Archive for ‘Muktokantha’

July 25th, 2011

বাজারে ফিরে এসেছে চিনি

প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া ব্যবসায়ীদের আশ্বাসের পর বাজারে ফিরে এসেছে চিনি। সরকারের বেঁধে দেওয়া দর ৬৫ টাকায় চিনি বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। তবে কিছু দোকানে এখনো ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে রমজানের নিত্যপণ্যের মধ্যে ছোলা, খেজুর, মুড়ি ও গুড়ের বাজার এখনো চড়া। তবে চাল, ডাল, মটরের (ডাবলি) দাম তেমন একটা বাড়েনি। কয়েক দিন ধরে এ পণ্যগুলোর দাম ব্যবসায়ীরা এতটাই বাড়িয়েছেন যে এখন নতুন করে আর বাড়ানোর প্রয়োজন হচ্ছে না। তার চেয়ে বর্তমান দামটিই ধরে রাখার কৌশল নিচ্ছেন তাঁরা।
এ ছাড়া এক সপ্তাহের মধ্যে গুঁড়ো দুধের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। মুরগির দাম কিছু কমেছে। আর গরু ও খাসির মাংসের দর বেঁধে দিলেও এখনো তার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।
সরকার-নির্ধারিত দরে চিনি: গত বুধবার চিনির দর বেঁধে দেওয়ার পর বাজার থেকে উধাও ছিল চিনি। সেই চিনির দেখা মিলেছে গতকাল সোমবার। যেসব দোকানে চিনি ছিল, গতকাল সেগুলোয় বিক্রি হয়েছে সরকার-নির্ধারিত ৬৫ টাকা দরে।
সকালে পলাশী বাজারে গিয়ে বেশির ভাগ দোকানে চিনির দেখা মেলে। কয়েকজন দোকানি জানান, পাইকারি বাজার থেকে ঠিকমতো সরবরাহ করায় তাঁরা এখন চিনি আনতে পারছেন। এ কারণে ৬৫ টাকায় বিক্রিও করতে পারছেন।
তবে পলাশী বাজারেরই কয়েকটি দোকানে ৭০ টাকায় চিনি বিক্রি করতে দেখা গেছে। কারণ জানতে চাইলে দোকানিরা জানান, এ কয়দিন ৭০ টাকায় পাইকারি বাজার থেকে চিনি কিনেছেন। এ দামে বিক্রি করেই তাঁদের লোকসান হচ্ছে। ৬৫ টাকায় এ চিনি বিক্রি করা সম্ভব নয়। তবে দু-এক দিনের মধ্যেই ৬৫ টাকায় চিনি বিক্রি করবেন বলে তাঁরা জানান।
হাতিরপুল বাজারের ভেতর ও বাইরে, পূর্ব তেজতুরী বাজার এবং পল্টনের বিভিন্ন দোকানেও ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় চিনি বিক্রি করতে দেখা গেছে।
গতকাল দুপুরে নয়াবাজারের অধিকাংশ দোকানে চিনি পাওয়া যায়নি। তিনটি দোকানে চিনি থাকলেও ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দাম চাওয়া হয়। এক দোকানি এইমাত্র চিনি এসেছে বলে জানান। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বলেন, এখন থেকে ৬৫ টাকায় চিনি বিক্রি করবেন।
গত কয়েক দিনের চিনিশূন্য কারওয়ান বাজারের দোকানগুলোতেও গতকাল দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। প্রায় সব দোকানেই চিনি বিক্রি হচ্ছে। দোকানি মাসুদ রানা বলেন, ‘এত দিন বাজারে চিনি ছিল না। আমরা কিনতে গিয়েও পাইনি। গতকাল (রোববার) বাজারে দু-তিন হাজার বস্তা চিনি এসেছে। এ কারণে সব দোকানে এখন চিনি আছে।’
