ে যদি চিন্তা করি, তাহলে রাজ ভাই (রাজ্জাক)। উনার সঙ্গে কখনোই আমার কিছু হয়নি।
 দলে জায়গা নিয়ে কারও সঙ্গেই আপনার প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। কিন্তু ওই যে অনেকের ধারণা, আপনি চাননি দলে কোনো সিনিয়র খেলোয়াড় থাকুক….
সাকিব: এটা ক্লিয়ার করার কোনো ভাষা আমার জানা নাই, সত্যি কথা। কারণ আমার মনে এ রকম কোনো চিন্তা থাকলে এই কাজ আমি করতেই পারতাম। আমার ওই ক্ষমতাটা ছিল। সত্যি বলছি, আমি যদি এই সিরিজেও চাইতাম যে এই প্লেয়ারটারে আমি নেব না, কারও ক্ষমতা ছিল না তাকে নেওয়ার।
 তাহলে আপনার ওই ক্ষমতাটা ছিল?
সাকিব: আমি বললাম তো সিরিজে কাউকে যদি না খেলাতে চাইতাম, সেটা পারতাম। এমনকি আমি যদি মনে করতাম আশরাফুল ভাইকে টেস্ট খেলাব না, তাহলে উনার খেলা হতো না। বাকি তিনজন এক দিকে হলেও সেটা সম্ভব ছিল না। আমি না চাইলে উনি শেষ ওয়ানডেতেও খেলতে পারতেন না। শেষ ওয়ানডের আগে মনে হয়েছিল, উইকেটে স্পিন ধরবে। বেশি রান হচ্ছিল না বলে একজন ব্যাটসম্যান খেলাব, না একজন স্পিনার নেব এ নিয়ে দ্বিধান্বিত ছিলাম। আমি যদি ঘাড় তেড়ামি করতাম যে, না, আমার একজন স্পিনারই লাগবে, কোচ তখন কী করত? এমন তো না যে কোচ এক-দুই বছর ধরে আছে, সবাইকে চেনে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তার তো সমস্যা ছিলই। আমি যদি সত্যি চাইতাম যে উনি খেলবেন না, খেলা সম্ভব ছিল না।
 তার মানে সিনিয়র খেলোয়াড়রা দলে থাকলে আপনার একচ্ছত্র রাজত্ব থাকবে না, এ রকম চিন্তাভাবনা আপনার কখনোই ছিল না?
সাকিব: উনারা দলে থাকলে তো আমার আরও ভালো লাগে। কারণ আমি উনাদের সঙ্গে অনেক বেশি ফ্রি। অনেক কথা বলতে পারি। কথার কথা, মাশরাফি ভাইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক কী। আমি যখন প্রথম খেলা শুরু করি, আমি প্রথম ক্যাম্প করেছি নড়াইলে। মাশরাফি ভাই তখন মাত্র জাতীয় দলে খেলা শুরু করেছেন। যে কোচ ছিলেন উনি মাগুরারই, বাপ্পি স্যার। মাশরাফি ভাই যখন এক মাসের ক্যাম্পটা করছিলেন, তখন মাগুরার সে ক্যাম্পেও উনি ছিলেন। তো বাপ্পি স্যারের কাছে উনি প্রতিদিনই আসতেন। আমি উনার সঙ্গে গার্ডার দিয়ে মারামারি খেলতাম। উনিও মারতেন, আমিও মারতাম। অন্যরা মার খেলে চুপ হয়ে যেত, আমি মেরে দৌড় দিতাম। আমার সঙ্গে উনার সম্পর্কটা ছিল এ রকমই। তখন আমি ব্যাটসম্যান ছিলাম, আমার বোলিং দেখে উনিই প্রথম কমেন্ট করেন যে আমি ভালো বোলার। ওই সময় থেকেই উনার সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। মাশরাফি ভাইকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন, উনি আমাকে যত মেরেছেন, আর কাউকে এত মেরেছেন কি না (হাসি)। আমি মনে করি না, এখানে আমার দিক থেকে কোনো সমস্যা আছে। এখন উনার মনে যদি কিছু থাকে সেটা উনার ব্যাপার।
 প্রথম আলোয় মাশরাফি তাঁর কলামে লিখেছেন, ‘সাকিব আমার ছোট ভাইয়ের মতো’…
সাকিব: আমার কাছে এ রকমই মনে হয়েছে। উনার চোখে যদি কখনো আমার কোনো সমস্যা চোখে পড়ে, সিম্পলি আমাকে উনার শাসন করা উচিত। উনার সঙ্গে আমার সম্পর্কটাকে এভাবেই দেখি আমি। আমি যখন হাফ প্যান্ট পরি, তখন থেকেই উনাকে চিনি।
 আপনার বিরুদ্ধে আরেকটা অভিযোগ ছিল, আপনি অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে খুব একটা মেশেন না, কথা বলেন না। এটা কি ঠিক?
