Posts tagged ‘Argentina’

July 13th, 2011

ঘুম ভাঙল আর্জেন্টিনার

মুখে কদিনের না কামানো খোঁচা খোঁচা দাড়ি। এলোমেলো চুল। রুক্ষু চেহারা। লিওনেল মেসিকে দেখে মনে হচ্ছিল, রাতে ঠিকমতো ঘুম হয়নি। তবে এবার নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারেন, আসল মেসি আর আসল আর্জেন্টিনা যে জেগে উঠল। জেগে উঠল একেবারেই আসল সময়ে, যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল তাদের।
কাল সুন্দর ফুটবলের পসরা সাজিয়ে কোস্টারিকাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিল আগের দুই ম্যাচে কপালগুণে ড্র করা আর্জেন্টিনা। এই জয় সংশয়ের সব মেঘ তাড়িয়ে দিয়ে নিশ্চিত করল তাদের কোয়ার্টার ফাইনাল। সবচেয়ে বড় কথা, জয়ের নায়ক মেসি এই বলে আশ্বস্ত করছেন, ‘এখন থেকে নতুন কোপা আমেরিকা শুরু হলো। এর আগে যা হয়েছে, সব অতীত।’
প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বাজার আগমুহূর্তে প্রথম গোল এনে দিয়েছেন সার্জিও আগুয়েরো। ৫২ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটিও ম্যারাডোনার জামাইয়ের। সবচেয়ে সুন্দর গোল হয়েছে ৬৩ মিনিটে। ছবির মতো সাজানো আক্রমণ থেকে মেসির আলতো বাড়িয়ে দেওয়া বলে বাঁ পায়ের গোলায় ব্যবধান বাড়িয়েছেন অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া।
গোলদাতার তালিকায় নাম না থেকেও নায়ক মেসিই। দুটি গোলই বানিয়ে দিয়েছেন তিনি। সব মিলে কাল কোস্টারিকার গোলে ১৭টি শট নিয়েছে আর্জেন্টিনা। এর ৮টিই ছিল লক্ষ্যে। গোল হতে পারত আরও দুটি, একটি ক্রসবারে লেগে ফিরে এসেছে, অন্যটি লেগেছে ডান পোস্টে। আক্রমণের এই অর্কেস্ট্রায় মেসি ছিলেন কনডাক্টরের ভূমিকায়। দুটি গোলই তাঁর বানিয়ে দেওয়া। ভূমিকা আছে প্রথম গোলটিতেও।
প্রথম ম্যাচে ব্যর্থতার পরই বলা হচ্ছিল, জাভি-ইনিয়েস্তার ভূমিকাটা আসলে মেসিকেই নিতে হবে। তাহলেই বার্সেলোনার মতো খেলতে পারবে আর্জেন্টিনা। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেও নিজের একাদশে অটল থাকেন বাতিস্তা। শেষ পর্যন্ত ড্র করলেও বাদ পড়ার শঙ্কায় ভুগতে থাকা আর্জেন্টিনা কোচ সাহসী হলেন। গড়লেন আক্রমণাত্মক একাদশ।
এজেকুয়েল লাভেজ্জি, এভার বানেগা, এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসোদের রাখা হলো একাদশের বাইরে। আক্রমণভাগে জুটি বাঁধলেন আগুয়েরো ও গঞ্জালো হিগুয়েইন। বাঁ প্রান্তে থাকলেন অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া। একটু নিচে নেমে মেসি। তাঁকে বল জোগানের কাজটা করে গেলেন ফার্নান্দো গ্যাগো আর হাভিয়ের মাচেরানো। এই ইতিবাচক পরিবর্তনের ফলও হাতেনাতে পেয়েছেন কোচ। পুরো ম্যাচে শুধু দুটি আক্ষেপ থাকতে পারে আর্জেন্টিনার—সুযোগ পেয়েও হ্যাটট্রিকটা করতে পারেননি আগুয়েরো আর গোলের দেখা পেতে পেতেও পাননি মেসি।
প্রথম গোলের দেখা পেতে অবশ্য অনেক অপেক্ষা করতে হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছিল বাতিস্তার টেনশন। অবশেষে প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বাজার একদম আগমুহূর্তে গোলরক্ষকের হাত থেকে ছুটে আসা বল জালে পাঠিয়ে দেন আগুয়েরো। এই গোলটাই যেন দ্বিতীয়ার্ধে ক্ষুধা বাড়িয়ে দিয়েছিল আর্জেন্টিনার। মুহুর্মুহু আক্রমণে কোস্টারিকাকে অস্থির করে তুলেছিলেন হিগুয়েইন-আগুয়েরো। পেছন থেকে একের পর এক বিপজ্জনক বল বাড়িয়ে দিচ্ছিলেন মেসি। ১১ মিনিটের ব্যবধানে আগুয়েরো আর ডি মারিয়ার দুটি গোল কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে দেয় আর্জেন্টিনার।
আগের দিন দুয়ো দেওয়া দর্শক এদিন তুমুল করতালির বৃষ্টিতে ভিজিয়েছে মেসিদের। তবে সবচেয়ে বড় স্যালুটটা আর্জেন্টিনা পেয়েছে প্রতিপক্ষ কোচ রিকার্ডো লা ভলপের কাছ থেকে, ‘আমরা ওদের গায়ে আঁচড়টাও দিতে পারিনি। আমরা তো বলই পেলাম না। মাঝবিরতিতে আমার খেলোয়াড়দের বলছিলাম, ছেলেরা, বলের দখল না রাখতে পারলে আমরা কিন্তু শেষ।’ আর্জেন্টিনার পাসিং ফুটবলে মুগ্ধ লা ভলপের মনে হয়েছে, ‘এটা ছিল অনেকটা পিংপং (টেবিল টেনিস) খেলার মতো।’
১৬ জুলাইয়ের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে ‘সি’ গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দল। সেটি চিলি, পেরু কিংবা হতে পারে উরুগুয়ে। এএফপি, রয়টার্স।