বয়স ৩৮ বছর ৬৯ দিন। এই বয়সে এসে যেন পার করছেন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুবর্ণ সময়! আর কত দিন খেলবেন শচীন টেন্ডুলকার? পা দুখানা শরীরটাকে যত দিন বয়ে নিতে পারবে তত দিন? না, তার চেয়েও বেশি দিন! গর্ডন গ্রিনিজ অন্তত তাই বিশ্বাস করেন। এই বয়সেও টেন্ডুলকারের রানক্ষুধা দেখে সাবেক এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওপেনার এতটাই মুগ্ধ যে বলছেন, ক্রাচে ভর দিয়ে হলেও টেন্ডুলকার খেলে যেতে পারবেন!
টেন্ডুলকারকে গ্রিনিজের কুর্নিশ
‘সে যদি ক্রাচে ভর দিয়েও খেলে, খেলতে পারবে। সে এমন একজন যার খেলা আমাকে টানে’—ভারতীয় ক্রিকেট-দেবতার উদ্দেশে বলেছেন গ্রিনিজ। টেন্ডুলকারের খেলা দেখেনও নিয়মিত, ‘সে যখন ব্যাটিং করে আমি মিস করি না। আমি ক্রিকেট নিয়ে উৎসাহী নই, কিন্তু যখন সে ব্যাট করতে আসে, আমি টিভির পর্দা থেকে চোখ সরাই না।’
বাংলাদেশের সাবেক এই ক্যারিবীয় কোচ নিজেও কিংবদন্তি। ছিলেন বিধ্বংসী ওপেনার। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সঙ্গে ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা মিশিয়ে বোলারদের মনোবল গুঁড়িয়ে দিতে পছন্দ করতেন। সেই হিসেবে গ্রিনিজের মজে যাওয়ার কথা বীরেন্দর শেবাগের প্রেমে। কিন্তু ভারতের এই ‘সোনালি যুগের’ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে গ্রিনিজের পছন্দ টেন্ডুলকারকেই, ‘আমি তার (টেন্ডুলকার) শিল্পিত ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ। তার ব্যাটিংয়ে শিল্প আছে। এটা আছে দ্রাবিড় এবং লক্ষ্মণের ব্যাটিংয়েও। শেবাগ হয়তো বাকিদের চেয়ে বেশিই আক্রমণাত্মক কিন্তু আমার কাছে শেবাগের চেয়ে টেন্ডুলকারই পছন্দের।’
টেন্ডুলকারের প্রশংসা করতে গিয়ে গ্রিনিজ কথা বলেছেন তাঁর ওপেনিং সঙ্গী ডেসমন্ড হেইন্স এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট নিয়েও। ১০৮ টেস্টে ৪৪.৭২ গড়ে ১৯টি সেঞ্চুরি ও ৩৪টি হাফ সেঞ্চুরিসহ ৭৫৫৮ রান করেছেন গ্রিনিজ। তবে ডেসমন্ড হেইন্সের সঙ্গে তাঁর ইতিহাসখ্যাত ওপেনিং জুটিটাই ছিল বেশি আলোচিত।
১৯৭০ ও ১৯৮০-র দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে ১৫ বছর ক্রিকেট-বিশ্বে রাজত্ব করেছে, তার একটা প্রধান কারণ এই জুটি। একত্রে ১৪৮ ইনিংস ওপেন করে গ্রিনিজ-হেইন্স করেছেন ৬৪৮২ রান। গড় ৪৭.৩১, ১৬টি সেঞ্চুরি, ২৬টি হাফ সেঞ্চুরি। ওপেনিং জুটিতে তো বটেই, যেকোনো জুটিতেই এটি টেস্টের সর্বোচ্চ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৩৫২ রান টেন্ডুলকার-দ্রাবিড় জুটির।
নিজেদের জুটি সম্পর্কে গ্রিনিজের কথা, ‘আমার সঙ্গে হেইন্সের জুটিটা খুব দ্রুত-সাফল্যের গল্প ছিল না। আমরা ভালো ব্যাট করতাম, কারণ আমরা একসঙ্গে ছিলাম দীর্ঘদিন। নির্দিষ্ট কোনো রসায়ন বা অন্যকিছু ছিল না।’ দীর্ঘদিন একসঙ্গে উইকেটে যাওয়া, ব্যাটিং করা—গ্রিনিজ-হেইন্সের মধ্যে গলায় গলায় ভাবটা কি এখনো অটুট? গ্রিনিজ মজা করে বলেছেন, হেইন্সের ফোন নম্বর তিনি রাখেন না। কারণ খেলোয়াড়ি দিনগুলোয় হেইন্স তাঁকে সব সময় খারাপ জিনিসগুলো শেখানোর চেষ্টা করতেন!
বর্তমানে ত্রিনিদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কর্মসূচি নিয়ে কাজ করা ৬০ বছর বয়সী গ্রিনিজের একটাই দুঃখ, ক্রিকেট কিংবদন্তিদের একত্র করার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না ক্যারিবিয়ানে, ‘আমাদের এমন একটা সংগঠন নেই, যেখানে খেলাটির কিংবদন্তিদের সংগঠিত করা যায়। আমাদের একটি সাধারণ ফোরামও নেই যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটের এই হাল কেন, তা নিয়ে কাজ করবে।’ ওয়েবসাইট।