সাকিব: সত্যি কথা, আমি অত বেশি কথা বলি না। তবে যখনই মনে হয়েছে, কারও সঙ্গে কথা বলা দরকার, আমি কিন্তু কথা বলেছি। জিম্বাবুয়ে সিরিজেরই একটা উদাহরণ দিই। একজন খুব খারাপ করছে, মন খারাপ করে আছে। আমি ওকে বললাম, তুই কীভাবে এটা চিন্তা করিস যে তোর ড্রপ পড়ার চান্স আছে, তুই তো পাঁচ ম্যাচই খেলবি। তুই তোর মতো খেল। তুই যদি ড্রপ পড়ার চিন্তা করিস, কীভাবে ভালো খেলবি?
 কে সেই সৌভাগ্যবান?
সাকিব: সে যে-ই হোক। যেমন এই ট্যুরেই আমি একজন বোলারকে বলেছি, ‘দ্যাখ, তোরে আমি যখন বল দিই, কেন দিই? তোর ওপর আমার ভরসা আছে বলেই তো দিই।’ কথার কথা, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ওভারে রুবেল যেদিন উইকেট নিয়ে আমাদের জিতিয়ে দিল…আগের ওভারে ও ছয় খেয়েছিল। শেষ ওভারের আগে যখন আমি আর মুশফিক ভাই আলোচনা করছিলাম, তখন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের প্রসঙ্গটা উঠে এল। ওই ম্যাচে ও মার খেয়েছিল। আমি বললাম, যেটা খারাপ সেটা তো হয়েই গেছে। যদি কেউ পারে, তাহলে ও-ই পারবে। আমার যদি কারও ওপর এমন আস্থা থাকে, তাহলে তো তাকে খুব বেশি কিছু বলার দরকার নেই। দু-একটা কথা বললেই হয়ে যায়।
হয়তো একদিন মুশফিক ভাইয়ের মন খারাপ। আমি উনারে বললাম, ‘আপনি বেশি খারাপ কী করবেন, জিরো মারবেন! এতে কি মারা যাবেন? মারা তো যাবেন না। আপনি কী করতে পারেন…চেষ্টা করতে পারেন। এভাবে চিন্তা করলে খেলাটা আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যায়।’ এই কথাটা উনার অনেক কাজে এসেছে বলে আমার ধারণা।
দলের ১১ জন সবাই তো এক রকম না। অনেকে চায়, সব সময় তার সঙ্গে কথা বলি। কেউ আবার মনে করে, আমি কি কিছুই বুঝি না? কিছু না বুঝলে জাতীয় দলে কেন নিয়েছে আমাকে? এত বোঝানোর কী আছে?
 কাকে কখন কী বলতে হবে, কতটা বলতে হবে—এটাও তো খুব গুরুত্বপূর্ণ…
সাকিব: হ্যাঁ, আমার তো সারা দিন কথা বলার দরকার নাই। দুই মিনিট একটা কাজের কথা বললেই যথেষ্ট। আমি হয়তো জিম্বাবুয়ে ট্যুরে সবার সঙ্গে অত বেশি কথা বলিনি। তার পরও আমার মনে হয়, যাকে আমার যা বলার প্রয়োজন ছিল, আমি বলেছি।
 আপনি যখন অধিনায়ক, চান বা না চান সব সময় কোনো না কোনো বিতর্ক ছিলই। এর কারণ কী?