খোলা সয়াবিন এখনো কম: নয়াবাজারের বেশির ভাগ দোকান ঘুরে খোলা সয়াবিন তেলের দেখা মেলেনি। একই অবস্থা পলাশী ও হাতিরপুল বাজারেও। কিছু দোকানে পাওয়া গেলেও তা বিক্রি হচ্ছে ১০৯ থেকে ১১৩ টাকা পর্যন্ত। তবে কারওয়ান বাজারে খোলা সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে এবং বিক্রিও হচ্ছে সরকার-নির্ধারিত দাম ১০৯ টাকায়।
খুচরা দোকানগুলোয় বেশি বিক্রি হচ্ছে বোতল ও প্যাকেটজাত তেল। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়।
চালের দর খুচরায় বেশি: পাইকারি বাজারে গত কয়েক দিনে চালের দাম বাড়েনি। তবে খুচরা বিক্রেতারা চাল বিক্রি করছেন বেশি দামে। এক সপ্তাহে কোনো কোনো চালের দাম দুই টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির হিসাবে মোটা চালের দাম গতকাল ৩২ থেকে ৩৪ টাকা দেখানো হলেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তা বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায়। নয়াবাজার কাঁচাবাজারে বিআর-২৮ চাল ৩৮ থেকে ৪০, নাজিরশাইল ৪৮ থেকে ৫৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কারওয়ান বাজার ও পলাশী বাজারে দর ছিল নাজিরশাইল ৫২, মিনিকেট ৪৪ থেকে ৪৬, পারিজা ৪০ ও পাইজাম ৩৮ থেকে ৪২ টাকা।
ছোলার দাম চড়ছেই: সাধারণ মানুষ যে ছোলাটা কেনে, রাজধানীর খুচরা দোকানগুলোয় তা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। আর উন্নত মানের ছোলার দাম ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন, ছোলার দাম কমেছে। রাজধানীর রহমতগঞ্জ এবং নারায়ণগঞ্জে সাধারণ ছোলা ৫৮ থেকে ৬০ এবং উন্নত মানের ছোলা সর্বোচ্চ ৭১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই ধরনের ছোলাতেই দাম কমেছে দুই টাকা।
এ ছাড়া খুচরা দোকানে দেশি মসুর ডাল ৯০ থেকে ৯৫, বিদেশি ডাল ৭৫ থেকে ৮০ এবং মুগ ডাল ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খেজুরের বাজার গরম: রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ও দোকানে চড়া দামে খেজুর বিক্রি হচ্ছে। বাংলা খেজুর ৬০, মরিচা ১০০ থেকে ১২০, নাগা ১১০ থেকে ১২০, বড়ই ১৭০ থেকে ১৮০ ও মরিয়ম ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্যাকেটজাত খেজুরের দাম আরও চড়া।
বেড়েছে গুঁড়ো দুধের দাম: গত এক সপ্তাহে গুঁড়ো দুধের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা। দোকানিরা জানান, এক কেজির প্যাকেটের মার্কস দুধের দাম ৪২০ থেকে বেড়ে ৪৪০, ফ্রেশ ৪১৫ থেকে ৪২৫, ডিপ্লোমা ৪৯০ থেকে ৫১০ টাকা হয়েছে।
মাংস ও মুরগি: ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) বেঁধে দেওয়া দর অনুযায়ী, প্রতি কেজি দেশি গরুর মাংস ২৭০ এবং বিদেশি গরুর মাংস ২৫০, মহিষের মাংস ২৪০, খাসির মাংস ৪০০, বকরি ও ভেড়ার মাংস ৩৫০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা।
কারওয়ান বাজারে গিয়ে গতকাল গরুর মাংস ২৭০ ও খাসির মাংস ৪২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। পুরান ঢাকার ধূপখোলা বাজারে গরু ও খাসির মাংসের দাম ছিল ২৭০ ও ৪০০ টাকা।