সাকিব: এটা একটা হতাশাজনক ব্যাপার ছিল।
 কারও কারও তো এমনও ধারণা হয়ে গেছে যে, আপনি বিতর্কে থাকতে পছন্দ করেন…
সাকিব: কেন আমি ইচ্ছা করে বিতর্কে জড়াব? আসলে হঠাৎ হঠাৎ এমন সব কথা শোনা যায়, যা শুনে নিজেকে কন্ট্রোল করাই মুশকিল। যদি এমন হতো যে তিলকে তাল বানাচ্ছে কেউ…কিন্তু যেখানে তিলই নাই, সেখানে তাল বানানোটা মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে যায়। ধরেন এই যে দলে গ্রুপিংয়ের কথা বেশ কিছুদিন ধরেই চলে আসছে। কিন্তু কেন এটা বলা হচ্ছে, দলের মধ্যে আমরা ভেবেই পাই না। একসময় শুনি, বিকেএসপি গ্রুপ। কিন্তু এই দলে যারা বিকেএসপি থেকে এসেছে, দেখবেন বিকেএসপি থেকে না আসা খেলোয়াড়দের সঙ্গেই ওদের সবচেয়ে ভালো খাতির। আমার ভালো খাতির কার সঙ্গে, তামিমের সঙ্গে। মুশফিক ভাই বেশির ভাগ সময়ই থাকেন রিয়াদ ভাইয়ের সঙ্গে। রাজ ভাই কার সঙ্গে থাকেন, মাশরাফি ভাই আর রাসেল ভাইয়ের সঙ্গে। তো বিকেএসপি গ্রুপ কীভাবে হলো? আমি তো এটা বুঝলাম না। এখন আবার শুনছি বিকেএসপি গ্রুপ নাই, আমার আর তামিমের গ্রুপ। আমি আর ও যদি বেস্ট ফ্রেন্ড হই, স্বাভাবিকভাবেই আমরা একটু বেশি সময় একসঙ্গে কাটাব। তার মানে তো এই নয় যে দলের অন্যদের নিয়ে আমি খারাপ আলাপ করছি। যারা বিভিন্ন রকম মন্তব্য করেছে, তারা কিন্তু বাইরে বাইরে ছিল। ভেতরে কী হচ্ছে এটা বোঝা দরকার। আর আমার মনে হয়, তামিমের মতো সাপোর্টিভ টিমমেট খুব কমই আছে। যে প্লেয়ারের যে জিনিস লাগে, মোজা থেকে শুরু করে হেলমেট-ব্যাট—সবকিছু ও জোগাড় করে দেয়। খাবার মেন্যু পর্যন্ত ও ঠিক করে দেয়।
 জিম্বাবুয়ে সফরের আগে নির্বাচকদের সঙ্গে আপনার যে ঝামেলাটা হলো, সেটির ব্যাখ্যা কী?
সাকিব: ওটা এমন কিছু ছিল না। আমার মনে হয়েছে, আকরাম ভাই এটা খুবই স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন। এতে উনার সঙ্গে আমার সম্পর্ক আরও ভালো হয়েছে। উনি ব্যাপারটা অন্যভাবে নিলে আমার জন্য কঠিন হয়ে যেত। আমার একটা ভুল হতেই পারে। কিন্তু এমনও হতে পারে, উনিও একটা ভুল করেছেন।
 এটা তো ভুল-শুদ্ধর ব্যাপার ছিল না। আকরাম বলেছেন, আপনাকে দল জানানো হয়েছে, আপনি বলেছেন জানানো হয়নি…দুজনের কথা তো আর ঠিক হতে পারে না…
সাকিব: তিনি আমাকে অবশ্যই জানিয়েছেন। টিম দেওয়ার আগে জানিয়েছেন যে এই টিম তাঁরা সিলেক্ট করছেন। ‘আমরা একে একে নিয়েছি।’ আমি ফোন পেয়ে ঘুম থেকে উঠেছি। বললাম, ঠিক আছে। শুনলাম কেউ কেউ আবার কমেন্ট করেছে, আমি তখন ড্রাংক ছিলাম। যে আমি জীবনে বিয়ারই ধরলাম না, সেই আমিই নাকি ড্রাংক! এ রকম অনেক বিতর্ক হয়েছে। তবে সেটা কতটা সত্য, সেটাই জানা দরকার।
 কিন্তু আপনি তো বলেছেন, নির্বাচকেরা আপনার সঙ্গে কথা বলেননি…
সাকিব: না, না, না, এটা আমি কখনোই বলিনি। আমি বলেছি, আলোচনা হয়নি। পেপারে টিম দেওয়ার আগেই আমাকে জানানো হয়েছে। কিন্তু জানানো আর আলোচনা করা তো এক না। আপনি-আমি বসে একে নিলে ভালো হয়, ওকে কেন দরকার এ রকম একটা আলোচনা করা যায়। কিন্তু উনি বলছেন, আমরা একে একে দলে নিয়েছি। টেস্টের জন্য এ রকম চিন্তা। যখন আমাকে জানানো হলো, তখন ইংল্যান্ডে সকাল আটটা-সাড়ে আটটা হবে। ওখানে টি-টোয়েন্টি হয় সন্ধ্যা সাতটা থেকে। আমি তাই একটু রাত জাগতাম, পরদিন একটু দেরি করে উঠতাম। আমি তখন ঘুমিয়ে ছিলাম। এটাই হলো ব্যাপার।
 জিম্বাবুয়ে সফরে ‘হেড অব ডেলিগেশন’ কখনো আপনার সঙ্গে আলাদাভাবে বসেছেন? কখনো বলেছেন, ‘সাকিব, তোমার এই সমস্যা, এটা ঠিক করো?’
সাকিব: না।
 আপনার ব্যাপারে উনি অসন্তুষ্ট, এমন কোনো আভাসও পাননি?
সাকিব: না। কখনোই তো এমন মনে হয়নি।
 তাহলে উনি যে আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন, এতে বিস্মিত হননি?
সাকিব: বিস্মিত একটা ব্যাপারেই হয়েছি, যখন উনি বলেছেন, আমি আর তামিম নাকি টিম আগে থেকেই করে নিয়ে এসেছি।
 সব মিলিয়ে আপনার যে অভিজ্ঞতাটা হলো, এটা সচরাচর দেখা যায় না। আপনার পারফরম্যান্স ভালো ছিল, দলও একেবারে ভয়াবহ খারাপ কিছু করেনি, অথচ এভাবে অধিনায়কত্ব হারালেন…
সাকিব: কে যেন বলছিল, সম্ভবত আমিই শেষ ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়ে বরখাস্ত হওয়া প্রথম অধিনায়ক। অধিনায়ক নেতৃত্ব ছেড়ে দিতে পারেন, কিন্তু এমনটা দেখা যায় না ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়ার পরও অধিনায়ক বরখাস্ত হয়েছেন।
 আপনাকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে তো বলা হচ্ছে নেতৃত্বে ব্যর্থতার কথা…
সাকিব: অভিযোগ যদি এটা হয়, তাহলে তাদের কাছে হয়তো এমন মনে হয়েছে। আমার কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু কী করলে ভালো হবে, সেটা জানতে পারলে আমার জন্য ভালো। ভবিষ্যতের জন্য ভালো।
 সব মিলিয়ে কী মনে হচ্ছে, আপনাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই সরিয়ে দেওয়াটা কি অন্যায় হয়েছে?
সাকিব: ন্যায়-অন্যায় বলব না। আপনি যদি এখনই চিন্তা করেন, তাহলে অনেক জিনিস অনেক ক্লিয়ার। এখন যদি একই সিদ্ধান্তটা নিতে হয় কারও, তাহলে দুবার চিন্তা করবে। এটা হয়তো সেই সময় করেনি। এটা হলো আমার ধারণা। ঠিক নাও হতে পারে।
 পুরো ঘটনাটাকে যদি এক শব্দে বলতে বলি, কী বলবেন?
সাকিব: দুঃখজনক। তবে এক শব্দে ব্যাপারটা বোঝানো খুব কঠিন।
 নতুন অধিনায়ক যে-ই হোক, তার অধীনে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে খেলবেন?