তবে ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে। কারওয়ান বাজারে এর দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। নয়াবাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা কেজিতে। আর দুই বাজারেই দেশি মুরগির দর ছিল যথাক্রমে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা।
ডিসিসিকে চিঠি: রাজধানীর সব দোকানে দৃশ্যমান স্থানে নিত্যপণ্যের মূল্যতালিকা টাঙানোর নির্দেশ দিতে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে (ডিসিসি) গতকাল চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, এতে খুচরা দোকানিরা ক্রেতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা করতে পারবেন না।
আমাদের চট্টগ্রামের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, চট্টগ্রামে পাইকারি বাজারে গতকাল চিনির সরবরাহ বেড়েছে। এস আলম গ্রুপ উৎ পাদন শুরুর পর ২৪০ জন পরিবেশকের মাধ্যমে চিনি সরবরাহ করছে। গতকাল থেকে ব্যবসায়ী গ্রুপটি পাঁচটি স্থানে চিনি ও ভোজ্যতেল বিক্রি শুরু করেছে। এ পাঁচ স্থানে ৬৫ টাকা কেজি দরে চিনি বিক্রি হচ্ছে। তবে সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে সরকারি দরের চেয়ে লিটারপ্রতি দুই টাকা কমে অর্থাৎ ১০৭ টাকায়।
এস আলম গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক মীর মইনুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে ন্যায্যমূল্যের কেন্দ্রের সংখ্যা ২০-২৫টিতে উন্নীত করা হবে।
এ ছাড়া বিএসএম গ্রুপ ১৪ জন পরিবেশকের মাধ্যমে গতকাল থেকে ছয় টন করে চিনি সরবরাহ করছে। পরিবেশকদের কাছে এই চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকায়। পরিবেশকেরা খুচরা বিক্রেতাদের কেজিপ্রতি ৬৩ টাকায় চিনি সরবরাহ করবেন। পাশাপাশি আজ মঙ্গলবার থেকে ৫৫ টাকায় ছোলাও বিক্রি করবে প্রতিষ্ঠানটি।
চট্টগ্রাম চেম্বারের খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, বাজারে এখন আগের চেয়ে চিনির সরবরাহ বেশি। এ কারণে চিনির দামে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।
খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজার থেকে ন্যায্যমূল্যে চিনি কিনতে পারায় চট্টগ্রামের কয়েকটি বাজারের নির্দিষ্ট কয়েকটি দোকানে সরকার-নির্ধারিত মূল্যে চিনি বিক্রি হচ্ছে। কাজীর দেউড়ি বাজারের খান ডিপার্টমেন্ট স্টোর গতকাল ৬৪ টাকায় তিন বস্তা চিনি কিনে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে।
আবার বেশি দামে কেনা খুচরা ব্যবসায়ীরা এখনো ৬৮-৭০ টাকায় চিনি বিক্রি করছেন। কর্ণফুলী কমপ্লেক্স বাজারের রাকিন ডিপার্টমেন্ট স্টোরের পরিচালক খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখনো সরকারি দামে চিনি কিনতে পারিনি। এ কারণে এই বাজারে ৬৮-৭০ টাকায় চিনি বিক্রি হচ্ছে।’ Source: Prothom alo

July 10th, 2011

নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে: নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বাড়েনি

সংবিধান সংশোধনের সময় সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প হিসেবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে ইসির ক্ষমতা বাড়েনি। নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইসিকে আগের মতোই সরকার ও সরকারের নির্বাহী বিভাগের ওপর নির্ভর করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, অনুগত প্রশাসন ও বাহিনী দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে কখনো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। আর দলীয় অনুগত নির্বাহী বিভাগের ওপর নির্ভরশীল ইসি কখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প হতে পারে না, বরং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হওয়ায় ইসির ওপর সরকারের প্রভাব বাড়বে।
গত ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা। অর্থাৎ আগামী সংসদ নির্বাচন হবে দলীয় সরকারের অধীনে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও সমমনা দলগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিইসি এ টি এম শামসুল হুদা বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হয়েছে। এরপর কী হবে, তা দেখতে আমাদের অপেক্ষায় থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘ইসির ক্ষমতা বাড়ানোর সব কর্তৃত্ব সরকারের। এ বিষয়ে সরকার আমাদের কাছে কোনো আইডিয়া চাইলে আমরা দেব। তার আগে বিষয়টি নিয়ে মতামত দেওয়ার মতো অবস্থা আপাতত নেই।’
এ ছাড়া সংবিধানের নির্বাচন-সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলোতে কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। ১১৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং সর্বোচ্চ চারজন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সংসদের মেয়াদ পূর্তির পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে। ১২৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনকে যুক্তিসংগত নোটিশ ও শুনানির সুযোগ না দিয়ে কোনো আদালত নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো আদেশ বা নির্দেশ দিতে পারবেন না।
সংবিধান সংশোধনের আগে বিশেষ কমিটির কো-চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছিলেন, সংসদের মেয়াদ পূর্তির ৯০ দিন আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাজ শুরু হবে। সরকার এবং সরকারের মন্ত্রীরা তখন শুধু রুটিন কাজ করবেন। নীতিনির্ধারণী কাজ করবে নির্বাচন কমিশন। প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ইসির হাতে দেওয়া যেতে পারে।
কিন্তু সংশোধিত সংবিধানের কোথাও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। নির্বাহী বিভাগের দায়িত্ব ইসির কাছে ন্যস্ত করার বিষয়েও কিছু বলা হয়নি।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো ধারণাটাই শুভংকরের ফাঁকি। কারণ প্রশাসন ও সরকারের বাহিনী নিরপেক্ষভাবে কাজ না করলে ইসিকে হাজার ক্ষমতা দিলেও কোনো কাজ হবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবার আগে দলনিরপেক্ষ প্রশাসন ও বাহিনী দরকার। কিন্তু সংবিধানে সেই সুযোগ কোথাও রাখা হয়নি।
যোগাযোগ করা হলে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী শাহ্দীন মালিক বলেন, আক্ষরিক অর্থে সংবিধান সংশোধনের ফলে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বাড়েনি। বরং তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হওয়ায় কমিশনের ওপর রাজনৈতিক সরকারের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কমিশনের ক্ষমতা বাড়াতে হলে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিশনার নিয়োগের বিধি তৈরি করতে হবে। যাতে কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক না হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনের সময় সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা বিধি প্রয়োগের ক্ষমতা ইসির হাতে ন্যস্ত করতে হবে, যাতে সরকার ইসির অমতে কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে বদলি বা পদোন্নতি দিতে না পারে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও ইসি নিজেদের মতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
কমিশন সচিবালয়ের সূত্রমতে, সংবিধান সংশোধনের আগে থেকেই সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইনে কমিশনকে যে ক্ষমতা দেওয়া আছে, তা সরকার কখনোই পুরোপুরি মেনে চলেনি। সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। ১২০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনের চাহিদামতো প্রয়োজনীয় জনবল সরবরাহ করা সরকারের দায়িত্ব।
কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবিগঞ্জ-১ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের উপনির্বাচন এবং ১২টি পৌর নির্বাচনের জন্য ইসি সরকারের কাছে সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছিল। সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করেনি। এমনকি ইসির চিঠির উত্তরও দেয়নি। এ নিয়ে তখন কমিশনের বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও দুই কমিশনার ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৪৪(ই) বিধান অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনী ফল ঘোষণার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া জেলা জজ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের বদলি করা যাবে না। অতীতে সরকার এই আইনটিও মেনে চলেনি। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিশনার নিয়োগের বিধি প্রণয়নের প্রস্তাব করে ইসি থেকে দুই দফায় সরকারের কাছে এই আইনের খসড়া পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ৩৯ বছর ধরে আইনটি হয়নি।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইসি সংবিধান সংশোধন কমিটির কাছে প্রস্তাব করেছিল, নির্বাচনের সময় জনপ্রশাসনে বদলিসহ নির্বাচন-সম্পর্কিত সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করার বিধান সংবিধানে যোগ করতে হবে। কিন্তু কমিটি ইসির সেই সুপারিশ আমলে নেয়নি। জাতীয় পার্টি, জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির প্রস্তাবে সাংবিধানিক পদে নিয়োগের জন্য একটি নির্বাচক কমিটি (সার্চ কমিটি) গঠনের সুপারিশ করা হয়েছিল। কমিটি সেই সুপারিশও গ্রহণ করেনি। এ অবস্থায় সরকার নির্বাচনের সময় নির্বাহী বিভাগের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা থেকে কতটা বিরত থাকবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন।
সাবেক আইনমন্ত্রী সরকারি দলের সাংসদ আবদুল মতিন খসরু বলেন, নির্বাচনের ৯০ দিন আগে থেকে সরকারের দায়িত্ব কতটা সংকুচিত হবে এবং নির্বাহী বিভাগের দায়িত্ব কতটা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় কি না, সে সুযোগও আছে। এ জন্য বিরোধী দলকে সংসদে আসতে হবে। এ ছাড়া ইসির ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কমিশনার নিয়োগের বিধিটিও দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে।