সাকিব: আমার তো মনে হয়, এখন আমার আবার বাউন্ডারিতে ফিল্ডিং করার সুযোগ আসবে। উড়ে উড়ে ফিল্ডিং করব।

September 16th, 2011

চলছে জাতীয় দলে জায়গা করে নেয়ার লড়াই:::বিসিবি কাপ

বিসিবি কাপে এখন শুধু নিজেকে প্রমাণ করার মঞ্চই বাকি রইল। দলীয় সাফল্য ব্যক্তিগত সাফল্যের সঙ্গে এতদিন জড়িয়ে ছিল। শুক্রবার বাংলাদেশ ‘এ’ দল এবং একাডেমী দলের মধ্যকার ম্যাচটি টাই হওয়ায় দলীয় সাফল্যে অনেকটাই ভাটা পড়ল। জাতীয় দল ফাইনালে উঠে গেল। ‘এ’ দলও নিশ্চিত। এখন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য দেখানোর পালা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরম্নদ্ধে সিরিজের দলে কিভাবে দলে স্থান করে নেয়া যায় নৈপুণ্য দেখিয়ে সেই কাজটি করার চেষ্টাই থাকবে।
শুক্রবার ম্যাচটিতে একাডেমী দল জয় পেলে তিন দলেরই ফাইনালে ওঠা ঝুলন্ত অবস্থায় থাকত। টুর্নামেন্ট আরও জমে যেত। কিন্তু বৃষ্টিতে খেলা না হওয়ায় তা আর হলো না। ম্যাচটিতে ‘এ’ দল জিতলেও দলীয় সাফল্যের মঞ্চে প্রতিযোগিতায় ঘাটতি পড়ত। জাতীয় দল ও ‘এ’ দল ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত হয়ে যেত। তখন বাকি যা থাকত তা কেবল জাতীয় দল ও ‘এ’ দলের মধ্যকার ফাইনালে জেতার লড়াই। বাকি সব হয়ে যেত আনুষ্ঠানিকতা।
‘এ’ দল এবং একাডেমী দলের মধ্যকার ম্যাচটি টাই হওয়ায় দুই দলই এক পয়েন্ট করে পেয়েছে। আর তাই পয়েন্টের হিসেবে জাতীয় দলের ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত হয়ে গেছে। দুই ম্যাচে জাতীয় দল যেখানে ৪ পয়েন্ট পেয়েছে, সেখানে ‘এ’ দল তিন ম্যাচে ৩ এবং একাডেমী দল সমসংখ্যক ম্যাচে ১ পয়েন্ট পেয়েছে। এখন বাকি আছে জাতীয় দলের দুই ম্যাচ। আর ‘এ’ দল এবং একাডেমী দলের একটি করে ম্যাচ। ধরে নেয়া যাক জাতীয় দলকে চমকে দিয়ে দুই দলই হাতে থাকা একটি করে ম্যাচ জিতে নিল। তাতে জাতীয় দলের ৪, ‘এ’ দলের ৫ এবং একাডেমী দলের হবে ৩ পয়েন্ট। অথর্াৎ একাডেমী দল বাদের তালিকাতেই থাকবে। আবার উল্টোটা ধরলে যদি দুই ম্যাচেই জাতীয় দল জিতে তাহলেও এখন যে পয়েন্ট আছে তাতে জাতীয় দল এবং ‘এ’ দলই ২১ সেপ্টেম্বর ফাইনালে খেলবে। এর বিপরীত ঘটলে অর্থাৎ যদি ‘এ’ দল হারে আর একাডেমী দল পরবতর্ী ম্যাচে জিতে তাহলে এই দুই দলের সমান পয়েন্ট হয়ে যাবে। কিন্তু ডাবল লীগ পদ্ধতির এই টুর্নামেন্টে শুরম্নতেই ‘এ’ দল হারিয়েছে একাডেমিকে। তাতে এগিয়ে থাকবে ‘এ’ দলই। তখন ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ‘এ’ দলেরই উজ্জ্বল। আর এই উজ্জ্বল সম্ভাবনাই বিসিবি কাপকে শুধু ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দেখানোর মঞ্চে পরিণত করে দিয়েছে। তাতে কিছুটা ৰতি হয়েছে ‘এ’ দলেরই। যদি শুক্রবার ম্যাচটি হতো তাহলে নিজেদের ব্যাটিং-বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরম্নদ্ধে সিরিজে চূড়ানত্ম দলে সুযোগ পাওয়ার ভিত আরও মজবুত করা যেত। একটি ম্যাচ হাত থেকে ফসকে গেল। বৃষ্টি ব্যাঘাত ঘটাল। যেটির আশঙ্কা শুরম্ন থেকেই ছিল। ভোর থেকে বৃষ্টি পড়ায় একটি বলও শেষপর্যনত্ম মাঠে গড়াতে পারল না।
দুপুরে ম্যাচ রেফারি সেলিম শাহেদ ঘোষণা করলেন ম্যাচ আর হচ্ছে না। এরপরই আৰেপ ঝরল ‘এ’ দলের ক্রিকেটারদের কণ্ঠে। আগের ম্যাচে ৪৫ রান করা জুনায়েদ সিদ্দিকী ও সেঞ্চুরিয়ান নাঈম ইসলাম যেমন একই সুরে বললেন, ‘ম্যাচটি হলে আমাদের জন্য অনেক ভাল হতো। রান করার একটি সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল। বিসিবি কাপের পারফরমেন্সই জাতীয় দলে ফেরার বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। তবে বৃষ্টির ওপর কারও হাত নেই!’
আফসোসের সুর জুনায়েদ ও নাঈমের কণ্ঠে। একাডেমী দলকে আর পাওয়া যাবে না। পরের ম্যাচে খেলতে হবে জাতীয় দলের বিরম্নদ্ধে। সেই ম্যাচে ভাল রান করতে না পারলে জাতীয় দলে ফেরার সুযোগটিই হয়ত হাতছাড়া হবে।
একাডেমী দলের কয়েক ক্রিকেটারের জন্যও বিসিবি কাপের মঞ্চটি ভবিষ্যত বার্তা দেয়ার ছিল। দুই, একজন ক্রিকেটার তা করতেও পেরেছেন। কিন্তু ‘বড়দের’ সঙ্গে যে একেবারেই কুলিয়ে ওঠা গেল না। গর্জন ছিল। কিন্তু তা মাঠেই প্রমাণ হলো না। এমন কেন হলো? এই ব্যাখ্যা দিচ্ছেন একাডেমী দলের কোচ রস টার্নার, ‘আমরা প্রথম ম্যাচে ‘এ’ দলের সঙ্গে লড়াই হবে আশা করেছিলাম। ‘এ’ দলকে ২০৭ রানের বেশি সংগ্রহও করতে দেয়নি দলের বোলাররা। কিন্তু সেই ম্যাচে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ব্যাটিংয়ে কিছু জায়গায় কাজ করা দরকার। সেগুলো নিয়ে ছেলেদের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে। ছেলেদের বোঝানোর চেষ্টাও করছি। জাতীয় দলের সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব হয়নি। আশা করছি পরের ম্যাচে জাতীয় দলের বিরম্নদ্ধে ইতিবাচক ব্যাটিং দেখানো যাবে।’
টার্নার যেন বুঝেই গেছেন এখন শুধু নিজেদের কিছুটা প্রমাণ করার স্থানটুকুই রয়েছে। আর তাই সেই লৰ্যেই এগিয়ে যাচ্ছেন। শেষ ম্যাচটিতে হয়ত ক্রিকেটারদের ভুলত্রম্নটি আরও চোখে পড়বে তার এবং সেগুলো শোধরানোর কাজেই নামবেন।
জাতীয় দল ও ‘এ’ দলের হিসেব একটু ভিন্ন। আরও ম্যাচ রয়েছে। আর এই দুই দল থেকেই যেহেতু বেশিরভাগ ক্রিকেটার জাতীয় দলের জন্য বিবেচিত হবেন, তাই হাতে থাকা সুযোগগুলোই কড়ায় গ-ায় কাজে লাগাতে হবে। দলীয় সাফল্য নিয়ে এখন স্বাভাবিকভাবেই কারও মাথাব্যথা নেই। একাডেমী দল রেশে থাকা পর্যনত্ম একটু ভাবনা কাজ করছিল। ছোটদের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে না পারলে অপমানবোধেরও ভয় ছিল। এবং এই কারণে জাতীয় দল ও ‘এ’ দলও অনত্মত ফাইনাল নিশ্চিত করে রাখতে চাইছিল। এখন সেই হিসেব বলতে গেলে শেষ। তাই ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই কেবল বাকি।
ওপেনিংয়ে তামিম নিয়মিত। তবে ইমরম্নল কায়েসকে নিয়ে একটু সংশয় ডানা বেঁধেছে। আগের ম্যাচে শাহরিয়ার নাফীস উদ্বোধনী জুটিতে তামিমের সঙ্গে চমক দেখানোয় এখন আবার শাহরিয়ারকে ওপেনিংয়ে নিয়ে আসার রব উঠছে। এরপরও একটি সিরিজে খারাপ করাতেই ইমরম্নল কাটা পড়বেন এমনটি নয়। তাই শোনা যাচ্ছে।
তিন নম্বরে শাহরিয়ারের সঙ্গে জুনায়েদের লড়াই চলছিল। তাতে আবার আশরাফুল আগের ম্যাচে ঝলক দেখিয়ে সব হিসেব পাল্টে দিয়েছেন। মুশফিকুর, শাকিব, রিয়াদ, রাজ্জাক, শফিউল, রম্নবেলরা থাকছেন। জিম্বাবুইয়ের বিরম্নদ্ধে দুই নবাগত শুভগত ও নাসিরের স্থানও চূড়ানত্মই বলা চলে। নাঈম ইসলাম আবারও সুযোগ করে নিতে পারেন। সোহরাওয়ার্দী শুভর স্থান টালমাটাল। বোলিংয়ের নতুন নিয়মে পেসারদের আধিক্য বাড়বে। আর সেই স্থানটিতে আলাউদ্দিন বাবুকে যুক্ত করা হতে পারে। নয়ত আবারও সেই শাহাদাত হোসেন এবং নাজমুল হোসেনের দিকেই ঝুঁকতে হবে। হাতে থাকা বাকি ম্যাচগুলোতেই বোঝা যাবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দিয়ে কে কে দলে স্থান করে নিতে পারছেন।

September 4th, 2011

মেসি’র নিরাপত্তায় বোম্ব ডিসপোজাল টিম