July 9th, 2011

 মেসির ওপর ‘কঠিন চাপ’

মেসি

সদ্য শেষ হওয়া ইউরোপিয়ান মৌসুমে দুর্দান্ত পারফরমেন্স দেখিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। ৩৩ ম্যাচে ৩১টি গোল করে বার্সেলোনাকে জিতিয়েছিলেন স্প্যানিশ লিগ শিরোপা। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগেও সবাইকে মুগ্ধ করে দিয়েছিলেন জাদুকরি পারফরমেন্স দেখিয়ে। ১৩ ম্যাচে সর্বোচ্চ ১২টি গোল করে ইউরোপ-সেরার মুকুটও এনে দিয়েছিলেন কাতালানদের। ক্লাব ফুটবলে এমন অসাধারণ একটা মৌসুম কাটানোর পর এবার তিনি আর্জেন্টিনার জার্সি গায়েও জ্বলে উঠবেন, এমনটাই প্রত্যাশা করেছিলেন সবাই। কিন্তু বরাবরের মতো আবারও হতাশ করেছেন এই ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার। নিজেদের মাটিতে কোপা আমেরিকার প্রথম দুটি ম্যাচে একেবারেই নিষ্প্রভ হয়ে ছিলেন মেসি। গত বুধবার কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছাড়ার পর সমর্থকদের দুয়োধ্বনিও শুনতে হয়েছে এই আর্জেন্টাইন তারকাকে। এখন যে তিনি ভয়াবহ চাপের মুখে আছেন, এটা একেবারে খোলাখুলিই জানিয়ে দিয়েছেন মেসির বাবা। গতকাল আর্জেন্টিনার একটি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, ‘লিও সত্যিই খুব বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সে এখনো বুঝতে পারছে না যে এটা কীভাবে হলো। এ প্রথম তাকে দুয়োধ্বনি শুনতে হয়েছে।’ ১৮ বছর পর মেসির কাঁধে সওয়ার হয়েই শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচে একেবারেই চেনা যায়নি বার্সেলোনার জাদুকরি মেসিকে। তবে বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার খেলার ধরন একরকম না বলেই এমনটা হচ্ছে বলে মনে করেন তাঁর বাবা। তিনি বলেছেন, ‘বার্সেলোনার ক্ষেত্রে ঘটনাটা ভিন্ন রকম। ওখানে তারা একই সঙ্গে চার বছর ধরে খেলছে। জাতীয় দলের ক্ষেত্রে তো এমনটা হয় না। আর দেশের মাটিতে কোপা আমেরিকা খেলাটাও একটা চাপের ব্যাপার।’
মেসির বার্সেলোনা সতীর্থ জাভিয়ের মাচেরানো অবশ্য শুধুই মেসির কাঁধে দোষ চাপানোটা খুবই অযৌক্তিক বলে মনে করছেন। তিনি বলেছেন, ‘এটা শুধু মেসির দোষ না। আমরা পুরো দল হিসেবেই ভালো খেলতে পারিনি। তবে খেলার পর যদি সমর্থকেরা দুয়োধ্বনি দেয়, তাহলে সেটা সহ্য করতেই হবে।’ ওয়েবসাইট।