মেসিসহ পুরো আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড় ও অফিসিয়ালদের নিরাপত্তার জন্য রূপসী বাংলা হোটেলজুড়ে নেয়া হয়েছে ৩ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি থাকছে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। রমনা জোনের উপপুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় জানিয়েছেন, হোটেলের ভেতরে, বাইরে গোয়েন্দা ও পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট কয়েক ধাপে হোটেলের কক্ষ থেকে শুরু করে আশপাশে তল্লাশি চালাবে। হোটেলের ছাদে বাইনোকুলার নিয়ে প্রহরায় থাকবে পুলিশ সদস্যরা। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনা দল আসার পরদিনই আসবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তাই এমনিতেই রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা ব্যূহ গড়ে তোলা হয়েছে। আর্জেন্টিনা দলের সদস্যদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গোয়েন্দা সদর দফতর থেকে মনিটর করা হবে। তিনি জানান, বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সময় খেলোয়াড়দের নিরাপত্তায় যে ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল এবারও তাই নেয়া হবে। রূপসী বাংলা হোটেলের আশপাশে কয়েকটি অত্যাধুনিক এপিসি (আমর্ড পার্সনাল ক্যারিয়ার) অবস্থান করবে। কোথাও কোন গোলযোগ হলে খেলোয়াড়দের সরিয়ে নিতে কাজ করবে এপিসিগুলো। এছাড়া খেলোয়াড়দের বহনকারী বাস ভিআইপি এস্কট দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। মনিরুল ইসলাম বলেন, ঠিক কতজন পুলিশ সদস্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়োজিত থাকবে তা বলা যাচ্ছে না। তবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ওদিকে রূপসী বাংলা হোটেল ও আশপাশের নিরাপত্তায় পৃথক ব্যবস্থা নিয়েছে র‌্যাব। র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে.ক. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রূপসী বাংলা হোটেল ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৫০০ র‌্যাব সদস্য কাজ করবে। এ এলাকার প্রায় সব উঁচু ভবনের ছাদে র‌্যাব সদস্যরা অবস্থান নেবে। র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট দিয়ে তল্লাশি চালানো হবে। স্টেডিয়ামের ৪টি গেটেই দর্শকদের দেহ তল্লাশি করা হবে। এছাড়া রূপসী বাংলা হোটেল থেকে পল্টনের বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম পর্যন্ত ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার (দক্ষিণ) খন্দকার নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, আবদুল গণি রোডের পশ্চিম প্রান্ত, গুলিস্তান গোল চক্কর ও পল্টন মোড়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। খেলা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সময়ে এ এলাকায় যানবাহন কোন পথে চলবে সে বিষয়ে আজ পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে জানাবেন।

August 16th, 2011

মুশফিক-বীরত্বের পরও সিরিজ হাতছাড়া

সিরিজে বাকি আরও দুটি ম্যাচ। তবে এর আগেই ৩-০ করে ফেলল স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে! আর ব্যাটে-বলে সমানতালে ব্যর্থ হয়ে বাংলাদেশ করল সিরিজ হাতছাড়া।
ঘুরে দাঁড়ানো হলো না সাকিব আল হাসানদের। ৪ উইকেট, ৭ উইকেটের পর আজ তৃতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হার ৫ রানে। সিরিজ হাতছাড়া হওয়ায় এখন বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ‘হোয়াইটওয়াশ’ ঠেকানো!
১০০ বলে ১০১ রান—৮ চার, ১ ছয়। বীরোচিত ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। তবে নায়কের বদলে এখন উল্টো মুশফিককে ‘খলনায়ক’ বলেও আখ্যায়িত করতে পারেন অনেকে! ৫ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৬ রান। হাতে শুধু একটি উইকেট। এ অবস্থায় কী দরকার ছিল ওভাবে তুলে মারার? তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে মুশফিক ক্যাচ-আউট হলেন—অলআউট হয়ে গেল বাংলাদেশও!
প্রথম দুই ম্যাচে দলের হার ডেকে এনেছিলেন ব্যাটসম্যানরা, ১৮৪ ও ১৮৮ রানে অলআউট হয়ে। আজ হার ডেকে আনার দায়িত্বটা যেন পড়েছিল বোলারদের ওপর! বাংলাদেশি বোলারদের চোখরাঙিয়ে মাসাকাদজা করলেন ৭৪ রান, টাইবু খেললেন ৮৩ রানের ইনিংস। এই দুই ব্যাটসম্যানের ব্যাটের ওপর ভর করে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়াল ২৫০! জিম্বাবুয়ের সফরে গিয়ে অসহায় সাকিব-তামিমদের কাছে সংগ্রহটা বিস্ময়েরই বটে!
হতাশার মধ্যেও ব্যাটসম্যানদের ধন্যবাদ না দিয়ে উপায় নেই। উদ্বোধনী জুটিতে এলো ৫০ রান। প্রথম দুই ম্যাচে ৪ ও ৩ করা তামিম ইকবাল খেললেন ৪৪ রানের ইনিংস। আশরাফুলের জায়গায় খেলতে আসা শুভাগত হোম অভিষেক ম্যাচে করলেন ৩২ রান। মুশফিকুর রহিম সেঞ্চুরি করলেন। কম কীসে!
সংক্ষিপ্ত স্কোর—
জিম্বাবুয়ে: ২৫০/৭ (৫০ ওভার)
টাইবু ৮৩, মাসাকাদজা ৭৪
রুবেল ৪১/২, সাকিব ৪৬/২
বাংলাদেশ: ২৪৫/অলআউট (৪৯.২ ওভার)
মুশফিক ১০১, তামিম ৪৪
উেসয়া ৪৭/৩, পোফু ৪৩/২, জারভিজ ৫২/২

August 14th, 2011

অভিষেকেই উজ্জ্বল নাসির

নাসির হোসেন

বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ তখন ৫৮ রান। স্কোর-কার্ড বলছে, এত নগণ্য অল্প রান তুলতেই সাজঘরে ফিরেছেন ছয়জন ব্যাটসম্যান! এক ঘোর অন্ধকারে বাংলাদেশ দল। অন্ধকার আবহটা থাকল ইনিংস শেষেও। তবে এর মধ্যেই দীর্ঘক্ষণ আলো হয়ে জ্বললেন একজন। তিনি বড় মাপের ব্যাটসম্যানের খ্যাতি পাওয়া কেউ নন—নবাগত নাসির হোসেন!
তামিম, ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ আশরাফুল, কেউ-ই দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি। ব্যর্থতার পাল্লা ভারী করে মাঠ ছাড়েন মুশফিকুর রহিম, শাহরিয়ার নাফিসও। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে একপর্যায়ে ১৮৮ রানে তুলতেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। এর মধ্যে নিজের অভিষেক ম্যাচে নাসির একাই দলীয় সংগ্রহে যোগ করেন ৬৩ রান! ব্যাটসম্যানদের অসহায়ত্বের মধ্যেও বুক চিতিয়ে লড়ে যেন নিজের আগমনী বার্তাই ঘোষণা করলেন নাসির।